somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি... ... ...

ভাবছেন ব্লগ লিখতে বসেছি – তাই না? ব্লগ লেখা ছুটে গেছে সেই কবেই জীবিকার তাগিদে। আমি তাই ব্লগ লিখার ব্যর্থ চেষ্টাও করিনা আজকাল। আর নিজের ক্ষুদ্র ভাষাজ্ঞান নিয়ে এই অসহ্য রকরম সৌন্দর্যের বর্নণা দিতেও চাই না। শুধু আমার সম্প্রতি ঘুরে আসা কক্সবাজার আর দারুচিনি দ্বীপের কিছু ছবি আপলোড করে দিচ্ছি এবং সেই সাথে ছোট্ট একটা অনুরোধ – যারা এখনও কক্সবাজার বা দারুচিনি দ্বীপ খ্যাত সেন্ট মার্টিন্স দেখেননি এই আসছে শীতে ঘুরে আসুন আর প্লিজ নিচের লিঙ্কে গিয়ে কক্সবাজারকে ভোট দিতে ভুলবেন না যেন।

প্রাকৃতিক সপ্তম আশ্চর্য




হিমছড়ির পথে, কক্সবাজার, বাংলাদেশ


ইনানি বিচ, কক্সবাজার, বাংলাদেশ


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, বাংলাদেশ


সেন্ট মার্টিন্স, বাংলাদেশ


সেন্ট মার্টিন্স, বাংলাদেশ


টেকনাফ, বাংলাদেশ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28868984 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28868984 2008-11-14 13:24:38
প্রসঙ্গঃ প্রথম আলো
আসলে ঘটনা জলের ন্যায় সহজ। একেবারে প্যাঁচগিহীন। আমার জনৈক বন্ধুর জন্যে পাত্রী খুঁজছি। পাত্রের ডিমান্ড খুবই কঠিন প্রকৃতির। তার বউকে হতে হবে 'ক্যাথরিনা জিটা জোন্সে' বা 'মনিকা বেলুচ্চি'র মত লাস্যময়ী এবং প্রথম আলোর 'ভূমিসুতা'র ন্যায় মমতাময়ী। আমি তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক বুঝাতে চাইলাম যে ইয়ে মানে এই দুর্মূল্যের যুগে যেখানে পাত্রী পাওয়াই দুষ্কর সেখানে এহেন আবদার পূরণ করা কেবল কঠিনই নয় বরং নেক্সট টু ইমপসিবল!!! কিন্তু কে শুনে কার কথা!!!

যাই হোক কর্তার আদেশই কর্ম। তাই বইয়ের শেলফ থেকে ধুলো পড়া বইটা ঝেড়ে মুছে ছাফ করেছি। পাত্রী খুঁজার আগে আরেকবার রিভিউ করে নিচ্ছি ভূমিসুতার চরিত্রকে। আরে ভাই, প্রফেসনালিজম, হোম ওয়ার্ক, কমিটমেন্ট - এইসব বলে একটা কথা আছে না!!! এইসব নেই বলেই তো এই দেশটা রসাতলে গেল। তবে প্রফেসনালিজমের এহেন দোহাই দিয়ে দেশ ও জাতিকে রসের উপরে ভাসাতে গিয়ে বোধকরি এবার আমার বন্ধুটির জীবন- যৌবনও জলে ভাসবে পদ্মপাতার ন্যায়। তাই তার জন্যে রইল অগ্রিম শুভ কামনা আর সহানুভূতি।

বিঃ দ্রঃ ১। কোন সহৃদয়বান পাঠকের সুনজরে যদি এহেন পাত্রী থাকে তাহলে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না যেন।

২। আমার এই বন্ধুটির কথা শুনে আমাদের প্রিয় ব্লগারু মেহরাব শাহরিয়ারেও মনে খায়েশ হয়েছে বিয়ে করার। তার ডিমান্ডও সিমিলার। সুতরাং পোলাডার জন্যে কিছুমিছু করেন ভাই ও বোন সকল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28834171 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28834171 2008-08-24 02:02:10
আমি এবং আমরা!!!
আশা করি সবাই ভাল থাকবেন- বাহুল্যসহ বা ব্যতীত... শুভেচ্ছা রইল...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28817866 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28817866 2008-07-07 22:16:10
প্রিয় কবিতা এবং কিছু স্বপ্ন...


তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
-শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খান্ডবদাহন?

তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাংক এলো
দানবের মত চিৎকার করতে করতে
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হল। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে ব’লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে ব’লে, বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার
ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে একটানা চিৎকার করলো একটা কুকুর।
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতা- মাতার লাশের উপর।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খান্ডবদাহন?
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে থুত্থুরে এক বুড়ো
উদাস দাওয়ায় ব’সে আছেন- তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাড়িঁয়ে আছে
নড়বড়ে খুঁটি ধ’রে দগ্ধ ঘরের।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
ব’সে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্টদাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,
গাজী গাজী বলে যে নৌকা চালায় উদ্দাম ঝড়ে
রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস
এখন পোকার দখলে
আর রাইফেল কাধেঁ বনে- জঙলে ঘুরে বেড়ানো
সেই তেজী তরুণ যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হ’তে চলেছে-
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি- প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।



আমি বসে আছি- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা! আমি বসে আছি... ... ... সগীর আলী, কেষ্টদাস, মতলব মিয়া, রুস্তম শেখ, সেই তেজী তরুণের মত আমিও বসে আছি- তুমি আসবে বলে। যার জন্যে এদেশের তিরিশ লক্ষ মানুষ নির্দ্বিধায় বিলিয়ে দিতে পারে তাদের জীবন, সে দেশে না এসে কি তুমি পার? তাই যে তোমাকে আসতেই হবে, তোমাকে যে এবার আসতেই হয়... ... ...

কিন্তু হায়! খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গি এল দেশে... ... ... ৭১ এ শুরু আর আজ- আজ ২০০৭। পদ্মা- মেঘনায় গড়িয়ে গেল কত জল! ভোল পালটে কত বর্গি এল গেল- শুধু তুমিই এলে না! তবুও আমরা বসে থাকি... ... ... বসে থাকা যেন আজ আমাদের নিয়তি! আমি বসে আছি- আমরা বসে আছি- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা!

কিন্তু বেলা যে অনেক গড়িয়ে গেল... ... ... তবুও আমার প্রতীক্ষার প্রহর যে ফুরায় না... ... ... তবে কি সাকিনা বিবিদের সব ত্যাগ বৃথা যাবে? তবে কি হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়ার কালে যে কথা তুমি দিয়েছিলে তা মিথ্যে হয়ে যাবে? তবে কি সেদিন পিতৃস্মৃতিহীন যে শিশুটি হামগুড়ি দিয়েছিল তার পিতার লাশের উপর- তাকে গভীর মমতায় জড়িয়ে তুমি যে বলেছিলে, “আমি আসব”- তা কি কথাই থেকে যাবে? তবে কি সগীর আলী, কেষ্টদাস, মতলব মিয়া, রুস্তম শেখদের সাথে কোন কালেই তোমার দেখা হবে না? শুধুমাত্র একটি কথা, তোমার একটি কথা- “আমি আসব” শুনে যে তরুণটি সেদিন জন্মদাত্রী মা, প্রানপ্রিয় প্রিয়াকে তুচ্ছ করে রাইফেলস কাধেঁ তুলে নিয়েছিল- সে কি শুধু দেখে যাবে জীবনের পরাজয়? এই কি ছিল তার প্রাপ্য? প্রতিনিয়ত এক শত্রু থেকে অন্য শত্রুর কাছে নিজেদের দেহ- আত্মা বিকিয়ে দেওয়া- এই কি আমাদের নিয়তি? এই কি তুমি? এই কি তুমি- স্বাধীনতা!

হায় স্বাধীনতা! আমি আজও বসে আছি... ... ... আমি বসে আছি... ... ... তুমি আসবে বলে... ... ... তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা... ... ...

কিন্তু এমন তো কথা ছিল না! কথা ছিল- হরিদাসীর কপালে কুমকুমের ফোঁটায় তুমি থাকবে সুদীপ্ত সূর্যের মত। যে সূর্য অস্ত যাওয়ার কালে কোনদিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেনা। বরং সে সূর্য অস্ত যায় এক নতুন দিনের আগমনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু সে সূর্যের যেন আজ গ্রহণ লেগেছে! কবে কাটবে এই গ্রহণ? কবে হবে আমাদের সূর্যস্মাণ? আমাদের প্রশ্ন আমাদেরই মনের দেয়ালে বাধাঁ পেয়ে ফিরে ফিরে আসে আর আমরা- আমরা কেবল কাপুরুষের মত প্রতীক্ষাই করে যাই... ... ... আমরা কেবল বসে থাকি- কবে তুমি আসবে- কবে তুমি আসবে, হে স্বাধীনতা... ... ...

আর না- এবার বোধ হয় উঠে দাঁড়ানোর সময় হয়ে এল। এবার আর প্রতীক্ষা নয়, এবার আর আমি ভিড়ের অংশ নই, এখন আর আমি অনেকের মত একজন নই। ভালবাসা! ভালবাসা নয়, কি প্রচণ্ড ঘৃণা নিয়ে বসবাস করলে একসময় জীবনের চেয়ে দেশ বড় হয়ে উঠে- আজ তা আমি জানি! আর তাই আজ আমি প্রচন্ড উত্তাপে সবকিছু পুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কেননা আজ বুক আমার বাংলাদেশের হৃদয়... ... ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28810468 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28810468 2008-06-17 11:37:14
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে... (পর্ব - ৪) Click This Link


কাঠমুন্ডুর পথেঃ
ভোর ৪ টায় আমরা রওয়ানা দিলাম কাঠমুন্ডুর পথে। পুরো একটা বাস আমাদের জন্যে তবে পাঠকেরা এতে আহ্লাদিত হবেন না যেন। কেননা এহেন বাসকে মুড়ির টিনের চেয়ে বেশি কিছু বলতে রীতিমত দাতা হাতেম তায়ের মত মহানুভবতার পরিচয় দিতে হয়। আর এই মুড়ির টিনে করে কাঠমুন্ডুর পাহাড়ি পথে লাস্যময়ী নারীর ভালবাসাময় স্পর্শ পান বা না পান; কিন্তু রড, শক্ত কাঠ আর জানালার কাঁচের চুম্বন যে অনুভব করবেন তার গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি। যাই হোক রাস্তায় কি কি হল তা বিস্তারিত নাই বা বললাম কেননা ইতিমধ্যেই সবাই আমাকে নতুন করে মহাভারত রচনাকারীর যে উপাধি দিয়েছেন তা দেখে আমি যারপরনাই ভীত ও সন্ত্রশ্ত। তাই ঝটপট দু’ একটা গল্প বলেনি যা না বললেই নয়।


কাঠমুন্ডুর পথে ফারহান স্যার আমাদের গান শোনালেন “মন শুধু মন ছুঁয়েছে... ও সে তো মুখ খোলেনি...” আর আমরা তাতে গলা মেলালাম- ওওওওওওওওও... ওওওও... ওওওও... কিন্তু স্যার তখনও জানতেন না আরও কার কার গলা মেলানো বাকি এ গানে! তাই কিছুক্ষণ পর যখন সামনে গিয়ে নিজের সিটে বসলেন তখন রোমানা ম্যামের সেকি ঝাড়ি তাকে একা একা ফেলে চলে যাওয়ার জন্যে। আর তাতে স্যারের বাংলা পাঁচের মত মুখটা বেশ দেখার মত হয়েছিল। সেই যে বাংলা পাঁচের মত মুখ করে স্যার সামনে বসলেন আর তার উঠার নাম নেই; যতই তাকে আমরা “ডাইলে আরেকটু লবণ দিতে” পেছনে ডাকি! তবে সত্যি বলতে কি এতদিন স্যারদের বকায় আমাদের লম্বা মুখ দেখেছি কিন্তু আজকে পাশার দান বদলাতে দেখে কেন জানি খুব শান্তি শান্তি লাগছিল। হে হে হে... সাধেই কি আর বলে, “ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে!” জয়তু রোমানা ম্যাম!


তারপর পথে দেখা ত্রিশূলী নদীর সাথে। পান্নার মত ঘন সবুজ বর্ণের দেহ তার। আর সেই পাথুরে নদীর বুকে আঁছড়ে পড়ে কি অদ্ভুত শুভ্র নরম ফেনা গড়ছে পান্না সবুজ জল। দেখার মত দৃশ্য বটে। অবশেষে নদীর হাত ধরে চলতে চলতে আমরা যখন কাঠমুন্ডু পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে ৮:০০ টা বেজে কিছু বেশি।



যত কান্ড কাঠমুন্ডুঃ
কাঠমুন্ডুর হোটেলে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন জাবের স্যার আর অথৈ ম্যাম। স্যারের সাথে কথা বলে আমরা যখন হোটেলের কামরায় ঢুকলাম তখন আমাদের লম্ফঝম্ফ দেখে কে! জোসসস। বড় বড় খোলামেলা একেকটা রুম, কার্পেট মোড়ানো, পরিষ্কার বাথরুম, টিভি, হিটার সবমিলিয়ে ঝাক্কাস। কিন্তু আমাদের হাসি ভাগ্যদেবীর বেশিক্ষণ সহ্য হল না। কেননা যখন সবাই রুম থেকে রাতের খাবার খেতে বের হল তখন একেকজনের মুখ দেখা মত- কেননা কারও বাথরুমে পানি নেই তো কারও বাথরুমের ফ্ল্যাশ নষ্ট- সব মিলিয়ে ক্যারাব্যারা দশা। একেই বোধকরি বলে, “উপর দিয়া ফিটফাট, ভিতর দিয়া সদর থুক্কু মুন্ডুঘাট!”


কাঠমুন্ডু যাব আর ক্যাসিনো বা ডান্সবারে যাব না এত রীতিমত কাশী যেয়ে গঙ্গাস্নান না করে ফিরে আসার মত। কথায় আছে “শুভস্য শীঘ্রম”! তাই সেই রাতেই আমরা বেড়িয়ে পড়লাম খোঁজ নিতে। জানা গেল কাঠমুন্ডুতে দু’ধরনের ক্লাব আছে। ডান্সবার যা “ফ্রি ফর অল!” এবং ডিস্কোবার- যেখানে প্রবেশ মূল্য এবং সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে বগলদাবা করে ঢুকতে হয়। হে হে হে... আকালমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি... নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন যে আমরা ডান্সবারের পথই ধরলাম। কিন্তু বাঁধ সাধল আমাদের পুরুষমহল। তাদের একটাই কথা আগে তারা সরেজমিনে দেখে আসবে হালচাল তারপর আমাদের ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে (কত বড় অপমান!)। পাঠক আশা করি এবারও বুঝতে পারছেন যে সে দফায় আমাদের আর ডান্সবারে যাওয়া হয়নি কেননা আমাদের ছেলেরাই কোনমতে জান বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিল। বারের ওয়েট্রেসগুলো নাকি রীতিমত গায়ে উঠে আসে (একে তো আমাদের যেতে দিল না তার উপর এমনতর কথা শুনে আমরা না বলে পারিনি, “তোরা তো মামু খুশিই হইছস!!! আবার ভাব খাস!!! ভরংবাজ সবদি!!! গররর...”)। আমাদের সবচেয়ে লক্ষ্মী ছেলে হিসেবে খ্যাত নাঈমের নাকি প্রায় কোলে চড়ে বসেছিল এক লাস্যময়ী নারী। হি হি হি... তারপর কি হয়েছিল তা আজও এক ইতিহাস! তবে এ ঘটনা নিয়ে এখনও আমাদের মুখে মুখে ফেরে একটাই অনুকাব্যঃ
“কাঠমুন্ডুর ডান্সক্লাবে খায়নি নাঈম বিয়ার,
তারপরেও হইল কাইত শুইনা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’!”

তবে কাঠমুন্ডুর প্রথম রাতের সবচেয়ে জটিল ঘটনাটা ছিল ফারহার স্যারকে নিয়ে। আমরা তখন স্যারকে সিল দিয়ে ফিরছি হোটেলে। স্যাররা আগে আগে আর আমরা পিছনে। হঠাৎ এক মাতাল এসে স্যারকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বলল, “কাম উইথ মি! লেটস ডান্স!” আমরা তো টাস্কি! স্যার দেখলাম বেশ গম্ভীর মুখে জবাব দিলেন, “আই এম নট দ্যাট কান্ডা পারসান। আই এম উইথ মাই ওয়াইফ!” হা হা হা... সেই দফায় ম্যামকে দেখিয়ে স্যার বাঁচলেও আমাদের ত্যাঁড়ছা হাসি থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ! হে হে হে...

রাত তখন ক্রমশ বাড়ছে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঠমুন্ডুর ডান্স বারগুলোতে তারুণ্যের জোয়ার। উচ্চস্বরের হাসাহাসি আর মিউজিকের শব্দ তখন রাস্তা পর্যন্ত এসে পোঁছেছে। আমরা একদল হতাশ তরুণ- তরুণীর দল তখন ক্লান্ত পায়ে হোটেলের কামরায় ফিরছি আর দূরে কোথায় হয়ত বাজছে...

"You can dance- every dance with the guy
Who gives you the eye, let him hold you tight
You can smile- every smile for the man
Who held your hand ‘neath the pale moon light
But don't forget who's takin' you home
And in whose arms you're gonna be
So darlin' save the last dance for me.”]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28805510 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28805510 2008-06-02 17:29:32
সিগন্যালের মুখগুলো...

১.
শাহবাগের মোড়ের সিগন্যালে গাড়ি থেমে আছে। একজন বৃদ্ধ ছোট্ট একটা মেয়েকে সাথে করে ভিক্ষা করছেন। বাচ্চা মেয়েটার টিউমার। তার চিকিৎসার জন্যে সাহায্যের প্রয়োজন। হঠাৎ পাশ থেকে কর্কশস্বরে কে যেন বলে উঠল, “শালার বেডা!!! ৫ বছর হইয়া গেল এইখানে ভিক্ষা করতাছ। এখনও চিকিৎসা করাইতে পারো নাই। হুহ!!!” আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক বৃদ্ধাকে। আমি তার এই হিংসামিশ্রিত ক্রোধের উৎস খুঁজে ফিরি। আহা বেচারির সারা দেহে বার্ধক্য ব্যতীত আর কোন ক্ষত নেই। টিউমারের মত দামি রোগের সাথে পাল্লা দেবে এই ক্ষমতা কি আছে তার বার্ধক্যে? বৃদ্ধার এই আক্রোশ কার প্রতি আমি ভাবি। এ ক্রোধ কি ঐ বৃদ্ধ আর শিশুটির প্রতি নাকি নিজের অক্ষমতার প্রতি!!! নাকি এ ঈশ্বরের প্রতি তার ধিক্কার- তার প্রতিবাদ এই বৈষম্যের জন্যে। আমি আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সামনে তাকিয়ে দেখি ক্লান্ত দেখে হাঁটতে হাঁটতে সেই মুখটি মিশে যাচ্ছে ব্যস্ত মানুষের ভিড়ে...


২.
কাওরান বাজারের মোড়ের সিগন্যালে পড়ব না এমন দিন খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। বয়েস হচ্ছে। আজকাল অনেককিছুই বিস্মৃত হচ্ছে। আমি স্মৃতি হাঁতড়ে বেড়াচ্ছি এমন একটা দিন খুঁজে বের করতে। হঠাৎ মিষ্টি একটা হাসি ভেসে উঠে হৃদয়পটে...

বেশ কিছুকাল আগের কথা। কাওরান বাজারের সিগন্যালে বসে আছি। হঠাৎ শুনি রিনরিনে স্বরে কেউ বলছে, “আফা, পুরা আডি ১০ ট্যাকা”। আমি প্রচন্ড বিরক্তিতে ধমক দিতে গিয়েও থেমে গেলাম। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি আমি। কত বছর এত্ত পবিত্র হাসি দেখিনি। বোধকরি কিছু জিনিসকে অবজ্ঞা করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টিকর্তা আমাদের পাঠাননি। আমি দীর্ঘশ্বাস গোপন করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ১০ টাকার নোটটা বাড়িয়ে দিলাম। ছোট্ট মেয়েটি মিষ্টি হেসে তোঁড়াটা এগিয়ে দিতেই বললাম, “লাগবে না, ওটা তোমাকে দিলাম। তুমিই রাখো”। মেয়েটি বিস্মিত নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি জানি এই আবেগ ক্ষণিকের, বড় সাময়িক, বড়ই ঠুনকো। আমি এও জানি এই ফুলের আঁটি আবার কেউ কিনবে ১০ টাকায়। তারপরও মাঝে মাঝে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- তীব্র ভালবাসা, গভীর মমত্ত্ববোধের মত আবেগগুলোকে অবজ্ঞা করার মত ক্ষমতা কি তিনি তার সৃষ্টিকে দিয়েছেন কিনা!!!

সিগন্যাল ছেঁড়ে দিয়েছে। গাড়ি চলতে শুরু করেছে। আমি পেছনে না তাকিয়েও বলতে পারি এক জোড়া বিস্মিত নয়ন এখন আমাকে অনুসরণ করছে। আর আমি- আমি তখন উত্তরের অপেক্ষায় প্রশ্নকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে; নতুন কোন প্রশ্নের আশায়...


৩.
এমনিতেই প্রচন্ড দেরি হয়ে গেছে। আল্লাহ আল্লাহ করছি যেন জ্যামে না ফেলে। কোন একটা অগ্যাত কারণে আজকে ফার্মগেটে তেমন জ্যাম নেই। ড্রাইভারও দেখলাম টান দিয়েছে তেমনই...

কিন্তু শালার সিগন্যালটা আটকে দিল। মেজাজটাই গেল খিঁচড়ে। শালার কি যে ফাঁটা মার্কা কপাল লিখায়ে আনছিলাম উপর থেকে আল্লাহ মালুম। একে তো দেরি হয়ে যাচ্ছে সেই টেনশন; তার উপর প্রচন্ড বিরক্তি- দুই মিলে মুখে থুতু জমতে শুরু করেছে। আমি জানালা খুলে এদিক ওদিক তাকালাম কুকর্মটা সম্পন্ন করার আশায়। চোখ আটকে গেল ৭- ৮ বছরের একটা ছোট্ট ছেলের উপর। হাতে রঙ বেরং এর তোয়ালে। সিগন্যাল পড়েছে কিন্তু ছাগলটার সেদিকে নজর নাই। তার ছোট্ট চিন্তার জগৎটা জুড়ে আছে সিনেমা হলের উপরের টিভির বড় পর্দাটা। শালার বেকুব- বাসায় হয়ত পঙ্গু রিকশাচালক বাবাটা পড়ে আছে বিছানায়, সারাদিনের অভুক্ত ছোট্ট বোনটা হয়ত অপেক্ষা করছে ভাই কখন আসবে, মানুষের বাড়িতে সারাটা দিন ছুটা খেটে ক্লান্ত মা হয়ত এত্তক্ষণে বাসার দিকে রওয়ানা হয়েছে- অথচ সবকিছু ভুলে বেকুবটা তাকিয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে... তিন্নি তখন বলছে, “আমরা ভাল আছি, আপনি ভাল আছেন তো?” হায়!!! বলদটা এখনও শিখেনি এই সমাজে গরীব হয়ে জন্মিয়ে এমন বিলাসিতা মানায় না। সিগন্যালে এখন সবুজ বাতি জ্বলে উঠেছে। অথচ ভাদাইম্যাটা এখনও তাকিয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে। প্রচন্ড বিতৃষ্ণায় আমি পিচিক করে থুতুটা ফেললাম।


৪.
শেরাটন মোড়ের সিগন্যাল। গাড়িতে বসে আছি। দৃষ্টি আকাশ পানে। একটু আগেও এমন ঝাঁঝালো রোদ ছিল মনে হচ্ছিল প্রচন্ড গরমে পুরো শহরটা যেন ঘামছে। অথচ এখন ঝলসানো আকাশটার নীল বুকে একটু একটু করে ধূসর মেঘ জমছে ক্ষতের মত। মনের ক্ষতগুলো একটু একটু করে যেন আকাশের বুকে ফুটে উঠছে। আমি প্রচন্ড তৃষ্ণা নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন আকাশ ভেঙ্গে ঢল নামবে সেই ক্ষণের। কেননা আজ যে আমিও শহরটার সাথে সাথে মেতে উঠব বৃষ্টিবিলাসে। আমি স্নায়ু টানটান করে অপেক্ষা করছি সেই মহেন্দ্র ক্ষণের... আমি তৃষ্ণার্তের মত বসে আছি... আমি বসে আছি বৃষ্টি শেষে মেঘের মত নিঃস্ব হতে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28803102 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28803102 2008-05-26 20:13:11
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে... (পর্ব - ৩) Click This Link


সীমান্তে হল ভোরঃ
এরপর রাতভর বাসে চলল খুনসুটি, আড্ডাবাজি আর গানের শেষের অক্ষর দিয়ে গান খেলা। সেই খেলা শেষ হল এডের জিঙ্গেল আর কবিতায় সুর বসিয়ে। বাসের যাত্রীরা যতই বিরক্ত হয় আমাদের উৎসাহ যেন ততই বৃদ্ধি পায় এক্সপোনেন্ট হারে। এভাবেই চলল প্রায় পুরোটা পথ। তবে হঠাৎ সবার কি হল কে জানি। সবাই খুব সিরিয়াস হয়ে জীবন, যৌবন, জীবিকা নিয়ে কথা বলা শুরু করল এবং সবাই ঠিক করল এতদিন যা করেছে করেছে কিন্তু এখন থেকে তারা সবাই শুদ্ধতম মানবে পরিণত হবে। সুতরাং সবাই যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পাঠ করল শপথ বাক্য যার কিছু অংশ নিচে তুলে দিচ্ছিঃ

“আমরা করব কোড, আমরা করব কোড,
আমরা করব কোড একদিন।
ও মনের গভীরে আমরা জেনেছি,
আমরা করব কোড একদিন।

আর কপি নয়, আর পেস্ট নয়,
আর কপি নয় , পেস্ট নয়।
ও মনের গভীরে আমরা জেনেছি,
আমরা করব কোড একদিন।”

শেষ রাতের দিকে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি। যখন বাসের ঝাঁকুনিতে ঘুম ভাঙল তখন সারা রাতের ক্লান্তি, শীতের মাঝে এসি বাসের কাঁপুনি, ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম- সব মিলিয়ে ক্যারাব্যারা দশা। বাসের ঘোলাটে জানালায় কুয়াশার পাতলা পরত আলতো হাতে সরিয়ে দেখি পূবাকাশে সোনালি ছটা দেখা দিতে শুরু করেছে। আমরা পৌঁছে গেছি বাংলাদেশ সীমান্তে। তখন ভোর হতে আর কিছু বাকি...

মজার ব্যাপার হল- বাংলাদেশ সীমান্তের নাম “বুড়িমারী”। এই নাম শুনে আমাদের সবার একটাই প্রশ্ন- আহা বুড়িরা এমন কি দোষ করল যে তাদের ধরে বেঁধে মারতে হবে। আমাদের এই দুঃখ দূর হল যখন ভারত সীমান্তের নাম শুনলাম। উদ্ভট ব্যাপার হল ভারত সীমান্তের নাম “চ্যাংড়াবান্ধা”। হা হা হা। ওরা তো দেখি রীতিমত পিচকে ফাজিল চ্যাংড়াগুলোকে বেঁধে রাখে দেখছি। প্রহসন বোলে তো প্রহসন। এখানে বুড়ি- থুড়ি সবারই মাইঙ্কাচিপা দশা দেখে আমরা হেসে গড়িয়ে পড়লাম।

বেলা ৮টায় বর্ডার খোলে। সুতরাং হাত মুখ ধুয়ে আমরা রেডি হলাম বর্ডারের সব ফর্মালিটিজ শেষ করতে। এর মধ্যে ছেলেপুলে আবার মডেলিং আর ফটোসেশন শুরু করে দিয়েছে। এইসব ব্যাপারে দেখলাম মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের আগ্রহই বেশি। কি যে জামানা পড়ল- কিছুই বুঝবার পারি না।

হঠাৎ দেখি দূরে লিসাকে ঘিরে মুনা, সাদিয়া কি যেন গোল পাকাচ্ছে আর সাঈদ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে পাশে। বুঝলাম ডাল ম্যায় কালা ইয়া ফির পুরা ডাল হি কালা। সুতরাং গ্রেট প্রবলেম সল্ভারের মত আমি ফরয কার্যে নিয়োজিত হয়ে গেলাম। যেয়ে যা শুনলাম তাতে আমার দশা হল “আসমান সে টাপকা, খাঁজুর ম্যায় আটকা” কিসিমের। সারারাত বাসে বমি করে এখন লিসার একটাই কথা, “আমাকে বাসে উঠিয়ে দে, আমি যাব না”!!! কি সব কেলেঙ্কারিয়াস কথা বার্তা চিন্তা করুন তো। আর লিসার না যাওয়া মানে সাঈদেরও। এ তো দেখি রীতিমত হূমায়ুন আহমেদের “রূপালী দ্বীপের” আয়ান আর নীরা। আমরা যতই বুঝাই ততই লিসার কান্না বাড়ে। অতঃপর লিসার কান্না, বড়দার ঝাঁড়ি, আমাদের হাত- পা ধরা আর সাঈদের কঠিন দৃষ্টির মাঝ দিয়ে নাটকের সমাপ্তি। গুরুদেবের ভাষায়, “... হাস্যবাঁধায় অসম্পন্ন চেষ্টা অশ্রুধারায় সমাপ্ত হইল...” শেষমেষ লিসা আমাদের সাথে যেতে রাজি...

তারপর বর্ডারের বি, ডি, আর আর কাস্টমসের ঝক্কিঝামেলা পার করে যখন নো ম্যানস ল্যান্ডে প্রবেশ করলাম তখন হঠাৎ সবাই কেমন যেন চুপ হয়ে গেল। আমি অসংখ্যবার এ কাজটি করেছি এবং প্রতিবারই মনে হয় যেন পিছনে নিজের সবকিছু ফেলে এসেছি... শিঁকড় উপরানোর একটা অনুভূতি হতে থাকে। আমার মাথায় একটা গানই তখন ঘুরছে, “... দু’টি মানচিত্র এঁকে দু’টি দেশের মাঝে, বিঁধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ...” যাই হোক সব ঝামেলা শেষে বর্ডারের বড় কত্তাদের চা- মিষ্টির ব্যবস্থা করে তিস্তার সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম সমরেশ, সুনীলের শিলিগুঁড়িতে। শেষবারের মত সবাই সবার নিজ নিজ মোবাইল অপারেটরের জোর মাপতে কল করে নিল বাসায়। তারপর ফোর হুইলারে চেপে দু’পাশের চা বাগানগুলোকে পিছনে ফেলে দুপুরের মাঝে পৌঁছে গেলাম ভারত- নেপাল বর্ডারে। সেখানে লাঞ্চ সের যখন সব ফরমালিটিজ পূরণ করে নেপালের সীমান্ত শহর কাকঁড়ভিটায় পৌঁছলাম তখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে...

হোটেলের দশা নাই বা বললাম। এজ ইউজুয়াল, আমাদের ট্যুর কন্ডাক্টর নাকি ভাল হোটেল পাননি। যাই হোক একটা রাত তাই আমরা আর কথা না বাড়িয়ে যার যার রুমে চলে গেলাম ফ্রেশ হতে।

হঠাৎ দেখি জামি খুব হন্তদন্ত ভঙ্গিতে এসে বলল, “নিউজপেপার হবে?” আমার ট্রাভেলিং এর পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই পেপার সাথে এনেছিলাম। দিয়ে বললাম, “কেন বলতো?” ও গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল, “কাহিনী আছে!” কিন্তু কাহিনীটা যে কি তা বলার প্রয়োজনবোধ না করেই হাঁটা দিল রুমের দিকে। কিছুক্ষণ পর রুবেল এসে হাজির এবং তারও একি কথা। তবে সে আরও যোগ করল যেন বান্না এসে পেপার চাইলে না দেওয়া হয়। অতঃপর নক নক। স্বয়ং বান্না হাজির। কাচুমাচু ভঙ্গিতে বলল, “পেপার আছে?” কাহিনীর মাজেজা বোঝা গেল তখনই। হোটেলের বেডরুম আর বাথরুমের মাঝে নাকি ট্রান্সপারেন্ট কাঁচের গ্লাস লাগানো!!! এই সুযোগে “বান্নো রানী” তার পাপারাৎজ্জি চালিয়েছেন সবার উপর। এখন সে নিজে গোসলে যাবে এবং সবাই রেডি ক্যামেরা হাতে। শুধুমাত্র ক্লিক করতে বাকি। ছেলেরা নাকি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে এই ছবি নেটে যাবেই যাবে। হে হে হে... বান্নার ক্যারিয়ার শেষে করেই তারা ক্ষান্ত দিবে। শেষমেষ কি হয়েছিল জানি না কিন্তু এতটুকু বলতে পারি যে সেই ছবিগুলো আমাদের মেয়েদের হাতে এসে পড়েনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন... (কেউ পাইলে আওয়াজ দিয়েন তো... হে হে হে...)

৪ টায় উঠতে হবে ভেবে সকাল সকাল ঘুমাতে যাব ভাবলেও ঘুমাতে ঘুমাতে সেই ১ টার মত বেজে গেল। সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দেওয়ার দায়িত্ব পড়ল আমার আর মুনার উপর। ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে যখন ঘুমাতে গেলাম চারিদিকে পিনপতন নীরবতা আর কাঁকরভিটার আকাশে তখন লক্ষ তারার মেলা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28801746 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28801746 2008-05-23 13:46:12
এ শুধু বাংলাতেই সম্ভব!!!
বেচারার এই লইয়া তিন তিনখানা মোবাইল চুরি গিয়াছে। ইহাতে সে “অল্প শোকে কাতর” এর ন্যায় হইয়া পড়ে। কিন্তুক ক্ষণকাল পরেই সকল দুঃখ শার্টের কাঁধে পড়া ধূলির ন্যায় ঝাড়িয়া ফেলিয়া (ভাবখানা এমনতর যে, রাস্তায় হাঁটিলে ধূলিকণা তো পড়িবেই!!!) “আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে” বলি চতুর্থবারের ন্যায় বেলতলায় গেলেন এবং একখানা মোবাইল খরিদ করিয়া আনিলেন। কিন্তুক গুরুজনেরা তো আর এমনি এমনি বলেন নাই যে, “বুদ্ধিমানেরা বেলতলায় গমন করেন কেবল দুইবার। প্রথমবার যান বেল পাকিল কিনা তাহা দেখিবার নিমিত্তে এবং দ্বিতীয়বার যান যে বেলটি মাথায় পড়িল তাহার গুষ্টি উদ্ধার করিতে। অতঃপর তাহাকে বগলদাবা করিয়া লইয়া আসেন সরবত বানাইবার তরে”। কিন্তুক এহার গূঢ়তত্ত্ব না বুঝিয়া আমাদের জ্যাক বাবাজী নিজেকে তাহাদের চাহিতেও বুদ্ধিমান ভাবিয়া বসিল। অতঃপর বাল্যকালের ধারাপাতের জ্ঞানকে সম্বল করিয়া দুই কে দুই দিয়া গুণ করি চার বানাইয়া ফেলিলেন এবং এই ভাবিয়া নিশ্চিত হইলেন যে এইবার ভাগ্যদেবী আর তাহাকে ফাঁকি দেবেন না। কিন্তুক কলিকাল, ছাগলে চাঁটে বাঘের গাল!!! সুতরাং যাহা হইবার তাহাই হইল। সুতরাং যে লাউ সে কদুই হইল। মাগার বাট কাহিনীতে আসল প্যাঁচগী তখনি লাগিল যখন ঐ মোবাইল তাহারে ছলনাময়ী মাইয়্যার ন্যায় ছাড়িয়া অন্য প্রেমিকের হাত ধরিল এবং ইহাতে সে “অধিক শোকে পাথর” এর ন্যায় নির্বাক, নিশ্চল হইয়া পড়িল। তাহার ছলছল চোখ, তাহাতে সে কি এক বোবা চাহনি, কিছু বলিবার তরে দু’দন্ডের তরে কাঁপিয়া উঠি স্তব্ধ হওয়া কণ্ঠ; তাহার এহেন দেবদাসরূপ দেখিয়া বন্ধুমহলে আমাদের সকলের হৃদয় ভাঙ্গিয়া আসিতে চাহে। কিন্তুক আমাদের মত অভাজনেরা স্বান্তনা ব্যতীত কিবা দিতে পারি এক ছ্যাঁক খাওয়া প্রেমিক পুরুষকে? কিন্তু প্রেমিকের মন স্বান্তনায় কি মানে? সুতরাং তথাস্থু কহিয়া “ফেভিকল” দিয়া নিজ নিজ ভাঙ্গা হৃদয় অতীব কষ্টে জোড়া লাগাইয়া ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলা ব্যতীত আমাদের করিবার আর কিছুই রহিল না সেই প্রেমিকপুরুষের লাগিয়া!

কিন্তুক এত আর আমি বা আপনি না যে এইবেলা রণে ক্ষান্ত দিয়ে ইহজনমে আর মোবাইল কিনিব না বলিয়া পণ করিয়া বসিয়া পড়িব। এ হইল আমাদের বিশ্বপ্রেমিক জ্যাক মিয়া। তাহার হৃদয় আকাশের মত বিশাল যাহাতে তিনি কত যে কপোতিনীকে উড়িবার তরে স্থান দিয়াছেন তা লিখিতে গেলে ভগবান সাক্ষী আজ পুনরায় এক মহাভারতের আবির্ভাব হইবে। যাই হোক, কি যেন বলিতেছিলাম – হ্যাঁ, এত আর আমি বা আপনি নই – এ হইল জ্যাক – দ্য গ্রেট ফিলানথ্রোপিস!!! সুতরাং এক শুভলগ্নে কনে দেখা আলোতে তিনি পঞ্চমবারের মত মোবাইল খরিদ করিলেন এবং এক রাংগা প্রভাতে তাহার মিছামিছি কল পাইয়া নিশ্চিত হইলাম যে আমাদের জ্যাক ফিরিয়া আসিয়াছেন স্বমহিমায়।

তো সেদিন ক্লাস শেষে আমাদের সাথে আসিয়া বসিলেন। দেখিয়া মালুম হইল বেশ খোশ মেজাজেই আছেন। কেননা বসিবা মাত্র তিনি যে বীরবিক্রমে তাহার চিড়িয়াখানার বান্দররূপী মোবাইলের নানাবিধ নর্তন কুর্দন দেখাইতে লাগিলেন তাহাতে তাহার । পিতা তাহার এক বৎসরের পুত্র সন্তানের নানান পিঁচকে ফাজিল কর্মকান্ড দেখিয়া এবং দেখাইয়া যেরূপ আনন্দ পান তাহার আকর্ণবিস্তৃত হাসি দেখিয়া তেমনি মালুম হইতেছিল। তবে এহাতে দর্শক ও শ্রোতাকূলের যে কিরূপ বিরক্তির উদ্রেক হয় তাহার দিকে বিন্দু পরিমাণও নজর থাকেনা এসকল পুত্র গর্বে গর্বিত জনকদের। কি আর করা; ব্যাপার না। মূল কাহিনীতে ফিরিয়া আসি।

আমাদিকে চমকাইয়া দিয়া ব্যাটা কহিয়া উঠিল, “জানিস আজকাল মনখারাপ হইলেই আমি মোবাইল লইয়া বসি। হাসিতে হাসিতে পেটে খিল ধরিয়া যায়”। আমি মনে মনে কহিলাম, “আহা বাছা! অল্প বয়সে এত দুঃখ। মালুম হয় দিলের তকলিফ দিমাগে উঠিয়া নাচিতে শুরু করিয়াছে”। কিন্তুক যেই কথা সেই কাজ। বলিবামাত্র ব্যাটা সেটিংস গিয়া ল্যাংগুয়েজ ঠিক করিল “বাংলা”। এহার পর যাহা ঘটিল তাহার জন্যে আমরা কেহই প্রস্তুত ছিলাম না। অল্প সময়ের মাঝেই তাহার বান্দর পোলা আমাদিগকে যে পরিমাণ নিষ্পাপ আনন্দ প্রদান করিল এবং সেই সাথে যে পরিমাণ ভাষা শিক্ষা দিল; তাহাতে আমাদের নিজ নিজ শব্দভাণ্ডার যে কি পরিমাণে সমৃদ্ধশালী হইয়া উঠিয়াছে তার একটি বিশেষ নমুনা তুলিয়া ধরিবার লোভ সামলাইতে পারিতেছিনা – “Missed Call” এর বঙ্গানুবাদ “অক্ষম কল”। এখানে চিন্তার বিষয় আছে!!! কার অক্ষমতার কথা বলা হইয়াছে এখানে? কলের নাকি কল যিনি ধরিবেন তাহার!!!

সবকিছু দেখিয়া শুনিয়া আমাদের এক বন্ধু বলিয়া উঠিলেন, “বাস্তবিকই এ শুধু বাংলাতেই সম্ভব”!!!!

অভাজনের কিছু কথাঃ যে কোন ভাষার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি হচ্ছে সে ভাষায় পারিভাষিক শব্দের সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত ব্যবহার। স্বীকার করছি বাংলা এ ব্যাপারে বেশ অনুদার বটে কিন্তুক তাই বলিয়া “Missed Call” এর বঙ্গানুবাদ “অক্ষম কল” এহা মানিতে বিবেকে বাঁধছে বৈকি। আর তাহার উপরে একাজটি যখন এমন কেউ করেন যাহাদের দাবি, “এ শুধু বাংলাতেই সম্ভব”-তখন এহেন বাংলা প্রহসনসম ঠেকে। যাই হোক, খানিকটা আতলামির জন্যে অভাজন ক্ষমাপ্রার্থী।

বিঃদ্রঃ সম্প্রতি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়াছে যে আমাদের জ্যাক বাবাজীকে পুনরায় তাহার প্রেমিকা ছ্যাঁক দিয়াছেন ষষ্ঠবারের মত। সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28801112 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28801112 2008-05-22 01:39:42
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে... (পর্ব - ২) Click This Link

এইবার ব্যাকট্র্যাক করে একটু পেছনে যাওয়া যাক। কেননা এই সিরিজের প্রথম পর্বপাঠে সবাই এই বস্তুটিকে যেভাবে ভ্রমণকাহিনী, ঢাকা-কাহিনী নাকি আমার নিজের জীবনের কোন রোমান্টিক কাহিনী ইত্যাদি নামকরণ করে আকাশ-কুসুম চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন তাতে সকলের বিভ্রান্তির অবসান করতে বোধকরি এইবেলায় আমাকে বাংলা সিনেমার লায়িকাদের মত ফ্ল্যাশব্যাকে না গেলেই নয়... [সুতরাং ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে শুরু করেছে - টু টু টু টু... দেখা হ্যায় প্যাহলিবার সাজান কি আখোন ম্যায় প্যায়ার... টু টু টু টু... এবং আমি ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্যে...]

একদম শুরুর কথাঃ
কাহিনীর সূচনাকাল আসলে ২০০৭ সালের জুলাই- আগস্ট মাসের দিকে। আমরা এক মাস হল ফোর্থ ইয়ারের ক্লাস শুরু করেছি। ল্যাব, প্রজেক্ট, এসাইনমেন্ট, থিসিস প্রপোজাল সাবমিশান, ইনকোর্স সব মিলিয়ে পুরা লে-হালুয়া দশা। স্যারেরা সবাই মিলে কি এক কন্সপিরেসি থিওরাম শুরু করেছেন তারাই জানেন আর মাঝ দিয়ে আমাদের মত নিষ্পাপ শিশুগুলোর জীবনের ভাজা ভাজা কুড়মুড়ে হালাত (এতই ক্রিস্পি যে বোধকরি হাতে নেওয়ার আগেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাবে!!!)। কিন্তু আমাদের দেখে কারও বাপেরও তা বুঝবার উপায় নেই। কেননা তখন আমাদের সকল চিন্তাচেতনা জুড়ে একটিই নাম - স্টাডি ট্যুর, স্টাডি ট্যুর , স্টাডি ট্যুর (যাতে স্টাডি শুধু নাম কা ওয়াস্তে... পুরোটাই ঝাক্কাস এক ট্যুর...)। সুতরাং তোড়জোড় শুরু হল স্টাডি ট্যুরের। হর্তাকর্তারা প্রতিদিনই গম্ভীর মুখে মিটিং এ বসছেন। স্যুভিনির কমিটি তাদের মুখে আতলামির ছাপ লাগিয়ে উদাস উদাস ভাবে কলম দৌড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এড কমিটি চিন্তায় চিন্তায় তাদের মস্তকে স্টেডিয়াম বানিয়ে ফেলেছে অল্পদিনেই। আর আমরা যারা কিছুতেই নেই তারা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত তিরিং বিরিং করছি। যাই হোক সকল জল্পনা কল্পনার অবসান করে ঠিক হল পূজোর ছুটির প্রথম দিকেই অর্থাৎ অক্টোবরের শেষদিকে আমরা ট্যুরে যাচ্ছি। কিন্তু বিধিবাম। এতদিন শুধু শেক্সপিয়ারের গল্পেই পড়েছি, "ম্যান প্রপোজেজ, গড ডিসপোজেজে।" এবার নিজেদের জীবনেও তার উত্তম প্রয়োগ হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেলাম। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, কন্সার্নড টিচারের অভাব, সিডরের প্রভাব, মন্দার বাজারে স্পন্সরের আকাল এবং পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়িয়ে যখন ঘর থেকে ব্যাকপ্যাক কাঁধে চাপিয়ে রওয়ানা হলাম তখন তাকিয়ে দেখলাম ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসের পাতাটা ঝুলছে। আর তাতে লাল সাইনপেন দিয়ে গোল করা ২ তারিখটি আমার দিকে তাকিয়ে প্রহসনের হাসি হাসছে।

যাবে না যাবে না করেও শেষতক আমরা মোট ২২ জন দুষ্টু ছেলেমেয়ের দঙ্গল (ইয়ে মানে এইসকল পিচকে ফাজিলের মাঝে আমি যে সবচেয়ে শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট সে কথা না বললেই নয়!!!) যাচ্ছি স্টাডি ট্যুরে। রাখাল যেমন গরু চড়িয়ে বেড়ায় এবং তেড়িং বেড়িং করলে গরুর পশ্চাৎদেশ বরাবর বেত্রাঘাত করতে কার্পণ্য করে না তেমনি আমাদের মত লেজবিশিষ্ট শাখামৃগের দলকে কাবুতে রাখতে আমাদের সফরসঙ্গী হলেন রাখালরূপী ফারহান স্যার, রোমানা ম্যাম, জাবের স্যার এবং তার সহধর্মিনী অথৈ ম্যাম। কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ঠিক হল জাবের স্যার এবং অথৈ ম্যাম সরাসরি কাঠমুন্ডুতে আমাদের সাথে দেখা করবেন। তাই আপাতত কাঠমুন্ডু যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদেরকে ফারহান স্যার আর রোমানা ম্যামের হাতে সঁপে দিয়ে জাবের স্যার পর্দার অন্তরালেই থেকে গেলেন...

ঝাননন... [চমকে উঠে] ফ্ল্যাশব্যাক থেকে মূলকাহিনীতে ফেরা যাক।

..................ব্যাকপ্যাকটা কাঁধে চাপিয়ে আমার প্রিয় "ক্যানন এস থ্রি - আই এস" কে বগলদাবা করে রওয়ানা হলাম কল্যাণপুরে শ্যামলী বাসকাউন্টারের দিকে। অতঃপর...


বাস পর্বঃ
পথিমধ্যে আমার দায়িত্ব ছিল তারেককে পিক করা। তাই যখন ৭:৩০ এ তারেককে তুলতে গিয়ে দেখি বান্দা হাজির তখন মনে মনে "ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি" না পড়ে পারলাম না। এ যে রোজ কেয়ামতের আলামতরে ভাই! মামু আর সময়মত! এরচেয়ে সূর্য্যিমামা পশ্চিমে উঠে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য। যদিও মামুর তিনদিনের অধিক কাল অবধি সেভ না করা খোঁচা খোঁচা দাড়ির জঙ্গল আর দৃষ্টিতে সদ্য ছ্যাঁক খাওয়া দেবদাস ভাব দেখে খানিকটা চমকে গেলাম। তারপরও মুখে মোনালিসা হাসি ফুটিয়ে আমি বললাম, "মামু, খবর কি?" মামু তার স্বভাববিরুদ্ধ গাম্ভীর্যে বলল, "১০৩ জ্বর। যাব?" কিছু না বলে শুধুমাত্র একবার তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম। সামনে আয়না ছিল না বিধায় নিজ দৃষ্টিতে কি ছিল আজ তা বলতে পারছি না তবে সত্যযুগ হলে যে সে অগ্নিদৃষ্টিতে যে কেউই ভস্মীভূত হয়ে যেত তা তারেকের কাচুঁমাঁচু মুখটা দেখেই বুঝে গেলাম। সুতরাং কথা না বাড়িয়ে "ইয়ে মানে, ইয়ে মানে" করতে করতে তারেক উঠে বসল। গাড়ি চলতে লাগল। গন্তব্য কল্যাণপুর।

ঠিক ৮:০০টায় আমরা বাস কাউন্টারে পৌঁছে গেলাম। এই কাউন্টার থেকে আমাদের সঙ্গী হওয়ার কথা ফারহান স্যার আর রোমানা ম্যামের। কিন্তু ৮:৩০ বাজতে চলল; স্যার- ম্যামের টিকিটারও দেখা নাই। অগত্যা আমি আর তারেক হতাশ ভঙ্গিতে গা এলিয়ে দিলাম কাউন্টারের কুৎসিত চেয়ারে।

এদিকে যুগান্তরের গলির মোড়ে শ্যামলীর অন্য কাউন্টারেও তখন জমে উঠেছে এক জটিল নাটক। টান টান উত্তেজনা। শ্বাসরুদ্ধকর এক পরিস্থিতি। ওখান থেকে উঠার কথা ছিল আমরা দু'জন ছাড়া বাকি ২০ জনের। সবই ভালয় ভালয় হয়ে গেছে। বাসও ছাড়ি ছাড়ি করছে। কিন্তু আমাদের হাসি যেন উপরওয়ালার চোখের বালিসম। তাই ঝামেলাটা তখনি বাধল যখন টের পাওয়া গেল মুফের কাছে রাখা ২২টা টিকিটের একটা মিসিং। আর ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস টিকিট খুঁজতে যাওয়া মাত্র পর্দায় লোড শেডিং এর আবির্ভাব। যাকে বলে মিল্লা গেল খাপে খাপ। মুফতির একটাই কথা, "আমি যাচ্ছি না।" সবাই যতই বোঝায়, "দোস্ত ব্যাপার না, চল তো আগে উঠি।" তার হুংকার ততই বাড়তে থাকে, "না, না, না।" অতঃপর গঙ্গা- যমুনায় অনেক পানি গড়িয়ে কারেন্টের আগমন, লিসার ভালমানুষি মুখ করে বলা, "এই দেখ না, এই টিকিটটা আমার ব্যাগে কি করে এল!", ২ বছর NDC তে পড়া সত্ত্বেও জামির পুলিশ ফাঁড়ি না চিনতে পেরে "আমারে ছাইরা জাইসনা" বলে কান্নাকাটি, বাসের চলা শুরু - সব মিলিয়ে একতা কাপুরের পারফেক্ট মিরচ- মাশালাদার ডেইলি সোপ রেডি। শুধু লাইট, ক্যামেরা, একশান বলার অপেক্ষা এখন...

যাই হোক ঠিক ৯:০০ টায় বাস এসে পৌঁছল কল্যাণপুরে। সবার হৈ হৈ করে বাসে ওঠলাম বাক্স- প্যাটরা নিয়ে। অতঃপর সবাই যখন প্রাথমিক উত্তেজনা কাটিয়ে যার যার সিটে হেলান দিয়ে বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "তাহলে আমরা সত্যিই যাচ্ছি!" তখন শহরতলীটাকে পেছনে ফেলে কুয়াশার বুক চিঁড়ে বাস এগিয়ে গেছে অনেকটা দূর...

(চলবে...)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28798535 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28798535 2008-05-16 08:53:16
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে...
(চলবে...)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28797214 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28797214 2008-05-13 08:57:30
একদা এক প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে!!!


কিন্তুক মহাপুরুষেরা তো আর এমনি এমনি কহেন নাই, “যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার মানিক রতন”।" সুতরাং আমার জননীকে ভুল প্রমাণিত করিয়া আমার আবর্জনার স্তূপ হইতে যে অমূল্য রতন বাহির হইল তাহা দেখিয়া এহেন “মাইঙ্কাচিপায় পড়া” পরিস্থিতিতেও আমি হাসিয়া কুটিকুটি হইয়া লুটিয়া পড়িলাম। কিন্তুক আমার এহেন টাল্টুদশা দেখিয়া আমার মাতৃদেবী যে এইবেলা পাবনার টিকিট কিনিতে উদ্দত হইলেন তাহা দেখিয়া বুঝিতে পারিলাম এইবেলায় বোধকরি ঘটনাটা একটু খুলিয়াই বলিতে হয়...



সবেমাত্র তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হইয়াছে। এমন সময়ে আমাদের একঘেয়ে আটপৌঢ় জীবনে খানিকটা ঢেউ তুলিতে ডিপার্টমেন্টে এক নতুন শিক্ষকের আগমন ঘটিল। তরুণ প্রভাষক। সর্বদা মাথায় দুনিয়া উদ্ধারের পোকা কিলবিল করিতেছে। হঠাৎ তাহার মাথায় কি ভূত চাপিল তিনিই জানেন আর তাহার ভগবান। ঠিক করিলেন এখন থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের প্রবলেম সল্ভিং এর ক্লাস হইবে। এই বিষয়টি আজীবনই আমার নেটওয়ার্কের উপর দিয়া যায়। একজন বিবেকবান সুস্থ মানুষ নিজ জীবনের অসংখ্য সমস্যাকে কাঁচকলা দেখাইয়া এমন কি যখন দেখি- প্রেমিকার দজ্জাল পিতাকে কি করিয়া পটাইবে ইহার কথা না ভাবিয়া; কি করিয়া ফিওনা নামক এক ব্যাংগানিকে কস্ট এফিসিয়েন্ট ওয়েতে তাহার ব্যাংগ রাজপুত্ররূপী প্রেমিকের কাছে লইয়া যাইবে তা লইয়া আপাদমস্তক ঘামায়; তখন তাহা আমার বোধগম্যতার সীমাকে ছাড়িয়া যায়। সুতরাং এহেন বাস্তবতাবর্জিত অপকর্মে আমাকে কোনকালেই খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। কিন্তুক অনুরোধে যে শুধু ঢেঁকি নয় পুরো ধানছাঁটার কলই ভক্ষণ করিতে হয় সেদিন উপলব্ধি করিলাম যেদিন আমার অতি উৎসাহী এক বান্ধুবীর (যিনি বন্ধুমহলে ঢিলু, ঢিল্কা, ঢিলঢিল প্রভৃতি নামে পরিচিত তাহার ঢিলামির জন্যে!!!) ই,বি,এম (ইমোশানাল ব্ল্যাক মেইল) এর ঠেলায় এহেন পাপের ভাগীদার হইয়া প্রবলেম সল্ভিং ক্লাসে নিজেকে আবিষ্কার করিলাম। (তবে আজ এতকাল পর এইবেলায় ভাবি আসলে আমার বন্ধুটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ছিল? প্রবলেম সল্ভিং নাকি তরুণ প্রভাষক দর্শন!!!)



যাহাই হোক না কেন প্রবলেম সল্ভিং ক্লাস চলাকালীন সময়ে মেসেঞ্জারে রসের আলাপ, সামনে সুদর্শন প্রভাষক আর ক্লাস শেষে ফ্রি খাবার; ইয়ে মানে সব মিলায়ে খুব একটা ক্ষতির বিজনেস ছিল না পুরো বিষয়টা। কিন্তুক সবই কপাল- কপালের নাম গোপাল! উপরওয়ালার বোধকরি আর আমার সুখ সহ্য হইল না। সুতরাং যেদিন স্যার ক্লাসে আসিয়া বলিলেন যে এখন থেকে প্রতি ক্লাসের শুরুতে ২ ঘন্টা কন্টেস্ট তাহার পর আলোচনা তখন মনে হইল – হে ধরনী দ্বিধা হও, আমি তোমাতে আশ্রয় লই। কিন্তুক কলিকাল, ছাগলে চাঁটে বাঘের গাল। সুতরাং ধরনী দ্বিধা হইল না এবং পূর্বের ন্যায় এইবারও আমার বান্ধবীর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হইয়া আমাকে কন্টেস্টে বসিতে হইল...



কন্টেস্টে বসিবামাত্র প্রবলেম দেখিয়া আমার বাস্তববাদী মন অতিমাত্রায় বিক্ষিপ্ত হইয়া গেল। কিন্তুক আমার বান্ধবীর ঢিলাঢালা চেহারার দিকে তাকাইয়া অতি কষ্টে নিজেকে সামলাইয়া লইলাম। অতঃপর দু’জনা আবজাব মারিয়া দু’টি প্রবলেম এক্সেপ্টেডও করাইয়া ফেলিলাম (লজ্জাস্কর হইলেও সত্য যে ঐ দু’টি শিশুতোষ প্রবলেম বৈ কিছুই ছিলনা!!!)। কিন্তুক কথায় বলে না – মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই। সুতরাং যখন আমরা ওই দুটি সাবমিট করিয়া আংগুল চুষিতেছি, দেখিলাম গুরুদের র‌্যাংক বাড়িতেছে পাল্লা দিয়া। ইহা পরিলক্ষণ করিয়া আমার বন্ধুটি চুল ছিঁড়িতে উদ্দত হইলেন। আমার মাথায় পূর্ব হইতেই টাক রহিয়াছে বিধায় ঐকাজে না গিয়া মেসেঞ্জার খুলিয়া রসের আলাপে মনোনিবেশ করিলাম। আমার এহেন ঔদাসীন্য বন্ধুটির হৃদয়ে যে সেদিন সেলের মত আঘাত করিয়াছিল আজ এতদিন পরে তাহা উপলব্ধি করিতে পারিলাম। তাহার প্রমাণস্বরূপ সেদিনের সেইসকল প্রবলেমগুলোর পেছনে লেখা তাহার অনুকাব্যগুলো নিম্নে উপস্থাপন করিতেছিঃ



অনুকাব্য ১ - প্রথম অনুকাব্যটিতে কবি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে আত্মসমালোচনা করিয়াছেন। শুধু তাই নয় তিনি নিজ ভ্রাতাদেরও সমালোনা করিতে এতটুকু দ্বিধা করেন নাই। যখন স্বজনপ্রীতির পরাকাষ্ঠায় দেশ ও জাতি পর্যদুস্ত তখন এধরনের বলিষ্ট পদক্ষেপ আমাদের জন্য মাইলফলকের ন্যায় গৃহীত হইতে পারে বলিয়া আমি মনে করিঃ.

আমি একটা আবুল,
ঘুরে এলাম কাবু্‌ল,
ভাইটি আমার হাবুল।

লেখকের মন্তব্যঃ
দোস্ত একটা কথা বুঝিতে পারিলাম না! তোর মাথায় মগজের পরিমান যে একটি বাদামের দানার চাহিতে বড় নহে ইহা তুই এই কন্টেস্টে বসিয়াই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করিয়া ফেলেছিস। ইহার জন্য আবুল বা মফিজ ভাইকে এইবেলায় না ডাকিলেও চলিত। কিন্তুক কথা হইল যে বড়দা বা মেজদাকে এর মাঝে না আনিলেই কি হইত না? লোকমুখে শুনিলাম মেজদার বিবাহের তোড়জোর চলিতেছে। এহেন নাজুক মুহূর্তে এমন স্পর্শকাতর মন্তব্য যে পাত্রের যোগ্যতার স্বাস্থ্যহানি ঘটাইতে পারে – এ কথা একবার ভাবিয়া দেখিলে কি হইত না? বুঝিলাম তোর লাভলাইফের সবচেয়ে বড় কাঁটা তিনিই। তাই বলিয়া একই মায়ের পেটের ভাইকে জব্দ করিবার এহেন ইনএফিসিয়েন্ট এবং টাইম কঞ্জিঊমিং এলগরিদম! তোর কি ধারনা যে এই দুনিয়ার তাবত পাত্রীর বাপ-মায়েরা তাহাদের কন্যাদান কালে সামহোয়ারে আসিয়া আমার ব্লগ পড়িয়া যাইবে! বেয়াক্কেল মাইয়্যা! খবরদার, এহেন ভুয়া এলগরিদম লইয়া ফের যদি দেখি ফিল্ডে নামিয়াছিস তবে বাস্তবিকই তোকে পার্সেল করিয়া কাবুল প্রেরণ না করিয়াছি তো প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিকটে যাইয়া স্বয়ং আমার পিতৃপ্রদত্ত নাম বদলাইয়া ফেলিব; এইক্ষণে বলিয়া রাখিলাম। কেননা এহেন ইনএফিসিয়েন্ট এলগরিদমে প্রেজেন্টেশন এররের সহিত টাইম লিমিট এক্সিড করিবারও সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে; যাহা বরদাস্তের বাহিরে।



অনুকাব্য ২- ইহার পরে গ্রাফ থিওরি সংক্রান্ত একখানা প্রবলেমে আসিয়া যে তাহার মেমরী লিমিট এক্সিড করিয়াছিল এবং তাহারি বাই প্রোডাক্ট এর ফসল সরূপ পরবর্তী কবিতাটির জন্ম বলিয়া মালুম হইতেছেঃ

আমার মন ভাল নেই
থাকবে কি করে?
কিছুই যে পারিনা
জীবনে যখন যেখানে হাত রেখেছি
ধূলো হয়ে গেছে তা
তাই কিছুতে হাত দিতে সাহস পাইনা আজকাল
ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছে আমার সব উৎসাহ
উৎসাহের লাল রংগুলো আজ কেবলি ধূসর মনে হয়...


হতাশার আরেকটি প্রতিচ্ছবিঃ

হে মেইন (main)
তুমি রিটার্ন কর জিরো,
যদি রিটার্ন করতে ওয়ান
তবে হতাম আমি হিরো।


লেখকের মন্তব্যঃ
দোস্ত এই কবিতাটি আমার মনে ধরিয়াছে। এই কবিতার সহিত “বাতাসে উড়িতেছে আমার লুংগি” এই জাতীয় আধুনিক কবিতার চরম মিল মুহাব্বত খুঁজিয়া পাইতেছি। এহার মাঝে জীবন- যৌবনের প্রতি তোর এক অদ্ভুত ধরনের অনীহা ও বিতৃষ্ণা ফুটিয়া উঠিয়াছে যা আমার হৃদয়কে চরমভাবে স্পর্শ করিয়াছে। তুই প্রোগ্রামিং এর বন্ধুর পথে চলিয়া চাপ্পলের তলা খসাইয়া ‘প্রব্লেম’ নামক প্রেমিকাকে তাহার দজ্জাল ‘কম্পাইলার’ পিতার কব্জা হইতে এক্সেপ্টেড করাইতে না পারিলেও; চাহিলেই যে তুই ব-কবিদের পাঠশালায় তোর প্রতিভার ছাপ রাখিয়া আধ্যাত্মিক পর্যায়ে পৌঁছাইয়া যাইতে পারবি তাহা আমি নিশ্চিত। তোর এহেন আধুনিক কবিতা পাঠ করিয়া আমি গুরুর পাঠশালায় লেখা আমার প্রথম আধুনিক ব-কবিতাটি জুড়িয়া দেওয়ার লোভ সামলাইতে পারিলাম নাঃ

একদা এক প্রভাতে- পথ চলেছি আমার পথে...
হঠাৎ চলা আমার স্তব্ধ হল এক উষ্ণ স্পর্শে...
ভাবলাম বুঝি তুমি এলে...
চেয়ে দেখি – উড়ন্ত পাখির পড়ন্ত মজা পড়েছে মোর কাঁধে...



অনুকাব্য ৩- শেষ কাব্য পাঠে বুঝিতে পারিতেছি তোর সেইক্ষণে আমাদের প্রবলেম সেটারের উপর কি রূপ আক্রোশ জন্মাইতেছিল। পাঠকেরাও আশা করি তাহা খানিকটা উপলব্ধি করিতে পারিবেনঃ

আমাদের প্রিয় !!!য়ার
আসলে সে একটা জানোয়ার
বাইরে সে গোবেচারা
আসলে পাজীর গা- ঝাড়া।
তার ভাই জুব্বা
পড়াশোনায় ডাব্বা
প্রোগ্রামিং করে খালি
খায় সকলের গালি।
আর আছে পিংকু
স্বভাবে সে ডাংকু
কেয়ার করেনা কাউকে
প্রথমে বাপ বানায় সবাইকে
বাপ হয় এরপর ভাইয়া
ভাইয়া থেকে তারপর সাইয়া
স্বভাব তার বড় বাজে
সময় কাটায় সে ফালতু কাজে...

লেখকের মন্তব্যঃ
ঢিলু এই কি তোর বন্ধুত্বের পরিচয়! ভালবাসাহারাম!!! তুই তোর কিংবা প্রবলেম সেটারের ফরটিন্থ জেনারেসন নিয়ে যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারিস। আমি তাহার নিকুচি করি। কিন্তুক তাই বলিয়া আমার মত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মাইয়্যারে তুই কি না শেষমেষ বিশ্বপ্রেমিকা বানাইয়া দিলি। আমি আমার সকল রোমান্টিক ডেট বাতিল করিয়া কেবল তোর জন্যে টিসির বেরসিক পর্দায় অর্থহীন কোডিং করিয়া যাই আর সেই আমাকে এহেন অপবাদ দিতে তোর হৃদয়ে বাজিল না। কি পাষাণ তোর হৃদয়। আজ বুঝিলাম তোর মত বন্ধুদের কারণেই বাংলা সিনেমার এই টাল্টু হালাত – তাই তো আমিও ঠিক করিয়াছি যেহেতু প্রোগ্রামিং লাইনে আমার ভাত জুটিবে না তাই আমি হাল ধরিব এই বেহাল ঢালিউডের আর আমার প্রথম সিনেমা আমি উরসর্গ করিব তোকে!!! (আসিতেছে আসিতেছে আসিতেছে... বল্টু কর্তৃক পরিচালিত ও পরিচালিত, ঈদের বিশেষ আকর্ষণ - বন্ধু কেন বেঈমান... বেঈমান.. বেঈমান.. বেঈমান..)



আশা করি পাঠকেরা ইতোমধ্যেই অনুমান করিয়াছেন যে উহাই ছিল আমার তথা আমাদের প্রথম ও শেষ কন্টেস্ট!!! তবে ভাবিতেছি যে এই লাইনে ভাত না পাইলে বাংলা চলচ্চিত্রের গতি করিতে আরো দু’একবার ঢু মারিয়া দেখিব এই ঘাটের মরা কন্টেস্টে। আশা করি ইহাতে বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটে আরো কিছু রত্ন সংযোজিত হইবে...


[ পূর্বে প্রকাশিত - Click This Link ]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28795616 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28795616 2008-05-08 21:30:58
প্রিয় ২০
আগেই বলে রাখছি এই লিস্টে গানগুলো যে ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে তা র‌্যান্ডম্লি সিলেক্টেড এবং সেই মুহূর্তে যা মনে পড়েছে তাই লিখেছি। এমনকি স্মৃতি হাঁতড়ে প্রিয় গান খোঁজার অপচেষ্টাও করা হয় নি এখানে।


১। বঁধু কোন আলো লাগল চোখে
২। রোদনভরা এ বসন্ত
৩। আমার নিশীথরাতের বাদলধারা
৪। না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
৫। আমার সকল দুঃখের প্রদীপ
৬। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
৭। ভালবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখ
৮। বাদলদিনের প্রথম কদমফুল
৯। কৃষ্ণকলি
১০। এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে
১১। না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
১২। তোমায় গান শোনাবো
১৩। আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে
১৪। আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে
১৫। প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
১৬। পুরানো সেই দিনের কথা
১৭। আহা আজি এ বসন্তে
১৮। যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন
১৯। একটুকু ছোঁয়া লাগে
২০। আমারে তুমি অশেষ করেছ এমনি লীলা তব

বিঃ দ্রঃ পাঠকেরাও যদি তাদের নিজেদের প্রিয় গানগুলো জানান এখানে তাহলে প্রীত হব। ভাল থাকবেন সবাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28794722 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28794722 2008-05-06 10:16:55
বাংলাদেশের গান Bangladesh, Bangladesh,
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh ... ( ~ Joan Baez)



আমার অনলাইনে বসে কিছু না করার একটা বিশাল অংশ কাটে গুগলে বিভিন্ন সার্চের ফলাফল দেখে। অধিকাংশ সময়েই এই সার্চগুলো হয় অর্থহীন তবুও আমার বেশ লাগে। আচ্ছা সবকিছুই কি অর্থের অন্তর্গত হতে হয়? কে জানে! যাই হোক যে আর্টিকেল বা ইমেজগুলো আমার পছন্দ হয় তারা সেভ হয়ে যায় হার্ডডিস্কে। মজার ব্যাপার হল – আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার মাঝে একটা অদ্ভুত ধরনের ঘোর কাজ করে। তাই আমার পছন্দের সার্চকী গুলোর একটা হল “লিবারেশান ওয়ার অব বাংলাদেশ”। একি সাথে কি গৌরবময় কি বেদনাদায়ক সেই ইতিহাস। বিশালতার মাঝে কি ভয়াবহ শূন্যতা! তাই কখনই আমার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে জমা হয়না সেই স্মৃতিগুলো, বুকের মাঝে একধরনের বোবা যন্ত্রণার মত তারা জমা হয়ে থাকে। আর এভাবেই একদিন Joan Baez এর সাথে পরিচয় আমার। তারপর একটু একটু করে জানা আর একসময় ভালবেসে ফেলা।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ক’জন বিদেশী শিল্পী- সাহিত্যিক আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন Joan ছিলেন তাদের অন্যতম। অথচ আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে তেমন করে কখনই উঠে আসেনি Joan এর নাম। আমাদের ইতিহাসে নারীযোদ্ধারা (আচ্ছা, যোদ্ধারা কি নারী বা পুরুষ হয়!) বরাবরই অবহেলিত আর তাই হয়ত তাদের মতই অনেকাংশে অনুচ্চারিত থেকে গেছে Joan এর নামও। (যে দেশে তার সবচেয়ে গৌরবময় ইতিহাস কে বিকৃত করা হয়, সে দেশের কাছে এতটা প্রত্যাশা করা বোধকরি আমারই ভুল! ) ১৯৭১ এর উত্তাল দিনগুলিতে আমাদের সেইসব লক্ষ লক্ষ যোদ্ধার মত Joan ও লড়ে ছিলেন – আমাদের জন্যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জন্যে। পৃথিবীর কোন এক দূরপ্রান্ত থেকে তিনি অনুভব করেছিলেন আমাদের বেদনা, তাই তার সুরের অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভিন্ন এক যুদ্ধে। আমি আজ সেই যোদ্ধার কথা বলব।


Joan - Joan Baez ; ষাটের দশকের অন্যতম বিখ্যাত এই সংগীতশিল্পীর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের Staten Island এ। তার বাবা Albert Baez ছিলেন সে সময়ের আলোচিত পদার্থবিদদের একজন। অথচ যখন Manhattan Project এ কাজ করার জন্য যখন তাকে অনুরোধ করা হয় তখন তিনি Los Almos ল্যাব এ পারমাণবিক বোমা তৈরীতে অস্বীকৃতি জানান। এমন কি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া Defense Industry র লোভনীয় চাকুরীকে ও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পিতার এই সিদ্ধান্ত ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল ছোট্ট Joan কে। এমন বিবেকবান পিতার সন্তান পরবর্তি সময়ে মানুষের কথা বলবে, মানবতার কথা বলবে তাই তো ছিল স্বাভাবিক। বাবার কাজের সুবাদে Joan এর শৈশব কেটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ছোট- বড় শহরে; অনেকটা যাযাবরের মত ঘুরে ঘুরেই। শুধু তাই নয়, খুব অল্প বয়সেই তার দেখা হয়েছিল ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালীর মত দেশগুলো; পরিচিত হয়েছিলেন তাদের শিল্প- সাহিত্যের সাথে। কিন্তু তার জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলেছিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ - ইরাক। ১৯৫১ এর কথা – তখন Joan ১০ বছরের এক কিশোরী। সেসময় বাগদাদের সাধারণ মানুষের দরিদ্রতা, তাদের মানবেতর জীবনযাপন, সেখানকার আর্থ- সামাজিক বৈষম্যকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার। বিভিন্ন সময় তিনি তার লেখায় বলেছেন যে, বাগদাদের রাস্তায় সেই ভিখারীরদল, তাদের যন্ত্রণা আজও তার মাঝে তারই একটা অংশ হয়ে বেঁচে আছে।



১৯৫৭ সালের কথা। ১৬ বছর বয়সী Joan ৫০ ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন তার প্রথম গিবসন গীটারটি। সেই বছরই প্রথমবারের মত একটি কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেই যে পথচলা শুরু তারপর আর কখনই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক অসাধারণ সব গান উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে Joan অমর হয়ে থাকবেন একটি মাত্র গান দিয়ে – “SONG OF BANGLADESH”।



১৯৭১ – যখন পৃথিবীর একপ্রান্তে আমরা আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে লড়ছি তখন পৃথিবীর আরেকপ্রান্তে Joan তার খ্যাতি ও পরিচিতির শীর্ষে। অথচ ২৫ শে মার্চের সেই ভয়াল রাতের কথা শুনে তিনি নাম না জানা সেই দেশটির জন্যে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েন যে সাথে সাথে হাতে তুলে নেন তার গীটার আর রচিত হয় সেই অমর গান - “SONG OF BANGLADESH”। তার গানটিতে ২৫ শে মার্চের রাতে ভার্সিটির ছাত্রদের উপর পাক- আর্মিদের বর্বরতা থেকে শুরু করে এদেশের দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগ, রিফিউজি ক্যাম্পের গৃহহীন মানুষগুলোর হাহাকার সব কিছুই ফুটে উঠেছে অপূর্বভাবে। আর তার কণ্ঠ দিয়েছিল গানটিতে এক ভিন্নমাত্রা। মনে করা হয়, Joan এই গানটিতে ২২ বার পৃথক পৃথক ভাবে “বাংলাদেশ” শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে; তার এই গান ছিল একটি দেশের জন্মের বার্তা। সে দিনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন যুদ্ধবিরোধী সংস্থার সাথে মিলে আমাদের দেশের জন্যে বিভিন্ন কনসার্টের আয়োজন করা শুরু করেন। দেশ- বিদেশে গিয়ে জনমত তৈরী করতে থাকেন। পাক- হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত অধ্যায় তুলে ধরতে শুরু করেন বিশ্ববাসীর কাছে। তার এই সংগ্রাম তিনি চালিয়ে যান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত। সব সৃষ্টির মাঝেই থাকে একটি সুতীব্র যন্ত্রণা। ভাবতে অবাক লাগে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ের কোন এক বিদেশিনী কি গভীর আবেগেই না উপলব্ধি করেছিলেন আমাদের সেই যন্ত্রণা!



এই আমাদের Joan। এক চিরসবুজ সৈনিক – যিনি ৭১ এ লড়েছিলেন আমাদের জন্যে এবং আজও লড়ে যাচ্ছেন মানুষের জন্যে, মানবতার জন্যে। এই শিল্পীর যুদ্ধবিরোধী মনোভাব রীতিমত প্রশংসার দাবিদার। কতজনই বা তার মত বলতে পারে - "I do not believe in war... I do not believe in the weapons of war ... and I am not going to volunteer 60% of my year's income tax that goes to armaments..."



Joan Baez এর কথা লিখতে গিয়ে অভিজিত রায়ের লেখা থেকে কিছু লাইন তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছিনা – “Dear Readers, please think for a moment how many years we took to find Sitara, Taramon Bibi, and Ouderland birpratik among us and give award to them. Isn't it a high time to tribute Joan before it gets too late? Long live Joan Baez. Long live Freedom!” ~ Avijit Roy



জানিনা কেন জাতি হিসেবে আমরা সব কিছুই বড্ড দেরীতে শিখি, সব কিছুই বড্ড দেরীতে বুঝি আবার সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলি বড্ড তাড়াতাড়ি। জানিনা কবে জাতি হিসেবে আমরা আরো একটু বেশি কৃতজ্ঞ, আরো একটু বেশি বিবেকবান হব; কবে যে জাতি হিসেবে আমরা আরও একটু বেশি নির্লজ্জ হব জানিনা। জানিনা কবে আমরা আমাদের সব লজ্জা একপাশে সরিয়ে সেইসব মানুষগুলোকে অবলীলায় কাছে টেনে নিতে পারব যে মানুষগুলো আমাদের সবচেয়ে দুঃসময়ে পরম মমতায় আমাদের আগলে ধরে বলেছিলেন – “আমরা আছি।”



SONG OF BANGLADESH
- Joan Baez.

Bangladesh, Bangladesh,
Bangladesh, Bangladesh,
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which is to sacrifice a people for a land

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

Once again we stand aside
And watch the families crucified
See a teenage mother's vacant eyes
As she watches her feeble baby try
To fight the monsoon rains and the cholera flies

And the students at the university
Asleep at night quite peacefully
The soldiers came and shot them in their beds
And terror took the dorm awakening shrieks of dread
And silent frozen forms and pillows drenched in red

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh

Did you read about the army officer's plea
For donor's blood? It was given willingly
By boys who took the needles in their veins
And from their bodies every drop of blood was drained
No time to comprehend and there was little pain

And so the story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By all who carry out commands
Which flow out of the laws upon which nations stand
Which say to sacrifice a people for a land

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh


২২/ ০৫/ ২০০৭, ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28793730 http://www.somewhereinblog.net/blog/Xereen/28793730 2008-05-03 12:00:21
আমরা ত্রিমাত্রিক (কিছু এলোমেলো স্মৃতি!!!)

সে য