ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরোতেই পারছেন না মোহাম্মদ আশরাফুল। কাল সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের প্রথম ইনিংসে আউট হবার আগে করেছেন মাত্র ১ রান। পুরনো সেই প্রশ্নটাই তাই আবার উঠেছে নতুন করে-অধিনায়কত্বের চাপেই কি এমনভাবে চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছেন তিনি?
সুযোগ পেলে আশরাফুল প্রায়ই বলেন যে, অধিনায়ক হিসেবে তিনি কোন চাপ অনুভব করছেন না। পরিসংখ্যান কিন্তু সমর্থন করছে না এই কথাকে। অন্তত টেস্ট ম্যাচের ক্ষেত্রে তো নয়ই। অধিনায়ক হবার আগের ৩৫ টেস্টে আশরাফুলের রান ছিল ৩৪৩১। ৩টি সেঞ্চুরি ও ৭টি হাফসেঞ্চুরিসহ ২৪.৩৫ গড়ে এই রান করেছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে এখন পর্যন্ত ১১ টেস্টে তার রান ৩৫৬। গড় ১৮.৭৩। অর্থাৎ টেস্টে তার ব্যাটিং কমে গেছে ৫.৬২।
অধিনায়ক হবার পর টেস্টে তিনি করেছেন একটি সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পি সারভানামুত্তুতে করা অপরাজিত ১২৯ রানের ওই ইনিংসটি যদি বাদ দেন, তাহলে অধিনায়ক আশরাফুলের গড় নেমে দাঁড়ায় ১১.৯৪-তে। এটা যদি অধিনায়কত্বের চাপজনিত না হয়, তাহলে কি সামর্থ্যহীনতা? আশরাফুলের সামর্থ্য নিয়ে যেহেতু কারো সংশয় নেই, সে কারণে এটা অধিনায়কত্বের চাপ না হয়ে যায় না। ব্যাড-প্যাচ? সেই দোহাই দিয়ে তো আর বছর পার করে দেয়া যায় না।
২০০৭ সালের জুলাইতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়কত্বের অভিষেক হয়েছিল আশরাফুলের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের সিরিজে দলের কোচ হয়ে আসেন জেমি সিডন্স। দায়িত্ব নেবার পর থেকেই এই অস্ট্রেলিয়ান বদলে দিতে চাইছেন আশরাফুলের ব্যাটিং। মাঠে নেমেই স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটানোর লোভ সামলে আরো রয়ে-সয়ে খেলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর কারণটা তিনি জানিয়েছেন এভাবে-‘আমি চাই না অ্যাশ তিন বছরে একটি ম্যাচ জেতাক। চাই সে যেন প্রায়ই বড় ইনিংস খেলতে পারে। টেস্টে তার রানের গড় ৪০ এবং ওয়ানডেতে ৩৫-এর ওপরে নিয়ে যেতে চাই।’
মজার ব্যাপার হল, সিডন্সের এই ‘রয়ে-সয়ে খেলার পরামর্শ’ টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতেই বেশি কাজে লেগেছে আশরাফুলের। নতুন কোচের অধীনে ২৯ ওয়ানডেতে একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ৭৭৪ রান করেছেন ২৯.৭৬ গড়ে। যে গড় সিডন্স-পূর্ব যুগের আশরাফুলের চেয়ে ৭.৯৭ বেশি (আগের ১০৪ ম্যাচে গড় ছিল ২১.৭৯)। টেস্টে কিন্তু আশরাফুল যাচ্ছেতাইভাবে ব্যর্থ। সিডন্সের সময়ে খেলা ৮ টেস্টের ১৪ ইনিংসে সাকুল্যে তার রান ১৩৮। গড় মাত্র ৯.৮৫। এর আগে খেলা ৩৮ টেস্টে আশরাফুলের রান ১৮০১। গড় ২৫.৭২। অর্থাৎ সিডন্স দায়িত্ব নেবার পর টেস্টে আশরাফুলের গড় কমে গেছে ১৫.৮৭!
সিডন্স দায়িত্ব নেবার পর খেলা আশরাফুলের ১৪ ইনিংসে একবার চোখ বুলান-০, ২৩, ৩৫, ১, ৩৪, ২৪, ০, ৪, ২, ০, ০, ১, ১৩, ১। অর্থাৎ এ সময়ে মাত্র ৫ ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন আশরাফুল। বাকি ৯ ইনিংসেই আউট হয়েছেন এক অঙ্কের ঘরে। পরিধিটাকে আরেকটু গুটিয়ে যদি সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের ৮ ইনিংসে নিয়ে আসা যায়, তাহলে তো আরো ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে। ৮ ইনিংসে মোট রান ২১! একবারই মাত্র তিনি এক অঙ্কের ঘর পেরিয়েছিলেন!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



