মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর তুলনার নিন্দা জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা কল্যাণ সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার নিন্দা জানায় তারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মকে নিয়ে ব্যবসা করার হীন লক্ষ্যে জামায়াত নিরপরাধ ও নিষ্পাপ মহানবীকে (সা.) যুদ্ধাপরাধসহ অনেক কলঙ্কে কলঙ্কিত নিজামীর সঙ্গে তুলনা করেছে। এটি তীব্রভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি জামায়াতের রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গত বুধবার শিবিরের এক আলোচনা সভায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিজামীর সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেন জামায়াতের নেতা রফিকুল ইসলাম খান ও শফিকুল ইসলাম।
Click This Link
অন্যদিকে জামায়াতের ঢাকা মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম খান ও শিবিরের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদকে মুরতাদ ঘোষণা করেছে খোদ শিবিরের বিদ্রোহী সদস্যরা। বুধবার জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে জামায়াত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)-এর সঙ্গে তুলনা করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় বিদ্রোহীরা তাদের মুরতাদ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তারা জামায়াত-শিবিরের এই দুই নেতাকে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আগেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে তাদের গণধোলাই দেয়া হবে।
এর আগে বুধবার যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে জামায়াত নেতারা তুলনা করলেন মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)-এর সঙ্গে। মৌলবাদী এই নেতারা বলেছেন, হযরত মুহম্মদ (সা)-এর মতো বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিজামীর বিরম্নদ্ধেও মিথ্যাচার, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াত নেতাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিকরা রীতিমতো সত্মম্ভিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সভায় রফিকুল ইসলাম খান নিজামীকে তুলনা করেন মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা)-এর সঙ্গে। বলেন, হযরত মুহম্মদ (সা)-এর মতো বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার, অপপ্রচার চলছে। তিনি বলেন, নবুয়ত প্রাপ্তির আগে মহানবীকে (সা) মক্কার সকলে আলামিন স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাঁর কাছেই তারা নিজেদের সম্পদ গচ্ছিত রেখে নিশ্চিন্ত থাকত। আর যেই তিনি নবুয়ত পেলেন, তাঁর নানা সমালোচনা শুরু হলো। একইভাবে মাওলানা নিজামী জামায়াতের আমির না হওয়া পর্যন্ত তার কোন সমালোচনা ছিল না; যেই তিনি জামায়াতের আমির হলেন, অমনি সাঁথিয়া থেকে মাটি খুঁড়ে হাড়গোড় বের করে তাকে হত্যাকারী হিসেবে অপপ্রচার শুরু হলো। প্রায় একই রকমের কথা বলেন শিবিরের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বৃহস্পতিবার মেইল ও টেলিফোনে কল করে বিদ্রোহীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই ঘটনা সুইডেন ও বাংলাদেশের পত্রিকায় মহানবীকে নিয়ে যে কার্টুন করা হয়েছিল তার চেয়ে কয়েক শ' গুণ বেশি ন্যক্কারজনক। এই অপরাধের জন্য তাদের দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সেভ শিবিরের ব্যানারে আন্দোলনরত বিদ্রোহীরা আরও বলেন, এই রফিকুল ইমলাম খান ও মাসুদই শিবিরের সঙ্কটের জন্য দায়ীদের অন্যতম।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

