ইভটিজিং এর ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলছে। আমরা উদ্বিগ্ন! এখন প্রশ্ন হল- সরকারের কঠোর আইন সত্ব্বেও কেন ইভটিজিং বন্ধ হচ্ছে না? বন্ধ অদৌ সম্ভব কি? নাকি এটি নিয়ন্ত্রণ সীমার মধ্যে থাকবে?
ইভটিজিং বন্ধের জন্য শাস্তি প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। কারণ একজন ইভটিজিার ইভিটিজিংয়ের জন্য ৬মাস/১ বছরের জেল এবং অর্থ দন্ডে দন্ডিত হল। যে ইভটিজার ৬ মাসের জেল খেটে আসল ইভটিজিংয়ের জন্য সে কিন্তু জেল থেকে ফিরে এসে ভাল হয়ে যাবে আর কখনো ইভটিজিং করবে না এমনটি ভাবা যায় না। জেল থেকে ফিরে এসে সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। সে যখন আবার ইভটিজিংয়ের পুণরাবৃত্তি করবে, তখন সে আরো পরিকল্পিত ভাবে করবে যাতে আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
একজন ইভটিজার শান্তি প্রয়োগের সাথে সাথে সে যেন আর কখনো ইভটিজিং করবে না এরকম একটি মানসিক পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করতে হবে। এরকম ঘটনা আছে যে- একজন খুনি আসামী জামিনে বেরিয়ে এসে আবার খুন করছে। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ অপরাধ প্রবনতা অনেকাংশে হ্রাস করতে পারে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি অধিকাংশ ইভটিজারের বয়স ৩০ এর নিচে। একজন ইভটিজার অবশ্যই চাইবে না তার বোন অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে এরক ঘটনা অন্য কেউ করুক। কিন্তু সে অনায়াসে তা করতে দ্বিধা করছে না। তার ভিতরে এই মানবিক অনুভুতি জাগিয়ে তুলতে হবে। এ কাজ শুধু সরকার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একার নয় আমাদের সকলের।
ইভটিজিং বন্ধে শুধু কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রেলি, সেমিনার করে বড় বড় বক্তৃতা দিলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে যে বয়সটাতে ইভটিজিং প্রবনতা বেশি সে বয়সীদের এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। আমাদের সমাজের তৃণ মূল পর্যায় থেকে সকলের দায়িত্ব নিতে হবে। মনে রাখতে হবে ইভটিজিং বিশেষ করে বাবা-মা এ বিষয়ে সন্তানকে নৈতিক জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে। বাবা-মা হল সন্তানের প্রথম শিক্ষক।
নৈতিক জ্ঞান এবং নীতি বাক্যের মূল্যবোধ অনেক কমে গেছে। এগুলো অনেকটা এখন পুস্তকের ভাষা। আমাদের অধিকাংশ রাজনীতিবিদরা নির্বাচন আসলে তারা বলে থাকেন- তিনি নির্বাচিত হলে দুর্ণীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবেন, তিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবেন না, অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে আরো ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে আমরা তাদের আসল চেহারা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের ভাবতে হবে ইভটিজিং আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার ফসল। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার এবং মূল্যবোধের মূলে ঘুণে ধরেছে।
তাই ইভটিজিং বন্ধে সুশীল সমাজকেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


