বাংলা মুভি রিভিউ : রিকশাওয়ালার প্রেম
বাংলা মুভি রিভিউ : রিকশাওয়ালার প্রেম
জ্ঞান ফেরার পর কেরামত নিজেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অসংখ্য ভাংতি টাকা আর পয়সার মঝে আবিস্কার করে। সে বুঝতে পারে লোকজন তাকে ফকির ভেবে এই টাকা দান করেছে। যাই হোক, কেরামত গুনে দেখে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা(!!!) আছে। সে তাড়াতাড়ি পাশের এক দোকান থেকে তার বন্ধু আক্কাসকে ফোন করে বলে দেয় ১২ হাজার টাকা দিয়ে সে যেন রহিম মিয়ার ওয়ার্কশপ কিনে নেয়। ১ দিনের মধ্যেই কেরামত রহিম মিয়াকে টাকা শোধ করে দিবে। অতঃপর সে আক্কাসকে বলে ৫০ জনের একটা লাঠিয়াল রিক্সাবাহিনীকে ফার্মগেট পাঠিয়ে দিতে। পণ অনুযায়ী ওয়ার্কশপ কিনার পরই কেরামত ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি Maximus-এর China মোবাইল সেট ও একটি ডিজুস সিম কিনল। অবশিষ্ট টাকা সে আসন্ন বিয়ের খরচ হিসেবে তার ব্র্যাক ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখল। ইতোমধ্যে তার লাঠিয়াল রিক্সাবাহিনী ফার্মগেট এসে পৌছল। সিনেমার এই পর্যায়ে একটি রক্ত গরম করা গান(৪)। কেরামত তার নয়া মোবাইলে GPS tracker দিয়ে কেটির মোবাইল track করে কেটির অবস্থান বের করল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য রওনা হল। এভাবেই কেটি আর কেরামতের সে প্রেম প্রেম খেলা ফাইনালে উপনীত হল।
কেটিকে নিয়ে ড্যানি তার গাজীপুরের আস্তানায় আসল। অনেক চেষ্টা করেও ড্যানি কেটিকে বিয়েতে রাজি করাতে পারল না। কোন উপায় না দেখে ড্যানি কেটির বাবাকে ধরে আনতে লোক পাঠালো। এর মাঝে ড্যানি আর কেটির মধ্যে হালকা হাতাহাতি(!!!) হল। সিনেমার এই পর্যায়ে কেটি ‘তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না’ টাইপের একটা গান(৫) গেয়ে ফেলল। গান শেষ হতেই কেটির বাবাকে হাজির করা হল। ড্যানি সফদর আলীর মাথায় বন্দুক(খেলনার) ধরে কেটিকে বিয়েতে বাধ্য করতে চাইল।
ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কেরামত হাজির হয়ে গেল। কেরামতকে দেখে ড্যানি কথায় কথায় প্রচন্ড ভাব নিয়ে মুখের সিগারেটটা ছুড়ে ফেলল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই জ্বলন্ত সিগারেট গিয়ে পড়ল পেছনে রাখা তেলের ড্রামের উপড়। অমনি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। হলিউডের কোন সিনেমা হলে এই বিস্ফোরণের আগুন আর ধোয়া প্রায় আকাশ ছুয়ে যেত। কিন্তু বাজেট স্বল্পতার কারনে এই সিনেমায় চুলার আগুন দেখিয়ে সেই বিশাল বিস্ফোরণের হালকা আমেজ দর্শকদের দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
যাই হোক, বিস্ফোরণ শেষে দেখা গেল কেরামত, তার রিক্সাবাহিনী, কেটি আর কেটির বাবা ছাড়া ঘটিনাস্থলে আর সবাই মারা গেছে। যথারীতি সবকিছু শেষ হওয়ার পর পুলিশ উপস্থিত হল এবং গ্রেফতার করার মত কাউকে না পেয়ে খালি হাতেই চলে গেল।
এভাবেই কেরামত বিনাযুদ্ধে যুদ্ধজয় করল। কেরামতের এহেন বীরত্ব দেখে কেটির বাবা তার মেয়েকে কেরামতের হাতে তুলে দিতে রাজি হলেন। কেটি আর কেরামতের সে প্রেম প্রেম খেলার ফাইনাল এখানেই সমাপ্ত হল। সিনেমার এই পর্যায়ে আরো একটি প্রেমের গান(৬)।
সমাপ্ত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

