somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পদত্যাগের খবরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কে লেখা 'অপারাজিতা'র শেষ চিঠি

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় ব্যারিস্টার, কেউ কেউ অবশ্য আপনাকে ব্যারিস্টার না বলে বিলেতী উকিল বলে ডাকে। আমার ধারণা, আপনিও বিলেতী নামটিই বেশি পছন্দ করেন। পছন্দ করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কেমন যেন একটা উপনিবেশিক দাসত্বের নির্ভেজাল অথচ উৎকট টেস্ট রয়েছে ঐ বিলেতী শব্দটার মধ্যে। তবে গত এক বছরে সরকারের একজন শক্তিশালী উপদেষ্টা হিসেবে অজপাড়া-গাঁয়ে, শহরে-বন্দরে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যারিস্টারী টাইটেলটাই আপনার ব্রান্ড নাম হিসেবে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে। টিভি চ্যানেলে প্রতিদিন অসংখ্য ইন্টারভিউ দেয়ার সুবাদে এখন বাসার কাজের বুয়াও ব্যারিস্টার বলতে একজনকে চেনে। সে আপনিই।
দুঃখিত, এখনও আমার পরিচয়টাই দেয়া হয়নি। আমার নাম অপরাজিতা। অতি অচেনা এক নগন্য নাগরিক। পেশা? দরকারে-বেদরকারে, কারনে-অকারণে পত্র লেখা। তাও আবার খোলা চিঠি। কারণ আমি যাদেরকে চিঠি লিখি তাদের বেশির ভাগই আমার মতো নগন্য নাগরিকের কাছে অধরা। তবে আপনি আমার কাছে একশো ভাগ অধরা ছিলেন না। গত এক বছরে আপনার সাথে আমার কয়েক বার দেখা হয়েছে। সভা-সেমিনারে। একবার আপনার অফিসে। সে সুযোগ আমার কপালের স্বর্ণ খচিত তিলক বলতে পারেন। বসের আদেশ অলঙ্ঘনীয় ফর্মূলায় বাধ্য হয়ে একবার একটা অনুষ্ঠানে আপনাকে দাওয়াত দিয়ে রীতিমতো বিপদে পড়ে ছিলাম। খেসরাত হিসেবে আপনার বক্তৃতার খসড়া তৈরি করে দিতে হয়েছিল আমাকে। অনুষ্ঠানের দিন আলো-ঝলমলে শতশত মানুষের উপস্থিতিতে আপনি তোতা পাখির মতো আমারই লেখাগুলো বক্তৃতা হিসেবে হুবুহু উচ্চারণ করে গেলেন। আপনার মতো একজন ডাকসাইটে সম্পাদক-উপদেষ্টা আমার মতো নগন্য কর্মচারীর ক্রিপ্ট অবিকৃত অবস্থায় তেলোয়াত করেছেন দেখে আমি পুলকিত হয়েছিলাম সত্য। একই সাথে আমাদের সংবাদপত্র শিল্পেযে এখনও অনেক মালিক সম্পাদক রয়েছেন, সাংবাদিক-সম্পাদক নন, সে কথাটিও বারবার মনে পড়েছে।

আট তারিখ দুপুর দুইটার দিকে আপনার পদত্যাগের খবরটি পেলাম। আপনাদের ঘোষিত এবং প্রত্যাশি গড় আয়ু অনুযায়ী উপদেষ্টা হিসেবে আপনার হায়াত ছিল কমপক্ষে আরও ১১ মাস। অথচ ১/১১ এর প্রথম জন্মদিনের কেক না খেয়েই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝরেপড়া শিশুদের মতো আপনি অকালে ঝরে পড়লেন। হঠাৎ করে। এ যেন আপনার জীবনে সর্বগ্রাসী সিডরের আক্রমণ। আপনার মতো তারকা উপদেষ্টার আকষ্মিক ঝরেপড়াতে হৃদয়ের তানপুরাটা কেমন যেন হুহু করে কেঁদে উঠল। একই সাথে পুরনো অভ্যাসটাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। ক্রমাগত ভাবনার গর্ভে জন্ম নিল আপনাকে লেখা এ খোলা চিঠি।

পত্র লেখার প্রথাগত নিয়মে চিঠিটা শুরু হতে পারতো একগুচ্ছ ভালবাসার কথা দিয়ে। আমি বলতে পারতাম-'পতনের পরও আমি আপনাকে খু-উ-ব ভালবাসি'। কিন্তু আমি পারিনি। সাহসের অভাবে। আপনিতো জানেন, এ সমাজটা খুব বেশি পিতৃতান্ত্রিক। আর এ পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমার মতো 'অপরাজিতা'দের প্রকাশ্যে ভালবাসার কথা বলাটাকে অনুমোদন করে না। আমার ভালবাসাটা যদিও শুধু আপনার ক্যারিসম্যাটিক প্রতিভার প্রতি। প্লেটনটিক লাভ বলতে পারেন। আইনের নানান জটিল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রে আপনার যে অভাবনীয় ক্যারিসম্যাটিক প্রতিভা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি গত এক বছরে, তাতে আমি মুগ্ধ না হয়ে পারিনি। দীর্ঘ সময় আপনি বিলেতে থেকে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত মানুষকে শৃঙ্খলবদ্ধ করার ফর্মূলাটা আপনি ভালই রপ্ত করেছেন। তথাপি আপনার অসামান্য ক্যারিসম্যাটিক প্রতিভার প্রতি আমার নির্ভেজাল ভালবাসা-অনুরাগ প্রকাশ পেলে ধর্মীয় মোড়কে বিকশিত সামন্ততান্ত্রিক পিতৃতন্ত্র আমার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতো। তাছাড়া দীর্ঘ গুরু দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিতায় (দুর্জনরা বলে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ভার বইতে না পেরে) পদত্যাগে বাধ্য হয়ে আপনি এখন খুব ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। আপনার মনও ভাল নেই। তাই বিশ্রাম নেয়া আপনার জন্য খুব জরুরি। পরিবারের কাছে থাকা, পরিবারের সোহাগ পাওয়াটা আপনার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এ সময় আপনার 'পরিবার' মানে আমাদের ভাবী যদি জানতে পারে যে, কোন এক অপরাজিতা তার খোলা চিঠিতে আপনাকে ভালবাসা জানিয়েছে, তাও প্রকাশ্যে, তা হলে আপনার বহুদিনের সাজানো বাগানে, সুখের সংসারে দুঃখের আগুন লেগে যেতে পারে। আপনি এখন ক্ষমতাও নেই যে দমকল বাহিনী ডেকে এনে তড়িঘড়ি করে সে আগুন নেভাবেন। আপনিতো জানেন, সাবেক স্বৈরশাসক হু, মো, এরশাদেরও গনআন্দোলনে পতনের পর তার সাথে অনেক বেগানা নারীর ভালবাসা-বাসির কেচ্ছা বেরিয়েছিল। আপনার প্রতি আমার ভালবাসা প্রকাশকে সেরকম কোন ঘটনার সাথে মিলিয়ে আপনার বিরুদ্ধে পারিবারিক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারে। এ রকম সম্ভাবনার কথা ভেবে আমি আমার পত্রখানি ভালবাসার কথা বলে শুরু করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, আমার এ অযোগ্যতাকে আপনি আপনার স্বভাবসূলব কোন আইনী মারপ্যাঁচে ফেলে আমার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন আইনী অভিযোগ দায়ের করবেন না। যেমনটি আপনি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে। বোবা মিছিল (আমার দাদী বেশি পড়া লেখা করেননি। না জেনে তিনি মৌন মিছিলকে বোবা মিছিল বলতেন) করার কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আইনী প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত করে তাদের দিয়ে ক্ষমা-ভিক্ষা চাওয়ানোর যে নজির স্থাপন করেছেন, তা উপনিবেশিক-সামন্ত শোষণ-নিপীড়নের আমলেও নাকি বিরল। ইতিহাসের গতিপথে আপনার মতো এ রকম আর কয়জন মাইলস্টোন স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে! আমার অর্ধ-শিক্ষিত দাদীর মতো যদি আপনিও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মৌন মিছিলকে বোবা মিছিল আখ্যায়িত করেন এবং পৃথিবীর সংখ্যালঘু তাবৎ বোবাদের প্রতি উপহাস হিসেবে দেখেন তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আপনি যে ব্যবস্থাটি নিয়েছেন তাকে অভিনন্দন জানানো আমাদের সকলের জন্য ফরজ। আপনি আপনার কাজের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আপনার গভীর প্রেমের নিদর্শন আপনি অনেকভাবে রেখেছেন। যেমন ৭১ এর যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের বিচারের দাবিতে সারাদেশ যখন এক কাতারে শামিল হয়েছে তখন আপনি নানা কুট-প্রশ্ন আর আইনের নানা জটিল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়ে 'সংখ্যালঘু' যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। একটি ভিডিও ফুটেজে নিজামী ও মুজাহিদের সাথে আপনাকে একই মঞ্চে পাশাপাশি খোশ-বদনে দেখা গিয়েছে। আমার ধারণা এ ভিডিও ফুটেজটি ছবি ঘরে প্রদর্শিত হলে বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত 'কাটপিস' এর চাহিদাকেও হার মানাবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তৃতি নেয়ার সংবাদে আপনি বাঙালী জাতির 'সিরিযাসনেস' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শোনা যায় আপনার এ বক্তব্য মিডিয়াতে প্রচারিত হওয়ার পর মগবাজারের রাজাকার পাড়ায় নাকি 'মারহাবা, মারহাবা' মাতম উঠেছিল যা ঐতিহাসিক কারবালার মাতমকেও হারমানিয়েছে। ঢাবি'র সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ একটি টিভি চ্যানেলে ঢাবি'র শিক্ষকদের রাতের অন্ধকারে গ্রেফতার করে নেয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, এ রকম ঘটনা নাকি ৭১ এর পর আর দ্বিতীয়বার ঘটেনি। জাতির সামনে এভাবে ৭১ এর ভয়াল দিনগুলোর দৃশ্যমান উদাহরণ তৈরি করার এক চেটিয়া কৃতিত্বটা নিয়ে একটি দামী পুরস্কারের প্রচলন করা গেলে জাতি হিসেবে বাঙালীর কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় মিলতো। আপনারও কিছু আয়-রোজগার হতো। কারণ এ পুরস্কারটা আপনিই পেতেন।

একটি কারণে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমার জন্য 'ওয়াজিব' হয়ে উঠেছে। বিষয়টি আমার একন্ত নিজস্ব। বলতে পারেন ঘরের কথা। তবু ঘরের কথা পরের কাছে বলার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার দায় কাঁধে নিয়ে বলছি, দীর্ঘ দিন যাবত আমার জীবন-সঙ্গীর সাথে বনিবনা হচ্ছিল না। গত কিছু দিন যাবত কেন যেন সে আমার সাথে কথাও বলে না। এমনকি টেলিফোনেও না। আত্ত্বীয়-স্বজনরাও চিন্তিত আমাদের অত্যাসন্ন ডিভোর্সের সম্ভাবনা দেখে। অথচ আপনার বাধ্যতামূলক পদত্যাগের যাদুকরী সংবাদে সব দৃশ্যপট মুহুর্তে পাল্টে গেল। আমার জীবস-সঙ্গী আবেগে আহলাদিত হয়ে আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে জানালো যে, আপনি পদত্যাগ করেছেন। আমিও বহুদিন পর আমার 'সোয়ামি'র প্রতিক্ষিত কন্ঠ শুনতে পেলাম। আমি খুব আশাবাদি, আমাদের সম্পর্কটি আবার স্বাভাবিক হবে। আপনার জীবনে এ রকম পরাজয়-ব্যর্থতা না এলে আমার বহু বছরের প্রণয়ের সংসার ভেঙ্গে যেতে পারতো। আপনি পদত্যাগ করে আমার মহা উপকার করে দেয়ার জন্য আমার কিছু পূণ্য আপনাকে উৎসর্গ করতে চাই।
আমার ধারণা ছিল, আপনার এ রকম পতনে শুধু আমার 'বদ' জীবন-সঙ্গীই খুশি হয়েছে। কিন্তু রাস্তায়-বাসে-রিক্সায়-হাটে-বাজারে-চায়ের দোকানে চেনা-অচেনা হাজার হাজার মানুষের মুখে আপনার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় যে হাসির রেশ বিস্ফোরিত হয়েছে তা যদি আমি এ পত্রে উল্লেখ না করি, তবে আপনার স্বপ্নের ট্রুথ কমিশন 'ট্রুথ' না বলার দায়ে আমাকে অভিযুক্ত করতে পারে।

মাননীয় ব্যারিস্টার, একটি বিষয় আমার একেবারে বোধগম্য নয়। যতটুকু জানি, আপনার ছোট ভাই আনোযার হোসেন মঞ্জু গণক নন। গণক বিদ্যায় তার পারদর্শিতার কথা কখনও শুনিনি। কিন্তু আপনার উপদেষ্টা হিসেবে কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে বাধ্য হয়ে বিদেশ চলে যাওয়ার সময় আপনার দ্রুত পতনের ব্যপারে নাকি একটি ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন। শোনা যায় বন্দী হওয়ার আগে শেখ হাসিনাও আপনাকে টেলিফোন করে সাবধান করেছিলেন। বলেছিলেন, দিন সব সময় এক রকম যাবে না। এখন দেখি তাদের কথাই সত্যি হলো। তাদের ভবিষ্যত বাণীর সত্য হতে দেখে আমি গণক বিদ্যা চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার একটি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

আপনি দুই নেত্রীকে প্রায় বলতেন, তারা ব্যর্থ। একদম হক কথা। তারা যে ব্যর্থ আমরা সবাই জানি। আপনি আরও এক ডিগ্রী বাড়িয়ে বলতেন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাদের এ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। আপনি যদি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেন যে, ব্যর্থদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত তাহলোতো এখন আপনার যাবার পালা। এখন আপনি নিশ্চই দেশ ছেড়ে চলে গিয়ে প্রমাণ করবেন-বিলেতী উকিলরা কখনও মিথ্য কথা বলে না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির প্রসঙ্গে এইতো সেদিন কথা হচ্ছিল জামাত নেতা মীর কাশেম আলীর মালিকানাধীন দৈনিক নয়া দিগন্তের এক সাংবাদিকের সাথে। তার ভাষ্যমতে, যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া থেকে রাষ্ট্রকে বিরত রাখার জন্য আপনি এবং আপনার মালিকানাধীন পত্রিকাটিই যথেষ্ঠ। শুনে কষ্ট পেলাম, আপনার জন্য নয়, দৈনিক ইত্তেফাকের জন্য। বাঙালীর দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে দৈনিক ইত্তেফাকের একটি যোগসূত্র রয়েছে। এখন সে পত্রিকাটির ভুমিকা পুরনো ও নব্য রাজাকারদের দ্বারা প্রসংসিত।
স্বাধীনতার পরে আপনি একবার আ'লীগের টিকিটে এমপি হয়েছিলেন। দুর্জনরা বলে, আপনি নাকি ব্যক্তিগত যোগ্যতায় মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছিলেন মরহুম মানিক মিঞার ছেলে হিসেবে। যদি তাই হয় তাহলোতো আপনিও গণতন্ত্রের মোড়কে বাংলাদেশের পারিবারিক রাজতন্ত্রের একজন পেটি-সুবিধাভোগী।

আপনার পদত্যাগের আগের দিনও মিডিয়ার সাথে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আপনি বলেছিলেন, চলে যাওয়ার জন্য আপনি আসেন নি। অভিযুক্ত রাজনীতিবিদদের একটি বিহীত করেই তবে আপনি ক্ষান্ত হবেন। আপনার এসব পুনপৌনিক বক্তব্য এবং হঠাৎ পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার দৃশ্য দেখে আমার বারবার এবারের কুরবানীর গরুটার (বলদ গরু) কথা মনে পড়ছে। আমাদের পাড়ায় যতগুলো কুরবানীর গরু কেনা হয়েছিল, তারমধ্যে আমাদের গরুটা বেশি লাফিয়েছিল। দাম কম হওয়ার পরও তার লম্প ঝম্প দেখে সবাই ভেবেছিল, আমাদেরটাই সব চেয়ে দামি গরু। অথচ ঈদের আগের রাতেই গরুটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। কুরবানীর আগেই আমাদের কুরবানীর (বলদ) গরুটা 'কুরবানী' হয়ে গেল। হঠাৎ করেই। দোয়া করি, আর যেন কেউ এভাবে কুরবানী না হয়। সে মানুষ হোক অথবা কুরবানীর গরু।

আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা...
ইতি
আপনার পরিচিত
অপরাজিতা............
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯
২৩টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×