[ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট নিয়ে অনেক লেখা হচ্ছে ব্লগে। ভেবেছিলাম কোন একটাতে কিছু মন্তব্য লিখেই ছেড়ে দিবো।কিন্তু মন্তব্য অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে।তাই একটা নতুন পোষ্টই দিলাম (নতুন গোঁসাই হয়ে গেলাম নাতো!)]
ভারতীয় এক মেয়ে অনেকটা অনুযোগের সুরেই বলেছিল,আমরাই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যাদের কোণ একটি প্রতিবেশীরও সাথে সু-সম্পর্ক নেই।ভূ-ভারত বিশাল এক দেশ,প্রতিবেশী দেশের সংখ্যা কমপক্ষে ৮। এর অর্থ দুইটো হতে পারে,হয় আশেপাশের সবগুলো দেশ -ই অসহযোগী কিংবা ভারত নিজেই সমস্যা।প্রোবাবিলিটি কিংবা এম্পিরিকাল যে সুত্র ধরেই যাইনা কেন সন্দেহের তীর কিন্তু ভারতের দিকেই স্থির হয়।
মূল প্রসংগে আসি,আমি ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে কিন্তু সেটা শুধুমাত্র রেল এবং নৌ ট্রানজিট;রোড ট্রানজিট নয়।আমাদের দূর্বল রোড ইনফ্রাস্টাকচার ১০টনী ভারতীয় ট্রাকের ভার এই মূহুর্তে বহন করতে অনুপযোগী। বিনিময়ে কি চাই? অবশ্যই নেপাল এবং ভূটানে ট্রানজিট।আমার জানামতে কিছুদিনের জন্য নেপাল বাংলাদেশে ট্রানজিট পেয়েছিলো।কিন্তু সেটা বন্ধ হয়ে যায় ভারতীয় হস্তক্ষেপেই।বিগত জ়োট সরকারের সময়ে মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত গ্যাসপাইপলাইন স্থাপনের একটা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল।জোটসরকারের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই একটি চুক্তিতেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিল,বাংলাদেশের স্বার্থ মোটামুটি রক্ষিত হয়েছিল।তা কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি ওই ভারত বেকে বসায়।অথচ আমেরিকা’র প্রবল আপত্তি থাকা স্বত্তেও ইরান-পাকিস্তান-ভারত গ্যাসপাইপলাইন স্থাপিত হওয়ার সম্ভবনা প্রবল যদি চুক্তিটির অনেক শর্তই মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির চেয়ে স্ট্রিক্ট।
সাম্প্রতিক ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচলের কথা উঠেছিল কিন্তু সেই ২০০৪ সালেই;প্রাথমিক কথাবার্তা সম্ভবত ২০০১ সালে হয়েছিল।এই যে দীর্ঘ সময়ক্ষেপন তা কিন্তু ভারতের কাধেই পড়ে।অনেক হিউমিলিয়েটিং শর্ত মেনে আমরা চুক্তিতে(দিল্লী-লাহোর ট্রেণ সার্ভিসের জন্য ভারতের চিরশত্রু পাকিস্থান’কেই এই ধরনের হিউমিলিয়েটিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়নি) স্বাক্ষর করলাম ঠিক আছে কিন্তু আদৌ এই ট্রেন যাত্রা বন্ধুত্বের নিদর্শণ হিসেবে কতদিন টিকে থাকবে বলা মুশকিল? ১১/১২ ঘণ্টার যাত্রাই যদি ৫-ই ঘণ্টায় সীমান্তে ইমিগ্রেশনের আমলাতান্ত্রিকতায় নষ্ট হয়ে তাইলে কয়জনই বা এই ট্রেণ যাত্রায় দ্বিতীয়বারের মত উত্সাহী হবেন।
ভারত বিশাল দেশ।আন্তর্জাতিক অংগনে তার রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভার ক্রমবর্ধনশীল।এই বৃহত্ প্রতিবেশীর সাথে আমাদের মতো পুচকে দেশ কেমনে টক্কর দিবে?সুতরাং তাদের প্রভাব স্বীকার করাই আমাদের ভবিতব্য-এরকমটা বলেন অনেকেই।ভালো কথা,প্রভাব স্বীকার করে নেওয়া মানে কি?আপনি যদি বলেন নেপালের উপর ভারতের যে রকম আচরণ সেইটাই মেনে নিতে হবে, তাইলে আমার উত্তর এমফ্যাটিক নো। নেপাল মূলত ভারতের করদ রাষ্ট্র,কলোনী; সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য,অনেকাংশেই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে ভারত।এমনকি ভারতীয় মুদ্রা সেইখানে চলে।বাংলাদেশে যে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট,সেইটা কি শুধুই ধর্মীয়? তাইলে প্রায় শতভাগ হিন্দু হওয়া স্বত্তেও নেপালে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট আমাদের চেয়েও প্রবল কেন?
ভারতের যে ইকোনোমিক উত্থান,ইকোনোমিক জায়ান্ট হওয়ার পক্ষে তার যে অগ্রযাত্রা প্রতিবেশি হিসেবে সেইটা আমরা কাজে লাগাই না কেন? ওয়েল,কাজে লাগাতে পারলে ত খুবই ভাল।কিন্তু সেক্ষেত্রে কে মেজর প্লেয়ার ভারত নাকি বাংলাদেশ? ভারত যদি না চায়, তাইলে মাথাখুটে মরলেই আমরা কোণ সুবিধাই পাবোনা। মেক্সিকো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইকোনমি যুক্তরাষ্ট্রের কোন সুবিধাই পায়নি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অসহযোগীতার ফলে।
আমি আন্তর্জাতিক কামলা; আমার মত আমার বন্ধুদের অনেকেই।মূলত এশিয়ান দেশগুলো, ভারত,পাকিস্থান,ফিলিপিন,ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া আমাদের কম্পেটিটর।এইখানে এক সহযোগিতার নাম,ভারত।মধ্যপ্রাচ্য,আফ্রিকা,কালেভদ্রে লাতিন আমেরিকা আমাদের কর্মক্ষেত্র। আফ্রিকা কিংবা লাতিন আমেরিকা’র প্রায় কোন দেশের দূতাবাস-ই ঢাকায় নেই,ছুটতে হয় দিল্লিতে,দরকার ভারতীয় ভিসা।এই ভারতীয় ভিসা পাওয়া আফ্রিকা’র দেশগূলোতে ভিসা পাওয়ার চেয়ে ঝক্কিপূর্ণ।ঢাকা’য় কাজ করে শতশত ভারতীয় প্রকৌশলী, ডাক্তার অথচ ভারতে খোজ় নিলে মিলবে না দশটা বাংলাদেশি প্রকৌশলী কিংবা ডাক্তার।কারণ আমাদের অযোগ্যতা নয়; কারণ ভারতীয় কর্তপক্ষ আমাদের ওয়ার্ক-পারমিট দেয়না।
আমি উত্তরবংগের মানুষ সুতরাং ফারাক্কার প্রভাবটা হাড়ে-হাড়ে টের পাই।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ফারাক্কা কিন্তু ভারতের জন্য কোন সুফলই বয়ে আনেনি।ফারাক্কা উদ্দেশ্য ছিলো হুগলী নদীতে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে কলকাতা বন্দর’কে সচল করা;সেটাই ত হয়নি উলটো ফারাক্কার প্রভাবে পশ্চিমবংগে ফি বছর বন্যা,জলাব্ধতা দেখা দেয়।ফারাক্কা টিকে থাকার একটাই কারণ,বাংলাদেশের উপর পলিটিক্যাল প্রভাব জিইয়ে রাখা।তিস্তা বাঁধ, টিপাইমুখী বাঁধ ইত্যাদি’র কথা না হয় উহ্য রাখলাম।
[এর বাইরে আরো হাজারটা ইস্যু আছে যেগুলো নিয়ে লেখা যাবে।সেক্ষেত্রে লেখার আকৃতি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।]
এক ব্লগার দেখলাম মন্তব্য করেছেন,এইটা দু-দেশের মধ্যবিত্তসূলভ আচরণের কারনেই নাকি এমনটা হচ্ছে। ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঠিক কিভাবে মধ্যবিত্তসুলভ আচরণ করছে আমার জানা নেই; কিন্তু সম্পর্কের কোন উন্নয়ন হতে হয়,সেক্ষেত্রে ভারত-কেই মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে।
আর আমাদের ভূমিকাঃ আমরা উচ্চতায় ভারতের চেয়ে অনেক খাটো হয়তোবা, কিন্তু তার সামনে দাড়ালে যেন কুজ়ো হয়ে না দাড়ায়,বুক টান করে যতটুকু সম্ভব ততটুকু উচু হওয়ার চেষ্টা থাকবে।
[আমি ঠিক জানিনা, আমার এই লেখাটি উগ্র জাতীয়তাবাদ দ্বারা প্রভাবিত কিনা, যদি হয়,তাইলে আপনারা ফিগার-আউট করলে আমি নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করবো]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

