somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুবাদ গল্পঃ“জুল চাচা

২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[মুল গল্প "Mon uncle Jules ", লেখক গী দ্যা মপাঁশা(Guy de Maupassant )। মূল ফরাশি থেকে অনুবাদের চেষ্টা করেছি।জানিনা আদৌ কিছু হয়েছি কিনা! যে কোনো উপদেশ, গালি, নিন্দা সাদরে গ্রহন করা হবে।প্রচুর বানান ভুল আর ছাপার ভুল আছে;নিজগুনে বুঝে নিবেন।
এইটা প্রথম কিস্তি লিখছি।মুল গল্পটি বেশ বড়ো। উদ্‌সাহ ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে লিখবো।মূলগল্পটি এখানে পাবেন জুল চাচাঃমূল ফরাসিতে]

“জুল” চাচা

শুভ্রদাড়ি একবৃদ্ধ আমাদের কাছে হাত পাত্‌লো। বন্ধুবর যোসেফ দাভ্‌হঁশ(Davranch) তাকে একশো সেন্ট দান করলো। আমি একটু অবাকই হলাম। তখন সে বললোঃ এই ভিক্ষুক আমাকে আমার অতীত মনে করিয়ে দিল, যে অতীত আমাকে বিরামহীনভাবে এখনো তাড়া করে ফিরে।সেই ইতিহাস আমি তোমাকে বলছিঃ

হাভ্‌রে এলাকা থেকে আসা আমাদের পরিবার অবস্থাপন্ন ছিলোনা। আমরা কোনোরকমে চালিয়ে নিতাম।বাবা চাকুরিজীবি ছিলেন, অনেকদেরিতে অফিস থেকে বাসায় ফিরতেন কিন্তু আয়-উপার্জন তেমন কিছুই করতেন না।আমার দুই বোন ছিলো।

আমাদের এই দ্ররিদ্রবস্থা মাকে খুব কষ্ট দিত। মা প্রায়ই তীব্র বাক্যবানে বাবাকে জর্জরিত করতো। তার ভর্ত্‌সনাগুলো ছিলো প্রকাশ্য এবং মর্মভেদি।অসহায় পিতার তখনকার সেই মুখভংগিমা আমাকে দারুনভাবে আহত করতো। বাবা তার খালি হাত দুটি কপালে’র উপরে এমভাবে চেপে ধরতেন যেন হাত দুটি কপালে জমা হওয়া অদৃশ্য ঘাম মুছতে ব্যাস্ত এবং তিনি কোন প্রতিত্ত্যুর দিতেন না।আমি অনুভব করতাম তার অক্ষম-বেদনা। আমরা সবকিছুতেই কাঁট-ছাঁট করছিলাম।আমরা রেশনে বাজার করতাম। আমার ভগ্নিদ্বয় নিজেদের পোষাক নিজেরাই তৈরি করত এবং অনেক দিক ভেবে ছিট্‌-কাপড় কিন্‌তো ১ মিটার পনেরো সেন্ট-এ।আমাদের খাবার ছিলো ঘন স্যুপ আর গরুর মাংস, সাথে থাকত অনেক ধরনের সালাদ্‌।মনে হতে পারে আমরা বুঝিবা স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবারই খেতাম। আমি কিন্তু অন্যকিছু খেতেই পছন্দ করতাম।

বোতামহীন জামা আর ছেড়াঁ-প্যান্টের কল্যানে আমাকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

কিন্তু প্রত্যেক রবিবার আমরা নিয়মকরে সাহেবি-পোষাকে জেটি পরিদর্শনে যেতাম।

গায়ে ফ্রককোট,মাথায় বড় টুপি,হাতে গ্লাভ্‌স পরে আমার পিতা এমনভাবে মা’র দিকে হাত বাড়িয়ে দিত যেন মনে হত তিনি উত্‌সবের দিনে সাজানো কোন নৌকো।আমার ভগ্নিদ্বয় সবার আগে প্রস্তুত হয়ে যেত,তারপর বেরুনোর অনুমতি‘র অপেক্ষা করতো;কিন্তু বেরুবার পুর্বমূহুর্তে তারা বাবা’র পরিধেয় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একমাত্র ফ্রোক-কোট’টিতে কোন না কোন দাগ আবিষ্কার করতো।বেঞ্জিনে ন্যাকড়া ভিজিয়ে সেই দাগ মোছার জন্য হুড়োহুড়ি পরে যেত।
পিতৃমশাই মাথায় সেই বৃহত্‌ টুপিটা চেপে লং-শ্লিভ শার্টটি গায়ে জড়িয়ে "অভিযান"টি শেষ হওয়া’র অপেক্ষা করতো।অন্যদিকে আমার মা তড়িঘড়ি করে তার ক্ষীনদৃষ্টি’র চোখে চশমা’ ঠিকঠাক বসিয়ে নিতো।হাতমোজাদুটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে,এইভয়ে সে খুলে রেখে যেত।

আমরা যাত্রা শুরু করতাম বেশ আনুষ্ঠনিকভাবে।আমার ভগ্নিদ্বয় পরস্পর পরস্পরের বাহুতে হাত রেখে সবার আগেআগে হাঁটতো।তারা দুইজনেই ছিলো বিবাহযোগ্যা এবং সেটাশহরের সবার বলাবলির বিষয় ছিলো।আমি থাকতাম মার বামপাশে আর আব্বা ডানপাশে।এবং আমি এখণো স্মরণ করতে পারি রবিবার’এর দিনটিতে আমার গরীব পিতামাতা’র সেই আড়ম্বরপূর্ণ পদযাত্রা;তাঁদের আচরণের নিয়মনিষ্ঠতা,তাঁদের মুখভংগীর সেই কঠোরতা।তারা সামনে এগুতো বেশ মেপে মেপে,সোজা দেহ,আড়ষ্ট পদক্ষেপ; যেনবা তাদের পোশাক-আশাক,আচরণেই উপরেই খুবই গুরত্ত্বপূর্ণ কিছু নির্ভর করছে।

এবং প্রত্যেক বরিবারেই, অজানা-অচেনা দূরদেশ হতে ফিরে আসে জাহাজগুলি দেখলেই,আমার বাবা অবশম্ভাবীভাবে উচ্চারণ করত সেই বারবার বলা একই কথাগুলিঃ
ইশ,জুল যদি ওইখানটিতে(জাহাজে) থাকতো,কি চমত্‌কারই না হতো!আমার চাচা জুল,আমার পিতা’র ভাই, পরিবারের “দুর্ভোগ”-এর কারণ থেকে পরবর্তিতে একমাত্র “ভরশা”য় পরিণত হয়েছিলো।


(চলবে)[/sb
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৯
১৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×