[মুল গল্প "Mon uncle Jules ", লেখক গী দ্যা মপাঁশা(Guy de Maupassant )। মূল ফরাশি থেকে অনুবাদের চেষ্টা করেছি।জানিনা আদৌ কিছু হয়েছি কিনা! যে কোনো উপদেশ, গালি, নিন্দা সাদরে গ্রহন করা হবে।প্রচুর বানান ভুল আর ছাপার ভুল আছে;নিজগুনে বুঝে নিবেন।
এইটা প্রথম কিস্তি লিখছি।মুল গল্পটি বেশ বড়ো। উদ্সাহ ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে লিখবো।মূলগল্পটি এখানে পাবেন জুল চাচাঃমূল ফরাসিতে]
“জুল” চাচা
শুভ্রদাড়ি একবৃদ্ধ আমাদের কাছে হাত পাত্লো। বন্ধুবর যোসেফ দাভ্হঁশ(Davranch) তাকে একশো সেন্ট দান করলো। আমি একটু অবাকই হলাম। তখন সে বললোঃ এই ভিক্ষুক আমাকে আমার অতীত মনে করিয়ে দিল, যে অতীত আমাকে বিরামহীনভাবে এখনো তাড়া করে ফিরে।সেই ইতিহাস আমি তোমাকে বলছিঃ
হাভ্রে এলাকা থেকে আসা আমাদের পরিবার অবস্থাপন্ন ছিলোনা। আমরা কোনোরকমে চালিয়ে নিতাম।বাবা চাকুরিজীবি ছিলেন, অনেকদেরিতে অফিস থেকে বাসায় ফিরতেন কিন্তু আয়-উপার্জন তেমন কিছুই করতেন না।আমার দুই বোন ছিলো।
আমাদের এই দ্ররিদ্রবস্থা মাকে খুব কষ্ট দিত। মা প্রায়ই তীব্র বাক্যবানে বাবাকে জর্জরিত করতো। তার ভর্ত্সনাগুলো ছিলো প্রকাশ্য এবং মর্মভেদি।অসহায় পিতার তখনকার সেই মুখভংগিমা আমাকে দারুনভাবে আহত করতো। বাবা তার খালি হাত দুটি কপালে’র উপরে এমভাবে চেপে ধরতেন যেন হাত দুটি কপালে জমা হওয়া অদৃশ্য ঘাম মুছতে ব্যাস্ত এবং তিনি কোন প্রতিত্ত্যুর দিতেন না।আমি অনুভব করতাম তার অক্ষম-বেদনা। আমরা সবকিছুতেই কাঁট-ছাঁট করছিলাম।আমরা রেশনে বাজার করতাম। আমার ভগ্নিদ্বয় নিজেদের পোষাক নিজেরাই তৈরি করত এবং অনেক দিক ভেবে ছিট্-কাপড় কিন্তো ১ মিটার পনেরো সেন্ট-এ।আমাদের খাবার ছিলো ঘন স্যুপ আর গরুর মাংস, সাথে থাকত অনেক ধরনের সালাদ্।মনে হতে পারে আমরা বুঝিবা স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবারই খেতাম। আমি কিন্তু অন্যকিছু খেতেই পছন্দ করতাম।
বোতামহীন জামা আর ছেড়াঁ-প্যান্টের কল্যানে আমাকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
কিন্তু প্রত্যেক রবিবার আমরা নিয়মকরে সাহেবি-পোষাকে জেটি পরিদর্শনে যেতাম।
গায়ে ফ্রককোট,মাথায় বড় টুপি,হাতে গ্লাভ্স পরে আমার পিতা এমনভাবে মা’র দিকে হাত বাড়িয়ে দিত যেন মনে হত তিনি উত্সবের দিনে সাজানো কোন নৌকো।আমার ভগ্নিদ্বয় সবার আগে প্রস্তুত হয়ে যেত,তারপর বেরুনোর অনুমতি‘র অপেক্ষা করতো;কিন্তু বেরুবার পুর্বমূহুর্তে তারা বাবা’র পরিধেয় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একমাত্র ফ্রোক-কোট’টিতে কোন না কোন দাগ আবিষ্কার করতো।বেঞ্জিনে ন্যাকড়া ভিজিয়ে সেই দাগ মোছার জন্য হুড়োহুড়ি পরে যেত।
পিতৃমশাই মাথায় সেই বৃহত্ টুপিটা চেপে লং-শ্লিভ শার্টটি গায়ে জড়িয়ে "অভিযান"টি শেষ হওয়া’র অপেক্ষা করতো।অন্যদিকে আমার মা তড়িঘড়ি করে তার ক্ষীনদৃষ্টি’র চোখে চশমা’ ঠিকঠাক বসিয়ে নিতো।হাতমোজাদুটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে,এইভয়ে সে খুলে রেখে যেত।
আমরা যাত্রা শুরু করতাম বেশ আনুষ্ঠনিকভাবে।আমার ভগ্নিদ্বয় পরস্পর পরস্পরের বাহুতে হাত রেখে সবার আগেআগে হাঁটতো।তারা দুইজনেই ছিলো বিবাহযোগ্যা এবং সেটাশহরের সবার বলাবলির বিষয় ছিলো।আমি থাকতাম মার বামপাশে আর আব্বা ডানপাশে।এবং আমি এখণো স্মরণ করতে পারি রবিবার’এর দিনটিতে আমার গরীব পিতামাতা’র সেই আড়ম্বরপূর্ণ পদযাত্রা;তাঁদের আচরণের নিয়মনিষ্ঠতা,তাঁদের মুখভংগীর সেই কঠোরতা।তারা সামনে এগুতো বেশ মেপে মেপে,সোজা দেহ,আড়ষ্ট পদক্ষেপ; যেনবা তাদের পোশাক-আশাক,আচরণেই উপরেই খুবই গুরত্ত্বপূর্ণ কিছু নির্ভর করছে।
এবং প্রত্যেক বরিবারেই, অজানা-অচেনা দূরদেশ হতে ফিরে আসে জাহাজগুলি দেখলেই,আমার বাবা অবশম্ভাবীভাবে উচ্চারণ করত সেই বারবার বলা একই কথাগুলিঃ
ইশ,জুল যদি ওইখানটিতে(জাহাজে) থাকতো,কি চমত্কারই না হতো!আমার চাচা জুল,আমার পিতা’র ভাই, পরিবারের “দুর্ভোগ”-এর কারণ থেকে পরবর্তিতে একমাত্র “ভরশা”য় পরিণত হয়েছিলো।
(চলবে)[/sb
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



