রান্নার করার সময় টিভিতা সাধারণত ছেড়ে রাখি।গতকালই তার ব্যাতায় হয়নি।মরারদেশে চ্যানেল বলতে দুটোই আলজাজিরা এবং বিবিসি।
আলজাজিরাই বেশি দেখা হয়।সর্বসাকুল্যে চ্যানেল আসে ১৬টা কি সতেরটা।তারমধ্যে কয়টা আবার রিপিটেশান। হাড়ে হাড়ে টের পাই “টিভি দর্শন” কিংবা “সিনেমা ভক্ষন” দুটোর ক্ষেত্রেই আমার সোনার বাংলার মতো "এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি"।
ও হ্যাঁ যা বলতে চাচ্ছিলাম।খালি বেলাইনে চলে যাই।বক্তব্য না থাকলে এমনই হয়।
নাকে চোখে জল সহযোগে সহকারে যখন পিয়াজ কটছি, টিভি থেকে পাকিস্তান, বোমব্লাস্ট, হোটেল ম্যারিয়ট ইত্যাকার শব্দমালা, এম্বুলেন্সের কুঁকুঁ, মনুষ্য- চিৎকার ভেসে আসছিলো।ইদানিং এত বেশি পাকিস্তান-বোম্ব ব্লাষ্ট শব্দজোড়া শুনি যে প্রায়ই অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এই খবরে তেমন চমকে উঠার কথা না।
বিবিসির কন্টিনিউয়াস কাভারেজে (ঘ্যানর-ঘ্যানরে) বিরক্ত হয়ে তাকাতেই দেখলাম ব্লকবাষ্টার হলিউডির ছবির শেষদৃশ্য।একটা বড়সড় বিল্ডিং পুরোটাই ,লেলিহান শিখা না কি জানি বলে ,আগুনের লেলিহান শিখায় দাউদাউ করে জ্বলছে।সাথে আরো কিছু তথ্য জানা গেল।নরকের আগুনে পুড়তে থাকা ভবন টার নাম হোটেল ম্যারিয়ট। ইসলামাবাদের সবচে নামীদামী হোটেল।পারনাইট ভাড়া ২৫০ ডলার।তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফরেইনিয়ার আর ব্যবসায়িদের নিরাপদ আবাস।এই ভবন থেকে পাকিস্তানি পার্লামেন্টের মাত্র কয়েকমিনিটের পথ। সেখানে একটু আগে ফুরান বাটপার জারদারি গলা উচিয়ে টেরোরিজম,ন্যাশনাল সভ্রেইনটি প্রভৃতি বিষয়ে জ্বালাময়ি ভাষণ দিয়েছে। এমনকি এইখানে একটু পরে জারদারি’র সাথে হাঁটু বাহিনীর প্রধান কিয়ানির মোলাকাত করার কথা ছিলো।
আংগুল বরাবরই মতো পাকিস্তানি তালিবান আর আল কায়েদার দিকে।
তারা নিজেরাও স্বদম্ভে সফল হামলার সাফল্য নিজেদের স্কন্ধে নিয়ে নিয়েছে মনে হয়(এইরকম ত দেখলাম মনে হয়)। হয়তোবা আসলেই তারাই নেপথ্য নায়ক।ব্যাপক ভয়ংকর এক অশনি সংকেত।পুরো হামলার লজিটিক্সস, পরিকল্পনা,টাইমিং শকুনের মত সতর্ক প্রহরী বেষ্ঠিত একটা স্থানের নিরাপত্তাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়েছে।তাইলে কি তালিবান-আল কায়েদা গোষ্টি মিলিটারি রাষ্ট্র পাকিস্তানকে যেনতেন ভাবে কুপোকাৎ করতে সক্ষম! ভবিষ্যতে এই আলকায়েদার সুনজর শতশত নিরাপত্তা ছিদ্রওয়ালা প্রান্তিক দেশগুলোর উপরে পড়ে,তাইলে কি তান্ডবই না
চলিবে?
তবে চিরকালই সবকিছুকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা আমার এক অনিরাময় যোগ্য ব্যামো।এই হামলার পিছনে বড়, বড়, অনেক বড় কারো বাঁহাতের কারসাজি নাইতো? হামলার ব্যাপকতা,টাইমিং আমার ভিত্তিহীন কুসন্দেহের হেতু।সপ্তাহখানেক পুর্বে জেনারেল কিয়ানি, গতকাল জারদারি পাকভুমির সার্বভৌমিত্বের ব্যাপারে একটু গলার স্বর বড় করে কথা বলেছে।তাদেরকে একটু ধাতানি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া, দেখ আমরা না থাকলে তোরা কেম্ননে কি করবি?শুধুই নরককুন্ডে পুড়ে মরবি।
ম্যারিয়ট আমেরিকান মালিকানায় চালিত হোটেল। জানি এই সন্দেহের ভিত্তি দুর্বল।
দুনিয়াদারি বহুত কঠিন, বহুত পেজগী।মুখ্যসুখ্য মানুষ কতটুকুই বা বুঝি!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



