somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭ই নভেম্বরের বিলম্বিত ভাবনা

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নিজ জেলা বগুড়া।জেনারেল জিয়ার জন্মস্থানও বগুড়া।এমনকি আমি যে স্কুলের ছাত্র ছিলাম "বগুড়া জিলা স্কুল", উনি কয়েকদশক পূর্বেই সেই জিলাস্কুল থেকে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, এমনটাও শুনেছি।যে পারিবাহিক আবহে আমি বড় হয়েছি, সেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়া এখনো এক কিংবদন্তীতুল্য মহানায়ক।কলেজ জীবন পর্যন্ত আমি তাঁকে পারিবারিক আবহের দৃষ্টিতেই দেখতাম।তবে যে কোন অনুসন্ধিৎসু মনের নিকট সত্যকে বোধকরি বেশিদিন ঠুলি পরিয়ে রাখা যায়না।আরোপিত সেই ঠুলিকে সরিয়ে জেনারেল জিয়ার যে রুপ আমি এখন দেখতে পায়, সেখানে সে একজন স্বৈরাচারি , সুযোগসন্ধানী এবং নিষ্ঠুর রাষ্ট্রনায়কের পরিবর্তে আর কিছুই ধরেনা পড়েনা।অনেকেই তাঁর মুল্যয়নে তাঁর ব্যাক্তিগত সততার চর্চাকে খুব বড় করে তুলে ধরেন।হয়তোবা তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যই সৎ কোন ব্যাক্তি।কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা শাসকের মুল্যয়নে ব্যক্তিগত সততার দাম কতটুকু? ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে বিবেচিত হিটলার কিংবা স্ট্যালিন ব্যাক্তিগত জীবনে অসৎ ছিলেন এমন প্রমান কিন্তু মিলেনা।

ভারত বর্ষের ইতিহাসে আর এক চরিত্রের সাথে জিয়ার সাদৃশ্য আমি খুঁজে পাই।সে মুঘল সম্রাট আওরংগজেব।বাদশাহ শাহাজাহানের চারপুত্র দারাশিকো, শাহসুজা,আওরংগজেব আর মুরাদ বখশ; তৃতীয় এবং সবচে চৌকষ আওরংজেব।সম্রাট শাহজাহানের ইচ্ছা দারাশিকোকে সিংহাসনে বসাবেন এবং মুঘলসাম্রাজ্যের রীতি তাই বলে।কিন্তু উচ্চভিলাসী চৌকস কুটকৌশলি আওরংগজেব তা মানবেন কেন? তাই তিনি কনিষ্ট মুরাদ'কে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে বাদশাহ শাহজাহানকে বন্দী করেন আগ্রায় আর দারাশিকোকে বিতাড়িত করেন।অত:পর সেই মুরাদকে কেই বিষপ্রয়োগে হত্যা করেন।তার কুটকৌশল আর সামরিক শৌর্যের ভয়ে শাহসুজা পালিয়ে যান আরাকানে।সেখানে আরকান রাজাদের হাতে তার মৃত্য ঘটে।
আর জৈষ্ট্যভ্রাতা দারাশিকোকে তিনি নির্মমভাবে নিজহাতে হত্যা করেন।

একথা অস্বীকার করার জো নেই আওরংজেব সফল মুঘল সম্রাটদের একজন। রাজ্যবিস্তারে সম্রাট আকবরের পরেই তিনি সফলতম জন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন।তার শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্য
সংগঠিত হয়েছিলো।তবে ইতিহাসবিদদের মতে তার শাসনামলই আসলে
মুঘল সাম্রাজ্যে ভাংগনের বীজ রোপিত হয়েছিলো।অমুসলিমদের উপরে
জিজিয়া কর স্থাপন, অসংখ্যা মন্দির ভেংগে , শরিয়া আইনের প্রচলন ঘটিয়ে পুর্বাপর মুঘল সাম্রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মুল ব্রিটিশপূর্ব যুগে তিনিই কুঠারাঘাত করেছিলেন।

ঠিক একই ভাবে, ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের যে রাজনীতিতে যে সামরিকশাসনের জাতাকলে বারবার বন্দীহওয়া, স্বাধীনতা বিরোধীদের যে উত্থান, বহুজাতিক গণতন্ত্রের নামে যে সংকর আদর্শের আবির্ভাব তাতে তাতে একক ব্যাক্তিত্ব হিসেবে জেনারেল জিয়ার লিগ্যাসি বাংলাদেশ আজ বহন করে চলেছে।

জেনারেল জিয়ার এরুপ লিগ্যাসিতে কর্ণেল তাহেরের অবদান কতটুকু আর
তাকে কিভাবেই বা জিয়ার পাশে তাকে উপস্থাপন করা সম্ভব?

তাহেরকে অনেকেই রোমান্টিক বিপ্লবী কিংবা ফুলিশ রোমান্টিক বিপ্লবী হিসেবে চিহ্নিত করেন।আসলে বিপ্লবী ব্যাপারটা অনেকটা রোমান্টিক, অন্তত ইমাজিনেশেনর ক্ষেত্রে।স্বপ্ন দেখতে না পারলে, ঝুঁকি নেওয়ার মতো
যথেষ্ট সাহস না থাকলে, শুধু তত্ত্বকথা আর বুলি কপচিয়ে বিপ্লব হয়না।

কর্ণেল তাহের সেনাকর্মকর্তা, চৌকষ কর্মকর্তা। হয়তোবা সে কারনেই তার বিপ্লবকেন্দ্রিক চিন্তায় প্রচলিত সেনাবাহিনীর রিফর্মেশনের ভাবনা এসেছে।তিনি গরীব দেশের পটভুমিকায় সেনাবাহিনীকে শ্বেতহস্তির ভুমিকায় না রেখে উৎপাদনশীল সেনাবাহিনীতে রুপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন।এটাকে রোমান্টিক ভাবলে ভাবা যায় তবে এটা চিন্তার জগতে অভিনবত্ব।

সেনাবাহিনী নিয়ে শেখ মুজিব কিংবা মুজিব প্রশাসনে চিন্তাধারা বেশ লক্ষনীয়।অনেকটাই তাহের ভাবনার বিপরীতে।শেখ মুজিবের প্রচলিত সেনাবাহিনীতে কোন আস্থা কিংবা বিশ্বাস ছিলোনা।সেই সময়ের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও তাকে এক্ষেত্রে রসদ যুগিয়ে থাকতে পারে।সমসাময়িক সময়ে চিলির নির্বাচিত সালভাদর আয়েন্দের সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুতি
কিংবা তার কিছুকাল পূর্বে জেনারেল সুহার্তোর হাতে সুকর্ণের পতন মুজিবমানসে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দেয়।তিনি সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে গড়ে তুললেন রক্ষীবাহিনী যার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে নিজহাতে।রক্ষীবাহিনীর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রন নিজহাতে থাকলে, সেই বাহিনীর অত্যাচার, অন্যায়ের, বীভৎসতার নিয়ন্ত্রণ আসলে তার হাতে ছিলোনা। সেই রক্ষীবাহিনীই আসলে তাঁর পতন ত্বরাণ্বিত করেছিলো।

(চলবে......)।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৫
১৩টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×