দেশের বাইরে গেলে বোধকরি মানুষের জাতীয়তাবাদী বোধ, ধ্যানধারণা বহুলাংশে বেড়ে যায়।আধুনিক পৃথিবীতেও রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে যে কোন ব্যাক্তির পরিচয় মুলত তার রাষ্ট্রীয় পরিচয় দ্বারাই নির্ধারিত হয়।মানুষ নিজকে ভালবাসে;যে কোন বোধসম্পন্ন আত্মবিশ্বাসী মানুষ নিজস্ব পরিচয়েই মাথা তুলে দাড়াতে চায়।তার আত্মপরিচয়ের এই খোঁজে রাষ্ট্র কিংবা দেশের অবস্থান অনস্বীকার্য।তাই রাষ্ট্রের অবমাননা কিংবা অপমান তার আত্মপরিচয়গত অবমাননা, অপমান।
আমার বন্ধু তানজিলুল খান নাইম; রুয়ান্ডাতে কর্মরত।পদবীতে খান উপাধী থাকলেও সে প্রবলভাবে খান সেনাদের দেশ পাকিস্তান বিরোধী; এবং সেটা ৭১-এ তাদের ভুমিকার জন্য।ভারত সম্বন্ধে তার মনোভাব মিশ্র; ৭১ সালে ভারতের ভুমিকার কারনে সে অনেকটাই মানসিকভাবে কৃতজ্ঞ( ছিলো)।
গুলি করে ঘুমন্ত মা-শিশু সহ তিনজনকে হত্যা' র সংবাদে সে প্রবলভাবে উত্তেজিত।ভারতীয় ক্রনিক আগ্রাসন আর খুনোখুনিতে ৭১-এর পাকিস্তান আর বর্তমানের ভারতের রুপ তার দৃষ্টিতে একই হয়ে ধরা পড়ে।আন্ত:সম্পর্কীয় সম্পর্কের জটিল ঘোরপ্যাচ, রাষ্ট্রীয় আধিপত্যবাদ কিংবা রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনে গুঢ় তত্বে তার আগ্রহ নাই।একজন সাধারণের খোলাদৃষ্টিতেই সে ভারতের খুনি চরিত্র আর সেই সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নপুংশতা দেখে বিপর্যস্ত হয়, উগ্রজাতীয়তার বোধে প্ররোচিত হয়।
উগ্র জাতীয়তাবাদের বিপদ সম্পর্কে সম্যক অবহিত থেকেও
ভারতীয় আগ্রাসন সেই সাথে নিজ রাষ্ট্রের নপুংশতায় আমি কিংবা অন্য যে কেউ যদি ওর মতোই উগ্রজাতীয়তার বোধে আক্রান্ত হই ।
তবে সেইটা কি দোষের কিছু?
আর কতকাল ভারত আমাদের দুর্বল ভেবে হত্যা করতে থাকবে আর সেটা আমরা নতজানু হয়ে নপুংশকের মতো
সহ্য করে যাবো?
এই জাতির আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত হোক সেইটা উগ্রজাতীয়তাবাদের বহি:প্রকাশে মধ্যে দিয়ে হলেও!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


