আমার প্রিয় পোস্ট

ফ্রম দ্যা হার্ট অফ ডার্কনেস

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ?সুমন রহমানের লেখার প্রতিক্রিয়া

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0

দিনযাপনের হ্যাপায় কেমন জানি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যাচ্ছি।স্বইচ্ছায় নিজ থেকে কিছু লিখতে ইচ্ছা করেনা কিন্তু অন্যলেখার প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ভিতরে ভিতরে কেমন জানি কিচির-বিচির করে।আমার টার্গেট আবার সেলেব্রেটি ব্লগার।হিট বাড়ানোর খায়েশ আর কি!

"শায়লার দিকে যাত্রা" কিংবা "গরিবী অমরতার" লেখক সুমন রহমান গল্পের ভক্ত আমি।তিনি প্রবন্ধও লিখেন বেশ।"দুইরকম তারুণ্য" নামে তাঁর এক অসাধারণ প্রবন্ধ আমার শোকেসে এখনো সাজানো আছে।তবে তিনি মনে হয় কলামন্‌ লেখায় এখনো ঠিক সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠতে পারেননি।প্রথম আলোতে তাঁর পরর দু'কটা কলামই অনেকের কাছে অন্তত আমার কাছে অনেকটা "আন্দাজে" লেখা মনে হয়েছে।

গতকাল প্রথম আলোতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ? নামে এক "গুরুত্বপূর্ণ আবার একই সংগে গুরুত্বহীন" কলাম ছাপানো হয়েছে।গুরুত্বপুর্ণ কারণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে "জ্ঞান উৎপাদন হয়না, শুধুমাত্র পুরনো আমলের জ্ঞান বিতরণ" এই বিষয়গুলো জানা দরকার কিন্তু এগুলো একই সংগে গুরুত্বহীন কেননা এই বিষয়টা নিয়ে ফিহপ্তায় বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখা হয় কিন্তু "কেন জ্ঞান উৎপাদিত হয়না" সেইটা নিয়ে দুয়েকজন ছাড়া কেউ তেমন উচ্চবাচ্য করেনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অর্থ।এবং সরকারী অনুদান থেকেই
সেই অর্থ আসতে হবে। "বোঝা বয়ে বেড়ানোর' সরকারি নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে সেখানে আর যাই হোক জ্ঞান উৎপাদন আর হবেনা।

তবে তার লেখার "আন্দাজে ঢিলা ছোঁড়া" এবং অসত্য লাইন হলো "যতদুর হয়, দেখা যায় আমাদের প্রকৗশলীদের অনেকে বাইরে গিয়ে সাইট সুপারভাইজারের চাকরি পান, ডাক্তার হন চিকিৎসা সহকারি৷ তাও কপাল ভালো থাকলে"।আমার চেনাজানায় দু শতাধিকের অধিক প্রকৌশলীর যারা বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিভিন্ন দেশে প্রকৌশলি চাকরি পেয়েছেন এবং তা যথেষ্ট সাফল্যের সংগে।

পেশাগত সম্মানবোধের ধারণা অতো খাঁড়া না, অন্তত আমার না। তবে কথাটার মধ্যে যে এক ধরণের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের খোঁচা আছে, তা হজম করা কঠিন।

"জনশক্তি রপ্তানী কিংবা উহার ভবিষ্যত" নিয়ে সুমন রহমানের ব্যাপক আগ্রহ এবং আশাবাদ পরিলক্ষিত হয়।পরপর দুটো কলামেই এই ব্যাপারটা চোখে পড়ে।অবশ্য বাংলাদেশে এখন অনেকেই "ঠারেঠুরে এক দংগল মানুষ বিদেশে পাঠিয়ে" তাকে "জনশক্তি রপ্তানী" নাম দিয়ে বাংলাদেশে উন্নতির রাস্তা অবশেষে খুঁজে পান।আমার কাছে অবশ্য তা "ফুটো টিনে পুডিং দিয়ে" বৃষ্টি ঠেকানোর উপায় বলেই মনে হয়।নিশ্চিতভাবেই দেশে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান কমানো ছাড়া এইসব মানুষ সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় অর্থনীতিতে সত্যিকার অর্থে কতটুকু
অবদান রাখে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।আমার মত অবশ্য সবার মত না।

তবে শুধুমাত্র ইংরেজি না জানার কারনে বাংলাদেশ একমাত্র রপ্তাণীপণ্য জনশক্তিতে পিছিয়ে পড়ছে বলে ভাবেন তা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।তবে এইটা একটা কারন।দেশিয় বাজারে চাকুরির মতোই আন্তর্জাতিক বাজারেও দুর্ণীতি চলে, স্বজণপ্রীতি চলে, চলে আন্তর্জাতিক প্রভাবের খেলা।

শুনতে আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে, জনশক্তি রপ্তাণীতে বিশ্বের অন্যতম প্রধানদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ লাখ লোক দেশের বাইরে কাজ করে।এবং এদের পাঠানো অর্থের পরিমান ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির যে কয়েকগুন সে ব্যাপারে কারুরই সন্দেহ থাকার কথা নয়।

যুক্তরাজ্য ,ফ্রান্স কিংবা স্পেইন পিছিয়ে নাই।

অথচ নাম হয় শুধু তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ, ফিলিপাইন আর শ্রীলংকার।


 

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২১
ফারহান দাউদ বলেছেন: "যতদুর হয়, দেখা যায় আমাদের প্রকৗশলীদের অনেকে বাইরে গিয়ে সাইট সুপারভাইজারের চাকরি পান, ডাক্তার হন চিকিৎসা সহকারি৷ তাও কপাল ভালো থাকলে"।
মজার কথা শুনলাম। সাইট সুপারভাইজার হয় সেইটা ভুল না,তবে লাইনটা পইড়া মনে হইলো এইটাই তাদের সর্বোচ্চ অর্জন। পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গরে নিয়া এইটা একটু সমস্যা,সবকিছু একচোখ দিয়া দেখেন তারা।
২. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৬
রোবোট বলেছেন: "যতদুর হয়, দেখা যায় আমাদের প্রকৗশলীদের অনেকে বাইরে গিয়ে সাইট সুপারভাইজারের চাকরি পান, ডাক্তার হন চিকিৎসা সহকারি৷ তাও কপাল ভালো থাকলে"।


কে বললো?
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১১

লেখক বলেছেন: আমি বলি নাই।
উনি বলেছেন।আমি আপত্তি জানিয়েছি মাত্র।

৩. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৫৯
অভিমানী মেঘ বলেছেন: ঐ লেখায় দেখলাম সুমন রহমান নাকি একজন গবেষক।

আমাদের দেশের প্রকৌশলী আর চিকিৎসকদের সম্পর্কে না জেনে একজন গবেষক মন্তব্য করেছেন, তার সেই গবেষনা টা কিসের উপর সেটি জানতে ইচ্ছে করছে।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আশা করি সুমন'দা আপনার প্রশ্নের জবাব দিবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনার মতোও উনার গবেষনার তথ্য হালনাগাদ নয় দেখা যাচ্ছে।

৪. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৩২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: হয়ত সুমন রহমানের লেখায় অতিরিক্ত তুচ্ছতা প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু এটাই কি বাস্তবতা নয়???

হয়ত বিশ্বের কোন এক বিখ্যাত কর্মস্থলে জনৈক বাঙালি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানীর উপস্থিতিতে আমরা আহ্বলাদিত হই কিন্তু সেখানে উক্ত ব্যক্তির অবস্থান কোথায় সেটা কি দেখি?? উনি সেখানে হাজারে একজন নাকি দশ হাজারের মাঝে একজন তা কি হিসেব করি?? আমার মনে হয় আমরা সেটা দেখি না।


কথা হচ্ছে, দেখেই বা কি লাভ!। স্বয়ং নিউটন যদি তার সময়ের একজন বৃটিশ না হতেন তবে তিনি আজকের নিউটন হতে পারতেন না এটা নিশ্চিত। তাই, বহির্বিশ্বে আমাদের কি অর্জন সেটা নিয়ে আহ্বলাদিত না হয়ে নিজ দেশে আমাদের অবদান নিয়েই আলোচনা করা উচিত।


বাংলাদেশীদের বহির্বিশ্বে অর্জনের আলোচনায় আমরা যতটুকু সময়ক্ষেপন করি তার একটা অংশও আমাদের দেশে যারা কাজ করছেন তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে করি না।
৫. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:১৩
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: না, এইটা বাস্তবতা নয়।আমার জানাশোনায় একজন/দুজন নয় শদুয়ের অধিক প্রকৌশলির উদাহরণ দিতে পারবো।যারা প্রকৌশলি হিসেবেই কাজ করেন সাইট সুপারভাইজার হিসেবে নয়।

আমি অবস্থান জেনেই বলছি।

আবার উর্ধতন অবস্থানের সাথে অনেক কিছু জড়িত।আন্তর্জাতিক প্রভাবের রাজনীতি,
জাতিয়তাভিত্তিক নেপটিজম, রাষ্ট্রীয় ইমেজ।একেবারেই উর্ধতন অবস্থান আমেরিকান কিংবা ইউরোপিয়ানদের জন্য নির্ধারিত।

আপনার বাকি মন্তব্যসমূহ ভালো লেগেছে।একমত।
৬. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯
সুমন রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ আহসান হাবিব শিমুল, প্রথম আলো-তে আমার এই লেখাটি পড়বার এবং সেটা নিয়ে আলোচনা করবার জন্য। আপনার প্রতিক্রিয়ার জবাবে বলি:
১. আমি এই লেখায় বলতে চেয়েছি যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানের উৎপাদন করে না, বিতরণ করে মাত্র। বিতরণের ভাষা বাংলা হলে তাতে এমন কোনো মাহাত্ম্য আসে বলে আমার মনে হয় না। ... আপনি বললেন এসব কথা নাকি ফি হপ্তায় পত্রিকায় ছাপা হয়। পত্রিকা আমিও পড়ি, আমার এমনটা চোখে পড়ে নি। আপনি যদি একটা দৃষ্টান্ত দেন যে, এমনভাবে অন্য কোথাও লেখা হয়েছে তাহলে বাধিত হই।

২. "বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অর্থ।এবং সরকারী অনুদান থেকেই
সেই অর্থ আসতে হবে। "বোঝা বয়ে বেড়ানোর' সরকারি নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে সেখানে আর যাই হোক জ্ঞান উৎপাদন আর হবেনা।"
--- এইটা আপনার প্রেসক্রিপশন। লাইনগুলো আবার পড়েন দয়া করে। সরকারি অনুদান থেকে অর্থ আসার অর্থ হল সরকারের বোঝা বয়ে বেড়ানো। আশা করি আপনার মন্তব্যের স্ববিরোধ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

৩. ধারণা করছি, প্রকৌশলী এবং চিকিৎসকদের বিষয়ে আমার মন্তব্যটিই আপনার আত্মাভিমানে চোট এনে দিয়েছে। চোট লাগলে আমি দুঃখিত। কোনো পেশাজীবীকেই অপমান করা আমার উদ্দেশ্য নয়। এখানে প্রকৌশলী এবং চিকিৎসকদের দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে এজন্য যে, অন্য পেশার লোকজনকে বহির্বিশ্বে নিজ ডিসিপ্লিনে লোকেট করাই রীতিমত অসম্ভব। আমার মত দর্শনের মাস্টার ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করে, ফলে এখানে পেশাজীবীতার কোনো মাত্রাই কার্যকর নয়।

আপনার সাথে গলা মিলিয়ে আরো কেউ কেউ দাবি করছেন আমার তথ্য হালনাগাদ নয়। ধীরে, বন্ধুরা। হালনাগাদ তথ্য দিন তাহলে। শিমুল বলছেন, তার জানামতে দুইশত প্রকৌশলী আছেন যারা ভালো অবস্থায় বিদেশে আছেন। এই কি হালনাগাদ তথ্যপ্রদানের নমুনা?

দিলে চোট নিয়েন না ভাই প্রকৌশলী/চিকিৎসকবৃন্দ। এটা খুবই নগণ্য একটা দৃষ্টান্ত ছিল।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২

লেখক বলেছেন: মন্তব্য করেছেন, ভালো লাগলো

আপনার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ার বলি,
১. আপনার মতো দর্শনগত দৃষ্টিভংগী থেকে না হলেও ড: কায়কোবাদ(প্রায়ই), জাফর ইকবাল স্যার(কায়োবাদ স্যারের মত বেশি না) এই বিষয় নিয়ে লিখে থাকেন।ড: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরিও লিখে থাকেন।আপনি চাইলে খুঁজে লিংক দেওয়া সম্ভব।
হুবুহু এক তো হবেনা, তবে মোদ্দা কথা একই।

২."বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অর্থ।এবং সরকারী অনুদান থেকেই সেই অর্থ আসতে হবে। "বোঝা বয়ে বেড়ানোর' সরকারি নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে সেখানে আর যাই হোক জ্ঞান উৎপাদন আর হবেনা।"

--- এইটা আপনার প্রেসক্রিপশন। লাইনগুলো আবার পড়েন দয়া করে। সরকারি অনুদান থেকে অর্থ আসার অর্থ হল সরকারের বোঝা বয়ে বেড়ানো। আশা করি আপনার মন্তব্যের স্ববিরোধ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

দু:খিত আমার স্ববিরোধ আমার কাছে স্পষ্ট হচ্ছেনা। "বোঝা বয়ে বেড়ানোর' সরকারি নীতি বলতে আমি বুঝিয়েছে "সরকার কোনরকমে, নিতান্ত অনিচ্ছায় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমুহ পরিচালনা করছে"।সরকারী এমন মনোভাবে জ্ঞান উৎপাদন হওয়া কঠিন।
সরকার যদি অনুদান বাড়ায় উৎসাহের সংগে, তবে এটা বোঝায় সে উচ্চশিক্ষাকে
আর বোঝা মনে করছে না, উৎপাদনমুখি ভবিষ্যতের হাতিয়ার মনে করছে।আমিই এটাই বুঝিয়েছি।

টেক্সের অর্থ পাঠক না বুঝলে তার দ্বায়ভার অবশ্য লেখকের।

৩. আমার আত্মাভিমানে চোট লাগেনি।আমার পেশাগত আত্মসম্মানবোধের চেতনা অতোটা খাঁড়া না।তবে আপনি যেভাবে ভারত কিংবা শ্রীলংকার প্রৌকশল কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থার তুলনায় বাংলাদেশেরটা খোচা দিলেন, তাতে একটু লেগেছে বৈকি।
শত প্রতিকুলতা সত্বেও বাংলাদেশের প্রকৌশল কিংবা শিক্ষার মান ভারত কিংবা শ্রীলংকার চেয়ে খুব নিচে কিংবা তৃতীয় বিশ্বের স্ট্যান্ডার্ডে কোন অবস্থানেই না এইটা মানতে আমি নারাজ।আমি প্রচুর ভারতীয়র সাথে দেশে এবং দেশের বাইরে কাজ করেছি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলা।অন্যরাও বলতে পারবেন।

আমার ছোট্ট তথ্য হালনাগাদ প্রমান করার জন্য যথেষ্ট না স্বীকার করছি।তবে আপনি কি তথ্যের ভিত্তিতে এমনতর উপসংহারে পৌছুলেন জানতে ইচ্ছা করছে?"গবেষনার উৎস'টা কি ?

আমি তো গবেষক নয়, তাই নিজের জানাশোনা থেকেই বলেছি।এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো পরিচিতগন্ডীর কেউ আপনার উপসংহারকে জাস্টিফাই করেনা।





৭. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১৩
সুমন রহমান বলেছেন: আমি বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন করবে, বিতরণ নয় শুধু। সহজ সরল বিবৃতি এটা। অধ্যাপক কায়কোবাদ, জাফর ইকবাল কিংবা সিরাজুল ইসলাম চৌ এভাবে বলে থাকলে লিংক দিন পড়ি।

একান্ত সরকারি অনুদানে জ্ঞান উৎপাদন সম্ভব নয়। জ্ঞানকে বিক্রিযোগ্য করা দরকার। সে জন্য দরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক উৎপাদন। পঞ্চাশ বছর আগে পশ্চিম যা বলেছে, তাকে পঞ্চাশ বছর পর বাংলাভাষায় উৎপাদন করা নয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুদান দিক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কেও রিটার্ন দিতে হবে। আপনার স্ববিরোধ এখানেই, অনুদান বাড়াতে চাইছেন অথচ অনুদান বাড়ানো মানেই "বোঝা বয়ে বেড়ানো"।

যে বিষয়টা নিয়ে প‌্যাঁচানো, আবারো বলি সেটা আমার একটা সাধারণ অনুভব থেকে বলা। এই অনুভব এখানে আমার একার নয়, আপনার পোস্টে বিবর্তনবাদীর মন্তব্য পড়ুন। আবারো বলি, প্রকৌশলী কিংবা চিকিৎসকের দৃষ্টান্ত এখানে আমাদের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশাটি চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। মোদ্দাকথা হল, আমাদের চেয়ে ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশে এগিয়ে। দ্বিমত আছে?

আমার লেখার উপসংহার কোনটা আপনার ধারণা? প্রকৌশলীরা বাইরে সাইট সুপারভাইজারের চাকরি করেন, এটাকেই কি লেখার উপসংহার ঠাউরে বসে আছেন। এ যে অন্ধের হস্তীদর্শন হয়ে গেল!!
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩

লেখক বলেছেন: লিংক আপাতত দিতে পারছিনা(তর্কের প্রথম দফায় আপাতত হার স্বীকার করলাম)।প্রথম আলোতে কি সার্চ অপশন কাজ করে,তাইলে ব্যাপারটা সহজ হতো।তবে অধৈর্য্য হবেন না বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবেনা, ড: কায়কোবাদ ঠিকই একটা কলামন্‌ লিখবেন।

"আমি বিশ্ববিদ্যালয় রিটার্ন দিবে না" এমন কিছু বলিনি। অবশ্য রিটার্ন দিবে, দিতে হবে।তবে সরকারি অনুদান না দিয়েই রিটার্ন আশা করাটা বোকামি।

"অনুদান বাড়ানো মানেই বোঝা বাড়ানো" এইটা মানতে পারলাম না।আমাদের মতো দেশে অনুদান বাড়ানোকে আমি উৎপাদনমুখি ভবিষ্যতের হাতিয়ার হিসেবে দেখি কিংবা দেখতে চাই।

প্যাচানো বিষয়টি আপনার বক্তব্য"আমাদের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশাটি চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে" মানলাম।

আমাদের চেয়ে ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশে এগিয়ে। দ্বিমত আছে?
দ্বিমত না থাকলেও পুরোপুরি একমত নয়।

ভারতের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আছে স্বীকার করছি।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা উৎসাহ একটা ফ্যাক্টর।ভারত বিশাল দেশ।ভুভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে সবদিক থেকেই এগিয়ে এইটা বোধহয় ঠিক নয়।বোধহয় বললাম, কারন এইটাকে প্রমান করা কঠিন।আমি জানাটা কর্মসুত্রে।তবে আমার জানাই পৃথিবীর জানা নয়।

শ্রীলংকার শিক্ষাব্যবস্থা সমন্ধে তেমন কিছু জানিনা।তবে শ্রীলংকা থেকে অনেক ছেলেমেয়ে চট্টগ্রামে পড়তে আসে এইটা জানি।বাংলাদেশ থেকে কেউ শ্রীলংকায় যায় এমনটা শুনিনি।

অবশ্য এইটা থেকে তেমন কিছু প্রমাণিত হয়না।

তবে আপনার "অনুভব" যদি জনশক্তি রপ্তাণীর তুলনামুলক চিত্র থেকে এসে থাকে।তাইলে সেটা ভুল হবে।

না আপনার লেখার উপসংহার যে ঐটা না, আমি সেটা বুঝেছি।ভুলবশত শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে।তবে লেখাটিতে সমস্যার কথা আছে, কিন্তু সেটা বাতলে দেওয়ার চেষ্টা নাই।তাই অসম্পুর্ণ মনে হয়েছে।

অবশ্য এইটা ধারাবাহিক কোন লেখার অংশ হলে পরবর্তিতে বাকি অংশ পড়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে আমার আপত্তি নাই।

৮. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৫১
অনিশ্চিত বলেছেন: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি কী অর্থ ধারণ করে সেটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী এবং এমনকি অনেক শিক্ষকও সেটি সম্পর্কে অবগত নন। বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্ট প্রচলিত বিদ্যালয় কিংবা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে আলাদা- সেটাও অনেকেই জানেন না। ফলে নিজেদের কিংবা অন্যের উৎপাদিত জ্ঞান বিতরণের কাজটাকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ বলে মনে করা হয়।

অথচ শিক্ষাক্ষেত্রে এইচএসসি লেভেলেই জ্ঞান বিতরণের কাজটা শেষ হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার গলদ কিংবা আমাদের বোঝার অভাবের কারণেই হোক, স্নাতকোত্তর পর্যায়েও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া জ্ঞান-বিতরণেই সীমাবদ্ধ। ব্যতিক্রম ছাড়া। সেদিক থেকে সুমন রহমানের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বিষয়টি যেভাবে ফুটে আসতে পারতো, সুমন রহমান সেভাবে আনতে পারেন নি অথবা আনলেও আমি বোধহয় সেভাবে বুঝি নি। আমার মতে, সহজ ভাষায় পরিষ্কারভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা ভালো।

লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
৯. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
সুমন রহমান বলেছেন: "তবে অধৈর্য্য হবেন না বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবেনা, ড: কায়কোবাদ ঠিকই একটা কলামন্‌ লিখবেন।"

--- হা হা হা... ড. কায়কোবাদ এখন বিষয়টি নিয়ে এধরনের লিখলে দর্শনের কোনো ছাত্র যদি ভাবে যে, ড. কায়কোবাদ সুমন রহমানকে কপি করছে, তাইলে আপনি ঐ ছাত্রটিকে মানা করে দিয়েন!

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আহসান হাবিব শিমুল।

অনিশ্চিত, আপনি তো ঠিকই বুঝেছেন। বোঝার সমস্যা তো দেখছি না। ফলে আমি যেভাবে বিষয়টাকে এনেছি তা নিয়ে আমার অসন্তুষ্টি নাই।

একটা উপসংহারজাতীয়: পত্রিকার কলাম লিখতে আমি "সিদ্ধহস্ত" নই একথা শিমুল বলেছেন। আমারো তাই ধারণা। পত্রিকার কলাম একটা বাজে জিনিস, যদি সেখানে আপনি নতুন কোনো চিন্তার উন্মোচন করতে চান। ১০০০ শব্দে কিছু উন্মোচন করা যায় না, চর্বিত চর্বন করা যায় মাত্র। এ যাবতকাল কলামগুলোর বেশিরভাগই এ কাজটি করে এসেছে। আমি নতুন চিন্তার উন্মোচন করতে আগ্রহী, কলামে "সিদ্ধহস্ত" হতে নয়।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: এক্সকিউজ মি, আমি কোথাও বলিনি আপনি কারো লেখা থেকে ধার করেছেন।বলেছি অনেকেই একই বিষয়(বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন হয়না) নিয়ে লেখেন এবং লেখেছেন।আপনিও লিখেছেন তবে আপনি লেখায় একটা দর্শন ধরার চেষ্টা আছে।

এখানে কপি প্রসংগটা একেবারেই অবান্তর।সুতরাং দর্শনের ছাত্রটিকে মানা করার কোন কারন দেখিনা।

"আমি যেভাবে বিষয়টাকে এনেছি তা নিয়ে আমার অসন্তুষ্টি নাই"।
লেখকের সন্তুষ্টি ভালো জিনিস।আমার আপত্তির দুটো কারনের একটা আপনার লেখার মান নয়,খন্ডিত ভাব- মানে বিষয়বস্তুর সমস্যার দিকটা তুলে ধরা কিন্তু সমাধান এড়িয়ে যাওয়া কিংবা না সমাধানের চেষ্টা না করা।

আমার "উপসংহারজাতীয়" যথার্থ মনে হয়েছে।

১০. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৯
নাজিম উদদীন বলেছেন: সুমন রহমানের সাথে একমত।বাংলাদেশে জ্ঞানের উতপাদন হয় না যা হয় তা শুধু চর্বিত-চর্বণ, আমাদের এক স্যার বলতেন, বাংলাদেশে বিজ্ঞান পড়ানো হয় যা পড়ানো হয় তা পলিটিক্যাল সায়েন্স হয়ে যায়।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: জ্বে !খুব দামী কথা।
জেবনে পথ্থম শুনলাম।

১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:০৬
মাদারি বলেছেন: @শিমুল,

‍‍"একান্ত সরকারি অনুদানে জ্ঞান উৎপাদন সম্ভব নয়। জ্ঞানকে বিক্রিযোগ্য করা দরকার। সে জন্য দরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক উৎপাদন।"

সুমন রহমানের আফসোসের জায়গাটা বোধহয় তার এই মন্তব্য থেকে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। উনি চান জ্ঞানকে কোমডিটির মতো উৎপাদন করতে। বাজারে বিক্রয়যোগ্য জ্ঞান কেন বিশ্ববিদ্যালয় গুলো উৎপাদন করছে না- এটাই তার আফসোস।

তার মানে বর্তমান কর্পোরেট বাজারে যে জ্ঞান বিক্রয় যোগ্য নয়, সে জ্ঞান উৎপাদনের কোন দরকার নেই! কর্পোরেট স্পন্সর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যদি বিক্রয় যোগ্য জ্ঞান উৎপাদন শুরু করে, তখন সুমন রহমানদের জ্ঞান অর্জন এবং উৎপাদন-পুনরুৎপাদনের কি দশা হবে কে জানে.....

বোধহয়, জ্ঞান পাপীদের আর যাই হোক জ্ঞান দেয়া যায়না।

প্রার্থনা করেন তারা যেন আরো বেশী করে বিক্রয় যোগ্য জ্ঞান উৎপাদনের এবং বিক্রয়ের সুযোগ পান!


 

মোট সময় লেগেছে ১.৭২৯৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সীমিত কিছু মানুষ ব্যাতিত আমি কিংবা আমরা সবাই এক-একটা বিক্রয়যোগ্য কমোডিটি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই