দিনযাপনের হ্যাপায় কেমন জানি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যাচ্ছি।স্বইচ্ছায় নিজ থেকে কিছু লিখতে ইচ্ছা করেনা কিন্তু অন্যলেখার প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ভিতরে ভিতরে কেমন জানি কিচির-বিচির করে।আমার টার্গেট আবার সেলেব্রেটি ব্লগার।হিট বাড়ানোর খায়েশ আর কি!
"শায়লার দিকে যাত্রা" কিংবা "গরিবী অমরতার" লেখক সুমন রহমান গল্পের ভক্ত আমি।তিনি প্রবন্ধও লিখেন বেশ।"দুইরকম তারুণ্য" নামে তাঁর এক অসাধারণ প্রবন্ধ আমার শোকেসে এখনো সাজানো আছে।তবে তিনি মনে হয় কলামন্ লেখায় এখনো ঠিক সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠতে পারেননি।প্রথম আলোতে তাঁর পরর দু'কটা কলামই অনেকের কাছে অন্তত আমার কাছে অনেকটা "আন্দাজে" লেখা মনে হয়েছে।
গতকাল প্রথম আলোতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ? নামে এক "গুরুত্বপূর্ণ আবার একই সংগে গুরুত্বহীন" কলাম ছাপানো হয়েছে।গুরুত্বপুর্ণ কারণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে "জ্ঞান উৎপাদন হয়না, শুধুমাত্র পুরনো আমলের জ্ঞান বিতরণ" এই বিষয়গুলো জানা দরকার কিন্তু এগুলো একই সংগে গুরুত্বহীন কেননা এই বিষয়টা নিয়ে ফিহপ্তায় বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখা হয় কিন্তু "কেন জ্ঞান উৎপাদিত হয়না" সেইটা নিয়ে দুয়েকজন ছাড়া কেউ তেমন উচ্চবাচ্য করেনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অর্থ।এবং সরকারী অনুদান থেকেই
সেই অর্থ আসতে হবে। "বোঝা বয়ে বেড়ানোর' সরকারি নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হলে সেখানে আর যাই হোক জ্ঞান উৎপাদন আর হবেনা।
তবে তার লেখার "আন্দাজে ঢিলা ছোঁড়া" এবং অসত্য লাইন হলো "যতদুর হয়, দেখা যায় আমাদের প্রকৗশলীদের অনেকে বাইরে গিয়ে সাইট সুপারভাইজারের চাকরি পান, ডাক্তার হন চিকিৎসা সহকারি৷ তাও কপাল ভালো থাকলে"।আমার চেনাজানায় দু শতাধিকের অধিক প্রকৌশলীর যারা বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিভিন্ন দেশে প্রকৌশলি চাকরি পেয়েছেন এবং তা যথেষ্ট সাফল্যের সংগে।
পেশাগত সম্মানবোধের ধারণা অতো খাঁড়া না, অন্তত আমার না। তবে কথাটার মধ্যে যে এক ধরণের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের খোঁচা আছে, তা হজম করা কঠিন।
"জনশক্তি রপ্তানী কিংবা উহার ভবিষ্যত" নিয়ে সুমন রহমানের ব্যাপক আগ্রহ এবং আশাবাদ পরিলক্ষিত হয়।পরপর দুটো কলামেই এই ব্যাপারটা চোখে পড়ে।অবশ্য বাংলাদেশে এখন অনেকেই "ঠারেঠুরে এক দংগল মানুষ বিদেশে পাঠিয়ে" তাকে "জনশক্তি রপ্তানী" নাম দিয়ে বাংলাদেশে উন্নতির রাস্তা অবশেষে খুঁজে পান।আমার কাছে অবশ্য তা "ফুটো টিনে পুডিং দিয়ে" বৃষ্টি ঠেকানোর উপায় বলেই মনে হয়।নিশ্চিতভাবেই দেশে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান কমানো ছাড়া এইসব মানুষ সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় অর্থনীতিতে সত্যিকার অর্থে কতটুকু
অবদান রাখে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।আমার মত অবশ্য সবার মত না।
তবে শুধুমাত্র ইংরেজি না জানার কারনে বাংলাদেশ একমাত্র রপ্তাণীপণ্য জনশক্তিতে পিছিয়ে পড়ছে বলে ভাবেন তা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।তবে এইটা একটা কারন।দেশিয় বাজারে চাকুরির মতোই আন্তর্জাতিক বাজারেও দুর্ণীতি চলে, স্বজণপ্রীতি চলে, চলে আন্তর্জাতিক প্রভাবের খেলা।
শুনতে আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে, জনশক্তি রপ্তাণীতে বিশ্বের অন্যতম প্রধানদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ লাখ লোক দেশের বাইরে কাজ করে।এবং এদের পাঠানো অর্থের পরিমান ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির যে কয়েকগুন সে ব্যাপারে কারুরই সন্দেহ থাকার কথা নয়।
যুক্তরাজ্য ,ফ্রান্স কিংবা স্পেইন পিছিয়ে নাই।
অথচ নাম হয় শুধু তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ, ফিলিপাইন আর শ্রীলংকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

