চিলেকোঠায় আমার ফ্লাটের সামনে একটুকরো খোলা ছাদ। ষষ্ঠতল সেই ছাদে দাড়িয়ে হ্যানয় শহরের অনেকটুকুই চোখে পড়ে।চারিদিকে যতদুর দৃষ্টি যায় সার সার অজস্র লাল কিংবা খয়েরি টালির ছাদ।তারই ফাঁকে ফাঁকে বহুতল ভবনসমুহের ক্রমবর্ধমান প্রজনন জানান দেয় পুঁজির উপস্থিতি কিংবা তার ক্রমবর্ধিষ্নু প্রভাব ও প্রতিপত্তির।
তৃতীয় বিশ্বের লাখো মানুষকে সাম্যবাদের স্বপ্নে উজ্জ্বীবিতকারী আংকেল হো'র মৃত্যত্তর ভিয়েতনাম কোন অর্থেই আর সাম্যবাদী রাষ্ট্র নয়।অদ্ভুত চীনা কায়দায় পরিচালিত এক বাজার অর্থনীতির দেশ।এই পথ বেঠিক না সঠিক ইতিহাসই একদিন তার মুল্যয়ন করবে।
ঝুলন্ত ছাদের নীচে আমাদের মফস্বল শহরের কায়দায় সরু সরু পিচঢালা পথ।সেই পথে চলে বেড়ায় হাজারে-হাজারে, লাখে-লাখে কিংবা অযুত-অযুতে যান্ত্রিক সাইকেল।আক্ষরিকার্থেই দিজ ইজ এ সিটি অফ বাইক; ৬৫ লাখের শহরে চল্লিশ লক্ষাধিক মোটর সাইকেল! ভাবা যায়।
মোটরসাইকেলের এই বিশাল ওয়াগনে নিতান্তই হয়ে সংখ্যালঘু হয়ে থাকে আমাদের শৈশব-কৈশোরের নিত্যসংগী সেই অযান্ত্রিক(অধুনা পরিবেশ বান্ধব খেতাবপ্রাপ্ত!) দ্বিচক্রযান; ৭০ দশকের সমাজতান্ত্রিক শহরের প্রতীক।স্কুলগামী কিশোরী, শ্রমজীবি তরুন, ভারাক্রান্ত বৃদ্ধ প্যাডল মেরে চলছেন যান্ত্রিকগতির সাথে পাল্লায় দিয়ে; আধুনিক মানুষদের গতিক্রান্ত জীবন-জগত-সংসারকে তাচ্ছিল্য করে।
ওল্ড হ্যানয়ের অলিগলি চিরপরিচিত রিকশার দেখা মেলে।প্যাডেল টানা রিকশা নয়, ঠেলা রিকশা।বিশালদেহী মেদবহুল সাদাচামড়ার টুরিষ্টদের ঠেলে নিয়ে চলেছে শীর্নকায় ভিয়েতনামিজ।
সহযাত্রী এক ছোটভাই বললো "ভাইয়া, উঠবেন নাকি"?
দ্ররিদ্রতর দেশের মানুষ আমি।তবু ভালো, রিকশাকে এখানে তারা অন্ত:ত ভ্রমনবাহন হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছে আর আমরা!
রিকশা আমাদের ওখানে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।ঘাম চিকচিকে পিঠে রিকশাচালক বয়ে নিয়ে চলেছে পায়ের উপর পায়ে ঝুলিয়ে বসা রিকশাআরোহীকে। দুচার টাকা বেশি চাইলেও আমাদের রক্তুচক্ষু গরম হয়ে ওঠে, কেউ কেউ তো স্বউদ্যেগে তাদের পুলিশী শিক্ষারও ব্যবস্থা করেন।
মধ্যযুগীয় দাস-প্রভুর সম্পর্কের এক ক্লাসিক উদাহরন!
আমি যথেষ্টই ভোগবাদী তবে নিত্য ব্যবহার্যের জিনিসকে "নেভার সিন বিফোর" এর ভান করে গদগদ ট্যুরিষ্ট- এতোটা "ঢং ধরা" বোধহয় সম্ভব নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

