somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... দড়ি ধরো মারো টান, রাজা হবে খান খান
প্রচন্ড উত্তেজনায় আছি যদিও আপাতভাবে যা ঘটে গেছে তার সাথে আমার হয়তোবা প্রত্যক্ষ কোন সম্পর্ক নেই। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গেলাম এটা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি।মিশরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারককে অবশেষে গদি ছাড়তে হয়েছে, বরং বাধ্য হয়েছে বলাটাই যুক্তিযুক্ত।ক্যাডেট কলেজে ভর্তিচ্ছুদের "সাধারণ জ্ঞান"এর সাগরে হাবুডুবু দিতে হয় বৈতরণী পাড়ি দেয়ার জন্য।সেই সাধারন জ্ঞানের অংশহিসেবে প্রায়ই পৃথিবী'র নানান দেশের প্রেসিডেন্টের নাম এবং রাজধানী'র নাম মুখস্থ করতে হয়।
তখন শিখেছিলাম মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুরাবক।
সেইটা সেই ৯২'সালের কথা।

বর্তমান সময় রাত ২৩:৩৮, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১।মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেও কেউ একইভাবে আমার সাধারণ জ্ঞান'এর পরীক্ষা নিতে জিজ্ঞেস করলেই একি উত্তরদিতে হতো।এখন দিতে হবে না।

অবশেষে পৃথিবীর সবচে দীর্ঘ স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে স্বৈরশাসনের প্রতীক অপসারিত হয়েছে। মিশরের সংগ্রামী জনতাকে অভিনন্দন।

মুসলিম বিশ্বের অংশীদার একজন হিসেবে নয়, বরং একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে
মিশরের জনগণের এই মুক্তিতেই আমি গর্বিত।

স্বাধীনতা বিশ্বজনীন।স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেশে দেশে যুগে যুগে বেঁচে থাকুক।মানুষের মুক্তি আসুক।বিপ্লব দীর্ঘজীবি হউক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29324797 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29324797 2011-02-12 05:00:35
প্রমিথিউস মোহামেদ বুয়াজিজি

মানুষ সময়ের নির্মান।অধিকাংশ মানুষই সময়ের স্রোতের ভেলায় ভেসে চলে। তবে কেউ কেউ সেই সময়কেই নির্মানের আস্পর্ধা দেখান।মোহামেদ বুয়াজিজি-সেই দুর্লভ, অজয়'দেরই একজন।

সংগ্রামী জীবনের থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা মানুষের সবচে বড় শিক্ষা, সবচে বড় সম্পদ।সংগ্রামী জীবন তাই সাধারণ্যে মিশে থেকেও অসাধারণ।

মোহামেদ বুয়াজিজি তিউনিশিয়ার সিদি বুজিদ শহরের আর দশটা ছাপোষা পরিবারের মতোই এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান।বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী সেটাও একখানা ছিলো।তবে তা দিয়ে মডেল ইকোনমি'র তিউনিশিয়ায় তাঁর ভাগ্যে কোন শিকে ছিঁড়েনি।অথচ নব্য উদারনৈতিক ব্যবস্থার "মডেল ইকোনমি" দিয়েই মিষ্টার জাইন আল আবিদিন বেন আলি বিশ্ব মোড়লদের কাছে নিজের স্বৈরশাসনকে বৈধ করে নিয়েছিলেন। কখনো-সখনো সাবেক প্রভু ফ্রান্স, গণতন্ত্রের সূতিকাগার ইউরোপ আর "মানবাধিকার" এর এক্সপোর্টার যুক্তরাষ্ট প্রমুখদের পিঠ চাপরানো জুটেছে সুবোধ এবং অনুগত ধামাধরা হিসেবে।

জীবিকার প্রয়োজনে বুয়াজিজি পথে নেমেছিলেন হকার হিসেবে।ফলমুল আর সবজি ফেরি করে বিক্রি করতেন।স্বৈরচারী রাষ্ট্রে বাহ্যিকভাবে যত আধুনিক হোকনা কেন ভিতরটা থাকে কুৎসিত আঁধারে ঢাকা।সেই আঁধার গ্রাস করে বুয়াজিজিদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনকেও।তাঁকে অপদস্ত হেনস্তা করা হয় বৈধ অনুমোদনপত্র না থাকার অভিযোগে; উল্টিয়ে দেয়া হয় তাঁর ভ্যান, ছুঁড়ে ফেলা হয় মালামালকে।

একজন হকারের ভ্যান উল্টিয়ে দিয়েই বেন আলি সরকার ২৩ বছরের কুক্ষিগত মসনদকে উল্টানোর সূচনা করলেন!অদৃষ্টের রসিকতা বুঝি এমনই নির্মম হয়।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তবেই মানুষ রুখে দাড়ায়।কথাটা চমৎকার; আমাদের সময়ে সময়ে আশ্বাস যুগিয়েছে তবে একটা মস্ত ফাঁকি আছে।আমরা কিভাবে বুঝবো যে আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে!সাধারণ্যের উপলব্ধির জন্য চাই উদাহরণ, চাই দৃষ্টান্ত।

বুয়াজিজি'রা শুধু উপলব্ধিই করেন না, নিজেরাই দৃষ্টান্ত হয়ে যান।তাঁর গায়ের আগুনের দগদগে শিখা শুধু তার কাঁচা মাংশকেই পোড়ায় না, আমজনতার বিবেক কিংবা মগজ যাই বলি না কেনো, সেটাকেও পোড়ায়!বুয়াজিজি নিজশরীরের সেই আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ভাগ্যের কাছে সমর্পন করে সবকিছু মেনে নেওয়া নিগড়বন্দী মানুষের গায়েও।সেই আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে সিদি বুজিদ থেকে তিউনিশ, কার্থেজ, পুরো তিউনিশিয়া, উত্তর আফ্রিকা থেকে আরব বিশ্ব, সেখান হতে গোটা দুনিয়ায়।

বুয়াজিজির ভাই যেমনটা বলেছেন "Freedom is expensive and my brother paid the price of freedom" and "My brother has become a symbol of resistance in the Arab world"

গ্রীক প্রমিথিউস দেবতারাজ জিউসের নিকট হতে আগুন চুরে করে তা মরনশীল মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।অপরাধে জিউস তাঁকে দেন এক নিষ্ঠুরতম অন্তহীন শাজা। প্রমিথিউসকে শেকলবদ্ধ করা হয়েছিলো দূর ককেশাস পাহাড়ের এক শিলাখন্ডে।রোজদিন এক ভয়ালদর্শন ইগল তাঁর কলিজা খুবলে খেতো আর খুবলে খাওয়া কলিজা রোজরাত্রে পূর্ণতা পেতো।তবুও প্রমিথিউস কখনোই তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাননি কিংবা অনুতপ্ত হননি।

যুগে যুগে পৃথিবীতে হয় বাংলামুলুকে নুর হোসেন হয়ে কিংবা উত্তর আফ্রিকায় বুয়াজিজি'র মতো প্রমিথিউসদের জন্ম হয় বলেই আমরা দুর্বলচিত্ত, ভীরু, ঘরকুনো মানুষরা গণতন্ত্রের সাধ পাই; সেটা যত ভংগুরই হোকনা কেন।তবু গণতন্ত্র তো! আর কে না জানে

"The worst form of democracy is better than the best from of dictatorship".

"স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক" যুগে যুগে, দেশে দেশে।

ছবি:উইকিপিডিয়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29311280 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29311280 2011-01-21 01:00:21
কান্ট্রি অফ পারভার্টস মেহরাব 'এর এলোমেলো নোট :: খালেদা জিয়ার উচ্ছেদ পোষ্টিটিতে খেপে গিয়ে একটা মন্তব্য করেছিলাম।

"নেত্রীদ্বয় এখনো ব্যাক্তিগত ক্ষমতা না, নিতান্তই সম্পত্তির লোভ ছাড়তে পারেনি, এবং সেটার জন্য তাদের প্রকাশ্যে কান্নাকাটি! আমার তো এখন সন্দেহ হইতেছে ৫ বছর পরপর যখন তাদের গণভবন ছেড়ে দিতে হয়, তখন ঘটি, গণভবনের মুল্যবান আসবাস সাথে করে নিয়ে যায়। যারা নিতান্তই সামান্য বাড়ির (মুল্যমান কোটির টাকার অংকে কিন্তু তাদের প্রভাব এবং সম্পত্তির তুলনায় কিছুই না) মায়া ছাড়তে পারেনা, তাদের অধস্তন'রা এমন হবে (এখন যেমনটা!) এইটাই স্বাভাবিক!"

আমার নিজের কাছে মন্তব্যটা ঠিক শোভন মনে হয় নাই।কিছুটা বিরক্ত হয়ে এমনটা লিখেছিলাম।

কিন্তু আজকে আমার জন্য এক বিরাট বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো।এই পোষ্টটা এবং কমেন্টগুলো পড়ে শুধু একটা কথায় বলি।

বাংলাদেশ, ইটস এ পার্ভার্টেড নেশন।ইটস রান বাই এ পার্ভাটেড গভর্মেন্ট
এ কান্ট্রি অফ পার্ভার্টেভ পিপল।

থু!
থুথু দিতেও আমার ঘেন্না হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29272333 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29272333 2010-11-14 23:42:03
"ট্রানজিট ফি" ও শিয়াল আর বোকা কুমিরের সাত বাচ্চার গল্প
এক কুমিরের সাতটা পোনা ছিলো।পাশের গ্রামের বাস করতো এক শিয়াল পন্ডিত।কুমিরের খুব শখ সে তার ছানাপোনাকেও শিয়ালের মত পন্ডিত বানাবে।তো এক সকালে সে তার সাত ছানাকে নিয়ে শিয়ালের বৈঠক খানায় হাজির।শিয়াল কুমিরকে আস্বস্ত করে ,রেখে যান;ওরা একদিন ঠিক পন্ডিত হবে, হয়তোবা আমার চেয়েও বড় পন্ডিত।

কুমির আনন্দে খুশিতে বাগবাগুম করতে করতে বাড়ি ফেরে।

পরেরদিন ভোরেই শিয়াল এক কুমিরছানাকে’কে দিয়ে প্রাতঃরাশ সারলো।

বেলা বাড়তেই কুমির ঠিক তার সন্তানদের দেখতে এলো।

ধুর্ত পন্ডিত এক বাচ্চাকে দুইবার দেখিয়ে ঠিক সাতটা বাচ্চা কুমিরকে বুঝিয়ে দিলো।কুমির তার সন্তানদের দেখে, শিয়ালের তদারকিতে তারা বেশ বিদ্যালাভ করছে ভেবে মনে তৃপ্তি নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে।

একটা করে দিন যায় আর শিয়াল একটা করে কুমিরছানাকে উদরস্ত করে।

এইভাবে ষষ্ঠ দিনেও কুমির তার একমাত্র বাচ্চাকে সাতবার দেখেও খুশি মনে বাড়িফেরে।

সপ্তম দিনে শেষেরটি ভক্ষন করার পরে আর যখন কিছুই থাকলো না, তখন শিয়ালপন্ডিত তার পাঠশালা ছেড়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলো।

সপ্তমদিন এসে বোকা কুমির শিয়ালের খালি গৃহ দেখে সব বুঝে ফেললো।

................................................................................................................................................

অদ্যবছরের শুভশীঘ্রম জানুয়ারি মাসেই গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অতি অবশ্যই “তাঁর সুবিশাল সংগী বহর” ভুগোলকের "সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র" ভারত সফরে যান।সফর শেষে উনি অনেক কিছুই বগলদাবা করে এই পোড়ার দেশে, এই মিসকিনের দেশে নিয়ে আসেন।তবে উনার সর্ববৃহৎ অর্জন “ট্রানজিট ফি” নামক এক কুমিরের বাচচা সাথে করে নিয়ে আসা।বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই অদ্ভুদ অনেক কিছু করে বসে। তবে উনি অনেক ভালো কাজ করেছেন; উনি আবৃত্তি করেছেন,

"সুখ আমি চাইনি কো মহারাজ

জয় আমি চেয়েছিনু, ভয় আমি পেয়েছি

জয়ী আমি আজ তাই।"

তবে সুখের কথা শুধু উনি নন, বাংলাদেশের এই “উইন-উইন” বিজয়ের আনন্দে অনেক দেশপ্রেমিকই উদ্বেলিত হয়ে যান।

বাংলাদেশের “সব ভালো”র ধারনকারি মুলধারার দ্যা ডেইলি স্টারের আনাম সাহেব সম্পাদকীয় হাগেন Bilateralismমতো শব্দ কইরা ।

মাহফুজ এডিটর সফরের অর্জনের গুরুত্ব বুঝাইতে উপযুক্ত শব্দই ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে প্রথমআলোতে মতি ভাই "রহমতউল্লাহ" নাকি "বরকতউল্লাহ" নামের কোন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের সাক্ষাতকার ছাপেন। বিশেষজ্ঞ রহমত বলেন “বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট নিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামাবে” । আবার ইউনুস সাবও বলেন ভারত ও চিনের যে বিশাল প্রবৃদ্ধি যেখান থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে......[খবরগুলোর লিংক পাইতেছি না]

আর জনগন "কুটি কুটি" ডলারের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যায় ।

আর আমরা যারা মন্দ লোক, ভারতকে দেখতে পারিনা তারা গিট্টু লাগাতে খালি প্রশ্ন করি

কেউ প্রশ্ন করে,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ রাস্তাঘাটের অবস্থা কাহিল।আমাদের বাস-ট্রাক-লরীই ঠিকমত চলতে পারেনা, সেখানে ভারতীয় ওজনদার ট্রাক চললে তো অবস্থা কেরোসিন হয়ে যাবে? তাছাড়া রক্ষনাবেক্ষনের খরচা কে দিবে?

............কুচ পরোয়া নেহি, ভারত আমাদের অনেক অনেক টাকা “ট্রানজিট ফি” দেবে।।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, উত্তরপুর্ব ভারত বাংলাদেশের জন্য অনেক সম্ভবনাময় বাজার।ট্রানজিট দিলে তো আমাদের পণ্য প্রতিযোগীতায় টিকতে পারবে না?

.....................রপ্তানী কমে গেলেও সমস্যা নাই, ভারত আমাদের অনেক অনেক ডলার “ট্রানজিট ফি” দিবে।

মাননীয় সরকার, উত্তরপুর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধিনতাকামি আন্দোলন চলছে। ট্রানজিট দিলে ভারত যে বাংলাদেশের উপর দিয়া মিলিটারি লজিস্টিকস বহন করবে না, তার নিশ্চয়তা কি?

.....................ভারত আমাদের অনেক অনেক টাকা “ট্রানজিট ফি” দিবে।


মাননীয়, ভারত তো নেপাল-ভুটানে আমাদের ট্রানজিটের ব্যাপার স্পষ্ট করে কিছু বলে না; আমাদের ট্রানজিটের ফয়সালা কবে হবে...।

..................নেপাল ও ভুটানে আমাদের ট্রানজিট আপাতত না হলেও চলবে; ভারত আমাদের অনেক অনেক টাকা “ট্রানজিট ফি”দিবে ।

মাননীয় সরকারপ্রধান, আপনি কি বলতে পারবেন ট্রানজিট থেকে আমাদের কি পরিমান অর্থ আয় হবে?আপনার হাতে কোন পরিসংখ্যান আছে?

.........সেটা জানিনা পরিসংখ্যানও নাই, তবে নিশ্চিতভাবেই অনেক অনেক কোটি ডলার।

তবে কুমিরের এই বাচ্চাটিও শেষমেষ শেয়াল ভারতের পেটেই যাবে।

ফি না দেওয়ার কারণে দুটো ভারতীয় জাহাজকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে এনবিআর অস্বীকৃতি জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে দুদেশের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়
এবং

নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রশ্নে ভারতের আপত্তির মুখে আপাতত তা আদায় স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ৻

উৎসাহীদের জন্য লিংক :নৌ ট্রানজিট ফি আদায় স্থগিত

ছোট্ট অশ্লীল নোটঃ

বাংলাদেশ এখন যেন এক বিগতযৌবনা পতিতা আর ভারত তার বাধা খদ্দের।যৌবন শেষ হয়ে গেলে নাকি খদ্দের সচরাচর পাওয়া যায়না, তাই একটা/দুটা বাধা খদ্দের রাখতে হয়, তাইলেই না অন্যরা আসবে
...........................................................................................।
পুনশ্চ: ব্যাপারটা কৌতুহলোদ্দীপক।ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হবে কি হবেনা এই প্রশ্ন নিয়ে জনগণ যেখানে আশ্বস্ত নয়, সেখানে ব্যাপারটা এখন দাঁড়িয়েছে ট্রানজিট দিলেও
ট্রানজিট ফি পাওয়া যাবে কিনা।

হোয়াট এ জোক!

একধরনের আশংকা থেকে খোমাখাতায় চিরকুটে লিখেছিলাম।এখন দেখি আশংকা অনেকটাই সত্য।মাশুল না নিলে ট্রানজিটে লাভ নেই বাংলাদেশের এই সংবাদ তো তাই বলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29266474 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29266474 2010-11-04 01:21:22
জীবিত এবং মৃত
ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করলেন,” আচ্ছা! যখন আমরা মাটির টুকরো ছিলাম, তখনও কি বেঁচে ছিলাম”।

“না” বৃদ্ধের জবাব।

“আমরা বেঁচে ছিলাম না! তাইলে কোথায় ছিলাম, কিই'বা ছিলাম”!“যখন আমরা বেঁচে থাকবো না, তখন আমাদের কি বলা হবে”?

“মৃত।যখন তুমি জীবিত নও, তখন তুমি মৃত”

“আমরা কি অনন্তজীবি হবো? আমরা কি যুগযুগ ধরে বেঁচে থাকবো নাকি আবার মরে যাবো?

বৃদ্ধ ভদ্রমহিলার দিকে ফিরে বললেন আমি কখনো এই বিষয়টা নিয়ে ভাবি নাই। তারপর বললেন কিন্তু আমরা এই মুহুর্তেই এইটার ফয়সালা করতে পারি।এই গোবরের টুকরোটি নদীতে ছুঁড়ে ফেলো।যদি এটা ভেসে থাকে, তাইলে মানুষ মারা যাবার চারদিন পর আবার জীবিত হয়ে ফিরবে।

“গোবরখন্ডটি যদি পানিতে মিশে যায়, তখন কি হবে! দেখুন ,এই যে একটা পাথর খন্ড।যদি এইটা ডুবে যায়, তাহলে মানুষ মরণশীল হবে আর আর যদি এটা ভেসে থাকে, তাইলে তাঁরা অনন্তজীবি হবে”

এবং এটুকু বলেই ভদ্রমহিলা পাথর খন্ডটি পানিতে ছুঁড়ে দিলেন।

পাথরটি ডুবে গেলো।

( যাহোক, এরপরেও মহিলা কিছুক্ষন বেঁচে ছিলেন।তখনও তাঁর কিছু শেখার বাঁকি ছিলো)

“উত্তরটা পাওয়া গেলো” বৃদ্ধের স্বগতোক্তি।

“যা ঘটেছে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবেনা।মানুষকে মরতেই হবে”।
....................................................................................................।
মুলগল্পটি পাবেন এইখানে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29250703 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29250703 2010-10-07 02:54:13
আরিল কিয়েকগার্দের জন্মভুমিতে নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নি:শ্বাস
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।

জীবনের তৃষা বড়ই তীব্র।এই তৃষার ছলনায় পড়ে আরিল কিয়েকগার্দ বসত গড়েন "ইমপোভারিশড" বাংলামুলকে আর আমি বাংগাল আপাতভাবে বিছানা পাতি তাঁর দেশ নরওয়েতে।

শুধু কি একটু বেশি পয়সাকড়ি কিংবা নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত জীবনের সন্ধানে!
না বোধহয়।এইসব প্রশ্নের উত্তর এতো সহজে দেওয়া যায়না।

এই নরওয়ে দেশটা প্রথম দেখায় আমার কেন জানি ভাল্লাগতেছেনা।চারিদিক সব বিশাল বিশাল সাদা সাদা মানুষ তার মাঝে কৃশ কালা এই আমি থই খুঁজে পাইনা।দেশটাকে কেমন জানি পরপর মনে হয়।সাদাদের মাঝে এশিয়ান চেহারা'র(থাই, চাইনিজ, ভারতীয়) কাউকে দেখলে আপন আপন লাগে।


এ এক অদ্ভুত ব্যাপার।সেই ১০ বৎসর বয়সে প্রথম যখন গ্রাম থেকে শহুরে আসি, তখন নিজ গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামের লোকদের খুঁজে ফিরতাম। এরপর ঢাকায় এসে কোথাও কোনভাবে যদি জানতাম অমুক লোকটা আমাদের বৃহত্তর অন্চলের, কেমন জানি আপন মনে হৈতো।মনে আছে, মালয়েশিয়ার এক ট্রেনিংয় সেন্টারে এক ভারতীয় চেহারার মেয়ে দেখে আমরা সবাই সোৎসাহে লাফ দিয়েছিলাম।হপ্তাহ ধরে চাইনিজ আর মালয় মেয়েদের দেখে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম!

কে জানে হয়তোবা পৃথিবীর বাইরে যদি কোন জগৎ আবিষ্কৃত হয়, সেইখানে সাদা-কালো নির্বিশেষে সবাইকে এক পৃথিবীর মানুষ হিসেবেই আপন মনে হবে।


["নরওয়ে" ভালো না লাগার আরেক কারন, অন্তত এই মুহূর্তে, কিচেন থেকে কোন হালার পুত মাইক্রো-ওভেন টা নিয়ে গেছে।রান্নার করা উপায় নাই।অন্যদিকে বিয়াপক ক্ষুধা লাগছে]


[অনেকদিন লেখিনা।তাই আবোল-তাবোল, হাবি-জাবি, মাথায় যা আসলো, লিখে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29224326 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29224326 2010-08-17 02:14:12
এ শহরে সবচে বড় ঘাতক রাজউক তবে নটের গুরু অন্তরালের সরকার মহাশয় এটা হত্যাকান্ড,স্রেফ হত্যাকান্ড; আমাদের শিশুপুত্র,শিশুকন্যা, মাতাপিতা, ভাইবোনদেরকে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

সাভারের স্পেকট্রাম গার্মেন্টস, তেজগাঁওয়ের ফিনিক্স ভবন, বেগুনবাড়ীর উপড়ে পড়া ৫তলা ভবনের পর কায়েততুলির আগুনে মানবসন্তানদেরকে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াকে শুধু নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়ে বাঁচতে চান তাদের জন্য আমার করুণাটুকুও নেই, আছে একদলা ঘৃণা।

এইসব হত্যাযজ্ঞের মুল ঘাতক রাজউক।তবে সবচেয়েও বড় পাষন্ড দূর্বিনত রাজউকের বাপ; ঐ গদীতে পালাক্রমে আসা সরকার মহাশয় এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মেকানিকরা।

শু__র বাচ্চা সরকার বিনাবিচারে মানুষমারার রোবট র‌্যাবের জন্য হেলিকপ্টার কিনতে পারে কিন্তু আগুনে লেলিহান শিখায় ঝলসে যাওয়া মানুষকে বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিসকে চলতে হয় কোন এয়ার-সাপোর্ট ছাড়াই।

অথচ এরাই নাকি শোকদিবস পালন করবে!

এরপরের সপ্তাহেই হয়তোবা কোন ভবন উপড়ে না গিয়ে তলিয়ে যাবে, মাটির নীচে জ্যান্ত চাপা পড়বে শ'খানেক, শ'দুয়েক ,শ'পাচেক মানুষ, তখনও কি হবে আরেকটা শোক দিবস।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে আসবে এমন কোন দূর্যোগ, তখন সপ্তাহে, মাসে কতগুলো করে শোকদিবস পালন করবেন মহামান্য সরকার মহাশয়!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29170042 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29170042 2010-06-04 15:46:54
উর্ধতন সরকারি কর্তাদের ঘুষ খাওয়াকে আইনসিদ্ধ করা হউক
অফিসে গিয়ে পান চিবুতে চিবুতে কলিগের সাথে একটু আড্ডা অথবা দুপুরে
চেয়ারে কাত হয়ে যে একটু ভাতঘুম দিবেন সে উপায়ও নাই।হতচ্ছাড়া জনগণ শুধু ঝামেলা করে।আর কি ব্যাটাদের যে কাজ করে দিবেন সেই উপায়ও রাখে নাই তারা। কাজ করার জন্য আসল যে জিনিস প্রয়োজন, সেটাও জানেনা হতচ্ছাড়াগুলো। ঘুষ তাদের চাইতে হবে কেন!এইটা তো পাব্লিকের নিজে থেকেই দেওয়া উচিত।কোন কোন বেআক্কল তো আবার পরিমান নিয়ে দরদাম করে।বুঝুন অবস্থা!

"আরে বেটা আমরা সরকারি চাকরি কি করে তোদের সেবা করার জন্য; পরীক্ষা, নানান
তদ্বির, দেনদরকার করে আইসি কি তোগো ফাই ফরমাশ খাটতে! কাজ করে নিবা কিন্তু টাকা দিবানা, আমাগো কি মিডলঈষ্টের আনপেইড লেবার পাইছো"

সত্যই তাই, আমি সরকারি কর্মচারিদের সাথে একমত।

স্খলিতলিংগ দূর্ণীতিদমন কমিশন না রেখে সরকারি কর্মচারিদের দূর্ণীতি দমন করাকে আইন গত বৈধতা দেওয়া হোক।নচেৎ দেখা যাবে এইভাবেদুদকের লিংগকর্তনের পরেও কোন কোন বেরসিক সরকারী কর্তাদের হয়রানি করার সাহস দেখাতে আমাদের ফানেলে-রাখা রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি নিতে যাচ্ছে!

ফানেলে রাখা রাষ্ট্রপতি, নরক-গরমে ফুল্লী স্যুটেড আমাদের আইনমন্ত্রী এবং দেশের সুমহান আদালতকে বারে বারে বিরক্ত করার চেয়ে ইহা ঢের ভালো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29145875 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29145875 2010-05-01 01:06:49
গরীবের ঘোড়ারোগ: ত্রিশালে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যৌক্তিকতা কতটুকু! খবরে দেখলুম সরকার মহাশয় ঢাকার অদূরে(৯৭ কিমি) দূরে ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করছেনে।খরচ পরবে ৭ বিলিয়ন ডলার। তোফা খবর বটে! ঢাকা হবে দক্ষিন কিংবা দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার ট্রানজিট।ঢাকায় হিথরো কিংবা দুবাইয়ের মতো সেকেন্ডে সেকেন্ডে পেলেন্‌ নামবে ভাবতেই ভালো লাগছে।
আর বিমানবন্দরের ভাড়ার টেকায় আমরা বড়লোক হৈয়া যামু।

আপ্নেরা নিশ্চয় গ্রীস দেশের নাম শুনেছেন।সক্রেটিশ আর প্লেটো'র মহান গ্রীস।সভ্যতা আর বিজ্ঞানের পূণ্যভুমি প্রাচীন গ্রীস আর প্রায় দেউলিয়া বর্তমানের গ্রীস।গ্রীসের সরকারপ্রধান'রা ইউরোপের ধনীদেশগুলো কাছে ভিক্ষা চাইছেন কোনভাবে গ্রীসকে পুরোপুরি দেওলিয়া হতে বাঁচাতে ।আপনাদের স্মরণ আছে নিশ্চয় এই গ্রীসেই ২০০৪ সালের অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করেছিলো।অলিম্পিক গেমস আয়োজনের ফুটানি দেখাতে গিয়ে তাদের খরচ পড়েছিলো ৭.২ বিলিয়ন ইউরো।গ্রীস আশা করেছিলো অলিম্পকি আয়োজন করতে পারলে দেশে মিলিয়ন-মিলিয়ন পর্যটক আসবে আর মুঠোমুঠো ডলার খরচ করবে।সেই আশায় গুড়েবালি; উপরন্তু যেসব ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে, তাতে আজকাল ঘুঘু চড়ে।

বাংলাদেশ বিভিন্ন ইকোনমিক ইন্ডিকেটরে ভালো করছে।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।তাই বলে এখনো সে বিশেষ কেউ হয়ে উঠেনি।সারাবিশ্বে সবাই এখনো বাংলাদেশকে ফকিন্নি দেশ বলেই চেনে; দেশের এখনো ৪০ ভাগ মানুষ দিনে একবেলা খেয়ে বাঁচে।দেশের বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো সহ অতীব প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে নতুন বিমানবন্দরের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ গরীবের ঘোড়ারোগই বৈকি!

তাই বলে কি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের প্রয়োজন নাই!অবশ্যই আছে! সেইজন্য হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরই যথেষ্ট।বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনামের হ্যানয় কিংবা হোচিমিন-এর এয়ারপোর্ট ঢাকার চেয়ে ছোট্ট হলেও ব্যবস্থাপনা মানে অনেক এগিয়ে; হোচিমিন সিটি'তে ঢাকার চেয়ে সংখ্যা অনেক বেশি উড়োজাহাজও উঠে-নামে।ফিলিপিনসেও তাই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রাবাড়ী কিংবা শনির আখড়া এলাকার মানুষদের ফ্লাইট ধরতে হলে ফ্লাইট শুরুর ৪/৫ ঘন্টা আগে রওনা দিতে হয়।ত্রিশালে দুপুরের ফ্লাইট ধরতে হলে ফজরের ওয়াক্ত বের হতে হবে।বিমানবন্দর থেকে উত্তরা পর্যন্ত ২ কিমি ট্যাক্সিতে যাইতেও হাত-মুখ শুকিয়ে যায় কখন যে ট্যাক্সিওয়ালার সাংগাতরা গলায় ছুরি ধরে বসে। আর ত্রিশাল থেকে ঢাকায় আসতে ছিনতাইকারিদের কিছু করতে হবেনা; ৯৭ কিমি আসতে আসতে টেনশনেই বিমানযাত্রীরা পগারপার !

গরীব মরে ফুটানি দেখাতে গিয়ে।আমাদের ফুটানির দরকার নাই।শাহজালাল বিমানবন্দরকেই আধুনিক করে গড়ে তোলা হউক।এতেই আমাদের ঠেকার কাজ চলবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29140205 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29140205 2010-04-23 00:44:37
হে বু্দ্ধিরঢেঁকি সরকার এবং অন্যান্যরা দয়া করে এই অশ্লীল অফিসসূচি কি বদলানো যায়!
গরমকালে সুর্যউঠে ভোর ৬টার আগে-পিছে।বেলার ৯ ঘটিকা বাজার আগেই চামড়াফাটানো রোদ। অথচ সেই দেশেই অফিসভিত্তিক কাজকর্ম শুরু হয় বেলা ১০ টা থেকে।অর্থাৎ অফিস পৌঁছুতে পৌঁছুতেই দিনের আর্ধেক সময় শেষ।

নিরক্ষীয় আশেপাশের কয়েকটা দেশের অফিসসূচি; ভিয়েতনাম ৮ টা- ৫ টা , তান্জানিয়া ৮টা -৫ টা, এমনকি মালয়েশিয়া ১ ঘন্টা সময় এগিয়ে রেখেও ৮ টা -৫টা।


মহাজ্ঞানী সরকারের যুক্তি ছিলো সরকারি অফিস ৯টা'য় এবং বেসরকারি অফিস ১০টায় চালু করলে যানজট কমবে!কসম খেয়ে বলতে এতে একফোটাও যানজট কমে নাই।সরকার মহাশয় বোধকরি তার কর্মচারীদের সততা নিয়ে যেমন নিশ্চিত তেমনি নিশ্চিত তাদের সমানুবর্তিতা নিয়ে।কিন্তু বাস্তবতা হলো উনার একটু হেলেদুলে অফিসে যান বিধায় সরকারি এবং বেসরকারি অফিস কার্যত একই সময় সেই ১০টায় শুরু হয়।

আমি বরাবর নিজের দিকটাই দেখি।বর্তমান আমার দৈনন্দিন সূচী: সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠেই দেখি বিদ্যু বাবাজি ছুটিতে।৯টায় ট্যাক্সিচালকদের মহানুভবতায়(!) ঘেমে-নেয়ে অফিসে ১০টায়।অফিসে থেকে ৭টায় বের হয়ে রাত ৮টায় বাড়ি ফিরে আবার দেখি বিদ্যুৎ বাবাজী ছুটিতে।

ও হ্যাঁ অফিসের শেষ ১ঘন্টা বদ্ধ পরিবেশে ১ ঘন্টার একটা মেজাজ ঠান্ডার রাখার টেস্ট দিয়ে আসি।

কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়।

দয়া করে এই কিম্ভুদকিমাকার অফিস টাইম বদলে ৮ ঘটিকা কিংবা সাড়ে আট ঘটিকায় কি করা যায় না!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29131398 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29131398 2010-04-08 22:04:40
কল্পনা চাকমা ও রাজার সেপাই-৩ কল্পনা চাকমা ও রাজার সেপাই-শেষপর্ব-জাকির তালুকদার

রাজা এক অতিকায় প্রাণীর বেশে বসে থাকে জনপদের প্রবেশমুখে।আর জনপদের লোকজনকে তুলে নিয়ে গিলে গিলে খায়।রোজ সকালে একজন মানুষ চাই রাজার আহারের জন্য।রাজার সেপাইরা বেছে দেয়, রাজা কাকে আগে খাবে, কাকে খাবে পরে।

কল্পনা জানে তারও পালা আসবে।কিন্তু সে ভ্রুক্ষেপও করে না।

তার ডায়েরির পাতাগুলো একের পর এক ভরে যায় রাজার নিষ্ঠুরতার বিবরণে।পাহাড়ীদের আত্মত্যাগের বিবরণে।সে আরও বেশি ভালবাসতে থাকে উপত্যাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসকে, বাতাসের সজীবতাকে, জলের স্বচ্ছতাকে।তার কাছে পবিত্র থেকে পবিত্রতর হয়ে ওঠে পাহাড়ের প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি বালুকণা, অন্ধকার অরণ্যের প্রতিটি শিশিরকণা, প্রতিটি মাঠ, প্রতিটি গুন্জরিত পতংগ।সে প্রতিটি পাহাড়ি বসতিতে যায়, আর প্রত্যেককে মনে করিয়ে দেয়- আমরা এই পাহাড়ের অংশ, যেমন এই পাহাড় আমাদের অংশ।মনে করিয়ে দেয় জংলিফুলেরা- আমাদের বোন।ঝর্ণায়-নদীতে সে স্ফটিক- স্বচ্ছ জল গড়িয়ে যায় সে তো নেহায়েৎ জল নয়, আমাদের প্রপিতামহদের শরীরের স্বেদ, রক্ত।ঝিলের জলে যে অলৌকিক ছায়া পড়ে, তার প্রতিটিতে পাহাড়ি মানুষদের জীবনের স্মৃতি আর ঘটনা বিম্বিত হয়।বনের মর্মরধ্বনিতে আমরা প্রপিতামহদের ডাক শুনতে পাই।এই বাতাস যেমন প্রথম ফুৎকারে আমাদের প্রপিতামহের ফুসফুসে দিয়েছে প্রানের স্পন্দন, তেমনি গ্রহণ করেছে তার অন্তিম শ্বাসবায়ুও।তাই এই পাহাড়, এই উপত্যকা, এই মাটি, এই ঝর্ণা-নদী চিরকাল আমাদের জন্ম-জন্মান্তরের সংগি।এখানেই চির প্রোথিত থাকবে, চিরটাকাল ঘোষিত থাকবে আমাদের প্রাণের দাবি।কোন নির্যাতনই আমাদের সেই দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না।

কল্পনা চাকমার পালা আসে।

রাজার সেপাইরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।আর রাজা তাকে হাড়-মাংস-চুল-নখ সব সহ গিলে খায়।

রাজা জানেনা কল্পনা প্রস্তুত হয়েই এসেছিল।নিজের সমস্ত শরীর-মনে বিষ মিশিয়ে রেখেছিল।পাহাড়ে-জংগলে প্রতিমুহূর্তে তৈরি হয় এই বিষ।সবচেয়ে মারাত্মক।নিপীড়িত
আত্মার অভিশাপ।এই বিষ তার কাজ করবেই।দেরিতে হলেও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29112089 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29112089 2010-03-08 00:02:52
কল্পনা চাকমা ও রাজার সেপাই-২ বৃদ্ধা বসে আছে মরা কড়ই গাছের নিচে।হাতে একটা পেতলের ঘটি।তাতে পানি।বিল থেকে ভরে এনেছে ঘটি।

কল্পনা তাকে যখন দেখতে পায়, বেলা ডোবা ডোবা।কল্পনা অবাক হয়।গুচ্ছগ্রাম ছেড়ে একাকী এই বিলের ধারে এই অসময়ে বসে আছে কেন বাংগালী বৃদ্ধা? নতুন নাকি এই এলাকায়?পরিস্থিতির কথা জানেনা? একাকী বাংগালী বৃদ্ধা যদি এখন শান্তিবাহিনীর কারো চোখে পড়ে যায়!কিংবা প্রতিশোধপরায়ন চাকমা যুবক যদি তাকে দেখতে পায়!তাহলে কি ঘটবে ভাবতে গিয়ে শিউরে ওঠে সে।দ্রুত ছুটে যায় বৃদ্ধার কাছে।ডাকে- বুড়ি মা! ও বুড়ি মা!

বৃদ্ধা নিষ্পলক তাকিয়ে আছে অস্তগামী সূর্যের দিকে।ধ্যানমগ্ন সন্যাসিনী যেন।কল্পনার উপস্থিতি খেয়ালই করেনি।কল্পনার কন্ঠ তার কানে পৌঁছেছে বলে মনেই হয়না।

কল্পনা আরো এগিয়ে যায়।বৃদ্ধার একেবারে কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।হাত রাখে বৃদ্ধার কাঁধে।

বৃদ্ধা একটুও চমকায় না।আস্তে মাথা ঘুরিয়ে তাকায় তার দিকে।দৃষ্টিতে একরাশ শূন্যতা।

কল্পনার বুকটা আরো নরম হয়ে উঠে বৃদ্ধার শূন্যদৃষ্টি দেখে।মোলায়েম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে- একা একা এখানে বসে আছো কেন বুড়িমা? এই সময় এখানে থাকা ঠিক না।বিপদ হতে পারে।

বৃদ্ধা কথাগুলো শুনেছে কিনা বোঝা যায় না।কেননা তার কোন ভাবান্তর ঘটে না।কল্পনার সন্দেহ হয়, বৃদ্ধা বোধহয় কানে খাটো।কিংবা হয়তো পাগল।সে আবার বলে- তুমি কোথায় থাকো বুড়ি মা? এখানে একা বসে আছো কেন?

এতক্ষনে বৃ্দ্ধার চটক ভাংগে যেন।তার দৃষ্টিতে ভাষা ফিরে আসে।মৃদু কন্ঠে বলে- এমনি এমনি বসি আছি রে মা।

কল্পনা বোঝাতে চায়- কিন্তু বিপদ...

আর বিপদ!
বুড়ির কন্ঠস্বরে যে কোন পরিণতি মেনে নেবার নিস্পৃহতা।

তুমি কোথায় থাকো?

ঐ যে ছোট পাহাড়ডার ঐপারে- বুড়ি উত্তরের ছোট টিলা দেখায়- গুচ্ছিগ্রাম না কী জানি কয়।

তা এইখানে একা একা এসেছো কেন?

এই ছোট্ট এক ঘুপচি গিরামের মদ্যি থাকতি থাকতি পেরানডা হাঁপায় উঠিছিল রে মা।এইভাবে কি থাকা যায়! আত্মীয় নাই, পড়শি নাই, কুটুম নাই।মানুষি মানুষি চালাচালি নাই।আর কী একখ্যান দ্যাশ ইডা! আছে কী? না।খালি পাহাড় জংগল, মশা, মরণজ্বর।দ্যাশ আছিল আমাগের।

উম্মা প্রকাশ পায় কল্পনার কন্ঠে- এসেছো কেন তাহলে আমাদের দেশে?

কল্পনার উম্মা বুড়িকে স্পর্শই করেনা।সে আবার চলে গেছে ঘোরের মধ্যে-দ্যাশ আছিল আমাগের! ঘরে ঘরে সব মানুষ সবায়ের কুটুম। দিনমান কাম করি মরদরা যায় হাটে-বাজারে আড্ডা দিতি আর মাগি মানুষিরা বসে উঠোন জুরে গপ্পো করতি, উকুন বাছতি, চুলে ত্যাল লাগাতি।কত শাস্তর-বিস্তর, হাসি-আহ্লাদ।কী জীবনডা আছিল!

.......................................................................................................

আমি কি আসতে চাইছি? সোয়ামি মরিছে, ছাওয়াল আমাক খাওয়া-পড়ায়।সেই ছাওয়াল আসতি চাইলে আমি আর কোন ঠাঁয়ে যাবে?
কল্পনা একথার উত্তরে কী বলবে ভেবে পায়না।বুড়ি নিজের মনেই বকবক করে- ছাওয়াল কি আর এমনি এমনি আইছে।গবমেন্টের সেপাইরা বলিছিলি থাকার বাড়ি পাবা, দশ বিঘে জমি পাবা, হালের লাংগল-বলদ পাবা, দিনে বারো সের গম পাবা।তখনই না লোভে পড়লি ছাওয়াল আমার।

............... আমরা কারো জমি-ভিটে দখল করতে চাইনি।আমরা শুনিছি এই দ্যাশে জমি অঢেল।চাষ করার মানুষ নাই।নিজের দ্যাশে তো আমাদের আধপেটা খাওয়া।নিজেদের জমি নাই, কামলা-মজুর দিয়ি খাওয়া।তখন এতো লোভ দেখালি কে আর না আসে তুই ক দিনি! কিন্তু এসে দেখি সব ফক্কা।গুচ্ছিগিরাম তো না, জেলখানা।

তাহলে ফিরে যাওনা কেন নিজেদের দেশে।

সিখানে ফিরার তো কোন উপায় নাইরে মা।ভিটে-মাটি সব বিক্রি করে চলি আইছি।ছাওয়াল কয়, আর ফিরার উপায় নাই।মরতি হলিও এই জাগাত দাঁত কামড়ে পড়ি থাকতি হবি।

এই প্রথম অন্য এক বাস্তবতা উন্মোচিত হয় কল্পনার সামনে।এই মানুষগুলোও প্রতারিত।রাজার লোকেরা জঘন্য প্রতারণা করেছে এদের সাথেও।এদের ফেরারও পথ নাই।তাই এখানে টিকে থাকার জন্য এতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে সবাই।
.......................................................................................................

বুড়ি মাথা নাড়ে- পাহাড়ের মানুষ আমাগের সাথে কথা বলতি চায়না।ঘিন্না করে আমাগের।কিন্তুক আমাদের দোষডা কী কও দিনি।আমাগের বললি যে ঘর পাওয়া যাবি, রোজ বারো সের গম, চষার জন্য অঢেল জমি পড়ি রইছে।................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29110793 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29110793 2010-03-05 23:29:57
কল্পনা চাকমা ও রাজার সেপাই-১ .......................................................................................................

ফেলে যাওয়া বাড়ি আর জোতগুলো দখল হয়ে যায়।দলে দলে আসে নতুন মানুষ।নতুন ধরনের মানুষ।ওরা একেবারে অন্যরকম।পাহাড়-জংগলের দেশে এসেছে কিন্তু পাহাড়-জংগলকে ভালোবাসে না।বন কেটে উজাড় করে ফেলে, জুমের ক্ষেতগুলো পুড়িয়ে ফেলে, উপত্যকা বিষিয়ে তোলে হানাহানির বিষবাষ্পে।পাহাড়িদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি দখল তো করেই, তার ওপর মাঝে মাঝেই হামলা করে চাকমা বসতিতে, মারমাদের ক্ষেতে।কেটে নিয়ে যায় ক্ষেতের ফসল, কেড়ে নিয়ে যায় ঘরের জিনিসপত্র।তাদের সাহায্য করে জলপাই পোষাকের রাজার সেপাই।কিছু বলতে গেলেই হাতিয়ার তুলে তেড়ে আসে।বিচার চাইতে গেলে জোটে আরো নির্যাতন।

সন্ধ্যার পর প্রায়ই দেখা যায়, পূবে-পশ্চিমে-দক্ষিণে-উত্তরে আকাশে সর্বনাশের লালচে রং।আগুনে পুড়ছে বন-টিলার ওপাশের কোন বস্তি।কল্পনার মা বাঁধুনি চাকমা, দুই ভাই কালিন্দীকুমার চাকমা আর ক্ষুদিরাম চাকমা শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আগুনের সর্বনাশা আভার দিকে- ভগবান, কতদিন যে আমরা টিকতে পারব! বোধহয় চলেই যেতে হবে।

কল্পনা সক্রোধে চেঁচিয়ে উঠে- কক্ষণো না।এই মাটি আমাদের।এই মাটি ছেড়ে আমি একধাপও নড়ব না।জীবন থাকতে নড়ব না।

কিন্তু দিনের পর দিন শুধু অত্যাচার সহ্য করা! পড়ে পড়ে মার খাওয়া!

.......................................................................................................

১৯৯২ সালে ১৩ই অক্টোবর ৭০ বছরের বৃদ্ধা ভরদাসমনি, ৯৩ সালের মার্চে সাহসী তরুন নীতিশ চাকমা, ৩১শে অক্টোবর ১২ বছরে কিশোরী মিস স্বপ্না চাকমা, ৯৯ সালের ১৭ই অক্টোবর জ্ঞান আলো চাকমা, ২৬শে অক্টোবর লাল রিজফ বমসহ লংগদু, মাল্যা, লোগাং, ননিয়াচরের গণ হত্যায় হাজার হাজার নিরীহ জুম্ম নর-নারীর নামের তালিকায় ভরে ওঠে তার ডায়েরি।

কল্পনা জানতে পারে কাপ্তাই বাধের কারণে পাহাড়ীরা হারিয়েছে চুয়ান্ন হাজার একর চাষের জমি, উদ্বাস্তু হয়েছে চল্লিশ হাজার পরিবার।জানতে পারে, ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইউব খান সরকারি সফরে চীন গেলে অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্ব পান স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরী।তিনি আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের 'বহির্ভূত এলাকা'-র মর্যাদা তুলে দেন।এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্য প্রতিবেশি জেলাগুলি থেকে সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে কয়েকহাজার অনুপজাতি পরিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে লুটপাট করে উপজাতিদের জমি দখল নিয়ে উপজাতিদেরই ঘর ছাড়া করে।

কল্পমা জানতে পারে, ১৯৭২ সালে পাহাড়ী জনগনের নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে দেখা করেন।প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ত্বে ছিলেন জাতীয় সংসদের চাকমা সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।তাদের হাতে স্মারকলিপি।বংগবন্ধু জানতে চাইলেন ওতে কি লেখা আছে।স্মারকলিপিতে দাবী করা হয়েছিল নিজস্ব আইন পরিষদ সম্বলিত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্বশাসন, ১৯০০ সালের বিধিসমূহের সংরক্ষণ এবং অপাহাড়িদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা।বংগবন্ধু সরাসরি দাবীগুলি প্রত্যাখান করে বলেছিলেন তাদের সবাইকে বাংগালী হয়ে যেতে।এই মিটিং স্থায়ী হয়েছিল তিন মিনিট।প্রতিনিধিদলকে বসতে বলা হয়নি।বংগবন্ধু স্মারকলিপি গ্রহন করেননি।তিনি সেটি ছুঁড়ে মেরেছিলেন মানবেন্দ্র লারমার মুখে।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি গোপন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।যে বৈঠকে হাজার হাজার গরীব বাংগালীকে ব্যাপক হারে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপনের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা গৃহীত হয়।১৯৭৯ এবং ১৯৮০ সালে একলক্ষ, ১৯৮১ সালে একলক্ষ এবং পরবর্তী বছরে আরো দুই লক্ষ বাংগালীর অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়।
.....................................................................................................

অনেক ব্যাপারেই আমার যুক্তিবোধ তেমন কাজ করেনা, থাকে শুধুই বোকা আবেগ।আবার আবেগকে প্রকাশ করার উপায়ও জানা নেই(ভীষন মুশকিল!)।তাই সহজ উপায় অনুলিপিকরন।প্রিয় গল্পকার জাকির তালুকদারের গল্প কল্পনা চাকমা ও রাজার সেপাই থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29110221 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29110221 2010-03-05 01:31:59
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সম্পর্কিত স্বত:সিদ্ধসমূহ মাটিতে হেরে যান পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে।

২.শুরু ভালো(৭৯/০) কিংবা মন্দা (৪/২) যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের স্কোর "১৮০-২৫০" এই রেন্জের মধ্যেই থাকে।কখনো-সখনো এই রানসংখ্যা ১৮০-এর নীচে কিংবা ২৫০ উপরে যেতে পারে।তবে সেটাকে ব্যাতিক্রম বিবেচনা করা যায়।

৩.ব্যাটম্যানসরা আগে বলে দেখেন তারপর খেলেন।ব্যাতিক্রম বাংলাদেশ; এখানে
ব্যাটসম্যানরা আগে খেলেন, পরে বল দেখেন।

৪.ফার্স্ট অর্ডার এবং টেইল অর্ডার মিউচুয়ালী এক্সক্লুসিভ।আর মিডল অর্ডারের রান
পাওয়া একটা "রেয়ার" বিষয়; কারন সেইক্ষেত্রে রানসংখ্যা ২৫০ পেরিয়ে যায়।

৫.স্লগওভারে বাংলাদেশি বোলাররা উইকেট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে; যেখানে
অন্যদলের মুল উদ্দ্যেশ্য রান চেক দেয়া। উইকেট ভেংগে দেওয়ার পণ করে তারা
সর্বশক্তিযোগে ইয়র্কার ছুড়তে থাকে।লক্ষ্যভ্রষ্ট ইয়র্কার অফসাইডে/লেগস্টাম্পে
ফুলটস;ফলাফল, ৬ওভারে ৮৭ রান করতে ব্যাটসম্যানদের তেমন কষ্টও করতে হয়না।

৬.যেসব শট( যেমন: ওন দ্যা রাইজ বলে কাট কিংবা সুইপ এগেইনস্ট দ্যা স্পিন) বিপদজনক বিধায় খোদ টেন্ডুলকর এড়িয়ে চলেন, বাংলাদেশি ব্যাটম্যানস তা খেলতে
মোটেই ভয় পাননা।ভারত-বাংলাদেশ প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয়ে টেষ্টে শাকিবের শট গুলো দেখুন।

৭.দলের করুন পরিস্থিতিতে অন্যদেশের ব্যাটম্যানরা প্রেশার রিলিজ করতে বলের পর বল মাটি কামড়ে পরে থাকেন সেখানে আমাদের ব্যাটম্যানসরা বাউন্ডারী কিংবা ছক্কা
হাঁকিয়ে চাপমুক্ত হতে যান।

৮.মাথা খাঁটানো নয়, গায়ের জোরই পেস বোলিং য়ের একমাত্র মন্ত্র।

৯. জয়-পরাজয় নয়;অংশগ্রহনই খেলাধুলার মুলমন্ত্র।আমাদের ক্রিকেটারটা এমনধারার স্পোর্টসম্যানশিপে দারুনভাবে বিশ্বাসী।এখনো উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটদলের খেলায় অংশগ্রহন আর পরাজয় প্রায় সমার্থক শব্দ।

ডিসক্লেইমার: অমুক ব্যাটমানের পরিবর্তে তমুক ব্যাটসম্যান খেললে কিংবা ওই বোলারের পরিবর্তে এই বোলার খেললে খেলার ফলাফল উল্টো যেতো: এমনতত্ত্বে আমি বিশ্বাসী নয়।সময়ের বিবেচনায় সবচে বাংলাদেশের সবচে যোগ্য খেলোয়াড়রাই খেলছে।এইটাই আমাদের স্ট্যান্ডার্ড।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29107514 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29107514 2010-02-28 23:13:52
ভারত আবারো বোমা হামলার কবলে বোমা বিস্ফোরনে এপর্যন্ত ৮ জন মারা গেছে;তন্মধ্যে ৪জন বিদেশী মহিলা।পুলিশি সু্ত্রমতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।২০০৮-এ মুম্বাইয়ে নৃশংস হামলার পর এইটাই ভারতে বড় আকারের আক্রমন।

যে বা যারাই করুক এই হামলার নিন্দা জানাই।

বি:দ্র: সাধারন সংবাদ কিংবা ব্রেকিং নিউজ কোনটাই ব্লগে সরাসরি পেষ্ট করা আমার পছন্দ নয়।কিন্তু ভারতে যেকোন সন্ত্রাসী আক্রমন বাংলাদেশ সহ উপরে উপমহাদেশে রাজনীতির জন্য গুরুত্ববহ, বিধায় তুলে দিলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29097199 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29097199 2010-02-14 01:05:01
চট্টগ্রাম বন্দরের সিংগাপুর হয়ে উঠা আর বন্দরমাশুল দিয়ে বাংলাদেশের মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের মীথ প্রসংগে
সামু'র একসময়ের প্রোলিফিক ব্লগারএস্কিমো আমারব্লগে আনু মুহম্মদকে একহাত নিয়েছেন। উনি আপাতভাবে ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দরে একসেস দেওয়ার বিরোধী বলে।সেই পোস্টে রাসেল(........) -এর বিষয়ের সাথে সংগতিহীন কুৎসিত মন্তব্য "

আনু মুহাম্মদ কি দাঁত ব্রাশ করেন নি? তার মুখের দুর্গন্ধে দেখি খালেদা জিয়া মুখে কাপড় বেধেছেন । তাকে নিয়মিত ব্রাশ করার উপদেশ দেওয়া হলো। তবে এটা দিয়ে মুখশুদ্ধির বিজ্ঞাপনও হতে পারে ভালো। ব্রাশ ব্রাশ ব্রাশ ইয়োর টিথ..................

নিজস্বতার বোধহীন এস্কিমো , কিংবা হতাশ রাসেলের প্রত্যত্তুর দেওয়ার কোন প্রয়োজনই অনুভব করিনি। কিন্তু রাগীব ভাইয়ের মতো স্কলার যখনহড়েগড়ে কথা বলে সেই মীথকে ভেংগে দেওয়াটা জরুরী হয়ে দাঁড়ায় ।

বন্দর প্রসংগে আনু স্যারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া( যদি সেটা পুরোপরি প্রকাশিত হয়ে থাকে!) ""বন্দর ভাড়া দিলে টাকা আসবে - কিন্তু বিষয়টা সেইভাবে ভাবা ঠিক না। কারন এইটা হলো জাতীর মান-সন্মানের সাথে জড়িত" -এইটা খুব যুক্তিশীল কথা হয়নি, সেইটা মানছি।তাতেই কি বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়টি বৈধতা পায়!

রাজনীতি এবং অর্থনীতি ইনসেপারেবল তবুও শুধু অর্থনৈতিক বিবেচনাতেই বিষয়টা
দেখি, তাহলে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তা কতটুকু লাভজনক!

এস্কিমো লিখেছেন,

"জাতীয় মানসন্মান" কি জিনিস? যে দেশ পুরোপুরি রেমিটন্স আর বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীল - যেখানে নিজেদের স্থাপনা ব্যবহার করতে দিয়ে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আয় হবে - তাকে জাতীয সন্মানহানীর নামে বিরোধীতা করা কার স্বার্থে - কিসের স্বার্থে?

নেত্রী বলেছেন এক বিলিয়ন ডলার আয় হবে, তাই তোতাপাখির মতো উনিও বলছেন এক বিলিয়ন ডলার।এক বিলিয়ন ডলার কি মায়ের হাতের মোয়া যে চাইলেই পাওয়া যায় নাকি এইটাও কোন মহাপুরুষের দেখা কোন স্বপ্ন!এক বিলিয়ন ডলার কোথা থেকে আসবে, কিভাবে আসবে, সেইটার কোন তথ্য আপনাদের কাছে আছে জনাব!
জার্মানী নেদারল্যান্ডের পোর্ট ব্যবহার করে সেইখানে কিভাবে রেভিনিউ শেয়ারিং হয়, তার কোন ডাটা আপনাদের কাছে আছে কি!

আচ্ছা আমার দিকটা বলি(অন্যব্লগে লিখেছিলাম) এবার।নীতিগতভাবে আমি ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দরে একসেস দেওয়ার পক্ষে।তবে কিছু জিনিসের নিস্পত্তির আগে নয়।

১.ত্রিপুরা থেকে ভারতীয় পণ্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত কিভাবে যেতে পারে? হয় রেলপথে নয় সড়কপথে।আমাদের রেলপথের যে অবস্থা তা এই পণ্য পরিবহনের উপযোগী নয়।সুতরাং একে আপগ্রেড করতে হবে।এই আপগ্রেডের অর্থায়ন করবে কে? ভারত সরকার, না বাংলাদেশ সরকার!দেখা যাচ্ছে, ভারতে সরকার বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার লোন (অনুদান নয় কিন্তু খেয়াল কৈরা)দিয়েছে রেলওয়ে ইনফ্রাস্টাকচার আপগ্রেডশনের জন্য।অর্থাৎ ভারতীর পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ সরকার তার রেলপথকে উপযোগী করবে ভারতীয় লোনের টাকায়।একেই বলেই "মাছে তেলে মাছ ভাজা"।

২. যদি ভারত সড়কপথে পণ্য পরিবহন করে, সেক্ষেত্রে নতুন সড়ক নির্মান করতে হবে কিংবা বর্তমান সড়কপথে লেন বাড়াতে হবে। এই কাজের জন্য অর্থায়ন করবে কে?নিশ্চয় ভারত সরকারকে এতোদিনে আমরা এতটুকু চিনেছি যে বিনিয়োগ তারা করবে না।যেহেতু রাজস্ব পাবে বাংলাদেশ,সো আমাদের গাঁটের পয়সায় কিংবা ভারতীয় লোনে ভারতীয় পন্য পরিবহনের জন্য সড়কপথ রেডী করে দিতে হবে।

৩.ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে বেশি কারন বাংলাদেশ সরকার অধিকতর ভর্তুকি দেয়।ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশের ফিলিং স্টেশন থেকে যে পেট্রোল ডিজেল সংগ্রহ করবে না, সেইটা কে নিশ্চিত করবে।

৪.অবস্থানগত কারনেই উত্তরপুর্ব ভারতে হাজার নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার সত্বেও বাংলাদেশি পণ্য বেশ কম্পেটিটিভ এবং তা বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভবনাময় বাজার।ভারতের উৎপাদন কেন্দ্র থেকে এয়ার কিংবা স্থলপথে সেভেন-সিস্টারে পণ্য নিতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি বিধায় দামও বেশি।নৌপথে পণ্যপরিব হন খরচ কম।সুতরাং যে অবস্থানগত কারনে বাংলাদেশি প্রোডাক্ট ভারতীয় প্রোডাক্টের চেয়েও কম্পেটিটিভ ছিলো, তা হারাতে হবে।

৫. খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ ভাগ অব্যবহৃত থাকে।সেইসংগে এইটাও বলেছেন, ভারতকে ব্যবহার করতে দিলে বন্দরের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপ করতে হবে।

এই "ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপ" এর জন্য পয়সা কে দিবে!এবং সেই পয়সার পরিমান কত!

এরপরেও যদি ভারত আমাদেরকে দুহাত ভরে রাজস্ব দেয়,রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে, শুধু অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমি তা গ্রহন করতে আগ্রহী।

আচ্ছা, এই বন্দরে ট্রানজিটের বিনিময়ে আমরা কি পাবো!অনেকেই নেপাল, ভুটান টেনে এনে সোকলড রেজিওনাল কানেক্টিভিটির কথা বলেছেন।
উনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি এখন পর্যন্ত ভারত নেপাল এবং ভুটানের পন্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরোলাইন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার আসতে পারবে।বাংলাদেশ থেকে পন্যবাহী ট্রাক নেপাল-ভুটানে যেতে পারবে কিনা, এই বিষয়টা এখনো স্পষ্ট নয়, ভারত এই ব্যাপারে কোন আশ্বাস দিয়েছেন বলে আমার জানা নাই।

সংবাদের সুত্র এখানে
Click This Link

এরপরেও কেম্নে ভারতকে বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়, সেইটা কেউ যদি বুঝায়া দিতে পারেনা, তাইলে
আসেন।আপনি সু-স্বাগতম।

অবশ্য কেউ যদি আগেই প্রথমআলো গ্রুপের ছেনালীপনায় বশ হয়ে যান, কোন কথাই শুনতে কিংবা মানতে না চান, তাইলে আমার কিছু বলার নাই।

জেগে জেগে ঘুমানো লোককে তো আর তো জাগানো যায়না।

আরেকটা কথা, সিংগাপুর শুধু পোর্ট ভাড়া খাটায়া উন্নত হয়নাই।সিংগাপুর পোর্টের আগেই সিংগাপুরের শিল্পবিকাশ হয়েছিলো স্টেট ক্যাপিটালিজম দ্বারা।সিংগাপুর পোর্ট
সাপ্লিমেনটারি হিসেবে কাজ করেছে।

শুধু ভাড়ার টাকায় পৃথিবীর কোন অর্থিনীতির অবস্থান একধাপ থেকে আরেকধাপে চলে গেছে, এমন কথা আমার জানা নাই।কারু জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29094050 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29094050 2010-02-09 16:31:40
ডিজিটাল সরকার ডিজিটাল কায়দায় দেশের ___টা মেরে দিলেন
পত্রিকায় দেখলাম এয়ারটেল একলাখ ডলার অর্থাৎ ৭০লাখ টাকায় ওয়ারিদের ৭০ভাগ কিনে নিয়েছেন।অথচ বিভিন্ন আন্তর্জানিতক মিডিয়ার সুত্র অনুযায়ী, এই শেয়ার ট্রানস্ফার হয়েছে ৩০০+ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে।যেখানে সবাই নিজেদের বিনিয়োগ নিয়ে ঢাকঢোল পেটায়, অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের সব বিনিয়োগ একত্রে এক অংকে দেখায়, তাইলে তারা কমায় কেন?

নীচের স্ক্রীনশট দেখুন তাইলেই বুঝবেন, কেন তারা কাগজে-কলমে এমন অর্থ বিনিয়োগ করছে, যা দিয়ে ঢাকা শহরের সুবিধামতো ফ্লাটও মিলেনা।





মুদি দোকানের ক্যালকুলেটরেও যদি আমরা হিসাব করি, মোট শেয়ার ট্রানসফারের পরিমান ৩০০মিলিয়ন ডলার ধরলে ৫.৫ শতাংশ হারে বিটিআরসি'র প্রাপ্য ১৬.৫ মিলিয়ন ডলার।সেখানে এয়ারটেল যদি ১লাখ ডলারে কিছু কুকুর খাওয়াইয়ে কাজ সারতে পারে, তাইলে তার কত টাকা বঁইচ্যা যায়, আপনারাই হিসাব করেন!

তারেক-লালু-ফালু-টুকু'র এনালগ দুর্নীতিতে যখন সবাই অতীষ্ঠ তখন তো নতুন কিছু দেখাতে হবে, তাইনা!তাই এই ডিজিটাল দু্র্নীতি।

ছবি কিংবা তথ্য-প্রমান দিবার পারমু না।তয় বাজারে জোর গুজব, এয়ারটেল ওয়ারিদ ডিল মুসাবিদা করার পর যে পার্টি থ্রো করে সেখানে নামপেন্ডিং ভাইয়া, ইমাম সাব, মতি-মাহফুজরা নাকি ছিলো!কথায় বলে, যা রটে তার কিছুটা নাকি বটে!

আজকে মাহফুজ মিয়ার পত্রিকার দেখুন।রিপোর্টটা

"নুন খায় যার, গুন গাই তার"; না, এই প্রবাদ উনারা মিথ্যা প্রমান করেন নাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29083915 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29083915 2010-01-23 01:45:10
ফকির ইলিয়াসের ভারত সফর নিয়ে লেখা পোষ্ট বিষয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা : খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার ভারত সফর।মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি আমার অনুমতি নেই।অনুমতি নেই কেন ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত না।যাহোক, উনার ব্লগ উনার ঘরবাড়ী।সেখানে কাকে ঢুকতে দিবেন আর কাকে দিবেন না সেটা উনার ব্যাপার।এটা নিয়ে কান্নাকাটি করে লাভ নেই।

তবে উনার পোষ্টের বিষয় নিয়ে এট্টু আলোচনার খায়েশ ছিলো।পোষ্টের শিরোনাম দেখেই এটুকু বুঝেছি, শেখহাসিনার ভারতসফরের সাফল্য নিয়ে উনি নিজেই দ্বিধাগ্রস্ত।তাই বিগত 'বি,এন,পি সরকারকে টেনে দেখাতে হচ্ছে হাসিনা সরকারের রিলেটিভ সাকসেস।ব্যাপারটি করুনাদায়ক; "তুমি অধম আমি তার চেয়ে তার চেয়ে একটু কম অধম"-এমন বিষয় আরকি!

ফকির ভাই আসেন।ভারত সফরের খুঁটিনাটি নিয়ে আসেন আলোচনা করি।আপনি যদি প্রকাশিত যৌথঘোষনাপত্র, স্বাক্ষরিত চুক্তি, সমঝোতা স্মারক থেকে প্রমান করতে পারেন, বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে, কিংবা উইন-উইন সিচুয়েশনেও অবস্থান করছে, আমি আপনার কথা মেনে নেবো।এবং শেখ হাসিনার ভারতসফর নিয়ে যে পোষ্ট লিখেছি
সেটা ড্রাফ্ট করে ফেলবো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29079459 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29079459 2010-01-16 12:30:03
নির্মোহ দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার ভারতসফরের ফিরিস্তি
মোহগ্রস্ততা ভিন্ন জিনিস যেটা এখন এবং শেখ হাসিনা'র ভারত সফরের পুর্ব থেকেই দেখা যাচ্ছে আওয়ামী এবং আওয়ামী বিরোধী শিবিরে; ব্লগ, দৈনিক পত্রিকা, টকশো সবখানেই।

সফরের ফিরিস্তি নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করা যাক।

ভারত চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পাবে।এটাতে আমি সত্যিকারভাবে দোষের কিছু দেখিনা।রেজিওনাল কানেকটিভিটি সময়ের বাস্তবতা।চট্রগ্রাম এবং মংলাবন্দরে যদি সেই ধারনক্ষমতা থাকে, তাহলে ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধা কোথায়।বরং রাজস্ব দিয়ে বাংলাদেশই লাভবান হবে।তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রকৃতি যেহেতু জটিল তাই শুধু রাজস্বই শেষ কথা নয়। বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার বিনিময়ে আমরা কি পাচ্ছি!

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবী নেপাল-ভুটান'কে চিকেন'স নেক দিয়ে ট্রানজিট প্রদান।যৌক্তিক দাবী অবশ্যই।ল্যান্ডলকড এই দুটি দেশের বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেলে তা হবে সত্যকারের রিজিওনাল কানেকটিভি।সেখানে অগ্রগতি কতদুর!দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে হাসিনা সরকারের ডিপ্লোম্যাটিক ডেবাকল এবং ভারতের অনুদার নীতিতে এক্ষেত্রে অর্জন সামন্যই।

"নেপাল ও ভুটানকে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসতে দেওয়ায় ভারত সম্মত হলেও বাংলাদেশি পণ্যবাহী গাড়ি নেপাল ও ভুটানে যেতে একই সুবিধা পাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়"।

আবার নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী যান সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ২০০ মিটার পর্যন্ত প্রবেশ করতে দিতে ভারতের সম্মতিকে এই সুবিধার কার্যকারিতা সীমিত করে ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মনজুর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরে কোন স্থান পর্যন্ত নেপাল-ভুটানের গাড়ি যাবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার এককভাবে বাংলাদেশের। এখানে ভারত কোনো সীমা টেনে দিতে পারে না। আমাদের পক্ষে যাঁরা এ বিষয়ে সমঝোতা করেছেন, তাঁরা এ ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে পারেননি।’
সুত্র

পারস্পরিক দরকষাকষির এই ক্ষেত্রে এই পর্যায়ে " উই আর লুজারস, ইনডিয়ানস আর গেইনারস"।ভবিষ্যতে হাসিনা সরকার যদি সত্যিকারের "রিজিওনাল কানেকটিভটি" প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটার জন্য আগাম অভিনন্দন।

ভারত আখাউড়া থেকে ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত নিজ খরচে ১৪ কিমিরেলপথ নির্মান করবে।ঢাকা-কলকাতা ট্রেনসার্ভিস নামকাওয়াস্তে হলে বলবৎ; ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবংগ সরাসরি ট্রেন যাবে।এতে ত্রিপুরা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথ প্রায় ৯০০ কিমি কমবে।ভালো কথা!যেহেতু এই দীর্ঘপথ যেতে মানুষ (হিউম্যান বিইং) সবচে কষ্ট সহ্য করতে হয়।সুতরাং এইটা প্যাসেনজার ট্রেনসার্ভিস হওয়া উচিত ছিলো কিন্তু সেটা হবে শুধু পন্যপরিবহনের জন্য।যেখানে উত্তরপূর্ব ভারতে হাজারও বাধাও সত্বেও বাংলাদেশি পন্য কম্পটিটিভ এবং সম্ভাবনাও উজ্জল, সেখানে এইভাবে "নিজের পায়ের নিজেই কুড়াল মারা'র অর্থ কি!

ভারত তার উত্তর-পুর্ব অংশের বাজার পুরোপুরি কন্ট্রোল করতে চায়।ভালো কথা তোমরা করো সেজন্য চট্টগ্রাম বন্দরে একসেস দেওয়া হবে, কিন্তু এই রেলওয়ে ট্রানজিট কেন!

বাংলাদেশি ডিপ্লোম্যাটরা বোধহয় ঘাস চিবোয় নইলে এই সাধারণ ব্যাপারটা তাদের মাথায় আসবে না কেন।এগেইন "বাংলাদেশ লুজেজ, ইন্ডিয়া উইনস"।

ভারত বাংলাদেশের ৪৭টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে।এতে আমাদের সরকার বগল বাজাচ্চেন।শালার বলদরা এইটা জানেনা ভারতে বাংলাদেশের রপ্তাণীর প্রধান বাধা শুল্ক নয়, অশুল্ক বাধা(নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার)।বাংলাদেশি পণ্য ভারতে ঢুকতে হলে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টেষ্টিং ইনস্টিউইট থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়, যে ছাড়পত্র কখনোই আসেনা, যদিওবা আসে ততদিনে সেইসব পণ্যের অবস্থা কাহিল।

"কিন্তু অশুল্ক বাধাগুলো দূর করা না গেলে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করেন তিনি।
মনজুর আহমেদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে অশুল্ক বাধা অপসারণের বিষয়টি উঠে এলেও তা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন ছিল।"

উচিত ছিলো বি,এস,টি,আই আর আই,এস,টি,আই কোলাবোরেশন।যাতে বাংলাদেশি পণ্য বাংলাদেশেই ছাড়পত্র পায়।কিন্তু পেলাম কি !

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগেই থেকেই লুজারস ছিলো নতুন করে হওয়ার কিছু নাই।তবে
সাউথব্লক যে কিভাবে তাদের ঘোল খাওয়াইলো সেটা যদি বাংলাদেশি ডিপ্লোম্যাটরা বুঝে থাকেন তাইলেই সেইটাই বড় এক প্রাপ্তি।

ভারত সরকার বাংলাদেশকে ১০০কোটি ডলারের লাইন ক্রেডিট দিবে রেইলওয়ে খাতের আধুনিকীকরনের জন্য।এইটা অবশ্য ভালো যদি এতেও ইচ্ছাকৃতভাবে "ঘাটের মরা'য় পরিণত করা রেলওয়েকে সরকার পুনর্যৌবন দিতে পারে।তবে সরকার চাইলে এই অর্থ স্থানীয় বাজার থেকেই যোগাড় করতে পারতো, লোন করার প্রয়োজন ছিলোনা।
বিদেশী ঋণ জিনিসটাকে আমি বরাবরই ভয় পাই।কারন বিদেশি ঋণ খালি খালি আসেনা, আসে হাজার রকম বায়না সহকারে।অমুক (নভিশ)ভারতীয় কোম্পানীকে সাবকন্ট্রাক্ট দিতে হবে(যাতে তারা হাত পাকায়), তমুক দেশমুখ কিংবা পান্ডেকে কনসাল্টেন্ট নিয়োগ দিতে হবে যার বেতন হবে মাসে ১৫-২০ হাজার ইউ,এস,ডি। এইটা অবশ্য শুধু ভারত করেনা, যেদেশ ঋণ দেয় তারাই এইসব আবদার(শর্ত) জুড়ে দেয় সাথে।

আর কিছু অনেক বিষয় টিপাইমুখ, তিস্তার পানিবন্টন সব লিখতে ইচ্ছা করতেছে না...।অন্যকেউ লিখবে।

তবে শেখ হাসিনা সরকার আপাতত বাংলাদেশকে ভারতীয় মিডিয়া এবং মিডলক্লাসের বদান্যতায় প্রাপ্ত জংগী রাষ্ট্রের তকমা থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন।এইটা অবশ্য বড় প্রাপ্তি।শভিনিস্টিক ভারতীয় মিডিয়া অবশ্য কতদিন ঠান্ডা থাকে তা বলার উপায় নেই।

আচ্ছা আরেকটি প্রাপ্তি আছে শেখ হাসিনা "ইন্দিরা গান্ধি" পুরস্কার।আকালের দিনে এইটাই বা কম কি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29078221 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29078221 2010-01-14 12:36:25
চলচিত্রকথন: আব্বাস কিয়ারোস্তামী'র টেন

উস্তাদ লোক আব্বাস কিয়ারোস্তামি।চলচিত্রকার হিসেবে তামাম দুনিয়ায় বিশেষত বোদ্ধামহলে বেশ নাম কামিয়েছেন।সেইসাথে তাঁর কবি, চিত্রকর, ভাবুক পরিচয়ও হাল-আমলে সামনে আসছে।বংগদেশেও এই চলচিত্রনির্মতার বেশপ্রভাব।তারেক মাসুদ, তানভীর মোকাম্মেল, ফারুকি সহ আরো অনেকের প্রিয় নির্মিতার লিষ্টিতে উনি।

ফারুকির কোন এক সাক্ষাতকারে দেখেছিলাম কিয়ারোস্তামি'র "টেন" তাঁর প্রিয় চলচিত্র।তো সেই 'টেন" যখন হাতের কাছে পেলাম একটানে দেখে ফেললাম।ছবি দেখে আমার অনেক জ্ঞান-বুদ্ধি বাড়লো কিন্তু মন ভরলো না।পুর্বে দেখা কিয়োরোস্তামি'র ক্লোজ-আপ, টেস্ট অফ চেরি, দ্যা উইন্ড উইল ক্যারি আস মতো এটাও ডায়ালগনির্ভর, নন-ড্রামাটিক মুভি; নন সিনেমাটিক অ্যাপ্রোচে বানানো( কিংবা হয়তোবা অতিসিনেমাটিক অ্যাপ্রোচ)বুঝি নাই!), সেইসাথে কেমনজানি আবেগহীন।

এমনিতে শুধু ডায়লোগ নির্ভর ছবি ভালো লাগেনা।শুধু এইকারনেই আলপাচিনো'রে আমার নাপছন্দ।ব্যাটা সব ছবিতেই এত ডায়ালগ দেয়, কেমন জানি অতিঅভিনয় মনে হয়।অলিভার স্টোনের "জে,এফ,কে", পাচিনো অভিনীত "দ্যা সেন্ট অফ এ উইম্যান, কিংবা ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার "অ্যাপিকেলিপসে নাউ" এমন কিছু ছবি সংলাপনির্ভর হলে সবকিছু মিলায়া উৎরে গেছে।

যাহোক, "টেন"-এর কাহিনীটা বলে ফেলি।

টেন অর্থাৎ দশটা আলাদা দৃশ্যের, অনেকটা দশটা শর্ট ফিল্মের মতো, একত্রে জোড়া দিয়ে বানানো ছবি এটি।প্রতিটা দৃশ্যেই চিত্রায়িত একটা প্রাইভেট কারের অভ্যন্তরে।মুলচরিত্র গাড়িচালক এক তরুনী; প্রতিটা দৃশ্যেই সে কমন চরিত্র।

দশটা দৃশ্যের প্রত্যেকটিতে তাঁর কথোপকথনের সংগী কখনো তাঁর ছেলে কিংবা ছোটবোন, মাজারযাত্রী বৃদ্ধা, পতিতা, কখনোবা পরিণয়প্রার্থী এক তরুনী।

প্রথমদৃশ্যে কথোপকথন ( বাক-বিতন্ডা!) ছেলে এবং মায়ের মাঝে। ছেলেকে ইশকুল থেকে গাড়ীতে উঠানোর পরে ক্যামেরা ফিক্সড ছেলের মুখের উপরে।এরপর শুরু।মা-ছেলের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে তাঁদের সম্পর্কের জটিলতা জানা যায়।তরুনী তাঁর আগের স্বামী'( অর্থাৎ ছেলেটির বাবা)কে ডিভোর্স করে রিম্যারিড।কিন্তু বাবা এখনো একা।এখান থেকে ছেলের ধারণা তার মা স্বার্থপর।এবং ছেলেকে পারসুয়েড করাতে মা'র অবিরাম চেষ্টা........

এভাবে বাকীদৃশ্যগুলোতে চরিত্রগুলো কথোপকথনের মাধ্যমে পারস্পারিক সম্পর্কের জটিলতা, নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টভংগি, ব্যাক্তি মানুষের ইনডিভিজুয়ালিস্টিক ভাবনা, বিশ্বাস, জটিলতা এমন অনেক গুরুগম্ভীর বিষয়।

সবকিছুই ঠিক আছে, তবুও কোথায় যেন একটু খামতি আছে আমার কাছে মনে হইলো।আপনারা দেখে আমার সীমাবদ্ধতা কিংবা সিনেমারটির খামতি কোথায় জানায়েন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29075592 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29075592 2010-01-10 13:25:44
ফ্রিডম অফ স্পীচ, ফ্রীডম অফ একস্প্রেশন
জাতীয়তাবাদী কিংবা শাসকশ্রেণীর জন্য যা বিচ্ছিন্নতাবাদ, স্বশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত মানুষের জন্য তা স্বাধীনতার সংগ্রাম।স্বাধীনতা'র মত যে কোন শব্দের সংজ্ঞায়ন ব্যাক্তি মানুষের ভাবনা, শ্রেণীচরিত্র, রাজনৈতিক মতাদর্শের উপরে নির্ভরশীল।যেহেতু দেশে-দেশ, সমাজে-সমাজে ভিন্নচিন্তা কিংবা ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ থাকবে, সুতরাং শব্দের একক কোন সংজ্ঞায়ন সম্ভব নয়।এইটা আমার মত।

কথাগুলো বলার প্রেক্ষিত রাসেল ভাইয়ের পোষ্ট"সভ্য মানুষের লিখবার মতো পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ এ ব্লগ

আমি উনার ব্লগ মোটামুটি নিয়মিত পড়ি।চিন্তাধারায় পার্থক্য থাকলেও উনার কনফিডেন্ট ইনডিভিজুয়ালিস্টিক অ্যাপ্রোচ ভালো লাগে।

যদি আমি ঠিক নিশ্চিত না উনার ক্ষোভের কারন কি? বোধকরি মডারেশনে পলিসি।

বাংলাদেশে "সামহ্যোয়ারইন" কিংবা "আমার ব্লগ" কিংবা যেসব ব্লগে পরীক্ষাদিয়ে পাস করতে হয়না, তাদের মধ্যে তেমন মাত্রাগত(অর্থাৎ ব্লগারদের ভাবনায় তেমন পার্থক্য দেখিনা)।লিখিতভাবে সামহ্যোয়ারইন-ই কিছু মডারেশন নীতিমালা আছে আর আমারব্লগে "নো মডারেশন" নীতি।তবে আমার ব্লগের "নো মডারেশন" নীতি সবক্ষেত্রে মানা সম্ভব হয়নি।কিছু পোষ্ট ক্ষেত্রে ব্লগারদের চাপেই সরিয়ে দিতে হয়েছে।"নো মডারেশন" আমার ব্যাক্তিগতমত সম্ভবপর নয় এবং সেটা কতৃপক্ষের কারনে নয়, বরং ব্লগারদের কারনে।এমনি সামহ্যোয়ারইন-এ মডারেশনের যে লিখিত নিয়ম, তা ব্লগারদের অ্যাভারেজ মনোভাবকে রিপ্রেজেন্ট করে।তবে সেটার প্রয়োগ অনেকক্ষেত্রেই মেজরিটীর মতামতের বিপক্ষেই যেতে পারে কিংবা যায়।


সামহ্যোয়ারইন কিংবা আমার ব্লগ একঅর্থে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর প্রতিফলন।সেগুলোতে যদি কোন অর্থে সভ্যলোকদের লেখালেখি সম্ভবপর না হয়, সে অর্থে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীও সভ্যমানুষের বেড়ে উঠার পথে অন্তরায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29056370 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29056370 2009-12-10 02:23:12
হুজুগে বাংগালী
রনির আত্মম্ভরি মন্তব্য আপত্তিকর।তবে সেই মন্তব্যে একটা তথ্য ঠিক আছে টাটা-আম্বানী গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমান বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় কাছাকাছিই হবে।সেটা অবশ্য কোন ভারতীয়দেরকেই এমন অপমানজনক মন্তব্য করার অধিকার দেয়না।

তবে রনিকে ব্যান করতে আমরা ব্লগে যে একাট্টা জাতিয়তাবোধের পরিচয় দিচ্ছি, বাস্তবে যদি তার শতাংশ দেখাতে পারতাম, তাইলে রনির এমন মন্তব্য করার সাহসই হইতো না।

স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরেও আমরা স্বতন্ত্র এবং উন্নততর কোন জাতিসত্তা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি।

কেবল অপারেটর "আলজাজিরা" কিংবা এ"কুশে টিভি" দেখায় না, কিন্তু রাশি রাশি ভারতীয় টিভি চ্যানেল ঠিকই চলে।

এক সময় বলা হতো "What Bengal thinks today, India thinks tomorrow"?
এখন সেটা হবে "What India broadcasts today, Bengal copies tomorrow".

বাংলাদেশি টিভিচ্যানেলগুলোতে ভারতীয় উৎকট প্রোগ্রামের জ্বলজ্যান্ত ছাপ।কোন কোন চ্যানেলতো এককাঠি বাড়া সরাসরি হিন্দী প্রোগ্রাম প্রচার করে।

ডজন ডজন ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তজার্তিক ফোরামে নাম কুড়ায়, আর আমরা তাদের সমতুল্য একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজও দাঁড় করাতে পারিনাই।

ভারতীয় রেল ব্যবস্থাপনা সুনাম নামীদামী ইউনিতে অধ্যয়নের বিষয় হয় আর আমাদের রেলগাড়ীতে নোংরা আর দুর্গন্ধে ভ্রমনই দায় হয়ে দাঁড়ায়।

এমন অসংখ্যা উদাহরণ দেয়া যায়।তাতে শুধু পোষ্টের দৈর্ঘই বাড়বে।

ব্লগে ভারতবিরোধী অগ্নিবাণ ছাড়ার পরিবর্তে নিজেদের ঘরদোর ঠিক রাখাটা, উন্নয়নের চেষ্টা আরো প্রয়োজনীয় ।

রনির কলকাতার বক্তব্যের প্রতিবাদ অবশ্যই কাম্য।কিন্তু তাকে নিয়ে সবাই যখন হিস্ট্রিরায় আক্রান্ত হয়, ব্যান করানোর জন্য মাতম শুরু হয়, সেটা অনেকটা অক্ষমোর আস্ফালনের মতো দেখায়।তাতে আমাদের দুর্বলতায় ধরা পরে।

গতকালের ঘটনা।আমার জেলাশহরের বন্ধুরা "মাল" খাবে।বারে গিয়ে খাওয়ার চেয়ে হিলি থেকে ইন্ডিয়ান মাল আনানো অনেক সস্তা।সেই মাল খেয়েই তাদের ভারতবিরোধি বক্তব্যে অগ্নিস্ফুলিংগে "আড্ডা" গনগনে হয়ে উঠলো।.....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29054155 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29054155 2009-12-06 00:13:50
চলচিত্রকথন- Belle epoque [সুন্দরসময়]


বেল এপোক শব্টা ফরাসি অর্থ বিউটিফুল ইরা।নামটা ফরাসি কিন্তু এই নামে একটা স্প্যানিশ সিনেমা আছে।

ছবিটার কাহিনী এমন

সৈনিক ফার্নান্দো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসে।সে কান্ট্রিসাইডে ঘুরে বেড়াতে থাকে।একসময় কোন এক গ্রামের এক গেরস্থ সংগে তার সখ্যতা হয় এবং তার বাড়িতে সে আশ্রয় নেয়।ঐ গেরস্থর বাড়িতে চার-চারজন সোমত্ত মেয়ে।তাদের প্রত্যকেই ফার্নান্দের প্রেমে পড়ে এবং একি ভাবে ফার্নান্দোও তাদের প্রেমে পড়ে।

সেই প্রেমের পড়ার কারন পুরোটাই সৌন্দর্য এবং শরীরভিত্তিক।প্রথম তিনজনের প্রত্যকের সাথে সে ক্রমান্বয়ে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং সেইটার চিত্রায়নে কোন খামতি নাই।(এইটা অবশ্য আনকমন কিছু না....কেউ যদি পেদ্রো আলমোদোভার, ত্রুফো কিংবা বার্তালুচ্চির সিনেমা দেখেন, তাদের কারুর ছবিতেই এইসবের কমতি নেই<img src=" style="border:0;" />।)

গেরস্থ'র সবচে ছোটমেয়ে(একটু শান্ত-শিষ্ট, বিয়ে করা যায় মেয়ে টাইপ) সবচে কঠিন প্রেম পড়ে।ফার্নান্দো তাকেই বিয়া করার সিদ্ধান্ত নয়ে। শেষপর্যন্ত তবু সেই সৈনিক ছোটমেয়েকে বিয়ে করে নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে যায়- মনে নাই <img src=" style="border:0;" />

এইটাই মোটাদাগে ছবির কাহিনী।হয়তোবা গভীরে আরো কিছু আছে আমি বুঝে উঠতে পারিনাই।

সেইসময়ে ম্যালেনা, সিনেমা পারাডিসো, পোদ্রো আলমোদোভারের "টক টু হার" দেখেছিলাম।তুলনামুলকভাবে এই ছবিটা আমার যথেষ্ট বিরক্তি ধরিয়েছিলো।

কিন্তু অনেকবছর পরে মেঘদুতের পোষ্ট'টায় জানলাম এইটা অস্কার পাওয়া।

আই,এম,ডিবি তে পড়লাম "ছবিটা নাকি অনেক প্রকারের সামাজিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বৈপ্যরিত্যে উপস্থাপন।এবং রিপাবলিকানপুর্ব স্পেনিশ সোসাইটির বুদ্ধিদীপ্ত রসিক উপস্থাপনা"।

বিশ্বাস করেন ছবিটাতে আমি মুর্খ এইসব জিনিসের কিছুই খুঁজে পাইনি।দেখেছিলাম ২০০২/২০০৩ সালে। তখন থেকে "আই,এম,ডি,বি" মালটা কি তাই জানতাম না।ভুল হইছে এরপর থেকে যেকোন মুভি দেখার আগে তার ক্রিটিকাল রিভিউ পড়ে নিতে হবে।

আজকে মেঘদুতের পোষ্ট পড়ে আমার মন্তব্যটা ছিলো একটু সারকেষ্টিক টাইপের।আমার রসবোধের অভাবে সেইটা ভুল মেসেজ দিয়েছে।

তারপর যখন আমার করা মন্তব্যের জবাবে উনি যখন হেসেছেন, তখন পোষ্ট'টা না দিয়ে পারলাম না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29050264 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29050264 2009-11-27 01:11:06
বাংলাদেশের “আঞ্চলিকতা” নামক ব্যামোটা সারবে কবে?
"রংপুরবাসী বিভাগ চেয়েছে।সুতরাং বগুড়াতেও বিভাগ হতে হবে"।
এ যেন মামাবাড়ীর আবদার।যে কেউ উত্তরবংগে ম্যাপের দিকে একপলক তাকালেই বুঝতে পারবেন রংপুরবাসীর বিভাগদাবী বগুড়ার চেয়ে অনেক প্রাসংগিক।

বাংগালীর আরো অসংখ্যা ব্যরামের মতো আন্চলিকতার ব্যারাম বোধকরি শোধরাবার নয়।ফুটবলাকে কিংবা লাঠালাঠি কেন্দ্রকরে এপাড়া-ওপাড়া, এগ্রাম-ওগ্রাম হাতাহাতি, লাঠালাঠি, এমনকি খুনোখুনির সংবাদ এখনো পত্রিকায় পাতায় দেখা যায়।

ঈদে কিংবা নবান্নে গ্রামে এক অদ্ভুত ধরনের প্রতিযোগিতা হয় "বিয়ে" বনাম "অবিয়ে"।
সেই "বিয়ে" বনাম "অবিয়ের" মধ্যকার ফুটবল কিংবা কাবাডি খেলাকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষ।"সকালে এক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে বিকালেই সেই গ্রপের জন্য ফাইটার বনে যাওয়া"- কিভাবে সম্ভব!

এ এক ব্যাখাতীত বিচিত্র সাইকোলজি।

বাজারে বিশেষত বিয়ের বাজারে "বি,এন,সি,সি" নামে একটা টার্ম প্রচলিত;বরিশাল, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চাঁদপুর জেলার আদ্যক্ষর নিয়ে।জনমনে প্রচলিত ধারনা, এ অন্চলের লোক "সুবিধার না"।অথচ আমার অন্তত দুজন কাছের বন্ধু নোয়াখালি থেকে আগত। মানুষ হিসেবে যাদের স্হান অনেক উঁচুতে।

অন্চলভেদে মানুষের ভাষার বিশেষত ডায়ালেক্ট, খাদ্যভাসও আলাদা হতেই পারে তাই বলে তাদের মানসিক গঠনের, তাও সেরদরে পুরো এলাকার মানুষের!

পত্রিকায় পাতায় ক'দিন ধরে খবরটা দেখছি।পুরো সংবাদ পড়া হয়নি, শুধু হেডলাইন আর ছবিগুলো।ভৈরবকে জেলা ঘোষনার প্রতিবাদে কিশোরগন্জে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসুচি।আজকে প্রথমআলোতে সুমন রহমানের লেখা পড়ে বুঝলাম ঘটনার শুধু মাঠে-ময়দানে না, ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলেও গড়িয়েছেও।

"ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করলে কিশোরগন্জবাসীর কি সমস্যা" এই অধম তা বুঝতে পুরোপুরি অক্ষম।"এইটা কি সার্বিয়া থেকে কসোভা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কোন ব্যাপার" নাকি আমি বাড়ির ইটের, সুতরাং পাশের বাড়ির ছোটলোক কেন ইঁটের বাড়ি করবে?

ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করলে কিছু সরকারি আমলার প্রমোশন হবে বিসিএস-এ কিছু নতুন পদও তৈরি হতে পারে।এরসাথে ভৈরব কিংবা কিশোরগন্জের আম-জনতার
অধিকার, বিষয়-আশয় কিংবা লাভালাভের কি সম্পর্ক ?

এরপর থেকে বাংলাদেশে বিভাজন এবং তৎসম্পর্কিত প্রতিবাদ কর্মসুচী কিভাবে হবে?

জেলা বনাম জেলা, থানা বনাম থানা, গ্রাম বনাম গ্রাম, পরিবার বনাম পরিবার(ঐ পরিবারকে সরকার রেশন দিলো কেন, এই নিয়া অন্য পরিবারের সদস্যদের অবস্থান ধর্মঘট!)

ও হ্যাঁ...আজকে আরেকটি তথ্য জানলাম।আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রপতি সাহেব নাকি ভৈরবের লোক আর ভৈরবকে জেলা বানানো তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।তাইলে দেখা যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ মাননীয় রাষ্ট্রপতি সাহেবও আন্চলিকতার উর্ধে নন।

হায় সেলুকাস, সত্যি বিচিত্র এই দেশ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29047614 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29047614 2009-11-22 01:48:18
ভুটান ভ্রমন(সাময়িক পোষ্ট)
ইতিপুর্বে ভুটানভ্রমন সেরে ফেলেছেন এমন কোন ব্লগার বন্ধু তথ্য দিয়া সাহায্য করলে কৃতার্থ হৈতাম।

সবাইকে অগ্রীম ধন্যবাদ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29043131 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29043131 2009-11-14 00:47:23
ড্যান ব্রাউনের দ্যা লস্ট সিম্বল
যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিলো ৩৩ বছর বয়সে, যোসেফ যখন কুমারী ম্যারি'কে বিয়ে করেন তখন তার বয়স ছিলো ৩৩, যিশু ৩৩টি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, জেনেসিসে ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হয়েছে ৩৩ বার, ইসলামিক ফেইথে , বেহেশতে স্থান লাভকারী সকলের বয়েস হবে ৩৩।
শুধু তাই নয়, মানুষের মেরুদন্ডে মোট কশেরুকরা সংখ্যা ৩৩।এই ৩৩ হাড় দেহকে তার মনন(মাইন্ড) সাথে যুক্ত করে।নিউটন তাপমাত্রার এক স্কেল আবিষ্কার করেছিলেন যেটাতে বয়েলিং তাপমাত্রা ছিলো ৩৩।
ফ্রিমেসন্রী'তে একটা কথা আছে, অল ইজ রিভিলড অ্যাট থার্টি থ্রি।নিউটন ছিলেন একজন ফ্রিমেসন সভ্য।
......................................................................................................


পড়ে ফেললাম হালের সেনসেশন ড্যান ব্রাউনের দ্যা লস্ট সিম্বল।পুরা ৫০৯ পৃষ্টার বই।

শুরু ম্যাসন বন্ধু পিটার সলোমনের নিমন্ত্রণে রবর্ট ল্যাংডনের ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হলে তড়িঘড়ি করে লেকচার দিতে আসার বর্ণনা দিয়ে। কাহিনী এগুনোর সাথে একে একে জড়িয়ে পড়ে পুরো সলোমন পরিবার , খোদ সি,আই,এ, ম্যাসন সোসাইটি, এক বিকৃত মস্তিস্ক উন্মাদ মালাখ, আরও অনেকে।

অ্যানসিয়েন্ট মিস্ট্রী, ম্যাজিক নাম্বার, চিত্রকলা, থিওলজিক্যাল হিস্ট্রী, এবং সিম্বোলজিতে লেখক গভীর জ্ঞানে মুগ্ধ হতেই হয়। তিনি যেভাবে আলব্রেখত দুরেঁর (Albrecht Dürer) মেলানকলিয়া আই Melencolia I বিশ্লেষন করেন কিংবা ম্যাগিক ফিগার ৩৩ সম্পর্কে আমাদের জানান তা এককথায় চমৎকার।

কিছু প্রসংগ হাস্যকর মনে হয়েছে।ক্যাথরিন সলোমন যেভাবে মানুষের চিন্তা কিংবা আত্মা পরিমাপন(Measurable Quantity) যোগ্য হিসেবে পরিক্ষাগারে প্রমান করেন, তা মোটেও কনভিনসিং হয়নি(অন্তত আমার কাছে)

ড্যান ব্রাউনের প্রত্যেক বইয়ের ঘটনা আবর্তিত হয় কোন নির্দিষ্ট শহরকে নিয়ে।এবারের শহর ওয়াশিংটন।

লেখক আগের বইগুলোর(দ্যা ভিন্‌চি কোড, অ্যানজেলস্‌ এন্ড ডেমন) মতোই এইটাতেও টানটান উত্তেজনা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে সেই পরিপ্রেক্ষিতে এবার তিনি কম সফল।

এইখানে লেখক বেশ ফিলোসফিক্যাল।এবং তার ফিলোসফিক্যাল ভিউ পুরোপুরি বিশ্বাসীদের পক্ষে।

অনেক ক্ষেত্রেই বিবরণ অনাবশ্যক দীর্ঘ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে।কিছু চরিত্রের সৃষ্টিকে অনাবশ্যক মনে হয়েছে।

তারপরেও যারা উত্তেজনা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এক সপ্তাহের ভালো খোরাক হতে পারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29035005 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/29035005 2009-10-31 01:55:02
সৌন্দর্যবোধের ধারণা



সৌন্দর্যবোধের ধারণা বহুমাত্রিক।কথায় বলে, যার চোখে যারে লাগে ভালো।সৌন্দর্যবোধের বহুমাত্রিকতা নিয়ে বেশ একটা গল্পও আছে।

"একদা জনৈক রাজার মনে হলো তার জানা দরকার রাজ্যের সবচে সুন্দরী কে?(রাজারা সাধারণত এমনই হয়ে থাকে, এ আর নতুনকি!)।তো সে এক ভিখারীকে ডেকে জানান দিলো "তুই তো ভিখারী; রাজ্যের মোটামুটি সবদ্বারেই তোর পদচারণা ঘটে।তুই আমাকে জানাবি এই রাজ্যের সবচে সুন্দর মহিলা কে"?

ভিখারীর জবান , "রাজামশাই একবছর পরে আমি আপনাকে জানাব কে সেই মহিলা?

বছর পেরিয়ে গেলে ভিখারী বলল,"রাজামশাই! উত্তরটা কি আমি ভয়ে দিবো নাকি নির্ভয়ে!"

""নির্ভয়ে"।

"এই রাজ্যে সবচে সুন্দরী মহিলা আমার বউ!"।

আফ্রিকায় ছেলেদের পছন্দ মোটা মেয়ে।দস্তুরমতো মোটা মেয়ের জন্য অনেকেই অপেক্ষায় থাকে।মৌরতানিয়ায় মায়েরা কিশোরি মেয়েদের উপর রীতিমতো অত্যচার চালায় বেশি খাওয়ার জন্য।মেয়েদের সৌন্দর্য আর মোটা অবয়ব সেখানে সমার্থক।

এসব কিছুই কিন্তু সৌন্দর্যবোধের বহুমাত্রিকতাকেই উপস্থাপন ধরে।

তবে সৌন্দর্যবোধের ধারণায় এই বিবিধতার দিন বোধকরি ফুরিয়ে আসছে।বিশ্বায়নের প্রভাবে আরও অনেক কিছুর মতোই এইক্ষেত্রেও একক সংজ্ঞায়ন বহুমাত্রিকতাকে সরিয়ে দিচ্ছে

"ফেয়ার ফেটিশিজম(fair fetishism)" এর প্রাদুর্ভাবে দেশে দেশে মধ্যবিত্তদের মানুষের ভাবনায় সৌন্দর্যের যে প্রতিচ্ছবি তা "বদনে ককেশীয় আর বর্ণে গৌর কিংবা শ্বেত"।

সমাজতান্ত্রিক কাঠামো থেকে বাজারকাঠামো'র অর্থনীতিতে স্থানান্তরিত দেশগুলোতে এই বৈশিষ্ট বেশ প্রকট।

উদাহরণস্বরুপ ভিয়েতনামে কথায় আসা যাক।ত্বকের উজ্জলতা
(Fairness) সংক্রান্ত ভাবনায় এদেশের মেয়েরা আক্রান্ত, ঠিক মতো বলতে গেলো মোহগ্রস্ত।প্রচন্ডরোদে মোটর সাইকেল যাত্রী মেয়েদের পুরো শরীর ঢাকা যদিও এমনিতেই তাঁদের পোষাক যথেষ্টই খোলামেলা।এর কারন, একটিই সুর্যের তাপে যাতে এদের গাত্রবর্ণ কালো না হয়ে যায় থাকে।বৃষ্টিবাদলা আর গরমের এই দেশে উইকএন্ডে রোদের দেখা গেলে কেউই বাসা থেকে বেরুবে না, সেখানেও মুলত বাধা বর্ণ সংক্রান্ত দুর্ভাবনা।

যথেষ্ট গৌর বর্ণের অধিকারী ভিয়েতনামিজদের এমন চিন্তাধারা আমার মতো কালাআদমীর জন্য যথেষ্ট অভিনব (কিছুটা অপমানকর বটে!)।

চীনে সবচে জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন হলো মেয়েদের ভাইটাল পার্টস বড় করার নানান কায়দা কানুন এবং সে সংক্রান্ত বিবিধ পরামর্শ।

পুর্ব আফ্রিকায় দেখেছি বিজ্ঞাপনের মডেল কিংবা মিডিয়ায় অথবা আমজনতার মাঝে আলোচিত সুন্দরী অপেক্ষাকৃত কমকালো মেয়ে।সেখানে জনসংখ্যার ৫ শতাংশের চেয়ে কম ভারতীয় অভিবাসী অথচ বিজ্ঞাপনে কিংবা নৈশক্লাবে তাদের উপস্থিতি ৫ শতাংশের অনেক অনেক বেশি।

"ফেয়ার ফেটিশিজম"-এ আক্রান্ত বিশ্বায়িত মধ্যবিত্তরা কিন্তু নি:সন্দেহে প্রসাধণীর ব্যবসার বেশ ভালো গিনিপিগ।এই মন্দাক্রান্ত সময়েও তাই প্রসাধণী ব্যবসাতে মড়ক লেগেছে এমনটা শোনা যায়নি।উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সেই ব্যবসার পালে হাওয়া বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28987361 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28987361 2009-08-02 00:20:53
৮ই জুন, ২০০২:সনি হত্যাকান্ডের ৭ বছর; কারো কারো এখনো মনে পড়ে কিংবা মন পোড়ে
জীবন চলে আপন গতিতে, বিগত কিংবা আগত কারুর জন্যই যে এক দন্ড সময় খরচা করে না।

৮ই জুনের এইরাতে ব্লগে বাংলাদেশিদের ক্রিকেটপ্রেমিদের অভিমান, ক্ষোভ, চিৎকার, হতাশা।ঘড়ির কাটা যদি কোনভাবেই পিছনদিকে ৭ বছর ঘুরিয়ে নেয়া যেত, তবে এমনি একরাতে আমরা কষ্টে, হতাশায়, ক্রোধে, কান্নায় আর্তনাদ করেছিলাম, চিৎকার করেছিলাম।

সময়ের স্রোত সবকিছুই ভুলিয়ে দেয়।জীবন এমনই।

আমি কোনভাবেই আবেগপ্রবন মানুষ নই।উপরুন্ত যেসব কর্ম সম্পাদন করিলে কাউকে আবেগপ্রবন বলা যায়, আমি তাহা অযতনে কিংবা সযতনে পরিহার করে থাকি।তবু যেহেতু মানুষ হিসেবে জন্ম, হঠাৎ হঠাৎ আবেগপ্রবন হয়ে যায়।পরবর্তিতে সেই অনুভুতিটাই নিজের কাছে কেমন খেলো মনে হয়।

তেমনি এক লেখা; গতবছরের আগষ্টে লিখেছিলাম।আজ ৮ই জুনের এইরাতে আবার দিলাম:

৮ই জুন,২০০২ : অতঃপর একটি খুনী বুলেট তাকে অকস্মাৎ থামিয়ে দেয়

বারটা ঠিক মনে নেই।কিন্ত তারিখটা স্মৃতিতে এখণো দাউদাউ করে জ্বলছে।
৮ইজুন,২০০২।আগের রাতে হলে হলে ছেলেদের কি রকম একটা জটলা দেখেছি;
ছোটখাটো মিছিলও বা হয়েছিলো কি?সামনেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০২;”ছুটি চাই,খেলা দেখতে দিতে হবে”,”খেলা আর ক্লাস একসাথে চলবে না”-ইত্যাকার স্লোগান কিংবা দাবী যতটা হাস্যকরই শোনাক না কেন,হ্ল কম্পাউন্ডে,স্পোর্টস্‌ রুমে,ডাইনিংয়ে কি ক্যান্টিনে গুণগুণ,ফিসফিস কখনোবা জোরালে স্বরে ভাসছিলো।শুনেছি কোন হলে জানি খুব ছোটখাটো মিটিং হয়ে গেছে;”কালকে গেট আটকানো হবে” সেই মিটিংয়ে বরাবরই সাহসী হিসেবে খ্যাত কিছু ছেলের সিদ্ধান্ত।

ঘুম থেকে কি একটু দেরিতে উঠেছিলাম নাকি ক্লাস ধরার জন্য ঠিক সময়টাতেই!তবে ক্লাসে যে যায়নি,সেটা নিশ্চিতভাবেই জানি।আগের রাতের সিদ্বান্তমতোই মেইন ফটকে সামনে ক্রীড়াপ্রেমী ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে।আর যথারীতি ছাত্রকল্যান পরিচালক সহ ছাত্রপ্রেমী শিক্ষকদের সেই ছাত্রদের বোধ-বুদ্ধি জাগ্রত করার ব্যার্থ চেষ্টা।অতঃপর ছাত্র-শিক্ষক মনোমালিণ্য,এবং কলহ।উপাচার্য মহাশয় নাকি ছাতা হাতে বেয়াড়া ছাত্রদের তাড়া করছিলেন এমনটাও শুনেছিলাম।

সকাল হালকা মতো বৃষ্টি হয়েছিলো কি!না হলে উপাচার্য মহাশয়ের হাতে ছাতা আসে কোথা থেকে।নিত্যাদিনের মতোই মফিজ ভাইয়ের ক্যান্টিনে সেই একঘেঁয়ে ,বিরক্তিকর প্রায় অখাদ্য নাস্তাটা সেরে ফেললাম।ক্যাম্পাসের মেইনগেটে হালকা ঝামেলা হয়েছে;সুতরাং ওইদিকে পা বাড়ানোর কোন মানেই হয়না।এমনিতে ক্লাসে যায় চরম অনাগ্রহে ;শুধুমাত্র ক্লাস এটেন্ডেন্সের কোটা পূরণ করতে,সেইখানে কোন ছুঁতা পেলে তো কথাই নাই।ক্লাস নাই,ক্লাসটেস্ট নাই;সো নো পড়াশোনা।
হাতে এখন অখন্ড অবসর।চাইলে কমনরুমে আনন্দবাজার পত্রিকায় ভারতীয় যৌবনবতী ফিল্মি কন্যাদের দূর্দান্ত ছবি দেখা যায়,টেবিল টেনিস কিংবা ক্যারাম বোর্ডে দুইএকদান খেলাও যেতে পারে।

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বন্ধু’র বাড়ী ৩০৪, রশিদ হলের দিকে রওনা দিলাম।উদ্দেশ্য সত্যজিত,ঘটক মৃণাল কিংবা সাব-টাইটেল সহকারে কোন বিদেশী ভাষার ছবি দেখবো।বন্ধু মহলে তখন প্রবল বিক্রমে হলিউড কিংবা বলিউড’কে প্রতিহত করার চেষ্টা ।আর আমি সেই চেষ্টার আপাতত চোখ-কান-নাক বন্ধ করে সমর্থক।

হলগেটে ছাত্রদের বেশ আনাগোনা,বেশ একটা চাঞ্চল্য সবার মাঝে,কেউ কেউ হয়তোবা উত্তেজিত ছিলো,ততোটা খেয়াল করিনাই।ভীড়-ভাট্টা’য় বরাবরই নিরুৎ‌সাহী আমি।সবাইকে পাশ কাটিয়ে উঠে গেলাম তিনতলায়।রুমে আড্ডা চলছিলো,হঠাৎ‌ কে জানি হন্তদন্ত হয়ে খবর দিলো ক্যাম্পাসে গুলি চলেছে।সিড়ি দ্রুত বেগে নামতে নামতে জানা গেলো আরো কিছু তথ্য;আজকে কিসের জানি টেন্ডার ছিলো আর সেই টেন্ডার পেতেই বুয়েট ছাত্রদল-ঢাবি ছাত্রদলের মধ্যে রেষারেষি।তারই জের ধরে এই গোলাগুলি।বুয়েট ছাত্ররা গোলাগুলি’তেও ঢাবি ছাত্রদের সাথে টেক্কা দেয়; এইটা ভেবেও হয়তোবা অনেকের মতো আমিও খানিকটা পুলকিত হয়েছিলাম।

নীচতলার করিডর ধরে আমরা সবাই ছুটছি,উদ্দেশ্য হলগেট ;সেই ছোটখাটো জটলা বেশ বড়সড় একটা ভীড়ে পরিবর্তিত হয়েছে।নিত্যনতুন খবর আসছে।বুয়েট ছাত্রদল নাকি তীতুমীর হলে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে গুলি চালাচ্ছে।আর হলের সামনের রাস্তায়,শহীদ মিনারের আশেপাশে অন্যগ্রুপের অবস্থান।দুই-এক রাউন্ড গুলির শব্দও কি শুনেছিলাম?হঠাৎ‌ খবর এলো,এই গোলাগুলিতে কে জানি মারা গেছে। আমরা একটু ভীত হলাম সেই সংগে একটু বেশী উত্তেজিত,উচ্চকন্ঠ।তবে যেহেতু হতভাগ্যের নাম-পরিচয় জানিনা,তাই আরো অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতোই তা আমাদের মনে তেমন কোন রেখাপাত করলো না;নিহতের নিয়তি ভাগ্যে ইহা লেখা ছিলো,আমরা এমনি করে সান্তনা পেতে চেয়েছিলাম।

অত;পর সেই শব্দজটের মাঝে,হরেক কথার ভীড়ে, বিভিন্ন জনের বিভিন্ন স্কেলের আওয়াজ,চিৎকার ছাপিয়ে নিহতের নাম পরিচয় জানা গেলো।নিহতজন একটি মেয়ে,এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই মেয়ে; কেমিকৌশল বিভাগের লেভেল-টু/টার্ম-২ -এর ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি।সে ক্লাস করতে গিয়েছিলো অন্য যে কোন স্বাভাবিক দিনের মতোই,ফিরেছে লাশ হয়ে।
দুদল খুনীর মাঝখানের শেষ্ঠতের লড়াইয়ে,হঠাৎ একটি বুলেট স্তব্ধ করে দিয়েছে তার হৃদপিন্ডের স্পন্দন,ফুটো করে দিয়েছে ফুসফুস,থেমে গেছে পৃথিবী নামক আজব গ্রহে তার স্বপ্ন যাত্রা।



আচ্ছা, আমি কি সেদিন কেঁদেছিলাম।এক অচেনা-অজানা মেয়ে, আগে কখণো দেখিনি,নামও শুনিনি,শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত এবং সে এখণ মৃত-এই সত্যটা কি কান্নার মতে যথেষ্ট আবেগ’কে আনয়ন করার জন্য যথেষ্ট।আমি দূর্বল চিত্তের মানুষ।তারপরও আমি জানি,আমি কাঁদিনি যদিওবা দু-এক ফোটা অশ্রু ঝরে থাকে ,সেটা নিতান্তই বেঁচে থাকার আনন্দে। খুণীর ছড়্‌ড়া বুলেট অন্য যে কাউকে বিদ্ধ করেছে আমাকে তো আর নয়;আমি এখণো জীবিত।এমনই প্রবল আমার আত্মপ্রেম।যদিওবা সেই গুলিবিদ্ধ আত্মা আমাদের আর অপরিচিত হয়ে থাকেনি।

জিব্রানের ভাষায়,

No strangers are you among us, nor a guest, but
our son and our dearly beloved.

অতঃপর আমরা ফুঁসে উঠেছিলাম,আমরা গর্জে উঠেছিলাম;আমরা হিংস্র হতে চেয়েছিলাম,আমরা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম।

মিছিল-অবরোধ-স্ট্রাইক-শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত-হল ভ্যাকান্ট-বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশী-পুণরায় একাডেমিক কার্যক্রম চালু-মানববন্ধন-স্ট্রাইক-অনশন-ঘেরাও-আলটিমেটাম-পুলিশী আক্রমন-পুলিশী নির্যাতন-বিশ্ববিদ্যালয় আবারো বন্ধ ঘোযনা-প্রহসনের বিচার............

পলাতক প্রধান আসামীর কারাদন্ড...।সেই পলাতক আসামি এখনো পলাতক.........!অর্জিত হয়নি প্রায় কোন দাবীই,এমনকি সনী’র নামে এখণো নামহীন বুয়েটের ছাত্রীহলের নাম।

ব্যার্থ আন্দোলন,নিদারুন হতাশা।
আমরা নিজেদেরকে পরাজিত ভেবেছিলাম,হতাশা আমাদের আষ্ঠেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছিলো।
তবু অনেকঅনেক দিন পরে নির্জনে বসে একলা ভাবি, “কিছুই কি অর্জিত হয়নি”!
আমার কানে বাজে পিট সিগারের গাওয়া কয়েকটি লাইন।

Only thing we did was wrong,
Staying in the wilderness too long
The only thing we did was right
Was the day we began to fight?


সময়ে কোন শোকই না প্রশমিত হয়।সময়ের সংগে অসমান যুদ্ধে কোন আবেগেরই বা পরিত্রান আছে।গোগলের বয়ানে পড়েছিলাম।
“আমি এক ব্যাক্তিকে জানতাম,যার মাঝে যৌবনের শক্তির স্ফুরণ ঘটেছিল,সে ছিল মহত্ত্বের এবং অন্যান্য সদ্‌গুনের আধার।সে প্রেমে পড়েছিলো আর সেই প্রেম ছিলো কমনীয়,উদগ্র,প্রমত্ত,দুঃসাহসী,সরল।কিন্তু তার ভালবাসার পাত্রী-দেবী প্রতিমার মতো সুন্দরী কোমল মেয়েটি-মৃত্যের করাল গ্রাসে পতিত হল।যে ভয়ানক মানসিক যন্ত্রণার বিক্ষোভে ,যে প্রমত্ত বিষন্নতার দহনে,যে সর্বগ্রাসী হতাশায় এই হতভাগ্য প্রেমিকটি নিপীড়িত হচ্ছিল তেমন আমি কদাচ দেখেনি।

বাড়ির লোকের তাকে চোখে চোখে রাখত;যা দিয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে এমন সমস্ত কিছুই তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়।দু-সপ্তাহ পর সে একটু ধাতস্থ হলো; তাকে স্বাধীনতা দেয়া হলো।আর সেই স্বাধীনতার সুযোগে সে যা করল তা হল পিস্তল কেনা এবং সেই পিস্তল দিয়ে সে তার মাথার খুলি চূর্ন-বিচূর্ণ করে ফেললো।ভাগ্যক্রমে এক যশস্বী ডাক্তার সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাকে সারিয়ে তুললো।তার উপর আরও কড়া নজর রাখা হতে লাগল।এমনকি টেবিলে খেতে বসার সময় তার পাশে ছুরি পর্যন্ত রাখা হত না;কিন্তু শিগগিরই সে আরেকটা সুযোগ বের করলো-চলন্ত গাড়ির তলায় ঝাঁপ দিলো।তার হাত-পা ভাঙল;কিন্তু এবারেও তাকে সারিয়ে তোলা হল।এর একবছর পর আমি তাকে দেখতে পাই এক জনাকীর্ন হল ঘরে;সে টেবিলের ধারে বসে একটা তাসের চাল দিচ্ছিল স্ফুর্তির সংগে ,তার চেয়ারের উপর কনুইয়ের ভর দিয়ে তার তরুণী বধূটি পয়েণ্টের হিসাব রাখছিলো”।


ব্যাক্তিমানুষ চিরদিন বেঁচে থাকেনা,তার সৃষ্টশীলতা টিকে থাকে।কবি হয়তো অনিবার্য মৃত্যকে ফাঁকি দিতে পারেনা কিন্তু কবিতা বেঁচে থাকে।সাধারণ এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সনি হয়ে সময়ের আবর্তে,কালের ধুলোয় হারিয়ে যাবে কিন্তু তার স্মৃতিফলকের মতোই আমাদের কারো কারো মনে থাকবে ,আনাড়ী হাতে লেখা তার কবিতার ক’টি লাইন,

এই আমি খুব আবেগপ্রবণ
এই আমি খুব জেদি
এই আমি খুব ছেলেমানুষ
এই আমি কিছুটা বাস্তব
এই আমি খুব একা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28961964 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28961964 2009-06-08 22:09:56
হো চি মি'নের দেশে-১

চিলেকোঠায় আমার ফ্লাটের সামনে একটুকরো খোলা ছাদ। ষষ্ঠতল সেই ছাদে দাড়িয়ে হ্যানয় শহরের অনেকটুকুই চোখে পড়ে।চারিদিকে যতদুর দৃষ্টি যায় সার সার অজস্র লাল কিংবা খয়েরি টালির ছাদ।তারই ফাঁকে ফাঁকে বহুতল ভবনসমুহের ক্রমবর্ধমান প্রজনন জানান দেয় পুঁজির উপস্থিতি কিংবা তার ক্রমবর্ধিষ্নু প্রভাব ও প্রতিপত্তির।

তৃতীয় বিশ্বের লাখো মানুষকে সাম্যবাদের স্বপ্নে উজ্জ্বীবিতকারী আংকেল হো'র মৃত্যত্তর ভিয়েতনাম কোন অর্থেই আর সাম্যবাদী রাষ্ট্র নয়।অদ্ভুত চীনা কায়দায় পরিচালিত এক বাজার অর্থনীতির দেশ।এই পথ বেঠিক না সঠিক ইতিহাসই একদিন তার মুল্যয়ন করবে।

ঝুলন্ত ছাদের নীচে আমাদের মফস্বল শহরের কায়দায় সরু সরু পিচঢালা পথ।সেই পথে চলে বেড়ায় হাজারে-হাজারে, লাখে-লাখে কিংবা অযুত-অযুতে যান্ত্রিক সাইকেল।আক্ষরিকার্থেই দিজ ইজ এ সিটি অফ বাইক; ৬৫ লাখের শহরে চল্লিশ লক্ষাধিক মোটর সাইকেল! ভাবা যায়।

মোটরসাইকেলের এই বিশাল ওয়াগনে নিতান্তই হয়ে সংখ্যালঘু হয়ে থাকে আমাদের শৈশব-কৈশোরের নিত্যসংগী সেই অযান্ত্রিক(অধুনা পরিবেশ বান্ধব খেতাবপ্রাপ্ত!) দ্বিচক্রযান; ৭০ দশকের সমাজতান্ত্রিক শহরের প্রতীক।স্কুলগামী কিশোরী, শ্রমজীবি তরুন, ভারাক্রান্ত বৃদ্ধ প্যাডল মেরে চলছেন যান্ত্রিকগতির সাথে পাল্লায় দিয়ে; আধুনিক মানুষদের গতিক্রান্ত জীবন-জগত-সংসারকে তাচ্ছিল্য করে।

ওল্ড হ্যানয়ের অলিগলি চিরপরিচিত রিকশার দেখা মেলে।প্যাডেল টানা রিকশা নয়, ঠেলা রিকশা।বিশালদেহী মেদবহুল সাদাচামড়ার টুরিষ্টদের ঠেলে নিয়ে চলেছে শীর্নকায় ভিয়েতনামিজ।

সহযাত্রী এক ছোটভাই বললো "ভাইয়া, উঠবেন নাকি"?

দ্ররিদ্রতর দেশের মানুষ আমি।তবু ভালো, রিকশাকে এখানে তারা অন্ত:ত ভ্রমনবাহন হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছে আর আমরা!

রিকশা আমাদের ওখানে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।ঘাম চিকচিকে পিঠে রিকশাচালক বয়ে নিয়ে চলেছে পায়ের উপর পায়ে ঝুলিয়ে বসা রিকশাআরোহীকে। দুচার টাকা বেশি চাইলেও আমাদের রক্তুচক্ষু গরম হয়ে ওঠে, কেউ কেউ তো স্বউদ্যেগে তাদের পুলিশী শিক্ষারও ব্যবস্থা করেন।

মধ্যযুগীয় দাস-প্রভুর সম্পর্কের এক ক্লাসিক উদাহরন!

আমি যথেষ্টই ভোগবাদী তবে নিত্য ব্যবহার্যের জিনিসকে "নেভার সিন বিফোর" এর ভান করে গদগদ ট্যুরিষ্ট- এতোটা "ঢং ধরা" বোধহয় সম্ভব নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28960750 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28960750 2009-06-05 23:32:46
বিষাদে হরিষ পশ্চিমমুখি স্রোত বহন করছে আমেরিকার সৈন্যদের মৃতদেহ আর পুর্বমুখি স্রোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃতদেহ।উভয় ঘটনার মাঝে একটা চরম সাদৃশ্য আছে;তাঁরা উভয়দেশেরই দ্ররিদ্র পরিবারের সন্তান।

সেদিন প্রথম আলোর অনলাইন জরিপে নিচের লাইনদুটি ঝুলানো ছিলো

"বিদেশে মৃত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দ্ররিদ্র বলে তাঁদের বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকরা আমলে নিচ্ছেন না৷ এ অভিযোগ সমর্থন করেন কি"?

পড়ে হঠাৎ হিন্দী "শোলে" ছবির কথা মনে পড়ে গেলো। কথার তোড়ে ত্যাক্তবিরক্ত হয়ে জয়(অমিতাভ) বাসন্তী(হেমামালিনী)'কে বলছে

"বাসন্তী, তোমার নাম কি"?

এরপর থেকে প্রথম আলোর রসবোধের তারিফ না করাটা পাপের পর্যায়ে পড়বে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28949892 http://www.somewhereinblog.net/blog/aahsan_habib/28949892 2009-05-12 22:37:51