আমার নিজের একটা পোস্টে মনির ভাইয়ের লেখা দেখে ভালো লাগলো। উনার কিছু পোস্ট দেখতে যেয়ে একটা লেখা পাইলাম। ওখানে ওই পোস্টের তেমন কোন বলিষ্ঠ কমেন্ট পেলাম না। মানুষের চোঁখে পড়ে নি নাকি মানুষ কথা খুঁজে পাচ্ছিল না,জানিনা। তাই ভাবলাম, আমিই কিছু লিখি।
প্রথমে মনির ভাইয়ের পোস্ট টা পড়তে হবে।
Click This Link
যুক্তির ফাঁকটা আপনার চোখে পড়তেছে না কেন বুঝলাম না।
প্রাণির ছবি আঁকা ইসলামে হারাম --এটা নিয়ে যে পোস্ট আপনার পড়েছি, সেটার তুলনায় এই পোস্ট অনেক হাল্কা।
ঠাকুর মার ঝুলিতে শুধু রাক্ষস, খোক্কসই থাকে। উত্তরাধিকারীরা কে কত পাবে, নামাযের নিয়ম-কনুন, তাও যদি লেখা থাকে তাহলে সেটাকে কী এককথায় রূপকথার গল্প বলা যায়??
হয়ত বা যায়, কিন্তু ঠাকুর মার ঝুলির থেকে উঁচুতে রাখতে হবে। যদি ধরেন, এটা মানুষের লেখা তাও বুঝতে হবে এটা নিছক গল্প হতে পারেনা। এটা একটা জীবন ব্যবস্থা। অনেকটা সংবিধান টাইপ। ঠিক না??
এখন, কেউ একটা সংবিধান যদি লিখে, কেন এমন কিছু লিখবে যেটার জন্য তাকে সেসময়ের বর্বর শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যেতে হবে ?? কষ্ট করে কেউ লিখলে এমনটাই লিখবে যাতে তাকে এটার জন্য পুরষ্কার অর্জনটা সহজ হয়। পুরষ্কার উনারা পাইছেন (যদিও সারাটা জীবন কষ্টেই গেছে), কিন্তু এখন যদি বলেন,ধর্মগ্রন্থ লেখার পরেই উনারা নিশ্চিত হয়ে গেছেন যে এই বই দিয়েই মদীনা, জেরুজালেম দখল করে ফেলবেন, তাহলে আপনার বলাটা হবে হাস্যকর।
নবিজী(স), যীশু -- এদের সাথে সান্টা ক্লজের পার্থক্য ধরতে পারছেন??
আমি নিজে অন্তত জানি যে এটা মিথ্যা, আর সেটা প্রচার করতে যেয়ে, বই লিখে সারা দুনিয়ার বিপক্ষে চলে যাব?? জীবনের ঝুঁকি নিব??
দুনিয়ার অনেক জ্ঞানীগুণী মানুষকে বই লেখার কারণে শাস্তি পেতে হয়েছে। কিন্তু সেসব বইএর কথায় কী মিথ্যাচার ছিল ?? একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একজন বিজ্ঞানী দিয়ে গেলেন, এতে তাকে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হল। পরে দেখা গেল ওটা ভুল। কিন্তু, ঐ বিজ্ঞানী তখন কিন্তু জানতেন যে এটা ঠিক, তাই তিনি এমন রিস্ক নিয়েছেন। ঠিক না??
ধর্মের ব্যাপারটা কিন্তু এত সোজা না। আমি যদি সেই কোন সমাজের কাছে নতুন কোন ঈশ্বরকে বিশ্বাস করার প্রচারণা চালাই সেটা সত্য না মিথ্যা আমি কিন্তু আগে থেকেই জানি, একেবারে গোঁড়া থেকেই। অন্তত নিজে নিজে হলেও। সেখানে বৈজ্ঞানিক তথ্যের মত ‘পরবর্তীতে গবেষণার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা’ সম্ভব নয়। অন্তত নিজের কাছে তো নয়ই। সেটার জন্য নিজে জীবনের ঝুঁকি নিতে যাব কেন ??
মনে করেন, আমি খুবই জনদরদী একজন মানুষ। চারিদিকের অন্যায় আর অবিচার দেখে অতিষ্ঠ। ঠিক করলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমি এর বিপক্ষে যাব। আমি কী তাহলে ওই দেশের রাজা হওয়ার চেষ্টা করবনা ?? সৈন্য যোগাড় করব না? সেখানে কী আমি এমন বই লিখব যেটাতে উত্তরাধিকারী আইন আর নামাযের নিয়মও থাকবে ?? যেখানে জীব্রাইল (আ) এর কথা থাকবে ?? দুনিয়ায় আর কোন রাজা ছিল না?? আর কেউ রাজা হয় নাই ?? তাদের ধর্মগ্রন্থ লিখতে হইছে রাজা হওয়ার জন্য ?? রাজা হওয়ার জন্য আমি ধর্মগ্রন্থ লিখলে সবাই যেই ধর্মের নিজেকে সেই ধর্মের আরেকজন অবতার হিসেবেই প্রচার করতাম,যেটাতে আমাকে সারা দুনিয়ার বিপক্ষে যেতে হত না।
নেটে বসে রাজাকারের বিপক্ষে লেখা আর এরাই যখন এম পি হয়ে ঘুরে,তখন খালি হাতে একা একা ওকে মাইর দিতে যাওয়া কী এক ?? আর, আপনি নিজে বোঝেন না, চাইলেই কী একটা জাতিকে, শাসকগোষ্ঠীকে আপনি একা একা ধংস করতে পারবেন? আপনি নিজে কল্পনা করেন, একটা শাসকগোষ্ঠীর বিপক্ষে আপনি একা দাঁড়ায়া গেলেন, যাদের অস্ত্র আছে আর তারা প্রায়ই সেটা ব্যবহার করে। এটা কি হাস্যকর হবে না ?? আপনি এটা তখনি করবেন, যখন তাদেরও উপর শক্তিশালী কারও কাছ থেকে ভরসা পাবেন। নবীজী, যীশু (আমরা বলি ঈসা মসীহ) এরা নিজের জাতির বিপক্ষে দাঁড়ায়া গেছিলেন। একটু আগে নিজের বেলায় এই কথা ভাবতে আপনার আজগুবি লাগতেছিল। অথচ, তাঁদের ব্যাপারটা ঐতিহাসিক ভাবেই সত্য। তাদের ভরসা কি ছিল ?? হতেই পারে সেটা সৃষ্টিকর্তা।
অতএব, ধর্ম গ্রন্থকসমূহ, যেগুলো প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রচারকের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস আছে, সেগুলোকে, এমন হাতে লেখা রূপ কথার স্থান আপনি চাইলেই দিতে পারেন না। এটুকু আগে হজম করেন যে, ধর্মগ্রন্থ আর রূপকথা এক জায়াগায় রাখা যাবে না আর এদের পার্থক্যটা কোথায় ।
কথা হল, এমন ধর্মগ্রন্থ অনেক আছে, কোনটা কতদূর উঁচুতে স্থান পাবে ?
এখানে কিছু ব্যাপার আছে, অনেক সময় আমরা ভাবি এক, আর হয় এক। পরে ব্যাপারটা জেদ চেঁপে যায়। কোন রাজা যদি কোন ধর্ম প্রচার করে (হয়ত ধরি ওখানে মানুষের উপকারী অনেক নীতিও আছে), সে জানে যে সে রাজা হওয়ায় অনেকেই তার কথা শুনবেন। পরে দেখা গেল ব্যাপারটা কঠিন হল, রাজা হওয়ায় তাকে যুদ্ধ করতেই হত। নতুন উছিলা পেল।এমন আরো যে কিছু হতেই পারে।এমন গুলোকে আমরা বাদ দিব। দিন-ই-ইলাহী (আকবরেরটা), আর রামের কাহিনী (আদৌ যদি রামের অস্তত্ব থাকে)। খুঁজতে থাকেন, আরো পাবেন। এটুকুতে একমত ?
সেই ধর্মগ্রন্থগুলোকে আমরা বিশ্বাস করব আর সম্মান করব যেগুলাতে স্পষ্টতই প্রথম থেকে এর প্রচারক সমগ্র জাতির বিপক্ষে চলে গেছিল। কারণ, সৃষ্টিকর্তা এমন এক জায়গায় ধর্ম গ্রন্থ নাজিল করবেন, যেখানে মানুষ সবচেয়ে নিকৃষ্ট আচরণ করতেছে ।
এমন ধর্মগ্রন্থ কয়েকটাই পাবেন। সবগুলোতেই কিছু না কিছু মিল পাবেন। আমাদের সৃষ্টিকর্তা যুগে যুগে তার ধর্মকে প্রচার করতে যুগে যুগে প্রচারক পাঠিয়েছেন। আপাতত, এটুকুতে একমত হলে, বাকীটা অন্য একদিন।
বিঃদ্রঃ -- ধর্মকে কেন বিশ্বাস করব আর কোন ধর্মই বা সত্যি – এসব প্রশ্নের উত্তর আমি দেই নাই। আমার এই পোস্টে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁযে লাভ নাই। আপন যেমন সাইকোলজিক্যালি আপনার পোস্ট করেছেন, আমিও সেই কোণ থেকেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র ।
[মনির ভাই এর পোস্ট টা সাইকোলজিক্যাল পোস্ট। প্রথম ধাক্কাতেই মনকে অভিভূত করে ফেলে। লেখাটা অনুবাদ। মূল লেখা পড়ার সময়ও মনির ভাইও প্রথম ধাক্কাতেই অভিভূত হয়ে গেছেন। পরে, এটা আপনার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার সাথে মিলে যাওয়ায় এটাকে আপনার পক্ষের একটা যুক্তি হিসেবে আঁকুড়ে ধরে পোস্ট দিয়েছেন। আমি প্লাস দিতে নিছিলাম, তখন আমার এসব মনে পড়ল।]
[যাই হোক, আপনি আবার পার্সোনালি রাগ করলেন নাকি ভাই ??আমার পোস্টে(Click This Link) শেষের কমেন্টে
এখন আবার আপনি করে বলতেছেন কেন??
আমি কী এমন কোন ইঙ্গিত দিছি?? ভুল বুঝবেন না।
আপনি আমাকে তুমি করেই বলবেন, এমনটাই আশা করি।]
সব শেষে সবাইকে বাঙ্গালী জাতির মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে অভিনন্দন। আর, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে মাগফেরাত কামনা করি, আর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই সেই সম্মান যা আমরা এই ৩৮ বছরেও দিতে পারলাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

