somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্প গল্পঃ মেসক্রটের ভালবাসা (পর্ব – ২)

১৭ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্বের জন্য Click This Link


“ আমি আগে থেকেই জানতাম কনসাম্পশান কমিটি সরকার গঠন করলে, এই অবস্থাই হবে। দেখেন ওরা কী করল ! ফ্লাইং রাইডারের উপর ট্যাক্স বসিয়েছে। এখন মাসে মাসে আমার ফুড সাপোর্ট কত দেরীতে আসে জানেন? অথচ ঠিকই এত্তগুলা ইউনিট নেয়। এদের দিয়ে কিছুই হবে না। ”, বস আর বসের বসকে একটানা বললাম। কথায় কথায় রাজনীতি উঠলই। আমি আসলে বেশি কিছু জানিনা। এত ঝামেলা করে পৃথিবীতে যেয়ে ভোট দিয়ে আসার মত মানসিকতা কখনই হয়নি। রেবেল বা ফেডারেশন বা কনসাম্পশান কমিটি, কাউকেই ভোট দেই নি। কিন্তু, আমি যতদূর জানি, যুগের বেশির ভাগ লোকই মনে করে সরকার যা করে ভুল করে, আর উনি নিজে সরকার হলে ঠিক করতেন। তাই বসের বসের সাথে গলা মিলানোর জন্য আগে থেকেই এই স্টাইল এপ্লাই করছি।


বস কেন যেন সরাসরি তাকাচ্ছেন না। হয়ত ভাবছেন, এই মাত্র বসের বস বলে উঠবেন আমি মানসিক রোগী। আমার চাকরী যাবে কী না, সেটা নিয়ে উনি টেনশন করছেন ভেবে অবাক হচ্ছি।অবশ্য নিজের বুদ্ধির উপর ভরসা আছে আমার। বুড়া মানুষটাকে পটানোর জন্য, কথা মিলানোর জন্য সরকারের বদনাম গেয়ে যাচ্ছি। উনার মুখটাও হাসি হাসি।


“ আচ্ছা, মেসক্রট, তোমার ফ্যাকাল্টিতে দেখি ৭০ বার ফায়ার এলার্ম বেজছে। কারণ টা কী? তুমি কী আশে পাশে আগুল লাগিয়ে দাও নাকি? ”, বসের বস তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। অন্তর্ভেদী দৃষ্টি।


না চাইতেও কীভাবে যেন বলে গেলাম, “স্যার জানেন তো,এই গ্রহটার বলয়ের বাইরে এক ধরণের সাদা সবুজ শৈবাল পাওয়া যায়। রোদে দিয়ে এদের শুটকী খেতে চরম টেস্ট। কিন্তু, রোদে দিয়ে দেখি উলটা বংশ বৃধি করছে। শুটকী বানানোর জন্য তাই একটা কেমিকেলের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দিতে চাচ্ছিলাম। সেটা বানানোর জন্য গবেষণা করতে যেয়ে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আগুন জ্বালাতে হয়েছে। ” বস আমার দিকে মুখ ফেরালেন, দৈব ভাবেই যেন উনার মুখের কথা গুলো শুনতে পারলাম, “ দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গর্দভটাও শৈবালে শুটকীর জন্য কেমিক্যাল বানানোর অজুহাত দিত না। ” আমি আর কথা না বাড়িয়ে চুপ মেরে যাই।



খাওয়ার সময় রোবটগুলা এমনভাবে আশেপাশে ঘুরছিল, খুব ইচ্ছা করছিল এগুলার এন্টেনা ভেঙ্গে দেই। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত রাখলাম। বস আস্তে করে আমাকে পাশে ডেকে নিলেন। খাওয়ার ফাঁকে আস্তে করে বললেন, “ স্যারের সাথে রাজনীতি নিয়ে প্যাঁচ মারতে কে বলছে তোমাকে? ” আমি বললাম, “ কেন বস, আমার কথা ঠিক আছে না? এখন সবাই ত সরকারের বিপক্ষে কথা বলতেই পছন্দ করে।আমার চাকরী নিয়ে টেনশানে আছেন দেখে ভাল লাগল বস। ” বস এবার খাওয়ার ফাঁকেই হিস হিস করে ফুঁসে উঠলেন, “ গর্দভ, এইটুকু কমনসেন্স নাই যে, এত উঁচু পদে সরকারী দলের উঁচু লোক না হলে আসা সম্ভব না ?!! আর তোমার চাকরী নিয়ে আমার টেনশান হবে কেন? আমি ভাবছিলাম, উনি এটা না ভেবে বসেন যে, আমি বেছে বেছে বিরোধী পক্ষকে রিক্রুট করেছি। আর, তুমি এমনিতেই মানসিক রোগী। সেটা বুঝলে আমি পুরা শেষ। ভাবতে পারেন, আমিও বিরোধী দলের লোক। তাই মানসিক রোগী হলেও বিরোধী পক্ষের লোককে রিক্রুট করেছি।”


খাবার মনে হছে যেন গলায় আটকে গেল। উলটাপালটা শুটকীর অজুহাত নিয়ে টেনশনে ছিলাম। এখন বসের কথা শুনে মাথা আরও আউলিয়ে গেল। খাবার খেতে যেয়ে বিষম খেলাম।


এরপরে যতক্ষণ ছিলাম সাবধানে কথা বলেছি। পলিমারের কাপড়ের সব গুলো প্যাকেজের হিসাব উনাদের বুঝিয়ে দিলাম। সবগুলো রিসিট দিলাম। বসের বসকে খুশি করার জন্য, টেক্সটাইল খাতে সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলাম। পলিমারের চেয়ে আরও উন্নত টট্রোমারের ভবিষ্যত সম্ভাবনা তুলে ধরলাম। পোষাক তৈরির কারখানায় আরও নজরদারী বৃদ্ধির কথা তুললাম। সব মিলিয়ে মনে হল, বস আর তার বস মোটামুটি সন্তুষ্ট।

যাক আমার কাজ শেষ। আবার সেই গ্রহ বলয়ে ফিরে যাওয়া। ২ দিন ছিলাম এখানে। সব ঠিক ঠাক। বসেরও আর কোন অভিযোগ নেই।


ফ্লাইং রাইডারে উঠার সময় বসের বস হঠাত ডেকে বললেন, “ মেসক্রট, এত কীসের কষ্ট তোমার? মেয়েটা কে ছিল? তুমি অত্যন্ত যোগ্য একজন ইঞ্জিনিয়ার। কেন এভাবে নিজের প্রতিভা নষ্ট করছ ? ”



হঠাৎ মাথাটা ঘুড়ে উঠল কেমন যেন। শরীরটা দুর্বল লাগছিল খুব। মনে হচ্ছিল যেন হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে যাব। বুঝতেছিলাম, আমাকে নিয়ে টানা হেঁচড়া হচ্ছে খুব। একবার মনে হল, মাথায় কেউ পানি ঢালছে। শুনলাম কী নিয়ে যেন বস আপত্তি করছেন। আবার মনে হল, আমি আমার গ্রহের বলয়ে ফিরে এসেছি।


প্রায় ২ দিন পরে আমার চেতনা ফিরে আসে। আমি আমার গ্রহ বলয়ে। এখানে নাকি মেডিকেল রোবটের সাহায্য পাবার জন্য আমাকে আনা হয়েছিল। কেউ কল্পনাও করতে পারে নি, মেডিকেল রোবটের কপোট্রন আমি উড়িয়ে দিয়েছি। তবে এটা নিয়ে কেউ কথা তোলেনি আর।


তারও একদিন পরে গ্রহ বলয়ের ছোট্ট ড্রয়িং রুমে ব্লাক কফি আর মুড়ি পিঁয়াজু হাতে নিয়ে বস আর তার বসকে আমার কাহিনী শুনাতে বসি।



চলবে………………………..(না চলে উপায় নেই মনে হচ্ছে)।


© আকাশ_পাগলা

পরের পর্বের জন্য Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৩
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×