
মানুষের মন নিয়ে গবেষণা এই পর্বেই শেষ। সামনের পর্ব হবে ফাইনাল পার্ট । যেখানে এই পর্যন্ত যা যা জানলাম, সেটা কীভাবে খাটাবো তার ব্যখ্যা থাকবে। এই পর্বটা মানুষের রিলেশন নিয়ে।
পর্ব – ৭
চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে ভারতীয় একটা টিভি চ্যানেলে দেখলাম মহিলাদের একটা প্রতিযোগীতা হচ্ছে। তাদের মাঝে সেরা টিনএজ খুঁজছে। ত সেইদিন দুইটা অংশ ছিল। ফ্যাশন পার্ট আর ম্যানার্স। ফ্যাশন পার্টে মেয়েগুলা ত হেব্বি মাঞ্জা মাইরা কিছুক্ষণ হাটাহাটি করল। দেখতে ভালই লাগল। ত, কিছুক্ষণ পরে শুরু হল ম্যানার্স পার্ট। সেখানে তাদের ভদ্রতা বিষয়ক বিভিন্ন জিনিস দেখা হল, জিজ্ঞাসাও করা হল। সেরা তিনজনকে নিয়ে লাঞ্চ করানো হল, সেখানে মেন্যু স্পেগোটি(আমি বলি নুডলস)। ত দেখা যাচ্ছে, এরা খেতে পারতেছেনা চামচ দিয়ে। একেকজন একেকভাবে আওয়াজ করতেছে।
একজনকে জিজ্ঞাসা করা হল, কেউ যদি আপনার কাছে লবণ চায় আপনি কী করবেন ? একজন বলল এইটা এগিয়ে দিব। আরেকজন বলল চুপচাপ খেতে থাকব(!!)। আরেকজন বলল, সে ত জানেনা যে কোনটা লবণ কোনটা চিনি তাই সে নিজের প্লেটের উপর প্রথমে টেস্ট করে এরপর এগিয়ে দিবে(!)। আমি শুনে হতভম্ব। যাই হোক, এই শেষের মেয়েটার বেলায় জানা গেল, আগে সে কখনও নুডলস খায় নাই। আর, বাসাতে সবাইকে সে হাত দিয়েই লবণ এগিয়ে দেয়। কারণ বাসায় ত একটা “ডিব্বাতে” লবণ থাকে। তার বাসা দেখানো হল। একদম সিম্পল। তার মা বোন বাপ একদম সিম্পল।
সন্ধ্যায় আবার এই পর্বটা আমি রিপিট দেখলাম। শুধু এটা দেখতে যে, এই মেয়েটা প্রথম ফ্যাশন পার্টে কী পড়ে এসেছিল। ওখানে যারা ছিল তাদের মাঝে সবচেয়ে অশ্লীল পোশাকটা ছিল তার। বিকিনির চাইতে ১ ইঞ্চি বড় জামাকাপড়।
এখন একেবারেই একটা সাধারণ ফ্যামিলি থেকে বড় হয়ে, এই মেয়ে এই ধরণে পোশাক আশাক পড়ার সাহস পায় কী করে? এইটার উত্তর একেবারে সিম্পল।
প্রথমে আমি আগের পর্ব সম্পর্কে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে নিতে চাই। আগের পর্বে উদাহরণ দিয়েছি আমি একটা ক্লাস নাইনে পড়া অর্থাৎ কিশোরী মেয়েকে দিয়ে। যে বড় হয়ে গেছে, নাকি এখনও ছোটই আছে, সেটা তার পরিবেশ ঠিক করে দিতে পারছে না। এই পোস্টের কথা মাস্টার্সের মেয়ের বেলাতে নিশ্চয়ই খাটবে না।
আরেকটা ব্যাপার, আমি গত পর্বে বলেছি যে, যেসব মেয়ে ভাল তারা এমন ড্রেস আপ কেন “ শুরু ” করে, আমি বলি নি যারা এমন ড্রেস আপ করে তারা সবাই ভাল। আর সবই মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ক্ষেত্রে। উচ্চবিত্ত মেয়ের টি-শার্টের ব্যখ্যা তার পরিবেশ। কিন্তু মধ্যবিত্ত মেয়ের আকস্মিক এই যুগে বুকে ওড়না থেকে গলায় উঠে যাওয়া বা না দেওয়ার পিছে এই মনস্তত্ব।
ধরা যাক, মেয়ে গুলা এই বয়স পার হয়ে আসল। যেহেতু ছোট থেকেই তারা এই পোশাকে অভ্যস্ত, সুতরাং পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত বয়সেও এটা তাদের কাছে কোন ব্যাপারই না। সবচেয়ে বড় কথা, এটা তার কাছে সৌন্দর্যেরই বহিঃপ্রকাশ। আরও ভালভাবে বলতে গেলে, তার ধারণা, এভাবে থাকলে দেখতে ত ভালই লাগছে সমস্যাটা কী? মোট কথা, এই ক্ষেত্রে যেটা যেভাবে পড়েছি, “কেমন লাগছে”, সেভাবেই চিন্তা করে। কীভাবে “পড়া উচিত” সেভাবে চিন্তা করে না। (বান্ধবীর দেখাদেখি এমন করাটাও একটা ফ্যাক্ট। কিন্তু এমন অনেক গ্রুপ দেখেছি আমি যাদের তিনজনের ওড়না নেই আর দুইজন ভদ্র।)
এই টাইপের চিন্তার ব্যাপারটা শুধু ব্যখ্যায় বুঝানো যাবে না। উদাহরণ দেখালেই এই মানসিকতাটা বুঝাটা পানির মত।
এতক্ষণে যারা বুদ্ধিমান তাদের মাথাতে নিশ্চয়ই একটা প্রশ্ন এসেছে, যে একই মনস্তত্ত্ব কী ছেলেদের উপর কাজ করে না? করলে কীভাবে? সেটাই আসলে উদাহরণ। রাস্তায় আসা যাওয়ার পথে মাঝে মাঝে দেখবেন কিছু বাসা থেকে প্রচণ্ড জোরে হিমেশ রেশামিয়ার হিন্দী গানের আওয়াজ আসছে। জানালা খুলে রাখা, স্পীকার জানালার কাছে রাখা। মানুষকে শুনানোর জন্য। রাস্তাঘাটের মানুষ বিরক্ত হচ্ছে খুব। কেউ কেউ গালিও দিচ্ছে। এখানে ওই ছেলের মানসিকতা আর সেই মেয়ের মানসিকতা এক। ছেলেটার উদ্দেশ্য কাউকে বিরক্ত করা না, উদ্দেশ্য সবাইকে গানটা শুনানো,যেটা তার ধারণা খুবই সুন্দর। আর, যে যে তাকে গালি দিচ্ছে, ছেলেটার কাছে সে সে ক্ষ্যাত। তাদের সে গুরুত্বই দিচ্ছে না।ছেলেটা যা করছে, তা হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ(আসলে রুচির প্রকাশ)। মেয়েটাও একদম সেইম। কারও প্রকাশ গানে কারও পোশাকে।(ব্লগের কিছু পোস্টে দেখেছি আমি, সুশীলরা ছেলেটাকে গালি দেয়, আর মেয়েটার পক্ষ নেয়, বলে যে সৌন্দর্যের প্রকাশ।ছেলেটার কাছে গানটাও সুন্দর, আর রাস্তার কিছু কিছু লোকের কাছেও। ছেল্টাকে কী সাপোর্ট করা যায়? এইটা কমনসেন্স যে ওরা মেয়েটাকে কেন সাপোর্ট করে!)
আপনি কখনই পোশাক দিয়ে বিচার করবেন না। আজকে নায়িকা ময়ুরী বোরকা পড়লেই ভাল হয়ে যাবে না। আমরা মাথায় রাখব তার মেন্টালিটি। খারাপ হওয়া সহজ, ভাল হওয়াটা কঠিন।কারণ খারাপ হতে হয়, আর যারা ভাল তারা এমনিই ভাল।
মেন্টালিটির মিল হল সবচেয়ে বড় মিল। একেবারে উপরে যেই মেয়েটার উদাহরণ টেনেছি, সেই মেয়েটা এই কনটেস্টে আসার আগে হয়ত নিজেও ভাবেনি যে সে এই পোশাক পড়বে। অমিতাভ রেজার সাথে বাংলাদেশের একগাদা মেয়ের কিছু ছবি দিয়েছিল নাফিস ভাই। সাহদারণ মেয়েগুলা সেন্ডোগেঞ্জি টাইপ ড্রেস পড়া। একগাদা মেয়ে। এরা সবাই নিশ্চয়ই বখে যাওয়া ছিল না, বা এসব পড়ার প্ল্যান করে নাই। তাহলে এখানে কোন মানসিকতা কাজ করছে?
এইটার নাম লোভ। এই একটা জিনিস মানুষকে সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তন করে দিতে পারে। ক্ষ্যাতির লোভ, টাকার লোভ। লোভ সবার থাকবেই। মাস্ট। কিন্তু সেটার জন্য আমরা কী কী করব, সেটা ঠিক করে আমাদের চরিত্র। এই মেয়েগুলা এমন করছে লোভে। এখন আপনি বলতে পারেন যে, এরা সংখ্যায় গুটি কয়েক। তাহলে এটা নিয়ে আলোচনার মানে কী? ব্যাপার হচ্ছে, গুটি কয়েককে আমরা দেখি। একদম উপরের ভারতীয় মেয়েটার মত এমন অনেক অনেক মেয়ে আছে, যারা এখনও তেমন সুযোগ পায় নি। পেলে তখন নিজেই তখন তার মত ডিসিশান নেবে। সেটা হয়ত সে এখন নিজেও জানে না। কিন্তু তখন এটা করবেই।
এক বয়ফ্রেন্ডকে ছেড়ে আরেক জন বা আরেকজনকে ছেড়ে অন্যজন, এমন মেয়ে এখন এভেইলেবল। বাসে করে আসার সময়, সামনের সিটের একটা মেয়েকে শুনি ফোনে বলছে, শারমিনের বয়ফ্রেন্ড ওকে যেই ড্রেস দিয়েছে, তুমি আমাকে তার চেয়ে ভাল দিবা। আরেকদিন শুনি আরেক মেয়ে বলতেছে, রাজীব আমাকে মাছাকালি দিল, তাও ওকে পাত্তা দেই না, আর তুমি ত আমার বয়ফ্রেন্ড, তুমি আমাকে ওর চেয়েও ভালটা দিবা। আমি কিন্তু মিলিয়ে দেখব।
এইখানে মেয়েটার মাঝে কী কাজ করে? লোভ। রিলেশন থাকা সত্যেও আরেকটা অনাত্মীয় ছেলের কাছ থেকে যে গিফট নিতে পারে, সেই মেয়েকে সেই কনটেস্টে দাড়া করিয়ে দেন, এরপর দেখবেন কী রেজাল্ট টা আসে।
অনেক ছেলেকে দেখি টেনশনে ভুগতেছে যে গার্লফ্রেন্ড অমুকটা চাইছে, সেটা দেয়ার টাকা নাই। এখন কী করবে! কথা হল, সত্যিকারের প্রেমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই মেয়েটার বুঝা উচিত যে, যার সাথে প্রেম করি তার ক্ষমতা কতটুকু। সেও হয়ত ছাত্র বা সীমীত আয় করে। মেয়েটাকে চিন্তা করতে হবে যে, তার বাবা তাকে কতটুকু দেয়। তাহলে ছেলেটার বাবা তাকে কী দিতে পারে। মেয়েটার বাবা তার চাহিদা পূরণ করলে মেয়েটা ছেলেটার কাছে চাইত না। কিন্তু, তার মাথায় আসে না যে, ছেলেটার বাবা বা বস ছেলেটাকে কতটুকু টাকা দেবে।
যার সাথে আপনার রিলেশন থাকবে, তাকে কিছু দিতে নিজেরই ভাল লাগে। কিন্তু সমস্যাটা হল তখন , যখন সে কিছু চাবে। কথা হচ্ছে, আপনার সাথে রিলেশন, চাইতেই পারে। আসলেই কী তাই? আপনার বোন আপনার কাছে “ আবদার ” করতেই পারে, কারণ সে আপনার বোন(বোনের বেলায় অন্য কোন হিসাব নাই, কমনসেন্স)। কিন্তু যার সাথে প্রেম থাকবে, তাকে বুঝতে হবে আপনার ক্ষমতা কতটুকু।
সত্যিকার অর্থে বেশিরভাগ ছেলেরই মেরুদণ্ড নাই। এক কথায় ব্যক্তিত্বহীন। এরা বুঝে কম। এটার প্রমাণ হয়ে যায়, রিলেশনের একবারে শুরুতে আর আর শেষ হয় একেবারে শেষে। ব্যাখ্যা করি, আপনি একটা মেয়েকে ৩ মাস ধরে কোচিং এ ঢুকতে দেখেন। মেয়েটাকে ভেবে ভেবে, স্বপ্নে দেখে আপনি তার প্রেমে পড়লেন। মেয়েটাকে আপনি প্রপোজ করলেন, আই লাভ ইউ। মেয়েটা কিছুক্ষণ ভেবে রাজী হল, ওক্কেই, আই লাভ ইউ টু। এখন কথা হল, আপনি ত ৩ মাস ধরে ভেবে লাভে পড়লেন। এই মেয়েটা কী এই কিছুক্ষণ বা একদিন ভেবেই লাভে পড়ে উত্তর দিল, ওক্কেই মি টু !?? তাহলে সে লাভ বুঝেই না। কিন্তু এটা বেশিরভাগ ছেলের মাথায় আসবে না। সে তখন খুশি খুব। হতে পারে, একসাথে থেকে থেকে কিছু মাস পড়ে এদের মাঝে সত্যি সত্যি গাঢ় প্রেম হয়ে গেল(যদি ততদিন টিকে আর কী!)। কিন্তু ছেলেটা প্রথমেই বোকামীর পরিচয় দিয়েছে সেটা বুঝতে হবে। কারণ তার মাথায় প্রশ্নটা আসে নাই। সামনে সে হাজারটা ধরা খেতে পারে।
একেবারে শেষে কোন মেয়ে যদি ডাম্প করে, তাহলে সে আরও বেটার ওয়ানের কাছে যায়। আর “এই ধরণের মেয়েদের” মনোভাব থাকেই এমন যে, যে পুরা সাম্রাজ্য জয় করে আনতে পারবে, আমি তার কাছে যাব। বা এই টাইপ মানসিকতা। আর, এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ছেলেটাই। কারণ, তোষামোদী। এমন কি বাংলা সিনেমাতেও যদি দেখেন আপনি, দেখবেন বেশিরিভাগ ক্ষেত্রে মেয়ের জন্য ভিলেন হাজির। অর্থাৎ মেয়ের জন্য আরেকটা অপশন আছে। ভাল হোক আর খারাপ হোক। বাস্তবে কেউ ভিলেন না। সবাই নিজের কাছে নায়ক। কিন্তু ছেলেটা এখনে খালি। ছেলেটার জন্যে কেউ থাকলেও মেয়েটার জন্য থাকবেই। মাস্ট।
ছেলেটাও এটা ঠিকই বোঝে। মেয়েটা চলে গেলে, সে ছেলে পাবে। কিন্তু ছেলেটা হয়ত আর কাউকে নাও পেতে পারে। তাই ছেলেটা সবসময়েই কম্প্রোমাইজিং মনোভাব নিয়ে ঘোরে। এই ব্যাক্তিত্বহীনতার পরিচয়। সেই মেয়েটা যখন অমুকের থেকে গিফট নেবে, আর তার চেয়ে ভাল গিফট দিতে বলবে, ছেলেটা মনে করবে, একটু আধটু ত মেয়েরা এমন করেই।
আর, এখানে সমস্যাটা হচ্ছে যেমনটা আমি দ্বিতীয় পর্বে বলেছি, ছেলেরা নিজেকেই নিজে বেশি বুঝায়। এটা মেয়েদের বেলাতেও খাটে, তবে ছেলেদের বেলায় বেশি। মেয়েটা যাই বলুক, ছেলে অন্ধ। নিজেকেই সেই কথার পক্ষে একগাদা যুক্তি দিবে। এইটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যখন মেয়েটা স্বীকার করে যে, তার আগে একটা রিলেশন ছিল। এরপরে বলে, এখন আর নাই। ছেলেটা সাথে সাথে নিজেকে বুঝায় যে, আগের বয়ফ্রেন্ডের সাথে সেই মেয়ের নিশ্চয়ই কিছু হয় নি। মেয়েটা যদি বলে অল্প কিছু হয়েছিল, তখন ছেলেটা নিজেকে বুঝায়, এটুকু ত হবেই।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা আসল পরিস্থিতি বোঝে না। ছেলেদের উদ্দেশ্য বুঝতে দেরী করে ফেলে। কম বয়সী সব মেয়ের মাঝেই একটা কিউটনেস থাকে, মেয়েটা যেমনই হোক, তার পিছে অথবা সে প্রশ্রয় দিলে বেশ কিছু ছেলে আসবেই। এটা মাস্ট। পিছের এই লাইনের ছেলেদেরকে সে একই চোখে দেখে, এটা তার পরবর্তী জীবনে বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়।
উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, একটা মেয়ে দেখেছে যে তার পিছে এত ছেলে ঘুরে, কিন্তু একটা ছেলে সেই জায়গায় অসহায়। এখানে মেয়েটার দাম বাড়বেই। কিন্তু এতে ভুলটা কী? হিসাবটা হল, আমাদের দেশে এমনই এক দেশে পুলিশ থানায় পাঁচ বছরের একটা মেয়েকেও রেইপ করা হয়েছে, লাশ পানির টাংকির ভিতর রাখা হয়েছিল। এখন, আমরা নিশ্চয়ই বলতে পারি না যে, পুলিশগুলা মেয়েটার পিছে ঘুরতেছিল ! একই ভাবে, একটা মেয়ের পিছে যতটা ছেলে আসে, তারা সবাই আসলে ঐ মেয়েটার পিছে ইনডিভিজুয়ালি ঘোরে না, এসব ছেলে যে কোন একটা মেয়েকে খুঁজে। আর, যে কারও পিছে লাইনে দাঁড়িয়ে ভীড় বাড়ায়। মেয়েরা ব্যাপারটা বোঝে না, মনে করে ছেলেগুলা শুধু তার জন্যেই উদগ্রীব।
একই কথা এই ছেলেগুলার বেলাতেও কাজ করে। এরা যেকোন একটা মেয়েকে পার্টনার হিসেবে পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। ফলে মেয়ে যেমনই হোক, নিজেকে বুঝায় যে, এটাই ঠিক। নিজের বুদ্ধি সে খুব কম খাটায়। বেশিরভাগ ছেলেই আসলে এই ভয়ে থাকে যে, সামনে আর কাউকে পাবে না। এখন কাউকে পাইলেই হল।
একইভাবে, একটা ছেলে যখন বার বার গার্লফ্রেন্ড পরিবর্তন করে, তার পিছনের মনস্বত্ত্ব একেবারেই সহজ। এক, আকর্ষণ শেষ। দুই, সে হঠাৎ একটা পর্যায়ে এসে দায়িত্ব নিয়ে ভয় পাচ্ছে। খুব কম সংখ্যক ছেলেই এই মানসিকতায় ডিসিশনে আসতে পারে যে, মেয়েটার একেবারেই তার ক্যাটাগরির না। ছেলেটা সিগারেট খায় না, সেখানে মেয়েটা মনে করে, ছেলেরা একটু ড্রিংক্স না করলে কেমন হল (পর্ব ৫, এটা মেয়েটা আদর্শ পুরুষ হিসেবে কাকে নিচ্ছে তার উপর নির্ভরশীল)! জাস্ট উদাহরণ দিলাম।
প্রেম সম্পর্কটা পুরোপুরিই বায়োলজিকাল হয়ত না। তাহলে মানুষ এর জন্য সুইসাইড করতে পারত না। প্রেমের ফিলিং হচ্ছে, এমন একজন থাকবে যাকে ফিল করলে হার্টবিট বেড়ে যায়(মানে মানুষ উত্তেজিত হয়ে যায়, আগে মানসিক ভাবে পরে শারীরিক ভাবে)। যার প্রতি আলাদা আকর্ষণ থাকে। সত্যি কথা বলতে এই আকর্ষণ খুব বেশি থাকে না। একটা গানের মত, যা প্রতিদিন মানুষ শুনতে চাবে না। এরপরও ২০ বছর ধরেও মানুষ একে অপরকে ভালবাসে। সেটা কেন ? কারণটা শুধু আকর্ষণ না, কারণটা হল “মায়া”। একজন আরেকজনের প্রতি একটা মায়া ফিল করে, ঠিক যেটার কারণে কারও অনুপস্থিতিতে আরেকজন বিশ্বস্ততা বজায় রাখে। এই মায়াটা তৈরির দায়িত্ব কারও একার না, দুজনেরই। আর, প্রেমের মাঝে একটা সময় সৌন্দর্য তার গুরুত্ব হারায়, এই মায়াটাই তখন সব।
যে প্রেমে পড়ে নাই, তাকে বুঝানোটা কঠিন যে কেন এই সম্পর্কটার ক্ষেত্রে অন্য সম্পর্কের কথা মনে থাকে না। প্রেমিক আর বন্ধু কে আগে কে পড়ে,এসব বোকার মত প্রশ্ন। সব বন্ধু কিন্তু এক রকম ক্লোজ না। আবার, সব প্রেমিকও এক রকম না। প্রেমিক ক হলে, আর বন্ধু খ, গ, ঘ হলে প্রত্যেকবার আলাদা হিসাব করতে হবে যে, কার প্রায়োরিটি বেশি। ক নাকি খ, খ নাকি গ, ক নাকি ঘ।
তবে, সত্যিই একটা মানুষের উপর আরেকটা মানুষের টান পড়ে গেলে, মায়া জন্মে গেলে, সেটার সাথে আর কিছুরই তুলনা চলে না। ধরেন, আপনার জন্মদাতা মা-বাবা কে আপনি দেখেন নি, আপনি আরেকজনের কাছে ৩০ বছর বড় হলেন। আজকে জানলেন যে, তারা আসল বাবা মা না। আপনি কী উনাদের ছেড়ে যাবেন সাথে সাথে? নিশ্চয়ই না। এটাই মায়ার সম্পর্ক।
একটা কথা আছে যে, মেয়েরা ছ্যাকা খেলে যাকা পায় বিয়ে করে ফেলে, ছেলেরা ছ্যাকা খেলে আর বিয়েই করে না। আমি জানি না কতটুকু সত্যি। তবে, এর যতটুকু সত্যি তার কারণ ছেলেরাই, এরাই অকারণে সবার পিছনে লাইন দিয়ে ভীড় বাড়ায়। দুই ধরণের ছেলে বা মেয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে পারে। এক, যাদের সাথে অন্যদের ইন্টার্যা কশন খুব ভাল। এরা একাকীত্ব ফিল করে না। দুই, যারা একাকীত্ব মেনে নিতে পারে। একাকীত্বে কষ্ট হয় না।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, মানুষ তার মনের মত পার্টনার খুবই কম পায়। তাই যে যেই পার্টনার পেয়েছেন, তাকেই মনের মত করে নেয়া উত্তম।(আপনি সবই পারবেন, শুধু লোভ যাদের আছে, তাদের পরিবর্তন করতে পারবেন না, জীবন একটাই। এটা নষ্ট করার দরকার নাই। লোভীর সঙ্গ ছাড়াই উত্তম।)
এই পর্বের কোন কথা আপনার বা আপনার প্রিয়জনের বিপক্ষে গেলে কিছু করার নেই। সবাই ফেরেশতা না। ভুল হতেই পারে। শুধরাতে চেষ্টা করেন। পারলে, অন্যকেও শুধরে দিন। সেটার জন্য থাকতে হবে, সহজ একটা সম্পর্ক, যেন সব কিছু শেয়ার করতে পারেন।
মানুষের মন নিয়ে বুঝতে পারা নিয়ে কথাবার্তা মোটামুটি এখানেই শেষ। সামনের পর্ব হচ্ছে, এই সমস্ত পর্ব থেকে পাওয়া উপলব্ধি কীভাবে খাটালে আপনি অন্যদের কন্ট্রোল করতে পারবেন তার উপর। অর্থাৎ, পর্ব ৮ হচ্ছে সম্পভবত এই বিশাল সিরিজের শেষ পর্ব।
© আকাশ_পাগলা
অন্যান্য পর্বের জন্য Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


