আমার যতদূর খেয়াল আছে, ঘটনা ২০০৭ এর নভেম্বর।
সে সময় এক মেয়ের সাথে আমার হালকা চ্যাট হইত। কিন্তু, ঘটনা হালকা ছিল বলে আসল পরিচয় দেই নাই, বলছিলাম যে থাকি ফিনল্যান্ড। হঠাৎ করে সে দেখি বাজ দেয়। আমি কই ঘটনা কীতা !!
আজীবন খবর নাই, এখন টানা ৪ দিন চ্যাট করল। আমি কই ঘটনা কীতা !!
আচমকা সে আমাকে তুমি করে বলার অনুমতি চায়

। আমি কই ওক্কে !! মনে মনে কই, ঘটনা কীতা !!
পরে আর কী, ৫ দিনের মাথায় শুনলাম আমার জন্য নাকি তার ভালবাসা নদীর কিনারা ছাপায়া বন্যার রূপ নিছে। আমি পুরা টাশকি।



কইলাম যে, আমি ত সারাজীবনে আর দেশে আসুম না। সে কয়, কুন সমস্যা নাইক্কা। আমি ভাবি, ঘটনা কীতা !!
যাউক, সে তার ছবি দিল। পুরাই সেইরকম। মানে, মারাত্মক চেহারা।

এহেম, এহেম। অতক্ষণে আমি নরম হইলাম। আমিও আমার ছবি দিলাম। নিকুঞ্জ ২ এ এক মন্ত্রীর বাড়ির পাশে আমার একটা ছবি ছিল, সেইটারে বিদেশী জিনিস নামে চালায়া দিলাম।

ছবিটা দূর থেকে তুলা যেন পুরা বিল্ডিংটা ধরা পড়ে। আনসার ক্যাম্পে ফোয়ারার পাশে আমার একটা ছবি ছিল, সেইটারেও বিদেশী জিনিস নামে চালায়া দিলাম

। এই ছবিটা একটু আগের। ত, আমি তারে কই আমার ভাবার জন্য টাইম লাগব। সে আমারে কয়, আমি তাকে হ্যা বোধক উত্তর দিলে কিছু একটা করে স্বীকৃতি দেয়া লাগবে। আমি ডরাইলাম, ঘটনা কীতা!!

আমি জিগাইলাম সেইটা কী? সে কয়, আমারে এক পোড়া সেট এন ৮১ পাঠানো লাগবে। আমি বললাম, দেখ আমার আর্থিক অবস্থা বেশি ভাল না। সে বলল না, এটা তার আবদার। আমার উপর তার একটা অধিকার আছে না!!


পরে যা হওয়ার তাই হল, আমি কইয়া দিলাম যে আমি দেশে আমার এক কাজিনেরর কাছে সেট আর চিঠি পাঠাইতেছি। তুমি দেখা কইরা নিয়া নাও। কাজিনরে সমাদর কইরো। সে আমারে ফুন নম্বর দিল। যা হওয়ার তাই হইল, একসপ্তাহ পরে আমি চুল কাইটা দাড়ি রাইখা আমিই আমার কাজিন সাইজা বসলাম

। এই একসপ্তাহ তার সাথে আমার অনেক সুন্দর সুন্দর কথা হইল। আমি অনেক তেল টেল পাইলাম।

আহা, কত মজা !! তার সাথে একটু এহেম এহেম কথাও হইল


। এর পরে, সপ্তাহ শেষে কাজিন শেষে তার সাথে ফুনাইয়া কথা বললাম, লালবাগের কেল্লাতে দেখা করব ঠিক করলাম। শুনি এই মেয়ে বুরখা পড়ে আসবে

!! ব্যাপার না, আমি বললাম আমিও পাঞ্জাবী পরে আসব। তার সাথে দেখা হল। অনেক মিষ্টি করে কথা বলল। আমি আমার এক দোস্তকে নিয়ে গেছিলাম। আমাদের ফাস্ট ফুড খাওয়াল। আমরা ত ভাবী ভাবী ডেকে পুরা খাতির

। আপনি করে বলতেছিলাম তাকে। সে দেখি একটটু আনইজি ফিল করে। বোরখা খুলে আমাদের চেহারা দেখালো। মানে, সেই রকম।

। ইডেনে পড়ে। বলল, আমিও ত কাছেরই। আমি চাইলে তুমি করেও ডাকতে পারি। আর ভাবী ডাকা লাগবে না, নাম ডাকলেও হবে। মানে, পুরা সেইরকম খাতির হল। আমিও আমার কাজিন (মানে কী না আমিই

) সম্পর্কে অনেক কথা বললাম। আমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করল, সব কথা মিলল বলে সে সন্দেহমুক্ত হল যে, চ্যাট থেকে সে সব সত্য কথাই জানছে।
আমি তার হাতে বাক্স ধরাইলাম

। সে আমাদেরকে ফাস্ট ফুড খাওয়াইল

। আমার দোস্তের সাথেও তার অনেক কথা হল সে সময়। বললাম বাক্সের ভিতর সেট। সেই এন ৮১। বের হইছে মাত্র ২ মাস আগে। সে সাথে সাথে খুলতে চাইল। আমি ভাবলাম মেয়ে এত ব্যস্ত কেন !! আমি তাড়াতাড়ি বললাম যে, ভাইয়া(মানে আমি

) ত একটা চিঠিও পাঠাইছে। ত, মেয়ের আর তর সয় না। আমাকে বলল তুমি বের কর, আমি খুলি। আমি বললাম আগে চিঠি পড়ে নাও।
চিঠিতে লিখছিলাম, ওগো

, শুধু তোমার জ্জন্যেই আমি দেশে আসব। কয়েক মাসের মাঝেই কিছু একটা ব্যবস্থা করে ফেলব। বাক্সে তোমার জন্য সেট পাঠালাম আমার ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে। আরও একটা বিশেষ কিছু পাঠালাম, সবার সামনে তুমি বাক্স খুলনা কিন্তু, তুমি হয়ত লজ্জা পেয়ে যাবে


। আর, বাক্সের ভেতরেও আরেকটা চিঠি আছে। খেয়াল করে পইড়ো। আর আমার কাজিন এসব নিয়ে আসবে, ওকে সমাদর কইরো। ও আমার খুবই আপন, আমি আর ও একই ধরে নিয়ো।
ত সেই মেয়ে তাড়াতাড়ি রওনা দিল। আমাদেরকে টাটা দিল। আমরাও এসে পড়লাম।
যাই হোক, এই ঘটনা ৩ দিন আগে আমার সব বন্ধুদের বলছি। তখন কোচিং ছিল। সেখানে বলছিলাম। সবাই সে মেয়ের সেট লোভের জন্য একটা করে গালি দিয়ে সিগনেচার দিছিল। এই ভাবে দুই কোচিং এর দুই ব্যাচ। বাক্সের ভিতর এটাই ছিল সেই চিঠি। আর, সেটের বাক্সর ভিতর দিছিলাম আমার দুইটা রেজার আর ভাঙ্গা ক্যালকুলেটর।




ডাচম্যানের পোস্ট পড়ে পুরান ঘটনা মনে হইল।
Click This Link আরও কি কি যেন মজা হইছিল, ভুলে গেছি।
© আকাশ_পাগলা
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৭