somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃখবোধ জাগ্রত হয় এমন ক্যাপসুল দরকার, খুব দরকার, অনেক জরুরী...

০৭ ই মে, ২০১১ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাসেলের ফোনের ওয়ালপেপারে একটা মজার ছবি! একটা ক্যাপসুল, তাতে অনেকগুলো ভালবাসার দানা দেয়া আছে। এমন যদি হত- যাদের ভালবাসার বোধ কমে গেছে, তারা নিয়ম করে এইসব ভালবাসার ক্যাপসুল খেয়ে পুনরায় ভালবাসার বোধ অর্জন করতে পারতেন। আহা, কতই না ভালো হত!

ভালবাসা, লজ্জা, ঘৃণা, ভয় ইত্যাদি মানবিক বোধগুলো দিন দিন যেমন কমতে শুরু করেছে তাতে অচিরেই এসমস্ত গবেষণা জরুরী হয়ে পড়ছে। ল্যাবরেটরিতে অন্যান্য ওষুধের মতো মানুষের মানবিক বোধ জাগ্রত করার ওষুধ তৈরি করা দরকার। এখনকার সমাজে মানবিক বোধ হ্রাসের মতো যে ভয়াবহ সামাজিক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তা কোনমতেই তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। এই সংকট মোকাবেলায় অতিসত্বর ব্যাবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে তা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যা প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থার জন্য বিরাট রকম হুমকি স্বরূপ।

ডিজিটালের এই যুগে ভালবাসা-প্রেম-বিশ্বাস এসব তো অনেকটা হালকা হয়ে গেছে। একটু উদাহরণ দেই- কাদের মতিঝিলে বাসের মধ্যে বসে মোবাইলে অন্য প্রান্তে জানাচ্ছে- 'আরে মিয়া বিশ্বাস করেন না কেলা? আমি তো মাগার আপনের কামেই গুলসান আছি'। একটু পর বাসের পেছন থেকে যখন সেই 'অবিশ্বাসী' ভদ্রলোক এসে তার পিঠে হাত রাখে- 'ভাই এই জাগার নাম গুলসান অইলো কবে?' কাদেরের মুখটা যদি তখন দেখতেন! দেখার মতো একটা দৃশ্য! লিখে বোঝানো সম্ভব না।

মুনিয়া'র পুরো এক হালি ফেসবুক প্রোফাইল আছে, এমন না যে একটা আসল তিনটা নকল, সে চারটাই একই সাথে ব্যাবহার করে। সুতরাং আসল নকলের প্রশ্নই আসে না, সবই তার ব্যাক্তিগত প্রোফাইল। কেন তাকে তিনগুন বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে? উত্তর খুবই সরল- 'বারে, আমি কেন ওদের ডিপ্রাইভ করবো, ওরাই তো আমার ফেসবুক পাসওয়ার্ড চায়! আমি সবার জন্যই ফেসবুকে লিখে রাখছি- তুমি আমার প্রথম ও শেষ প্রেম, ওরা আমার ফেসবুক দেখে কি যে খুশি হয়, আপনি যদি জানতেন'। মুনিয়ার মতো এরকম অনেক মুনিয়া-মুনির আছে, এবং ভীতিকর বিষয় হচ্ছে- এদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।

একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যা হচ্ছে, দিনকে দিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। আমরা দেখতে দেখতে অভ্যাস করে ফেলেছি; এখন আর সংবাদমাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে খুনের কথা জেনে আর প্রতিক্রিয়া হয় না। অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের খবর শুনলে এখন আর কান সেটা আলাদাভাবে নেয় না। সম্প্রতি লিমনের ঘটনা আমরা সবাই জানি, তার প্রতি একটি সরকারী বাহিনী যেভাবে নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে তা আমাদেরকে হতবাক করেছে। একাত্তরে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতম বর্বরতা দেখানো হয়েছিল, লিমনের ঘটনা আমাদেরকে সেই বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। যে চঞ্চলপ্রাণ কিশোরের এখন পড়াশুনা শিখে- ভবিষ্যতে নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে কিছু দেয়ার কথা ছিল, সে এখন পঙ্গু, সাজানো মামলার আসামি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগকে অসংখ্য ধন্যবাদ, র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির কিশোর লিমনকে তাঁরা ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। ধন্যবাদ র‌্যাবের মহাপরিচালককে, যিনি গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন- 'আমরা তো আর লিমনকে ধরতে যাইনি। তার অপরাধ খুঁজতেও যাইনি। র‌্যাবর গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেন সন্ত্রাসী নয়। সে ঘটনার শিকার'। আমরা লিমনের পাশে থাকতে পারি, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলতে পারি, তবু লিমনকে সারা জীবন পঙ্গু থাকতে হবে! সমাজ বা রাষ্ট্র যখন কারো প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখায়, তখন বাস্তবতার তাকে দরদ দেখানোর সুযোগ নেই। নিষ্ঠুর বাস্তবতা হচ্ছে- তাকে নিজের কাছে, পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হবে। এই দায় আমাদের সবার, এই লজ্জা আমাদের সবার, এই সমাজের, এই রাষ্ট্রের। এমন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিকারে অবশ্যই স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত।

এই দুর্ঘটনার পর আজ অব্দি দেড় মাসেও সরকারের কোন মুখপাত্র; এমনকি দায়ী বাহিনীপ্রধানও বিষয়টি নিয়ে কোনরকম দুঃখবোধ করেননি! আমাকে মাফ করো লিমন, আমি দুঃখিত, লজ্জিত, ব্যার্থ; আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারিনি!

রাষ্ট্রযন্ত্র কি পাষাণেরা চালায়? তারা কি দুঃখবোধহীন? দুঃখবোধ জাগ্রত হয় এমন ক্যাপসুল দরকার, খুব দরকার, অনেক জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১১ বিকাল ৫:১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×