মুখোশ ও আমি এবং আমরা
১৮ ই জুন, ২০০৬ দুপুর ১:৫০
আমি খুবই সাধারন একজন মানুষ।সাধাসিধা। পড়াশুনা নাই। চাকুরি করি। সময় মতো অফিসে যাই। কাজ বেশি থাকলে নিজের ইচ্ছেতেই করি। কারো বলা লাগেনা। আবার নতুন কোন নিউজের আইডিয়া মাথায় এলে তখনই সেটা বসকে জানাই। যতো কঠিন অ্যাসাইনমেন্ট হোক , করি।আর লেখার মান? সেটাও নিছকই সাদাসিদা...
এমন পোশাকেও পড়িনা- যা দেখলে সবাই বলবে ছেলেটা আনস্মার্ট কিংবা বেয়াদপ। মদ -গাজাও এড়িয়ে চলি। মিথ্যে কথা কেন বলবো? ও পথ মাড়াইনা। কারো ধর্মীয় অনভুতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কথা কখনোই বলিনি। গুরুত্ব দেই সবার মতামতকে।
সুযোগ পেলে হলে গিয়ে ভাল বাংলা ছবি দেখি।খেলা দেখতে স্টেডিয়ামেও যাই। কিন্তু মারামারি দেখলে উলটো দৌড় দেই। এককথায় ঝামেলা এড়িয়ে চলি । কেউ দুঃখ দিলে বুকে চাপা দেই তা। দুঃখ আমারও আছে সবাইকে সেটা বলে কি লাভ? সুখ সবাইকে নিয়ে ভাগাভাগি করা যায়। কিন্তু সেতো একান্ত নিজেরই। আসলে যার গেছে, সে ই বুঝে! অন্য কেউ নয়।
কারো ক্ষতি করেছি বলে মনে পড়েনা।উপকার তো করেই যাচ্ছি।জীবনের প্রতিটি মিনিট, সেকেন্ড মহা মুল্যবান আমার কাছে। অন্যকে কষ্ট না দিয়ে উপভোগ করে যাচ্ছি নিরন্তর। এমন আরো ভাল দিক আছে আমার।
কি খুব ভাল মানুষ মনে হচ্ছে আমাকে ?
মনে করলে অন্যায় কিছু হবেনা। কিন্তু ভুল ভাঙ্গিয়ে দিচ্ছি। ওটা আমার মুখোশ। ভাল মানুষ সাজার চেস্টা। এ চেস্টার শেষ নেই। চলছে নিরন্তর...। নিজেকে ভাল দেখানোর কতো যে পরিকল্পনা।
একটা মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আমি। ভাল মানুষের মুখোশ!!!
মুখোশটা কি শুধু আমারই মুখে? নাকি সবারই আছে একটা ?
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:০৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
এখানে এটা নরমাল। বস থেকে শুরু করে সবাই মোটামুটি সামারে শর্টস পরেই আসে। টেকনিকেল কাজে তো আর এতো ঝামেলা নেই। শুধু প্রেজেনটেশন অথবা পার্টি থাকলে একটু ভাল ড্রেস। প্রফেসর ও ক্লাসে শর্টস পরেই আসে।
আপন তারিক বলেছেন:
ও আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আপনি জার্মানিতে।
পারমিতা বলেছেন:
ওহ জামর্ানি ! আমরা আগামী মাসে যেতে পারি । আমার খালা থাকেন ।
পারমিতা বলেছেন:
সিল আবার কি ভাইয়া ? মারবেন নাকি উনাকে? আমার খালা বনে থাকে। আপনে কোথায় থাকেন ?
অতিথি বলেছেন:
চলে আসেন পারমিতা। ফ্রুলিংক্স কে একটা সিল দেয়া যাবেখন।
অতিথি বলেছেন:
আমরা কেবল একটা মুখোশ পড়িনা। অগণিত অসংখ্য মুখোশ পড়ি ছেড়ে দেই আবার পুরোনো একটা পড়ি হয়ত নতুন একটা তৈরী করি। আমরা আসলে এত মুখোশ পরি যে কখনো কখনো মুখ ও মুখোশের পার্থক্য করতে পারি না। মুখোশের এই প্রক্রিয়া যেমন একাধারে সৃষ্টিশীল তেমনি আবার সহনশীলও বটে। আর মুখোশের কেবল ঋণাত্মক ধর্মই আছে তা নয়। পরিশেষে যা গুরুত্বপূর্ণহয়ে ওঠে তা হল ইন্টেনশন। আমার কাছে মুখোশ ভাঙ্গণ খুব প্রিয় কাজ । যদিও মুখোশ ভাঙ্গতে গেলেও একটা নতুন চমৎকার মুখোশ তৈরী হয়।
শুভ বলেছেন:
আপনার এই পোস্টটা অসাধারণ একটা পোস্ট!আমি সরি, আগে সময়ের জন্য মন্তব্য করা হয়নি!
আসলেই আমরা একেকজন একেকটা মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াই- লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, হরেক রকম মুখোশ!
আপন তারিক বলেছেন:
থ্যাংক ইউ !!!
অতিথি বলেছেন:
সত্যি অসাধারন পোস্ট।
হযবরল বলেছেন:
আমার এরকম অনেক মুখোশ আছে। দ্্বারা পুত্র পরিবার কে কার , কে তোমার
মুখোশের আমি তুমি
এই নিরন্তর প্রচেষ্টার নামই মানুষ।
অতিথি বলেছেন:
এজন্যই নিজের কাছে সৎ থাকাই বেটার। আত্নতৃপ্তি থাকে তাতে। অপরে কি বললো তাতে কি!
অতিথি বলেছেন:
জটিলজ!!
অতিথি বলেছেন:
কথা সত্য । আমারও আছে একাধিক মুখোশ । প্রতিদিন কতো রুপ যে ধরি। আড়াল করি দুঃখ । পড়াশুনার জন্য এসেছি দেশের বাইরে । কিন্তু করছি কি ? মুখোশ পড়ে চলছি নিরন্তর ।ভাল পোস্ট !!
শুভ বলেছেন:
ভাল কথা, প্রফাইলের এই জিনিস কোত্থিকা আমদানী করলেন- আল্লার দেয়া ফকফকা চেহারারে এটা কি করলেন!
অতিথি বলেছেন:
শুভ ভাই পাইছি আপনারে, আপনার বইয়ের প্রকাশনার নাম বলেন জলদি। পথিক ভাইয়ের টা জোগাড় করেছি, যেদিন যাব আপনারদের বই দুটা না কিনে আসছি না।
অতিথি বলেছেন:
ভাইরে আমার পস্তান আমি পস্তাব আপনার কি? 
ভাল কথা, ব্লগের লিখগুলা নিয়ে একটা বই বের হওয়ার কথা ছিল সেটার খবর কি জানেন?
শুভ বলেছেন:
দুঃখিত, আমার জানা নাই।
অতিথি বলেছেন:
ওকে নো প্রোবলেম, যদিও প্রকাশ পায় তা হলে নিশ্চয় ঘটা করেই হবে।
অতিথি বলেছেন:
অসাধারণ!আসলেই, আমরা সবাই অনেকগুলো মুখোশ পরে আছি। সময়মতো খুলছি, পরছি। যত দক্ষভাবে এটা করা যাবে, তত সফল!!! আরো লিখুন ...
শুভ বলেছেন:
অতিথিরা বড় যন্ত্রণায় করছে... মন্তব্যগুলো...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















গত সপ্তাহে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে একটি ধমক খেয়েছি। আমি নাকি আনস্মার্ট। জিনস আর টি শার্ট পরে অফিস করি। ভাবছি, পরের সপ্তাহ থেকে শর্টস পরেই অফিসে যাব। অভার স্মার্ট।