"তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর না মহাকাশ? তিনিই এ-সব বানিয়েছেন।
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন।
আর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন দিবালোক।
আর পৃথিবী, এরপর তাকে প্রসারিত করেছেন।
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভুমি" (সুরা নাযিয়াত ২৭-৩১)
"তিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে। তুমি পরমকরুণাময়ের সৃষ্টিতে অসামঞ্জস্য দেখতে পারবে না। তারপর তুমি তোমার দৃষ্টি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোন ফাটল দেখতে পাচ্ছ?" (সুরা মুলক: ৩
“নি:সন্দেহে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানবান লোকদের জন্য"। (সুরা আল ইমরান:১৯০)
চিন্তার গভীরে:
১.
........পৃথিবীকে পরীক্ষা করলে আমরা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের (factor) একটি তালিকা তৈরী করতে পারব, যতক্ষন আমাদের মন চায়। অ্যামেরিকান এস্ট্রোনোমার হিউ রস (Hugh Ross) তার নিজের একটি তালিকা তৈরী করেছেন এভাবে:
ভূত্বকের অভিকর্ষ বল:
-যদি একটু বেশী হত: বায়ুমন্ডল বেশী অ্যামোনিয়া ও মিথেন ধরে রাখত
-যদি একটু কম হত: পৃথিবীর বায়ুমন্ডল অতিরিক্ত পানি হারিয়ে ফেলত
সূর্য (Parent Star) থেকে দুরত্ব:
-যদি আরেকটু দূরে হত: পৃথিবী এতটাই ঠান্ডা হয়ে যেত যে একটি স্থিতিশীল জলীয়চক্র সম্ভব হত না
-যদি আরেকটু কাছে হত: পৃথিবী এতটাই গরম হয়ে যেত যে একটি স্থিতিশীল জলীয়চক্র সম্ভব হত না
ভূত্বকের পুরুত্ব:
-যদি আরেকটু বেশী হত: বায়ুমন্ডল থেকে ভূত্বকে অতিরিক্ত অক্সিজেন চলে আসত
-যদি আরেকটু কম হত: অগ্নুৎপাত ও ভূকম্পন(tectonic activity) অনেক বেড়ে যেত
নিজ অক্ষে ঘূর্ণনকাল:
-যদি আরেকটু দীর্ঘ্য হত: দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেক বেশী হত
-যদি আরেকটু স্বল্প হত: বায়ুমন্ডলে বাতাসের বেগ অনেক বেড়ে যেত
চাঁদের সাথে মহাকর্ষবল:
-আরেকটু বেশী হলে: সমুদ্র ও বায়ুমন্ডলের জোয়ার ভাটা এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনকাল মারাত্মক পরিমাণে বেড়ে যেত
-আরেকটু কম হলে: কক্ষপথের বক্রতার হারে এত বেশী পরিবর্তন হত যে তা আবহাওয়ার অস্থিতিশীলতা তৈরী করত
চৌম্বকক্ষেত্র:
-আরেকটু শক্তিশালী হলে: ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ঝড়ের ভয়াবহ আকার ধারণ করত
- আরকটু দুর্বল হলে: হার্ড স্টেলার রেডিয়েশন থেকে পৃথিবীর প্রতিরক্ষার মাত্রা যথেষ্ট হত না
Albedo (ভূত্বক হতে যে পরিমাণ আলো প্রতিফলিত হয় এবং যে পরিমান আলো পতিত হয় তার অনুপাত):
-বেশী হলে: আইস এইজ শুরু হয়ে যেত
-কম হলে: গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বেড়ে যেত
বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের অনুপাত:
-যদি বেশী হত: উন্নত জৈব প্রক্রিয়া গুলো বেশী দ্রুত চলতে শুরু করত
-যদি কম হত: উন্নত জৈব প্রক্রিয়া গুলো বেশী ধীরে চলতে শুরু করত
বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং জলীয়বাষ্পের মাত্রা:
-যদি আরেকটু বেশী হত: গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বেড়ে যেত
-যদি আরকটু কম হত: গ্রীন হাউজ ইফেক্ট যতটুকু দরকার তার চেয়ে কম হত
বায়ুমন্ডলের ওযোন (ozone) এর পরিমাণ:
-যদি বেশী হত: ভূত্বকের তাপমাত্রা খুবই কমে যেত
-যদি কম হত: ভূত্বকের তাপমাত্রা খুবই বেড়ে যেত এবং অনেকবেশী অতিবেগুনী রশ্মি পতিত হত
ভূকম্পন (Seismic Activity):
-বেশী হলে: অনেক প্রজাতীই ধ্বংস হয়ে যেত
-কম হলে: নদী দ্বারা পরিবাহিত যে পলি সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে পৌছায় তা টেকটোনিক আপলিফ্ট এর মাধ্যমে মহাদেশগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে পুনর্বাহিত হত না
এগুলো হল, পৃথিবীতে জীবনকে অস্তিত্বশীল করা ও বাচিয়ে রাখার জন্য যতগুলো ‘ডিজাইনের সিদ্ধান্ত’ নেয়া প্রয়োজন তার মধ্যে কয়েকটি। কিন্তু এগুলোই এটা দেখিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট যে এই পৃথিবী না দৈবাৎ ঘটনাক্রমে তৈরী হয়েছে, না তৈরী হয়েছে কতগুলো সৌভাগ্যময় ধারাবাহিক ঘটনার ফলস্বরুপ।
এগুলো এবং এরকম আরও অযুত বর্ণনা একটি সহজ ও সরল সত্যকেই পুনর্বার নিশ্চিৎ করছে; তা হল: আল্লাহ এবং শুধুমাত্র আল্লাহই এই মহাবিশ্ব, নক্ষত্ররাজি, গ্রহসমগ্র, পর্বতমালা এবং সাগরগুলোকে সৃষ্টি করেছেন ক্ষুতহীন ভাবে; মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকুলকে দিয়েছেন জীবন এবং তাঁর সৃষ্টিগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন। আল্লাহ এবং কেবলমাত্র আল্লাহই, শূণ্য থেকে কোন কিছু তৈরী করার মত যথাযথ ক্ষমতা অধিকারী, যিনি সকল করুণা ও শক্তির উৎস ।
কোরআনে আল্লাহর এই নিপুন সৃষ্টিকৌশলকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ-সব বানিয়েছেন। তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তারকে সুবিন্যস্ত করেছেন; আর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছান্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক। আর পৃথিবী – এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন। এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভুমি। আর পাহাড়-পর্বত – তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, - তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবদিপশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন। (সুরা নাযিয়াত: ২৭-৩৩)
তথ্যসূত্র:
Harun Yahya, Miracle In the Creation of Universe ; p-101-103
২.
In the heavens there is nothing accidental, nothing arbitrary, nothing out of order, nothing erratic. Everywhere is order, truth, reason, constancy . . . I cannot understand this regularity in the stars, this harmony of time and motion in their curious orbits through all eternity, except as the expression of reason, mind and purpose . . . Their constant and eternal motion, wonderful and mysterious in its regularity, declares the indwelling power of a divine intelligence. If any man cannot feel the power of God when he looks upon the stars, then I doubt whether he is capable of any feeling at all.
Cicero, pp. 144-145, quoted in Bill Cooper's After the Flood.
উপলব্ধি:
"যারা আল্লাহর স্মরণ করে দাঁড়ানো ও বসা ও তাদের পার্শ্বের উপরে শায়িত অবস্থায় আর গভীর চিন্তা করে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে। (তারা প্রার্থনা করে উঠে) “আমাদের প্রভু! এসব তুমি বৃথা সৃষ্টি করো নি; তোমারই সব মহিমা। কাজেই আমাদের রক্ষা করো আগুনের শাস্তি থেকে”। (সুরা আল ইমরান:১৯১)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



