VS
আমি অভ্র নিয়ে পোস্ট দিয়েছি। সামুর অন্য ব্লগাররাও দিয়েছে। কেন দিয়েছে ? আমি বা ওরা কি অভ্র বা মেহেদী হাসান খানের আত্নীয় ? কথা না বলে চলুন জেনে নিই আসল ব্যাপারটা কি...
১.অভ্র ফ্রী পাওয়া যায় কিন্তু বিজয় টাকা দিয়ে কিনতে হয়
বাংলা ইউনিকোড টাইপিং সফটওয়্যার অভ্র ইন্টারনেটে পাওয়া যায় কিন্তু বিজয় টাকা খরচ করে কিনতে হয়।
এতে দোকানে যেতে সময় অপচয় হয় আর টাকার ও অপচয় হয়। সে টাকায় আপনি অন্য জরুরী সফটওয়্যার কিনতে পারেন।
অভ্র কীবোর্ডের ৪.৫.৩ ভার্শন ডাউনলোড করুন [এখান থেকে]
অভ্র কীবোর্ডের ৫.০.৮ (পাবলিক বেটা ৪) ভার্শন ডাউনলোড করুন [এখান থেকে]
২.বিজয়ে লিখার প্রক্রিয়া অভ্র থেকে কঠিন
বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার বিজয় ব্যবহার করতে হলে Ctrl + Alt + B চাপতে হয় যেটা অভ্রতে F12 দিয়েই করে ফেলা যায়। ফলে লেখার মধ্য বাংলা ও ইংলিশ সহজেই আনা যায়। তাছাড়া বিজয় ব্যাবহারের পরে ইংলিশ কী-বোর্ড উল্টোপাল্টা হয়ে যায় যা আমার মতো মানুষদের কাছে খুবই বিরক্তিকর।
৩.ANSI আর UNICOAD এর ব্যাবধান
বিজয় ব্যাবহার করে শুধুমাত্র ANSI ফরমেটে লিখা যায় , কিন্তু আপনি অভ্র কীবোর্ডে ANSI আর UNICOAD দুটি ফরমেটেই লিখতে পারবেন।
৪.লে-আউট ব্যাবহার
বিজয়ের লে-আউট শিখতে হলে অনেকদিন কষ্ট করতে হয়। কিন্তু ইংরেজি টাইপিঙ্গে দক্ষতা থাকলে অভ্র ফোনেটিকে দ্রুত বাংলা টাইপিং শিখা যায়। আর অভ্র কী বোর্ডে ইচ্ছে মতো লে-আউট ব্যাবহার করা যায়, এবং লে-আউট তৈরিও করা যায়।
৫.ওয়েব সাইটে বাংলা লিখা
বিজয় ANSI সফটওয়্যার এর অন্তর্ভূক্ত বলে এটা দ্বারা ওয়েব সাইটে লিখা যায় না, কিন্তু অভ্র মূলত UNICOAD নিয়ে কাজ করে তাই ওদের সফটওয়্যার দিয়ে ওয়েব সাইটে বাংলা টাইপ করা যায়।
৬.ফন্ট বৈচিত্রতা
বিজয়ে অনেক রকম ফন্টে লিখা যায় কিন্তু অভ্রে লিখা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এর পঞ্চম ভার্শনে (avro key board 5) ANSI ফরমেটে লিখা যায়। এর ফলে আমরা আগের ইন্সটল করা বিজয় ফন্ট গুলোকে কাজে লাগাতে পারছি।
৭.পোর্টেবল ভার্শন
অভ্রের পোর্টেবল ভার্শন আছে কিন্তু বিজয়ের কোন পোর্টেবল ভার্শন নেই।
অভ্র কীবোর্ড ৪.৫.৩ এর পোর্টেবল ভার্শন ডাউনলোড করুন
অভ্র কীবোর্ড ৫.০.৮ এর পোর্টেবল ভার্শন ডাউনলোড করুন
তারপরেও বিজয় লে-আউট নিয়ে এত মাতামাতি কেন ?
আমি উপরেই বলেছি অভ্র ফোনেটিক বিজয় থেকে সহজ। তাহলে UNIBIJOY, THE BOSS LEY OUT , JOEI
লে-আউটগুলো কেন ?
আমরা যখন কী বোর্ড কিনতে যাই তখন আমাদের কীবোর্ডে বিজয়ের লে-আউট আঁকা কী বোর্ড পাই। এটা মোস্তফা জব্বারের ব্যাবসায়ীক বুদ্ধি। সবাইকে বিজয় ব্যাবহারে আগ্রহী করার চরম উপকারী উপায় এটি। আর যখন অভ্র বানানো হয়নি তখন সবাই বিজয় ব্যাবহার করত। এখন তাদের ইন্টারনেটে নানা কারনে বাংলা লিখতে হয় তাদের কত অসুবিধা হয় বুঝতে পারছেন ?
যেমন আমার বাবা, ইন্টারনেটে লিখার জন্য আমি তাকে অভ্র ব্যাবহার করার উপদেশ দেই। সে অভ্র দিয়ে ইন্টারনেটে বাংলা লিখতে সফল হয়েছিল কিন্তু তার লিখার গতি ছিল ধীর। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বাবাকে বিজয়ের অনুরূপ একটা লে-আউট বানিয়ে দেই। বাবার লিখার গতি আবার ফিরে আসে।
এরকম হাজারো বাবাকে পড়তে হয়েছে একই সমস্যায়। আমরা তাদের সাহায্য করার জন্য বিজয়ের কাছাকাছি কী-বোর্ড বানিয়ে অনলাইনে ছাড়ছি। কিন্তু মোস্তফা জব্বার তাদের সাবাস দেওয়ার বদলে ক্লাস ৮ এর ছেলের বদলে মামলা ঝুলাচ্ছেন। এটা উনার তরফ থেকে আমাদের কাম্য ছিল না। উনি যদি অভ্রের জন্য বিজয়ের লে-আউট বানাতেন কিংবা বিজয়কে ইউনিকোড সাপোর্ট দিতেন তাহলে আমাদের বিজয়ের কাছাকাছি লে-আউট বানানো লাগত না।
সবশেষে বলা যায় যে বিজয় এর চেয়ে অভ্র অনেক ভাল। সামুর বিজয় ব্যাবহার কারীরা আপনাদের সাথে আমার মতবিরোধ থাকলে কমেন্টে লিখে দিন। অভ্রের স্বমন্ধে বা বিরুদ্ধে আপনার পোষ্ট থাকলে তার লিঙ্ক কমেন্টে দিতে ভুলেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


