somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এলোমেলো - ৬
চারপাশে আজ
চেয়ে দেখ, ওই যে কেমন আগুন রঙা বসন্ত সাজ

নীল আকাশে
দেখছ, কেমন তুলোর মতন সাদা সাদা মেঘরা ভাসে

ফুল বাগানে
কেমন করে এক সাথে সব ফুল ফুটেছে, কে-ই বা জানে!

দুইটা পাখি
গাছের ডালে কেমন মধুর সুরেই করে ডাকাডাকি

ঠিক নিচে ওর
দুইটা মানুষ নিবিঢ় বসে ভালবাসার গল্পে বিভোর

আহ্ কী দারুন!
প্রকৃতি আর প্রেম মিলিয়ে বর্ষাকালেও কেমন ফাগুন!

ঝকঝকা দিন
সবকিছুতেই প্রাণের ছোঁয়া, সবকিছুই আজ ভীষণ রঙিন

করছি আশা -
এমন দিনে কষ্ট ভুলে হবেই তোমার অনেক হাসা

সবটা সময়
তোমার এমন বসন্ত থাক, হোক এমনি আনন্দময়!

আষাঢ়-শ্রাবণ
শুধুই আমার, বছর জুড়েই ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা-প্লাবন!

বর্ষা না হয় থাকুক আমার চোখের কোণেই টলোমলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28713366 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28713366 2007-05-30 05:32:24
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - ১২: Evanescence গানটার কথা মনে পড়ল। আগে শোনা হলেও প্রথম সেভাবে আকৃষ্ট হই Rockstar: Supernova অনুষ্ঠানটার প্রতিযোগী Zayra Alvarez এর কন্ঠে শুনে। খুব ভাল লাগা এই গানটার কথা, ভিডিও আর এমপিথ্রি লিংক তাই আজকে এখানে তুলে দিলাম।


Bring Me To Life lyrics
(feat. Paul McCoy)

how can you see into my eyes like open doors
leading you down into my core
where I’ve become so numb without a soul my spirit sleeping somewhere cold
until you find it there and lead it back home

(Wake me up)
Wake me up inside
(I can’t wake up)
Wake me up inside
(Save me)
call my name and save me from the dark
(Wake me up)
bid my blood to run
(I can’t wake up)
before I come undone
(Save me)
save me from the nothing I’ve become

now that I know what I’m without
you can't just leave me
breathe into me and make me real
bring me to life

(Wake me up)
Wake me up inside
(I can’t wake up)
Wake me up inside
(Save me)
call my name and save me from the dark
(Wake me up)
bid my blood to run
(I can’t wake up)
before I come undone
(Save me)
save me from the nothing I’ve become

Bring me to life
(I've been living a lie, there's nothing inside)
Bring me to life

frozen inside without your touch without your love darling only you are the life among the dead

all this time I can't believe I couldn't see
kept in the dark but you were there in front of me
I’ve been sleeping a thousand years it seems
got to open my eyes to everything
without a thought without a voice without a soul
don't let me die here
there must be something more
bring me to life

(Wake me up)
Wake me up inside
(I can’t wake up)
Wake me up inside
(Save me)
call my name and save me from the dark
(Wake me up)
bid my blood to run
(I can’t wake up)
before I come undone
(Save me)
save me from the nothing I’ve become

(Bring me to life)
I’ve been living a lie, there’s nothing inside
(Bring me to life)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28713131 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28713131 2007-05-28 17:27:04
এলোমেলো - ৫ (উৎসর্গ: প্রজাপতি) ভাসত যখন আঁধার ঘেরা তোমার শহর -
ছিল কি তা
ভীষণ রকম মিথ্যে কিছু ভ্রমের প্রহর?

রাতটা যখন
আনত কিনে খুব অসহায় অবুঝ সে ভোর -
তারপরেও
ভাঙত না ছাই কেন আমার জ্বরমাখা ঘোর?

আমার এ হাত
তোমার হাতের সাথে যখন বলত কথা -
কী ছিল তা?
স্বপ্ন? না কি একটু হলেও বাস্তবতা?

আমায় যখন
হ্যাঁচকা টানে জড়িয়েছিলে শক্ত হাতে -
অনুভবে
ভুল ছিল কি সুপ্ত আমার কল্পনাতে?

এ পিঠ ও পিঠ
পাশাপাশি আমরা যখন উথাল-পাতাল -
মিথ্যে সেটাও?
খুব ধোঁয়াটে অসম্ভবের স্বপ্ন মাতাল?

তুমি আমি
বেশ ক'টা দিন যখন ছিলাম এর-ওর ছায়া -
কেমন করে
যায় হয়ে যায় মিথ্যে সেটাও, নীলচে মায়া?

তুমি যখন
হঠাৎ করেই বলতে আমায় ভালবাসো -
কল্পনাতেও
সুখের সাথে আসত কেন সর্বনাশ-ও?


[প্রজাপতির এই পোস্ট দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28711942 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28711942 2007-05-22 02:04:38
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 11: Maroon 5 !@!17466 গানটাই বেশি শোনা হত এককালে। সেটার জন্যই ওরা বেশি জনপ্রিয়। ওদের !@!17467 গানটাও কম জনপ্রিয় নয়। আমার খুব প্রিয় গান দু'টোই, বিশেষ করে দ্্বিতীয়টা। আজকে এখানে তাই তুলে দিলাম এটার কথা আর লিংক।


"She Will Be Loved"

Beauty queen of only eighteen
She had some trouble with herself
He was always there to help her
She always belonged to someone else

I drove for miles and miles
And wound up at your door
I've had you so many times but somehow
I want more

I don't mind spending everyday
Out on your corner in the pouring rain
Look for the girl with the broken smile
Ask her if she wants to stay awhile
And she will be loved
She will be loved

Tap on my window knock on my door
I want to make you feel beautiful
I know I tend to get so insecure
It doesn't matter anymore

It's not always rainbows and butterflies
It's compromise that moves us along, yeah
My heart is full and my door's always open
You can come anytime you want

I don't mind spending everyday
Out on your corner in the pouring rain
Look for the girl with the broken smile
Ask her if she wants to stay awhile
And she will be loved
And she will be loved
And she will be loved
And she will be loved

I know where you hide
Alone in your car
Know all of the things that make you who you are
I know that goodbye means nothing at all
Comes back and begs me to catch her every time she falls

Tap on my window knock on my door
I want to make you feel beautiful

I don't mind spending everyday
Out on your corner in the pouring rain
Look for the girl with the broken smile
Ask her if she wants to stay awhile
And she will be loved
And she will be loved
And she will be loved
And she will be loved

Please don't try so hard to say goodbye
Please don't try so hard to say goodbye

Yeah
I don't mind spending everyday
Out on your corner in the pouring rain

Try so hard to say goodbye


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28705580 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28705580 2007-04-10 05:16:30
প্রিয় কবিতা
[গাঢ়]মানবানল[/গাঢ়]

আগুন আর কতোটুকু পোড়ে?
সীমাবদ্ধ তার ক্ষয় সীমিত বিনাশ,
মানুষের মতো আর অতো নয় আগুনের সোনালী সন্ত্রাস।

আগুন পোড়ালে তবু কিছু রাখে
কিছু থাকে,
হোক না তা ধূসর শ্যামল রঙ ছাই,
মানুষে পোড়ালে আর কিছুই রাখে না
কিচ্ছু থাকে না,
খাঁ খাঁ বিরান, আমার কিছু নাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28704164 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28704164 2007-03-30 02:49:20
পুরনো জমাট বাঁধা রোজনামচা
বাসটা যাচ্ছে তো যাচ্ছেই।

অবশ্য যাবারই কথা। লাস্ট স্টপ সেই হাউগাং। আমাদেরই নেমে পড়ার কথা ছিল বুগিস এর কাছে কোথাও। কিন্তু নামা হল না। এখন বাসের এরকম অবিরাম চলতে থাকা নিয়ে ভাবনাটাই অবান্তর। ইদানীং সবকিছুতেই বেশ একটা ফিলোসফিকাল ভাব চলে আসে। তাই মনে হয় এমন মনে হল।

'কি রে, কি ভাবছিস?' - তোর হঠাৎ প্রশ্নে ঘোর কাটল।

'বাসটা কেমন চলছে তো চলছেই, দেখলি?' - আমি বেশ একটা ভাব নিয়ে বলি।

'বাস তো চলবেই! আর একনাগাড়ে কই চলল? মাঝে-মাঝেই তো থামছে আর রোবটের মত মানুষ উঠছে-নামছে। তুই ঠিক আছিস?'

'কি জানি!'

তুই আর কথা বাড়ালি না। আমার ঠিক থাকার ঠিক কথা না। হাতে সময় কমে আসছে খুব দ্রুত। ঠিক থাকলে বুগিস ছাড়িয়ে এখন ল্যাভেন্ডার ক্রস করে এতদূর চলে আসতাম না হয়তো কোন কারণ ছাড়া। যেখানে নামার কথা ছিল, সেখানে বাসের বেল বাজানোর আগে আগে হয় তো বলে বসতাম না, 'চল না আজকে হাউগাং পর্যন্ত চলে যাই!' তুই-ও কি ঠিক আছিস? মনে হচ্ছে না। ঠিক থাকলে তখনই বাসের বেল বাজিয়ে দিতি। আমরা তাহলে আর এখন হাউগাঙের পথে থাকতাম না। হয়তো এতক্ষণে বুগিসের রাস্তায় হেঁটে বেড়াতাম বা উঠে যেতাম অন্য কোন অচেনা বাসে।

হাতে সময় কমে আসতে থাকলেই বোধ হয় এরকম পাগলামী মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে হুট করে। আমার এক বন্ধুর একটা লাইন মনে পড়ে গেল - 'পাগলামী, ঘুরে ফিরে'।

যা হোক, গল্প করার এমন সুযোগ হাতছাড়া করার কোন মানে হয় না। সেটা আমার 'বকরবাজ' স্বভাববিরুদ্ধ। রেপুটেশান বলে কথা! আমার তাই পুরনো-নতুন নানান গল্প মনে পড়ে যেতে থাকে, মুখ নিশপিশ করতে থাকে, যেন এগুলো এই বাসযাত্রায় না শেয়ার করলেই না! তাছাড়া হাতে সময়ও খুব কম। আবার কবে দেখা হয়!

'জানিস, এক দিন কি হয়েছে? আমরা পুরনো বন্ধুরা সব আড্ডা দিচ্ছি, হঠাৎ আমার ইয়া লম্বা পাগলাটে বন্ধু তূর্য এসে কখন যে পিছন থেকে আমার মাথায় সিগারেটের ছাই ফেলে চলে গেছে, আমি টেরই পাইনি! আশে-পাশের সবার হাসি শুনে পরে টের পেলাম। এই রকম বাটু হওয়াই বিপদ! কি একটা বেইজ্জতি, বল!'

'হুমমম...এইটা এর আগেও একবার বলেছিস।' - তোর গলায় স্পষ্ট বিরক্তি আর হাল ছেড়ে দেবার সুর।

'মাত্র একবার শুনেছিস? গুড। তাহলে আরো কয়েকবার বলা যাবে এখনো।' - আমার উৎসাহে কোন ভাটা পড়ে না।

তোর একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পেলাম। কিন্তু সেটায় বিচলিত হবার প্রশ্নই আসেনা। না শোনার ভান করে আবার নতুন উদ্যমে শুরু করলাম।

'জানিস, আরেকবার কি হয়েছিল? ক্যান্টিনের সামনে বসে আছি আমি আর আমার দুই পুরনো বন্ধু। তিনজনে বসে খুব আয়েশ করে চটপটি খাচ্ছিলাম। আহা! শহীদ ভাইয়ের হাত ছিল মাশ'আল্লাহ একখান! ঢাকার বেস্ট চটপটি বানাতেন। তো সেদিন কি হল শোন -'

'আচ্ছা, তোর সেই বন্ধুগুলো তখনো কি 'পুরনো' ছিল?' - আমাকে মাঝপথে থামিয়ে হঠাৎ তোর প্রশ্ন।

মুহূর্তের জন্য মনে হল বাসটা যেন দুলে উঠল। আমি কি বলব বুঝতে পারলাম না। খুব কম সময়ই আমার মত কোন চ্যাটারবক্স বাকরুদ্ধ হয়ে যায় এমনভাবে। আজকে দিনটাই কেমন যেন। সবকিছুতেই অন্য রকম একটা ভাবের ভাব।

'না, ছিল না। তখন ওরাই শুধু বন্ধু ছিল। ওদের ঘিরেই ছিল গোটা দুনিয়া।' - একটু সময় নিয়ে উত্তর দিলাম।

'এই এখন যেমন আমরা বন্ধু? আমাদের নিয়েই আমাদের পৃথিবী? এরকম ছিল?' - তুই হঠাৎ কেমন যেন ক্ষ্যাপাটে হয়ে গেলি।

এর উত্তর আমি কী দেব? হুট করে তুই কেন এসব বাজে বকা শুরু করলি? কী লাভ? কিন্তু আজকে দিনটাই পাগলাটে আর সময়টাও বিটকেলে ভাবে তাড়াতাড়ি করে কই যেন চলে যাচ্ছে। এরকম সময়ে এরকমই হয় হয়তো।

'আচ্ছা, তুই এই যে সারাদিন তোর পুরনো বন্ধুদের গল্প করিস, ক'দিন পরে আমাকে নিয়েও এমন গল্প করবি, না? তোর অন্য কোন 'নতুন' বন্ধুর কাছে? তখন আমিও তোর 'পুরনো' বন্ধু হয়ে যাব, না?'

বাসটা চলতেই থাকে। মাঝখানে শুধু হঠাৎ হঠাৎ করে কারো কারো নেমে যাবার প্রয়োজন পড়ে। বেল বেজে ওঠে, সাথে স্ক্রীনে লেখা ওঠে 'BUS STOPPING'। আমাদের পাশ কাটিয়ে কেউ কেউ নেমে চলে যায় তাদের গন্তব্যে। আবার দূর থেকে হাত বাড়িয়ে থাকা কেউ কেউ তড়িঘড়ি বাসে উঠে পড়ে আমাদের পাশ কাটিয়েই বসে পড়ে কোথাও বা দাঁড়িয়ে যায়, যেমন আমরাও করি প্রতিদিন। কিন্তু আজকের দিনটা অন্যরকম। আজ সময় নেই একদম। আরো একটা বাস দাঁড়িয়ে আছে অপেক্ষায়। তাই সময়টাকে ধরে রাখার যাবতীয় চেষ্টা চলতে থাকে ক্রমাগত। হঠাৎ করেই বুকের জমাট বাঁধা উথাল-পাথাল কষ্ট বের হয়ে আসতে চায়। আর সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসে। তবে হাউগাং এখনো অনেক দূর।




[প্রিয় নজমুল আলবাব ভাইয়ের ছোট গল্প পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28703961 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28703961 2007-03-28 17:34:06
এলোমেলো - 4 ভেবেছিলাম এমনি এমনি পেয়ে গেছি বেশ ক'টা ভোর।
ভুলেই ছিলাম ভীষণ দামী
এই জীবনের প্রতি প্রহর।
সে দাম দেবার একেক রকম নিয়ম-রীতি!
রাত পেরিয়ে নতুন ভোরে রঙ-বেরঙের সেসব স্মৃতি
কাঠঠোকরা পাখির মতো
অবিরত যায় ঠুকে যায় বুকের ক্ষত।
যেমন করে মেঘ ঢেকে দেয় সোনালী রোদ -
তেমনি ভাবেই কষ্ট দিয়ে করছি আমি গভীর সুখের দাম পরিশোধ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28701850 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28701850 2007-03-12 01:49:32
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 10: জোন বায়েয
Diamonds and Rust গানটা 1975 সালে বব ডিলানের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে লিখেছিলেন জোন বায়েয। যেন 10 বছর পেরিয়ে হঠাৎ কিছু স্মৃতির দোলা দেয়া! সেই স্মৃতি একই রকমভাবে ভাবায়, কাঁদায় বা হাসায়। অনেক মূল্যে পাওয়া সেই স্মৃতি যেন এখনো একই ভাবে সেদিনের কথা বলে যায়। কিছু খুব সুখ আর কিছু ভীষণ দুঃখের কথা। বহুদিন ধরে জমে থাকা কয়লা যেমন হয়ে যায় হীরা, আর বহুদিনের অবহেলায় লোহায় ধরে মরচে।

গানটা শোনা যাবে [link|http://www.esnips.com/doc/1e69ebfc-ab29-4a73-bee2-7a8075917e38/Joan-Baez---Diamonds-and-Rust|GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28699869 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28699869 2007-02-23 13:23:42
এলোমেলো - 3 তুমি বললে
- উত্তরটা...হুমমম.....ঠিক জমল না!

আমি বললাম -
চারিদিকে ভীষণ উষ্ণতা
এতটা ছিল না জরুরী
আরেকটু শীতল হলেই
দেখতে,
ঠিক জমে যেত!

ছবি: !@!15150]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697756 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697756 2007-02-10 04:20:38
এলোমেলো - 2 কিছু ভুলে যাওয়া
শব্দ
হঠাৎ
মনে পড়ে গেল -

অপারগতা
হাহাকার
আর
শূন্যতা ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697717 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697717 2007-02-09 17:16:01
এলোমেলো হাবিজাবি
হবার ছিল অনেক কিছুই...
আবার ভাবি,
যেসব হল, কম কি বা তা-ই?
সেটাও তো না পারতো হতে
রহস্যময় এই জগতে
যাচ্ছে ঘটে কত কিছুই প্রতিদিনই
কত্ত মানুষ
তাদের ক'জনকেই বা চিনি!
কত্ত তাদের টালবাহানা
সাদা-কালোয় রঙ মেশানো সব ঘটনা
কত্ত তাদের এলোমেলো স্বপ্ন দেখা
একসাথে বা একা একা
স্বপ্ন দেখার পরেই কেন স্বপ্ন বেলুন যায় ফেটে, ঠুস!

কি আসে যায় আমার তাতে!
সকাল-দুপুর-দিনে-রাতে
আমারটুকু নিয়েই আছি
ভীষণ ব্যাকুল
হতে পারি সবার থেকে খুব দূরে বা কাছাকাছি
তবু জেনো, একাই আমার কাব্য লেখা
নিজের মনের গভীর গোপন বাগানটাতে আমি একা
যাই চষে ফুল।

আমার মনের ফুল বাগানে
কে-ই বা জানে
কত্ত রকম বিচিত্র সব ফুলগাছেরই চারা বোনা
সেসব গাছে কত্ত রকম ফুল ফোটে রোজ
কত্ত রকম পোকামাকড়, মৌমাছিরই আনাগোনা
আমি ছাড়া কে রাখে খোঁজ!
আমার মতোই অন্য কারো যায় না এসে
আমার ফুলের বাগান থেকে
অসম্ভবের সম্ভবনা গায়ে মেখে
হেলাফেলায় বেড়ে ওঠা ফুলটা না হয় গেলই খসে...

প্রতিদিনের জীবন পথে
অনেক কিছুই পারতো হতে
অনেক কিছু আবার হল-ও
ভীষণ রকম ঠিক কিছু তার
বাকিটা খুব গোলমেলে আর
ভীষণ রকম এলোমেলো
সেসব নিয়ে কার কি-ই বা এলো-গেলো
বাড়ছে শুধু আমার একার
চাওয়া-পাওয়ার হিসাবখাতার
প্রতি পাতার
না মেলা সেই সমীকরণগুলোর আকার

এমনি ভাবেই অবিরত
নিত্যদিনের ঝুট-ঝামেলায়
খুব অসহায়
আমার মনের হাত-পা বাঁধা
চেনা সুরে যাচ্ছি ভুলে গলা সাধা
হয়না আমার নতুন কোন কিচ্ছু চাওয়া
ভুলেই গেছি বেসুরো গান সুরেই গাওয়া
দেখে না মন, কাছের দূরের ভুল হাতছানি
কারণ জানি,
নতুন কোন সুখের ছায়ায়
ভীষণভাবে যায় বেড়ে যায়
পুরনো এক গভীর ক্ষত । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697380 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28697380 2007-02-07 15:23:15
মিথিলা: আমার ভূমিকা
আমার এখনো শুধু আই পি র ভিত্তিতে ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না। ব্লগের কাউকে নিয়ে পোস্ট দেয়া আমার স্বভাব না, তবু 'মিথিলা'র ব্যাপারটায় আমি ইনভলভড বলে এই পোস্টটা দিচ্ছি।

রুবেল বা মিথিলা - কারো পোস্টই আমি তেমন একটা পড়িনি আগে। রুবেলের পোস্টে ওর এক বন্ধুর অসুস্থতার কথা পড়ে শুভ কামনা করেছিলাম। এরপরে মিথিলার নিউ ইয়র্ক থেকে করা পোস্টগুলো চোখে পড়ে। একটা ছোট অসুস্থ মেয়ের জন্য কষ্ট হয়। কিন্তু এ পর্যন্তই। ব্লগের বাইরে খুব কম ব্লগারের সাথেই আমার যোগাযোগ। তাই এ নিয়ে খুব ভাবিনি তখন। তাছাড়াও সে সময় আমি থিসিস লেখার কাজে খুব ব্যস্ত ছিলাম।

এরপর 1লা জানুয়ারি আমার [link|http://www.somewhereinblog.net/aboltabolblog/post/28692320|cyuw_ wm]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28694165 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28694165 2007-01-16 04:48:48
গম্ভীর ল্যাব ইচ্ছে ছুটি, অনিচ্ছা কাজ

গম্ভীর ল্যাব, যন্ত্রে ঠাসা
নেই কোন বোধ, ভালবাসা

গম্ভীর ল্যাব, মেশিন চলে
যন্ত্রে-প্রাণে আগুন জ্বলে

গম্ভীর ল্যাব, অচেনা মুখ
হঠাৎ চেনা বুক ভাঙা দুখ

গম্ভীর ল্যাব, যান্ত্রিক ঘ্রাণ
এক সুর-লয় যন্ত্রের গান

গম্ভীর ল্যাব, অলি-গলি
অনুভুতির জলাঞ্জলি

গম্ভীর ল্যাব, খুব প্রতিকূল
ভুল পথ ও দিক আর গতি ভুল

গম্ভীর ল্যাব, মেঘলা স্বভাব
এক চিলতে রোদের অভাব

গম্ভীর ল্যাব, নেই কোন প্রাণ
কমছে সময়, কাজ অফুরান

গম্ভীর ল্যাব, মন উচাটন
যন্ত্রণা খুব, কষ্ট ভীষণ

গম্ভীর ল্যাব, কাজের পাহাড়
হতাশা-ক্ষোভ দেয় উপহার

গম্ভীর ল্যাব, আরেকটা দিন
মেশিন চলে ক্লান্তিবিহীন ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28692816 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28692816 2007-01-04 18:06:41
পুঁথি সিঙ্গাপুরা
সিঙ্গাপুরের আইন-কানুন খুব কড়া। এখানে আসার পরে প্রথমেই ধাক্কা খেতে হয় রাস্তা পার হতে গিয়ে বোতাম টিপে সবুজ বাত্তির অপেক্ষায়। এখানে কথায় কথায় 'ফাইন' দিতে হয় বলে ওরা নিজেরাই বলে Singapore is a fine city. ওরা ইংলিশ বলে, কিন্তু ভীষণ অদ্ভুত উচ্চারণে যার নাম ওরা নিজেরাই দিয়েছে Singlish. NETS এখানের ইলেকট্রনিক মানি ট্রানয্যাকশান সিস্টেমের নাম। Gillman Heights হচ্ছে NUS এর পোস্ট গ্র্যাড স্টুডেন্টদের থাকার জায়গা। এর একটা বাজে দিক হচ্ছে - হাইওয়ের পাশে বলে 24 ঘন্টা গাড়ির উৎকট শব্দ পাওয়া যায়। লিটল ইন্ডিয়ার 'মোস্তফা সেন্টার' এখানের একটা খুব জনপ্রিয় শপিং সেন্টার। বাংলাদেশীদের কাছে খুব প্রিয় কারণ এখানের বাংলাদেশী পাড়াটা ওটার পাশেই। 'দেশ' নামের ফোনকার্ডসহ আরো অনেক কিছুই ওটার আশেপাশে তুলনামূলকভাবে সস্তায় পাওয়া যায়। তবে দেশী খাবারের দাম দেশের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি। MRT এখানকার ট্রেইন সিস্টেমের নাম, প্রথম প্রথম যেখানে উঠলেই Mp3 Player কানে ঝুলিয়ে ঝিমন্ত মানুষ দেখে অবাক হতাম। Orchard Road সিঙ্গাপুরের শপিং প্যারাডাইস। এই রাস্তার অন্যতম জনপ্রিয় শপিং সেন্টার 'টাকাশিমায়া'য় সবকিছুই অতি expensive. সেনটোসা সিঙ্গাপুরের অতি প্রিয় বীচ রিসোর্ট যেটার ছোট্ট বীচগুলো দেখলে ক্যামন যেন খেলনা খেলনা মনে হয়। Marina Bay বিখ্যাত Singapore River এর জন্য। এটা যে একটা নদী - সেটা বুঝতে সবারই অনেক দিন লেগে যায়। EZLink এখানের বাসের কার্ড যেটায় টাকা ভরতে হয় বারবার (এখানে বলে top up) আর বাসে উঠতে নামতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ট্যাপ করতে হয়। E1,E2 হল ক্যাম্পাসের ইঞ্জিনিয়ারিং এরিয়ার অনেকগুলো ব্লকের মধ্যে দুইটার নাম। ক্যাম্পাস জুড়ে একেকটা ব্লক পাহাড়ের নিচ থেকে শুরু হয়ে পাহাড়ের মাঝ বরাবর বা উচুঁতে আরেক ব্লকের সাথে জুড়ে গিয়ে পুরা একটা ভজঘট অবস্থা!

শোনেন শোনেন সবাই, সালাম জানাই
নাম সিকান্দার আলী
দেশটা ছাইড়া সিঙ্গাপুরে আইসি গতকালই
আইসি সিঙ্গাপুরে
আইসি সিঙ্গাপুরে (কোরাস)

আইসি সিঙ্গাপুরে করুণ সুরে
মনটা আমার কান্দে
চারিদিকটা ঘুইরা বুঝছি
পড়সি একখান ফান্দে
আমি ফান্দে পড়সি
আমি ফান্দে পড়সি (কোরাস)

আমি ফান্দে পড়সি রাস্তায় নামসি
উলটা সাইডে যামু
সবুজ বাত্তি না জ্বলিলে
আমি নাকি ফাইন খামু
এইডা 'ফাইন সিটি'
এইডা 'ফাইন সিটি' (কোরাস)

এইডা 'ফাইন' সিটি মাইয়া প্রিটি
শুনসি অনেক আগে
মাইয়া পোলা যায় না বোঝা
ধান্দা আমার লাগে
ধান্দা লাগে আমার (কোরাস)

ধান্দা লাগে আমার কথা সবার
যায় না বোঝা কিছু
যেইখানে যাই 'Singlish' যে ভাই
নেয় যে আমার পিছু
পিছু নেয় যে আমার
পিছু নেয় যে আমার (কোরাস)

পিছু নেয় যে আমার দাম এইখানকার
সবকিছুতেই বেশি
টিকতে হইলে এইখানে চাই
NETS এবং ক্যাশ-ই
চাই থাকার জায়গা
চাই থাকার জায়গা (কোরাস)

চাই থাকার জায়গা আমায় লইয়া
Gillman-এ উঠালো
শব্দের জ্বালায় মনে যে কয়
গাবতলীটাই ভাল
সেইটাই ছিল ভাল
সেইটাই ছিল ভাল (কোরাস)

সেইটাই ছিল ভাল কি আর কমু
নাই কিছু আর বলার
Caller ID দেখতে চাইলেও
লাগে 5টি ডলার
লাগসে ক্ষিদা আমার
লাগসে ক্ষিদা আমার (কোরাস)

লাগসে ক্ষিদা আমার অনেক খাবার
রাখসে Food Court জুইড়া
সেইসব খাবার দেইখ্যা আমার ক্ষিদা যে যায় উইড়া
প্রাণটা যায় যে উইড়া
প্রাণটা যায় যে উইড়া (কোরাস)

প্রাণটা যায় যে উইড়া মন যায় পুইড়া
পড়ালেখার চাপে
হরতাল ছুটি এইখানে নাই
কইসিল যে বাপে
বাপরে কইসি আমি
বাপরে কইসি আমি (কোরাস)

বাপরে কইসি আমি 'দেশ' কার্ড কিন্যা
'মোস্তফা'তে গিয়া
আলু ভতর্া খাইসি আমি
10টা ডলার দিয়া
দিয়া 100 ডলার
দিয়া 100 ডলার (কোরাস)

দিয়া 100 ডলার কিনসি একখান
এমপিথিরি প্লেয়ার
MRT আর বাসে ঝিমাই
লাগে আমার কি আর
লাগে ভেলকি আমার
লাগে ভেলকি আমার (কোরাস)

লাগে ভেলকি আমার এক weekend এ
Orchard এ ঘুরিয়া
টাকার মায়া বুইঝা গেছি 'টাকাশিমায়া' গিয়া
গেসি সেনটোসাতে
গেসি সেনটোসাতে (কোরাস)

গেসি সেনটোসাতে কমলা বাসে
তিনটি ডলার দিয়া
মনটা আমার আপসেট হইসে
নকল বীচ দেখিয়া
আপসেট হইসি আমি
আপসেট হইসি আমি (কোরাস)

আপসেট হইসি আমি আরো বেশি
Marina Bay গিয়া
বাঙালীরে হাইকোর্ট দ্যাখায়
খাল রে নদী কইয়া
নৌকা ভ্রমণ শেষে
নৌকা ভ্রমণ শেষে (কোরাস)

নৌকা ভ্রমণ শেষে উঠসি বাসে
EZLink কার্ড লইয়া
Top-up, Tapping করতে করতে
যামু পাগল হইয়া
পাগল হইসি আমি
পাগল হইসি আমি (কোরাস)

পাগল হইসি আমি রাস্তায় নামি
পাহাড় ডানে-বায়ে
হাঁটতে হাঁটতে মাজা ব্যাথা
ফোঁসকা পড়সে পায়ে
গেসি NUS এ
গেসি NUS এ (কোরাস)

গিয়া NUS এ গেসি ফেঁসে
ক্যাম্পাস গোলকধাঁধা
E1 থেইক্যা E2 যাইতে
দিন কেটে যায় আধা
কাটে দিন যে আমার
কাটে দিন যে আমার (কোরাস)

কাটে দিন যে আমার জীবন ছারখার
নাই যে প্রাণে আলো
কোন দুঃখে সিঙ্গাপুর আইসি
বাংলাদেশই ভাল
হায় রে বাংলাদেশটা
হায়রে আমার বাংলা
বাংলাদেশটা আমার (কোরাস)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28692320 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28692320 2006-12-29 05:14:04
বিজয় দিবস - প্রিয় কবিতা
[রং=ৎবফ][গাঢ়]হেলাল হাফিজ[/গাঢ়][/রং]


মারণাস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার।
নয় মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে, কেবল তোমাকে।
বিরোধী নিধন শেষে কতোদিন অকারণে
তাঁবুর ভেতরে ঢুকে দেখেছি তোমাকে বারবার কতোবার।

মনে আছে, আমার জ্বালার বুক
তোমার কঠিন বুকে লাগাতেই গর্জে উঠে তুমি
বিস্ফোরণে প্রকম্পিত করতে আকাশ, আমাদের ভালবাসা
মুহূর্তেই লুফে নিত অত্যাচারী শত্রুর নিঃশ্বাস।

মনে পড়ে তোমার কঠিন নলে তন্দ্রাতুর কপালের
মধ্যভাগ রেখে, বুকে রেখে হাত
কেটে গেছে আমাদের জঙ্গলের কতো কালো রাত!
মনে আছে, মনে রেখো
আমাদের সেই সব প্রেম-ইতিহাস।

অথচ তোমাকে আজ সেই আমি কারাগারে
সমর্পণ করে, ফিরে যাচ্ছি ঘরে
মানুষকে ভালোবাসা ভালোবাসি বলে।

[গাঢ়]যদি কোনোদিন আসে আবার দুর্দিন,
যেদিন ফুরাবে প্রেম অথবা হবে না প্রেম মানুষে মানুষে
ভেঙে সেই কালো কারাগার
আবার প্রণয় হবে মারণাস্ত্র তোমার আমার।[/গাঢ়]


[রং=ৎবফ][গাঢ়]সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।[/গাঢ়][/রং]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28242 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28242 2006-12-15 22:08:56
মালা নাকি মাই লাভলি?
আসল গানটার নাম Where do you go to (My Lovely)। গানটার সাথে ঐ সিনেমার ক্লিপটা দেখা যাবে [link|http://www.youtube.com/watch?v=Fh4uKWrDHnY|GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28222 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28222 2006-12-15 13:09:29
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 9: আবারো অ্যালানিস http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28006 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/28006 2006-12-13 08:44:05 প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 8: ম্যাচবক্স 20
তো যা হোক, জেগে থাকার জন্য গান শুনছি। এখন বাজছে Matchbox 20 এর Bent. ওদের অনেকগুলো প্রিয় গানের একটা। কেউ ভিডিওটা দেখতে চাইলে পাবেন [link|http://www.youtube.com/watch?v=vedFJV2Jb6k&NR| GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27937 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27937 2006-12-12 23:15:05
পাঁচ প্যাঁচাল
1. আমি বন্ধুপ্রিয় মানুষ। বন্ধু ছাড়া জীবন অচল। আশে-পাশে বন্ধু-বান্ধব না থাকলে জগৎ অন্ধকার, আর কোন বন্ধু থাকলেই মন-মেজাজ ফুরফুরা। বন্ধুতার ক্ষেত্রে আমার কপাল বরাবরই ভাল। যেখানেই গেছি ভাল বন্ধু পেয়েছি - সে আমার পাড়াই হোক, স্কুল হোক, কলেজ হোক, বুয়েট হোক বা এই সিঙ্গাপুরই হোক। একবার দু'সপ্তাহের জন্য লন্ডনের এক সায়েনস ফোরামে গিয়েছিলাম। ওখানেও চমৎকার কিছু বন্ধু পেয়েছি যাদের অনেকের সাথে এখনো যোগাযোগ তো আছেই, একজন বাংলাদেশে আমাদের বাড়ি থেকেও গেছে 5 দিন।

2. আমি অতি আড্ডাবাজ। প্রথম পয়েন্ট থেকেই এটা আঁচ করা যায় হয়তো। আড্ডার কোন চানস বাদ দেই না পারতোপক্ষে। বন্ধুদের সাথে ক্যান্টিন, ল্যাব বা বাইরে কোথাও - কোনখানে আড্ডাতেই আপত্তি নেই। বন্ধুদের সাথে বাইরে খাওয়া দেশেও ছিল, এখানেও আছে। সব খাবারই ভাল লাগে। বর্তমানে বেশি পছন্দ থাই ফুড, বিশেষ করে টম ইয়াম! থ্রিল রাইডস একদম ভাল লাগেনা, তারপরেও বন্ধুরা যেতে চাইলে সাথে যেতে কোন আপত্তি নেই।

3, আমি দুই এক্সট্রিমে থাকি - হয় খুব ভাল, নয় খুব খারাপ। মেজাজ হুট করে গরম হয়, আবার হুট করে ঠান্ডা। কাউকে হয় খুব ভাল লাগে, নয়তো দেখতেই পারি না। আবার অনেককে হয়তো দেখতেই পারতাম না, কিন্তু এখন সেই হয়তো আমার জিগরি দোস্ত। মাঝামাঝি কিছু নেই।

4. ছোটকাল থেকে সিভিয়ার স্টেইজ ফ্রাইট ছিল। ছায়ানটে গান শিখেছি বহুদিন, কিন্তু কেউ গান গাইতে বললেই পা কাঁপত। বুয়েটের 2য় বর্ষে এসে লেভেল পুর্তির অনুষ্ঠানে রম্য সংবাদ পাঠ করতে গিয়ে স্টেইজ ফ্রাইট কেটে গেল। এরপর যন্ত্রকৌশল সংসদের হয়ে অনেক অনুষ্ঠান করেছি। এই করতে গিয়েই গান বাদ দিয়ে টুকটাক নাটকের শুরু। আমাদের ক্লাস, পড়ার চাপ - এসব নিয়ে পঁচিয়ে লেখা চরম মজার নাটক। আমাদের টিমটা খুব জোশ ছিল। সবার মধ্যে নাটক ঢুকে গেল। বুয়েটের শেষ সেমেস্টারে আমরা সম্পূর্ণ বুয়েটে নিমির্ত প্রথম সিনেমা বানিয়ে ফেললাম আর বুয়েটের কালচারাল শো এর দৃশ্য পুরোপুরি বদলে দিলাম। বুয়েট ছাড়ার পরেও ফেলে আসা জুনিয়ার বন্ধুগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠানের সিডি আর নাটকের স্ক্রিপ্ট পাঠিয়ে দেয়। সেসব থেকে ইনস্পায়ার্ড হয়ে এই সিঙ্গাপুরেও আমরা টুকটাক চালিয়ে যাচ্ছি। Nothing serious, all fun. এমন কি আমার গায়ে হলুদেও অপুদের সবাইকে পঁচিয়ে একটা নাটক করা হয়েছিল। ছড়া লেখারও শুরু একে-ওকে পচিঁয়ে। বুয়েটের সব ডিপার্টমেন্টকে পঁচিয়ে আমরা (যন্ত্রকৌশল) যে সেরা - সেই নিয়ে লেখা 56/58 লাইনের একটা ছড়া আমাদের ডিপার্টমেন্টের থিম ছড়া হয়ে গেছে যা প্রতি নবীনবরণে আবৃতি করা হয়।

5. আমার আশে-পাশে যারা থাকে, আমার সম্পর্কে তাদের অজানা কিছুই থাকে না। আমি খুবই ট্রানসপারেন্ট একজন। পুরনো ঘটনা সব জানানোর পরে নতুন কিছু ঘটলেই - সে ভালই হোক আর খারাপ হোক - মুহূর্তের মধ্যেই আশেপাশের মানুষজন জেনে যায়। তাদের জানানো আমি কর্তব্য মনে করি। কোনকিছু লুকিয়ে রাখা একেবারেই স্বভাব না।


(ইয়ে...আমার আবার বেশি কথা বলার স্বভাব। পাঁচটায় শেষ করতে পারছি না.....এখনো আরো অনেক কিছু বাকি আছে মনে হচ্ছে.......(আম্মাআআ) .....ধ্যাত!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27580 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27580 2006-12-10 04:26:48
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 7: আবার অ্যালানিস
You've already won me over in spite of me
And don't be alarmed if I fall head over feet
Don't be surprised if I love you for all that you are
I couldn't help it
It's all your fault

তখন মনে হয় আমিও বলি, আমার কোন দোষ ছিল না, ব্যাটা, তুই-ই যত নষ্টের গোড়া। তোর জন্যই এরকম হল। কারণ,

You treat me like I'm a princess
I'm not used to liking that
You ask how my day was

কে বলেছিল এভাবে আমার মন গলাতে? So please...don't be alarmed if I fall head over feet.


যাহোক, এই গানটা আমার খুব প্রিয় একটা গান। অনেক ইনানো-বিনানো ভালবাসার গান শুনেছি কিন্তু নিজের ভিতরের কথা এত সরাসরি, এত নিখুঁতভাবে আর কোন গানে পাইনি। গানটার ভিডিও দেখা যাবে [link|http://www.youtube.com/watch?v=my3yP-w3rtw|GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27377 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/27377 2006-12-08 03:35:43
অপু আর আমি - 7
বুয়েটে যন্ত্রকৌশলে চানস পেলাম। কেমিক্যালে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও মন বেশি খারাপ হল না আর। ক্লাস শুরু হবে সেই বছরের শেষ দিকে। হাতে বেশ লম্বা একটা ফ্রি সময় পেলাম। এসময়ে আমি পাড়ার তিনটা পিচ্চিকে পড়াতাম। ক্লাস থ্রি থেকে ফাইভ পর্যন্ত পড়ত। একেকটা একেক টাইপ। একটা খুব সিরিয়াস তো আরেকটা হাড়ে হাড়ে দুষ্টু। ওদের নিয়ে বেশ মজার সময় কাটে। গল্পের বইও চলছে দুর্দান্ত গতিতে। ছোটকাল থেকে বাসার বুক শেলফে দেখে আসা আম্মার অলটাইম ফেভারিট ইয়া মোটা Gone with the Wind বইটা একদিন সাহস করে পড়া শুরু করেই দিলাম। অসাধারণ একটা বই। এর মধ্যে ভাল গতিতে চলল আমার মেজ বোনের সাথে পাবলিক লাইব্রেরি আর ব্রিটিশ কাউনসিলে সিনেমা দেখার ধুম। মনে আছে, অসম্ভব ভাল লেগেছিল পাবলিক লাইব্রেরিতে The English Patient দেখে। প্রায় এক সপ্তাহ এরপরে ঘোরে ছিলাম। বুকার পাওয়া এই বইটাও আমার মত অতি স্লো রিডার ঐ ঘোরের মধ্যে পড়ে শেষ করে ফেলল। আহা! একটা বই আর তার সেইরকম একটা মুভি বটে।

সেসময় অপু বেশ ক্লাস শুরু করে দিয়েছে ওর ইউনিভার্সিটিতে। স্কুল-কলেজের এক সিলেবাস পেরিয়ে আমাদের দু'জনের হঠাৎ ভিন্ন হয়ে যাওয়া জীবনের গল্প দৈনন্দিন ফোনালাপে কেমন যেন একটা অন্যরকম কিছু এনে দিল। যেন হঠাৎ করে বড় হয়ে যাওয়া। The English Patient দেখে কেমন যেন একটা গভীর অনুভবের মধ্যে ছিলাম সেসময়। অপুকে হাইলি রেকমেন্ড করলাম এই মুভিটা। অপুও পট করে ওটার সিডি কিনে ফেলেছিল মনে আছে। নিজে দেখে আমাকে দিয়ে দিল। সেসময় মুভির সিডি আজকের মত সহজলভ্য ছিল না। সেই সিডি আমি কতবার দেখেছি কে জানে! এত সিনেমা দেখেছি এত সময়, কিন্তু কেন যেন এখনো বুকে নাড়া দিয়ে যাওয়া কোন সিনেমার কথা উঠলে এটার কথাই শুধু মনে হয়। হয়ত সময়ের একটা ব্যাপার আছে। একটা অস্থির সময়ে দেখা বলেই মনে গেঁথে গেছে।

এটা কি আরো পরের ঘটনা, নাকি ঐ সময়েরই? কি জানি। অপুর সাথে এত স্মৃতি যে মাঝে মাঝে স্থান-কাল গুলিয়ে ফেলি। খারাপ লাগে। আবার ভাবি, কি এসে যায়? কোন না কোন সময়, কোন না কোনখানে হয়েছিল তো!

যা হোক, এভাবেই দিন কাটতে লাগল।

সেসময় বাসায় একটা মজার ব্যাপার হল। আব্বা ঠিক করল কম্পিউটার কেনা হবে। আমার আর আমার বোনেদের খুশি দেখে কে! অপু বরাবরই কম্পিউটারে বিশেষ ভাল। ইন্টারনেট বহুদিন ধরে ব্যবহার করছে। ওকে দিয়ে এককালে আমার ছোটমামা আর মামাতো ভাইকে ই-মেইল পাঠাতাম আর ইচ্ছা করে ছোট ছোট চিঠি লিখতাম আর ভাবতাম, আহা! দু'টো লাইন বড় হলে নিশ্চয়ই বেশি পয়সা খরচ হবে! সেসব ভেবে আজকাল প্রায়ই হাসি পায়। তো সেসময় ওর থেকে কম্পিউটারের কনফিগারেশান জেনেছিলাম। কম্পিউটার বাসায় ডেলিভারির সময়ও এসেছিল। কম্পিউটার আর ইন্টারনেটে আমার (এবং আমার থেকে বাসার সবার) হাতেখড়ি হল ওর কাছেই। এরপর থেকে কম্পিউটার আর কম্পিউটারের নানা সমস্যা অপুকে আমার বাসায় নিয়ে এসেছে বহুবার।

ঐ সময়টার কথা ভাবতে গিয়ে একটা ব্যাপার অনুভব করছি খুব। আমি খেয়াল করতাম, আমার যখন কোনকিছুর দরকার হত, এত বন্ধুকে বাদ দিয়ে কেন জানি অপুকেই বলতাম হেল্প করতে। আমি আগেও বলেছি আমার আরো অনেক বন্ধু ছিল, খুব কাছের অনেক বন্ধু। কিন্তু যে কোন দরকারে আমি অপুর কাছেই গেছি বারবার - সে মন খারাপের দিনে কোন সাপোর্টের জন্যই হোক বা আমার বোনের গায়ে হলুদের 25টা কার্ড এঁকে দেয়া জন্যই হোক বা এক্সফাইলসের কোন ছবি প্রিন্ট করে দেবার জন্যই হোক। কেন যেন সব সময়ই মনে হত এই ছেলেটার কাছে কিছু চাইবার আমার অধিকার আছে। এই ছেলেটা আমার।

যা হোক, ইন্টারনেট সেসময় একটা অদ্ভুত জগতে নিয়ে গেল। বন্ধু তানজিমার থেকে অনেক শুনেছি চ্যাটের কথা। অপুকে বললাম চ্যাট করতে চাই। সে আমাকে ইয়াহুতে চ্যাট করার পথ বলে দিল। আমি কিন্তু তানজিমার বদৌলতে আই আর সি'র খবর জানি ততদিনে। অপুকে সেটা দেবার জন্য খুব গুঁতালাম। ভীষণ অনিচ্ছার সাথে একদিন ইনস্টল করে দিয়ে গেল।

এভাবেই চলছিল। মাঝখানে স্কুলের অন্য বন্ধুগুলো জানি কি এক খেলা শুরু করে দিল। বেশ হঠাৎ করেই। অপুর সাথে ওদের সেসময় কেন যেন একটু যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। আমার সাথেই বেশি ছিল। অন্য বন্ধুরা সেসময় একে-ওকে নিয়ে টিজ করা শুরু করল। আমার সাথে হয়ত অপু বা জাবের বা অন্য কাউকে নিয়ে ঠাট্টা। আমিও অপুকে আবার সেই কথা রিলে করি। সবসময়ই ঠাট্টার মধ্যেই থাকে। যেন নতুন কিছু না, স্কুলের কোন ঠাট্টারই কনটিনিউয়েশান।

কিন্তু 1998 এর অক্টোবরের 22 তারিখে কেন জানি আমাদের দৈনন্দিন ফোনালাপ এই পুরনো টিজিং এর বাঁক ধরেই বেশ সিরিয়াস হয়ে গেল। কি কি কথা হচ্ছিল পরে অনেকবার ভেবে দেখার চেষ্টা করেছি - কিন্তু আশ্চর্য! মনেই পড়ে না। আমার তখনো মনে অনেক দ্্বন্দ্ব ছিল আসলেই অপুর মনের ভাব কি সেটা নিয়ে। ভুল ভাবছি না তো - এরকম মনেই হত। তাই ঠাট্টাগুলোও ঠাট্টাই ছিল। কিন্তু সেদিন হঠাৎ করেই অপু কি জানি বলে ফেলল হুট করে। 'সবাই টিজ করছে অন্য ছেলেদের নিয়ে? behind my back? নাহ! এখন তো কিছু করতেই হয়!' আমি সেটাতেও হাসছি - 'হা হা ! করলেই তো পারো!'

কিন্তু তারপর, তারপর হঠাৎ করেই দু'জনেরই হাসি বন্ধ হয়ে গেল সেদিন। এখন ভাবতে অবাক লাগছে, এতদিনের এত ঘটনা, ঘটনার ভিতরে লুকিয়ে থাকা না থাকা কোন ঘটনা আর সেটা নিয়ে ভাবতে থাকা, এত ঝগড়া, এত গান - কি করে ঐদিনের ঐ মুহূর্তে এসে থেমে গেল! সত্যি বলছি, ব্যাপারটা ঐদিন আমরা কেউই এক্সপেক্ট করিনি একদম। এত বড় একটা ব্যাপার - কত মানুষ শুনেছি কত কিছু করে- চিঠি লেখে, বন্ধুকে পাঠায় মনের খবর জানাতে, ভালবাস কি বাস না - সেই আলটিমেট প্রশ্নের উত্তরের জন্য সারা বিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই কারো না কারো কত প্রস্তুতি! আর আমরা? সেদিনের ঠাট্টার মাঝেই যেন একসাথে হঠাৎ উপলব্ধি। খুব অনানুষ্ঠানিকভাবে। খুব গভীর কোন ভালবাসার প্রতিশ্রুতিমাখা ডায়ালগ ছাড়া। এতদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট টুকরো ঘটনা আর অবসরে শোনা গানে হয়তো ছিল সেইসব প্রেমপত্র, সেইসব প্রতিশ্রুতি, সেইসব ভালবাসা। তাই হবে।

কিন্তু মেমরি এভাবে বিট্রে করছে কেন? কি কি কথা হয়েছিল আর? এত খুঁটিনাটি মনে আছে কিন্তু এরকম একটা জীবন বদলে দেয়া কথোপোকথন কেন মনে পড়ছে না? না কি ঘোরে ছিলাম সেসময়? হয়তো। যতদূর মনে পড়ে, নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে অপু হঠাৎ প্রশ্ন করেছিল,'আমাদের সম্পর্ক কি আরো বেশিদূর যেতে পারে না?'

কয়েক বছরের দ্্বন্দ্ব যেন এক মুহূর্তে উড়ে গেল সেদিন। আমি তার উত্তরে কি বলেছিলাম মনে নেই। ফোন ছাড়ার আগে বলেছিলাম,'এবার বুঝতে পারো, অন্য কাউকে না নিয়ে কেন তোমাকে নিয়েই শুধু এত চিন্তা? কেন তোমার কিছু হলেই আমার এসে যায়?'

22 শে অক্টোবরেই একটা happy ending এর সূচনা হতে পারত। কিন্তু হল না। মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বাস্তবতা।

এরপরের চারটা দিনের ঘটনা ভাবলেও ঠিকমত মনে পড়ে না। ভালবাসার বিহবলতা আর বাস্তবতার নিষ্ঠুরতায় ঘেরা অদ্ভুত এক ঘোরের ক'টা দিন।

সেসময়টুকুর কথা আরেকদিন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/21977 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/21977 2006-10-19 17:00:28
হঠাৎ এক সন্ধ্যায়
যা হোক, আজকে এটাই তুলে দিলাম।



[গাঢ়]হঠাৎ এক সন্ধ্যায়[/গাঢ়]


সন্ধ্যার আগমন রাস্তাটা নির্জন
দূরে গান শোনা যায় মাইকে,
এদিক-ওদিক দেখে ছুরিটা পকেটে রেখে
উঠে পড়ি তিনজন বাইকে।
চাকরি-বাকরি নাই ছিনতাই করি তাই
ব্যবসাটা কিঞ্চিৎ রিস্কি -
পকেট আর ব্যাগ ফাঁকা করে মোরা পাই টাকা
টানি সিগারেট, খাই উইস্কি।
ঐ যে যাচ্ছে দেখা কে ঐ আসছে একা,
কাল্লু বলল, 'দোস্ত, রেডি থাক -
দুল যদি থাকে কানে ছিঁড়ে নিবি একটানে,
দেখিস করে না যেন হাঁকডাক'।
বাইকটা ঘুরিয়ে নিয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে
চলে যাই রিকশার নিকটে।
মনে মনে বলি,'ওরে, দু'এক মিনিট পরে
দ্যাখ ভাল করে মজা কি ঘটে!'
'যা কিছু আছে সাথে তাড়াতাড়ি দিন হাতে
না হয় ফেলব চেঁছে চামড়া' -
এই ডায়ালগ ঝেড়ে ব্যাগটাকে নিয়ে কেড়ে
অ্যাকশানে নেমে পড়ি আমরা।

কিন্তু হঠাৎ একি! দু'চোখে সর্ষে দেখি
কে এল প্রাণে ভীতি জাগাতে?
মাজার হাড় ক'খানি ভেঙে গেছে ঠিক জানি
ক্যারাটের নিদারুণ আঘাতে।
অদ্ভুত এক ঘোরে কোনমতে উঠে পড়ে
দেখি পলায়নরত দুইজন
বলছে আমায় ডেকে, 'তাড়াতাড়ি পড় ভেগে,
জান বাঁচা, ছুট দে প্রাণপণ'।

বাঁচার কোন উপায় হল না যে মোর হায়
কলার ধরল চেপে তখুনি -
রিকশার মেয়েটাকে বড় বেশি ভয় লাগে
মনে হয় যেন এক শকুনি।
আমার কলার ধরে বলল ভীষণ জোরে,
'আমায় চিনতে নাহি পেরেছিস -
কতকিছু ভেঙে-চুরে ক্যারাটে শিখেছি, ওরে,
ভুল করে তুই আজ মরেছিস!
পড়েছি VNC তে জানি তোকে টাইট দিতে
ঘুরে আসি হাজতটা চল যাই -
সেখানে যাবার পরে একপায়ে কান ধরে
বলবি - ছাড়িয়া দেব ছিনতাই'।

হাজতেরই এক কোণে বসে ভাবি মনে মনে
ছেড়ে দেব বিশ্রী এ ব্যবসা -
মাজাটা গিয়েছে বেঁকে সারারাত থাকি জেগে
ফিউচার আমাদের ঝাপসা ।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20784 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20784 2006-10-03 15:09:29
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 6
গানটা উৎসর্গ করলাম আমার মা আর অপুকে - আমার দুই প্রিয় বন্ধু, খুব মন খারাপের সময় যাদের কথা ক্রমাগত মনে হতে থাকে আর ভাবি how I wish, how I wish you were here......

Pink Floyd এর 1994 এর একটা লাইভ শো-এ গাওয়া গানটার ভিডিও দেখা যাবে [link|http://www.youtube.com/watch?v=Hj1L5jxlY4U&mode=related&search=|GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20600 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20600 2006-10-01 16:17:02
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 5 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20466 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20466 2006-09-30 04:27:11 প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 4
I walk a lonely road
The only one that I have ever known
Don't know where it goes
But it's home to me and I walk alone

I walk this empty street
On the Boulevard of Broken Dreams
Where the city sleeps
and I'm the only one and I walk alone

I walk alone
I walk alone

I walk alone
I walk a...

My shadow's the only one that walks beside me
My shallow heart's the only thing that's beating
Sometimes I wish someone out there will find me
'Til then I walk alone

Ah-ah, Ah-ah, Ah-ah, Aaah-ah,
Ah-ah, Ah-ah, Ah-ah

I'm walking down the line
That divides me somewhere in my mind
On the border line
Of the edge and where I walk alone

Read between the lines
What's fucked up and everything's alright
Check my vital signs
To know I'm still alive and I walk alone

I walk alone
I walk alone

I walk alone
I walk a...

My shadow's the only one that walks beside me
My shallow heart's the only thing that's beating
Sometimes I wish someone out there will find me
'Til then I walk alone

Ah-ah, Ah-ah, Ah-ah, Aaah-ah
Ah-ah, Ah-ah

I walk alone
I walk a...

I walk this empty street
On the Boulevard of Broken Dreams
Where the city sleeps
And I'm the only one and I walk a...

My shadow's the only one that walks beside me
My shallow heart's the only thing that's beating
Sometimes I wish someone out there will find me
'Til then I walk alone...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20325 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/20325 2006-09-28 14:04:37
অপু আর আমি - 6
সেসময় আমার দিন কিভাবে কাটত, আজ এতদিন পরে সেটা ভেবে বেশ অবাক লাগছে। বেশ লম্বা ছুটির মধ্যে ভর্তির জন্য পড়াশোনা আর তারই ফাঁকফোকড়ে পাড়ার পিচ্চিদের পড়ানো। সাথে গল্পের বই তো আছেই। পড়া বাদে বাকি সব নিয়ে বেশ মজার একটা সময়ের মজার কিছু অভিজ্ঞতা।

কলেজের বন্ধুদের মধ্যে রওনক, নাঈমা আর তানজিমা ছিল আমার সবচেয়ে কাছের। আমরা সবাই সবকিছুই শেয়ার করতাম। ওরা সবাই জানত আমার স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে অপু ছাড়াও জারির আছে, সনি আছে, জাবের আছে। আমরা সবাই কার্ড আদান-প্রদান করি যেকোন বিশেষ দিনে। সেগুলোয় অপু আর জাবের হয়তো লিখেছে খুব কাব্যিক কোন মেসেজ আর জারির হয়তোবা আমি ওকে যেই কার্ড পোস্ট করেছি সেটার খরচ বাবদ পাঁচ টাকার একটা ব্যাংক চেকই পাঠিয়ে দিয়েছে (আসলেই ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ টাকার চেকটা আমার কাছে এখনো আছে। পরেরবার পাঠিয়েছিল পাঁচ টাকার কয়েন, কার্ডের ভিতর পোস্ট করে। ওর সেনস অফ হিউমারের জুড়ি নেই।) রওনক, নাঈমা, তানজিমাকেও দেখাই। সবাই মজা পায়। তানজিমা ছাড়া সবাই কো-এড থেকে এসেছি, ছেলে বন্ধু সবারই আছে - তাই এটা এমন কোন আশ্চর্য ঘটনা না। তেমন দাগ ফেলেনা ঠিক ওদের মনে। আমারো হয়তো সেভাবে ফেলত না। কিন্তু শুধু আমিই '96 এর ঐ ঘটনার পরে অপুর কার্ডের আরো অন্য কোন গভীর অর্থখুঁজে বেড়াই।

এরপর থেকে শুরু হল ঝগড়া। কথা নেই বাতর্া নেই হুটহাট লেগে যায়। কেন এটা বললে বা কেন এটা বললে না - ব্যস লেগে গেল। আমিও যেন এত বন্ধুদের মাঝে শুধু ওকেই বেছে বেছে বাজে কথা বলি। মাঝখানে মনে আছে একবার খুব ঝগড়া লাগল আমাদের এইচ এস সি'র রেজালটের পরপরই। আমি ওকে খুবই কুটনির মতই খোঁটা দিলাম যে ও আমার থেকে 121 নাম্বার কম পেয়েছে। আর যায় কোথায়! এমনিতে ঠান্ডা অপুকে যেন ঠিক পয়েন্টে হিট করলাম। ফলস্বরূপ কিছুদিন কথা বন্ধ। এই 121 নাম্বার নিয়ে ঝগড়ার রেশ এবং রেফারেনস চলল অনেকদিন।

শুধু যে ঝগড়া চলল তা নয়। আমরা যেন দুই এক্সট্রিমে চলা শুরু করলাম। হয় খুব খাতির - গান শুনছি আর শোনাচ্ছি ফোনের এপ্রান্ত থেকে সে প্রান্ত আর না হয় কুৎসিত কোন ঝগড়া আর তার পরবতর্ী কিছুদিনের ব্রেক।

এর মধ্যে একটা জন্মদিনের কার্ডের মেসেজ পড়ে আমি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এ ছেলের আসলেই ফিলিংস আছে। কি লিখেছিল ঠিক পুরোটা মনে নেই, তবে শেষটুকু ছিল এরকম কিছু -
'...... শুধু একটা মানুষের জন্য মন খারাপ করা মুহূর্তগুলো দীর্ঘ হয় না। এই মেয়েটা মনে হয় কোনদিনই আমাকে মন খারাপ থাকতে দেবে না!'
এটা পড়ে আমার বড়বোন তো মুগ্ধ! আহা! কি কিউট! (আমার বড়বোন আমার থেকে বেশ বড় আর ছোট থেকে আমাকে রেখেছে বলে এখনো কোন বাচ্চার উদাহরণ দিতে গেলেই আমার উদাহরণ দেয়। আমাদের যেকোন কিছুই ওর কাছে খুব কিউট।) ও অপুর বেশ ফ্যান হয়ে গেল। আম্মার রিঅ্যাকশান এতটা আশাজনক হল না। আম্মা এই মেসেজ দেখে আর ফোনের ঝগড়া দেখে আমাদের আগেই টের পেল ঘটনা মোটেও সুবিধার দিকে যাচ্ছে না। মেজবোনও মোটামুটি সেই দলেই। কিন্তু এই কার্ডটায় আমি বুকে পানি পেলাম। যাক, বরফ তবে গলছে! সাহস হচ্ছে তবে!

এখন যদি খুব খুঁটিয়ে ভেবে দেখি, তবে অপুর জন্য বোধ করি ব্যাপারটা ততটা সহজ ছিল না। আমি বরাবরই সিভিয়ার মারদাঙ্গা। একটা বেফাঁস কিছু বললেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠি। যা ইচ্ছে তাই বলে ফোন রেখে দেই এবং এরপর ফোন করলেই রেখে দেই। আমার মনেও যে অন্য কিছু খেলা করছে - সেটা ও-ই বা বুঝবে কিভাবে? একবারের ঘটনা মনে পড়ছে। তখন The Corrs ব্যান্ডটার গান বেশ চলছে। অপু কি মনে করে জানি একদিন ফোনে কথা বলার ফাঁকে The Corrs এর 'What can I do to make you love me?' গানটা ছাড়ল। আমিও কম বদমাইশ না। আমি বললাম, এ গানটা ভাল, তবে আমার কিন্তু যাই বল The Corrs এর এই অ্যালবামের 'I never really loved you anyway' গানটা বেশি ভাল লাগে। অপুর আশার বেলুন বোধ করি সেবার বেশ নিষ্ঠুরভাবেই ফাটিয়ে দিয়েছিলাম।

যা হোক, এভাবেই দিন যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই আবার একদিন কেন যেন ঝগড়া লেগে গেল। আশ্চর্য! সেসময়ের লাইফ এন্ড ডেথ মাকর্া ঝগড়ার কারণগুলো যেন কবেই ধুলোয় মিশে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না। অনেকদিন কথা বন্ধ। ভাব হল ওর জন্মদিনের দিন। ফোন করব করব না করেও করে ফেললাম। অপুও বেশ ভাব নিয়ে কথা বলল। আবার কিছুদিন ভাল গেল। কিন্তু এরপর আবার যেন কি নিয়ে আরেকদিন লেগে গেল। এবার বিচ্ছেদটা প্রায় ছয় মাসে গিয়ে দাঁড়াল।

মাঝখানের এই ছয়মাসে অনেককিছু ঘটে গেল। অপুর ইউনিভার্সিটির ক্লাস শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ করেই চানস পেয়ে পড়া শুরু। ওর যে ওখানে পড়ার ইচ্ছা সেটা জানতামও না। কমন বন্ধুদের থেকে খবর পাই। আর ভাবি আহা! ঝগড়াটা না করলেই হত। কিন্তু তারপরেও ফোন করা যাবে না। দুর্বলতা শো করার মানেই হয় না। আমার মারদাঙ্গা ভাব বজায় রাখা তো চাই at any cost! কিন্তু শুধু কি আমি? অপুও কেমন যেন নিষ্ঠুর হয়ে গেল। আমার থেকে শিখেই হয়তো। ফোনই করেনা। আমার কোন ফোন আসলেই খুব আগ্রহ নিয়ে ধরি। ভাবি, সেই প্রিয় গভীর গলাটা হয়তো শোনা যাবে। কিন্তু তা আর হয় না। আমিও না না প্ল্যান করি। একবার ভাবি ফোন করে অঞ্জন দত্তের 'একটা বন্ধু হতে কি পারবে তুমি আমার' শোনাই - আবার ভাবি, না থাক। ভুলেই থাকি - কিন্তু হুটহাট হঠাৎ আবার মনে পড়ে মন খারাপ হয়ে যায়। ইস্টার্ণ প্লাজায় যাওয়ার পথে হাতিরপুল বাজারের উলটা দিকের 'অপু জেনারেল স্টোর'টাও যেন অপুকে ফোন করার কথা মনে করিয়ে দেয়।

এর মধ্যে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেল। কোচিং এ ফাঁকি মারার ফল পেলাম। আমার বাবার যেখানে ধারণা ছিল আমি প্রথম 50 এর ভিতরে থাকব (কেন কে জানে!) সেখানে আমার সিরিয়াল দেখা গেল 599! বাসায় বেশ একটা কাল ছায়া নেমে এল যেন। কেমিকেলে পড়ার যে ইচ্ছাটা ছিল সেটা মনে হয় না হচ্ছে। মন-টন খুব খারাপ সেসময়। এরকমই একটা দিনে হুট করেই একদিন অপুর ফোন এল। কোন এক বন্ধুর কাছে শুনেছে। আমার কড়া বাবার কথা ও খুব ভাল করেই জানে। সব মিলিয়ে আমার যে বেশ মন খারাপ এটা জেনেই যেন ফোন করা। আমার খুব খারাপ একটা সময়ে ওর এই ফোনটা আমার জন্য খুব বড় একটা ব্যাপার ছিল। Like so many other occasions, I was touched by something Apu did...again.

এরপর কেন জানিনা, আমরা হঠাৎ করেই বেশ বড় হয়ে গেলাম মনে হয়। ঝগড়া পুরো বন্ধ হয়ে গেল তা ডেফিনিটলি নয় কিন্তু সেরকম বিশাল লম্বা বিচ্ছেদ আর হল না। আমার ক্লাস শুরু হতে তখনো অনেক দেরি। বেশ ফ্রি সময়। অপু ক্লাস করে আর আমি ওর গল্প শুনি প্রতিদিন। গান শুনি আর শোনাই খুব। আমি অঞ্জন দত্তের ফ্যান আর ও সুমনের। এই নিয়েও এককালে খুব ঝগড়া হত। আমি অঞ্জন বলতে অজ্ঞান - আর ওর তখন ভালই লাগেনা। সুমনের জন্যও ফিলিংস vice versa. এর মধ্যে একদিন হুট করে অঞ্জন ঢাকায় চলে আসল। আমার বোনেরা শেষ শো'র টিকেট কিনল - তিন বোন মিলে যাব। প্রথম শো'র আগে কুরিয়ারে আমি সেই শো'র দু'টো টিকেট পেলাম। অপু পাঠিয়েছে। আমার মন ভাল করার জন্য। ওর সাথে যাবার উপায় ছিল না তখন। আমার বড়বোনকে দিয়ে দিলাম। But that will always remain the best gift anyone had ever given me. আমার বড়বোন শো শেষে টিকেটের ছেঁড়া অংশগুলো নিয়ে আসল। এখনো সেগুলো আমার কাছে সযত্নে রাখা আছে। অনেকদিনের বিচ্ছেদের পরে বুকের ভিতর এবার অপু র জায়গাটা যেন আরো অনেক পোক্ত হল।

অঞ্জন আর নিমা রহমানের 'গানে গানে ভালবাসা' সেসময়ে আমাদের ফোনের কনভার্সেশানে ফিরে ফিরে আসত। ওটার ঢাকা আর কলকাতা - দুই ভার্সানের দুইটা গান 'তোমায় দিলাম' (পরশপাথরের গাওয়া এখানে, পরে মহীনের ঘোড়াগুলিরটা শুনি) আর 'আজ বসন্ত' মনে হত আমাদের গান। কথাগুলো যেন আমাদেরই -
'আজ হোক না রঙ ফ্যাকাশে
তোমার আমার আকাশে
চাঁদের হাসি যতই হোক না ক্লান্ত-
বৃষ্টি নামুক নাই বা নামুক
ঝড় উঠুক নাই বা উঠুক
ফুল ফুটুক নাই বা ফুটুক
আজ বসন্ত।'

বৃষ্টি হলেই অপুকে ফোন করা চাই। ফোন কোলে নিয়ে বৃষ্টি দেখা আর গান শোনা। বৃষ্টি আর গানের মধ্য দিয়ে আরো কাছাকাছি আসা। আহ! সেটা একটা সময় ছিল বটে!


(অনেকক্ষণ ধরে স্মৃতি হাতড়াচ্ছি আর লিখছি। এখন দেখি মাথা ঝিমঝিম করছে। এ পার্টে শেষ করব ভেবেছিলাম, কিন্তু ভাবতে ভাবতে আর লিখতে লিখতে দেখি এখনো শেষ হচ্ছে না। কি আর করা.....)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/19355 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/19355 2006-09-18 14:24:51
তেলক আয়ার স্ট্রিট
কোথাও যাওয়া না হলেও বইটা আমি প্রায়ই উলটে দেখি। প্রায় প্রতিবারেই একটা পাতায় এসে আমি আটকে যাই। একটা অদ্ভুত দোকানের ছবি। দোকান না, যেন একটা junkyard. দোকানের কোন জায়গা খালি নেই, চারিদিকে ছড়ানো ছিটানো জিনিসপত্র। পুরনো বইপত্র-ঘড়ি-মালা থেকে শুরু করে পাখির খাঁচা পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের চেনা-অচেনা জিনিসের ভিড়ে কিছু মুখোশও যেন উঁকি দেয় আর সেই কারণেই আমার এত আগ্রহ। যেখানেই কোন মাস্কের ছায়া দেখি, আমি সেখানেই হাজির।

দোকানটার নাম Odds 'N' Collectables, 128 তেলক আয়ার স্ট্রিটে। আমাদের নিত্যদিনের বাড়ি-ল্যাব-বাড়ির রাস্তা থেকে অনেক ভিন্ন পথে। বহুদিন ধরেই টিনাকে বলছিলাম আমার সাথে যেতে - হয়নি। সাদিক, সাজিদ আর ইন্দ্রনীলকেও বহুবার বলেছি 'চল' - তাও হয়নি। এমন কি একদিন ইরানী বন্ধু সাঈদের সাথে বেরও হয়েছিলাম, কিন্তু বাসে ওঠার পরে বই খুলে ও-ই বের করেছিল যে দোকানটা 6টায় বন্ধ হয়ে যায় আর তখন অলরেডি সোয়া সাতটা। যাই হোক, আজকে বিকাল যখন হাতে একটু সময় পেলাম তখন ভাবলাম, নাহ, আজকে যেতেই হবে। 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে'।

দুটো বাস বদলে পৌঁছে গেলাম তেলক ব্লাংগা'র বেশ কাছে (সবচেয়ে কাছের এম আর টি তানজং পাগার)। এরপরে একটু হাঁটলেই তেলক আয়ার স্ট্রিট। হাঁটতে হাঁটতে তেলক আয়ার স্ট্রিট আর তার সাথে আমোয় স্ট্রিট বলে আরেকটা স্ট্রিট খুঁজে পেলাম। তেলক ব্লাংগা'র হাই-রাইজের মাঝখানে এ দুটো রাস্তাতে হঠাৎ করেই কিছু ছোট ছোট শপহাউজ। বেশিরভাগই রেস্টুরেন্ট, কিছু বিউটি পারলার আর স্পা, আর বাকিরা ক্যাফে আর পাব। মাস্কের মতই পুরনো/নতুন শপহাউজ আমার আরেকটা প্রিয় জিনিস। তাই বেশ ভাল লাগা শুরু হল।

তখন বিকাল প্রায় সাড়ে পাঁচটা। কিন্তু এর মধ্যেই পুরো জায়গাটা বেশ নির্জন হয়ে এসেছে। দোকান-পাট প্রায় সব বন্ধ। খুঁজতে খুঁজতে আমার সেই দোকানটা পাওয়া গেল। ছবির মতই পুরোপুরি। কি আছে আর কি নেই! পুরো দোকানে একটা ফোঁটাও ফাঁকা জায়গা নেই। পুরনো বইপত্র, ছবি, মুর্তি, টেলিফোন, টিভি, রেডিও, ঘড়ি, খাঁচা, ঝুড়ি, নানা রকম শোপিস - কি নেই সেখানে! দোকানের মালিকের কথা আগেই পড়েছিলাম। জুযের সাইফি নামের এক প্রাক্তন অ্যাডভার্টাইজিং প্রফেশনাল। আজকে সামনাসামনি দেখা হল। আমি পুরোটা চক্কর দিয়ে, চিপার ফাঁক দিয়ে একটা টিনের প্লেট পায়ের উপর ফেলে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি দেখে জিজ্ঞেস করলেন কি খুঁজছিলাম। আমি বললাম, মাস্ক । যে দু'একটা ছিল দেখালেন কিন্তু ভাল লাগেনি। বললেন যে মাস্ক থাকে না, বিক্রি হয়ে যায়। টুকটাক গল্প হল আরো - কোন দেশী, কি করছি, কোথেথকে জানলাম - এই সব। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা দোকানের ইন্টারেস্টিং মালিক। পুরনো সব বিবর্ণ জিনিসের মাঝে খুব স্পিরিটেড এক জোড়া প্রাণবন্ত চোখ। ভাল লাগল খুব। আবার আসব বলে বের হলাম।

তারপর দু'টো রাস্তায় হাঁটলাম কিছুক্ষণ। কিছু Buddhist Temple আর মসজিদ চোখে পড়ল। ছোট্ট সিঙ্গাপুরের আরো কতখানে এখনো যাওয়া হয়নি ভেবে অবাক হলাম।

যেকোন রেস্টুরেন্ট এরিয়ায় আমি থাই ফুডের দোকান খুঁজে বেড়াই। এখানেও পেয়ে গেলাম Tuk Tuk Thai Kitchen নামের একটা দোকান। ব্যাস! ঢুকে পড়লাম। সেখান থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁেছ গেলাম Far East Square বলে আরেকটা মজার জায়গায়। সেখানে একদিকে ফুটপাথ জুড়ে যে যার মত পুরনো জিনিস-পত্র বিক্রি করছে আর আরেকদিকে কিছু বুড়োবুড়ি মিউজিকাল যন্ত্রপাতি বাজিয়ে গান-বাজনা শুরু করেছে। বেশ একটা ফেস্টিভ ভাব। ওখানেও কিছুক্ষণ মুখোশের সন্ধানে ঘুরলাম - পেলাম না। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটা পুরনো ইস্যু কিনলাম 1 ডলার দিয়ে। কাভারে প্রাচীন মিশরীয় একটা মুখোশ - দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো।

এই দিকে আসিনি কোনদিন। হঠাৎ করেই যেন পুরনো কোন এক নগরীতে চলে এসেছি মনে হচ্ছিল। চারদিকে ছড়ানো ছিটানো পুরনো আমেজ। পুরো সন্ধ্যাটাই কেমন যেন ঘোরে কাটল। কিছু ছবি তুললাম, তেমন ভাল হল না। অদ্ভুত দোকানটার ছবি তোলা হয়নি, মনে হয় না অনুমতি পেতাম।

ফেরার পথে হারবারফ্রান্ট হয়ে ফিরলাম। পুরনো এক শহর থেকে যেন অত্যাধুনিক কোন নগরীতে প্রবেশ করলাম। কোন মিল নেই। তখনো ঘোর কাটছে না। বাড়ি ফেরার বাসে আমার আর আরেক ভারতীয় ভদ্রমহিলার মাঝখানে একটা পিচ্চি এসে বসে খুব জোরে-সোরে মাথা চুলকাতে লাগল। তাই দেখে আমি আর সেই অচেনা ভদ্রমহিলা একটা হাসি বিনিময় করলাম। পুরোপুরি অচেনা কারো সাথে হঠাৎ করেই এভাবে মুহূর্তের জন্য ভাবনা এক হয়ে যায়। অদ্ভুত! নাহ! পৃথিবীটা আসলেই একটা ইন্টারেস্টিং জায়গা।

এভাবেই আমার আজকের সন্ধ্যাটা কাটল বেশ অদ্ভুত এক ঘোরে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/18153 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/18153 2006-09-02 15:55:52
অপু আর আমি - 5
1996 সালের অগাস্টের 1ম দিনে গেলাম তানজিমাদের বাড়ি।ওর জন্মদিন বলে মহা ফুর্তিফুর্তি ভাব। ওখানে আমরা যারা চেনা বন্ধু ছিলাম তারা ছাড়াও আরেকজনের সাথে পরিচয় হল। একটা বেশ ভাল ছেলে। চুপচাপ ধরনের। গল্প করতে করতে দেখা গেল আমাদের কিছু কমন আত্মীয় আছে। আমার সাথে খুব shy ধরনের কেউ যে কিনা হুট করে অচেনা কারো সাথে গল্প করতে পারেনা তাদের খুব সুবিধা হল যে তাদের প্রায় কোন effort দিতে হয় না to keep the conversation going. আমি একাই চালিয়ে নিতে পারি। এত কথা বলি যে অন্যদিকে কারো না বললেও চলে যায়। সেদিনও মনে হয় সেরকমই হয়েছিল। ছেলেটাকে বেশ ভালই লাগল।

অপু সেসময় আমার বেস্টফ্রেন্ডের মত। আমি তখনো ভাবছি, এই মদন ডেফিনিটলি আমাকে কোনদিনই কিছু বলতে পারবে না। আমার ভুল ধারণাও হতে পারে। যেরকম আঁতেল টাইপ - তাতে এসব নিয়ে এর ভাবারও কথা না। যা হোক, সেদিন বাসায় ফিরে অপুকে ফোন করে অনেক রসিয়ে রসিয়ে এই ছেলেটার গল্প করলাম। গল্পটা করার একটা গোপন উদ্দেশ্য ছিল ওকে একটু বাড়ি মেরে পরীক্ষা করে দেখা। এবার যদি বাছাধন মুখ খোলে! কিন্তু বাড়ি মেরে দেখা গেল অপু নির্বিকার! নিজের মনের কথা প্রকাশ তো দূরের কথা, আমাকে উলটা খুবই উৎসাহ দিল এ ছেলেটাকে নিয়ে। আমি হতাশ। মনে মনে ভাবলাম, বাহ! এতদিন তাহলে আমি ভুল ভেবে গেলাম!

পরদিন কলেজে গিয়ে মজার ঘটনা শুনলাম। তানজিমা দেখি হাইলি এক্সাইটেড! ঐ ছেলে নাকি ঐ একদিনেই আমার প্রেমে পড়ে গেছে! সেসময়ে কলেজের বোরিং জীবনে এটা একটা উত্তেজনা উদ্রেক করার মতই ঘটনা বই কি! ছেলেটার সব ক্রেডেনশিয়াল বেশ ভাল। তানজিমার অনেক দিনের চেনা। ফ্যামিলি ফ্রেন্ড। একটাই সমস্যা - বাইরে পড়ে, ছুটিতে এসেছিল, ক'দিন বাদেই চলে যাবে। অনেক ছেলে বন্ধু থাকলেও আমি বরাবরই love ব্যাপারটা নিয়ে বেশ স্কেপটিক, বিশেষ করে প্রথম দেখায় বা একদিনের পরিচয়ে প্রেমের ব্যাপারে। তাই বললাম, আমার সন্দেহ আছে, কথা বলে দেখতে হবে। কিন্তু সময় খুব কম।

বাসায় ফিরে as usual অপুর সাথে শেয়ার করলাম। অপুও দেখি খুব নরমাল। আমাকে আরো জোরেসোরে উৎসাহ দেয়া শুরু করল। আমার প্রতি অপুর ফিলিংস যে আসলে বন্ধুসুলভ, আমিই যে বেশি-বেশি ভেবেছি - সে ধারণা বদ্ধমূল হল। ভেবে দেখলাম, এই ছেলেটার সাথে কথা বলেই দেখি না, ঘটনা কি হয়!

পরদিন না তার পরদিন ছেলেটা খুবই ভয়ে ভয়ে ফোন করেছিল মনে আছে। আমি যেমন ছেলে-মেয়ে যেকোন কারো সাথে অতি ফ্রি - এ ছেলে দেখা গেল তার উলটা। গলা শুনেই বোঝা গেল বেচারা অতি নার্ভাস। আমি বেশ ডাইরেক্টলি জিজ্ঞেস করলাম, Why? একদিনে আমাকে কেন ভাল লাগল? ছেলেটা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, You're so lively, vivacious...you're everything I'm not.

আগেই বলেছি, আমি বরাবর love এর ব্যাপারে সতর্ক। স্কুল-কলেজের বন্ধুদের এত বেশি না জেনে-না বুঝে ভুল করতে দেখেছি যে প্রচুর ছেলে বন্ধু থাকলেও সেভাবে কাউকেই কোনদিন চানস দেইনি। There would always be a limit. বিশেষ করে এরকম একদিনের পরিচয়ে ভুল করার মত আমি ছিলাম না। তারপরেও ছেলেটার এই কথাটা মাথায় আটকে গেল। আরেকটা ব্যাপার আটকাল, সময়। ছেলেটা চলে যাচ্ছে, তাই আমার তাড়াতাড়ি কিছু ভাবতে হবে। আবার তাই অপুর সাথে শেয়ার করলাম। দেখি ও কি বলে।

অপু যা বলল তা হচ্ছে, This is your chance. এ সুযোগ হারানো উচিত হবে না। ছেলেটা ভাল মনে হচ্ছে। রাজি হয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আগেই বলেছি ছেলেটার অন্য সবকিছুই বেশ ভাল ছিল। যা হোক, ঘটনার আকস্মিকতায় আর অপুর নির্লিপ্ত উলটা উসকানিতেই হয়ত আমি পট করে ছেলেটাকে বলে ফেললাম যে আমি আছি। At least সামনের এক বছর, ওর আবার দেশে ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি।

এরপর ছেলেটা চলে গেল। বেশ ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, ওকে বলার পরপরই আমার চোখ খুলে গেল। হঠাৎ করে প্রথমবারের মত love ব্যাপারটা আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা শুরু হল। আর আমি প্রথমবারের মত টের পেলাম যে আমি অপুকে ছাড়া আমার সামনের দিনগুলো ভাবতে পারছি না। মানুষ কেমন করে প্রেমে পড়ে বা ভালবাসা অনুধাবন করে আমি জানিনা। তবে আমি এভাবেই করেছিলাম। খুব সিম্পলি। আমি ভেবে দেখলাম, এই ছেলেটাকে চিনিই না, ওকে ছেড়েই ছিলাম এতদিন, পরেও থাকা যাবে, কিন্তু অপুকে ছাড়া সম্ভব নয়। অপুর সাথে আমি প্রতিদিন যা শেয়ার করি সেটা ছাড়া কিভাবে থাকব? আর অন্য কারো সাথে থেকেও এভাবে অপুর সাথে সবকিছু শেয়ার করে যাওয়া তো সম্ভব না! সেতো প্রায় টু-টাইমিং এর মত হবে। খোদা! এখন কি করব?

যা হোক, সে যুগে ইন্টারনেট এত সুলভ নয়। আমার তখনো কম্পিউটারই নেই। চিঠি চালাচালিরও তেমন রাস্তা নেই। তানজিমাই ভরসা। ওকেই বলে দিলাম জানিয়ে দিতে যে আসলে যা বলেছি সেটা ক্ষণিকের মোহই হবে। এর বেশি কিছু বোধ করি এরকম বিনা যোগাযোগে সম্ভব না। ছেলেটা বেশ দুঃখ পেয়েছিল মনে আছে, যদিও আমি বিশ্বাস করি সেটা কাটিয়ে ওঠাও খুব শক্ত ছিল না। একদিনের চেনা একজনকে ভুলতে আর কতই বা কষ্ট? আমার আর অপুর মত স্মৃতির পাহাড় তো আর নেই সেখানে। পরের বছর দেশে এসে ফোন করেছিল। ওর সাথে বোধ হয় ঐ একবারই দেখা আর দু'বার ফোনে আলাপ। আমার সবসময়ই একটা অপরাধবোধ হয় ওকে হুট করে 'হ্যাঁ' বলেছিলাম বলে। আবার যখন ভাবি আমার চোখ খুলে দেবার জন্য সেটা দরকার ছিল - তখন এক ধরনের কৃতজ্ঞতাও হয়। জানিনা কোথায় আছো, কিন্তু আমি সেদিনের জন্য ভীষণ দুঃখিত ও কৃতজ্ঞ। আশা করি, এ দশ বছর ভালই ছিলে এবং আছো।

সেদিন অপুকে বাড়ি দিতে চেয়ে নিজেই বাড়ি খেলাম। কিন্তু অপু? ও তখনো ওর মতই রয়ে গেল। সেই নিত্যদিনের ডেটা-শেয়ারিং আর ঝগড়া। এবার শুরু হল অপেক্ষা। বন্ধুতার মধ্যে আরো কি যেন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা। ওর যেকোন কথার আরো গভীর কোন মানে খুঁজে বেড়াই, যেকোন ছুতোয় কষ্ট দেবার চেষ্টা করি যেন ভিতরের অনুভূতিগুলো বের হয়ে যায়। যেটা বলতে চাই, বলি তার উলটা। বলে লক্ষ্য করি রিঅ্যাকশান। ফোন রেখে দেই হুট করে রেগে। আবার ফোন করলে ভাল লাগে, কথা বলতে চাই, কিন্তু সেটা শো করা যাবে না, তাই রেখে দেই। কথা বললেই বুঝে যাবে। তাই খুব 'ভাব' নেই। যখন দেখি কষ্ট পাচ্ছে, সেডিস্টের মতই আনন্দিত হই আর ভাবি, যাক, he cares.

কিন্তু ঝগড়াগুলো একসময় খুব সিরিয়াস হয়ে গেল। একেকবার ঝগড়া হয় আর মাসের পর মাস কথা বন্ধ হওয়া শুরু হল। ঠিক যেরকম ভেবেছিলাম সেরকম হল না। এভাবেই এইচ. এস. সি. পরীক্ষাও শেষ হয়ে গেল। শুরু হল আরেকটা অদ্ভুত সময়।অপু আর আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্ট আর ভাল লাগার একটা সময়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/17057 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/17057 2006-08-21 07:05:40
প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক - 3 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/16904 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/16904 2006-08-19 14:22:18 অপু আর আমি - 4
সে যা হোক, 1995 এর শুরুতে ভারী গলার উদাস কোন ছেলেকে নিয়ে ভাবার খুব একটা সময় ছিল না। এস এস সি পরীক্ষা সামনে। পরীক্ষার পড়া তো আছেই, তার সাথে আছে বিটকেলে গোল্লা পূরণ। মাঝখানে পরীক্ষার আগে আগে চিকেন পঙ্ হল। সব মিলিয়ে মহা যন্ত্রণা!

এই বছরটায় অপুকে ঘেরা স্মৃুতি বলতে আমার জন্মদিন। কোন এক অজ্ঞাত কারণে জন্মদিন মানেই অপুর কাছে বিশাল কিছু। পুরনো সব কার্ড দেশে ফেলে এসেছি দেখে ঠিক ট্রেইস করতে পারছি না ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু at least এই 1995 এর জন্মদিন থেকে মোটামুটি সব জন্মদিনেই he never falied to make me feel special.

তো সেবার জন্মদিনে আমার কিছু প্রিয় স্কুলের বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিলাম। আমাদের বাসায় এটাই প্রথম এত বড় একটা আড্ডা। প্রায় 20 জন। অতি মজার কিছু মেয়ে যাদের প্রত্যেকটা কথায় হাসি পায় আর কিছু মজার ছেলে। সবাই দূরে চলে যাওয়ায় তখন সবাইকেই খুব ভাল লেগে যায়। সবাই খুব হই-হুল্লোড় করেছিলাম সেদিন। শুধু একজনই চুপচাপ ছিল সেটা হচ্ছে অপু। ওর স্বভাবসুলভের চেয়েও বেশি। মনে একটু খটকা লেগেছিল - পাত্তা দেইনি। (অনেক পরে একদিন বলেছিল, অন্য কোন ছেলে বন্ধুর পাশে আমার বসে থাকাই নাকি ওরকম নীরবতার কারণ ছিল সেদিন।) সেসময় আমার soft toys খুব ভাল লাগত, কিন্তু ঢাকায় তখন সেটা এত পাওয়া যেত না। অপু কোথেথকে জানি আমার জন্য একটা ছোট্ট হলুদ রঙের টেডি যোগাড় করেছিল। কার্ডে খুব অদ্ভুত মেসেজ ছিল। হুবুহু মনে নেই, যা লেখা ছিল সেটা কিছুটা এরকম -

'হাজারটা পনেরই জুলাই যাক, এই মেয়েটা সবসময় ছোটই থাকুক। ছোটবেলার সব বন্ধুকে কি বড় বেলায় বড় হতে হয়?'

আমি এর আগা-মাথা কিছুই বুঝলাম না। তবে বেশ ভালই লেগেছিল মনে আছে। এই লেখা আমার বোন আর মা'কে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

12 বছরের (প্লেগ্রুপ থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত) পুরনো বন্ধুরা সব হুট করে ছিটকে গেলাম এদিক-সেদিক। আমি ভর্তি হলাম ভিকারুনি্নসা নুন কলেজে, বিজ্ঞান বিভাগে আমার স্কুল থেকে আমিই একা। স্কুলের সব প্রিয় বন্ধুরা কেউ নটরডেম, কেউ বদরুন্নেসা, কেউ ঢাকা কলেজ আর কেউ হলিক্রসে। পুরো জীবন কো-এডে অভ্যস্থ আমি হঠাৎ করে ন্যাকা মেয়েদের সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে শুরু করলাম। সেবার একগাদা স্ট্যান্ড করেছিল, তাদের মধ্যে মেয়েদের প্রায় সব স্পেসিমেনই আমাদের কলেজে। তাদের নিত্য নতুন আঁতলামী দেখে আর ল্যাব রিপোর্ট লিখে জীবন কাটতে থাকল। বুয়েট ক্যাম্পাসের চিরচেনা স্কুল থেকে আরেকরকম জীবন শুরু হল।

আমার বন্ধু কপাল বরাবরই ভাল। অসম্ভব বোরিং কলেজে ন্যাকাদের সমুদ্রের মধ্যেই কি করে যেন সমমনা কিছু খুব ভাল বন্ধু পেয়ে গেলাম। ওদের গল্প আরেকদিন।

অপু ভর্তি হল নটরডেমে। ও এলিফ্যান্ট রোড থেকে নটরডেম, আমি বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ভিকারুনি্ননসা। রিকশা দিয়ে মাঝখানের পূর্ত ভবন পার হওয়ার সময় হঠাৎ হঠাৎ রাস্তার উলটা দিকে একটা চেনা মুখ দেখি। সেই চেনা এক্সপ্রেশান, যেন রিকশা নয়, ক্লাসের বেঞ্চে বসে আছে। শুধু জানালাটা নেই। রাস্তার কোন কিছুই যেন স্পর্শ করছে না।

আমি বরাবর গলাবাজ। একবার বোধ হয় রিকশা থেকে মুখ বের করে চিৎকার করে ডেকেছিলাম নাম ধরে। বেশ অবাক হয়েছিল মনে আছে।

কলেজ জীবনের সময় কাটছিল ভীষণ পড়ার চাপে। কিন্তু এর মাঝে ফোনে যোগাযোগ চলত বেশ রেগুলারলি। স্কুল ছাড়ার পরে লম্বা তিন বছরের ভাটা আর পড়ল না। তবে হুটহাট যেকোন বিষয়েই তুচ্ছ কারণে ঝগড়া লেগে যেত। একেকবার ঝগড়া হয় আর সেটা ভাব হতে হতে মাসখানেক বা তারো বেশি হয়ে যায়। মাঝখানে ফোন আসলে ইচ্ছা না করলেও দড়াম করে ফোন রেখে দেয়া চলত হর-হামেশা। একবার রেখে দেয়ার পরে আবার না করলে আরো মেজাজ গরম। এর মধ্যে বিশেষ বিশেষ দিনে কার্ড-গিফট চলত। এটা শুধু ওর-আমার না, আরো বন্ধুদের মধ্যেও ছিল। তখন কারো সাথে কারো দেখা হয় না বলে ডাক-কুরিয়ারের তুমুল ব্যবহার শুরু হল। খুব মজা হত তখন। কুরিয়ার বা ডাকে কিছু পাওয়ার মজাটাই অন্যরকম ছিল। এর মধ্যে অপুর একেকটা কার্ড মেসেজের ভাব আরো বাড়তে থাকল।

ঝগড়া করতে করতেই কিভাবে যেন দু'জনের বন্ধুত্ব অনেক গভীর হয়ে গেল। ঠিক কবে থেকে জানিনা - আমরা দু'জন এক পযর্ায়ে প্রাত্যহিক জীবনের সব কিছু শেয়ার করা শুরু করলাম। দুই ভিন্ন কলেজের গল্প, নোটপত্র, গান আর গোপন সব সুখ-দুঃখ।

এভাবেই চলছিল দিন। বন্ধু-বন্ধু খেলা। বন্ধু থেকে বেস্ট ফ্রেন্ডের মত। পড়া দিয়ে প্যাকড জীবনে তখন অন্যকিছু ভাবতামও না। অপুখুব ফোন করত, কার্ডে জটিল ভাবের কথা লিখলেও ফোনে সেটা প্রকাশ পেত না। তাই হঠাৎ হঠাৎ ওকে নিয়ে মনে খটকা জন্মাত। ও কি শুধুই বন্ধু, না কি আরো বেশি কিছু? আমি কি একাই ভাবছি, না কি ও-ও ভাবছে? ওর সাথে কথা হলে মনে হত যেন আমিই বেশি ভাবছি। আমার ভাবনাও খুব একটা সিরিয়াস মনে হত না আর। তাই এরকম ভাবনা সেসময় কখনই বেশিদূর যেত না।

কলেজের দ্্বিতীয় বর্ষের একটা ছোট্ট ঘটনা আমার চোখ খুলে দিল। অনেকটা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/16155 http://www.somewhereinblog.net/blog/aboltabolblog/16155 2006-08-11 08:01:03