নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটির কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কেন নেই? বাণিজ্যই কি আসলে এদের মূল উদ্দেশ্য?–আস্থা ও স্বচ্ছতার জন্য এসব প্রশ্নের উত্তর আসলেই জরুরী।
কিন্তু সবচে’ বড় প্রশ্ন বোধহয় এভাবে করা যায় এখন - মূল্যহীন কোন র্যাংকিং এও কি আমরা আমাদের সুন্দরবনকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চার্যের একটি হিসেবে দাঁড় করানোর এমন সুযোগ আর পেয়েছি? বিশ্বমানের কোন সপ্তাশ্চার্য তালিকা হলে সেখানে যে পাব তার ন্যূনতম কোন নিশ্চয়তাও কি আছে? অন্যের ব্যবসায় নিজেদের প্রসার ও মুনাফার সুযোগ থাকলে কেন তা আমরা গ্রহণ করব না?
সুন্দরবন ৭ সপ্তাশ্চার্যের মধ্যে থাকলে সবচে’ বড় সুবিধা হবে আমাদের ব্র্যান্ডিং ও প্রমোশানে। আমরা সুন্দরবনের অসাধারণ এবং কিছু ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় সব বৈশিষ্ঠ্যের পাশাপাশি এটাও বলতে পারব যে আমরা চার বছরব্যাপী ভোটাভুটির একটি র্যাং কিং এ সপ্তাশ্চার্যের একটি হয়েছি, যেখানে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আমাজন, ব্ল্যাক ফরেস্ট, অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত, গেলাপোগাস, হ্যালং বে, ভিসুভিয়াস, জেজু আইল্যান্ড, টেবিল মাউন্টেন, মৃত সাগরের মত সব জায়গা।
যেকোন গবেষক তাঁর গবেষণা কর্মে, সাংবাদিক তাঁর আর্টিকেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাসাইনমেন্টে রেফারেন্স হিসেবে মূল্যবান এবং মূল্যহীন সব র্যাং কিং-কে উল্লেখ করেন। আমাদের তো এমন রেফারেন্স নেই। এত কাছে গিয়েও আমরা কেন এই সুযোগটি নিব না?
বিরোধিতাকারীদের প্রধান বক্তব্য – আমাদের সুন্দরবন এমনিতেই শ্রেষ্ঠ, এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের র্যাংকিং এর প্রয়োজন নেই। কিন্তু এমন হলে তো শ্রেষ্ঠত্বের সব র্যাংকিং-ই মূল্যহীন। বাস্তবে কি তাই? বিশ্বে অনেকগুলো সপ্তাশ্চার্য লিস্ট আছে এমন – এটা সত্য। আমাদের সব ছোট-বড় এসব র্যাংকিং এ স্থান করে নিতে হবে ক্রমান্বয়ে। এটা হোক তার প্রথম ধাপ।
পৃথিবীর ইতিহাস আর মানুষের সাধারণ বুদ্ধি বলে - চূড়ান্ত সময়ে বিবাদে লিপ্ত না হয়ে কাজে নিয়োজিত হলেই জয় আসে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



