পৌনে তিনটার পরে,
অন রিকোয়েস্ট আমি প্রবেশ করবো
তোমার সুশোভিত অফিস ঘরে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট না নিয়ে হুট করে এমন
আসায় তুমি চটবে খানিক,
আর এইটাও ঠিক -
আমার কাঁচুমাঁচু 'ইয়ে মানে -' আর
হাতজোড় জবুথবু 'সরি'তে তোমার শ্যামল মুখের এদিক ওদিক
দেখা দেবে দুষ্ট হাসির ভাঁজ,
'কী তুমি বলতো? মানুষ হাসানো তোমার এই এক কাজ!'
বসবো তোমার মুখোমুখি চেয়ারটাতে,
তুমি চোখে সুর টেনে বলবে, 'কি, কাল ঘুম হয়নি রাতে?
চোখের নীচটায় এত কালি -'
তোমার কথায় আমি একটু হাসবো খালি।
তুমি রিসিভার তুলে কাকে যেন, '- বিজি'
আপাতত আর কেউ আসবে না এখন তোমার ঘরে,
মানে, ঐ পৌনে তিনটার পরে।
তারপর সুশোভিত ঘরটা মুখরিত হবে গল্পে, কথায়,
এঁকেবেঁকে যাবে মনের ভাব, ছড়িয়ে যাবে এটায় ওটায়।
কিছুটা সময় আলাপ হ'তেই পারে রাজনীতি নিয়ে,
সাম্প্রতিক সংকট, ইলেকশান দুই হাজার আট সুস্হ আর সুষ্ঠ হতে পারে
অ্যাটলিস্ট কি কি দিয়ে -
সীমানা টপকে কাশ্মীর, ফিলিস্তিন আর এই ভরদুপুরে,
প্রসঙ্গটা বেড়িয়ে আসতে পারে ইরাকে ইরাকী সৈন্যের
সঠিক সংখ্যা ঘুরে।
এক সময় আমরা মোড় নেব দুই হাজার দুই সালের দিকে,
আমাদের দু'জনার চোখের উপর দোল খাবে একটা ফিকে
বিকেলের স্মৃতি -
আমি আমার সমস্ত ভীতি
ঝেঁড়ে পকেট থেকে বের করবো নিকোটিন,
তুমি ভাবলেশহীন
চোখে দেখবে ধোঁয়ার কারু
কাজ, এটা তোমাকে ভাবতে হয়তো হেল্প করবে আরু।
মনে পড়বে সেই এক গুচ্ছ গোলাপের কথা,
যার ঝাঁকঝাঁক ফুলেল গন্ধে ছিলো বিস্তৃত ব্যাকুলতা।
ফয়েল পেপারে আঁটোসাঁটো বেঁধে রাখা ছিলো
গোলাপের যত কাঁটা -
দু'জনার মিলিয়ে তিনখানা হাত,
নি:সীম অনন্তে দুই জোড়া হাঁটা।
সন্ধ্যা গড়িয়ে যখন, তখন রাত,
রফিকের চা'র দোকানটাতে বসে তখনও আমার হাতে
জড়িয়ে তোমার হাত।
আর তোমার প্রিয় 'রুচি বাদাম',
আমার পকেট তখন শূন্য, অবশ্য কত আর দাম -
দু'শ গ্রাম তখন মোটে আট টাকা।
তুমি আঁকাবাঁকা
অনুভবে পাকিয়ে কথা - 'একটা জব খুব -
আমি ডুব
দিতে চাই এখনই তোমার বুকে'
রাত বড় বেশী এসে পড়েছিল সেদিন ঝুঁকে।
এরপর তোমার একদিন, কতদিন, প্রতিদিন ফিরে যাওয়া,
বিয়ে, চকচকে সাজানো সংসার পাওয়া।
হলো, সবি হলো, 'হবারই হয়তো কথা ছিলো, না?'
'দেখেছ, সেই কখন বলেছি চা'র কথা, এখনো চা দিলো না।'
কথায় কথায়, তোমার চোখের কোল ঘেঁষে
'পদ্য পথিকের বেশে'
নেমে আসবে ছিপছিপে একটা পানির ধারা,
নিবিড় ছোঁয়ায় সেই পানি মুছে দিতে আমি ছাড়া
আর কেউ থাকবে না ঐ ঘরে,
পৌনে তিনটার পরে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

