মাঝ রাত। চেঁচিয়ে ওঠে ফোনটা। রিসিভার তুলে নেয় দিবস।
- হ্যালো...?
- এটা কি নাইন ডাবল ওয়ান জিরো এইট ...
মিষ্টি মেয়েলি কণ্ঠ।
- ইয়েস?
- মৌরিকে একটু দেবেন?
- মৌরি? এখানে তো এ নামে কেউ নেই। সরি, রং নাম্বার।
- ফোনটা রাখবেন না প্লিজ...। মিষ্টি কণ্ঠে গাঢ় অনুনয়- আমি আপনার সঙ্গেই কথা বলব।
- আমার সঙ্গে!
- আপনি কে?
- আমি রাত্রি... আপনি?
- আমি দিবস।
- দিবস! ঠাট্টা করছেন নাতো? মেয়েটির কণ্ঠে অবিশ্বাস।
- মানে..., কি বলতে চাইছেন আপনি?
- এই যে আমি রাত্রি শুনেই আপনি দিবস হয়ে গেলেন। দেখুন, মাঝরাতে এসব ইয়ার্কি ভাললাগে না। ফোনটা রাখুন।
- আপনি চটে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাপারটা মজার না?
- আপনি আসলে কেন ফোন করেছেন বলুনতো?
- বিশেষ কোনো কারণে না। ঘুম আসছিল না, ভাবলাম কারো সঙ্গে কথা বলি। তাই এলোমেলো কিছু নম্বরে ট্রাই করছিলাম। আপনারটা লেগে গেল। মৌরিকে খোঁজাটা মিথ্যাই।
- আপনার কথা নিশ্চয়ই শেষ হয়েছে?
- স্যরি, আপনার অনেকটা সময় নষ্ট করলাম। রাখি তাহলে।
পরদিন আবার ফোন আসে। একই সময়ে।
- রাত্রি বলছেন? গতকালের সেই মেয়েটি। আমি দিবস।
- কি ব্যাপার, আজও কি ঘুম আসছে না আপনার?
- না, মানে...
- আমি খুব দুঃখি মেয়ে দিবস। নিঃসঙ্গ... একা। আপনি কি আমার বন্ধু হবেন?
- বন্ধু...? তা না হয় হব। কিন্তু বলুনতো কিসের এতো দুঃখ আপনার?
- বলব, আপনাকে সব বলব। তবে অন্য একদিন। আজ তবে রাখি।
পরদিন রাতে ফোন আসে। আবার।
- কি করছিলে দিবস?
- আসলে রাত্রি, আপনার হয়েছেটা কি?
- আপনি নয়, তুমি বল।
- ঠিক আছে। এখন বলত মেয়ে তোমার সমস্যাটা কি?
- বন্ধু হলে। বলব তোমাকে সব বলব। আজ রাখি।
এভাবে ফোন আসে প্রতিদিন, প্রতিরাতে। কথামালা গেঁথে গেঁথে বেহিসেবি সময় বয়ে যায়। দিবস এক সময় অবাক হয়ে দেখে, রাত্রির ফোনের জন্য প্রতিটি সকাল-দুপুর-বিকেল অপো করছে সে। কখন বাজবে টেলিফোন!
একদিন দিবস গাঢ় গলায় বলে- রাত্রি, তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে।
- না, তা হয় না...। যেন আঁতকে ওঠে রাত্রি।
- কেন হয় না?
রাত্রি উত্তর দেয় না। রিসিভার রাখার শব্দ হয়।
এভাবে মান হয়। অভিমান হয়। আবার ফোন আসে। কথা হয়। পৃথিবীতে কত কিছুইতো হয়। ওদের মধ্যে সম্ভবত ভালবাসাও হয়। যদিও ওদের দেখা হয় না।
একদিন ফোন আসে।
- রাত্রি, তোমার সমস্যাটা কি? আমাকে বলা যায় না? কতদিন জানতে চেয়েছি, এড়িয়ে গেছো তুমি। আজ বলবে?
মুহূর্তে নীরব থাকে রাত্রি। তারপর বলে- তোমাকেই বলব, সব বলব। কাল কি তুমি ফ্রি আছো?
- তুমি দেখা করবে আমার সঙ্গে? সত্যি! সত্যি বলছো তো? কখন, বলো কখন?
- সকাল ১০টায়, সংসদ ভবনে। আমি থাকব নীল শাড়ি... তুমি...?
পরদিন। সকাল ১০টা। সংসদ ভবন। দিবস একগুচ্ছ গোলাপ হাতে সংসদ ভবনে পৌঁছে। স্কুটার থেকে নেমেই ও দেখে লাল ইটের উঁচু চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। পরনে নীল শাড়ি। উড়ছে ওর শাড়ির আঁচল, এলোচুল। একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। বৃষ্টিভেজা সিঁড়ি টপকে খুব দ্রুত উপরে উঠতে থাকে দিবস। হঠাৎ হোঁচট লাগে। হাতের ফুলগুলো সব ছড়িয়ে পড়ে সিঁড়ির ওপর। দেখে হেসে ওঠে আশপাশের মানুষ।
মেয়েটি তাকিয়ে আছে এদিকেই। কিন্তু অবাক হয় দিবস। মেয়েটি একটুও হাসে না। অসম্ভব রূপবতী মেয়েটি তাকিয়ে আছে ভাবলেশহীন মুখে। দাঁড়িয়ে আছে স্থির, অচঞ্চল। আসলে কিছুই দেখছে না সে। ওর চোখে কোনো আলো নেই।
রাত্রি অন্ধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

