বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে (http://www.somewhereinblog.net) আমার আগমন বছরাধিককাল। ২০০৬ সালের প্রথম দিকে ব্লগের একজন সদস্যের আহবানে আমি রেজিস্ট্রেশন করি। কিন্তু সময়ের অভাব এবং বাংলা টাইপ করার দুর্বলতার কারনে লিখা পোস্ট করা হয়ে ঊঠেনি। এই ব্লগে আমার লিখালিখি শুরু মাস খানেক হলো (প্রথম পোস্ট – ২৩ জুন, ২০০৭)।
আমাকে যখন প্রথম আহবান জানানো হয় তখন আমি খুবই আগ্রহী হয়ে এতে যোগ দিয়েছিলাম। প্রথম প্রথম বেশ আগ্রহ নিয়ে লিখাগুলো পড়তাম। সেখানে বিভিন্ন মতের লিখা ছিল। কিন্তু লেখকদের মধ্যে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। ফলে পরস্পরের বিরোধীতা ছিল যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লিখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্বাভাবিকভাবেই পড়ায় আনন্দ পেতাম এবং বাংলাদেশ নিয়ে উত্সাহ পেতাম এই ভেবে যে, দেশীয় রাজনীতিতে পরমত অসহিষ্ণুতার যে ধারা বিদ্যমান এবং তাকে গায়ের জোরে বন্ধ করে দেয়ার যে প্রবণতা তার পরিবর্তে এখানে রয়েছে যুক্তি ও বুদ্ধির যুদ্ধ যা আমাদের অসুস্থ্ ও বিভেদের রাজনীতি থেকে বের করে এনে সুস্থতা, একতা, উন্নয়ন ও ঐক্যের ধারায় শামিল করার রাস্তা দেখাবে।
মাঝখানে অনেকদিন আমার “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে” আসা হয়নি। মে মাসের শেষের দিকে আমরা এখানে লিখা বিষয়ক এক কর্মশালার আয়োজন করি। নিঊ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত নতুন একটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকার জন্য প্রতিবেদক ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখক সৃষ্টি ছিল উদ্দেশ্য। নবীণ প্রবীণ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন এতে অংশগ্রহন করেন। বর্তমান সময়ে লিখার বিভিন্ন সুযোগ ও উপকরণ নিয়ে আমার একটা আলোচনা ছিল এতে। ঐ আলোচনায় আমি ব্লগ (Web Log) লিখার ব্যাপারেও কথা বলি, এবং প্রসঙ্গক্রমে বাংলা ব্লগ হিসেবে “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” এর কথাও বলি। কয়েকজন অংশগ্রহনকারী বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজের ওয়েব ঠিকানাও লিখে নিয়ে যান, বেশ উত্সাহভরে।
যেহেতু অনেকলোককে ঠিকানা দিলাম তাই বাসায় এসে অনেকদিন পর আবার বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে ঢুকলাম। কিন্তু ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ। একি দেখছি? এই ব্লগের সাথেতো আমার পরিচয় নেই। ব্লগে যে ধরণের লিখা থাকা উচিত তার কিছুই নেই। পরিচিত ব্লগারদের অনেকেই নেই। অশ্লীল ভাষা, ছবি, গালাগালি, খারাপ উপনামে ডাকা (name-calling), ইত্যাদিতে “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” সয়লাব। আমি তখন লজ্জায় মরে যাচ্ছি ভেতরে ভেতরে। ভাবছিলাম কেন দিলাম এই ব্লগের ঠিকানা পরিচিতজনদের, যাদের অনেকেই মুরুব্বী শ্রেণীর।
তারপর কিছু সময় গেল। ব্লগের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে অনেক চিত্কার চেঁচামেচির পর কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়মকানুন ঘোষণা করলেন, যদিও শুরুতেই কিন্তু কিছু নিয়ম-কানুন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালা প্রয়োগে এখনো অনেক উদারতার প্রমাণ দিচ্ছেন, যা নেহায়েতই জরুরী। অন্যদিকে কিছু লোক এ উদারতার সুযোগ নিয়ে এখনো ব্লগের অপব্যবহার করে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় এই ব্লগটি ইন্টারেক্টিভ হওয়ায় শুধূমাত্র অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই ব্লগে লিখার যে রীতি (style) তার কোন তোয়াক্কা না করেই যথেচ্ছ লিখে যান কিছু ব্লগার। আমার মনে হয় এদের ইংরেজীতে বিদ্যমান ব্লগগুলো একটু ভ্রমন করা দরকার।
বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবেলার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশী দুরাচার করেছেন কিছু ব্লগার। তাঁরা তাঁদের বিরোধীদের বুদ্ধিবৃত্তিক মুকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে এমনসব পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন যা শুধু তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনারই (intellectual bankruptcy) প্রকাশ ঘটিয়েছে।
আমি এখানে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলকে উচ্চে তুলে ধরিনা (do not promote); আবার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কোন দলের বিরোধিতাও করিনা। যদি কখনো আমার কোন লিখায় কোন দলের সমালোচনা থাকে তবে তা হবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তাদের বিশেষ কর্মের সমালোচনা। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বের শিকার কিছু মানুষ এগুলোকে সহ্য করতে পারেননা।
আমার নীচের লিখাটার গোটা দুয়েক মন্তব্যে তাদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বের সাক্ষর পাবেন।
মানুষ ও জানোয়ারের পার্থক্য
আমার আশা থাকবে কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়মনীতি প্রয়োগে আরো যত্নবান হবেন, যাতে করে সব মানুষকে আমরা এই ব্লগে আহবান জানাতে পারি এবং এজন্য লজ্জায় না পড়ি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


