somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে আমার অভিজ্ঞতা ও লজ্জার মাথা খাওয়া

২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে (http://www.somewhereinblog.net) আমার আগমন বছরাধিককাল। ২০০৬ সালের প্রথম দিকে ব্লগের একজন সদস্যের আহবানে আমি রেজিস্ট্রেশন করি। কিন্তু সময়ের অভাব এবং বাংলা টাইপ করার দুর্বলতার কারনে লিখা পোস্ট করা হয়ে ঊঠেনি। এই ব্লগে আমার লিখালিখি শুরু মাস খানেক হলো (প্রথম পোস্ট – ২৩ জুন, ২০০৭)।

আমাকে যখন প্রথম আহবান জানানো হয় তখন আমি খুবই আগ্রহী হয়ে এতে যোগ দিয়েছিলাম। প্রথম প্রথম বেশ আগ্রহ নিয়ে লিখাগুলো পড়তাম। সেখানে বিভিন্ন মতের লিখা ছিল। কিন্তু লেখকদের মধ্যে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। ফলে পরস্পরের বিরোধীতা ছিল যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লিখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্বাভাবিকভাবেই পড়ায় আনন্দ পেতাম এবং বাংলাদেশ নিয়ে উত্‌সাহ পেতাম এই ভেবে যে, দেশীয় রাজনীতিতে পরমত অসহিষ্ণুতার যে ধারা বিদ্যমান এবং তাকে গায়ের জোরে বন্ধ করে দেয়ার যে প্রবণতা তার পরিবর্তে এখানে রয়েছে যুক্তি ও বুদ্ধির যুদ্ধ যা আমাদের অসুস্থ্ ও বিভেদের রাজনীতি থেকে বের করে এনে সুস্থতা, একতা, উন্নয়ন ও ঐক্যের ধারায় শামিল করার রাস্তা দেখাবে।

মাঝখানে অনেকদিন আমার “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে” আসা হয়নি। মে মাসের শেষের দিকে আমরা এখানে লিখা বিষয়ক এক কর্মশালার আয়োজন করি। নিঊ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত নতুন একটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকার জন্য প্রতিবেদক ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখক সৃষ্টি ছিল উদ্দেশ্য। নবীণ প্রবীণ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন এতে অংশগ্রহন করেন। বর্তমান সময়ে লিখার বিভিন্ন সুযোগ ও উপকরণ নিয়ে আমার একটা আলোচনা ছিল এতে। ঐ আলোচনায় আমি ব্লগ (Web Log) লিখার ব্যাপারেও কথা বলি, এবং প্রসঙ্গক্রমে বাংলা ব্লগ হিসেবে “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” এর কথাও বলি। কয়েকজন অংশগ্রহনকারী বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজের ওয়েব ঠিকানাও লিখে নিয়ে যান, বেশ উত্‌সাহভরে।

যেহেতু অনেকলোককে ঠিকানা দিলাম তাই বাসায় এসে অনেকদিন পর আবার বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে ঢুকলাম। কিন্তু ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ। একি দেখছি? এই ব্লগের সাথেতো আমার পরিচয় নেই। ব্লগে যে ধরণের লিখা থাকা উচিত তার কিছুই নেই। পরিচিত ব্লগারদের অনেকেই নেই। অশ্লীল ভাষা, ছবি, গালাগালি, খারাপ উপনামে ডাকা (name-calling), ইত্যাদিতে “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” সয়লাব। আমি তখন লজ্জায় মরে যাচ্ছি ভেতরে ভেতরে। ভাবছিলাম কেন দিলাম এই ব্লগের ঠিকানা পরিচিতজনদের, যাদের অনেকেই মুরুব্বী শ্রেণীর।

তারপর কিছু সময় গেল। ব্লগের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে অনেক চিত্‌কার চেঁচামেচির পর কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়মকানুন ঘোষণা করলেন, যদিও শুরুতেই কিন্তু কিছু নিয়ম-কানুন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালা প্রয়োগে এখনো অনেক উদারতার প্রমাণ দিচ্ছেন, যা নেহায়েতই জরুরী। অন্যদিকে কিছু লোক এ উদারতার সুযোগ নিয়ে এখনো ব্লগের অপব্যবহার করে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় এই ব্লগটি ইন্টারেক্টিভ হওয়ায় শুধূমাত্র অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যই ব্লগে লিখার যে রীতি (style) তার কোন তোয়াক্কা না করেই যথেচ্ছ লিখে যান কিছু ব্লগার। আমার মনে হয় এদের ইংরেজীতে বিদ্যমান ব্লগগুলো একটু ভ্রমন করা দরকার।

বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবেলার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশী দুরাচার করেছেন কিছু ব্লগার। তাঁরা তাঁদের বিরোধীদের বুদ্ধিবৃত্তিক মুকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে এমনসব পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন যা শুধু তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনারই (intellectual bankruptcy) প্রকাশ ঘটিয়েছে।

আমি এখানে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলকে উচ্চে তুলে ধরিনা (do not promote); আবার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কোন দলের বিরোধিতাও করিনা। যদি কখনো আমার কোন লিখায় কোন দলের সমালোচনা থাকে তবে তা হবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তাদের বিশেষ কর্মের সমালোচনা। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বের শিকার কিছু মানুষ এগুলোকে সহ্য করতে পারেননা।

আমার নীচের লিখাটার গোটা দুয়েক মন্তব্যে তাদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বের সাক্ষর পাবেন।

মানুষ ও জানোয়ারের পার্থক্য

আমার আশা থাকবে কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়মনীতি প্রয়োগে আরো যত্নবান হবেন, যাতে করে সব মানুষকে আমরা এই ব্লগে আহবান জানাতে পারি এবং এজন্য লজ্জায় না পড়ি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৫৭
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×