somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কিছু বাসন্তী ছবি http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28795109 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28795109 2008-05-07 11:01:04 অবশেষে মুক্ত হলেন প্রিজনার ৩৪৫
সাম্রাজ্যবাদের কোপানলে পড়ে নিরপরাধ মানুষটি বিনা বিচারে কাটিয়ে দিলেন জীবনের ৬ টি বছর। ৩২ বছরের তরুণ ক্যামেরাম্যান আল-হাজ্জ বেরিয়ে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সে। কিন্তু অত্যাচার আর নির্যাতনে এই ৬ বছরের ব্যবধানে তিনি যেন হয়ে গেছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ।

মিডিয়া জগতে সাম্রাজ্যবাদীদের একচ্ছত্র দখলকে চ্যালেঞ্জ করেছিল আল-জাজ়ীরা। তারই ক্যামেরাম্যান হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সামী। নিজেদের আধিপত্যকে বহাল রাখতেই তারা প্রেফতার করে তাঁকে। বাধ্য করতে চেয়েছিল চ্যানেল্টির বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে। রাজী না হওয়ায় তাকে হতে হয়েছে কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বন্দীশিবিরের প্রিজনার ৩৪৫। সামীকে নিয়ে আমার আগের পোস্ট নীচের লিঙ্কেঃ
Click This Link

মুক্ত সামী খোলাখুলি বলেছেন তার বন্দীজীবনের অভিজ্ঞতার কিছু কথা। নীচের ভিডিওতে আমরা তার মুখেই শুনি তার কথাগুলোঃ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28793992 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28793992 2008-05-04 09:28:58
ছবি/ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বালিকা
ছবি নিউ ইয়র্ক পোস্টের সৌজন্যে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28786725 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28786725 2008-04-11 01:10:08
প্রবাসে সন্তানদের বাংলা শেখানোর চ্যালেঞ্জ
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বিভিন্নতার কারণে অনেক সময় বিদেশে বাংলা শেখানো মুশকিল হয়ে পড়ে। অনেক পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সাথে শুধুমাত্র নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। ফলে ঐ সব ছেলেমেয়েরা শুদ্ধ বাংলা শিখতে পারেনা। যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা তাদের পিতা-মাতার কাছে শুদ্ধ বাংলা শেখার সুযোগ পায়না তারা পরবর্তীতে আর সাধারণত শুদ্ধ বাংলা বলতে পারেনা। ফলে তারা লজ্জায় আর বাংলা বলতেও উৎসাহিত হয়না। এদের কারনে আবার অন্য বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরাও বাংলা শিখার ঝামেলায় পড়ে।

কোন কোন বাবা-মা তাদের সন্তানদের সাথে শুদ্ধ চলিত বাংলায় কথা বলেন। ফলে তারাও শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু যখন সে বাচ্চারা অনান্য বাংলাদেশী বাচ্চাদের সংস্পর্শে আসে বাঙ্গালীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া-আসার মাধ্যমে তখন তার ভাষাতেও পরিবর্তন হতে শুরু করে। তার ভাষা আস্তে আস্তে আঞ্চলিকতা দোষে দুষ্ট হতে থাকে। ‘চ’, ‘ছ’ এবং ‘স’ সবগুলোই ‘স’ এর মত করে সে উচ্চারণ করতে থাকে। ‘জ’, ‘য’ এর উচ্চারণ করা হয় বাংলায় অবর্তমান ইংরেজী ‘z’ বা আরবী ‘zay’ মত করে। যাবে, খাবে, ইতাদির স্থলে সে বলতে শুরু করে যাবা, খাবা ইত্যাদি। তাকে যতই বুঝিয়ে বলা হোক যে ওভাবে বলাটা শুদ্ধ নয়, সে শুনতে নারাজ। তার বক্তব্য হলো তার সব বন্ধুরা তার বাবা-মার মত করে বাংলা বলেনা। তাই সেও বলবেনা, বরং তার অন্যান্য বাংলাদেশী বন্ধুদের মত করেই সে বলবে। এটা বিরাট এক সমস্যা।

সন্তানদের বাংলা শেখানোর ক্ষেত্রে অন্য আরেকটি সমস্যা হলো অধিকাংশ পিতামাতার নিজেদেরই বাংলা সম্পর্কে অজ্ঞতা। কিছু এলাকার লোক আছেন যারা মনে করেন তাদের ভাষাটাই বাংলা থেকে আলাদা। ফলে তারা বাংলা শেখানোর পরিবর্তে ছেলেমেয়েদের তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাই শুধু শেখান। তাদের মতে তাদের অঞ্চলের ভাষা এক আর সারা বাংলাদেশের ভাষা অন্য আরেকটি। ফলে তারা নিজেদেরকে বাঙ্গালীই ভাবেননা। সুতরাং শুদ্ধ বাংলা শেখানোর কোন প্রয়োজনীয়তা তারা উপলব্ধি করেননা।

ভাষা সংক্রান্ত অভিভাবকদের দুর্বলতার আরেকটি দিক হল, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীই শুদ্ধ করে বাংলা বলতে এবং লিখতে পারেননা। বাংলা বর্ণগুলোর শুদ্ধ উচ্চারণ অধিকাংশ বাংলাদেশী পিতামাতাই ঠিক মত করতে পারেননা। একবার এক বাচ্চাকে দেখলাম সে তার চাচাকে ডাকছে এভাবে, “সাস্‌সু” [sassu]। জিজ্ঞেস করাতে সে বলল সে তার চাচাকে ডাকছে। বলা হলো ওটা সাস্‌সু নয় চাচ্চু। তার বক্তব্য হলো বাবা-মা তাকে ওভাবে উচারণ করতে শেখায়নি। একটি পত্রিকায় কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাঠানো অসংখ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পড়ার সুযোগ হয় আমার প্রতি সপ্তাহে। এতে শিক্ষিত লোকদের বাংলা লেখা পড়তে গেলে বিরক্তিতে মন ভরে যায়। অসংখ্য বানান ভুল, অসম্পূর্ণ বাক্য, অশুদ্ধ বাক্য গঠন, ইত্যাদি অতি সাধারণ ব্যাপার। কখনো কখনো তারা কি ব্যক্ত করতে চেয়েছেন তার পাঠোদ্ধার করতেই হিমশিম খেতে হয়। ভাবতে তখন কষ্ট হয় যে আমরাই এক জাতি যারা মাতৃভাষার অধিকারের দাবীতে জীবনের কুরবানী দিয়েছি। এই দুর্বল ভাষাজ্ঞানের অধিকারী পিতা-মাতারা তাই সহজেই তাঁদের সন্তানদের বাংলা শেখাতে পারেননা।

বাংলাদেশী বাঙ্গালীদের বাংলা উচ্চারণের দুর্বলতার কারন হলো দেশেই বাংলা উচ্চারণ রীতি শেখানো হয়না স্কুলে। ফলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিজের মতো করে বাংলা পড়তে শেখেন। অনেক অঞ্চল আছে যেখানে ‘প’ ও ‘ফ’ এর একই উচ্চারণ এবং ‘চ’ ও ‘ছ’ এর একই উচ্চারণ করা হয় ‘স’এর ঢঙে; পার্থক্য করা হয় শুধু ছোট আর বড় বলে। একই অবস্থা ‘দ’ ও ‘ধ’, ‘ড’ ও ‘ঢ’ এবং আরো অনেক বর্ণের বেলায়। দন্ত্য ‘স’ তার নিজস্ব উচ্চারণ হারিয়ে বাংলায় হয়ে গিয়েছে তালব্য ‘শ’ এর ন্যায়। ফলে সমস্যা বেড়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা থাকলে হয়তো বাংলা ভাষা শেখানো কিছুটা সহজ হত। কিন্তু প্রবাসের বিভিন্ন জায়গাতেই এরকম প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিরাট ঘাটতি। কোথাও প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার সমর্থনের রয়েছে মারাত্মক অভাব। যথাযথ সমর্থন না পেয়ে উদ্যোক্তারা শেষ পর্যন্ত ঝিমিয়ে পড়েন। আর তাদের বাংলা শেখানোর উদ্যোগে পড়ে ভাটা।

সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি প্রবাসীদের ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষা চর্চার পেছনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাহলো পরিবেশ। অনেক বাচ্চারা কথা বলতে শুরু করে সুন্দর বাংলা দিয়ে, কিন্তু একটু বড় হলেই আর ওরা বাংলা বলতে চায়না এবং এতে অনভ্যস্থ হয়ে পড়ে। এ সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী প্রকট হয়ে পড়ে যখন তারা স্কুলে যেতে শুরু করে। স্কুলের ভাষা, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইংরেজী, বলেই বাচ্চারা সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের বন্ধু এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে ঐ ভাষায় কথা বলতে তারা এত বেশী অভ্যস্থ হয়ে পড়ে যে তারা আর কোনভাবেই বাংলা বলতে পারেনা। বরং বাংলা বলতে জোর করার মানে হয় তাদেরকে আযাবে নিক্ষেপ করার মত। স্কুল ছাড়াও তারা প্রতিদিন মিডিয়ার, বিশেষ করে টেলিভিশনের মুখোমুখি থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা, যার ভাষা বাংলা নয়। সেখানেও তারা বাংলা বিমুখ হয়ে গড়ে উঠে।

কিছু কিছু অভিভাবক আছেন যারা বাংলা শেখা বা বলার জন্য সন্তানদের কোন পরিবেশই দেননা। তাঁরা তাদের সন্তানদের মাতৃভাষাই বানিয়ে দেন ইংরেজী। কারন তাদের বাচ্চারা কথা বলতে শুরু করলেই তাঁরা তাদের সাথে ইংরেজীতে কথা বলা পসন্দ করেন, যদিও বাচ্চারা বড় হয়ে তাদের বাবা-মায়ের ইংরেজী উচ্চারণ নিয়ে হাসাহাসি করতেও দ্বিধা করেনা। এশ্রেণীর অভিভাবকরা বুঝেননা যে এখানকার বাচ্চারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ইংরেজী শিখবে। ইংরেজী তাদেরকে বলে শেখাতে হবেনা; বরং তাদের যা বলে শিখিয়ে অভ্যেস করাতে হবে তা হলো মাতৃভাষা।

প্রকৃত ব্যাপার হল বিদেশে সন্তানদের বাংলা শেখানো অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। তবে আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা থাকলে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সন্তানদের মোটামুটি চলনসই বাংলা শেখানো সম্ভব। এক্ষেত্রে পিতামাতাকে সচেতনভাবে পারিবারিক পরিবেশে বাংলার চর্চা করতে হবে। আঞ্চলিকতা বাদ দিয়ে শুদ্ধ চলিত বাংলায় সন্তানদের সাথে ঘরে নিয়মিত কথা বললে তারা তখন অন্য বাঙ্গালী ছেলেমেয়েদের সাথে বাংলা কথা বলার সমস্যায় পড়বেনা। ফলে বাংলা বলতে তারা উৎসাহিত হবে। নাহলে তারা বাঙ্গালীদের ভাষার বিভিন্নতা দেখে এ ভাষা বলা থেকে বিরত থাকবে। এছাড়াও তাদের জন্য শিক্ষণীয় অথচ আকর্ষণীয় বাংলা মিডিয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা দেখে তারা বাংলা শিখতে পারবে ও বলতে উৎসাহিত হবে। আর সরকারী পর্যায়ে বাংলাদেশী কুটনৈতিক মিশনগুলো বাংলা শেখানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দিতে পারে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতা দান করতে পারে।
নিউ ইয়র্ক, ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28773281 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28773281 2008-02-23 10:18:30
The Wall of Shame (লজ্জার দেয়াল)
যাইহোক, Wall of Shame কথাটার সাথে পরিচিতি ছিলনা আগে। আজ গ্রোসারী কিনতে গিয়ে কথাটার সাথে পরিচিত হলাম। আমার আগের বাসার কাছের একটা চীনা গ্রোসারী স্টোর। প্রায়ই কেনাকাটা করতাম সেখানে। দোকানটাতে অনেক দেশের গ্রোসারী সামগ্রী পাওয়া যায়। আগে মোটামুটি আকারের মুদি দোকান থাকলেও এখন সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুপার-মার্কেট হয়ে গিয়েছে। দোকানের মালিক আবার তাঁর খদ্দেরদের সবার ভাষার কয়েকটা শব্দও মোটামুটি জানেন, আমাদের "ধন্যবাদ" সহ।

বাসা পরিবর্তন করার কারণে দোকানটায় যাওয়া হয়না এখন আর সাধারণত। কিন্তু আমার গিন্নী এসে খবর দিল ঐ দোকানটাতে ল্যাক্টোজ় ফ্রী দুধের দাম আর সব দোকান থেকে কম। আমি আবার পেটের রোগী হওয়ায় ল্যাক্টোজ় ফ্রী ছাড়া খেতে পারিনা। অন্য সব দোকানে দাম বেড়ে ল্যাক্টোজ় ফ্রীর আধা গ্যালনের প্রতিটি প্যাকেটের দাম $৪.৫০ থেকে $4.99 হলেও এ দোকানটায় এখনও $৩.৯৯। আমি কিছু অন্যান্য মুদি সামগ্রীসহ দু'টো প্যাকেট কিনে দাম দেবার জন্য লাইনে দাঁড়াতেই দেখি পরিচিত হিস্পানিক ক্যাশিয়ার মেয়েটার কম্পিউটার স্ক্রীনের উপর থেকে ঝুলন্ত একটা কাগজে বড় করে লিখা "The Wall of Shame"। ভাল করে তাকিয়ে দেখি শুধূ তাই নয়। তার কম্পিউটার মনিটরের চারপাশে অনেকগুলো মানুষের ছবি দিয়ে ফ্রেইম বানানো হয়েছে একটা। আর সে ফ্রেইমের টাইটেলটাই হল The Wall of Shame। আমি হাসতে হাসতে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম এগুলো কী শপ-লিফটারদের ছবি। সে লজ্জা মিশ্রিত হাসিতে হাঁ বোধক জবাবই দিল।

আমি নিজের মনেই মরে যাচ্ছিলাম। আসলেই ওটা একটা লজ্জার দেয়াল। কিন্তু লজ্জার দেয়ালতো মানুষকে শপলিফটিং এর মত লজ্জাজনক কাজ থেকে বিরত রাখার কথা ছিল। আসলে হয়েছে কী, এদের লজ্জার দেয়ালটা ভেঙ্গে গেছে অনেক আগে। এজন্য ছোট-খাট এসব চুরি করে Wall of Shame এ নাম উঠিয়েছে এরা।

লজ্জার দেয়াল যাদের ভেঙ্গে গেছে তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। মালয়েশিয়াতে প্রথম যখন পড়তে যাই তখন বড় ভাইদের কাছ থেকে শুনেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম বহিষ্কৃত ছাত্র ক'জন ছিল বাংলাদেশী। পতিতালয়ে যাওয়া, ক্যাম্পাসে নিজের রুমে মদপান করা আর পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা খেয়ে বীর বাঙ্গালীরা বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের Hall of Shame এ উঠিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। এরপর নাকি প্রতিবছরের ওরিয়েন্টশন উইকে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ঐ বাংলাদেশীদের উদাহরণ হিসেবে পেশ করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র-বিষয়ক ডেপুটি রেক্টর প্রফেসর সুহায়মী। পরে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের Student Representative Council এর এক সময়কার VP বাংলাদেশী ছাত্র আব্দুর রহমান ভাই সহ আরো কয়েকজন বাংলাদেশী বড় ভাইয়ের দেন দরবারের পর প্রফেসর সুহায়মী বাংলাদেশীদের উদাহরণ দেয়া বাদ দেন।

এর পরের ইতিহাস বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের গৌরবের। অসাধারণ একাডেমিক পারফর্মেন্স ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকাণ্ডে গঠনমুলক ভূমিকা পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে আমাদের সোনার ছেলেরা। কিন্তু এর মাঝেও ছিল লজ্জার দেয়াল ভেঙ্গে যাওয়া কেউ কেউ। পাশ করে বেরিয়ে যাবার পরও মালয়েশিয়া যতদিন ছিলাম IIUM এর সাথে সম্পর্ক ছিল। জুনিয়রদের কাছ থেকেই শুনেছিলাম লজ্জাহীন আরেক বাঙ্গালীর খবর। তার বাবা দেশে সরকারের সচিব। ছেলেটা ক্যান্টিনে খেয়ে পয়সা না দিয়ে চলে আসত। ওখানকার ক্যান্টিন বা অনেক খাবারের দোকানের সিস্টেম হল, আপনি আপনার পসন্দ মত খাবার নিয়ে ক্যাশের মানুষটাকে দেখিয়ে দাম জেনে নিয়ে খেতে বসবেন। এরপর খাওয়া শেষে পয়সা দিয়ে আসবেন। আমাদের এই লজ্জাহীন অধিকাংশ সময়ই দাম না দিয়েই চলে আসত। ক্যাশের লোকটা ব্যাপারটা ঠিকই টের পেত। কিন্তু মালয়িদের স্বভাবসুলভ লজ্জার কারণে কিছুই বলতনা। যদি ওরা কখনো ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের বাঙ্গালীদের মত হৈচৈ শুরু করে দিত তবে আমাদের জন্য আবারো Hall of Shame এ নাম উঠার ব্যবস্থা হয়ে যেত, যা আসলেই হত Wall of Shame যা আমাদের দুষ্কৃতিকে আড়াল করার পরিবর্তে হয়ে যেত আমাদের লজ্জাকে স্থায়ীভাবে খোদাই করার আরেক ফলক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28771343 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28771343 2008-02-17 08:55:28
ওরা এমন হয় কীভাবে?
যে বস্তুটা নিজের নয় তার দখল নেয়া নিতান্তই গর্হিত কাজ। কেউ কোথাও পেয়ে তা নিয়ে নিলে না হয় একটা কথা। কিন্তু ভদ্রতার ভান করেই একজনের কাছ তার মালিকানার কিছু জিনিষ নিয়ে নেয়া - আমি কল্পনাও করতে পারিনা। যে জিনিষ আমার নয় তা কারো কাছ থেকে চাইতেই লজ্জা হওয়া উচিত। ঘুষ খাওয়া আর আমাদের দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অন্যদের জিনিষ জোর করে নিয়ে নেয়াটা এধরণের কাজ।

বাংলাদেশী হিসেবে একাজগুলো আমাদের গা সওয়া অনেকটা। কিন্তু শিক্ষিত কিছু মানুষ, যাদেরকে আপাতঃদৃষ্টিতে ভাল মানুষ বলেই মনে হয় তাদের কিছু অন্যায় আবদার মনটাকে পুরোপুরি বিষিয়ে তোলে।

ব্যাপারটা হচ্ছে স্কুলে আমার সুপার ভাইজারকে নিয়ে। ভদ্রলোক আমাকে বেশ খাতির করেন। বয়স্ক মানুষ বলে আমিও তাঁকে বেশ সম্মান করি। উনি একদিন আমাকে একটা অনুরোধ করলেন। একান্তে ডেকে বললেন একটা মেয়েকে যেন পাশ করিয়ে দেই। ১২শ গ্রেডের ছাত্রীটা তাঁর আত্মীয়া। মেয়েটা গ্লোবাল এবং আমেরিকান হিস্ট্রির নিউ ইয়র্ক স্টেট রিজেন্টস পরীক্ষাগুলো পাশ করেনি। তার এবার পাশ করা না হলে হাইস্কুল গ্রাজুয়েশন হবেনা। আমি তাঁকে বললাম এটাতো স্কুলের পরীক্ষা না, স্টেট টেস্ট। আমি তাকে কোন ভাবেই সাহায্য করতে পারবোনা যদি সে নিজে কিছু না লিখে। তিনি এদিকে ব্যাপারটা বার বার আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকলেন। মনে মনে প্রচণ্ড বিরক্তি বোধ করতে থাকলাম।
এদিকে আবার পরীক্ষাগুলো হল এবং মেয়েটা যথারীতি ফেল করল। ভদ্রলোক আমাকে আবার অনুরোধ করলেন তার পেপারগুলো যেন রিচেক (Recheck) করি। আমি রিচেক করেও কোনভাবেই তাকে পাস করার মত স্কোর দিতে পারলামনা। এখন জানিনা ভদ্রলোক আমাকে আগের মত খাতির করবেন কিনা!

কিছু মানুষের মাঝে অসততা একটা রোগ। ৪ বছর আগে স্কুলে পাবলিক স্কুলের এক শিক্ষককে এনে প্রিন্সিপ্যাল নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সে বছর আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমবারের মত স্টেট রিজেন্টস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। আসল পরীক্ষার সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমরা মক রিজেন্টস পরীক্ষার ব্যবস্থা করলাম। আমি জানি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের বেশীরভাগই খারাপ করবে। আমেরিকান হাইস্কুল স্টুডেন্টদের গতানুগতিক যা অবস্থা, এদের অবস্থাও তাই। পরীক্ষা শেষে আমার ধারণা মতই ফলাফল। ঐ প্রিন্সিপ্যাল ভদ্রলোক আমাকে ডেকে বললেন, "দেখুন মিঃ সিরাজ! ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ করলে আপনার উপরে অপবাদটা পড়বে।" আর যা বললেন তার মানে হল ওদের রেজাল্ট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে নিজের মান বাচাঁতে। আমি কি বলব? পুরো থ! আমি কখনো এমন করে ব্যাপারটা ভাবিনি। আমি তাঁকে কিছুই বললামনা। তবে মনে মনে বললাম সামান্য চাকুরীর রেপুটেশন খারাপ হবে বলে আমি আমার সাথে প্রতারণা করতে পারিনা। আর রিজিকের মালিকতো আমি নই। যিনি মালিক তিনি সন্তুষ্ট থাকলেই আমার সব পাওয়া। তাই ঐ প্রিন্সিপ্যালের কথা গ্রহণ করা হয়ে উঠেনি আমার।

বছরখানেক আগে খবর বেরিয়েছিল এক সরকারী হাইস্কুলের প্রিন্সিপ্যালের চাকরী হারানোর ব্যাপারে। ভদ্রলোক স্টেট পরীক্ষাগুলোতে তাঁর স্কুলের খারাপ রেজাল্টের কারণে বদনাম হবে বিধায় রেজাল্ট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে যেয়ে ধরা খেয়েছিলেন।

এরা কেন এমন? এদের এসব দেখে মনটা ভাল মতই বিষিয়ে আছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28768719 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28768719 2008-02-10 01:50:58
মহিলাদের সারভিক্যাল ক্যান্সারের ভাইরাসই সৃষ্টি করছে পুরুষের ওরাল ক্যান্সার!
পুরুষের ওরাল ক্যান্সার সাধারণত হয়ে থাকে তামাক ও মদ্যপানের কারণে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে HPV এর কারণেই পুরূষের মুখের ক্যান্সার হবে তামাক ও মদ্যপানের কারণের চেয়েও বেশী।

সারভিক্যাল ক্যান্সারের এই জীবাণু পুরূষের মুখে ক্যান্সার ঘটাচ্ছে কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা ধারণা করছেন অনেক পুরূষদের ক্রমবর্ধমান হারে মুখ দিয়ে যৌনকর্ম করার কারণেই সম্ভবত জীবাণুটি তাদের মুখে সংক্রমিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে HPV সেক্সুয়ালি ত্রান্সমিটেবল ভাইরাস।

এ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরী সবার।

বিস্তারিত জানতেঃ
HPV-Linked Oral Cancer In Men Increasing
.
HPV-Related Oral Cancers Rising in Men, Researchers Say
.
HPV also blamed for oral cancer in men

লিখাটা একই সাথে "ইনফরমেশন" গ্রুপেও দেয়া হল। মেইন পেজে এ লিখায় কোন মন্তব্য নেয়া হবেনা। তবে গ্রুপ পোস্টে মন্তব্য করাযেতে পারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28767186 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28767186 2008-02-05 10:26:02
এমন হলে আমরা আসলেই কল্যাণময় সমাজের অধিবাসী!
প্রবাসের সবচেয়ে বহুল প্রচলিত সাপ্তাহিক ঠিকানা। আমাদের মসজিদে এক কপি আসে সৌজন্য সংখ্যা হিসেবে। আজকেও আসর নামাজ় পড়ে বাইরে বেরিয়ে যাবার পথে হাতের কাছে পত্রিকাটি পড়লে উঠিয়ে নিলাম। একটা খবরের শিরোনাম দেখে পড়তে গেলাম একটু আওয়াজ করে। এমন সময় ইমাম সাহেব একটা বিশেষ খবর পড়েছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন যা হচ্ছে বাংলাদেশকে এক লোকের এক হাজার কোটি টাকা দান সঙ্ক্রান্ত। খবরটা নিম্নরূপঃ
বাংলাদেশকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির এক হাজার কোটি টাকা দান

দুইবারের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যখন ঋণ সংগ্রহের জন্য দাতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছে, ঠিক সে সময়ে যেন মেঘ না চাইতেই মিললো বিশাল এক দান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বাংলাদেশকে দান করলেন এক হাজার কোটি টাকা। আর এই অবিশ্বাস্য সংবাদটি গত ২৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে জানিয়েছেন ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আই,ডি,বি,) বিশেষ সহায়তা বিভাগের প্রধান ডঃ মুহাম্মদ হাসান সালেম।

চ্যানেল আই জানায়, দুপুরে পরিকল্পনা কমিশনে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই খবর জানানো হয়।তবে সাংবাদিকদের কাছে অর্থ উপদেষ্টা বা আইডিবির সহায়তা বিভাগের প্রধান দানশীল ঐ ব্যক্তির নাম-পরিচয় কিছুই প্রকাশ করেননি। ডঃ মুহাম্মদ হাসান সালেম সাংবাদিকদের জানান, আইডিবি একজন দানশীল ব্যক্তির কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ১৩ কোটি ডলার দান হিসেবে পেয়েছে। দানশীল ব্যক্তিটি কোন ভাবেই চাননি এই দানে তার পরিচয় প্রকাশ হোক।
========================

খবরটা পড়ে সামান্য একটু চমকে উঠলেও খুব আশ্চর্যান্বিত হইনি। আসলে আমাদের এই উম্মাহ্‌ এধরণের মানুষেই সমৃদ্ধ ছিল অনেক কাল। তাদের সংখ্যা কমে গেলেও একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি। এই দানশীল মানুষটি কল্যাণময় সেই সময়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন যখন ধনীদের বদান্যতায় সমাজ থেকে দূর হয়ে গিয়েছিল দারিদ্র। যাকাতের পয়সা নেয়ার জন্য পাওয়া যায়নি কোন গ্রহীতা। আমরা আশার আলো দেখি আমাদের ধনীদের বদান্যতায়। আমাদের রাজনীতিকরা যখন সৎ হবেন, আমাদের শাসকরা যখন হবেন জনগণের কল্যাণাকাংখী আর আমাদের জনগণের বেশীরভাগ যখন হবেন বিশ্বস্ত অনুগামী তখন আবারো আমরা ফিরে পাব কল্যাণময় সেই সমাজ। আমরা সে সমাজ অর্জনের লক্ষ্যেই নিবেদিত করি আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28766559 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28766559 2008-02-03 09:33:00
মুসলিম ব্লগারদের জন্য কিছু কথা ============================
এই ব্লগে ইসলাম নিয়ে লিখছেন যারা তারা নিশ্চয়ই আন্তরিকভাবেই তা করছেন। আর এটা করতে গিয়ে নানান অবস্থার মুকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে। একদল মানুষতো কোন ধর্মীয় পোস্টই সহ্য করতে পারছেনা। তাই তারা মুসলিম ব্লগারদের বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করছেন। কিছু কিছু ব্লগার মারাত্মক ভাবে ব্যক্তি আক্রমনের শিকার হচ্ছেন এদের হাতে। কেউ কেউ হচ্ছেন গালাগালির শিকার। আবার কেউ কেউ ইসলামকেই অহেতুক ও আনজাস্টিফায়েবলী আক্রমন করে মুসলিম ব্লগারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে কিছু মুসলিম ব্লগার ধৈর্য হারানোর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় কিছু বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এ পোস্ট।

১. মুসলিমরা সবসময় ইতিবাচক (পজিটিভ) মানসিকতা পোষণ করে। তাই সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ করুন। উস্কানীমুলক পোস্টের মুকাবিলায় ধৈর্য ধরে ইতিবাচক ভাবে এগুলোর জবাব দিন। উস্কানীমূলক সব পোস্ট গিয়ে জবাব দেবার দরকার নেই। প্রয়োজনে ইসলামের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করে আলাদা পোস্ট দিন। তর্ক করলে তা করতে হবে উত্তম পন্থায়। কাঊকে শক্ত জবাব দিতে হলে সেখানেও যেন ইসলামী আদাব লংঘন না হয়।

২. ব্যক্তি আক্রমনের ও গালাগালির শিকার হলে ধৈর্য ধারণ করে নিজের পথে থাকুন। ইসলাম ছেড়ে দেবেননা বা আপনার এডভারসারীদের প্রিয়ভাজন হবার চেষ্টা করবেননা। ওরাতো চায়ই আপনাকে ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে দিতে। মনে রাখবেন, "ইসলামের কথা বলবেন আর আপনার উপর ফুল ও মধূ বর্ষিত হবে" ব্যাপারটা এমন নয়। খ্যাতির কাঙ্গাল হয়ে কোন লাভ নেই। এ কথাতো সবার জানা যে ইসলামের সর্বোত্তম দায়ীয়াহ্‌ (আহবানকারী) ছিলেন মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ)। তার মত নির্যাতনের মুকাবিলা আমাদের কাউকে করতে হবেনা। রসূলুল্লাহ (সঃ) অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁর উপরে ঊটের নারী-ভূড়ি ছাপানো, গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা, পাগল আখ্যা দিয়ে বখাটে ছেলেদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দেয়া ছাড়াও তাঁর উপর পাথর, জুতা সব কিছুর ঢিল ছোঁড়া হয়েছে। আমরা কেউই তাঁর চেয়ে বেশী সম্মানিত নই। তাই এসব যদি আমাদের উপর এসে পড়ে তাতে অপমানিত হওয়ার কিছু নেই। আর এজন্য পালিয়ে যাওয়ারও কোন মানে হয়না।

৩. দলাদলির ব্যাপারেও সাবধান থাকতে বলব সবাইকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে নানান দলে ভাগ হয়ে গেছে উম্মাহ্‌। এ ক্ষেত্রে ব্লগে নিজেদের দলাদলীর রূপটা প্রকাশ করবেননা। মুসলমানদের একটা দলের বিরুদ্ধে আরেকটা দলকে উস্কে দেয়ার ঘৃণ্য কাজ করে থাকে ইসলামের শত্রুরা সবসময়। এ ক্ষেত্রে সমসাময়িক সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম গ্রুপটিকে আক্রমনের টার্গেট বানায় তারা। এ ক্ষেত্রে অন্য মুসলিমদের সাহায্য নেয় এরা। এজন্য তারা আপনার মধ্যে গোষ্ঠি চেতনা উস্কে দিয়ে কোন মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হলে তারা তখন অপেক্ষাকৃত দূর্বল মুসলিম দল বা গোষ্ঠিগুলোকে সামলাতে পারবে। তাই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে মুসলমানদের কোন দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে পাবলিক ফোরামে সমালোচনা করবেননা, আপনাকে তারা যতই কোন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাক না কেন। আপনি যদি তাদের কোন কাজের সমালোচনা করেন তাহলে তা তাদের কাছেই সরাসরি পাঠান। এতে আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে একটা বিষয় ব্যতিক্রম। সেটা হল ইসলামের মধ্যে নতুন চালু করে দেয়া অনৈস্লামিক কাজগুলোর অসারতা তুলে ধরে আলোচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও কোন বিশেষ গ্রুপের সমালোচনা নয় বরং বিশেষ শিরকী, বিদ'আতী বা কুফরী কাজের সমালোচনা।

৪. বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবিলায় আক্রমনাত্বক ভাষা পরিহার করাও দরকারী। মন্দের মুকাবিলায় ভাল প্রয়োগকারী হিসেবেই আমাদের প্রভূ আমাদের উত্থান ঘটিয়েছেন। যুক্তি-বুদ্ধি এবং দরদই হবে আপনার আলোচনার ও তর্কের ধরণ। তবে দীনী বিষয়গুলোতে যুক্তিবাদের প্রাধান্যকে এড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে কুর'আন এবং সুন্নাহ্‌র দলীলই শুধু প্রয়োগ করতে হবে। এ জন্য কুর'আনের সাথে এবং সুন্নাহ্‌র সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

৫. আরেকটা ব্যাপার হল, এই ব্লগটাই কিন্তু গোটা দুনিয়া নয়। আপনার ব্যক্তিগত পড়াশুনা, পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক, বাইরের দাওয়াতী কাজ এগুলো যেন বাধাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে কোনভাবেই এখানে বেশী সময় দেবার কারণে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28764818 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28764818 2008-01-27 23:49:14
কুর'আন, নারী ও শস্যক্ষেত্র, ইসলাম বিদ্বেষ ও আমার বিশেষ জ্ঞানী হওয়া। কুরআন আল্লাহ্‌র কিতাব। এর রয়েছে নিজস্ব বাচনভঙ্গী যা মানবীয় বাচনভঙ্গী থেকে আলাদা। তাই এ কিতাব বার বার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে এর অস্বীকারকারীদেরকে এরকম একটা কিতাব তৈরী করে আনতে। না পুরো কিতাব নয়, শুধু একটি সূরা। আর এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ছাড়া সব সাহায্যকারীর সাহায্য গ্রহন করতে বলা হয়েছে এর অস্বীকারকারীদের। আবার কুর'আনই বলে দিয়েছে এটা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। "আমরা আমাদের বান্দার উপর যা নাজ়িল করেছি সে ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহে ভোগ তাহলে নিয়ে এস এর সূরাগুলোর মত একটি, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের আর সব সাহায্যকারীকে ডেকে নাও; যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। যদি তোমরা তা না পার, আর তোমরা কখনোই তা পারবেনা, তবে সে আগুনকে ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। একে (আগুন) তৈরী করা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য।" [2/23-24] এটা অননুকরণীয় এক কিতাব। কুর'আন পৃথিবীর আর কোন কিতাবের সাথে কোন সাজুয্য রাখেনা। এমনকি আরবীতে লিখা অন্য সব কিতাব থেকে এর বাচনভঙ্গী সম্পূর্ণ আলাদা। এর বর্ণনার ধরণ হাদীসের ভাষা থেকেও ভিন্ন। যারা আরবী ভাষা জানেন তারা এ পার্থক্যটা খুব সহজেই ধরতে পারেন।

কুর'আনের শব্দাবলী বিশ্বজাহানের স্রষ্টা নিজে চয়ন করেছেন। এজন্য মানবীয় ভাষায় এর অনুবাদে সবসময় থাকে সীমাবদ্ধতা। যার জন্য মুসলিমরা কখনোই অনুবাদকে কুর'আন মনে করেননা। কুর'আন হচ্ছে তা যা পড়া হয় আরবীতে। অনুবাদ্গুলো আমাদের মানবীয় প্রচেষ্টা কুর'আন বুঝার নিমিত্তে। এজন্য কুর'আনের কোন অনুবাদই পরিপূর্ণ নয়। অনেক অনুবাদ আবার ভাবানুবাদ, শাব্দিক নয়। কুর'আনের বাণী বুঝার জন্য আরো দরকার ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার উপর দক্ষতা। এজন্য ক্লাসিক্যাল আরবীর যথার্থ জ্ঞান ব্যতিরেকে শুধু অনুবাদের উপর নির্ভর করে কুর'আনের সমালোচনা করা মূর্খতাপূর্ণ পণ্ডিতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

কুর'আনের সমালোচনার জন্য অন্য আরেকটি বিষয় পাঠককে জানতে হবে। তা হলো কুর'আনের আয়াতগুলো নাজ়িল হয়ার প্রেক্ষাপট। সাধারণত আমরা লিখিত কিতাবগুলোকে সুচী ও বিষয় অনুযায়ী অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত ধারাবাহিকরূপে সাজানো দেখতে পাই। কিন্তু কুর'আন কোন লিখিত কিতাব হিসেবে একসাথে মুহাম্মদকে (আল্লাহ্‌র করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর) দেয়া হয়নি। বরং এটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান ও পাত্রের উপলক্ষে নাজ়িল করা এক ভাষণের সমষ্টি। এজন্য প্রচলিত কিতাবের (বইয়ের) ধারণা এখানে পাওয়া যাবেনা। এর ভাষণগুলোর একটি সাধারণ প্রয়োগ থাকলেও এর প্রতিটি ভাষণের বিশেষ প্রয়োগও রয়েছে নাজ়িলের প্রেক্ষাপটের আলোকে।

২. নারী ও শস্যক্ষেত্র
কুর'আনের কিছু আয়াত উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন কিছু ব্লগার। এরকম একটি কাজ করেছেন সম্প্রতি "সুশীল সমাজ" নিকধারী এক ব্লগার তাঁর এক পোস্টে। তিনি কুর'আনের সূরা আল-বাকারার ২২৩ নং আয়াতটির নিন্মোক্ত অনুবাদ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ব্লগে তুলে ধরেছেনঃ "তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্খা কর এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে| আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।" তাঁর বোল্ড করা অংশগুলোই তাঁর ইঙ্গিতের স্বরূপ। অনুবাদটি মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের অনুদিত মা'আরেফুল কুর'আনেও এভাবেই দেয়া হয়েছে। তিনি হয়তো প্রেক্ষাপট জানতেন বলে তাঁর কাছে এখানে কোন অসুন্দর ইঙ্গিত ধরা পড়েনি। এবার আসুন আমি একটি অনুবাদ পেশ করি। "তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যখন ও যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যাও। আর নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের ব্যবস্থা কর ও আল্লাহ্‌কে ভয় কর............।"

"ফা'তু হারসাকুম আন্না শি'তুম" এর অনুবাদ করা হয়েছে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর"। অথচ ফা'তু মানে "অতএব তোমরা গমন কর", হারসাকুম মানে "তোমাদের শস্যক্ষেত্র" আর আন্না শি'তুম মানে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা কর বা যখন ইচ্ছা কর।" যারা আয়াতটির পেছনের কারণ জানেন তাদের কাছে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর" অনুবাদটি শাব্দিকভাবে যথাযথ নাহলেও ভাবার্থের দিক দিয়ে মিলবে এবং তারা এতে কোন অস্বস্তিকর কিছু পাবেননা। কিন্তু যারা পুরো ব্যাপারটা জানেননা তারা এটাকে চরম অপমানকর একটা কথা মনে করবেন।

আসলে প্রকৃত ব্যাপারটা কী? ঘটনা হচ্ছে স্ত্রীদের সাথে সঙ্গমের আসন নিয়ে লোকেরা দ্বিধাদন্দ্বে পরে গিয়েছিল বিভিন্ন প্রচলিত আচারের কারণে। মদীনায় আসার পর মুসলমানদের মধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন সংশয়ের সৃষ্টি হয়। মক্কাবাসীরা সাধারণত তাদের স্ত্রীদের মুখোমুখি হয়ে মিলিত হত। মদীনাবাসী আনসাররা তাদের স্ত্রীদেরকে উপুর করে নিয়ে মিলিত হতেন। ওদিকে মদীনার ইহুদীরা এগুলো নিয়ে বলত যে এরকম হলে সন্তান বিকলাঙ্গ হবে। এ ছাড়াও তারা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকত, এমনকি তাদেরকে স্পর্শ পর্যন্ত করতনা। এ অবস্থায় লোকেরা প্রশ্ন করলে আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াতের মাধ্যমে এ সম্পর্কে সব ভুল ধারণার অবসান করেন। স্ত্রীদেরকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করে এবং তাদের কাছে যেভাবে ইচ্ছা যাওয়ার কথা বলে আল্লাহ্‌ তা'আলা যৌন সঙ্গমের সব আসনকে বৈধতা দিলেন এবং শুধুমাত্র স্ত্রীর যোনীতে সঙ্গমকে এলাউ করলেন। কারণ কৃষক বীজ জমিতেই বপন করে একে চাষ করে। এছাড়াও যৌন সঙ্গমের উদ্দেশ্য যে নিজের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্ম রেখে যাওয়া তাও বলে দেয়া হয়েছে। আর স্ত্রীদের কাছে সবসময় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঋতুকালীন সময়ে তাদেরকে ত্যাগ করে থাকতে বলা হয়নি যেমন করত ইয়াহুদীরা। তবে তাদের সাথে সে সময়ে সঙ্গম করাকে হারাম করা হয়েছে যা এর আগের আয়াতে (২/২২২) উল্লেখ করা হয়েছে। এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করতে বলে সেদিকেই মূলতঃ ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কুর'আনে স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্ক শুধু এ আয়াতেই বর্ণনা করা হয়নি। আমরা আরো দু'টি আয়াত দেখি। মহান আল্লাহ্‌ স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্কঅকে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারাহ্‌র ১৮৭ নং আয়াতে তিনি এ অন্তরঙ্গ সম্পর্কের পরিচয় পেশ করেছেন এভাবেঃ "তারা তোমাদের পরিচ্ছদ স্বরূপ আর তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ স্বরূপ।" তারা পারস্পরিক প্রেম-ভালবাসার মূর্ত প্রতীক তাও আল্লাহ্‌ আমাদের জানিয়েছেন এভাবে, "আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে (একটি হলো এই যে) তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জুড়ি (স্বামী/স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের পরস্পরের মাঝে প্রেম-ভালবাসা ও দয়া-মমতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এর মাঝে রয়েছে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য বিরাট নিদর্শন।"(৩০/২১)। এরচেয়েও সুন্দর করে কি আর কোথাও স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্ককে বিবৃত করা হয়েছে?

৩. ইসলাম বিদ্বেষ
প্রিয় পাঠক, তাই বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে কুর'আনের আয়াত নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। কুর'আনকে তার পূর্নাঙ্গরূপে নিয়েই অধ্যয়ন করতে হবে। তাহলে আপনার মনের সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। কুর'আনকে একটি পূর্ণাঙ্গ বানী (Total Messege) হিসেবে নিতে হবে। তাহলে আর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবেনা। কিন্তু বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীরা বসে থাকবেনা। তারা কোনকালেই বসে ছিলনা। এই ব্লগে এর আগেও "নাস্তিকের ধর্মকথা" ও "ক্যাচাল" নিকধারী দু'ব্লগার বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। আমার এক পোস্টে আমি নাস্তিকের ধর্মকথার আল্লাহ্‌র লিঙ্গ নিয়ে সৃষ্টি করা বিভ্রান্তির জবাব দিয়েছি আর ক্যাচালের ব্যাপারেও সাবধান করেছি। আরা কুর'আনএর আয়াতের অসঙ্গতি নিয়ে ক্যাচালের পোস্টের জবাব দিয়েছেন দ্বীপবালক। এরা অন্ধ বিদ্বেষী। কুর'আনকে ওরা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়েনা। পড়ে নিজেদের পূর্ব ধারণার উপাদান খুঁজতে। এজন্য এর সম্পূর্ণ মেসেজ না নিয়ে তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্তভাবে কুর'আনের আয়াতগুলোকে কনটেক্সটের বাইরে নিয়ে উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তাদের ছড়ানো বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে নিজে উদ্যোগী হয়ে কুর'আন পড়তে হবে।

৪. আমার বিশেষ জ্ঞান
সুশীল সমাজ প্রশ্ন রেখেছিলেন "আবূসামীহা কি কোরান হাদিস রিসার্চ সেন্টার থেকে বেশী জ্ঞানী?" আমি কখনো বলিনি আমি সেরকম। আমি শুধু তাদেরকে অবজ্ঞা করেছি যারা আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া ও কুর'আনের আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট জানা ব্যতিরেকে কুর'আনের বিরুদ্ধে অবজ্ঞা ছড়ানোর ধৃষ্টতা দেখায়। আমি বিশেষ কোন জ্ঞানী ব্যক্তি নই। তবে আলাহ্‌র কিতাবের পাঠক ও তাঁর অনুগ্রহের ফকীর।

প্রিয় মুসলিম বোন ও ভাইয়েরা! কুর'আনকে নিজে থেকে জানার উদ্যোগ গ্রহন করুন। তাহলে আপনাকে কেউ আর বিভ্রান্ত করতে পারবেনা। এ জন্য ভাল কিছু তাফসীরের সাহায্য গ্রহন করুন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে হাফিয ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীরের যুগান্তকারী তাফসীর যা "তাফসীরে ইবনে কাসীর" হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলায় অনুদিত হয়েছে। অনুবাদ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডঃ মুজীবুর রহমান। এছাড়া আমাদের সময়কালের দু'টো তাফসীর আপনার কুর'আন বুঝার সহায়ক হবে, যেগুলো হলঃ সাইয়েদ কুতুবের (শহীদ) "ফী জিলালিল কুর'আন" ও সাইয়েদ মওদূদীর "তাফহীমূল কুর'আন।" আসুন নিজেদের ঈমান হিফাজত করি, কুর'আনের পথে চলি আর আমাদের মহামহিম প্রভূর সন্তোষের লক্ষ্যে দ্রুত ধাবিত হই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763429 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763429 2008-01-23 09:59:18
এটা কী রকম তেলেসমাতি?
এটা কী রকম তেলেসমাতি? B:-)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763019 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763019 2008-01-21 22:08:51
মাছি মারা কেরাণী ও আমার অভিজ্ঞতা
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর আগে আসুন মাছি মারা কেরাণীর গল্পটাই আরেকবার রোমন্থন করি। কেরাণীদের কাজ হলো তাদের বসদের হুকুম পালন করা। বসরা যা করতে বলেন তা করা। এক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের বুদ্ধি নতুন করে খাটাননা। যা বলতে বলা হয়েছে তাই করেন চিন্তা ভাবনা করা ছাড়া। কোন কাজের দায়ভার নিজের কাঁধে নেয়ার মত মানসিকতা, সাহস ও ক্ষমতা কোনটাই তাদের নাই।

এরকম এক কেরাণীকে তাঁর বস একবার এক ফাইল কপি করতে দিলেন। বেচারা কেরাণী নিজের হাতে ঐ ফাইল কপি করে যাচ্ছেন। তখনকার দিনে ফটোকপি, সাইক্লোস্টাইল বা স্ক্যানিং, কম্পিঊটার কিছুই ছিলনা। তিনি ফাইলের কাগজগুলোর নকল (কপি) তৈরী করা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। শেষ পাতায় দেখলেন একটা মাছি মরে লেগে আছে। তিনি ভাবলেন, "এটা কীভাবে কপি করা যায়?" আর আপনারা যারা চেষ্টা করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন মাছি মারা বা ধরা খুব সোজা কাজ নয়। কেরাণী ভদ্রলোককে ফাইল নকল করতে হবে। তাই মাছি মারা ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি অনেক কষ্ট করে একটা মাছি মেরে নকল ফাইলটাতে জায়গামতো সেঁটে দিলেন। সেই থাকে বাংলায় "মাছি মারা কেরাণী" কথাটার শুরূ।

কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমাকেই যে এক মাছি মারা কেরাণীর মুকাবেলা করতে হবে তা কে জানত? ১৯৯২ সালের কথা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে নতুন কিছু শেখা। Communication Law & Ethics কোর্সটা নিলাম। শিক্ষক সাইয়েদ শওকত আলী শাহ্‌। ভদ্রলোক তাঁর কড়া মেজাজের জন্য গোটা ফ্যাকাল্টির ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিচিত। আমি কমুনিকেশন মেজর হওয়ার পরও তাঁর সাথে কোন কোর্স নেইনি কারণ সিনিয়ররা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তাঁর মেজাজ এবং নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতার কথা বলে। এদিকে তিনিই writing কোর্সগুলো পড়ান। বাধ্য হয়ে ৩য় সেমিস্টারে তাঁর সাথে একসাথে তিনটা কোর্স নিতে হল। এর মধ্যে দু'টো কোর কোর্স। Reporting & Writing for Mass Media-I এবং Communication Law & Ethics। এদিকে তিনি আবার পান- থেকে চুন খসলেই ক্ষেপে যান। এসাইনমেন্ট - ২য় কোর্সটির জন্য একটা টার্ম পেপার লিখতে হবে যা অবশ্যই টাইপ করা ১০ থেকে ১২ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

তখন আবার এত GUI কম্পিঊটার ছিলনা। ছিল DOS বেইসড পি.সি.। শেখার কষ্টে তখনো ভাল করে শেখা হয়নি। এজন্য এসাইনমেন্ট হাতে লিখে আমরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কেরাণীদের দিয়ে টাইপ করিয়ে নিতাম। প্রতি পৃষ্ঠার (ডাবল স্পেইস, ১২ ফন্ট সাইজ) জন্য ১ রিংগিত করে পে করতাম ঐ কেরাণীদেরকে। আমার এসাইনমেন্টাও হাতে লিখে এক কেরাণীর কাছে দিয়ে এলাম টাইপ করার জন্য। হাতে লিখা এসাইনমেন্টটা ছিল ১৫ পৃষ্ঠা। স্বাভাবিকভাবে টাইপ করলে পৃষ্ঠা কমবে। কোনভাবেই ১২ পৃষ্ঠা হওয়ার কথা নয়। আমি হাতে লিখাটার শেষ পাতায় লিখে দিয়ে এসেছিলাম "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages"।
নির্দিষ্ট দিনে টাইপ করা এসাইনমেন্টটা ফেরত আনতে গিয়ে দেখি সে ১৫ পৃষ্ঠাই টাইপ করেছে এবং আমার দেয়া ইন্সট্রাকশন "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages" কথাটাও টাইপ করে রেখেছে।

হাসব না কাঁদব? একদিকে মিঃ সাইয়েদ শওকত আলীর ইন্সট্রাকশন, এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন আর অন্যদিকে তার মেজাজ। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। তবে বাস্তবের একজন মাছি মারা কেরাণীর দেখা পাওয়া গেল বলে একটু কষ্টের হাসিও হাসা গেল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28761272 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28761272 2008-01-16 09:12:55
যখন এই যন্ত্রটা বন্ধ হয়ে যাবে!
এর সুস্থ্যতা তাই খুবই জরুরী। এর বস্তুগত স্বত্ত্বার সুস্থ্যতা জরুরী শারীরবৃত্তীয় ধারাটাকে জারী রাখাতে। আর এর আত্মিকরূপটার সুস্থ্যতা জরূরী আমাদের গোটা মানব অস্তিত্বকে কলুষতা বিমুক্ত রেখে সৌন্দর্যে বিমণ্ডিত করতে। এজন্যই মানবতার মহান শিক্ষক (তাঁর উপর সালাত ও সালাম) বলেছেন, "নিশ্চয় শরীরে একটি মাংশপিণ্ড রয়েছে যা সুস্থ্য হলে গোটা শরীর সুস্থ্য, আর যা অসুস্থ্য হলে গোটা শরীর অসুস্থ্য। আর অবশ্যই তা হলো হৃদয়।"

এই হৃদযন্ত্রটা কখন তার ধুকপুকানি বন্ধ করে দেবে জানিনা কেউ। তার ধুকপুকানি বন্ধ হলে প্রাণ পাখীটাও উড়ে চলে যাবে। তখন সব ভালবাসা আর ঘৃণার উর্ধ্বে চলে যাব সবাই। তাই একে সুস্থ্য রাখার চেষ্টা করি আমরা। ঘৃণা আর বিদ্বেষকে তাড়িয়ে দেই হৃদয় থেকে। ভালবাসায় ভরে তুলি একে। মানুষের কল্যাণ চিন্তায় নিয়োজিত রাখি একে।
==========================
আজ হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করতে গিয়েছিলাম ডাক্তারের কাছে। তাই লিখলাম উপরের অগোছালো কথাগু্লো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760505 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760505 2008-01-13 10:11:20
একজন বন্দী সাংবাদিক ও একটি বন্দী শিবির
ক্যাম্প এক্স-রে, গুয়ান্তানামো বে, কিউবা; একটি নতুন গুলাগ মুক্তিকামী মানূষের কাছে। মানবতার জন্য চরম লাঞ্ছনাকর একটি স্থান। সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে এখানে। আটক যারা তাদের বেশীরভাগেরই জানা নেই কেন তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও আনা হচ্ছেনা এবং তাদেরকে বিচারেরও সম্মুখীন করা হচ্ছেনা। আমেরিকান বিচার ব্যবস্থার আওতায় যাতে তাদের বিচার করা না হয় সেজন্য তাদেরকে শত্রুযোদ্ধা (enemy combatant) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবন্দীদের জন্য যে আন্তর্জাতিক আইন তাও এদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছেনা। আজ (জানুয়ারী ১১, ০৮) পার হয়ে গেল এই বন্দীশিবির চালু হওয়ার ৬ বছর। সারা বিশ্বব্যাপী মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে এই শিবিরের অবসান চেয়েছে।

এখানে একজন বন্দীমানুষের কথা স্মরণ করছি, যিনি সাংবাদিক - ক্যামেরা সাংবাদিক। আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল আল-জাজ়ীরার ক্যামেরাম্যান সামী আল-হাজ্জ। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সামীকে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করে ক্যাম্প এক্স-রে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি, তাকে বিচারেরও সম্মুখীন করা হয়নি। সামী ৭ ডিসেম্বর ২০০৭ থেকে তাকে বিচারের সম্মুখীন করার দাবীতে অনশন ধর্মঘট পালন করছেন আজতক।

ফাঁস হয়ে যাওয়া কিছু খবরে জানা গেছে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ চেয়েছেন সামীকে দিয়ে আল-জাজ়ীরার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করাতে। রাজী হলে তাকে এবং তার পরিবারকে আমেরিকান নাগরিকত্ব দেয়ারও প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু সামী রাজী না হওয়ায় এখনো তাকে বিনা বিচারে আটক থাকতে হচ্ছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠি কোনভাবেই চাইছিলনা তাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান চালু হোক। এজন্য আল-জাজ়ীরা তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। তারা এর সম্প্রচার বন্ধ করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলে, এর সাংবাদিকদের আটক করে ও এর স্থাপনার উপর বোমা হামলা করে এটাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে। সামী আল-হাজ্জকে নিয়ে তাদের এই ক্রুর খেলাও মূলতঃ আল-জাজ়ীরার প্রতি আক্রোশের কারণে।

আসুন আমরা আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি বিশ্ব চাই, আর গুয়ান্তানামো বে'র বন্দী নং ৩৪৫ এর মুক্তি দাবী করি।
Prisoner 345: Official Website dedicated to Sami al-Hajj ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760230 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760230 2008-01-12 09:57:52
এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? "এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? ধর্মটা নিজের ভেতর রেখে ব্লগটায় ভিন্ন লেখা দেয়া যায় না?

দেখুন আমাকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য দ্বায়ি করবেন জানি। কিন্তু এই হাদীস, কুর-আন এসব বাসায় বসে চর্চা করার বিষয়। যদি কেউ না করে তবে সেটা তার উপর। আর ব্লগ একটা পরিচ্ছন্ন লেখাস স্থান। এইখানেও যদি ধর্ম টেনে আনেন তাহলে তো এইটা সকীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই না। একটা পোস্ট দিন না যেটা ধর্ম সংক্রান্ত নয়। দেশের মানুষ এখন খেতে পাচ্ছে না। সেটা নিয়ে কথা বলুন। ধর্ম নিজের ভেতর রাখবেন। এইটা যথেষ্টই প্রচার হইতেছে, আর দরকার বোধ করি না। ধন্যবাদ। আশা করি আমাকে ভুল বুঝবেন না।"

উপরের কথাগুলো আমার একটা পোস্টের মন্তব্যে লিখেছেন একজন সম্মানিত ব্লগার। তাঁকে অস্মমান বা অশ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই পোস্ট নয়। এই পোস্ট শুধু তাঁর মন্তব্যের কৃত প্রশ্নের ব্যাপারে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে বলার জন্য, যা তাঁর মত একই মানসিকতা সম্পন্ন অনেকের প্রশ্নের উত্তর হতে পারে।

প্রথমে আসি ব্লগ লিখা নিয়ে। ব্লগ কি? আমার বিশ্বাস সবাই জানেন। ব্লগ "ওয়েব লগ" এর সংক্ষিপ্তরূপ, যা একটা অনলাইন ডায়েরীর মত। এখানে যে কেউ কেউ নিজের ইচ্ছে মত লিখতে পারে, এর নীতিমালা মেনে নিয়ে। এখন দেখতে হবে ব্লগ সাইটটির নীতিমালা কোন লেখকের লেখায় লংঘিত হয়েছে বা হচ্ছে কিনা। যদি হয় তাহলে তাকে বলা যেতে পারে লিখা বন্ধ করতে অথবা তার বিরুদ্ধে নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

এবার আসুন পরিচ্ছন্ন লিখার কথায়। তিনি লিখেছেন "আর ব্লগ একটা পরিচ্ছন্ন লেখাস স্থান। এইখানেও যদি ধর্ম টেনে আনেন তাহলে তো এইটা সকীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই না।" ভাল কথা পরিচ্ছন্ন লিখতে হবে। এখন ধর্ম নিয়ে লিখলে পরিচ্ছন্নতা কিভাবে নষ্ট হয়? আপনি আমাদেরকে পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন। ব্লগে যদি কেউ কুরআন এবং হাদীসের কিছু উদ্ধৃতি পেশ করে তাহলে ব্লগের পরিচ্ছন্নতা কিভাবে নষ্ট হয়? যখন গালাগালি ও অশ্লীলতার বন্যা বইয়ে দেয়া হয় তখন কি পরিচ্ছন্নতার হানি হয়না?

আর সঙ্কীর্ণতা হলো নিজের মতামতকেই শুধু প্রাধান্য দেয়া, এর বাইরের আর কোন কিছুকে সহ্য না করা। আমার লিখায় কি কোন সঙ্কীর্ণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে না আপনার নিজের মন্তব্যে? দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, "একটা পোস্ট দিন না যেটা ধর্ম সংক্রান্ত নয়।" দয়া করে আমার পুরো ব্লগটি ভ্রমন করলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। আর সবাইকে সব বিষয়ে লিখতে হবে এটাতো জরুরী নয়। দেশোদ্ধার করার কাজ করছেন কিছু ব্লগার। আমি তাদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কেউ কেউতো শুধু প্রতিক্রিয়াশীল পোস্ট দিয়ে প্রথম পাতা ভরে রাখেন।

এবার আসা যাক তার মন্তব্যের শুরুর কথাটায় -"এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? ধর্মটা নিজের ভেতর রেখে ব্লগটায় ভিন্ন লেখা দেয়া যায় না?" এত ইসলাম ইসলাম কোথায় করা হয়েছে আমার পোস্টে আপনি কি একটু বলবেন? আর যদি আমি করিও এতে আপনারতো কষ্ট পাবার কথা নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ইসলাম পালন করার আহবান করিনি। ইসলাম ইসলাম আমি করলেও আপনার সমস্যা হবার কথা নয়। ব্লগেতো অনেক কিছুই করছেন অনেকে। আমি না হয় একটু "ইসলাম ইসলাম" ই করলাম। আমি ইসলামের কিছু বিষয় নিয়ে লিখেছি যা থেকে আগ্রহীরা উপকৃত হতে পারে। সেখানে কোন দল বা গোষ্ঠির পক্ষে বা বিপক্ষে কিছুই বলা হয়নি। তাই আপনার প্রতিক্রিয়াটাই বরং হয়ে গিয়েছে আমাদের সমাজের অসহনশীলতার গতানুগতিক একটা উদাহরণ।

আর ধর্ম আপনি যেমন মনে করেন ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি সেরকম মনে করিনা। ধর্ম যদি ব্যক্তিগত ব্যাপারই হতো তাহলে দুনিয়ার প্রত্যেক ব্যক্তিরই সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা ধর্ম বিশ্বাস থাকত। ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার নয় বলেই বিশ্বাসীরা এটার প্রচার ঘটিয়েছেন আর এর অনুসারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। ব্যক্তিগত বিষয় নয় বলেই এর সামাজিক রূপ রয়েছে। আর সেজন্যই মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, সিনাগগ ইত্যাদি রয়েছে যেখানে ব্যক্তিগতভাবে নয়, সামষ্টিক-সামাজিকভাবেই ধর্ম পালন করা হয়।

যে কেউ যে কোন পোস্ট দিতে পারে ব্লগে এর নিয়মাবলী মেনে। এতে অন্য কারো কষ্ট লাগলে তার উচিত এর একটা যথাযথ যুক্তিসম্মত জবাব দেয়া। কিন্তু গায়ের জোরে বন্ধ করে দেয়ার নীতি নিশ্চয়ই কাম্য নয়।

আর আপনাকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য "দ্বায়ি" করার দায়িত্ব আমার নেই। এটা আপনি নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। আপনাকে ভুল বুঝে আমার কোন কাজ নেই ভাই। নিজের মনটাকে যদি ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্কীর্ণতার কুকোনে আবদ্ধ করে রাখেন তাহলে আপনি ধর্মীয় জীবনের বিশালতা দেখবেন কিভাবে? পূর্ব ধারণা নিয়ে যদি ধর্মকে দেখেন সেখানে আপনি আপনার বিশ্বাসের প্রতিফলনই দেখবেন। আপনি হয়তো বলবেন "আপনার ব্যাপারেও একই কথা খাটে।" খাটে হয়তো। কিন্তু এর ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছি তখন যখন প্রচলিত ধর্মীয় ধারণাটাকে আস্তে করে সরিয়ে দিয়ে ইসলামকে বুঝতে চেষ্টা করেছি নিজে স্বাধীনভাবে।
ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756881 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756881 2008-01-05 09:24:43
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৮ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ৫ খুতবায় রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) কি বলতেন?

আব্দুল্লাহ্‌ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে দিমাদ ইবন সা'লাবা মক্কায় আসল। সে ছিল আজ়দ শানু'আহ গোত্রের লোক এবং সে পাগলদের পাগলামী সারানোর ওঝাগিরি করত। মক্কার নির্বোধ লোকদের মুখে সে শুনল যে মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া-সাল্লাম) একজন উন্মাদ। এটা শুনে সে বললঃ "আমি যদি এই লোকটিকে দেখতে পারি তাহলে হয়তো আমার হাতে আল্লাহ্‌ তাকে সারিয়ে দেবেন।" এরপর সে তাঁর (সঃ) সাথে দেখা করে বললঃ "ও মুহাম্মদ, আমি উন্মাদনার ঝারফুঁক জানি, আর আল্লাহ্‌ আমার হাতে যাকে ইচ্ছা সুস্থতা দান করেন। আপনি কি চান [আমি আপনাকে ঝারফুঁক করি]?" একথা শুনে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বললেন, " ইন্না-ল-হামদা লিল্লাহ্‌, নাহমাদুহু, ওয়া নাস্তা'য়ীনুহু। মান ইয়াহদিহি-ল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু। ওয়া মান ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লা-ল্লাহ, ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু; ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু। আম্মা বা'দ -- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য; আমরা তার প্রশংসা করি এবং তার কাছেই সাহায্য চাই। আল্লাহ্‌ যাকে সঠিক পথের দিশা দেন তাকে কেউই পথভ্রষ্ট করতে পারেনা। আর আল্লাহ্‌ যাকে ভ্রান্ত হতে দেন সে কোন পথ নির্দেশক পায়না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্‌ ছাড়া ইবাদত/দাসত্ব পাওয়ার অধিকারী কোন সত্ত্বা নেই - তার কোন অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র বান্দা ও রসূল। এবং অতঃপর.." দিমাদ এখানে বাধা দিয়ে বলল, "আপনার এই কথাগুলো আমাকে আবার বলুন। রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) কথাগুলো তার জন্য তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। দিমাদ বললঃ "আমি জ্যোতিষদের কথা শুনেছি, যাদুকরদের কথা শুনেছি, কবিদের কথাও শুনেছি, কিন্তু আমি আপনার এই কথাগুলোর মত কোন কথা কখনো শুনিনি। আর এই কথাগুলি [বাগ্মীতায়] সমুদ্রের গভীরে প্রবেশকারী। আমাকে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমি ইসলামের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহন করি।" আর এভাবে সে ইসলামের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দেয়।

আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বললেনঃ "এটা (আনুগত্যের শপথ) তোমার জাতির পক্ষ থেকেও কি?" সে বলল, " হ্যাঁ, এটা আমার জাতির পক্ষ থেকেও।" [পরবর্তীকালে] রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) একটা বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন যা তার গোত্রের আবাসস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। বাহিনীর অধিনায়ক তাঁর সাথীদের বললেন, "তোমরা এই গোত্রের লোকদের কাছ থেকে কিছু নিয়েছ কিনা?" একজন বললেন, "আমি পানি রাখার একটা পাত্র পেয়েছি।" এতে করে অধিনায়ক বললেন, "ওটা ফিরিয়ে দিয়ে এস, কারণ এরা দিমাদের গোত্রের লোক।"

[ইমাম মুসলিম হাদীসটি তাঁর সহীহতে জুমু'আর অধ্যায়ে সংকলন করেছেন। এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে ইমাম আল-মুনযিরীর সংকলিত "মুখতাসার সহীহ মুসলিম" থেকে। হাদীস নং ৪০৯]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756588 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756588 2008-01-04 10:09:40
থার্টি ফার্স্ট নাইট ও আমেরিকায় ৭ বছর
কুইন্সে শিবলী-ফ্যান্সীর বাসায় নামিয়ে দিয়ে গেলেন আমার ভায়রা। ওখানে বসে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন। সন্ধ্যায় সে থার্টি ফার্স্ট নাইট। ২০০০ সালের শেষ দিন। সুতরাং টাইম স্কোয়ারে বল-ড্রপ সহ সেবারের আয়োজন বিশাল। বিখ্যাত টাইম-স্কোয়ার। বাইরে থেকে এখানে এসে নিউ ইয়ার্স ঈভের এই বিশাল অনুষ্ঠান মিস করতে চাইবেনা অনেকেই। কিন্তু কেন জানি যাওয়ার জন্য কোন আগ্রহ বোধ করিনি। সন্ধ্যায় বরং গিয়েছিলাম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণদের এক সংবর্ধনানুষ্ঠানে।

আজ আমেরিকায় আসার সাত বছর হয়ে গেল। এখন রাত ১০টা বেজে ৫৫ মিনিট। এইতো আর ঘণ্টাখানেক পরেই টাইম-স্কোয়ারের বল-ড্রপিং। অনেকেই ছুটে যাবে ম্যনাহাটানে। কেউ বা আবার আতশবাজির উৎসবে বিভিন্ন স্থানে। তদের উৎসবের আরো আরো দিকগুলোর কথা না হয় বাদই থাকল।

হঠাৎ করেই আজ আমার ইলেভেন্থ গ্রেডের ছাত্রীদের ক্লাসে কেউ নিঊ ইয়ার নিয়ে মন্তব্য করলে আমার মনে পড়ে যায় থার্টি ফার্স্ট অফ ডিসেম্বরের কথা এবং সাত বছর আগে এ দেশে আসার কথা। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম আমি কখনো টাইম-স্কোয়ারে যাইনি নতুন বছরের বল-ড্রপিং দেখতে। আরো খেয়াল করে দেখলাম আমি এই ঘরের কাছের স্ট্যাচু-অফ-লিবার্টিটাও দেখতে যাইনি। আমি যখন ওদের বললাম আমি কখনো স্ট্যাচু-অফ-লিবার্টি দেখতে যাইনি, ওরা খুব আশ্চর্য হয়েছে।

আসলেই এইসব বল-ড্রপিং ও স্ট্যাচু আমাকে কখনো টানেনা। হৃদয়কে স্বচ্ছ রেখে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে থাকলে এসব সিম্বলের কোন প্রয়োজন হয়না। আর এভাবে ৩১শের রাতে অর্থহীন কিছু অনুষ্ঠানেরওতো কোন মানে আমি কখনো খূঁজে পাইনি। সময় সব-সময়ই বহমান, সৃষ্টির শুরু থেকে, যার কোন ধারণা আমাদের নেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময়কে নতুন বছরের শুরু ধরে নিয়ে উদ্দাম-উন্মাদনায় মেতে উঠারও কোন মানে নেই - অবশ্য সময়ের হিসাব গণনার জন্য মানুষ যে ব্যবস্থা করেছে তা ভিন্ন কথা। তাই আমার সময় গণনা নিভৃতেই পার হয়। তবে এতে থাকে প্রতিনিয়ত আত্মবিচার আর ভাল মানুষ হবার আপ্রাণ চেষ্টা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28755627 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28755627 2008-01-01 09:55:48
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৭ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ৪ জুমু'আর দিন গোসল করা সংক্রান্ত




আবূহুরায়রা আব্দুর রহ্‌মান ইবন সখর (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ জুমু'আর দিন উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন আর তখন উসমান ইবন আফফান (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার (রাঃ) তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "কেন কিছু লোকেরা আজ়ান[১] হয়ে যাওয়ার পরে মসজিদে আসে?" উসমান (রাঃ) তখন বললেন, "আমীর আল-মু'মিনীন! আমি আজ়ান শোনামাত্র উজ়ু করে (মসজিদে) এসেছি।" উমার (রাঃ) বললেন, "শুধু উজ়ু? তুমি কি রসূলুল্লাহ্‌কে (সঃ) বলতে শোননি 'তোমাদের কেউ যখন জুমু'আর জন্য আসে সে যেন গোসল[২] করে আসে'"?
[হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়েই সংকলন করেছেন। এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে ইমাম আল-মুনযিরীর "মুখতাসার সহীহ মুসলিম" নামক সংকলনের ইংরেজী ভার্সন থেকে। হাদীস নং ৪০৪]

নোটঃ
[১] রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ), আবু-বকর (রাঃ) এবং উমার (রঃ) এর সময়ে জুমু'আর দিন একটা আজানই দেয়া হত। আর তা হচ্ছে সেই আজান যা ইমাম খুতবা দিতে মিম্বরে উঠলে দেয়া হয়। এই আজানের পর মসজিদে আসলে আসার জন্য কোন সওয়াব হয়না। এখন যে আগে একটা আজান দেয়ার প্রচলন করা হয়েছে তা শুরূ হয়েছে উসমান (রাঃ) এর সময়ে। মুসলমানরা একটু বেশী ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এই প্রথম আজান দেয়া হত মদীনার বাজারে লোকদের জুমু'আর ব্যাপারটা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য, মসজিদে নয়।

[২] জুমু'আর দিনের গোসল ফরজ গোসলের মত করে ফজরের আগেই করার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমগণ মতামত পেশ করেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754530 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754530 2007-12-28 09:19:30
আল্লাহ্‌, ইসলাম, কুর'আন, হাদীস, ইত্যাদি নিয়ে এক ক্যাচালের ক্যাচালী ও কিছু কথা।
সম্মানিত ব্লগার বন্ধুরা লক্ষ্য করে থাকবেন যে তিনি আবার নাস্তিক গ্রুপ নামে গ্রুপ খুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর এক পোস্টে মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন "তিনি ও আস্তিক"। আর তাঁর বন্ধুরা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন আপাতত কুর'আন নিয়ে ক্যাচালী পারার জন্য। তবে তিনি তাতে না থেমে থেকে অনেক কিছু নিয়ে ক্যাচালী শুরূ করেছেন।

যিনি নাস্তিক গ্রুপ খুলতে চান তিনি আবার মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটানোর জন্য ইসলামের পবিত্র ব্যাপারগুলো নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। বৈপরিত্যে ভরা স্লোগান ছাড়া ওকথাটা আর কিছুই নয়।

পরের কথা হলো মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটাতে পারেন তারা যারা আসলেই তাদের আলোচিত বিষয়গুলোর উপর ভাল দক্ষতা রাখেন। যিনি জানেনইনা তিনি কি নিয়ে কথা বলছেন তাঁর কাছ থেকে কোন ধরণের মুক্তচিন্তার খোরাক পাবেন পাঠক/শ্রোতারা তা বোধ করি কারো অজানা থাকার কথা নয়।

আমাদের আলোচিত ভদ্রলোক বিভিন্ন সময় কুর'আনের আয়াত পোস্ট দিয়ে ওগুলোর মধ্যে বৈপরিত্য খুঁজেছেন বা তথ্যগত অসমাঞ্জস্য দেখেছেন, ইত্যাদি। তাঁর এ ধরণের একটি পোস্ট হলোঃ অহূদ বংশ(The people of Aad) ধংস করতে আল্লাহ কয়দিন সময় নিয়েছিলেন? পোস্টটি তাঁর অজ্ঞতার একটি উত্তম নমূনা। দ্বীপবালক নামক ব্লগার আমাদের মুক্তচিন্তার পথিকৃৎ সাহেবের আরবী ভাষার জ্ঞানের পরিধির প্রমাণ তুলে ধরেছেন এবং তার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি পোস্টই এরকম ভুলে ভরা মুক্তচিন্তাতে, যা সুস্থ্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করবেনা, তবে তাঁর মত অপরিপক্ক জ্ঞানের অধিকারীদেরকে আরো বিভ্রান্ত হতে নিঃসন্দেহে সাহায্য করবে।

যাঁর আরবী ভাষা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান নেই, তিনি শুধুমাত্র অনুবাদের উপর নির্ভর করে ভুল ধরতে এসে যে কত মারাত্মক ভুল নিজে করেন তার "অহূদ জাতি" সংক্রান্ত পোস্টে দ্বীপবালকের জবাবে তা সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। নতুন করে জবাব দেবার প্রয়োজন নেই।

এই পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম ব্লগারদের সাবধান করা তাঁর ব্যাপারে আর সাথে সাথে ইসলামের জ্ঞান স্বচ্ছ মন নিয়ে আহরণ করারও আহবান জানানো। সুপ্রিয় মুসলিম ভাই-বোনেরা জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। আপনারা যদি নিজেরা একটু কষ্ট করে ইসলামের বেসিক জ্ঞানগুলো অর্জন করার চেষ্টা করেন তাহলে আর বিভ্রান্ত হবেননা। মনে রাখবেন আল্লাহ্‌ বলেছেন (তা