somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জীবনের আরো একটি বছর......
জীবনের একটা সময় থাকে যখন আমরা নিজেদেরকে অন্যদের চেয়ে বড় দেখাতে চেষ্টা করি। অবশ্য যখন আমরা বড় হয়ে যায় তখন আর অন্যদের চেয়ে নিজেকে বয়সে বড় দেখানোর আর চেষ্টা করিনা; আমরা চেষ্টা করি কে কার চেয়ে বয়সে কত কম তা দেখানোর জন্য। নিজেকে অন্যের চেয়ে বয়সে তরুণ প্রমান করার চেষ্টার আমাদের অন্ত থাকেনা। বয়স গোপন করার জন্য নানা পন্থা ও উপকরণের আশ্রয় আমরা গ্রহন করি। কিন্তু যাই আমরা করিনা কেন,আমাদের যতই অপসন্দ হোক না কেন আমরা পর্যায়ক্রমে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হই। নীরবে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই আমাদের জীবনের অবিধারিত মুহুর্তটি এসে উপস্থিত হয়ে যায় আমাদের অজান্তেই।

প্রতিটি জীবিত সত্ত্বার জন্য [খোদার সত্ত্বা ব্যতীত] মউতই একমাত্র অবধারিত সত্য। সেজন্য আল্লাহ মউতের জন্য ব্যবহার করেছেন “ইয়াক্বীন” [সুনিশ্চিত বিষয়] শব্দটিকে; যেমন তিনি বলেছেন, “আর তোমাদের প্রতিপালকের বন্দেগী করতে থাকো নিশ্চিত বিষয়টি [ইয়াক্বীন/মৃত্যু] এসে যাওয়া পর্যন্ত।” [১৫:৯৯] জীবনের একটা অতিক্রান্ত বছর মানে আমিও, আমার পূর্বে অতিক্রান্ত এবং পরে যারা আসবে এমন সব মানুষের মত, নিশ্চিতভাবেই সে অবধারিত মুহুর্তটির দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

জীবনের এ সময়ে এসে পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় এই সেদিন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। কিন্তু আসলে অনেক সময় পার হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে আমি উচ্চ শিক্ষাও শেষ করে ফেলেছি। মনে হচ্ছে এই সেদিন ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলাম, লাইব্রেরীতে এসাইনমেন্ট তৈরীর জন্য রেফারেন্স বই আর জার্নাল আর্টিক্যাল খুঁজে বেড়াচ্ছি অথবা ক্লাসে অধ্যাপকদের বক্তৃতা শুনছি ও নোট নিচ্ছি। কিন্তু সেই কবে আমি নিজেই অধ্যাপনার সাথে জড়িত হয়ে গেছি খেয়াল নেই। একাকিত্ব ঘুচিয়ে পুরোদস্তুর সংসারী হয়ে গেছি। যে শিশু আমি ছিলাম সে ধীরে ধীরে কৈশোর, তারুণ্য আর যৌবনের উদ্দাম দিনগুলো পাড়ি দিয়ে আস্তে করে প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়ে দিয়েছি।এরপর একদিন হয়তো বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছে যাবো; অথবা তার আগেই হয়তো নিশ্চিত বিষয়টি এসে যাবে। কে জানে?

মানুষ সৃষ্টি প্রক্রিয়ার এক বিবর্তন ধারায় [আদম ও হাওয়া ছাড়া] পিতার পৃষ্ঠদেশে শুক্র থেকে মায়ের গর্ভে স্থানান্তরিত হয়ে বাচ্চা হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়; আর তারপর ছোট্ট শিশু থেকে বিবর্তিত হয়ে কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব পেরিয়ে শেষে বার্ধক্যে পতিত হয়। কেউ কেউ এমন বার্ধক্যে পৌঁছেন যে তাঁদের আর ছোট্ট শিশুদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকেনা। আল্লাহ তা‘আলা এ কথাগুলোকে সুন্দর করে তাঁর কিতাবে তুলে ধরেছেন নীচের আয়াতেঃ


يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاء إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّى وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا

হে মানুষেরা! যদি পুনর্বার উত্থানের বিষয়টিতে তোমাদের সন্দেহ হয় তবে ভেবে দেখ আমি তোমাদেরকে [অর্থাৎ আদমকে] মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর লেগে থাকা জমাট রক্তপিণ্ড থেকে, এরপর পূর্ণাঙ্গ বা অপূর্নাঙ্গ [গর্ভপাত হওয়া] গোশ্তের দলা থেকে; যাতে করে আমরা তোমাদেরকে এটা পরিষ্কার করে বলে দিতে পারি। এরপর যাকে ইচ্ছে আমরা তাকে মায়ের গর্ভে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেখে দেই এবং অতঃপর তোমাদেরকে আমি শিশু অবস্থায় বের করে আনি, তারপর যাতে তোমরা পরিপূর্ণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয়; আবার তোমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে নিষ্কর্মা-অক্ষম বয়স পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয় যাতে সে জানা বিষয় সম্পর্কে আর কিছু না জানে।” [আল-হজ্জ, ২২:৫]

আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই সেই নিষ্কর্মা-অক্ষম বয়সে উপনীত হওয়া থেকে। আজ আমার দয়াময় প্রভূর কাছে আমার একমাত্র আরাধনা যে তিনি আমাকে মাফ করে দেবেন এবং এত সময় পর্যন্ত জীবিত রাখবেন যাতে আমি তাঁর পূর্ণ আনুগত্যের জীবন যাপন করতে পারি যা আমার গোনাহ মাফের কারণ হবে। তাঁর কাছে আমার প্রার্থনা তিনি যখন আমাকে মৃত্যু দেবেন তখন তা যেন হয় সব ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তির। এভাবেই দু’আ করেছেন আল্লাহর হাবীব মুহাম্মদ [আল্লার করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ও তাঁর পরিবার বর্গের উপর, ]যেমন আবূ হুরায়রা [আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন] বর্ণনা করেছেনঃ

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلْ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلْ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

"হে আল্লাহ! আমার জন্য সংশোধন করে দাও আমার দীনকে, যা আমার কাজের সংরক্ষক; আমার জন্য সংশোধন করে দাও আমার দুনিয়াকে, যাতে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা; আমার জন্য সংশোধন করে দাও আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে ফিরে যেতে হবে; আমার জন্য আমার হায়াতকে বৃদ্ধি করে দাও প্রতিটি কল্যাণকর কাজে; আর মৃত্যুকে কর আমার জন্য সমস্ত অকল্যাণ থেকে নিষ্কৃতির মাধ্যম।” [সহীহ মুসলিম]

================

নোটঃ মূল লিখাটা লিখা হয়েছিল ফেসবুকে নোট হিসেবে ইংরেজীতে গতকাল,আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর প্রেক্ষিতে। এটা এখন এখানে ছাড়াও আরো কয়েকটা ব্লগে ছাড়া হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/29200737 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/29200737 2010-07-16 01:31:13
প্রিয় ঋতুর সন্ধানে

কৃষ্ণচূড়া
বসন্ত ঋতুরাজ হলেও ঠিক প্রিয় ঋতু মনে হয় আমার ছিলনা। দেশে থাকতে কোনটা প্রিয় ঋতু তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করিনি কখনো। বাইরে আসার পর মনে হল শীত আমার প্রিয় ঋতু ছিল দেশে। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর একটু শীতের জন্য হাসফাঁস করে মরার দশা। কারো কারো কাছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো হল চির বসন্তের। আমাদের ফাগুনের মতই সারা বছর আমের গাছে মুকুল বেরুচ্ছে; আবার সাথে সাথে কাঁচা-পাকা আমও ঝুলছে সারা গাছ জুড়ে। কিন্তু নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোতে তাপমাত্রা বেশী না হলেও বাতাসের প্রচণ্ড আর্দ্রতার কারণে অসহ্য ঠেকত বাইরের আবহাওয়া। আর সারা বছরে একটাই ঋতু। কোন পরিবর্তন নেই। ফলে একঘেঁয়ে হয়ে যাওয়া ঋতুটাকে ঠিক পছন্দ হয়নি। শুধু ভাল লেগেছে দিন-রাতের প্রায় সমান সমান দৈর্ঘটাকে।

আরো যা তাহল, ফুলের কোন গন্ধ পাইনি সেখানে। দেশে একটা গাছে বকুল ফুটলে কত দূর থেকে তার গন্ধ পাওয়া যেত। মন মাতানো গন্ধে হৃদয় সুরভিত হয়ে উঠত। অথছ এখানে সারা গায়ে ফুলের পোশাক পরা সারি সারি বকুল গাছের নীচে দিয়ে হেটে যাওয়ার পরও গন্ধ পাওয়া যায়না। গাছের নীচে পরে থাকা ফুলগুলো হাতে নিয়ে নাকের কাছে এনে কষ্ট করে শুঁকে দেখলেও গন্ধ আসেনা। দোকান থেকে টকটকে লাল গোলাপ কিনে নাকের একেবারে ভিতরে ঢুকিয়ে দিলেও কোন গন্ধ পাওয়া যেতনা।

ফুলের গন্ধ পেতে এজন্য মাঝে মাঝে পাহাড়ে যাওয়া দরকার হত। সমুদ্র সমতল থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়গুলোতে একটু ঠাণ্ডা ছিল। একবার গিয়েছিলাম ক্যামেরোন হাইল্যাণ্ড, পিকনিক করতে। মেঘগুলো যখন গা ছুঁয়ে যাচ্ছিল তখন তারা আলতো করে ঠাণ্ডার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছিল। দেশ থেকে নিয়ে আসা ফুলহাতা সোয়েটার এখানে যা একটু কাজে লাগছিল। পিকনিকের বাস থেকে নেমে এদিক সেদিক ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে দেখলাম বিভিন্ন বাড়ীর সামনে ছোট্ট ছোট্ট ফুলের বাগান। সেখানে ফুটে আছে লাল গোলাপ। পাহাড়ী ঠাণ্ডায় সেগুলো দেশী গোলাপের মতই গন্ধ বিলাচ্ছিল, যা নীচের সমতলে থেকে কখনো পাইনি।

আবার শীতের কথায় আসি। মালয়েশিয়ার নিরক্ষীয় আর্দ্রতায় সারা বছর কাটাতে কাটাতে দেশের শীতের শুষ্কতার অভাব বোধ হত বেশ। আরো দেখলাম দেশে থাকতে ঐ একটি ঋতুতেই পাওয়া যেত নানা রকমের শাক সবজি, খেজুরের গুড় ও নানা রকমের পিঠা। বৃষ্টি আর গরমের অভাবে এদিক সেদিক চলাচলেও কোন সমস্যা হতনা। মনের মত করে এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করতেও তেমন সমস্যা নেই। সমস্যা যা তা হল ধুলোবালির আধিক্য।


শীতকাল

আমেরিকায় আসার পর শীতের প্রকোপ দেখে শীতের প্রতি ভালবাসা তিরোহিত হয়েছে পুরোপুরি। একটু ঘরের বাইরে যেতে হলে স্তরের পর স্তর গরম কাপড় পরাতে লাগে প্রচণ্ড বিরক্তি, সাথে আছে মোটা উলের মোজা সহ জুতা পরা। প্রতিবার মসজিদে যেতেও এ পরতে হচ্ছে। বাইরের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে যে কাপড় পরা হল তাই আবার মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় কোন ঘর, অফিস বা শপিং মলের ভেতর। ঘরে বা অফিসে কোন রকমে গরম কাপড় খুলে রাখা যায়। কিন্তু শপিং সেন্টার বা অন্য কোন কাজে নিজের অফিস বাদে পোস্ট অফিস, ব্যাংক, হাসপাতাল বা সরকারী অফিস আদালতে গেলে হিটিং সিস্টেমের তীব্রতায় অসহ্য অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়। শীতের যা একটু ভাল লাগা তা হল তুষারপাত। তাও আবার যতক্ষণ পড়ল ততক্ষণ; কারণ পরে আবার সেই বিরক্তিকর ঠাণ্ডা ও রাস্তাঘাটের বিশ্রী অবস্থা।


শরৎকালে কাশের ফুল

শরৎ ভাল লাগত কিছুটা দেশে থাকতে। বর্ষার তীব্রতা শেষে আকাশে পেজা তুলোর মত সাদা মেঘের আনাগোনা ও কাশফুলের শুভ্রতা মনেও কিছুটা শুভ্রানুভূতির জন্ম দিত। কদিন পরে হেমন্তও খারাপ লাগতনা। মাঠে মাঠে পাকা আমন ধানের রূপ মনোমুগ্ধকরই ছিল। ধান কাটার সময়ে বৃষ্টির মৌসুম পুরোপুরি শেষ। ধান ক্ষেতের শুকনো আল ধরে ধানের শীষে হাত বুলাতে বুলাতে হাটার মজাটাই আলাদা।


হেমন্তঃ পাতা ঝরার মৌসূম

পশ্চিমে এই দুটো ঋতু নেই। এখানে যা আছে তা হল গ্রীষ্মের শেষে হেমন্ত [autumn/fall]। পাতা ঝরার মৌসুম বলে Autumn না বলে অনেকেই একে বলে Fall। বসন্তের শুরূতে নতুন পাতার কুঁড়ি আর ফুল ফুটিয়ে যে গাছ সবুজ সতেজ রূপ ধারণ করেছিল, গ্রীষ্ম শেষে ধীরে ধীরে তা এখন হঠাৎ বর্ণিল রূপ ধারণ করেছে। পাতাগুলো সবুজ রঙ হারিয়ে লাল, খয়েরী ইত্যাদি রূপ ধারণ করে প্রকৃতির রূপটাকেই করে দেয় আলাদা। ধীরে ধীরে ঝরে যেতে থাকে পাতা। গাছের নীচে বা কোন বুনো পায়ে হাটা পথ ধরে হাটলে পায়ের নীচের পাতার মচমচানিই শুনতে পাওয়া যাবে শুধু। তাপমাত্রা আরামদায়ক হলেও প্রকৃতির বিবর্ণ রূপটা কষ্টের কারণ হয় অন্তরে।


গরমে জান যায়

গ্রীষ্মের জন্য হা হয়ে থাকে পশ্চিমের মানুষ। অনেক উষ্ণমণ্ডলীয় ফল ও সূর্যের অফুরন্ত আলো ও তাপকে খুব ভাল ভাবেই উপভোগ করে এখানকার মানুষ। গ্রীষ্ম তাদের কাছে ক্ষণস্থায়ী। তাই এর যথার্থ ব্যবহারে উন্মুখ উচ্ছলতা সবার। শীতের তীব্রতা শেষে বসন্তের উষ্ণতা গাছে গাছে সবুজ পাতার সমারোহ এনে শীতের উলঙ্গ গাছগুলোকে আবরণ পরিয়ে দিলেও গ্রীষ্মের তাপে এখানের মানুষেরা ছাড়তে থাকে তাদের খোলস। যত বেশী পরিমাণে স্বল্প বসন/বসনা হওয়া যায় তার প্রতিযোগিতা চলে সর্বত্র। বাচ্চাদের নিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করার মজা থাকলেও চোখের জন্য বিরক্তিকর গ্রীষ্ম। চারপাশে ঘোরাফিরা অসংখ্য প্রায়োলঙ্গ মানুষের। মেদবহুল বেঢপ আকৃতির শরীরের নারীদের প্রায়-উলঙ্গ চলাচল বমির উদ্রেক করে অনেক সময়। এক বাংলাদেশীর মন্তব্য ছিল “এখানে নারীরা পর্দা পরে শীতে; আর গাছগুলো তখন পুরো উলঙ্গ। অন্যদিকে গাছেরা পর্দার আবরণে আবৃত হয় গ্রীষ্মে; আর নারীরা হয়ে পড়ে উলঙ্গ।” দিনের দৈর্ঘের কারণে অনেক কাজ সম্ভব হলেও অনেক সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার আধিক্য সহজে ক্লান্তি ডেকে আনে শরীরে। আর মাঝে মাঝে তাপ প্রবাহে জীবনের গতিই থেমে যায়।পশ্চিমের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুতের সুবিধার কারণে রাতের ঘুম মোটামুটি আরামদায়কভাবেই পার করা যায়। কিন্তু দেশে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে অস্বস্তির অন্ত থাকেনা।


কদমঃ বর্ষার ফুল

বর্ষা দেশে আনত বৃষ্টির বাহুল্য। সেজন্যই ঋতুটা বর্ষা। অন্য কোথাও বর্ষা নামে আলাদা কোন ঋতু নেই। একটানা অনেক দিনের বৃষ্টির ঝমঝমানি ভালই লাগত। স্কুল ফাঁকি দিয়ে কারো কাচারী ঘরে বসে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেয়া ও নানা ধরণের গ্রাম্য খেলা-ধূলার মাঝে চাল-ডাল ভাজা মজা করেই খাওয়া চলত। কখনো কখনো চলত বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সাগরের কাছের খালগুলোতে উপরের জমিন থেকে পানি ছেড়ে দিয়ে উজানে আসা সামুদ্রিক টেংরা মাছ ধরা অথবা খালের মধ্যে জাল বসিয়ে দিয়ে বিশেষ চিংড়ি [গ্রামের ভাষায় লইল্যা ইছা]ধরা ও তা নুন দিয়ে তাওয়ায় টেলে খাওয়া। মাঝে মাঝে স্কুলের মাঠে জমে থাকা হাটু পানিতে নেমে ফুটবল খেলা; আর শেষে বাড়ি ফিরে বকা খাওয়া। শেষ পর্যন্ত সর্দি লাগিয়ে কদিন জ্বরে কঁকানো। জল কাদায় চলাচলে বিরক্তি লাগলেও কদম ফুলের সৌন্দর্য মন ভরিয়ে তুলত কখনো কখনো। এখানে তেমন বর্ষা নেই। কিন্তু দেশীয় ধরণে একটু কিছুক্ষণ বৃষ্টি ঝরলে ফ্ল্যাশ ফ্লাডিং হয়ে যায়। যা অবশ্য ক্ষণস্থায়ী। দেশের মত জমে থাকেনা।



ফিরে আসি বসন্তে। দেশের বসন্তকে মনে হত খুবই স্বল্পস্থায়ী একটা ঋতু। ফাগুনে আমের গাছে মুকুল আর কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে লাল টকটকে ফুল ফুটতে দেখে ঠিকই বসন্ত চেনা যেত। কোকিলের ডাক সাথে থাকত। আমার কাছে অবশ্য কোকিলের কুহু কুহু ডাককে কখনো খুব মধূর বলে মনে হয়নি। কেন তা জানিনা। তবে অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে বলে পাখিটার প্রতি এমনিতেই বিরক্ত ছিলাম। তবে দু’মাস কখনো বসন্ত আমার কাছে মনে হয়নি। চৈত্রকেতো পুরোপুরি গ্রীষ্মই মনে হত। গরমে প্রাণ যাবার যোগাড়।

পশ্চিমে বসন্ত তার রাজকীয় রূপ ধরেই আসে এবং মোটামুটি স্থায়ী হয়। শীতের শেষে গাছে গাছে নতুন পাতা ও ফুলের কুঁড়ির সমারোহ। প্রথমেই বের হয় ফুলেরা। চেরী ফুলের মন মাতানো রূপ চার দিকে। মানুষের বাড়ির সামনের ছোট্ট বাগানগুলোতে নানা রঙের সুগন্ধি গোলাপের সাথে সাথে আরো নানান নাম না জানা ফুল। ফুলের কুঁড়ির পেছন থেকে বের হতে থাকে সবুজ পাতার কুঁড়ি। ধীরে নানা বর্ণের ফুলের পাপড়ি ঝরে গিয়ে গাছগুলো পুরোপুরি সবুজ হয়ে উঠে। তাপমাত্রা থাকে সহনীয়। দিনের দৈর্ঘও মোটামুটি বড়। প্রকৃতি অপরূপ; হৃদয় মোহিত। এইতো বসন্ত, এইতো বসন্ত, প্রিয় বসন্ত। এখন অপেক্ষার পালা বসন্তের জন্য।

নিউ ইয়র্ক
ডিসেম্বর ২৮, ০৯]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/29069449 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/29069449 2010-01-01 00:26:22
আপনি বাঙালী...আমি সিলেটি... কিছুদিন আগে আমার এক ছাত্র আমাকে বলল "ব্রাদার, ইউ আর বেংগলী এণ্ড আই এম সিলেটি, রাইট?"
আমি বললাম, "কে বলেছে তোমাকে এ কথা? আমি যেমন বাঙালী, তুমিও তেমন বাঙালী।"
তার কথা হল, " না আমি সিলেটি ভাষায় কথা বলি আর আপনি ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলেন।"
আমি বললাম, "পাগল নাকি? তুমি যেমন সিলেটি ভাষায় কথা বল, তেমনি আমিও আমার অঞ্চলের ভাষায় কথা বলি। আর তা হল চাটগামী ভাষা।" আর যখন দেশের দু'অঞ্চলের লোকেরা একসাথে কথা বলে তখন তারা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলে, যদি তারা শিক্ষিত হয়। ওটা ঢাকাইয়া ভাষা না। ঢাকাইয়া ভাষায় শুধু ঢাকার লোকেরা কথা বলে।"
যাই হোক ছেলেটা বুঝেছে ব্যাপারটা এবং এরপর সে নিজেকে গর্বের সাথেই বাঙালী বলে পরিচয় দিত।
কিন্তু ওর মত মানসিকতার মানুষের সাথে প্রায়ই দেখা হয় এখানে। বয়স হয়েছে তাদের, অথচ এ ছোট্ট ব্যাপারটা বুঝেনা যে বাংলাদেশের সব অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাতেই অনেক পার্থক্য আছে। যেটা বইয়ের ভাষা ওটা ঢাকার ভাষা না। এটা না বুঝে তারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে অন্যান্য বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের থেকে আলাদা একটা পরিচয়ে বড় করতে চাচ্ছে এখানে।
এদের এ সাধারণ জ্ঞানটা হবে আশা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28866555 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28866555 2008-11-09 01:42:28
কিছু বাসন্তী ছবি http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28795109 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28795109 2008-05-07 11:01:04 অবশেষে মুক্ত হলেন প্রিজনার ৩৪৫
সাম্রাজ্যবাদের কোপানলে পড়ে নিরপরাধ মানুষটি বিনা বিচারে কাটিয়ে দিলেন জীবনের ৬ টি বছর। ৩২ বছরের তরুণ ক্যামেরাম্যান আল-হাজ্জ বেরিয়ে এসেছেন ৩৮ বছর বয়সে। কিন্তু অত্যাচার আর নির্যাতনে এই ৬ বছরের ব্যবধানে তিনি যেন হয়ে গেছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ।

মিডিয়া জগতে সাম্রাজ্যবাদীদের একচ্ছত্র দখলকে চ্যালেঞ্জ করেছিল আল-জাজ়ীরা। তারই ক্যামেরাম্যান হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সামী। নিজেদের আধিপত্যকে বহাল রাখতেই তারা প্রেফতার করে তাঁকে। বাধ্য করতে চেয়েছিল চ্যানেল্টির বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে। রাজী না হওয়ায় তাকে হতে হয়েছে কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বন্দীশিবিরের প্রিজনার ৩৪৫। সামীকে নিয়ে আমার আগের পোস্ট নীচের লিঙ্কেঃ
Click This Link

মুক্ত সামী খোলাখুলি বলেছেন তার বন্দীজীবনের অভিজ্ঞতার কিছু কথা। নীচের ভিডিওতে আমরা তার মুখেই শুনি তার কথাগুলোঃ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28793992 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28793992 2008-05-04 09:28:58
ছবি/ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বালিকা
ছবি নিউ ইয়র্ক পোস্টের সৌজন্যে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28786725 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28786725 2008-04-11 01:10:08
প্রবাসে সন্তানদের বাংলা শেখানোর চ্যালেঞ্জ
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক বিভিন্নতার কারণে অনেক সময় বিদেশে বাংলা শেখানো মুশকিল হয়ে পড়ে। অনেক পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সাথে শুধুমাত্র নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। ফলে ঐ সব ছেলেমেয়েরা শুদ্ধ বাংলা শিখতে পারেনা। যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা তাদের পিতা-মাতার কাছে শুদ্ধ বাংলা শেখার সুযোগ পায়না তারা পরবর্তীতে আর সাধারণত শুদ্ধ বাংলা বলতে পারেনা। ফলে তারা লজ্জায় আর বাংলা বলতেও উৎসাহিত হয়না। এদের কারনে আবার অন্য বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরাও বাংলা শিখার ঝামেলায় পড়ে।

কোন কোন বাবা-মা তাদের সন্তানদের সাথে শুদ্ধ চলিত বাংলায় কথা বলেন। ফলে তারাও শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু যখন সে বাচ্চারা অনান্য বাংলাদেশী বাচ্চাদের সংস্পর্শে আসে বাঙ্গালীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া-আসার মাধ্যমে তখন তার ভাষাতেও পরিবর্তন হতে শুরু করে। তার ভাষা আস্তে আস্তে আঞ্চলিকতা দোষে দুষ্ট হতে থাকে। ‘চ’, ‘ছ’ এবং ‘স’ সবগুলোই ‘স’ এর মত করে সে উচ্চারণ করতে থাকে। ‘জ’, ‘য’ এর উচ্চারণ করা হয় বাংলায় অবর্তমান ইংরেজী ‘z’ বা আরবী ‘zay’ মত করে। যাবে, খাবে, ইতাদির স্থলে সে বলতে শুরু করে যাবা, খাবা ইত্যাদি। তাকে যতই বুঝিয়ে বলা হোক যে ওভাবে বলাটা শুদ্ধ নয়, সে শুনতে নারাজ। তার বক্তব্য হলো তার সব বন্ধুরা তার বাবা-মার মত করে বাংলা বলেনা। তাই সেও বলবেনা, বরং তার অন্যান্য বাংলাদেশী বন্ধুদের মত করেই সে বলবে। এটা বিরাট এক সমস্যা।

সন্তানদের বাংলা শেখানোর ক্ষেত্রে অন্য আরেকটি সমস্যা হলো অধিকাংশ পিতামাতার নিজেদেরই বাংলা সম্পর্কে অজ্ঞতা। কিছু এলাকার লোক আছেন যারা মনে করেন তাদের ভাষাটাই বাংলা থেকে আলাদা। ফলে তারা বাংলা শেখানোর পরিবর্তে ছেলেমেয়েদের তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাই শুধু শেখান। তাদের মতে তাদের অঞ্চলের ভাষা এক আর সারা বাংলাদেশের ভাষা অন্য আরেকটি। ফলে তারা নিজেদেরকে বাঙ্গালীই ভাবেননা। সুতরাং শুদ্ধ বাংলা শেখানোর কোন প্রয়োজনীয়তা তারা উপলব্ধি করেননা।

ভাষা সংক্রান্ত অভিভাবকদের দুর্বলতার আরেকটি দিক হল, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীই শুদ্ধ করে বাংলা বলতে এবং লিখতে পারেননা। বাংলা বর্ণগুলোর শুদ্ধ উচ্চারণ অধিকাংশ বাংলাদেশী পিতামাতাই ঠিক মত করতে পারেননা। একবার এক বাচ্চাকে দেখলাম সে তার চাচাকে ডাকছে এভাবে, “সাস্‌সু” [sassu]। জিজ্ঞেস করাতে সে বলল সে তার চাচাকে ডাকছে। বলা হলো ওটা সাস্‌সু নয় চাচ্চু। তার বক্তব্য হলো বাবা-মা তাকে ওভাবে উচারণ করতে শেখায়নি। একটি পত্রিকায় কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাঠানো অসংখ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পড়ার সুযোগ হয় আমার প্রতি সপ্তাহে। এতে শিক্ষিত লোকদের বাংলা লেখা পড়তে গেলে বিরক্তিতে মন ভরে যায়। অসংখ্য বানান ভুল, অসম্পূর্ণ বাক্য, অশুদ্ধ বাক্য গঠন, ইত্যাদি অতি সাধারণ ব্যাপার। কখনো কখনো তারা কি ব্যক্ত করতে চেয়েছেন তার পাঠোদ্ধার করতেই হিমশিম খেতে হয়। ভাবতে তখন কষ্ট হয় যে আমরাই এক জাতি যারা মাতৃভাষার অধিকারের দাবীতে জীবনের কুরবানী দিয়েছি। এই দুর্বল ভাষাজ্ঞানের অধিকারী পিতা-মাতারা তাই সহজেই তাঁদের সন্তানদের বাংলা শেখাতে পারেননা।

বাংলাদেশী বাঙ্গালীদের বাংলা উচ্চারণের দুর্বলতার কারন হলো দেশেই বাংলা উচ্চারণ রীতি শেখানো হয়না স্কুলে। ফলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিজের মতো করে বাংলা পড়তে শেখেন। অনেক অঞ্চল আছে যেখানে ‘প’ ও ‘ফ’ এর একই উচ্চারণ এবং ‘চ’ ও ‘ছ’ এর একই উচ্চারণ করা হয় ‘স’এর ঢঙে; পার্থক্য করা হয় শুধু ছোট আর বড় বলে। একই অবস্থা ‘দ’ ও ‘ধ’, ‘ড’ ও ‘ঢ’ এবং আরো অনেক বর্ণের বেলায়। দন্ত্য ‘স’ তার নিজস্ব উচ্চারণ হারিয়ে বাংলায় হয়ে গিয়েছে তালব্য ‘শ’ এর ন্যায়। ফলে সমস্যা বেড়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা থাকলে হয়তো বাংলা ভাষা শেখানো কিছুটা সহজ হত। কিন্তু প্রবাসের বিভিন্ন জায়গাতেই এরকম প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিরাট ঘাটতি। কোথাও প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার সমর্থনের রয়েছে মারাত্মক অভাব। যথাযথ সমর্থন না পেয়ে উদ্যোক্তারা শেষ পর্যন্ত ঝিমিয়ে পড়েন। আর তাদের বাংলা শেখানোর উদ্যোগে পড়ে ভাটা।

সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি প্রবাসীদের ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষা চর্চার পেছনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাহলো পরিবেশ। অনেক বাচ্চারা কথা বলতে শুরু করে সুন্দর বাংলা দিয়ে, কিন্তু একটু বড় হলেই আর ওরা বাংলা বলতে চায়না এবং এতে অনভ্যস্থ হয়ে পড়ে। এ সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী প্রকট হয়ে পড়ে যখন তারা স্কুলে যেতে শুরু করে। স্কুলের ভাষা, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইংরেজী, বলেই বাচ্চারা সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের বন্ধু এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে ঐ ভাষায় কথা বলতে তারা এত বেশী অভ্যস্থ হয়ে পড়ে যে তারা আর কোনভাবেই বাংলা বলতে পারেনা। বরং বাংলা বলতে জোর করার মানে হয় তাদেরকে আযাবে নিক্ষেপ করার মত। স্কুল ছাড়াও তারা প্রতিদিন মিডিয়ার, বিশেষ করে টেলিভিশনের মুখোমুখি থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা, যার ভাষা বাংলা নয়। সেখানেও তারা বাংলা বিমুখ হয়ে গড়ে উঠে।

কিছু কিছু অভিভাবক আছেন যারা বাংলা শেখা বা বলার জন্য সন্তানদের কোন পরিবেশই দেননা। তাঁরা তাদের সন্তানদের মাতৃভাষাই বানিয়ে দেন ইংরেজী। কারন তাদের বাচ্চারা কথা বলতে শুরু করলেই তাঁরা তাদের সাথে ইংরেজীতে কথা বলা পসন্দ করেন, যদিও বাচ্চারা বড় হয়ে তাদের বাবা-মায়ের ইংরেজী উচ্চারণ নিয়ে হাসাহাসি করতেও দ্বিধা করেনা। এশ্রেণীর অভিভাবকরা বুঝেননা যে এখানকার বাচ্চারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ইংরেজী শিখবে। ইংরেজী তাদেরকে বলে শেখাতে হবেনা; বরং তাদের যা বলে শিখিয়ে অভ্যেস করাতে হবে তা হলো মাতৃভাষা।

প্রকৃত ব্যাপার হল বিদেশে সন্তানদের বাংলা শেখানো অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। তবে আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা থাকলে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সন্তানদের মোটামুটি চলনসই বাংলা শেখানো সম্ভব। এক্ষেত্রে পিতামাতাকে সচেতনভাবে পারিবারিক পরিবেশে বাংলার চর্চা করতে হবে। আঞ্চলিকতা বাদ দিয়ে শুদ্ধ চলিত বাংলায় সন্তানদের সাথে ঘরে নিয়মিত কথা বললে তারা তখন অন্য বাঙ্গালী ছেলেমেয়েদের সাথে বাংলা কথা বলার সমস্যায় পড়বেনা। ফলে বাংলা বলতে তারা উৎসাহিত হবে। নাহলে তারা বাঙ্গালীদের ভাষার বিভিন্নতা দেখে এ ভাষা বলা থেকে বিরত থাকবে। এছাড়াও তাদের জন্য শিক্ষণীয় অথচ আকর্ষণীয় বাংলা মিডিয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা দেখে তারা বাংলা শিখতে পারবে ও বলতে উৎসাহিত হবে। আর সরকারী পর্যায়ে বাংলাদেশী কুটনৈতিক মিশনগুলো বাংলা শেখানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দিতে পারে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতা দান করতে পারে।
নিউ ইয়র্ক, ১ ফেব্রুয়ারী ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28773281 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28773281 2008-02-23 10:18:30
The Wall of Shame (লজ্জার দেয়াল)
যাইহোক, Wall of Shame কথাটার সাথে পরিচিতি ছিলনা আগে। আজ গ্রোসারী কিনতে গিয়ে কথাটার সাথে পরিচিত হলাম। আমার আগের বাসার কাছের একটা চীনা গ্রোসারী স্টোর। প্রায়ই কেনাকাটা করতাম সেখানে। দোকানটাতে অনেক দেশের গ্রোসারী সামগ্রী পাওয়া যায়। আগে মোটামুটি আকারের মুদি দোকান থাকলেও এখন সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুপার-মার্কেট হয়ে গিয়েছে। দোকানের মালিক আবার তাঁর খদ্দেরদের সবার ভাষার কয়েকটা শব্দও মোটামুটি জানেন, আমাদের "ধন্যবাদ" সহ।

বাসা পরিবর্তন করার কারণে দোকানটায় যাওয়া হয়না এখন আর সাধারণত। কিন্তু আমার গিন্নী এসে খবর দিল ঐ দোকানটাতে ল্যাক্টোজ় ফ্রী দুধের দাম আর সব দোকান থেকে কম। আমি আবার পেটের রোগী হওয়ায় ল্যাক্টোজ় ফ্রী ছাড়া খেতে পারিনা। অন্য সব দোকানে দাম বেড়ে ল্যাক্টোজ় ফ্রীর আধা গ্যালনের প্রতিটি প্যাকেটের দাম $৪.৫০ থেকে $4.99 হলেও এ দোকানটায় এখনও $৩.৯৯। আমি কিছু অন্যান্য মুদি সামগ্রীসহ দু'টো প্যাকেট কিনে দাম দেবার জন্য লাইনে দাঁড়াতেই দেখি পরিচিত হিস্পানিক ক্যাশিয়ার মেয়েটার কম্পিউটার স্ক্রীনের উপর থেকে ঝুলন্ত একটা কাগজে বড় করে লিখা "The Wall of Shame"। ভাল করে তাকিয়ে দেখি শুধূ তাই নয়। তার কম্পিউটার মনিটরের চারপাশে অনেকগুলো মানুষের ছবি দিয়ে ফ্রেইম বানানো হয়েছে একটা। আর সে ফ্রেইমের টাইটেলটাই হল The Wall of Shame। আমি হাসতে হাসতে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম এগুলো কী শপ-লিফটারদের ছবি। সে লজ্জা মিশ্রিত হাসিতে হাঁ বোধক জবাবই দিল।

আমি নিজের মনেই মরে যাচ্ছিলাম। আসলেই ওটা একটা লজ্জার দেয়াল। কিন্তু লজ্জার দেয়ালতো মানুষকে শপলিফটিং এর মত লজ্জাজনক কাজ থেকে বিরত রাখার কথা ছিল। আসলে হয়েছে কী, এদের লজ্জার দেয়ালটা ভেঙ্গে গেছে অনেক আগে। এজন্য ছোট-খাট এসব চুরি করে Wall of Shame এ নাম উঠিয়েছে এরা।

লজ্জার দেয়াল যাদের ভেঙ্গে গেছে তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। মালয়েশিয়াতে প্রথম যখন পড়তে যাই তখন বড় ভাইদের কাছ থেকে শুনেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম বহিষ্কৃত ছাত্র ক'জন ছিল বাংলাদেশী। পতিতালয়ে যাওয়া, ক্যাম্পাসে নিজের রুমে মদপান করা আর পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা খেয়ে বীর বাঙ্গালীরা বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের Hall of Shame এ উঠিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। এরপর নাকি প্রতিবছরের ওরিয়েন্টশন উইকে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ঐ বাংলাদেশীদের উদাহরণ হিসেবে পেশ করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র-বিষয়ক ডেপুটি রেক্টর প্রফেসর সুহায়মী। পরে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের Student Representative Council এর এক সময়কার VP বাংলাদেশী ছাত্র আব্দুর রহমান ভাই সহ আরো কয়েকজন বাংলাদেশী বড় ভাইয়ের দেন দরবারের পর প্রফেসর সুহায়মী বাংলাদেশীদের উদাহরণ দেয়া বাদ দেন।

এর পরের ইতিহাস বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের গৌরবের। অসাধারণ একাডেমিক পারফর্মেন্স ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকাণ্ডে গঠনমুলক ভূমিকা পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে আমাদের সোনার ছেলেরা। কিন্তু এর মাঝেও ছিল লজ্জার দেয়াল ভেঙ্গে যাওয়া কেউ কেউ। পাশ করে বেরিয়ে যাবার পরও মালয়েশিয়া যতদিন ছিলাম IIUM এর সাথে সম্পর্ক ছিল। জুনিয়রদের কাছ থেকেই শুনেছিলাম লজ্জাহীন আরেক বাঙ্গালীর খবর। তার বাবা দেশে সরকারের সচিব। ছেলেটা ক্যান্টিনে খেয়ে পয়সা না দিয়ে চলে আসত। ওখানকার ক্যান্টিন বা অনেক খাবারের দোকানের সিস্টেম হল, আপনি আপনার পসন্দ মত খাবার নিয়ে ক্যাশের মানুষটাকে দেখিয়ে দাম জেনে নিয়ে খেতে বসবেন। এরপর খাওয়া শেষে পয়সা দিয়ে আসবেন। আমাদের এই লজ্জাহীন অধিকাংশ সময়ই দাম না দিয়েই চলে আসত। ক্যাশের লোকটা ব্যাপারটা ঠিকই টের পেত। কিন্তু মালয়িদের স্বভাবসুলভ লজ্জার কারণে কিছুই বলতনা। যদি ওরা কখনো ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের বাঙ্গালীদের মত হৈচৈ শুরু করে দিত তবে আমাদের জন্য আবারো Hall of Shame এ নাম উঠার ব্যবস্থা হয়ে যেত, যা আসলেই হত Wall of Shame যা আমাদের দুষ্কৃতিকে আড়াল করার পরিবর্তে হয়ে যেত আমাদের লজ্জাকে স্থায়ীভাবে খোদাই করার আরেক ফলক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28771343 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28771343 2008-02-17 08:55:28
ওরা এমন হয় কীভাবে?
যে বস্তুটা নিজের নয় তার দখল নেয়া নিতান্তই গর্হিত কাজ। কেউ কোথাও পেয়ে তা নিয়ে নিলে না হয় একটা কথা। কিন্তু ভদ্রতার ভান করেই একজনের কাছ তার মালিকানার কিছু জিনিষ নিয়ে নেয়া - আমি কল্পনাও করতে পারিনা। যে জিনিষ আমার নয় তা কারো কাছ থেকে চাইতেই লজ্জা হওয়া উচিত। ঘুষ খাওয়া আর আমাদের দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অন্যদের জিনিষ জোর করে নিয়ে নেয়াটা এধরণের কাজ।

বাংলাদেশী হিসেবে একাজগুলো আমাদের গা সওয়া অনেকটা। কিন্তু শিক্ষিত কিছু মানুষ, যাদেরকে আপাতঃদৃষ্টিতে ভাল মানুষ বলেই মনে হয় তাদের কিছু অন্যায় আবদার মনটাকে পুরোপুরি বিষিয়ে তোলে।

ব্যাপারটা হচ্ছে স্কুলে আমার সুপার ভাইজারকে নিয়ে। ভদ্রলোক আমাকে বেশ খাতির করেন। বয়স্ক মানুষ বলে আমিও তাঁকে বেশ সম্মান করি। উনি একদিন আমাকে একটা অনুরোধ করলেন। একান্তে ডেকে বললেন একটা মেয়েকে যেন পাশ করিয়ে দেই। ১২শ গ্রেডের ছাত্রীটা তাঁর আত্মীয়া। মেয়েটা গ্লোবাল এবং আমেরিকান হিস্ট্রির নিউ ইয়র্ক স্টেট রিজেন্টস পরীক্ষাগুলো পাশ করেনি। তার এবার পাশ করা না হলে হাইস্কুল গ্রাজুয়েশন হবেনা। আমি তাঁকে বললাম এটাতো স্কুলের পরীক্ষা না, স্টেট টেস্ট। আমি তাকে কোন ভাবেই সাহায্য করতে পারবোনা যদি সে নিজে কিছু না লিখে। তিনি এদিকে ব্যাপারটা বার বার আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকলেন। মনে মনে প্রচণ্ড বিরক্তি বোধ করতে থাকলাম।
এদিকে আবার পরীক্ষাগুলো হল এবং মেয়েটা যথারীতি ফেল করল। ভদ্রলোক আমাকে আবার অনুরোধ করলেন তার পেপারগুলো যেন রিচেক (Recheck) করি। আমি রিচেক করেও কোনভাবেই তাকে পাস করার মত স্কোর দিতে পারলামনা। এখন জানিনা ভদ্রলোক আমাকে আগের মত খাতির করবেন কিনা!

কিছু মানুষের মাঝে অসততা একটা রোগ। ৪ বছর আগে স্কুলে পাবলিক স্কুলের এক শিক্ষককে এনে প্রিন্সিপ্যাল নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সে বছর আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমবারের মত স্টেট রিজেন্টস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। আসল পরীক্ষার সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমরা মক রিজেন্টস পরীক্ষার ব্যবস্থা করলাম। আমি জানি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের বেশীরভাগই খারাপ করবে। আমেরিকান হাইস্কুল স্টুডেন্টদের গতানুগতিক যা অবস্থা, এদের অবস্থাও তাই। পরীক্ষা শেষে আমার ধারণা মতই ফলাফল। ঐ প্রিন্সিপ্যাল ভদ্রলোক আমাকে ডেকে বললেন, "দেখুন মিঃ সিরাজ! ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ করলে আপনার উপরে অপবাদটা পড়বে।" আর যা বললেন তার মানে হল ওদের রেজাল্ট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে নিজের মান বাচাঁতে। আমি কি বলব? পুরো থ! আমি কখনো এমন করে ব্যাপারটা ভাবিনি। আমি তাঁকে কিছুই বললামনা। তবে মনে মনে বললাম সামান্য চাকুরীর রেপুটেশন খারাপ হবে বলে আমি আমার সাথে প্রতারণা করতে পারিনা। আর রিজিকের মালিকতো আমি নই। যিনি মালিক তিনি সন্তুষ্ট থাকলেই আমার সব পাওয়া। তাই ঐ প্রিন্সিপ্যালের কথা গ্রহণ করা হয়ে উঠেনি আমার।

বছরখানেক আগে খবর বেরিয়েছিল এক সরকারী হাইস্কুলের প্রিন্সিপ্যালের চাকরী হারানোর ব্যাপারে। ভদ্রলোক স্টেট পরীক্ষাগুলোতে তাঁর স্কুলের খারাপ রেজাল্টের কারণে বদনাম হবে বিধায় রেজাল্ট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে যেয়ে ধরা খেয়েছিলেন।

এরা কেন এমন? এদের এসব দেখে মনটা ভাল মতই বিষিয়ে আছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28768719 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28768719 2008-02-10 01:50:58
মহিলাদের সারভিক্যাল ক্যান্সারের ভাইরাসই সৃষ্টি করছে পুরুষের ওরাল ক্যান্সার!
পুরুষের ওরাল ক্যান্সার সাধারণত হয়ে থাকে তামাক ও মদ্যপানের কারণে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে HPV এর কারণেই পুরূষের মুখের ক্যান্সার হবে তামাক ও মদ্যপানের কারণের চেয়েও বেশী।

সারভিক্যাল ক্যান্সারের এই জীবাণু পুরূষের মুখে ক্যান্সার ঘটাচ্ছে কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা ধারণা করছেন অনেক পুরূষদের ক্রমবর্ধমান হারে মুখ দিয়ে যৌনকর্ম করার কারণেই সম্ভবত জীবাণুটি তাদের মুখে সংক্রমিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে HPV সেক্সুয়ালি ত্রান্সমিটেবল ভাইরাস।

এ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরী সবার।

বিস্তারিত জানতেঃ
HPV-Linked Oral Cancer In Men Increasing
.
HPV-Related Oral Cancers Rising in Men, Researchers Say
.
HPV also blamed for oral cancer in men

লিখাটা একই সাথে "ইনফরমেশন" গ্রুপেও দেয়া হল। মেইন পেজে এ লিখায় কোন মন্তব্য নেয়া হবেনা। তবে গ্রুপ পোস্টে মন্তব্য করাযেতে পারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28767186 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28767186 2008-02-05 10:26:02
এমন হলে আমরা আসলেই কল্যাণময় সমাজের অধিবাসী!
প্রবাসের সবচেয়ে বহুল প্রচলিত সাপ্তাহিক ঠিকানা। আমাদের মসজিদে এক কপি আসে সৌজন্য সংখ্যা হিসেবে। আজকেও আসর নামাজ় পড়ে বাইরে বেরিয়ে যাবার পথে হাতের কাছে পত্রিকাটি পড়লে উঠিয়ে নিলাম। একটা খবরের শিরোনাম দেখে পড়তে গেলাম একটু আওয়াজ করে। এমন সময় ইমাম সাহেব একটা বিশেষ খবর পড়েছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন যা হচ্ছে বাংলাদেশকে এক লোকের এক হাজার কোটি টাকা দান সঙ্ক্রান্ত। খবরটা নিম্নরূপঃ
বাংলাদেশকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির এক হাজার কোটি টাকা দান

দুইবারের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যখন ঋণ সংগ্রহের জন্য দাতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছে, ঠিক সে সময়ে যেন মেঘ না চাইতেই মিললো বিশাল এক দান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বাংলাদেশকে দান করলেন এক হাজার কোটি টাকা। আর এই অবিশ্বাস্য সংবাদটি গত ২৯ জানুয়ারী মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে জানিয়েছেন ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আই,ডি,বি,) বিশেষ সহায়তা বিভাগের প্রধান ডঃ মুহাম্মদ হাসান সালেম।

চ্যানেল আই জানায়, দুপুরে পরিকল্পনা কমিশনে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই খবর জানানো হয়।তবে সাংবাদিকদের কাছে অর্থ উপদেষ্টা বা আইডিবির সহায়তা বিভাগের প্রধান দানশীল ঐ ব্যক্তির নাম-পরিচয় কিছুই প্রকাশ করেননি। ডঃ মুহাম্মদ হাসান সালেম সাংবাদিকদের জানান, আইডিবি একজন দানশীল ব্যক্তির কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ১৩ কোটি ডলার দান হিসেবে পেয়েছে। দানশীল ব্যক্তিটি কোন ভাবেই চাননি এই দানে তার পরিচয় প্রকাশ হোক।
========================

খবরটা পড়ে সামান্য একটু চমকে উঠলেও খুব আশ্চর্যান্বিত হইনি। আসলে আমাদের এই উম্মাহ্‌ এধরণের মানুষেই সমৃদ্ধ ছিল অনেক কাল। তাদের সংখ্যা কমে গেলেও একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি। এই দানশীল মানুষটি কল্যাণময় সেই সময়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন যখন ধনীদের বদান্যতায় সমাজ থেকে দূর হয়ে গিয়েছিল দারিদ্র। যাকাতের পয়সা নেয়ার জন্য পাওয়া যায়নি কোন গ্রহীতা। আমরা আশার আলো দেখি আমাদের ধনীদের বদান্যতায়। আমাদের রাজনীতিকরা যখন সৎ হবেন, আমাদের শাসকরা যখন হবেন জনগণের কল্যাণাকাংখী আর আমাদের জনগণের বেশীরভাগ যখন হবেন বিশ্বস্ত অনুগামী তখন আবারো আমরা ফিরে পাব কল্যাণময় সেই সমাজ। আমরা সে সমাজ অর্জনের লক্ষ্যেই নিবেদিত করি আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28766559 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28766559 2008-02-03 09:33:00
মুসলিম ব্লগারদের জন্য কিছু কথা ============================
এই ব্লগে ইসলাম নিয়ে লিখছেন যারা তারা নিশ্চয়ই আন্তরিকভাবেই তা করছেন। আর এটা করতে গিয়ে নানান অবস্থার মুকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে। একদল মানুষতো কোন ধর্মীয় পোস্টই সহ্য করতে পারছেনা। তাই তারা মুসলিম ব্লগারদের বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করছেন। কিছু কিছু ব্লগার মারাত্মক ভাবে ব্যক্তি আক্রমনের শিকার হচ্ছেন এদের হাতে। কেউ কেউ হচ্ছেন গালাগালির শিকার। আবার কেউ কেউ ইসলামকেই অহেতুক ও আনজাস্টিফায়েবলী আক্রমন করে মুসলিম ব্লগারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে কিছু মুসলিম ব্লগার ধৈর্য হারানোর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় কিছু বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এ পোস্ট।

১. মুসলিমরা সবসময় ইতিবাচক (পজিটিভ) মানসিকতা পোষণ করে। তাই সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ করুন। উস্কানীমুলক পোস্টের মুকাবিলায় ধৈর্য ধরে ইতিবাচক ভাবে এগুলোর জবাব দিন। উস্কানীমূলক সব পোস্ট গিয়ে জবাব দেবার দরকার নেই। প্রয়োজনে ইসলামের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করে আলাদা পোস্ট দিন। তর্ক করলে তা করতে হবে উত্তম পন্থায়। কাঊকে শক্ত জবাব দিতে হলে সেখানেও যেন ইসলামী আদাব লংঘন না হয়।

২. ব্যক্তি আক্রমনের ও গালাগালির শিকার হলে ধৈর্য ধারণ করে নিজের পথে থাকুন। ইসলাম ছেড়ে দেবেননা বা আপনার এডভারসারীদের প্রিয়ভাজন হবার চেষ্টা করবেননা। ওরাতো চায়ই আপনাকে ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে দিতে। মনে রাখবেন, "ইসলামের কথা বলবেন আর আপনার উপর ফুল ও মধূ বর্ষিত হবে" ব্যাপারটা এমন নয়। খ্যাতির কাঙ্গাল হয়ে কোন লাভ নেই। এ কথাতো সবার জানা যে ইসলামের সর্বোত্তম দায়ীয়াহ্‌ (আহবানকারী) ছিলেন মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ)। তার মত নির্যাতনের মুকাবিলা আমাদের কাউকে করতে হবেনা। রসূলুল্লাহ (সঃ) অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁর উপরে ঊটের নারী-ভূড়ি ছাপানো, গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা, পাগল আখ্যা দিয়ে বখাটে ছেলেদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দেয়া ছাড়াও তাঁর উপর পাথর, জুতা সব কিছুর ঢিল ছোঁড়া হয়েছে। আমরা কেউই তাঁর চেয়ে বেশী সম্মানিত নই। তাই এসব যদি আমাদের উপর এসে পড়ে তাতে অপমানিত হওয়ার কিছু নেই। আর এজন্য পালিয়ে যাওয়ারও কোন মানে হয়না।

৩. দলাদলির ব্যাপারেও সাবধান থাকতে বলব সবাইকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে নানান দলে ভাগ হয়ে গেছে উম্মাহ্‌। এ ক্ষেত্রে ব্লগে নিজেদের দলাদলীর রূপটা প্রকাশ করবেননা। মুসলমানদের একটা দলের বিরুদ্ধে আরেকটা দলকে উস্কে দেয়ার ঘৃণ্য কাজ করে থাকে ইসলামের শত্রুরা সবসময়। এ ক্ষেত্রে সমসাময়িক সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম গ্রুপটিকে আক্রমনের টার্গেট বানায় তারা। এ ক্ষেত্রে অন্য মুসলিমদের সাহায্য নেয় এরা। এজন্য তারা আপনার মধ্যে গোষ্ঠি চেতনা উস্কে দিয়ে কোন মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হলে তারা তখন অপেক্ষাকৃত দূর্বল মুসলিম দল বা গোষ্ঠিগুলোকে সামলাতে পারবে। তাই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে মুসলমানদের কোন দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে পাবলিক ফোরামে সমালোচনা করবেননা, আপনাকে তারা যতই কোন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাক না কেন। আপনি যদি তাদের কোন কাজের সমালোচনা করেন তাহলে তা তাদের কাছেই সরাসরি পাঠান। এতে আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে একটা বিষয় ব্যতিক্রম। সেটা হল ইসলামের মধ্যে নতুন চালু করে দেয়া অনৈস্লামিক কাজগুলোর অসারতা তুলে ধরে আলোচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও কোন বিশেষ গ্রুপের সমালোচনা নয় বরং বিশেষ শিরকী, বিদ'আতী বা কুফরী কাজের সমালোচনা।

৪. বিরুদ্ধবাদীদের মুকাবিলায় আক্রমনাত্বক ভাষা পরিহার করাও দরকারী। মন্দের মুকাবিলায় ভাল প্রয়োগকারী হিসেবেই আমাদের প্রভূ আমাদের উত্থান ঘটিয়েছেন। যুক্তি-বুদ্ধি এবং দরদই হবে আপনার আলোচনার ও তর্কের ধরণ। তবে দীনী বিষয়গুলোতে যুক্তিবাদের প্রাধান্যকে এড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে কুর'আন এবং সুন্নাহ্‌র দলীলই শুধু প্রয়োগ করতে হবে। এ জন্য কুর'আনের সাথে এবং সুন্নাহ্‌র সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

৫. আরেকটা ব্যাপার হল, এই ব্লগটাই কিন্তু গোটা দুনিয়া নয়। আপনার ব্যক্তিগত পড়াশুনা, পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক, বাইরের দাওয়াতী কাজ এগুলো যেন বাধাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে কোনভাবেই এখানে বেশী সময় দেবার কারণে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28764818 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28764818 2008-01-27 23:49:14
কুর'আন, নারী ও শস্যক্ষেত্র, ইসলাম বিদ্বেষ ও আমার বিশেষ জ্ঞানী হওয়া। কুরআন আল্লাহ্‌র কিতাব। এর রয়েছে নিজস্ব বাচনভঙ্গী যা মানবীয় বাচনভঙ্গী থেকে আলাদা। তাই এ কিতাব বার বার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে এর অস্বীকারকারীদেরকে এরকম একটা কিতাব তৈরী করে আনতে। না পুরো কিতাব নয়, শুধু একটি সূরা। আর এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ছাড়া সব সাহায্যকারীর সাহায্য গ্রহন করতে বলা হয়েছে এর অস্বীকারকারীদের। আবার কুর'আনই বলে দিয়েছে এটা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। "আমরা আমাদের বান্দার উপর যা নাজ়িল করেছি সে ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহে ভোগ তাহলে নিয়ে এস এর সূরাগুলোর মত একটি, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমাদের আর সব সাহায্যকারীকে ডেকে নাও; যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। যদি তোমরা তা না পার, আর তোমরা কখনোই তা পারবেনা, তবে সে আগুনকে ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। একে (আগুন) তৈরী করা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য।" [2/23-24] এটা অননুকরণীয় এক কিতাব। কুর'আন পৃথিবীর আর কোন কিতাবের সাথে কোন সাজুয্য রাখেনা। এমনকি আরবীতে লিখা অন্য সব কিতাব থেকে এর বাচনভঙ্গী সম্পূর্ণ আলাদা। এর বর্ণনার ধরণ হাদীসের ভাষা থেকেও ভিন্ন। যারা আরবী ভাষা জানেন তারা এ পার্থক্যটা খুব সহজেই ধরতে পারেন।

কুর'আনের শব্দাবলী বিশ্বজাহানের স্রষ্টা নিজে চয়ন করেছেন। এজন্য মানবীয় ভাষায় এর অনুবাদে সবসময় থাকে সীমাবদ্ধতা। যার জন্য মুসলিমরা কখনোই অনুবাদকে কুর'আন মনে করেননা। কুর'আন হচ্ছে তা যা পড়া হয় আরবীতে। অনুবাদ্গুলো আমাদের মানবীয় প্রচেষ্টা কুর'আন বুঝার নিমিত্তে। এজন্য কুর'আনের কোন অনুবাদই পরিপূর্ণ নয়। অনেক অনুবাদ আবার ভাবানুবাদ, শাব্দিক নয়। কুর'আনের বাণী বুঝার জন্য আরো দরকার ক্লাসিক্যাল আরবী ভাষার উপর দক্ষতা। এজন্য ক্লাসিক্যাল আরবীর যথার্থ জ্ঞান ব্যতিরেকে শুধু অনুবাদের উপর নির্ভর করে কুর'আনের সমালোচনা করা মূর্খতাপূর্ণ পণ্ডিতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

কুর'আনের সমালোচনার জন্য অন্য আরেকটি বিষয় পাঠককে জানতে হবে। তা হলো কুর'আনের আয়াতগুলো নাজ়িল হয়ার প্রেক্ষাপট। সাধারণত আমরা লিখিত কিতাবগুলোকে সুচী ও বিষয় অনুযায়ী অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত ধারাবাহিকরূপে সাজানো দেখতে পাই। কিন্তু কুর'আন কোন লিখিত কিতাব হিসেবে একসাথে মুহাম্মদকে (আল্লাহ্‌র করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর) দেয়া হয়নি। বরং এটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান ও পাত্রের উপলক্ষে নাজ়িল করা এক ভাষণের সমষ্টি। এজন্য প্রচলিত কিতাবের (বইয়ের) ধারণা এখানে পাওয়া যাবেনা। এর ভাষণগুলোর একটি সাধারণ প্রয়োগ থাকলেও এর প্রতিটি ভাষণের বিশেষ প্রয়োগও রয়েছে নাজ়িলের প্রেক্ষাপটের আলোকে।

২. নারী ও শস্যক্ষেত্র
কুর'আনের কিছু আয়াত উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন কিছু ব্লগার। এরকম একটি কাজ করেছেন সম্প্রতি "সুশীল সমাজ" নিকধারী এক ব্লগার তাঁর এক পোস্টে। তিনি কুর'আনের সূরা আল-বাকারার ২২৩ নং আয়াতটির নিন্মোক্ত অনুবাদ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ব্লগে তুলে ধরেছেনঃ "তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্খা কর এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে| আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।" তাঁর বোল্ড করা অংশগুলোই তাঁর ইঙ্গিতের স্বরূপ। অনুবাদটি মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের অনুদিত মা'আরেফুল কুর'আনেও এভাবেই দেয়া হয়েছে। তিনি হয়তো প্রেক্ষাপট জানতেন বলে তাঁর কাছে এখানে কোন অসুন্দর ইঙ্গিত ধরা পড়েনি। এবার আসুন আমি একটি অনুবাদ পেশ করি। "তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যখন ও যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যাও। আর নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের ব্যবস্থা কর ও আল্লাহ্‌কে ভয় কর............।"

"ফা'তু হারসাকুম আন্না শি'তুম" এর অনুবাদ করা হয়েছে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর"। অথচ ফা'তু মানে "অতএব তোমরা গমন কর", হারসাকুম মানে "তোমাদের শস্যক্ষেত্র" আর আন্না শি'তুম মানে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা কর বা যখন ইচ্ছা কর।" যারা আয়াতটির পেছনের কারণ জানেন তাদের কাছে "তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর" অনুবাদটি শাব্দিকভাবে যথাযথ নাহলেও ভাবার্থের দিক দিয়ে মিলবে এবং তারা এতে কোন অস্বস্তিকর কিছু পাবেননা। কিন্তু যারা পুরো ব্যাপারটা জানেননা তারা এটাকে চরম অপমানকর একটা কথা মনে করবেন।

আসলে প্রকৃত ব্যাপারটা কী? ঘটনা হচ্ছে স্ত্রীদের সাথে সঙ্গমের আসন নিয়ে লোকেরা দ্বিধাদন্দ্বে পরে গিয়েছিল বিভিন্ন প্রচলিত আচারের কারণে। মদীনায় আসার পর মুসলমানদের মধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন সংশয়ের সৃষ্টি হয়। মক্কাবাসীরা সাধারণত তাদের স্ত্রীদের মুখোমুখি হয়ে মিলিত হত। মদীনাবাসী আনসাররা তাদের স্ত্রীদেরকে উপুর করে নিয়ে মিলিত হতেন। ওদিকে মদীনার ইহুদীরা এগুলো নিয়ে বলত যে এরকম হলে সন্তান বিকলাঙ্গ হবে। এ ছাড়াও তারা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকত, এমনকি তাদেরকে স্পর্শ পর্যন্ত করতনা। এ অবস্থায় লোকেরা প্রশ্ন করলে আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াতের মাধ্যমে এ সম্পর্কে সব ভুল ধারণার অবসান করেন। স্ত্রীদেরকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করে এবং তাদের কাছে যেভাবে ইচ্ছা যাওয়ার কথা বলে আল্লাহ্‌ তা'আলা যৌন সঙ্গমের সব আসনকে বৈধতা দিলেন এবং শুধুমাত্র স্ত্রীর যোনীতে সঙ্গমকে এলাউ করলেন। কারণ কৃষক বীজ জমিতেই বপন করে একে চাষ করে। এছাড়াও যৌন সঙ্গমের উদ্দেশ্য যে নিজের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্ম রেখে যাওয়া তাও বলে দেয়া হয়েছে। আর স্ত্রীদের কাছে সবসময় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঋতুকালীন সময়ে তাদেরকে ত্যাগ করে থাকতে বলা হয়নি যেমন করত ইয়াহুদীরা। তবে তাদের সাথে সে সময়ে সঙ্গম করাকে হারাম করা হয়েছে যা এর আগের আয়াতে (২/২২২) উল্লেখ করা হয়েছে। এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করতে বলে সেদিকেই মূলতঃ ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কুর'আনে স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্ক শুধু এ আয়াতেই বর্ণনা করা হয়নি। আমরা আরো দু'টি আয়াত দেখি। মহান আল্লাহ্‌ স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্কঅকে অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারাহ্‌র ১৮৭ নং আয়াতে তিনি এ অন্তরঙ্গ সম্পর্কের পরিচয় পেশ করেছেন এভাবেঃ "তারা তোমাদের পরিচ্ছদ স্বরূপ আর তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ স্বরূপ।" তারা পারস্পরিক প্রেম-ভালবাসার মূর্ত প্রতীক তাও আল্লাহ্‌ আমাদের জানিয়েছেন এভাবে, "আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে (একটি হলো এই যে) তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জুড়ি (স্বামী/স্ত্রী) সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তোমরা তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের পরস্পরের মাঝে প্রেম-ভালবাসা ও দয়া-মমতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এর মাঝে রয়েছে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য বিরাট নিদর্শন।"(৩০/২১)। এরচেয়েও সুন্দর করে কি আর কোথাও স্ত্রী-পুরূষের সম্পর্ককে বিবৃত করা হয়েছে?

৩. ইসলাম বিদ্বেষ
প্রিয় পাঠক, তাই বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে কুর'আনের আয়াত নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। কুর'আনকে তার পূর্নাঙ্গরূপে নিয়েই অধ্যয়ন করতে হবে। তাহলে আপনার মনের সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। কুর'আনকে একটি পূর্ণাঙ্গ বানী (Total Messege) হিসেবে নিতে হবে। তাহলে আর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবেনা। কিন্তু বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীরা বসে থাকবেনা। তারা কোনকালেই বসে ছিলনা। এই ব্লগে এর আগেও "নাস্তিকের ধর্মকথা" ও "ক্যাচাল" নিকধারী দু'ব্লগার বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। আমার এক পোস্টে আমি নাস্তিকের ধর্মকথার আল্লাহ্‌র লিঙ্গ নিয়ে সৃষ্টি করা বিভ্রান্তির জবাব দিয়েছি আর ক্যাচালের ব্যাপারেও সাবধান করেছি। আরা কুর'আনএর আয়াতের অসঙ্গতি নিয়ে ক্যাচালের পোস্টের জবাব দিয়েছেন দ্বীপবালক। এরা অন্ধ বিদ্বেষী। কুর'আনকে ওরা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়েনা। পড়ে নিজেদের পূর্ব ধারণার উপাদান খুঁজতে। এজন্য এর সম্পূর্ণ মেসেজ না নিয়ে তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্তভাবে কুর'আনের আয়াতগুলোকে কনটেক্সটের বাইরে নিয়ে উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তাদের ছড়ানো বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে নিজে উদ্যোগী হয়ে কুর'আন পড়তে হবে।

৪. আমার বিশেষ জ্ঞান
সুশীল সমাজ প্রশ্ন রেখেছিলেন "আবূসামীহা কি কোরান হাদিস রিসার্চ সেন্টার থেকে বেশী জ্ঞানী?" আমি কখনো বলিনি আমি সেরকম। আমি শুধু তাদেরকে অবজ্ঞা করেছি যারা আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া ও কুর'আনের আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট জানা ব্যতিরেকে কুর'আনের বিরুদ্ধে অবজ্ঞা ছড়ানোর ধৃষ্টতা দেখায়। আমি বিশেষ কোন জ্ঞানী ব্যক্তি নই। তবে আলাহ্‌র কিতাবের পাঠক ও তাঁর অনুগ্রহের ফকীর।

প্রিয় মুসলিম বোন ও ভাইয়েরা! কুর'আনকে নিজে থেকে জানার উদ্যোগ গ্রহন করুন। তাহলে আপনাকে কেউ আর বিভ্রান্ত করতে পারবেনা। এ জন্য ভাল কিছু তাফসীরের সাহায্য গ্রহন করুন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে হাফিয ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীরের যুগান্তকারী তাফসীর যা "তাফসীরে ইবনে কাসীর" হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলায় অনুদিত হয়েছে। অনুবাদ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডঃ মুজীবুর রহমান। এছাড়া আমাদের সময়কালের দু'টো তাফসীর আপনার কুর'আন বুঝার সহায়ক হবে, যেগুলো হলঃ সাইয়েদ কুতুবের (শহীদ) "ফী জিলালিল কুর'আন" ও সাইয়েদ মওদূদীর "তাফহীমূল কুর'আন।" আসুন নিজেদের ঈমান হিফাজত করি, কুর'আনের পথে চলি আর আমাদের মহামহিম প্রভূর সন্তোষের লক্ষ্যে দ্রুত ধাবিত হই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763429 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763429 2008-01-23 09:59:18
এটা কী রকম তেলেসমাতি?
এটা কী রকম তেলেসমাতি? B:-)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763019 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28763019 2008-01-21 22:08:51
মাছি মারা কেরাণী ও আমার অভিজ্ঞতা
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর আগে আসুন মাছি মারা কেরাণীর গল্পটাই আরেকবার রোমন্থন করি। কেরাণীদের কাজ হলো তাদের বসদের হুকুম পালন করা। বসরা যা করতে বলেন তা করা। এক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের বুদ্ধি নতুন করে খাটাননা। যা বলতে বলা হয়েছে তাই করেন চিন্তা ভাবনা করা ছাড়া। কোন কাজের দায়ভার নিজের কাঁধে নেয়ার মত মানসিকতা, সাহস ও ক্ষমতা কোনটাই তাদের নাই।

এরকম এক কেরাণীকে তাঁর বস একবার এক ফাইল কপি করতে দিলেন। বেচারা কেরাণী নিজের হাতে ঐ ফাইল কপি করে যাচ্ছেন। তখনকার দিনে ফটোকপি, সাইক্লোস্টাইল বা স্ক্যানিং, কম্পিঊটার কিছুই ছিলনা। তিনি ফাইলের কাগজগুলোর নকল (কপি) তৈরী করা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। শেষ পাতায় দেখলেন একটা মাছি মরে লেগে আছে। তিনি ভাবলেন, "এটা কীভাবে কপি করা যায়?" আর আপনারা যারা চেষ্টা করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন মাছি মারা বা ধরা খুব সোজা কাজ নয়। কেরাণী ভদ্রলোককে ফাইল নকল করতে হবে। তাই মাছি মারা ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি অনেক কষ্ট করে একটা মাছি মেরে নকল ফাইলটাতে জায়গামতো সেঁটে দিলেন। সেই থাকে বাংলায় "মাছি মারা কেরাণী" কথাটার শুরূ।

কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমাকেই যে এক মাছি মারা কেরাণীর মুকাবেলা করতে হবে তা কে জানত? ১৯৯২ সালের কথা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে নতুন কিছু শেখা। Communication Law & Ethics কোর্সটা নিলাম। শিক্ষক সাইয়েদ শওকত আলী শাহ্‌। ভদ্রলোক তাঁর কড়া মেজাজের জন্য গোটা ফ্যাকাল্টির ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিচিত। আমি কমুনিকেশন মেজর হওয়ার পরও তাঁর সাথে কোন কোর্স নেইনি কারণ সিনিয়ররা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তাঁর মেজাজ এবং নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতার কথা বলে। এদিকে তিনিই writing কোর্সগুলো পড়ান। বাধ্য হয়ে ৩য় সেমিস্টারে তাঁর সাথে একসাথে তিনটা কোর্স নিতে হল। এর মধ্যে দু'টো কোর কোর্স। Reporting & Writing for Mass Media-I এবং Communication Law & Ethics। এদিকে তিনি আবার পান- থেকে চুন খসলেই ক্ষেপে যান। এসাইনমেন্ট - ২য় কোর্সটির জন্য একটা টার্ম পেপার লিখতে হবে যা অবশ্যই টাইপ করা ১০ থেকে ১২ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

তখন আবার এত GUI কম্পিঊটার ছিলনা। ছিল DOS বেইসড পি.সি.। শেখার কষ্টে তখনো ভাল করে শেখা হয়নি। এজন্য এসাইনমেন্ট হাতে লিখে আমরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কেরাণীদের দিয়ে টাইপ করিয়ে নিতাম। প্রতি পৃষ্ঠার (ডাবল স্পেইস, ১২ ফন্ট সাইজ) জন্য ১ রিংগিত করে পে করতাম ঐ কেরাণীদেরকে। আমার এসাইনমেন্টাও হাতে লিখে এক কেরাণীর কাছে দিয়ে এলাম টাইপ করার জন্য। হাতে লিখা এসাইনমেন্টটা ছিল ১৫ পৃষ্ঠা। স্বাভাবিকভাবে টাইপ করলে পৃষ্ঠা কমবে। কোনভাবেই ১২ পৃষ্ঠা হওয়ার কথা নয়। আমি হাতে লিখাটার শেষ পাতায় লিখে দিয়ে এসেছিলাম "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages"।
নির্দিষ্ট দিনে টাইপ করা এসাইনমেন্টটা ফেরত আনতে গিয়ে দেখি সে ১৫ পৃষ্ঠাই টাইপ করেছে এবং আমার দেয়া ইন্সট্রাকশন "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages" কথাটাও টাইপ করে রেখেছে।

হাসব না কাঁদব? একদিকে মিঃ সাইয়েদ শওকত আলীর ইন্সট্রাকশন, এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন আর অন্যদিকে তার মেজাজ। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। তবে বাস্তবের একজন মাছি মারা কেরাণীর দেখা পাওয়া গেল বলে একটু কষ্টের হাসিও হাসা গেল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28761272 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28761272 2008-01-16 09:12:55
যখন এই যন্ত্রটা বন্ধ হয়ে যাবে!
এর সুস্থ্যতা তাই খুবই জরুরী। এর বস্তুগত স্বত্ত্বার সুস্থ্যতা জরুরী শারীরবৃত্তীয় ধারাটাকে জারী রাখাতে। আর এর আত্মিকরূপটার সুস্থ্যতা জরূরী আমাদের গোটা মানব অস্তিত্বকে কলুষতা বিমুক্ত রেখে সৌন্দর্যে বিমণ্ডিত করতে। এজন্যই মানবতার মহান শিক্ষক (তাঁর উপর সালাত ও সালাম) বলেছেন, "নিশ্চয় শরীরে একটি মাংশপিণ্ড রয়েছে যা সুস্থ্য হলে গোটা শরীর সুস্থ্য, আর যা অসুস্থ্য হলে গোটা শরীর অসুস্থ্য। আর অবশ্যই তা হলো হৃদয়।"

এই হৃদযন্ত্রটা কখন তার ধুকপুকানি বন্ধ করে দেবে জানিনা কেউ। তার ধুকপুকানি বন্ধ হলে প্রাণ পাখীটাও উড়ে চলে যাবে। তখন সব ভালবাসা আর ঘৃণার উর্ধ্বে চলে যাব সবাই। তাই একে সুস্থ্য রাখার চেষ্টা করি আমরা। ঘৃণা আর বিদ্বেষকে তাড়িয়ে দেই হৃদয় থেকে। ভালবাসায় ভরে তুলি একে। মানুষের কল্যাণ চিন্তায় নিয়োজিত রাখি একে।
==========================
আজ হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করতে গিয়েছিলাম ডাক্তারের কাছে। তাই লিখলাম উপরের অগোছালো কথাগু্লো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760505 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760505 2008-01-13 10:11:20
একজন বন্দী সাংবাদিক ও একটি বন্দী শিবির
ক্যাম্প এক্স-রে, গুয়ান্তানামো বে, কিউবা; একটি নতুন গুলাগ মুক্তিকামী মানূষের কাছে। মানবতার জন্য চরম লাঞ্ছনাকর একটি স্থান। সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে এখানে। আটক যারা তাদের বেশীরভাগেরই জানা নেই কেন তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও আনা হচ্ছেনা এবং তাদেরকে বিচারেরও সম্মুখীন করা হচ্ছেনা। আমেরিকান বিচার ব্যবস্থার আওতায় যাতে তাদের বিচার করা না হয় সেজন্য তাদেরকে শত্রুযোদ্ধা (enemy combatant) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবন্দীদের জন্য যে আন্তর্জাতিক আইন তাও এদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছেনা। আজ (জানুয়ারী ১১, ০৮) পার হয়ে গেল এই বন্দীশিবির চালু হওয়ার ৬ বছর। সারা বিশ্বব্যাপী মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে এই শিবিরের অবসান চেয়েছে।

এখানে একজন বন্দীমানুষের কথা স্মরণ করছি, যিনি সাংবাদিক - ক্যামেরা সাংবাদিক। আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল আল-জাজ়ীরার ক্যামেরাম্যান সামী আল-হাজ্জ। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সামীকে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করে ক্যাম্প এক্স-রে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি, তাকে বিচারেরও সম্মুখীন করা হয়নি। সামী ৭ ডিসেম্বর ২০০৭ থেকে তাকে বিচারের সম্মুখীন করার দাবীতে অনশন ধর্মঘট পালন করছেন আজতক।

ফাঁস হয়ে যাওয়া কিছু খবরে জানা গেছে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ চেয়েছেন সামীকে দিয়ে আল-জাজ়ীরার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করাতে। রাজী হলে তাকে এবং তার পরিবারকে আমেরিকান নাগরিকত্ব দেয়ারও প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু সামী রাজী না হওয়ায় এখনো তাকে বিনা বিচারে আটক থাকতে হচ্ছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠি কোনভাবেই চাইছিলনা তাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান চালু হোক। এজন্য আল-জাজ়ীরা তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। তারা এর সম্প্রচার বন্ধ করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলে, এর সাংবাদিকদের আটক করে ও এর স্থাপনার উপর বোমা হামলা করে এটাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে। সামী আল-হাজ্জকে নিয়ে তাদের এই ক্রুর খেলাও মূলতঃ আল-জাজ়ীরার প্রতি আক্রোশের কারণে।

আসুন আমরা আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি বিশ্ব চাই, আর গুয়ান্তানামো বে'র বন্দী নং ৩৪৫ এর মুক্তি দাবী করি।
Prisoner 345: Official Website dedicated to Sami al-Hajj ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760230 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28760230 2008-01-12 09:57:52
এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? "এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? ধর্মটা নিজের ভেতর রেখে ব্লগটায় ভিন্ন লেখা দেয়া যায় না? দেখুন আমাকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য দ্বায়ি করবেন জানি। কিন্তু এই হাদীস, কুর-আন এসব বাসায় বসে চর্চা করার বিষয়। যদি কেউ না করে তবে সেটা তার উপর। আর ব্লগ একটা পরিচ্ছন্ন লেখাস স্থান। এইখানেও যদি ধর্ম টেনে আনেন তাহলে তো এইটা সকীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই না। একটা পোস্ট দিন না যেটা ধর্ম সংক্রান্ত নয়। দেশের মানুষ এখন খেতে পাচ্ছে না। সেটা নিয়ে কথা বলুন। ধর্ম নিজের ভেতর রাখবেন। এইটা যথেষ্টই প্রচার হইতেছে, আর দরকার বোধ করি না। ধন্যবাদ। আশা করি আমাকে ভুল বুঝবেন না।"

উপরের কথাগুলো আমার একটা পোস্টের মন্তব্যে লিখেছেন একজন সম্মানিত ব্লগার। তাঁকে অস্মমান বা অশ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই পোস্ট নয়। এই পোস্ট শুধু তাঁর মন্তব্যের কৃত প্রশ্নের ব্যাপারে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে বলার জন্য, যা তাঁর মত একই মানসিকতা সম্পন্ন অনেকের প্রশ্নের উত্তর হতে পারে।

প্রথমে আসি ব্লগ লিখা নিয়ে। ব্লগ কি? আমার বিশ্বাস সবাই জানেন। ব্লগ "ওয়েব লগ" এর সংক্ষিপ্তরূপ, যা একটা অনলাইন ডায়েরীর মত। এখানে যে কেউ কেউ নিজের ইচ্ছে মত লিখতে পারে, এর নীতিমালা মেনে নিয়ে। এখন দেখতে হবে ব্লগ সাইটটির নীতিমালা কোন লেখকের লেখায় লংঘিত হয়েছে বা হচ্ছে কিনা। যদি হয় তাহলে তাকে বলা যেতে পারে লিখা বন্ধ করতে অথবা তার বিরুদ্ধে নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

এবার আসুন পরিচ্ছন্ন লিখার কথায়। তিনি লিখেছেন "আর ব্লগ একটা পরিচ্ছন্ন লেখাস স্থান। এইখানেও যদি ধর্ম টেনে আনেন তাহলে তো এইটা সকীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই না।" ভাল কথা পরিচ্ছন্ন লিখতে হবে। এখন ধর্ম নিয়ে লিখলে পরিচ্ছন্নতা কিভাবে নষ্ট হয়? আপনি আমাদেরকে পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন। ব্লগে যদি কেউ কুরআন এবং হাদীসের কিছু উদ্ধৃতি পেশ করে তাহলে ব্লগের পরিচ্ছন্নতা কিভাবে নষ্ট হয়? যখন গালাগালি ও অশ্লীলতার বন্যা বইয়ে দেয়া হয় তখন কি পরিচ্ছন্নতার হানি হয়না?

আর সঙ্কীর্ণতা হলো নিজের মতামতকেই শুধু প্রাধান্য দেয়া, এর বাইরের আর কোন কিছুকে সহ্য না করা। আমার লিখায় কি কোন সঙ্কীর্ণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে না আপনার নিজের মন্তব্যে? দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, "একটা পোস্ট দিন না যেটা ধর্ম সংক্রান্ত নয়।" দয়া করে আমার পুরো ব্লগটি ভ্রমন করলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। আর সবাইকে সব বিষয়ে লিখতে হবে এটাতো জরুরী নয়। দেশোদ্ধার করার কাজ করছেন কিছু ব্লগার। আমি তাদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কেউ কেউতো শুধু প্রতিক্রিয়াশীল পোস্ট দিয়ে প্রথম পাতা ভরে রাখেন।

এবার আসা যাক তার মন্তব্যের শুরুর কথাটায় -"এত ইসলাম ইসলাম করেন কেন? ধর্মটা নিজের ভেতর রেখে ব্লগটায় ভিন্ন লেখা দেয়া যায় না?" এত ইসলাম ইসলাম কোথায় করা হয়েছে আমার পোস্টে আপনি কি একটু বলবেন? আর যদি আমি করিও এতে আপনারতো কষ্ট পাবার কথা নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ইসলাম পালন করার আহবান করিনি। ইসলাম ইসলাম আমি করলেও আপনার সমস্যা হবার কথা নয়। ব্লগেতো অনেক কিছুই করছেন অনেকে। আমি না হয় একটু "ইসলাম ইসলাম" ই করলাম। আমি ইসলামের কিছু বিষয় নিয়ে লিখেছি যা থেকে আগ্রহীরা উপকৃত হতে পারে। সেখানে কোন দল বা গোষ্ঠির পক্ষে বা বিপক্ষে কিছুই বলা হয়নি। তাই আপনার প্রতিক্রিয়াটাই বরং হয়ে গিয়েছে আমাদের সমাজের অসহনশীলতার গতানুগতিক একটা উদাহরণ।

আর ধর্ম আপনি যেমন মনে করেন ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি সেরকম মনে করিনা। ধর্ম যদি ব্যক্তিগত ব্যাপারই হতো তাহলে দুনিয়ার প্রত্যেক ব্যক্তিরই সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা ধর্ম বিশ্বাস থাকত। ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার নয় বলেই বিশ্বাসীরা এটার প্রচার ঘটিয়েছেন আর এর অনুসারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। ব্যক্তিগত বিষয় নয় বলেই এর সামাজিক রূপ রয়েছে। আর সেজন্যই মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, সিনাগগ ইত্যাদি রয়েছে যেখানে ব্যক্তিগতভাবে নয়, সামষ্টিক-সামাজিকভাবেই ধর্ম পালন করা হয়।

যে কেউ যে কোন পোস্ট দিতে পারে ব্লগে এর নিয়মাবলী মেনে। এতে অন্য কারো কষ্ট লাগলে তার উচিত এর একটা যথাযথ যুক্তিসম্মত জবাব দেয়া। কিন্তু গায়ের জোরে বন্ধ করে দেয়ার নীতি নিশ্চয়ই কাম্য নয়।

আর আপনাকে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য "দ্বায়ি" করার দায়িত্ব আমার নেই। এটা আপনি নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। আপনাকে ভুল বুঝে আমার কোন কাজ নেই ভাই। নিজের মনটাকে যদি ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্কীর্ণতার কুকোনে আবদ্ধ করে রাখেন তাহলে আপনি ধর্মীয় জীবনের বিশালতা দেখবেন কিভাবে? পূর্ব ধারণা নিয়ে যদি ধর্মকে দেখেন সেখানে আপনি আপনার বিশ্বাসের প্রতিফলনই দেখবেন। আপনি হয়তো বলবেন "আপনার ব্যাপারেও একই কথা খাটে।" খাটে হয়তো। কিন্তু এর ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছি তখন যখন প্রচলিত ধর্মীয় ধারণাটাকে আস্তে করে সরিয়ে দিয়ে ইসলামকে বুঝতে চেষ্টা করেছি নিজে স্বাধীনভাবে।
ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756881 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756881 2008-01-05 09:24:43
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৮ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ৫ খুতবায় রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) কি বলতেন?

আব্দুল্লাহ্‌ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে দিমাদ ইবন সা'লাবা মক্কায় আসল। সে ছিল আজ়দ শানু'আহ গোত্রের লোক এবং সে পাগলদের পাগলামী সারানোর ওঝাগিরি করত। মক্কার নির্বোধ লোকদের মুখে সে শুনল যে মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া-সাল্লাম) একজন উন্মাদ। এটা শুনে সে বললঃ "আমি যদি এই লোকটিকে দেখতে পারি তাহলে হয়তো আমার হাতে আল্লাহ্‌ তাকে সারিয়ে দেবেন।" এরপর সে তাঁর (সঃ) সাথে দেখা করে বললঃ "ও মুহাম্মদ, আমি উন্মাদনার ঝারফুঁক জানি, আর আল্লাহ্‌ আমার হাতে যাকে ইচ্ছা সুস্থতা দান করেন। আপনি কি চান [আমি আপনাকে ঝারফুঁক করি]?" একথা শুনে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বললেন, " ইন্না-ল-হামদা লিল্লাহ্‌, নাহমাদুহু, ওয়া নাস্তা'য়ীনুহু। মান ইয়াহদিহি-ল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু। ওয়া মান ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লা-ল্লাহ, ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু; ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু। আম্মা বা'দ -- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য; আমরা তার প্রশংসা করি এবং তার কাছেই সাহায্য চাই। আল্লাহ্‌ যাকে সঠিক পথের দিশা দেন তাকে কেউই পথভ্রষ্ট করতে পারেনা। আর আল্লাহ্‌ যাকে ভ্রান্ত হতে দেন সে কোন পথ নির্দেশক পায়না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্‌ ছাড়া ইবাদত/দাসত্ব পাওয়ার অধিকারী কোন সত্ত্বা নেই - তার কোন অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র বান্দা ও রসূল। এবং অতঃপর.." দিমাদ এখানে বাধা দিয়ে বলল, "আপনার এই কথাগুলো আমাকে আবার বলুন। রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) কথাগুলো তার জন্য তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। দিমাদ বললঃ "আমি জ্যোতিষদের কথা শুনেছি, যাদুকরদের কথা শুনেছি, কবিদের কথাও শুনেছি, কিন্তু আমি আপনার এই কথাগুলোর মত কোন কথা কখনো শুনিনি। আর এই কথাগুলি [বাগ্মীতায়] সমুদ্রের গভীরে প্রবেশকারী। আমাকে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমি ইসলামের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহন করি।" আর এভাবে সে ইসলামের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দেয়।

আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) বললেনঃ "এটা (আনুগত্যের শপথ) তোমার জাতির পক্ষ থেকেও কি?" সে বলল, " হ্যাঁ, এটা আমার জাতির পক্ষ থেকেও।" [পরবর্তীকালে] রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) একটা বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন যা তার গোত্রের আবাসস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। বাহিনীর অধিনায়ক তাঁর সাথীদের বললেন, "তোমরা এই গোত্রের লোকদের কাছ থেকে কিছু নিয়েছ কিনা?" একজন বললেন, "আমি পানি রাখার একটা পাত্র পেয়েছি।" এতে করে অধিনায়ক বললেন, "ওটা ফিরিয়ে দিয়ে এস, কারণ এরা দিমাদের গোত্রের লোক।"

[ইমাম মুসলিম হাদীসটি তাঁর সহীহতে জুমু'আর অধ্যায়ে সংকলন করেছেন। এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে ইমাম আল-মুনযিরীর সংকলিত "মুখতাসার সহীহ মুসলিম" থেকে। হাদীস নং ৪০৯]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756588 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28756588 2008-01-04 10:09:40
থার্টি ফার্স্ট নাইট ও আমেরিকায় ৭ বছর
কুইন্সে শিবলী-ফ্যান্সীর বাসায় নামিয়ে দিয়ে গেলেন আমার ভায়রা। ওখানে বসে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন। সন্ধ্যায় সে থার্টি ফার্স্ট নাইট। ২০০০ সালের শেষ দিন। সুতরাং টাইম স্কোয়ারে বল-ড্রপ সহ সেবারের আয়োজন বিশাল। বিখ্যাত টাইম-স্কোয়ার। বাইরে থেকে এখানে এসে নিউ ইয়ার্স ঈভের এই বিশাল অনুষ্ঠান মিস করতে চাইবেনা অনেকেই। কিন্তু কেন জানি যাওয়ার জন্য কোন আগ্রহ বোধ করিনি। সন্ধ্যায় বরং গিয়েছিলাম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণদের এক সংবর্ধনানুষ্ঠানে।

আজ আমেরিকায় আসার সাত বছর হয়ে গেল। এখন রাত ১০টা বেজে ৫৫ মিনিট। এইতো আর ঘণ্টাখানেক পরেই টাইম-স্কোয়ারের বল-ড্রপিং। অনেকেই ছুটে যাবে ম্যনাহাটানে। কেউ বা আবার আতশবাজির উৎসবে বিভিন্ন স্থানে। তদের উৎসবের আরো আরো দিকগুলোর কথা না হয় বাদই থাকল।

হঠাৎ করেই আজ আমার ইলেভেন্থ গ্রেডের ছাত্রীদের ক্লাসে কেউ নিঊ ইয়ার নিয়ে মন্তব্য করলে আমার মনে পড়ে যায় থার্টি ফার্স্ট অফ ডিসেম্বরের কথা এবং সাত বছর আগে এ দেশে আসার কথা। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম আমি কখনো টাইম-স্কোয়ারে যাইনি নতুন বছরের বল-ড্রপিং দেখতে। আরো খেয়াল করে দেখলাম আমি এই ঘরের কাছের স্ট্যাচু-অফ-লিবার্টিটাও দেখতে যাইনি। আমি যখন ওদের বললাম আমি কখনো স্ট্যাচু-অফ-লিবার্টি দেখতে যাইনি, ওরা খুব আশ্চর্য হয়েছে।

আসলেই এইসব বল-ড্রপিং ও স্ট্যাচু আমাকে কখনো টানেনা। হৃদয়কে স্বচ্ছ রেখে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে থাকলে এসব সিম্বলের কোন প্রয়োজন হয়না। আর এভাবে ৩১শের রাতে অর্থহীন কিছু অনুষ্ঠানেরওতো কোন মানে আমি কখনো খূঁজে পাইনি। সময় সব-সময়ই বহমান, সৃষ্টির শুরু থেকে, যার কোন ধারণা আমাদের নেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময়কে নতুন বছরের শুরু ধরে নিয়ে উদ্দাম-উন্মাদনায় মেতে উঠারও কোন মানে নেই - অবশ্য সময়ের হিসাব গণনার জন্য মানুষ যে ব্যবস্থা করেছে তা ভিন্ন কথা। তাই আমার সময় গণনা নিভৃতেই পার হয়। তবে এতে থাকে প্রতিনিয়ত আত্মবিচার আর ভাল মানুষ হবার আপ্রাণ চেষ্টা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28755627 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28755627 2008-01-01 09:55:48
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৭ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ৪ জুমু'আর দিন গোসল করা সংক্রান্ত




আবূহুরায়রা আব্দুর রহ্‌মান ইবন সখর (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ জুমু'আর দিন উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন আর তখন উসমান ইবন আফফান (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার (রাঃ) তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "কেন কিছু লোকেরা আজ়ান[১] হয়ে যাওয়ার পরে মসজিদে আসে?" উসমান (রাঃ) তখন বললেন, "আমীর আল-মু'মিনীন! আমি আজ়ান শোনামাত্র উজ়ু করে (মসজিদে) এসেছি।" উমার (রাঃ) বললেন, "শুধু উজ়ু? তুমি কি রসূলুল্লাহ্‌কে (সঃ) বলতে শোননি 'তোমাদের কেউ যখন জুমু'আর জন্য আসে সে যেন গোসল[২] করে আসে'"?
[হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়েই সংকলন করেছেন। এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে ইমাম আল-মুনযিরীর "মুখতাসার সহীহ মুসলিম" নামক সংকলনের ইংরেজী ভার্সন থেকে। হাদীস নং ৪০৪]

নোটঃ
[১] রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ), আবু-বকর (রাঃ) এবং উমার (রঃ) এর সময়ে জুমু'আর দিন একটা আজানই দেয়া হত। আর তা হচ্ছে সেই আজান যা ইমাম খুতবা দিতে মিম্বরে উঠলে দেয়া হয়। এই আজানের পর মসজিদে আসলে আসার জন্য কোন সওয়াব হয়না। এখন যে আগে একটা আজান দেয়ার প্রচলন করা হয়েছে তা শুরূ হয়েছে উসমান (রাঃ) এর সময়ে। মুসলমানরা একটু বেশী ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এই প্রথম আজান দেয়া হত মদীনার বাজারে লোকদের জুমু'আর ব্যাপারটা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য, মসজিদে নয়।

[২] জুমু'আর দিনের গোসল ফরজ গোসলের মত করে ফজরের আগেই করার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমগণ মতামত পেশ করেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754530 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754530 2007-12-28 09:19:30
আল্লাহ্‌, ইসলাম, কুর'আন, হাদীস, ইত্যাদি নিয়ে এক ক্যাচালের ক্যাচালী ও কিছু কথা।
সম্মানিত ব্লগার বন্ধুরা লক্ষ্য করে থাকবেন যে তিনি আবার নাস্তিক গ্রুপ নামে গ্রুপ খুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর এক পোস্টে মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন "তিনি ও আস্তিক"। আর তাঁর বন্ধুরা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন আপাতত কুর'আন নিয়ে ক্যাচালী পারার জন্য। তবে তিনি তাতে না থেমে থেকে অনেক কিছু নিয়ে ক্যাচালী শুরূ করেছেন।

যিনি নাস্তিক গ্রুপ খুলতে চান তিনি আবার মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটানোর জন্য ইসলামের পবিত্র ব্যাপারগুলো নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। বৈপরিত্যে ভরা স্লোগান ছাড়া ওকথাটা আর কিছুই নয়।

পরের কথা হলো মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটাতে পারেন তারা যারা আসলেই তাদের আলোচিত বিষয়গুলোর উপর ভাল দক্ষতা রাখেন। যিনি জানেনইনা তিনি কি নিয়ে কথা বলছেন তাঁর কাছ থেকে কোন ধরণের মুক্তচিন্তার খোরাক পাবেন পাঠক/শ্রোতারা তা বোধ করি কারো অজানা থাকার কথা নয়।

আমাদের আলোচিত ভদ্রলোক বিভিন্ন সময় কুর'আনের আয়াত পোস্ট দিয়ে ওগুলোর মধ্যে বৈপরিত্য খুঁজেছেন বা তথ্যগত অসমাঞ্জস্য দেখেছেন, ইত্যাদি। তাঁর এ ধরণের একটি পোস্ট হলোঃ অহূদ বংশ(The people of Aad) ধংস করতে আল্লাহ কয়দিন সময় নিয়েছিলেন? পোস্টটি তাঁর অজ্ঞতার একটি উত্তম নমূনা। দ্বীপবালক নামক ব্লগার আমাদের মুক্তচিন্তার পথিকৃৎ সাহেবের আরবী ভাষার জ্ঞানের পরিধির প্রমাণ তুলে ধরেছেন এবং তার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি পোস্টই এরকম ভুলে ভরা মুক্তচিন্তাতে, যা সুস্থ্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষকে বিভ্রান্ত করবেনা, তবে তাঁর মত অপরিপক্ক জ্ঞানের অধিকারীদেরকে আরো বিভ্রান্ত হতে নিঃসন্দেহে সাহায্য করবে।

যাঁর আরবী ভাষা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান নেই, তিনি শুধুমাত্র অনুবাদের উপর নির্ভর করে ভুল ধরতে এসে যে কত মারাত্মক ভুল নিজে করেন তার "অহূদ জাতি" সংক্রান্ত পোস্টে দ্বীপবালকের জবাবে তা সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। নতুন করে জবাব দেবার প্রয়োজন নেই।

এই পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম ব্লগারদের সাবধান করা তাঁর ব্যাপারে আর সাথে সাথে ইসলামের জ্ঞান স্বচ্ছ মন নিয়ে আহরণ করারও আহবান জানানো। সুপ্রিয় মুসলিম ভাই-বোনেরা জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। আপনারা যদি নিজেরা একটু কষ্ট করে ইসলামের বেসিক জ্ঞানগুলো অর্জন করার চেষ্টা করেন তাহলে আর বিভ্রান্ত হবেননা। মনে রাখবেন আল্লাহ্‌ বলেছেন (তাঁর কালামের তর্জমা), "যারা জানে আর যারা জানেনা তারা কি সমান হতে পারে? যাদেরকে ভাল সমঝ দান করা হয়েছে তারাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।" [আয-যুমার, ৩৯/৯] তিনি আরো বলেছেন (তর্জমা), "নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে বেশী ভয় করে চলে।" [ফাতির, ৩৫/২৮]

এই ভদ্রলোকের পোস্টে কোন জবাব দেয়া থেকে আমি বিরত থাকছি, কারণ তিনি নিজেকে বহুত জ্ঞানী মনে করেছেন, নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানতে চাননি। আমি ইনশা'আল্লাহ্‌, তার উত্থাপন করা প্রসঙ্গগুলোর উপর আলোকপাত করব আলাদা পোস্টে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754222 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28754222 2007-12-27 09:31:28
এ ক্লীন এন্ড সানি ক্রিসমাস
কিন্তু আজ ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ চলে গেল কেমন যেন গোপনে গোপনে। পরিষ্কার নীল আকাশ, রৌদ্রকরোজ্জল দিন আর হাল্কা হিমেল তাপমাত্রা দিয়েই শেষ হলো দিনটি। মনে হয়নি নিউ ইয়র্ক সিটিতে আছি। আবহাওয়ার যা অবস্থা ছিল তাতে মনে হয়েছে আমাদের দেশের শীতকাল। বাজার করা আর মসজিদে যাওয়ার জন্য যে ক'বার বাইরে গেলাম তাতে লম্বা হাতা ওয়ালা টী-শার্টের উপর হালকা জ্যাকেট ও মোজা পড়া পায়ের উপর জুতার পরিবর্তে স্যাণ্ডেলই যথেষ্ঠ হয়েছে।

অপেক্ষা করে আছি কখন তুষারপাত হবে। দেখে আপাতত মনে হয়না শীঘ্রই হবে। মনে হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং নামক কালপ্রিটটাই এসবের জন্য দায়ী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753944 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753944 2007-12-26 05:07:47
আল্লাহ্‌ কে, তাঁর পরিচয় কি? তিনি দেখতে কেমন, তাঁর লিঙ্গ কি?
লিখাটা হয়তো একটু দীর্ঘ হতে পারে। আমি আগ্রহী পাঠকদের একটু ধৈর্য ধরে পড়তে বলবো যাতে করে কনফিউশন দূর হয়ে যায়। আর এখানকার আলোচনাগুলো আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) ও তাঁর রসূল যেভাবে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন সেভাবে বর্ণনা করা।

আল্লাহ্‌ কে, তার পরিচয় কি?
আল্লাহ্‌ নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন কুর'আনের বিভিন্ন জায়গায়। এখানে আমি কয়েকটা উদ্ধৃত করছি।
"[হে রসূল] আপনি বলুন, "আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বীতিয়। আল্লাহ্‌ সব ধরণের অভাব মুক্ত। তিনি [সন্তান] জন্ম দেননা এবং [সন্তান হয়ে] জন্মও নেননি। তাঁর সাথে তুলনা করার মতও কেউ নেই"। [কুরআন, ১১২/১-৪]

"আল্লাহ্‌ হচ্ছেন সেই সত্ত্বা যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ্‌ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও শাশ্বত-সুপ্রতিষ্ঠিত সত্ত্বা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করেনা। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সবই তাঁর। কে আছে এমন যে তাঁর দরবারে তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করতে পারে? তাদের [তাঁর বান্দাহদের] সামনে এবং পেছনে যা আছে তা সবই তাঁর জানা। তাঁর জ্ঞাত বিষয়সমূহের মধ্য হতে কোন বিষয়ই তারা [তাঁর বান্দারা] আয়ত্ত্বাধীন করতে পারেনা, শধু তা ছাড়া যা তিনি নিজেই ইচ্ছে করে জানান। তার কুরসী [সাম্রাজ্য] সমগ্র আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে বেস্টন করে আছে। আর এসবের রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়েন না। বস্তুতঃ তিনি এক মহান-সুউচ্চ শ্রেষ্ঠতম সত্ত্বা।" (বাকারা, ২/২৫৫)

"বরকতময় হচ্ছেন সেই সত্ত্বা যার হাতে রয়েছে সমস্ত রাজত্ব-কর্তৃত্ব। আর তিনি প্রতিটি বিষয়ের উপরই কর্তৃত্ববান। তিনিই মৃত্যু এবং জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তিনি তোমাদের মধ্যে কারা সৎকর্মশীল তা যাচাই করে দেখতে পারেন। তিনি সর্বজয়ী-শক্তিমান এবং অত্যন্ত ক্ষমাশীল।" [মুল্‌ক, ৬৭/১-২]

"আল্লাহ্‌ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর নূর"। [আন-নূর, ২৪/৩৫]

"তিনি-ই প্রথম, তিনি-ই শেষ। তিনি প্রকাশমান আবার তিনি গুপ্তও। আর তিনি প্রতিটি বিষয়ে অবহিত।" [আল-হাদীদ, ৫৭/৩]

"পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহ্‌র। তুমি যেদিকেই মুখ ফিরাবে সেদিকেই রয়েছে আল্লাহ্‌র চেহরা। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ বিশালতার অধিকারী ও সর্বজ্ঞ।" [আল-বাকারা, ২/১১৫]

"আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ্‌র। আর আল্লাহ্‌ সব কিছুকে বেস্টন করে আছেন।" [আন-নিসা, ৪/১২৬]

"তিনি-ই আল্লাহ্‌; তিনি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই; গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন; তিনি রহমান ও রহীম। তিনি-ই আল্লাহ্‌ যিনি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই; তিনি সব ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে থাকা সার্বভৌমত্বের অধিকারী [বাদশাহ্‌]; পুরোপুরি শান্তি-নিরাপত্তা; শান্তি-নিরাপত্তা দাতা; সংরক্ষক; সর্বজয়ী, নিজের নির্দেশ বিধান শক্তি প্রয়োগে কার্যকরকারী এবং স্বয়ং বড়ত্ব গ্রহনকারী। লোকেরা তার সাথে আর যে সমস্ত সত্ত্বাকে অংশীদার করে তিনি তা থেকে মুক্ত ও পবিত্র। তিনি আল্লাহ্‌ই যিনি সৃষ্টি পরিকল্পনাকারী ও এর বাস্তব রূপদানকারী এবং সে অনুযায়ী আকার-আকৃতি রচনাকারী। তাঁর জন্যই উত্তম নামসমূহ্‌। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সব কিছুই তাঁর প্রশংসা করে; আর তিনি মহা পরাক্রান্ত ও অতীব প্রজ্ঞাময়।" [আল-হাশর, ৫৯/২২-২৪]

"তাঁর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে এও রয়েছে যে, আকাশ এবং পৃথিবী তাঁরই হুকুমে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে। পরে যখনই তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে আহবান করবেন, তখন শুধুমাত্র একটি আহবানেই তোমরা বের হয়ে আসবে। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সবই তাঁর বান্দাহ্‌। সবকিছুই তাঁর নির্দেশের অধীন। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন আবার তিনিই এর পূনারাবৃত্তি করবেন। আর এটা করা তাঁর পক্ষে সহজতর। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে তাঁর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম গুনাবলী। তিনি মহাপরাক্রমশালী ও সুবিজ্ঞ।" [আর-রূম, ৩০/২৫-২৭]

মহান আল্লাহ্‌ তা'আলা তাঁর প্রজ্ঞাময় কিতাবে নিজের সম্পর্কে আরো বিবৃত করেছেন অনেকভাবে। আল্লাহ্‌ র বর্ণনা করা এ গুণগুলো তাঁর বিরাটত্ব ও মহানত্বেরই দিক নির্দেশনা দেয়। মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞান ও বুদ্ধিতে তাঁর বিরাট সত্ত্বা সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা তৈরী করা সম্ভব নয়। তিনি মহাবিশ্ব এবং এর মাঝে যা আছে তাঁর স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রনকারী।

আল্লাহ্‌ দেখতে কেমন, তাঁর লিঙ্গ কি?
মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা তার সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সৃষ্টির সাথে তাঁর সাযুজ্য খুঁজতে যাওয়া এক ধরণের কুপমণ্ডুকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিকে পরিবেস্টন করে আছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনটির মতন নন। তাঁকে দুনিয়ার কোন চোখ দেখেনি এবং দেখার ক্ষমতাও রাখেনা। এজন্য মূসা (আলায়হি আস-সালাম) দেখতে চেয়েও পারেননি। মিরাজে গিয়ে মুহাম্মদ (সল্লা আল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁকে দেখতে পাননি। রসূলুল্লাহ্‌কে (সঃ) আবূ যর (রাদি'আল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি তাঁর রব্বকে দেখেছেন কিনা। রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) জবাবে বলেছেন, "আমি কিভাবে তাঁকে দেখতে পারি? আমিতো একটি নূর দেখেছি।" (মুসলিম ও বুখারী)। মূলতঃ "কোন দৃষ্টি তাঁকে আয়ত্ত্ব করতে পারেনা। তিনিই বরং সব দৃষ্টিগুলোকে আয়ত্ত্বাধীন রাখেন। বস্তুতঃ তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী ও সব বিষয়ে ওয়াকিবহাল।" [আন'আম, ৬/১০৩]

তিনি আমাদের সব ধারণা-কল্পনার উর্ধ্বে। তাঁকে আমাদের পরিচিত কোন কিছু দিয়ে তুলনা করতে গিয়েই ভুল করে কিছু মানুষ। "অথচ তিনিই তাদের সৃষ্টিকর্তা। আর না জেনে না বুঝে তারা তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা নির্দিষ্ট করে। তিনি তাঁর সম্পর্কে এরা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র।" [আন'আম, ৬/১০০] "আল্লাহ্‌ কাউকে তাঁর সন্তান বানাননি আর দ্বীতিয় কোন খোদাও তাঁর সাথে শরীক নেই। যদি তা-ই হতো তবে এরা প্রত্যেকেই নিজের সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং তারপর একে অন্যের উপর চড়াও হতো। মহান আল্লাহ পবিত্র এসব কথা থেকে যা এই লোকেরা তাঁর সম্পর্কে বলে।" (মু'মিনুন, ২৩/৯১)। "তোমার রব্ব, যিনি ইজ্জত-সম্মানের মালিক, পবিত্র সে সব বর্ণনা থেকে যা এরা তাঁর সম্পর্কে করে থাকে।" [আস-সাফফাত, ৩৭/১৮০]

তিনি মানুষের পরিচিত কোন কিছুর মত নন। তাঁর সত্ত্বা তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে আলাদা। আমরা তাঁর সত্ত্বা সম্পর্কে কোন ধারণা করতে পারিনা। লিঙ্গের ধারণা তাঁর সৃষ্টির জন্যই প্রযোজ্য, তাঁর জন্য নয়। আর তিনিই এই লিঙ্গভেদ সৃষ্টি করেছেন তাঁর সৃষ্টির মাঝে নিজের অসীম প্রজ্ঞা বলে। এজন্য তিনি তাঁর রসূলকে (সঃ) বলতে নির্দেশ দিচ্ছেন একথা বলার জন্য যে, "তোমাদের মাঝে যে ব্যাপারে মতভেদের সৃষ্টি হয়, তার ফয়সালা করা আল্লাহ্‌রই কাজ। সে আল্লাহ্‌ই আমার রব্ব, আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করছি। [তিনি] আকাশমন্ডল ও জ়মীন সৃষ্টিকারী; তিনি তোমাদের নিজস্ব প্রজাতির মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জুড়ি (স্ত্রী-পুরুষ) বানিয়েছেন এবং জন্তু-জানোয়ারের মাঝেও (তাদেরই নিজস্ব প্রজাতির) জুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন; আর এভাবেই তিনি তোমাদের বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার ঘটান। বিশ্বলোকের কোন কিছুতেই তাঁর সাযুজ্য নেই; আর তিনি সব কিছু শুনেন এবং দেখেন।" [আস-শূরা, ৪২/১০-১১]

এজন্য আল্লাহ্‌র জন্য আমাদের পরিচিত পরিমণ্ডলে সাযুজ্য খুঁজতে যাওয়া বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর লিঙ্গ তালাশ করাও এধরণের একটা বোকামী। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন "তাহলে আল্লাহ্‌ তাঁর জন্য পুরূষ-বাচক সর্বনাম ব্যবহার করলেন কেন?" পুরূষ-বাচক সর্বনাম ["He"ইংরেজীতে] ব্যবহার করলেই আল্লাহ্‌কে দুনিয়াবী পুরূষ লিঙ্গের সাথে তুলনা করে ভাবতে হবে এমন কোন কথা নেই। আরবী ভাষায় সব-কিছুর ক্ষেত্রেই স্ত্রী ও পুরূষ বাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়, এমনকি নির্জীব বস্তুগুলোর ক্ষেত্রেও। আমাদের লিখার খাতাকে স্ত্রী-বাচক সর্বনামে লিখা হয় বলে খাতারতো কোন লিঙ্গ থাকেনা। ওটা আরবী ভাষার বিশেষ ধরণ। বাংলা ভাষায় সর্বনাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন লিঙ্গই বুঝা যায়না, সেটা মানুষ হোক আর প্রানীই হোক অথবা ক্লীব বস্তু হোক। তাই বলে কি কোন মানুষের সম্পর্কে ঐ সর্বনাম ব্যবহার করা হলে তাকে আমরা লিঙ্গহীন বুঝবো? ইংরেজী ভাষায় মানুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়, কিন্তু প্রানী বা বস্তুর ক্ষেত্রে তা করা হয়না। এজন্য এগুলো হলো ভাষার প্রয়োগরীতি। এসব দিয়ে অহেতুক প্রশ্ন সৃষ্টি করার কোন মানে হয়না। প্রকৃত ব্যপার হলো "বিশ্বলোকের কোন কিছুতেই তাঁর সাযুজ্য নেই" [আস-শুরাঃ ১১]। "তাঁর সাথে তুলনা করার মত বা তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই।" [আল-ইখলাস, ১১২/৪]। রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন, "সৃষ্টির শারীরিক সত্ত্বা ও গুনাবলী সম্পর্কে তোমাদের যে ধারণা, মহান আল্লাহ্‌ তার চাইতে অনেক-অনেক উর্ধ্বে। এগুলোর কোন কিছুই আল্লাহ্‌ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা দেয়না।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753414 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753414 2007-12-23 19:24:41
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৬ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ৩ জুমু'আর দিনে দু'আ কবূল হওয়ার মুহুর্ত
.
.
.
.
আবূহুরায়রা আব্দুর রহ্‌মান ইবন সখর (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন, "জুমু'আর দিন এমন একটি মুহুর্ত আছে যখন কোন মুসলিম নামাজ়রত অবস্থায় ঐ সময়টি পায় আর আল্লাহ্‌র কাছে ভাল কিছু প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ্‌ তা'আলা তাকে তা না দিয়ে ছাড়েননা।" এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) হাত দিয়ে সময়টির খুবই স্বল্পস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত করলেন। [হাদীসটি ইমাম বুখারী এবং ইমাম মুসলিম উভয়েই সংকলন করেছেন। এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে ইমাম আল-মুনজ়িরীর সংকলিত মুখতাসার সহীহ্‌ মুসলিম থেকে - হাদীস নং ৪০১]

নোটঃ জুমু'আর দিনের ঐ বিশেষ মুহুর্তটি কারো কারো মতে জুমু'আর দুই খুতবার মাঝের সময়টি। সুতরাং এসময় দু'আ করা উচিত। অন্যদের মতে এটি জুমু'আর দিনের আসর এবং মাগরিবের মাঝের সময়।

বাংলাদেশে যারা এখন ঈদ করছেন তাদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা- ঈদ মুবারক। আমি ঈদ করেছি বুধবার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753016 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28753016 2007-12-21 09:11:45
ইসলামিক নাশীদের বাণিজ্যিকীকরণ ও নাজ়িল আযামী
নাজ়িল আযামী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন বৃটিশ নাশীদ শিল্পী। উপরের ইউটিউবের ভিডিও তাঁর এলবাম "দুনিয়া" থেকে নেয়া।
নাশীদ ইসলামী সঙ্গীতের পবিত্ররূপ। মোটামুটি বিতর্কমুক্ত এ রূপটি। সর্বস্তরের মুসলিমরা এটি সাধারণত আন্তরিকতার সাথেই উপভোগ করে থাকে। এর প্রথম বাণিজ্যিক সফল অভিযাত্রা শুরু মালয়েশিয়ান গ্রুপ "রাইহান" এর এলবাম "পুজি-পুজিয়ান" এর মাধ্যমে। তাদের এলবামটির প্রযোজনায় ছিল আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার মিউজ়িক। এরপর থেকে অনেক দেশেই অনেক গ্রুপ বাণিজ্যিকভাবে নাশীদের বিভিন্ন এলবাম বের করতে থাকে।
আজারবাইজানী বংশোদ্ভূত বৃটিশ গায়ক সামী ইউসূফ এতে নতুন মাত্রা যোগ করে। অবশ্য সামি'র নাশীদ মারাত্মকভাবে বিতর্কিত হয়ে পড়ে তার মাত্রাতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের কারণে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সামি এখন আর ইসলামী নাশীদ শিল্পী নন। তাঁর সঙ্গীতে এখন সব শ্রেণীর বাদ্যযন্ত্রের নির্বিচার ব্যবহার করা হয়।
আমাদের আলোচ্য নাজ়িল আযামী নতুন উঠতি ইসলামী নাশীদ শিল্পী। ইতোমধ্যে তিনি ইউরোপ ও আমেরিকাতে বেশ কয়েকটি কন্সার্টে নাশীদ গেয়ে বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। তাঁর এলবাম "দুনিয়া" তাঁর সফলতারই স্বাক্ষর বহন করে। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।
ব্যক্তিগতভাবে যে বিষয়টিকে আমি উদ্বেগের মনে করছি তা হলো অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁকেও সামি ইউসূফের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তিনিও মনে হয় ইসলামী নাশীদের নির্মল অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্রহীন রূপটাকে বিসর্জন দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফলতাকে প্রাধান্য দিয়ে বাদ্যযন্ত্রের বেশী ব্যবহার করছেন। এর ফলে যে সমস্ত মুসলিমরা বাদ্যযন্ত্রযুক্ত বিতর্কিত সঙ্গীত এড়িয়ে চলেন তাঁরা জনাব আযামীর নাশিদকেও এড়িয়ে যাবেন।
এটা অনস্বীকার্য যে বাণিজ্যিক সফলতা তাঁর প্রযোজকদের দরকার হবে বেশ। তবে বাদ্যযন্ত্রের পরিমিত ব্যবহার সম্পর্কেও তাঁকে সজাগ থাকতে হবে।
তাঁর "দুনিয়া" এলবামের নীচের বাংলা-ইংরেজী মিশানো গানটি বাদ্যযন্ত্র ছাড়া আরো ভাল হয়েছে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28750607 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28750607 2007-12-10 10:37:12
হাদীস পড়ি জীবন গড়ি - ১৫ / জুমু'আর দিন সংক্রান্ত - ২ (ইমাম মুস্লিম হাদীসটি সংকলন করেছেন - ইমাম মুনজ়িরীর মুখতাসার সহীহ মুসলিম থেকে এখানে সংগৃহীত। হাদীস নং- ৪০০)]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28749960 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28749960 2007-12-07 12:00:05 কুরআনের অত্যাশ্চর্য প্রভাব ও প্রাথমিক কুরআনিক প্রজন্ম - শেষ পর্ব "Amazing Impact of the Qur'an and Earlier Qur'anic Generation" আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার "কুরআন ও সুন্নাহ্‌ স্টাডিজ" বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বন্ধুবর ডঃ নূর মুহাম্মদ ওসমানীর লিখা। এখানে অনুবাদটি প্রকাশ করা হলো।
=======================
১ম পর্ব
২য় পর্ব
৩য় পর্ব

উপসংহার

কুরআনের এই প্রভাব শুধুমাত্র প্রাথমিক যুগের লোকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। কুরআন তার এই ভুমিকা আজো পালন করতে পারে। কোন অত্যাচারী শাসক যখন কোন মারাত্মক অবিচার করতে উদ্যত তখনও সে আল্লাহ্‌র ভয়ে কেঁপে উঠে যখন আল্লাহ্‌র এক নিবেদিতপ্রাণ বান্দা তাকে কুরআনের বাণী স্মরণ করিয়ে দেন। সে তাত্‌ক্ষণিকভাবে তওবাহ করে আল্লাহ্‌র কাছে ফিরে আসে। একজন ভারতীয় আলিম, কাজ়ী সাইয়্যিদ আলী মুহাম্মদ (মৃত্যু ১০৭০ হিঃ), একদা জানতে পারলেন যে, বিজাপুরের জনৈক আমীর তার বাড়ির পরিধি বড় করতে গিয়ে মসজিদের জায়গা দখল করে নিতে চাচ্ছিলেন। এলাকার লোকেরা ঐ স্বৈরাচারী আমীরের বিরুদ্ধে কিছুই বলার সাহস পাচ্ছিলনা। কাজ়ী সায়্যিদ আলী তার কাছে চিঠি লিখলেন এবং তাতে নীচের আয়াত উল্লেখ করলেনঃ “তার চেয়ে অধিক জ়ালিম আর কে হতে পারে যে আল্লাহ্‌র মসজিদে তার স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে? তাদের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে রয়েছে বেইজ়জ়তি এবং আখিরাতে রয়েছে ভীষণ শাস্তি” -বাকারাঃ ১১৪। ঐ স্বৈরাচারী আমীর লোকটি কুরআনের এই আয়াত শুনে কেঁপে উঠে এবং তাত্‌ক্ষণিকভাবে তার বাড়ির মাঝে মসজিদের জায়গা দখল করার পরিকল্পনা বাদ দেয়।

মুঘলদের সবচেয়ে বিখ্যাত শাসক ও দীন-ই-ইলাহী নামক আজব ধর্মের প্রবর্তক আকবর (১৫৪২-১৬০৫ খ্রীঃ) একবার প্রস্তাব করলেন যে তাঁর সীল-মোহরের মধ্যে “আল্লাহু আকবর” খোদাই করবেন। সব মোসাহেব মন্ত্রী ও দরবারীরা এই ধারণাকে স্বাগত জানান এবং তাত্‌ক্ষণিকভাবে এর প্রয়োগ দাবী করেন। কিন্তু আল্লাহ্‌র এক নিবেদিত প্রাণ বান্দা ও আলিম হাজী ইব্রাহীম বললেন, “এটা দিয়ে বুঝাবে আল্লাহ্‌ মহান অথবা আকবর হচ্ছেন আল্লাহ্‌। আপনি বরং খোদাই করুন, ‘ওয়ালা জ়িকরুল্লাহি আকবর’ - আল্লাহ্‌র স্মরণই হলো সবচেয়ে বড়।” আকবর এটা পসন্দ করলেন এবং বললেন, “এটাতো - মানে তার নিজের প্রস্তাব - একটা শাব্দিক সামঞ্জস্য মাত্র, কিন্তু আমরা তা বুঝাতে চাইনি।” এই আলিম জবাবে বললেন, “আল্লাহ্‌ এ ধরণের সামঞ্জস্য পসন্দ করেননা।”

কুরআন অতীতে বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করেছে, আর আজো কুরআন তার অলৌকিক ক্রিয়া সাধন করতে পারে এবং কিয়ামত পর্যন্ত পারবে। অতীতে কুরআন এক অনন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছিল। আজো সেই কুরআন আমাদের মাঝে সেভাবেই বিদ্যমান এবং এই কুরআন বর্তমানে ও ভবিষ্যতেও এই অনন্য প্রজন্মের জন্ম দিতে সক্ষম। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো মুসলমানরা বেশ কয়েক শতাব্দি আগেই এই কুরআনের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে।

এ কিতাব শুধু বরকত ও ফায়েজ় হাসিলের কিতাব নয়; বরং এটাতো পড়ার, অধ্যয়ন করার এবং বাস্তবে আমল করার কিতাব। কুরআন পড়তে হবে আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের জন্য যথার্থ ভক্তি ও ভালবাসা সহকারে। তাহাজ্জুদে এই কুরআনের তিলাওয়াত এখণো অলৌকিক ক্রিয়া সাধন করতে পারে। সে সময়ে আল্লাহ্‌র বান্দারা তার খুব কাছে থাকে এবং হৃদয় দিয়ে এর স্বাদ উপলব্ধি করে; তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হৃদয় শিহরিত হয়। তারা আল্লাহ্‌র স্মরণে নিয়োজিত হয়। তাদের জীবন নাফরমানী থেকে মুক্ত হয়ে খোদাভীতিতে পূর্ণ হয়। তাদের জীবন রঞ্জিত হয় আল্লাহ্‌র রঙে ও প্রকৃতিতে।

নীচের আয়াতগুলো মুমিনদের জীবনে কুরআনের প্রভাবের প্রতিফলন বর্ণনা করেছেঃ
“প্রকৃত ঈমানদার হচ্ছে তারা যাদের দিল আল্লাহ্‌র স্মরণকালে কেঁপে উঠে আর আল্লাহ্‌র আয়াত তাদের সামনে তিলাওয়াত করা হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর তারা আল্লাহ্‌র উপরই শুধু ভরসা করে।” [কুরআন, ৮/২]
“আল্লাহ্‌ই নাজ়িল করেছেন এক অতি উত্তম কালাম। এ এমন এক কিতাব যার সব অংশ সু-সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যাতে পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে একই কথার। এই কালাম শুনলে তাদের গায়ে শিহরণ জাগে যারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে, আর তাদের দেহ ও মন আল্লাহ্‌র ভয়ে কোমল হয় এবং তারা আল্লাহ্‌র স্মরণের দিকে ফিরে আসে।” [কুরআন, ৩৯/২৩]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28749084 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28749084 2007-12-03 08:41:35
জ়াকাত, সিডর ও আমাদের ঠুনকো আত্মসম্মানবোধ
কারা জ়াকাত পাবে তাও আল্লাহ্‌ তা'আলা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন (তাঁর কালামের তর্জমা)ঃ "নিশ্চয়ই জ়াকাত দরিদ্র ও অভাবীবের এবং জ়াকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য; এটা তাদের জন্যও যাদের মন জয় করা দরকার; তাদের জন্য যারা দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ ও ঋণগ্রস্ত; এছাড়াও আল্লার রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। এটাই আল্লাহ্‌র নির্ধারিত ব্যবস্থা। আর আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।" (কুর'আন, ৯/৬০)

জ়াকাত মানে কাউকে অনুগ্রহ দান করা বুঝায়না। বরং জ়াকাত গ্রহন করার মাধ্যমে গ্রহীতা সম্পদের অধিকারী মানুষটিকে অনুগ্রহ করেন। এজন্য যার জ়াকাত পাওয়ার হক আছে তাকে জ়াকাতের টাকার হকটা পৌঁছিয়ে দেয়াই মুসলমানদের কর্তব্য। কিন্তু ইসলামী জ়াকাত ব্যবস্থা আমাদের সমাজে প্রচলিত না থাকায় এ সম্পর্কে রয়েছে আমাদের মাঝে নানা ভুল ধারণা। আমাদের দেশের এক শ্রেণীর মানুষ জ়াকাত প্রদানের নামে লোক দেখানোর কিছু কাজ করে গরীব মানুষের ভোগান্তি বাড়ান। আর এতে করে জ়াকাত সম্পর্কেই তৈরী হয়েছে ভুল ধারণা। এছাড়াও ইসলাম সম্পর্কে জানার প্রতি উন্নাসিকতাও এজন্য দায়ী।

এসবের কারণে যখন ঘূর্ণিঝড় সিডরে আক্রান্তদের জন্য মুসলিম বিশ্ব থেকে জ়াকাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে তখন অজ্ঞতায় আক্রান্ত টনটনে বাঙালী আত্মস্মানবোধ জেগে উঠেছে কিছু লোকের। একজন পূরো ব্যাপারটাকে ব্যঙ্গ করে এই ব্লগে পোস্টও দিয়েছেন। এর সাথে সাথে একটা মুসলিম দেশের (১০০ মিলিয়ন ডলার) সাহায্যকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে, যদিও সে দেশটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অথচ এজন্য খূশী হওয়ার কথা ছিল আমাদের। কারণ এতদিনে সত্যিকারভাবে ইসলামের জ়াকাত ব্যবস্থা প্রয়োগ করা যাচ্ছিল বলে। জ়াকাতের কাপড় দেয়ার নাম করে লোক হাসানোর যে কাজ করা হয় তার পরিবর্তে জ়াকাতের সত্যিকার প্রয়োগ ঘটানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাকে অভিনন্দিত করা উচিত আমাদের।

অবশ্য যাদের কাছে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ রয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা ব্যঙ্গ ছাড়া আর কিছুই আশা করতে পারিনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28748445 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28748445 2007-11-30 00:28:33
গুরাবা – নস্টস্রোতের বিপরীতে চলে অভ্যস্ত আজিব মানুষ তাঁরা(পর্ব-১)
নষ্ট স্রোতের সয়লাভে যখন দীনের মাঝে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তখন এই গুরাবারা স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের ঝাণ্ডা উঁচুতে তুলে ধরে রাখে। নষ্ট স্রোত এমনই প্রভাবশালী যে মানুষ তাকেই মনে করে মূলধারা। আব্দুল্লাহ্‌ ইবন মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, “তোমাদের কি হবে যখন ফিতনা (বিপর্যয়) তোমাদের ঘিরে ধরবে – এমনকি ফিতনার মাঝেই তোমাদের বড়রা বৃদ্ধ হবে, ছোটরা বড় হবে এবং লোকেরা এই ফিতনাগুলোকে মনে করবে সুন্নাহ্‌। আর যখন ফিতনাগুলোকে পরিবর্তন করা হবে তখন লোকেরা বলবে সুন্নাতকে পরিবর্তন করা হলো‏।” [সুনান আদ-দারিমী] নস্টস্রোতের ধারক-বাহকগণ তাদের প্রভাব এবং প্রতিপত্তি দিয়ে সত্যকে ধুমায়িত করে রাখে। মানুষ তখন মনে করতে থাকে ওটাই মূলধারা। আর যারা সত্যের অনুসারী তারা হয়ে পড়ে আশ্চর্য প্রজাতির। তাদের আচরণগুলোকেই মনে হয় ডিভিয়েন্ট।

এরা যখন হকের দিকে দাও‘আত দেন তখন বিপর্যয় পন্থীরা বলতে থেকে এগুলোতো নতুন কথা। আমরা আমাদের পূর্বপুরূষদের এরকম বলতে শুনিনি। তারা দীন হিসেবে পালন করে নিজেদের বাপ-দাদার রসম-রেওয়াজ়কে। একে তারা ছাড়তে চায়না। আল্লাহ্‌ [সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা] বলেন (তর্জমা), “তাদেরকে যখন এই বলে আহ্বান করা হয় যে, ‘এসো আল্লাহ্‌ যা নাজ়িল করেছেন সেদিকে এবং রসূলের দিকে’, তারা বলে ‘আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যা আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের কাছে পেয়েছি’ যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতনা এবং সত্‌পথ প্রাপ্তও ছিলোনা।” [কুরআন, ৫/১০৪]

কিন্তু হকপন্থী গুরাবারা নষ্ট স্রোতের সাথে চলতে অভ্যস্থ নন। তারা স্রোতের গতিকে ঘুরিয়ে দিতে চান তার সোজা সরল পথে। এদেরই একজন সেজন্য বলেছিলেন, “এ বিধান [ইসলাম] ভীরু কাপুরূষের জন্য অবতীর্ণ হয়নি; নফসের দাস ও দুনিয়ার গোলামদের জন্য নাজ়িল হয়নি; বাতাসের বেগে উড়ে চলা খড়-কুটো, পানির স্রোতে ভেসে চলা কীট-পতঙ্গ এবং প্রতি রঙ্গে রঙ্গীন হওয়া রঙ্গীনদের জন্য একে অবতীর্ণ করা হয়নি। এ এমন দুঃসাহসী নর-শার্দুলদের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যারা বাতাসের গতি বদলে দেবার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে; যারা নদীর তরঙ্গের সাথে লড়তে এবং তার স্রোতধারা ঘুরিয়ে দেবার মতো সত্‌সাহস রাখে। যারা খোদার রঙকে দুনিয়ার সব রঙের চাইতে বেশী ভালবাসে এবং সে রঙ্গেই যারা গোটা দুনিয়াকে রাঙ্গিয়ে তুলবার দৃঢ় আগ্রহ পোষণ করে। যে ব্যক্তি মুসলমান তাকে নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার জন্য পয়দা করা হয়নি। তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যই হলো জীবন নদীকে তার ঈমান ও প্রত্যয় নির্দেশিত সোজা ও সরল পথে চালিত করা। যদি সেই সোজা পথ থেকে নদী তার স্রোত ফিরিয়ে নেয়, আর সেই পরিবর্তিত স্রোতধারায়ই কেউ ভেসে চলতে সম্মত হয়, তো এমন ব্যক্তির ইসলামের দাবী একেবারেই মিথ্যা। বস্তুত যে ব্যক্তি সাচ্চা মুসলমান, সে এই ভ্রান্তমূখী স্রোতের সাথে লড়াই করবে, তার গতি ঘুরিয়ে দেবার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করবে – সাফল্য ও ব্যর্থতার কোন পরোয়াই সে করবেনা। এ লড়াইয়ের যে কোন সম্ভাব্য ক্ষতিই সে বরণ করে নেবে। এমনকি নদীর স্রোতের সাথে লড়াই করতে করতে তার বাহু যদি ভেঙ্গেও যায়, কিংবা শক্তি শিথিল হয়ে পড়ে এবং পানির তরঙ্গাঘাত তাকে আধমরা করে কোন তীরের দিকে ছুঁড়ে ফেলেও দেয়, তবুও তার আত্মা কখনো পরাজয় বরণ করবেনা। তার হৃদয়ে এই বাহ্যিক ব্যর্থতার জন্য এক মুহুর্তের তরেও কোন অনুতাপ জাগবেনা, কিংবা নদীর স্রোতে ভেসে চলা কাফির ও মুনাফিকদের সাফল্যের জন্য ঈর্ষার ভাবধারা প্রশ্রয় পাবেনা।” [সাইয়েদ আবুল ‘আলা আল-মওদূদী, ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব (৫ম সংস্করণ, ১৯৯৩), পৃঃ ২০৩-২০৪, শতদল প্রকাশনী, ঢাকা।]

মানবেতিহাসের সর্বপর্যায়ে এ গুরাবারা সক্রিয় ছিলেন। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সাহসী সংগ্রামে কখনো পিছপা হননি এরা, যদিও বাহ্যিকভাবে এদের অনেককেই অসত্যের সৈনিকরা দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, কিন্তু তাদের আত্মা কখনো পরাজয় বরণ করেনি। আল্লাহ্‌ তা‘আলা তার কিতাবে এদের সম্পর্কে বলেছেন, “এমন কত নবী ছিলেন যাদের সাথী হয়ে অসংখ্য আল্লাহগত প্রাণ [অসত্যের বিরুদ্ধে] লড়াই করেছেন। আল্লাহ্‌র পথে যে মুসীবতের মুখোমুখি তাঁরা হয়েছিলেন তা তাঁদের ভগ্নহৃদয় করতে পারেনি, তাঁদেরকে দমিয়ে দেয়া যায়নি, আর তাঁরা তাঁদের সংগ্রাম ছেড়েও দেননি। আর আল্লাহ্‌তো তাদেরকে ভালবাসেন যারা তার পথে দৃঢ় ও অবিচল থাকেন। তাঁরাতো শুধু বলেছেনঃ আমাদের প্রভূ আমাদের গুনাহগুলো মাফ করো আর আমাদের আচরণের বাড়াবাড়িগুলোও; আমাদের কদমগুলোকে মজবুত করে দাও, আর সত্য অস্বীকারকারীদের মুকাবিলায় আমাদের তুমি সাহায্য করো।” [কুরআন, ৩/১৪৬-১৪৭]

চলবে, ইনশা'আল্লাহ্‌ .........

নীচের ভিডিওটা দেখুন গুরাবা সম্পর্কেঃ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28744513 http://www.somewhereinblog.net/blog/abusamihahblog/28744513 2007-11-11 01:33:55