আজকের পত্রিকায় সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন বিশ্ববেহায়া এরশাদকে নিয়ে জোট করা নীতিহীন। এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ তৈরি করা হলেও দেশের মানুষের মৌলিক সংকট নিরসনে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। ... (বিস্তারিত)
বিপরীত আদর্শের হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের যে কজন রাজনীতিবিদ বিপক্ষদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্ররূপে বিবেচিত মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁদের অন্যতম। তাঁর উপরের লেখা পড়ার পরে আমার এ পোস্টের অবতারনা।
১৯৮৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে সর্বদলীয় ঘোষণা ছিল - সব রাজনৈতিক দল (আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত, ...) নির্বাচন বর্জন করবে। কিন্তু শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ রাতের আঁধারে স্বৈরাচার এরশাদের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এর ফলে শেখ হাসিনার দুটি লাভ হয়েছে - এক. তিন কোটি টাকা ক্যাশ এবং দুই. 'জাতীয় বেঈমান' টাইটেল।
প্রথমটির কারণে, পরবর্তীতে ২০০৬ সালে বিএনপি-আওয়ামীলীগের মধ্যে এরশাদকে নিয়ে টানাটানি চললে ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে জাতীয় পার্টি হাসিনার মহাজোটে যোগ দেয়। সাথে এও চুক্তি হয় যে মহাজোট ক্ষমতায় গেলে কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এখন এরশাদের সাথে আওয়ামীলীগের এই নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
আর দ্বিতীয়টির কারণে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা কালে (১৯৯৬-২০০১) দেশের টাকা খরচ করে অত্যধিক বিদেশ সফর করে টাকার বিনিময়ে বেশ কয়েকটি সন্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর ধারণা, এই ডিগ্রীগুলো কিছুটা হলেও তাঁর ৮৬র টাইটেল পরিবর্তন করবে!
যা হক, ১৯৮৬ সালে হাসিনা-এরশাদ আঁতাতের ফলে একনায়কতন্ত্র-স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্র উত্তরণ দেরী হয়ে যায়। ৮৬র নির্বাচন কিছুটা হলেও বৈধতা পায়। অথচ পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে (১৯৮৮) আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামায়াত একযোগে স্বৈরাচার পতন আন্দোলন শুরু করে, এরশাদের দ্রুত পতন হয় (১৯৯০)। অনেকের মতে ৮৬ সালে হাসিনা বেঈমানি না করলে ৯০ সালটি আরও আগে আসত!
রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের মতে, হাসিনার সাথে এরশাদের সাম্প্রতিক মিল-মহব্বত হয়তো মহাজোটকে কৌশলে ক্ষমতায় নিয়ে যাবে। তবে এর ফলে মূলত গণতন্ত্র উত্তোরণ বিলম্বিত হবে। প্রথমত, মহাজোট বর্তমান সরকারের সাথে প্রকাশ্য আঁতাতের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাবে। চুক্তিটি হচ্ছে, ক্ষমতায় গিয়ে মহাজোট বর্তমান সরকারের সকল অসাংবিধানিক কাজের বৈধতা দেবে, আর বর্তমান সরকার নিজেদের পিঠ রক্ষার্থেই আওয়ামীলীগের নির্বাচনে জেতার ফিল্ড তৈরী করছে। অভিযোগ আছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যেই মহাজোটের হয়ে ২৯শে ডিসেম্বরের খেলার মঞ্চ সাজাচ্ছে। তার মানে হচ্ছে, নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত চাহিদা প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এরশাদ প্রেসিডেন্ট হলে এই কূটকৌশলী স্বৈরাচার আবারো ক্রমান্বয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। এমন হলে, দেশ আবারো সেই কালো পথে হাঁটতে শুরু করবে। ফলে, আবারো আওয়ামীলীগকে বিপদে ফেলে এরশাদ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে নিজের স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করার সুযোগ পাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



