ইতোমধ্যে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। একটি দল তাদের নৌকা প্রতীককে নূহ নবী (আঃ)-এর নৌকার সাথে তুলনা করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নূহ (আঃ)-এর নৌকা ছিল আল্লাহর দীনের পক্ষে; সত্যের পক্ষে; আর এদেরটা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষবাদের পক্ষে। নূহের নৌকা ও হাসিনার নৌকার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে দলটির নিম্নোক্ত কার্যকলাপের উল্লেখ প্রয়োজন।
১. সন্ত্রাস লালনে অগ্রদূতঃ
২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। এই দলের সভানেত্রী পল্টন ময়দানের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের ২৮ অক্টোবরের সমাবেশে লাঠি-লগি-বৈঠা নিয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মতো লাঠি-লগি-বৈঠা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা উপস্থিত হন পল্টনে। ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিপক্ষের নীরিহ নেতাকর্মীদের উপর। বর্বর ও পৈশাচিক কায়দায় এদের ছয়ছয়জনকে হত্যা করেন। তারা রাজনৈতিক জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে লাশের উপর নেচে নেচে উল্লাস করেন।
২. মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাতকঃ
তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বলে দাবী করলেও ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদারসহ স্বাধীনতার সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিশ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন।
৩. গণতন্ত্রের হত্যাকারী:
আধিপত্যবাদের দোসর এই দল এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও সরকার বিরোধী সকল পত্রিকার কণ্ঠরোধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে।
৪. যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা ঘোষণাঃ
তারাই ১৯১ জন পাকিস্তানী আর্মীর চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীসহ ৯১৫৪৯ জন পাকিস্তানী সৈনিককে কোন বিচার না করে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে জামাই আদরের মাধ্যমে তাদেরকে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এরাই এখন আবার তাদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এদেশের কিছু নেতাকে যুদ্ধাপরাধী বলে সাজা দেয়ার আবদার করে যাচ্ছেন।
৫. স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিঃ
এই দলটিই ভারতের সাথে ২৫ সাল গোলামী চুক্তির মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শান্তিচুক্তির নামে এদেশের সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দিয়েছে। ভারতে আশ্রিত বঙ্গভূমি আন্দোলনের নেতা চিত্তসূতার ও কালিনাথ বৈদ্য তাদের দলেরই লোক।
৬. দেশকে শিল্পশূন্য করার ব্যবস্থাপকঃ
১৯৭১ সালে ভারতীয় বাহিনী এদেশের বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার যন্ত্রাংশ খুলে নেয়সহ প্রায় ষাট হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটে নিয়ে গেলেও তাদের বাধা দেয়ার শক্তি এই দলের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর হাতে থাকলেও, তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি, বাধা দেয়নি।
৭. একটির বদলে দশটি লাশ ফেলার নির্দেশ দানকারীঃ
এই দলেরই সভানেত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই ২০০১ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলার জন্য উস্কানী দিয়েছিলেন। যার অনিবার্য পরিণতিতে ২০০০-২০০১ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় এই দলকর্তৃক অনেক লোকই নৃশংস হত্যার বলি হয়।
৮. বিচারকদের হুমকিদাতাঃ
এই দলেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জনাব মুহাম্মদ নাসীম। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবিতে আদালতের বিচারকদের হুমকি দেয়ার উদ্দ্যেশ্যে দলের লোকজন নিয়ে লাঠি মিছিল করেন। এই দলেরই আইনজীবীগণ হাইকোর্টের আদালত ভাঙচুর করে এদেশের বিচার বিভাগের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করেন।
৯. পবিত্র সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনকারীঃ
এদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কুফরী মতবাদ সেক্যুলারিজমকে তাদের দলের গঠনতন্ত্রে আজও স্থান দিয়ে রেখেছেন এ দলের নেতানেত্রীগণ।
১০. নারীজাতির সম্মান ভূলুণ্ঠনে অগ্রগামীঃ
ছাত্রলীগের এক নেতা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করে যে কলঙ্কিত ইতিহাস গড়েছে তা নারীর সম্ভ্রম ভূলুণ্ঠনের ক্ষেত্রে শয়তানকেও হার মানিয়েছে।
১১. স্বৈরাচারীঃ
১৯৯৬ সালে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে দলটি ক্ষমতায় আসে। স্বৈরাচারীরূপে আত্মপ্রকাশ করে অল্পদিনের মধ্যেই। গড়ে তোলে গড-ফাদারদের তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমানের ক্যাডারদের নৃশংস অত্যাচার আজও জাতির কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে বিরাজ করেছে। এই দলেরই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে গণভবনকে নিজের স্থায়ী বাসভবন হিসেবে বরাদ্দ নেয়। বিরোধী দলের হরতাল বানচালের জন্য এই দলেল পক্ষ থেকেই সশস্ত্র জঙ্গি-মিছিল বের করা হয়। এককালের স্বৈরাচারী শাসক এরশাদ সাহেব এখন তাদেরই সহযাত্রী।
১২. ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানঃ
এ দলটি ক্ষমতায় গিয়ে মৌলবাদীদের আখড়ার অভিযোগ তুলে অসংখ্য মাদরাসা ব করে দেয়। এরা কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে টুপিকে ব্যঙ্গ করতেও দ্বিধা করেনি। বায়তুল মোকাররমকে মুসুল্লিদের রক্তে এরা রঞ্জিত করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর চলে আসা চট্টগ্রামের তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ব করে দিলে প্রতিবাদ মিছিল সংঘটিত হয়। এই মিছিল থেকে প্রায় ষাট জন মুসুল্লীকে এই দলেরই সরকার কারারুদ্ধ করেন।
১৩. সত্যের অপলাপে অভ্যস্তঃ
এই দলেরই ঘোষণা ছিল “বিরোধী দলে গেলে কখনো আর হরতাল করব না। পরবর্তীতে বিরোধী দলে গিয়ে অসহযোগ, অবরোধ ও হরতাল করে দেশের সত্তর হাজার কোটি টাকা ধ্বংস করেছিল এই দলটিই। ১৯৮৮ সালে ফারাক্কার প্রভাবে বন্যায় যখন জাতির নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন এই দলই জাজ্জ্বল্য মিথ্যার প্রশ্রয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছিল, ফারাক্কার কারণেই বন্যা হয়েছে বলে যারা বিশ্বাস করে তারা মূর্খ, তাদের ভূগোল জ্ঞান নেই।
১৪. ভারত তোষণে সিদ্ধহস্তঃ
এ দলের পররাষ্ট্র নীতিই ছিল ভারত তোষণ করা। ভারত তালপট্টি দখল করলেও তারা টু শব্দটি করেনি। ভারতে মুসলিম নিধনের মহড়া চললেও তারা নিশ্চুপ থাকে। ভারতকে গঙ্গার পানি ব্যবহারে অসম অধিকারভোগের চুক্তি করে তারা দেশকে মরুভূমি বানানোর ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশ যাতে ভারতের একচেটিয়া বাজারে পরিণত হয় তারও ব্যবস্থা করতে পিছপাও হয়নি এই দলের সরকার। এরা বারবার ভারতে গিয়ে এদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের কাল্পনিক কাহিনী তুলে ধরে দেশের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


