somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ: স্বাধীনতার প্রতীকের অবমাননা

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা-১:
২০০২ সালের কোন এক দিন। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়। প্রিয় ফুটবল দলের পতাকার পাশাপাশি প্রিয় ক্রিকেট দলের পতাকাও অনেকে লাগিয়েছে। কেউবা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকার সাথে ভারত বা পাকিস্তানের পতাকাও লাগিয়েছে। বিশ্বকাপের আসর শেষে অনেকে সে পতাকাগুলো খুলতে ভুলে গিয়েছে অথবা ইচ্ছা করেই খোলেনি। যেমন, ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বলে ব্রাজিলের পতাকার সাথে পাকিস্তানের পতাকাও আর নামানো হয়নি। কেউবা ব্রাজিলের পতাকার সাথে ভারতের পতাকা উড়তে রেখে দিয়েছে।

একদিন ঢাকার প্রথম সারির এক দৈনিকে বড় করে দেশবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে পাকিস্তানের পতাকা উড়ানোর অভিযোগে লেখা আসে। পত্রিকাটি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির! সারা দেশে মানুষের মাঝে বিরূপ ভাব দেখা দিল - যেহেতু বিএনপি স্বাধীনতার বিরুদ্ধদের নিয়ে ক্ষমতায় আসিন। সরকার পূলিশ দিয়ে তাড়াতাড়ি পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ও সম্ভবত: পতাকা উত্তোলনকারীকে গ্রেফতার করে পরিস্হিতি শান্ত করে। উল্লেখ্য, এমন একটি লেখা ভারত, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে পত্রিকাটিতে আসেনি।

ঘটনা-২:
২০০২ সাল। এক বন্ধু সিঙ্গাপুরে পড়তে গিয়ে বাংলাদেশীদের একটি গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রোগ্রামে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বিশেষ করে বিশ্বাবিদ্যালয়ের সকল বাংলাদেশী শিক্ষক-ছাত্র পরিবারসহ উপস্হিত। খাওয়া-দাওয়া শেষে বসল গানের আসর। সবশেষ গানটি ছিল 'আমার সোনার বাংলা ...' - বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। সবাই দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বন্ধুটি রবীন্দ্রবিদ্বেষী হওয়ায় বা গানটির প্রতি বিরূপভাব থাকায় দাঁড়ায়নি।

ঘটনার পরপরই যখন বাসায় ফিরল, সাথে সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ডের এক ইন্জিনিয়ার (যারা সে সময় পিএইচডি করছিলেন) বন্ধুটিকে ইচ্ছামতো মোখিক ধোলাই দিলেন। এমনকি, বাংলাদেশের পাসপোর্ট পরিবর্তন করে ফেলার নির্দেশ দিলেন। বেচারা বন্ধুটি সিঙ্গাপুরে নতুন ও বয়সে জুনিয়র হওয়ায় চুপ করে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না!

ঘটনা-৩:
২০০৬ সালের শেষ ভাগের ঘটনা। সরকার পতনের আন্দোলন ও তত্বাবধাক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিএনপি পন্হি বিচারপতি কেএম হাসান কে নিয়োগ না দেয়ার জন্য আন্দোলন তুঙ্গে। সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে আবারো স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলের আইনজীবী পরিষদের শক্ত অবস্হান। তাঁরা ছোট-খাট অভিযোগে লন্কাকান্ড ঘটিয়ে বিচারাঙ্গন ও সরকারকে বিপদে ফেলতে মরিয়া। উদ্দেশ্য, যেনতেন ভাবে সরকারকে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করা।

একদিন পত্রিকায় দেখলাম এদের হাতে সুপ্রীম কোর্টে ব্যাপক ভাঙ্চুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষ দলের আইনজীবীরা জাতীয় পতাকাসহ অনেককিছু যোগাড় করে অগ্নিসংযোগ করেছে। দেশপ্রেমিক প্রতিটি পত্রিকায় স্বাধীনতার প্রতীক এই পতাকা পোড়ানোর ছবি আসলেও 'ঘটনা-১' এর সংবাদ পরিবেশনকারী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সেই প্রথম সারির দৈনিকটি এবারে চুপচাপ। এমনকি, ঘটনার পরে ড: কামাল, ব্যারিস্টার শফিক (বর্তমান মন্ত্রী) ও ব্যরিস্টার আমীরুজ্জামান সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির দলভূক্ত অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হলে সেই পত্রিকাটি তাদের বাঁচাতে নিয়মিত সংবাদ ও ফিচার লিখে। এভাবে তারা শুধু সরকার ও আইনের বিরুদ্ধে যায়নি, বরং এদেশের সাধারণ মানুষ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে।

ঘটনা-৪:
২৫শে মে ২০০৯। জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে দু'টুকরো করে অভিনব কায়দায় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দেলর ছবি সংবিলত বোর্ড উম্মোচন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গত ২৬শে মে দৈনিক আমারদেশে এনিয়ে ফিচার এলেও দেশের বেশিরভাগ পত্রিকা ও বিশেষ করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রথসারীর সেই পত্রিকাটি এবারও নীরব। এমনকি, মিডিয়া মারফত দেশের জনগন জানলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দু:খ প্রকাশ করেন নি।(দেখুন আমারদেশের দুটি সংবাদ: এক-২৬/০৫/২০০৯ এবং দুই-২৭/০৫/২০০৯)।


দেশের মানুষের প্রশ্ন, উপরের ১ম ও ২য় ঘটনা দু'টি (যদিও পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনকারীর রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি, তথাপি বলা যায় ইচ্ছাকৃত ভাবে করলে যেই করুক না কেন এটা একটি অপরাধ) নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের পত্রিকা ও মানুষের যত হাঁকডাক শোনা গেল, ৩য় ও ৪র্থ ঘটনা দু'টি নিয়ে তারা একে বারে চুপচাপ কেন? নাকি পরের ঘটনা দুটি স্বাধীনতার স্বপক্ষশক্তির আইনজীবী ও মন্ত্রীরা করেছেন বলে সেগুলো জায়েজ হয়ে গেল? প্রথম দুটি ঘটনার চেয়ে কি পরের দুটি বেশি মারাত্মক নয়? আর পরের দুটি ঘটনার কর্তারা কি দলীয়ভাবে কাজগুলো করেননি?

পাঠক, বিপরীতভাবে ঘটনাগুলো স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তির হাতে হলে কি হতো! (উদাহরণ, জামাত-শিবির ধর্মীয় কারণে স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে ফুল দেয় না - এজন্য এদেরকে অভিযোগ করা হয়। কারণ, এর মাধ্যমে তারা স্বাধীনতাকে হেয় করে বলে প্রতীয়মান হয় বলে অনেকের বিশ্বাস।) তার মানে, একই ধরণের অপরাধের কর্তা পরিবর্তন হলেই কি জায়েজ-নাজায়েজ নির্ধারিত হয়ে যায়? কিন্তু একটি সুস্হ সমাজের জন্য দরকার - জায়েজ কাজ সবার জন্য জায়েজ, আর নাজায়েজ কাজ সবার জন্য নাজায়েজ। একই অপরাধের কেউ শাস্তি পাবে, কেউ মাপ পাবে এমনটি যেন না হয়। আইন সাবর জন্য সমান।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×