সমালোচকরা বলছেন, এর একটি কারণ হতে পারে সোহেল তাজ যে মাস্টার্স ডিগ্রীর তথ্য দিয়ে এমপি-মণ্ত্রী হয়েছেন, সে ডিগ্রীটি আসলে জাল। তাঁর আদৌ এমন কোন ডিগ্রী নেই।
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমণ্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গর্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আর্টসে Political Science and International Relations বিষয়ে ডিগ্রীধারী। কিন্তু গুগলে 'Gordon University USA' সার্চ দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পাওয়া যায় না। এরপরও সমালোচকরা যে সাইটটি আবিষ্কার করেছেন, তা হল http://www.gordonu.com/। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ঠিকানায় .edu না হয়ে .com হওয়াটা বিস্ময়কর বৈকি! ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে দেখলাম এটা টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট সর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশসহ থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোতে এরকম প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মতো। অনেকটা ঢাকার কোচিং সেন্টারগুলোর মতো, যারা টাকার বিনিময়ে 'শিক্ষা' বিক্রি করে।
Gordon University এর দুটি শাখা আছে যুক্তরাষ্ট্রের Florida ও যুক্তরাজ্যের Gwynedd তে। যে পাঁচটি Faculty আছে সেখানে Arts আছে, কিন্তু Arts Faculty তে Political Science and International Relations নামের কোন ডিপার্টমেন্ট নাই। অন্য চারটি Faculty তেও এই বিষয়ের উপর কোন মাস্টার্স তো দূরের কথা ব্যাচেলর ডিগ্রীও নেই। তার মানে Political Science and International Relations বিষয়টির অস্তিত্বও Gordon এ নেই।
এমতাবস্হায় বলা যায় সমালোচকদের কথায় সঠিক। সোহেল তাজ মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়ে এমপি-মণ্ত্রী হয়েছেন, সে ডিগ্রীটি আসলে জাল। তাঁর আদৌ এমন কোন ডিগ্রী নেই।
মজার বিষয় হচ্ছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মিডিয়া সোহেল তাজের জাল ডিগ্রীর বিষয়টি open secret হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করছে না। এর বিপরীতে বিএনপিপন্হী বিচারপতি ফয়জুরের এলএলবি সনদ নিয়ে যে শোরগোল এরা করেছে তা দেশের মানুষ জানে। পরিশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সে সনদ সঠিক বলে জানা যায়।
পাঠকদের জ্ঞাতার্থে, সোহেল তাজের পিতা তাজউদ্দীন আহমেদ শেখ মুজিবের মণ্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং চাচা শেখ হাসিনা সরকারের (৯৬-০১) মণ্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

