somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রাষ্ট্রপতির 'রাজনৈতিক ক্ষমা'
আজ অনেকদিন পরে, পত্রিকার একটি খবর পড়ে আইজদ্দীনের মতোই খারাপ লাগছে। কষ্ট কষ্টই, তবে কারণ ভিন্ন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন প্রমাণিত খুনিকে ক্ষমা করলেন নিজের ক্ষমতা বলে। ভিক্টিম ও অপরাধী যে দলেরই হউক, কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া, রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা প্রয়োগ শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় এটা স্পষ্ট। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিজদলের লোকদের হাজার-হাজার মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিতে যত উতসাহী, বিরোধীদলের লোকদের বিনা দোষে ও তুচ্ছকারণে জেলে পুরতে ও শাস্তি দিতে ততখানি উতসাহী।

সারাদেশে প্রেমের ফাঁদ পেতে বা ক্ষমতার বলে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে একের পর এক। এসবের সিংহভাগই সরকার দলীয় শিক্ষক (ভিকারুন্নিসার শিক্ষক পরিমল, মহাম্মদপুরের প্রধান শিক্ষক ভজন কুমার)। অনেক সময় মোবাইলে ধারণকৃত ছবি-ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল ও ব্যবসা করা হচ্ছে। এটি এখন ভায়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিস্তারিত দেখুন

এছাড়া ধর্মীয় ব্যাপারে সরকার দলীয় লোকদের বেপরোয়া কথাবার্তাও চলছে অহরহ। এর একটি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার শিক্ষক ক্লাসে মুহাম্মদ সা: কে ছাগল বলে অবহিত করেন

প্রশ্ন হচ্ছে, ভিক্টিম বা তাঁর পরিবারের কেউ ক্ষমা না করলে রাষ্ট্রপতি কিভাবে ক্ষমা করতে পারেন? ভিক্টিম বা তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েই কেবল শাস্তি থেকে অপরাধী বাঁচতে পারেন। না হলে শেষ বিচারের দিনে রাষ্ট্রপতি ও এই অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় কি জবাব দেবেন? রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা ও মামলা থেকে অব্যাহতি কি অপরাধীদের উতসাহী করবে না? দেশে আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?

আজ এট কষ্ট হচ্ছে বুঝাতে পারছি না। ইচ্ছে করছে ঢাকার সকল রাজপথে লিখে দিই: "রাষ্ট্রপতির 'রাজনৈতিক ক্ষমা'র ক্ষমা নাই"।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29416323 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29416323 2011-07-20 06:59:37
মতিউর গোয়েন্দা নজরদারিতে - ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত বিস্তারিত পড়ুন

ঘটনার সত্যতা অবশ্যই প্রমাণ সাপেক্ষ। তবে মতিউরের বিরূদ্ধে এমন অভিযোগ প্রথমআলো ও মতিউরের ভক্তদের নিশ্চয় নাখোশ করবে! আমি এহেন ভক্তদের অনুরোধ করবো, দেশের স্বার্থে এসব বিদেশী এজেন্টদের কার্যকলাপ চোখ-কান খোলা রেখে প্রত্যক্ষ করতে।

ঘটনা সত্য হলে সুশীল সমাজের দাবীদার এসব নাগরিকের মূখোশ খুলে যাবে। এর আগে উদিচী হামলার সন্দেহভাজন হাসান ইমাম ও রামেন্দু মজুমদার ঘটনার পরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন অনেক দিন। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে তারা ফিরে আসেন। এদের দুজনকে 'র' এর এজেন্ট হিসেবে সন্দেহ করা হয়।

উপরের ঘটনাগুলো সত্য হলে, প্রমানিত হবে 'র' ও আইএসআই তাদের নিজস্ব এসাইনমেন্ট বাস্তবায়িত করতে বাংলাদেশের এলিট শ্রেণীর এসব নাট্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে। এরাও বিশেষ আদর্শের ধারক-বাহক হওয়ার কারনে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ওদের তল্পবাহক হয়ে আত্নতুষ্টি লাভ করেন।

...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29324234 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29324234 2011-02-11 05:42:34
বিজয়ের মাসে ভারতের পাদুয়া বিজয়! সীমান্তে অব্যাহত ভারতীয় আগ্রাসন ও দেশপ্রেমিক মিডিয়াগুলোর ভূমিকা
খবরটি হলো, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ভারতের ৩ শতাধিক বিএসএফ ২ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পাদুয়ার ৫০০ মিটার ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং পাদুয়ার প্রায় ২৩০ একর জমি নিজেদের দখলে নিয়ে যায়। বিডিআর মাইক দিয়ে এর মৌখিক প্রতিবাদ করলেও শত্রুপক্ষ সরে যায়নি। বিস্তারিত দেখুন

বাংলাদেশের জন্য গতকাল ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, আর আগামীকাল বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনগুলো জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। কিন্তু বিজয়ের প্রায় ৪০ বছরের মাথায় এখন চিন্তা হচ্ছে আমরা কি এখনো সত্যিকার স্বাধীন ও দেশপ্রেমিক হতে পেরেছি?

দেশকে মায়ের মতো ভালবাসার শ্লোগান দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করলেও প্রতিদিন বিএসএফের গুলিতে মায়ের স্বাধীন (!) সন্তানগুলো সীমান্তে জীবন দিচ্ছে - এর প্রতিকারের জন্য কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের সংখ্যাগরিষ্ট ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়া। সীমান্তের লাখ লাখ স্বাধীন বাংলাদেশীরা মূলত ভারতের হাতে পরাধীন। হিউমান রাইটচ ওয়াচের মতে গত ১০ বছরে বিএসএফ সীমান্তে ৯০০ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে (গতকালের পত্রিকা দেখুন)। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি দেশের অধিকাংশ দেশপ্রেমিক ও নিরপেক্ষে (!) মিডিয়াতে মূল খবর হিসেবে আসেনি।

আমাদের বর্তমান সরকার অতিরিক্ত ভারতপন্হী ও ভারতনির্ভর হওয়ায় পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত দূর্বল। প্রথম প্রথম সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-এমপিরা ট্রানজিট ও ট্রান্শিপমেন্টের মাধ্যমে দেশের জন্য কোটি কোটি টাকার রেভেনিউ অর্জনের ফাঁকা বুলি আওড়ালেও সম্প্রতি শুল্ক ছাড়ায় ভারতকে নৌ ট্রানজিট দেয়ার একটি মহড়া দেখেছি।

গতকাল বিকাল ৫টার পরে ভারত কর্তৃক পাদুয়া দখলের খবর ঘটনার ২০ ঘন্টারও বেশি পরে দেশপ্রেমিক মিডিয়ার পাতায় দেখা যায় না। বিদেশে থাকায় জানিনা দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই ঘটনা কিভাবে প্রচার করছে।

এর উপর পাঠকদের সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29289929 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29289929 2010-12-15 06:42:23
বিজয়ের মাসে ভারতের পাদুয়া বিজয়! সীমান্তে অব্যাহত ভারতীয় আগ্রাসন ও দেশপ্রেমিক মিডিয়াগুলোর ভূমিকা
খবরটি হলো, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ভারতের ৩ শতাধিক বিএসএফ ২ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পাদুয়ার ৫০০ মিটার ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং পাদুয়ার প্রায় ২৩০ একর জমি নিজেদের দখলে নিয়ে যায়। বিডিআর মাইক দিয়ে এর মৌখিক প্রতিবাদ করলেও শত্রুপক্ষ সরে যায়নি। বিস্তারিত দেখুন

বাংলাদেশের জন্য গতকাল ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, আর আগামীকাল বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনগুলো জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। কিন্তু বিজয়ের প্রায় ৪০ বছরের মাথায় এখন চিন্তা হচ্ছে আমরা কি এখনো সত্যিকার স্বাধীন ও দেশপ্রেমিক হতে পেরেছি?

দেশকে মায়ের মতো ভালবাসার শ্লোগান দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করলেও প্রতিদিন বিএসএফের গুলিতে মায়ের স্বাধীন (!) সন্তানগুলো সীমান্তে জীবন দিচ্ছে - এর প্রতিকারের জন্য কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না দেশের সংখ্যাগরিষ্ট ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়া। সীমান্তের লাখ লাখ স্বাধীন বাংলাদেশীরা মূলত ভারতের হাতে পরাধীন। হিউমান রাইটচ ওয়াচের মতে গত ১০ বছরে বিএসএফ সীমান্তে ৯০০ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে (গতকালের পত্রিকা দেখুন)। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানটি দেশের অধিকাংশ দেশপ্রেমিক ও নিরপেক্ষে (!) মিডিয়াতে মূল খবর হিসেবে আসেনি।

আমাদের বর্তমান সরকার অতিরিক্ত ভারতপন্হী ও ভারতনির্ভর হওয়ায় পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত দূর্বল। প্রথম প্রথম সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-এমপিরা ট্রানজিট ও ট্রান্শিপমেন্টের মাধ্যমে দেশের জন্য কোটি কোটি টাকার রেভেনিউ অর্জনের ফাঁকা বুলি আওড়ালেও সম্প্রতি শুল্ক ছাড়ায় ভারতকে নৌ ট্রানজিট দেয়ার একটি মহড়া দেখেছি।

গতকাল বিকাল ৫টার পরে ভারত কর্তৃক পাদুয়া দখলের খবর ঘটনার ২০ ঘন্টারও বেশি পরে দেশপ্রেমিক মিডিয়ার পাতায় দেখা যায় না। বিদেশে থাকায় জানিনা দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই ঘটনা কিভাবে প্রচার করছে।

এর উপর পাঠকদের সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29289928 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29289928 2010-12-15 06:37:38
বিজ্ঞপ্তি: আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের HIV টেস্ট বাধ্যতামূলক! খবর: পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন কয়েকদিন পরে। সম্মেলনের আগেই ২৫ জন ছাত্রলীগ নেতার ব্লাড টেস্ট করা হচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তারা মাদকাসক্ত কিনা বা তাদের কোন গোপন রোগ আছে কিনা । এই অনুস্ঠানে স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

উপরের লেখায় গোপন রোগ বলতে লেখক কি বুঝাতে চেয়েছেন? এইডস? লেখক যাই বুঝান না কেন, ইদানিং যেভাবে ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীদের সেক্স বাণিজ্য বেড়ে যাচ্ছে কিছুদিন পরে এইডস টেস্ট করিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থী হতে হবে এতে সন্দেহ নেই! উল্লেখ্য, ইডেন, ঢাবি ও জাবির সাম্প্রতিক ঘটনায় পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায় ছাত্রলীগের নেতা-নেত্রীরা নিজেদের টেন্ডার ও অন্যান্য বাণিজ্য ভাগিয়ে নিতে সরকারী উচ্চ মহলে তদবীর হিসেবে হলের সাধারণ ছাত্রীদের সিট ও হোস্টেলে থাকার বিনিময়ে সেক্স ট্রিপে বাধ্য করছেন।

তাই এই লেখাটির শিরোনামে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রার্থীদের যোগ্যতা স্বরূপ একটি অদূর ভবিষ্যতের রূপক বিজ্ঞাপণে HIV টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29137629 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29137629 2010-04-19 06:46:49
হাসিনার ১০ টাকা চাল!
শেখ হাসিনার নির্বাচনী ভাষণ: ২০০৮ সাল

অথচ সম্প্রতি হাসিনা ও আওয়ামী নেতারা বলছেন, এরকম কোন বক্তৃতা হাসিনা করেন নি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29112890 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29112890 2010-03-09 06:18:43
রাবির হত্যার রাজনীতি || পরিসংখ্যান পর্যালোচনা প্রথম আলোআমার দেশ পত্রিকা দুটির দুটি পরিসংখ্যান রিপোর্টের উপর একটি পর্যালোচনা।

মূল সংবাদ:
প্রথমআলো ১৯৫৩ সাল থেকে ২৮ জন নিহত হওয়ার কথা লিখলেও বিস্তারিত পরিসংখ্যান শুরু করেছে ১৯৯০ থেকে, যখন থেকে রাবিতে শিবিরের আধিপত্য চলছে। পত্রিকাটির দাবী, ১৯৯০ এর পরে নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনই মারা গেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের হামলায়। এছাড়া লেখার শুরুতে অন্য সংঘটনের হাতে মোট কতজন নিহত হয়েছে তার উল্লেখ নেই। পেছনের দিকে লেখা আছে, বাকী নিহত ৫ জন শিবিরের।

অন্যদিকে আমারদেশ লিখেছে, ১৯৮২ সালের পর থেকে (যখন থেকে রাজশাহীতে শিবিরের অনুপ্রবেশ) মোট নিহত ২৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের ১৬ জন, ছাত্রলীগের ৫ জন, ছাত্রদলসহ অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের ৩ জন।

বিস্তারিত - প্রথমআলো:
১। শিবিরের হাতে ছাত্রলীগের ১ জন (ফেব্রুয়ারী ২০১০)
২। ছাত্রলীগের হাতে শিবিরের ১ জন (মার্চ ২০০৯)
৩। ছাত্রদলের হাতে শিবিরের ১ জন (২০০৪)
৪। শিবিরের হাতে ছাত্রদলের (জাসাস) ১ জন (ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬)
৫। শিবিরের হাতে ছাত্রমৈত্রীর ১ জন (১৯৯৫)
৬। শিবিরের হাতে ৫ জন (ছাত্রলীগ ৩, ছাত্রমৈত্রী ১ ও ছাত্র ইউনিয়ন ১ জন) (১৯৯৩)
৭। শিবিরের হাতে জাসদ ছাত্রলীগের ১ জন (মার্চ ১৯৯২)
৮। সময় ও অভিযুক্ত দলের নাম উল্লেখ না করে: শিবিরের ৩ নেতা নিহত

বিস্তারিত - আমারদেশ:
১। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হাতে শিবিরের ৪ জন (মার্চ ১৯৮২)
২। ছাত্রমৈত্রীর শিবিরের ২ জন (নভেম্বর ১৯৮৮)
৩। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হাতে শিবিরের ১ জন (এপ্রিল ১৯৮৯)
৪। ছাত্রমৈত্রী ও জাসদ ছাত্রলীগের হাতে শিবিরের ১ জন (নভেম্বর ১৯৯০)
৫। শিবিরের হাতে ছাত্রলীগের ৪ জন (৯০ দশকের মাঝামাঝি)
৬। শিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের ১ জন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)
৭। বাম ছাত্র সংগঠনের হাতে ছাত্রদলের ২ জন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)
৮। শিবিরের হাতে ছাত্রমৈত্রীর ১ জন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)
৯। ছাত্রলীগের শিবিরের ১ জন (মে ১৯৯২)
১০। ছাত্রদলের হামলায় শিবিরের ১ জন (জানুয়ারি ১৯৯৩)
১১। ছাত্রদল কর্তৃক শিবিরের ২ জন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩)
১২। ছাত্রদলের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের হাতে শিবিরের ২ জন (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)
১৩। ছাত্রদলের হাতে শিবিরের ১ জন (জানুয়ারি ২০০৩)
১৪। ছাত্রলীগের হাতে শিবিরের ১ জন (মার্চ ২০০৯)
১৫। শিবিরের হাতে ছাত্রলীগের ১ জন (ফেব্রুয়ারি ২০১০)

বিশ্বজিত্ এবং নতুন রহস্য:
প্রথমআলোর মতে, বিশ্বজিত্ এবং নতুন ছাত্রলীগের এবং তাঁরা শিবিরের হাতে নিহত হন ১৯৯৩ সালে।

আমারদেশ লিখে, বিশ্বজিত্ এবং নতুন ছাত্রদলের এবং তাঁরা বাম ছাত্র সংগঠনের হাতে নিহত হন ১৯৯১ সালে।

কোন দলের কত জন খুন?
ক. প্রথমআলো: ১৯৯০ থেকে
ছাত্রলীগ: ৪
জাসদ ছাত্রলীগ: ১
ছাত্রমৈত্রী: ২
ছাত্র ইউনিয়ন: ১
ছাত্রদল: ১
শিবির: ৫

খ. আমারদেশ: ১৯৮২ থেকে
ছাত্রলীগ: ৫
ছাত্রমৈত্রী: ১
ছাত্র ইউনিয়ন: ১
ছাত্রদল: ২
শিবির: ১৬

কারা কতটা খুন করেছে?
ক. প্রথমআলো: ১৯৯০ থেকে
ছাত্রলীগ: ১
ছাত্রদল: ১
শিবির: ৯
অন্যান্য: ৩

খ. আমারদেশ: ১৯৮২ থেকে
ছাত্রলীগ: ২
ছাত্রমৈত্রী: ৮ (জাসদ ছাত্রলীগ ১ সহ)
ছাত্র ইউনিয়ন (বাম দলগুলো): ২
ছাত্রদল: ৬
শিবির: ৭

পরিশেষ:
আসলে রাবির খুনের রাজনীতি দু'সময়ে বিভক্ত। ১৯৯০ এর আগে ও পরে। আমারদেশ হতে, ৯০ শেষ হওয়ার আগে সবচেয়ে বেশী খুন হয়েছে শিবিরের (৮ জন) ও সবচেয়ে বেশি খুন করেছে ছাত্রমৈত্রী ও জাসদ ছাত্রলীগ (৮ জন)। প্রথমআলো এই অধ্যায়টি বাদ দিয়েছে।

আর ৯০ এর পরে, সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে শিবিরের (প্রথমআলো ৫ জন, আমারদেশ ৮ জন) এবং সবচেয়ে বেশি খুন করেছে শিবির (প্রথমআলো ৯ জন, আমারদেশ ৭ জন)।

পুরো সময়ে (১৯৮২-২০১০), সবচেয়ে বেশি খুন হয়েছে শিবিরের (আমারদেশ ১৬ জন) এবং সবচেয়ে বেশি খুন করেছে বাম ছাত্রসংঘটনগুলো (আমারদেশ ১০ জন: ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29094476 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29094476 2010-02-10 07:31:39
পাঠকের মতামত আহ্বান: সরকারের পদত্যাগ ও আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করা উচিত কিনা?
আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নিত্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সাথে সম্প্রতি যা যুক্ত হয়েছে তা হচ্ছে এর মহিলা নেত্রীদের বোরখার আড়ালে মানুষ হত্যা, অস্ত্র ব্যবসা, চরমপন্হীদের সাথে সম্পর্ক ও সীমান্তে চোরাচালান ব্যবসা। সম্প্রতি কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের এক নেত্রী ও চরমপন্হী গণ মুক্তি ফৌজের সদস্যসহ ৫ জন আটক হয়েছে। গত সমেবার রাতে অভিযানে পূলিশ একে-৪৭ রাইফলে ও শটগানসহ বেশ কিছু গুলি উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতার করা হয়,
১) তাসলিমা খান ওরফে আঁখি (কুষ্টিয়া পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গণমুক্তি ফৌজের নেতা)।
২) রানী আক্তার (গণমুক্তি ফৌজের নেতা)।
৩) দৌলতপুর উপজেলার অস্ত্র ব্যবসায়ী আক্কাস আলী (গণমুক্তি ফৌজের নেতা),
৪) আব্দুর রাজ্জাক (গণমুক্তি ফৌজের নেতা)
৫) শাহীন আলী (মাইক্রোবাস চালক)

প্রথমআলো লেখে, গ্রেফতারকৃতদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। আমাদেরসময় লেখে, আঁখির স্বামী কোহিনুর খান সাবেক পৌর কমিশনার ও ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার রশিদুজ্জামান খান দুদু এমপির সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে তাকে দেখা যায়। আঁখি নিজেও দুদুকে দুলাভাই পরিচয় দেন এবং নিজেকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা বলে দাবি করেন। তাকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সব সময় অগ্রভাগেও দেখা যায়। এদিকে গ্রেফতার রানী আক্তারের স্বামী গণমুক্তি ফৌজের ক্যাডার সোহেল বছর খানেক আগে এনকাউন্টারে নিহত হন। এরপর থেকে তিনি জড়িয়ে পড়েন চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে। বেশ কয়েকটি অপারেশনেও তিনি অংশ নেন। অনেকটা দূর্ধর্ষ প্রকৃতির এই রানীকে গ্রেফতারের পরেও বিচলিত মনে হয়নি। ধরা পড়ার পর তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে পুলিশকে জানান। রানীর ব্যাগেই তলস্নাশি করে পাওয়া যায় দুটি ম্যাগজিন, ৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ১৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি।

বিস্তারিত দেখুন: প্রথমআলোআমাদেরসময়

অনেকে বলছেন, জঙ্গীদের দেশবিরোধী কর্মকান্ডে সবসময় সোচ্চার দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবিরা আজ কোথায়? কেন তাঁদের কলমের কালি আজ শুকিয়ে গেছে? তাঁরা যদি দেশপ্রেমিক হন এবং দেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হন তবে আজ তাঁদের অবশ্যই জনগণকে সচেতন করার মানসে কলম ধরা উচিত। নতুবা মানুষ তাঁদের সততা সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন বৈকি!

এনিয়ে পাঠকের মতামত জানাতে আহ্বান জানাচ্ছি।

দ্রষ্টব্য: পাঠকদের জ্ঞাতার্থে, এই পোস্ট কোনভাবেই হিজবুত তাহরী বা যেকোন ইসলামী দলের পৃষ্টপোষকের জন্য নয়, বরং সরকার ও আওয়ামীলীগের দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে ভূমিকায় হিজবুত তাহরীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29037426 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29037426 2009-11-04 08:41:31
চন্দ্র অভিযান - আমেরিকার আরেক জুচ্চোরীর ব্যবচ্ছেদ One small step for man, one giant lie for mankind - Neil Armstrong

ছোট বেলায় ফোর বা ফাইভের বইয়ে এরোপ্লেইন ও রকেট আবিষ্কারের কাহিনীর সাথে চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের পদচারণার বিস্ময়কর কাহিনী পড়েছিলাম। এরপর থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমেরিকার অবদান ও অগ্রগতির জন্য অনেক সমীহ করতাম দেশটিকে। চন্দ্রাভিযানে তাদের সাফল্যের সেই বিশ্বাস নিয়ে পেরিয়ে গেল জীবনের অনেকগুলো দিন: শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের মাঝপথে দাঁড়িয়ে এখন। তবে আজ একি শুনছি!

বছর দু'য়েক আগে ঘটনার বানোয়াট কাহিনী শুনেছিলাম। পত্র-পত্রিকা, ইন্টারনেটেও ইতিমধ্যে অনেকে লেখা-লেখি হয়েছে প্রচুর। বিতর্ককারীরা বলছেন, ১৯৬৯ সালে আমেরিকার চন্দ্র অভিযান আসলে একটি সাজানো গল্প-কাহিনী। রাশিয়ার সাথে মহাকাশ গবেষণায় টক্কর দেয়ার জন্য আমেরিকার এই আয়োজন। আজ ৪০ বছর পরে স্বয়ং নিল আর্মস্ট্রং যখন সে কথা স্বীকার করলেন, তখন বিরোধীদের জয় হল। আবারো কলঙ্খিত হলো সভ্য সমাজের দাবীদের আমেরিকার মুখ - তাদের জুচ্চোরীর আরেক অধ্যায় উম্মোচিত হল।

এনিয়ে মানবজমিনে লেখা ফিচারটি পাঠকদের নজরে না পড়ে থাকলে নীচে পড়ে নিন:

"চন্দ্র অভিযান মিথ্যে ও বানোয়াট। দীর্ঘদিন এমন বিতর্ক চলার পর এবার তাতে সায় দিয়েছেন চন্দ্র অভিযানের মূল নায়ক নিল আর্মস্ট্রং। ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই তিনিই প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিলেন। তিনিই বললেন, তাকে এবং সহযোগী নভোচারীদের দিয়ে সম্ভবত নিউ মেক্সিকোর কোন ধ্বনিমঞ্চ (সাউন্ডস্টেজ)-এ চিত্রায়িত হয়ে থাকতে পারে চন্দ্র জয়ের ওই দৃশ্য। অনলাইন দ্য ওনিয়ন ডট কম (www.theonion.com) এ খবর দিয়ে আরও জানায়- সোমবার নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে আর্মস্ট্রং চন্দ্র অভিযান নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে তার সায় দেন। এ সময় তিনি চন্দ্রপৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে দেয়া তার বিখ্যাত উক্তি- ‘ওয়ান স্মল স্টেপ ফর ম্যান, ওয়ান জায়ান্ট লিপ ফর ম্যানকাইন্ড’কে পাল্টে তিনি বলেন, এটা হওয়া উচিত ছিল- ওয়ান স্মল স্টেপ ফর ম্যান, ওয়ান জায়ান্ট লাই ফর ম্যানকাইন্ড। অর্থাৎ চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের ছোট্ট পদচিহ্ন, মানবজাতির জন্য ভয়ঙ্কর মিথ্যা।

ওই সংবাদ সম্মেলনে নিল আর্মস্ট্রং জানান, চন্দ্র অভিযানের ভিডিও ইউটিউবে দেখেছেন এবং চন্দ্র অভিযান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারী রাফ কোলম্যানের ওয়েবসাইট ওমিশন কন্ট্রোল ডট অর্গ-এর বেশ কিছু ব্লগ পড়েছেন তিনি। বলেছেন, এগুলো দেখে ও পড়ে আমার মনে হয় আমি মিথ্যের সঙ্গে বসবাস করছি। আমার কাছে এটা বেদনাদায়ক এ জন্য যে, ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই আমি ও আমার সহযোগীরা আট দিনে ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চাঁদের মাটি স্পর্শ করিনি। সেখানে যে পরীড়্গা-নিরীড়্গা হয়েছে তা-ও খাঁটি নয়। এর মাধ্যমে মানবজাতির সামনে কোন নতুন যুগ উন্মুক্ত হয়নি। বস্তুত চন্দ্র অভিযানের পুরো ঘটনা খুব সম্ভব নিউ মেক্সিকোর কোন এক জায়গায় এক সাউন্ড স্টেজে চিত্রায়িত হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর আগে মহাকাশ গবেষণায় যখন রাশিয়া অনেকখানি এগিয়ে যায়, প্রথমে পশু ও পরে মানুষ মহাশূন্যে পাঠাতে সড়্গম হয় তখনই যুক্তরাষ্ট্র এ লড়াইয়ে জিততে উঠেপড়ে লাগে। এক পর্যায়ে তারা নিল আর্মস্ট্র, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্সকে পাঠায় চাঁদে। তাদের মধ্যে চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন নিল আর্মস্ট্রং, পরে এডউইন অলড্রিন। মাইকেল কলিন্স রয়ে যান তাদেরকে বহনকারী নভোতরীর নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্য দিয়ে মহাশূন্য গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃস্থানীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু আর্মস্ট্রং স্বীকার করেন- তিনি এবং এডউইন অলড্রিন চাঁদের বুকে যুক্তরাষ্ট্রের যে পতাকা উড্ডয়ন করেছিলেন তা কিছুটা নড়াচড়া করছিল এমনটা বলতে তিনি ভুল করেছেন। আর্মস্ট্রং বলেন- চাঁদ, যা বায়ুশূন্য সেখানে পতাকা নড়াচড়া সে তো একেবারে অসম্ভব। আসলে কোন এয়ারকন্ডিশনের বাতাসে নড়েছে পতাকা। আর আমাদেরকে যে হেলমেট পরানো হয়েছিল তাতে বাইরের কোন শব্দই শোনা যায় না। এরপরই আর্মস্ট্রং সুভ্যেনির হিসেবে রাখা চাঁদের মাটির কিছু নমুনা মুঠো করে ধরেন এবং তা ফেলে দেন ময়লার ঝুড়িতে। ওদিকে রাফ কোলম্যানের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৬৯ সালে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর মতো বাস্তôব প্রযুক্তিগত ড়্গমতা ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং পাইলটদের অধীনে ঐতিহাসিক ওই মিশনের জন্য নভোচারীদের হাজার হাজার ঘণ্টা প্রশিড়্গণ দেয়া সত্ত্বেও আর্মস্ট্রং স্বীকার করেছেন- চন্দ্র অভিযান নিয়ে বিতর্কিত তত্ত্বই সঠিক। এক ও অভিন্ন লড়্গ্য অর্জনের জন্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র কয়েক হাজার কর্মকর্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একত্রে কাজ করছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ কি জানতেন আসলে কি হচ্ছিল।

৩১ বছর বয়সী পার্টটাইম ভিত্তিতে কর্মরত সহকারী লাইব্রেরিয়ান রাফ কোলম্যান সম্পর্কে আর্মস্ট্রং বলেছেন- আমি যতটুকু জানি তার চেয়ে চন্দ্র অভিযানের ধোঁকা সম্পর্কে বেশি জানেন কোলম্যান। বছরের পর বছর তিনি এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। ওমিশন কন্ট্রোল ডট অর্গ আরও জানিয়েছে, আর্মস্ট্রং চাঁদের যেখানে অবতরণ করেছিলেন তার পাশেই ইংরেজি ‘সি’ অক্ষর খোদিত একটি পাথর খণ্ড পড়ে ছিল। আর্মস্ট্রং এ বিষয়টি অভিযানের আগে- পরে উল্লেখ করেননি। আবেগপ্রবণ আর্মস্ট্রং এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ওই পাথরখণ্ডটি সম্ভবত নাসা থেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পাথরখণ্ডটি আর্মস্ট্রং উল্টে দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। কেন এমন ধোঁকাবাজি? এ রকম প্রশ্নের জবাবে আর্মস্ট্রং-এর উদ্ধৃতি দিয়ে কোলম্যান বলেছেন- তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাশূন্য অভিযানে পেছনে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘটনা সাজিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আর্মস্ট্রং চাঁদে তার প্রথম পা রাখার দৃশ্য প্রদর্শন করেন। কয়েকবার বিভিন্ন গতিতে ওই দৃশ্যের ফিল্ম প্রদর্শন করে তিনি বলেন- চাঁদের বুকে মানবজাতির পা রাখার ঘটনা চিত্রায়ন ছাড়া কিছু নয়। এতে প্রথমে তাকে পিছন দিকে ধীরগতিতে পিছাতে বলা হয়। পরে তা বিপরীত দিকে চালিয়ে দেয়া হয়- যা দেখে মানুষ মনে করে তিনি চাঁদের গায়ে হাঁটছেন। আর্মস্ট্রং বলেন- এ দৃশ্যের মধ্যেই সব। চোখ খোলা রাখলে তা ধরা পড়বে। প্রকৃতক্ষেই তা চাঁদের গায়ে ছোট পদচিহ্ন, কিন্তু বাস্তবে তা মানবজাতির জন্য ভয়ঙ্কর এক মিথ্যে।"

দ্রষ্টব্য: এদের জুচ্চোরীর আরেক নমূনা ৯/১১ দেখুন উইকিতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29003900 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/29003900 2009-09-03 06:23:12
কষ্টিপাথর সরবরাহে সরকারের টেন্ডার আহ্বান খবর সূত্র: পিবিবিসি - ইহারা অরিজিনালি ছাত্রদল ও শিবিরের ক্যাডার। ইহাদের দেহ যথাক্রমে রূপা ও ব্রোন্জ্ঞের তৈরী। সরকার বদলের সাথে সাথে সাপের মতো খোলস পাল্টাইয়া ইহারা সোনার ছেলেদের সংগঠন ছাত্রলীগে ঢুকিয়া পড়িয়াছে।

ইহারাই নকল সোনা হইয়া আসল সোনার বদনাম করিতেছে। ছাত্রদল ও শিবির থেকে ঢুইকা পড়া এইসব ক্যাডারদের নিয়া এখন আমাগো সরকার বিপাকে। ইহাদের জন্যই সরকারের খালিখালি বদনাম হইতেছে।

মূলকথা হইল, আসল ও নকল ছাত্রলীগ বুঝা যাইতেছেনা। তাই ছাত্রলীগ দাবীকারী প্রতিটি বালকের দেহ ঘসিয়া আসল ও নকল সোনা পরীক্ষা করার জন্য সরকার কষ্টিপাথর সরবরাহকারীদের থেকে টেন্ডার আহ্বান করিয়াছেন।

ছাত্রদল ও শিবির নিপাত যাক। জয় ছাত্রলীগ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28978519 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28978519 2009-07-15 09:33:13
সভ্য(!) সমাজে উগ্র বর্ণবাদের নির্মম শিকার মারওয়া শেরবিনি
শেরবিনির ঘাতক রাশিয়ান বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক অ্যাক্সেল ডব্লিউ।
অ্যাক্সেল ২০০৮ সালের আগস্টে একটি পার্কে শেরবিনিকে হিজাব পরার কারণে “islamist”, “terrorist” and “bitch” বলে গালি দেন। এর বিরুদ্ধে শেরবিনির মামলায় আদালত অ্যাক্সেলকে ৭৫০ ইউরো জরিমানা করেন। অ্যাক্সেল আপিল করলে শেরবিনি গত বুধবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে হামলার শিকার হন।

শেরবিনির স্বামী আলবি স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অ্যাক্সেল তাঁকেও ৩ বার ছুরিকাঘাত করেন এবং আদালতের প্রহরী ঘাতক অ্যাক্সেলের পরিবর্তে আলবিকে, ব্লন্ড চুল না থাকার কারনে (!), হামলাকারী মনে করে পায়ে গুলি করেন।


এক নজরে মারওয়া শেরবিনি:

জন্ম: ১৯৭৭

স্কুল/কলেজ: ১৯৯৫, English Girls' College in Alexandria (all-students’-speaker)

খেলাধূলা: ১৯৯২-৯৯: মিশরের জাতীয় হ্যান্ডবল দলের সদস্য যখন মিশর এরাবিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ৩য় হয় (১৯৯৮ ও ৯৯ সালে)

ফার্মাসিস্ট: ২০০০ ব্যাচেলর ডিগ্রী

জার্মানী: ২০০৫ সালে স্বামীর সাথে

সন্তান: ২০০৬ সালে মুস্তাফা

বর্ণবাদের প্রথম শিকার: ২০০৮ সালে পার্কে

বর্ণবাদের দ্বিতীয় শিকার: ২০০৯ সালে আদালতের অভ্যন্তরে


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28975137 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28975137 2009-07-08 14:14:35
লজ্জা ও উদ্বেগের বিষয়: মুজিব-জিয়া বিতর্ক ও জেএমবির বিস্তার
দ্বিতীয় বিষয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জংগী সংগঠন জেএমবি মাদ্রাসার কাঠমোল্লাদের পরিবর্তে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক শিক্ষিত মানুষদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। যেহেতু, মাদ্রাসা শিক্ষিতের চেয়ে আধুনিক শিক্ষিত মানুষদের সংখ্যা ও প্রভাব আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক বেশী, তাই এটা অবশ্য দেশ ও দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্নের ব্যাপার।

স্বাধীনতার ঘোষণা কে করলেন?
এনিয়ে বরাবরের মতো এবারো আওয়ামীলীগ-বিএনপির ইঁদুর-দৌঁড় শুরু হয়ে গেছে। শুরুটা - কোন এক স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্ররা 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলপত্র' বইটির তৃতীয় খন্ডটি পুড়িয়ে ফেলেছে। বইটি প্রকাশ হয় ২০০৪ সালে এবং এর তৃতীয় খন্ডে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়ার নাম আছে। পরে ২১ জুন এনিয়ে এক মামলার রায়ে হাইকোর্ট বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া নন, বরং মুজিব। রায়ের সাথে সাথে স্কুল-কলেজের বই পত্র সংশোধন ও 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলপত্র' বইটির তৃতীয় খন্ডটি প্রত্যাহারের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার।

অন্যদিকে, বিএনপি বসে নেই। হাইকোর্টর দেয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উইং কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ বীরপ্রতীক(মিরপুর থেকে বিএনপির এমপি প্রার্থী ছিলেন)। তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষ জানে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের এম সফিউলস্নাহ তার বইতেও লিখেছেন যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। হাইকোর্ট কি নতুন করে ইতিহাস লিখবে?

অতএব মনে হচ্ছে, অতীতের মতো এবারও সেই 'মুজিব-জিয়া বিতর্ক' নিয়ে ইঁদুর-দৌঁড় খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। আওয়ামীলীগ এখন গোল দিচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এখেলায় আবার বিপরীত দিক থেকে গোল দেয়া শুরু হবে। কার্যত এ খেলা কখনও শেষ হবে না। এর ফলে এরকম unproductive কাজে আমাদের শুধু সময়-সম্পদই নষ্ট হচ্ছে।



জেএমবিতে আধুনিক শিক্ষিত:
আগে জেএমবির সাথে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের প্রভাব দেখা গেলেও এখন আধুনিক শিক্ষিতদের প্রভাবে দেশের সচেতন সমাজ উদ্বিগ্ন। নিচে একটি লিস্ট দেয়া হল (তথ্যসূত্র: প্রথমআলো, ২৩ জুন):

১) এমরানুল হক (রাজীব, মঈনুল, আবু তোবা, ইকবাল): বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্মাতক। জেএমবির শুরা সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখার (আইটি) প্রধান। জেএমবির প্রধান বোমা-বিশেষজ্ঞ বোমারু মিজানের উত্তরসূরি।

২) সালাহউদ্দিন: গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ছাত্র ও জেএমবির শুরা সদস্য সালাহউদ্দিন।

৩) বোমারু মিজান: ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র।

৪) মাসুদ: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

৫) রেজাউল হাসান সিহাব: গোবিন্দগঞ্জ শামিম অ্যান্ড শাকিল কারিগরি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ও জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার

৬) জেএমবি জঙ্গী মাসুম বিন আবদুল হাইয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রামে জেএমবির দাওয়াতি কার্যক্রমের মূল দায়িত্বে আছেন যিনি, তিনি একজন প্রকৌশলী

৭) আবদুস সাত্তার (সোহাগ): চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও চট্টগ্রামের সামরিক শাখার দায়িত্বে।

৮) রফিকুল ইসলাম: রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র।

এর মানে মাদ্রাসার বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে সাধারণ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র এবং তাবলিগ জামায়াতে সম্পৃক্ত তরুণদের লক্ষ্য করে জেএমবি গোপন দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে জেএমবির কার্যক্রম দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জানা যায়, এরা ভারত ও পাকিস্তানে গিয়ে বোমা তৈরী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে। এছাড়া বোমা তৈরীর রাসায়নিক দ্রব্য ও ডেটনেটর গুলো ভারত থেকে আসে। (উল্লেখ্য রাজীবের পাসপোর্টে দেখে র‌্যাব বলেছে সে দুইবার ভারতে গিয়েছে।) এসব সত্য হলে, জেএমবির মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থ, সম্পদ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে অস্হিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতির ক্ষতি (বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস) ও সারাবিশ্বে একটি অকার্যকর ও সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে আরেক পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরাক বানানোর প্লট তৈরী করা হচ্ছে।


পরিশেষ:
মুজিব-জিয়া বিতর্ক ও জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তার দুটিই unproductive ও আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। জঙ্গি কার্যক্রমের ভয়াভহতা তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক। অন্যদিকে মুজিব-জিয়া নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক আমাদেরকে জাতি হিসেবে বিভক্ত করে রেখেছে। স্কুলের পাঠ্যবই থেকে একই পরিবারের বড় ভাই বা বোন শিখছে স্বাধীনতার ঘোষক মুজিব, আর ছোট ভাই বা বোন শিখছে জিয়া। এতে সমগ্র জাতির মতো একটি পরিবারও বিভক্ত। এক সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অন্য সরকার এসে বাতিল করে দেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্হাপনায় সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নাম পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে যায়।

এরকম একটি জাতির নাগরিক হিসেবে আমাদের লজ্জা হয় বৈকি। (পাঠক, প্রিয় দেশটিকে ছোট করার জন্য নয়, বরং কষ্টের কথা বললাম।) আমারা দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্ভিগ্নও বটে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28968254 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28968254 2009-06-23 08:18:09
সোহেল তাজের ডিজিটাল মাস্টার্স ডিগ্রীর পোস্টমর্টেম!
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমণ্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে সোহেল তাজ যুক্তরাষ্ট্রের গর্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আর্টসে Political Science and International Relations বিষয়ে ডিগ্রীধারী। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, তার এই ডিগ্রীটি ভূয়া। এনিয়ে গত সপ্তাহে ব্লগে দুটি লেখা আসে - একটি আমার, অন্যটি জেনারেশন৭৫ এর।

এর জন্য প্রমাণ হিসেবে উভয় লেখায় http://www.gordonu.com/ এর লিন্ক দেয়া হয়। সার্টিফিকেট সর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার কোচিং সেন্টারগুলোর মতো, যারা টাকার বিনিময়ে 'শিক্ষা' বিক্রি করে। এছাড়া এর Arts Faculty তে Political Science and International Relations নামের কোন ডিপার্টমেন্ট নাই। অন্য চারটি Faculty তেও এই বিষয়ের উপর কোন মাস্টার্স তো দূরের কথা ব্যাচেলর ডিগ্রীও নেই। তার মানে Political Science and International Relations বিষয়টির অস্তিত্বও Gordon এ নেই।

অনেক ব্লগার সোহেল তাজের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, এটা গর্ডন ইউনিভার্সিটি নয়, বরং Gordon College, যা আমেরিকার ম্যাসাচুয়েটস রাজ্যে অবস্হিত । কিন্তু গর্ডন কলেজের গ্র্যাজুয়েট সাইটে গিয়ে দেখা যায়, এটা কোন পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নয় এবং Commonwealth of Massachusetts এর থেকে লাইসেন্সের মাধ্যমে তারা ডিপ্লোমা টাইপের দুটি ডিগ্রী দেয়:

১) Master of Education (M.Ed.): for students who do not have an undergraduate degree in education and are seeking an Initial License to teach in Massachusetts.

২) Master of Arts in Teaching (M.A.T.) degree is designed for licensed teachers seeking an appropriate master's degree and the Professional License.

আর বিষয় গুলো: early childhood; elementary; students with moderate disabilities; reading (all levels); English as a Second Language.



পরে আমি গর্ডন ইউনিভার্সিটিGordon College দুটিতে ই-মেইল করি,

"Do you offer or have you ever offered Masters in Arts Degree in Political Science and International Relations?

Gordon College থেকে Graduate Education এর Program Administrator Rebecca Lord (ডাক নাম Becky) এর উত্তর:

Thank you for your interest in Gordon’s graduate program. Unfortunately we do not offer master’s degrees in political science or international relations – we only offer graduate degrees in education.

Best wishes,
Becky

Rebecca Lord
Program Administrator, Graduate Education
Gordon College
978.867.4322
http://www.gordon.edu/graduate/education]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28964756 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28964756 2009-06-15 07:10:17
সোহেল তাজ কেন সরকারের গলার কাঁটা! জাল মাস্টার্স ডিগ্রী নয়তো?
সমালোচকরা বলছেন, এর একটি কারণ হতে পারে সোহেল তাজ যে মাস্টার্স ডিগ্রীর তথ্য দিয়ে এমপি-মণ্ত্রী হয়েছেন, সে ডিগ্রীটি আসলে জাল। তাঁর আদৌ এমন কোন ডিগ্রী নেই।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমণ্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গর্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আর্টসে Political Science and International Relations বিষয়ে ডিগ্রীধারী। কিন্তু গুগলে 'Gordon University USA' সার্চ দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পাওয়া যায় না। এরপরও সমালোচকরা যে সাইটটি আবিষ্কার করেছেন, তা হল http://www.gordonu.com/। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ঠিকানায় .edu না হয়ে .com হওয়াটা বিস্ময়কর বৈকি! ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে দেখলাম এটা টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট সর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশসহ থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোতে এরকম প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মতো। অনেকটা ঢাকার কোচিং সেন্টারগুলোর মতো, যারা টাকার বিনিময়ে 'শিক্ষা' বিক্রি করে।

Gordon University এর দুটি শাখা আছে যুক্তরাষ্ট্রের Florida ও যুক্তরাজ্যের Gwynedd তে। যে পাঁচটি Faculty আছে সেখানে Arts আছে, কিন্তু Arts Faculty তে Political Science and International Relations নামের কোন ডিপার্টমেন্ট নাই। অন্য চারটি Faculty তেও এই বিষয়ের উপর কোন মাস্টার্স তো দূরের কথা ব্যাচেলর ডিগ্রীও নেই। তার মানে Political Science and International Relations বিষয়টির অস্তিত্বও Gordon এ নেই।

এমতাবস্হায় বলা যায় সমালোচকদের কথায় সঠিক। সোহেল তাজ মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়ে এমপি-মণ্ত্রী হয়েছেন, সে ডিগ্রীটি আসলে জাল। তাঁর আদৌ এমন কোন ডিগ্রী নেই।

মজার বিষয় হচ্ছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মিডিয়া সোহেল তাজের জাল ডিগ্রীর বিষয়টি open secret হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করছে না। এর বিপরীতে বিএনপিপন্হী বিচারপতি ফয়জুরের এলএলবি সনদ নিয়ে যে শোরগোল এরা করেছে তা দেশের মানুষ জানে। পরিশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সে সনদ সঠিক বলে জানা যায়।

পাঠকদের জ্ঞাতার্থে, সোহেল তাজের পিতা তাজউদ্দীন আহমেদ শেখ মুজিবের মণ্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং চাচা শেখ হাসিনা সরকারের (৯৬-০১) মণ্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28963549 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28963549 2009-06-12 07:10:33
পাঠক, একটি রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করুন: প্রসঙ্গ ১০ ট্রাক অস্র ইত্তেফাকের খবরটির "শিরোনাম আইএসআই এবং ‘র’র কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেতেন শাহাবুদ্দিন"
এবং এর শুরুটা এরকম:

"জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তৎকালীন পরিচালক উইং কমান্ডার (অব·) শাহাবুদ্দিনই বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বাংলাদেশে অস্ত্রের চালান প্রবেশের তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন। আর অস্ত্রের চালান চট্টগ্রামে ভেড়ার আগে সহায়তার নামে সুবিধা নিয়েছিল অপর একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেও। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর তাকে চাকরিচ্যুত করেছিল। আর এই দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা হল পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এবং ভারতের রিসার্চ এন্ড এ্যানলাইসিস উইং (র)। ... ২০০৪ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে অস্ত্র আনার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর শাহাবুদ্দিন কৌশল পাল্টে ফেলেন। অসুস্থতার ভান করে ভর্তি হয়ে যান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। আর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় অপর একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জানিয়ে দেন এই অস্ত্রের চালান আসার কথা। এরপরই চট্টগ্রাম সিইউএফএল জেটি ঘাটে অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে যায়। সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তাকে বিমান বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়।"


ইত্তেফাকের খবরে 'আইএসআই' ও 'র' গোয়েন্দা সংস্হা দুইটির একটি সরকারকে খবরটি জানিয়ে চালান ধরায় সহায়তা করে ও অপরটি অস্ত্রের জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে ভেড়ায় সহযোগিতা করেছে। ইত্তেফাকের রিপোর্টটি স্পষ্ট করে বলেনি কে কোন কাজের সাথে জড়িত।


আমার বিশ্লেষণ:
রহস্যটি পরিস্কার হয়ে যাবে, যদি অস্ত্রের গন্তব্য ও ব্যবহারকারী কারা তা জানা যায়। দুটি সম্ভাবনা:

১)
অস্ত্রগুলো বাংলাদেশে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আনা হতে পারে, যেমন, চারদলীয় সরকারকে হটাতে বিরোধী দলের ২০০৪ সালের ট্রাম্প কার্ড ও জেএমবির বোমার কাহিনী সবার জানা।

তাই রিপোর্টটির প্রথম প্যারার ঘটনা-পরস্পরা বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, অস্ত্রের জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে ভিড়তে সহায়তা করেছে 'র' (ভারত), আর সরকারকে খবরটি জানিয়ে চালান ধরায় সহায়তা করেছে 'আইএসআই' (পাকিস্তান)।

আমাদের দেশের রাজনীতির খবর রাখেন এরকম যে কেউ বলবেন, পাকিস্তান বা আইএসআই এর সাথে বিএনপির সখ্য রয়েছে, আর ভারত বা 'র' এর সাথে আওয়ামীলীগের। উপরের বিশ্লেষণ সেই সখ্যতাকে সমর্থন করে।

২)
আর অস্ত্রগুলো যদি উলফার জন্য আনা হয়, তবে ঘটনা উল্টো - অস্ত্রের জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে ভিড়তে সহায়তা করেছে 'আইএসআই' (পাকিস্তান), আর সরকারকে খবরটি জানিয়ে চালান ধরায় সহায়তা করেছে 'র' (ভারত)।

এক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জড়িত থাকার যেসব কথাবার্তা পত্রিকায় এসেছে, সেগুলো সত্যও হতে পারে। সরকার কর্তৃক শাহাবুদ্দীনকে বিমান বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়াতে বুঝা যায়, ঘটনা ফাঁস করাতে সরকার তার উপর নাখোশ ছিল।


পাঠক, আপনাদের মতামত জানালে ভাল হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28960393 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28960393 2009-06-05 06:30:42
প্রসঙ্গ: স্বাধীনতার প্রতীকের অবমাননা ঘটনা-১:
২০০২ সালের কোন এক দিন। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়। প্রিয় ফুটবল দলের পতাকার পাশাপাশি প্রিয় ক্রিকেট দলের পতাকাও অনেকে লাগিয়েছে। কেউবা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকার সাথে ভারত বা পাকিস্তানের পতাকাও লাগিয়েছে। বিশ্বকাপের আসর শেষে অনেকে সে পতাকাগুলো খুলতে ভুলে গিয়েছে অথবা ইচ্ছা করেই খোলেনি। যেমন, ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বলে ব্রাজিলের পতাকার সাথে পাকিস্তানের পতাকাও আর নামানো হয়নি। কেউবা ব্রাজিলের পতাকার সাথে ভারতের পতাকা উড়তে রেখে দিয়েছে।

একদিন ঢাকার প্রথম সারির এক দৈনিকে বড় করে দেশবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে পাকিস্তানের পতাকা উড়ানোর অভিযোগে লেখা আসে। পত্রিকাটি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির! সারা দেশে মানুষের মাঝে বিরূপ ভাব দেখা দিল - যেহেতু বিএনপি স্বাধীনতার বিরুদ্ধদের নিয়ে ক্ষমতায় আসিন। সরকার পূলিশ দিয়ে তাড়াতাড়ি পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে ও সম্ভবত: পতাকা উত্তোলনকারীকে গ্রেফতার করে পরিস্হিতি শান্ত করে। উল্লেখ্য, এমন একটি লেখা ভারত, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে পত্রিকাটিতে আসেনি।

ঘটনা-২:
২০০২ সাল। এক বন্ধু সিঙ্গাপুরে পড়তে গিয়ে বাংলাদেশীদের একটি গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রোগ্রামে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বিশেষ করে বিশ্বাবিদ্যালয়ের সকল বাংলাদেশী শিক্ষক-ছাত্র পরিবারসহ উপস্হিত। খাওয়া-দাওয়া শেষে বসল গানের আসর। সবশেষ গানটি ছিল 'আমার সোনার বাংলা ...' - বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। সবাই দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বন্ধুটি রবীন্দ্রবিদ্বেষী হওয়ায় বা গানটির প্রতি বিরূপভাব থাকায় দাঁড়ায়নি।

ঘটনার পরপরই যখন বাসায় ফিরল, সাথে সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ডের এক ইন্জিনিয়ার (যারা সে সময় পিএইচডি করছিলেন) বন্ধুটিকে ইচ্ছামতো মোখিক ধোলাই দিলেন। এমনকি, বাংলাদেশের পাসপোর্ট পরিবর্তন করে ফেলার নির্দেশ দিলেন। বেচারা বন্ধুটি সিঙ্গাপুরে নতুন ও বয়সে জুনিয়র হওয়ায় চুপ করে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না!

ঘটনা-৩:
২০০৬ সালের শেষ ভাগের ঘটনা। সরকার পতনের আন্দোলন ও তত্বাবধাক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিএনপি পন্হি বিচারপতি কেএম হাসান কে নিয়োগ না দেয়ার জন্য আন্দোলন তুঙ্গে। সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে আবারো স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলের আইনজীবী পরিষদের শক্ত অবস্হান। তাঁরা ছোট-খাট অভিযোগে লন্কাকান্ড ঘটিয়ে বিচারাঙ্গন ও সরকারকে বিপদে ফেলতে মরিয়া। উদ্দেশ্য, যেনতেন ভাবে সরকারকে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করা।

একদিন পত্রিকায় দেখলাম এদের হাতে সুপ্রীম কোর্টে ব্যাপক ভাঙ্চুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষ দলের আইনজীবীরা জাতীয় পতাকাসহ অনেককিছু যোগাড় করে অগ্নিসংযোগ করেছে। দেশপ্রেমিক প্রতিটি পত্রিকায় স্বাধীনতার প্রতীক এই পতাকা পোড়ানোর ছবি আসলেও 'ঘটনা-১' এর সংবাদ পরিবেশনকারী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সেই প্রথম সারির দৈনিকটি এবারে চুপচাপ। এমনকি, ঘটনার পরে ড: কামাল, ব্যারিস্টার শফিক (বর্তমান মন্ত্রী) ও ব্যরিস্টার আমীরুজ্জামান সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির দলভূক্ত অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হলে সেই পত্রিকাটি তাদের বাঁচাতে নিয়মিত সংবাদ ও ফিচার লিখে। এভাবে তারা শুধু সরকার ও আইনের বিরুদ্ধে যায়নি, বরং এদেশের সাধারণ মানুষ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে।

ঘটনা-৪:
২৫শে মে ২০০৯। জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে দু'টুকরো করে অভিনব কায়দায় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দেলর ছবি সংবিলত বোর্ড উম্মোচন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গত ২৬শে মে দৈনিক আমারদেশে এনিয়ে ফিচার এলেও দেশের বেশিরভাগ পত্রিকা ও বিশেষ করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রথসারীর সেই পত্রিকাটি এবারও নীরব। এমনকি, মিডিয়া মারফত দেশের জনগন জানলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দু:খ প্রকাশ করেন নি।(দেখুন আমারদেশের দুটি সংবাদ: এক-২৬/০৫/২০০৯ এবং দুই-২৭/০৫/২০০৯)।


দেশের মানুষের প্রশ্ন, উপরের ১ম ও ২য় ঘটনা দু'টি (যদিও পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনকারীর রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি, তথাপি বলা যায় ইচ্ছাকৃত ভাবে করলে যেই করুক না কেন এটা একটি অপরাধ) নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের পত্রিকা ও মানুষের যত হাঁকডাক শোনা গেল, ৩য় ও ৪র্থ ঘটনা দু'টি নিয়ে তারা একে বারে চুপচাপ কেন? নাকি পরের ঘটনা দুটি স্বাধীনতার স্বপক্ষশক্তির আইনজীবী ও মন্ত্রীরা করেছেন বলে সেগুলো জায়েজ হয়ে গেল? প্রথম দুটি ঘটনার চেয়ে কি পরের দুটি বেশি মারাত্মক নয়? আর পরের দুটি ঘটনার কর্তারা কি দলীয়ভাবে কাজগুলো করেননি?

পাঠক, বিপরীতভাবে ঘটনাগুলো স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তির হাতে হলে কি হতো! (উদাহরণ, জামাত-শিবির ধর্মীয় কারণে স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে ফুল দেয় না - এজন্য এদেরকে অভিযোগ করা হয়। কারণ, এর মাধ্যমে তারা স্বাধীনতাকে হেয় করে বলে প্রতীয়মান হয় বলে অনেকের বিশ্বাস।) তার মানে, একই ধরণের অপরাধের কর্তা পরিবর্তন হলেই কি জায়েজ-নাজায়েজ নির্ধারিত হয়ে যায়? কিন্তু একটি সুস্হ সমাজের জন্য দরকার - জায়েজ কাজ সবার জন্য জায়েজ, আর নাজায়েজ কাজ সবার জন্য নাজায়েজ। একই অপরাধের কেউ শাস্তি পাবে, কেউ মাপ পাবে এমনটি যেন না হয়। আইন সাবর জন্য সমান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28960021 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28960021 2009-06-04 13:05:39
প্রসঙ্গ: আমাদেরসময়ে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন
কিছুদিন আগে পত্রিকাটিতে বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের প্রেম-প্রেম খেলা এবং এর ফলস্বরূপ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের মারাত্নক পরিণতির খবরটি নি:সন্দেহে পাঠকদের বাহবা কুড়াতে সমর্থ হয়েছে। কিছু পথভ্রষ্ট নষ্ঠ ছেলে মেয়েদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রেমিক-প্রেমিকারা এরপরে গোপন অভিসারের ছবি মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করে। বহু ফুলের মধু খেতে অভ্যস্তরা মোহ কেটে গেলে একে অপরকে ত্যাগ করে। কিন্তু মোবাইলে তোলা সে ছবি বা ভিডিওগুলো তারা অন্য পক্ষের সম্মতি ছাড়াই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছে হস্তান্তর করে। এভাবে বেশী দূর্ভাগ্যের স্বীকার হয় মেয়েরা। প্রেমে অসফল হয়ে নিজের মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যস্ত হয়। এমনকি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অপ্রকৃতিস্হ হয়ে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়।

মানুষের কুরিপুকে উস্কে দেয়ার জন্য কুরুচিপূর্ণ বই, ছবি, ভিডিও ও বিজ্ঞাপন অনেকাংশে দায়ী। উপরে বর্ণিত মোবাইলফোনের অপব্যবহারের থেকে তুমুল জনপ্রিয়তার অধিকারী একটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন বেশি ক্ষতি করতে পারে। একটি মোবাইলে একজন বা একশজন ক্ষতিগ্রস্হ হতে পারে। কিন্তু একটি পত্রিকার মাধ্যমে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্হ হতে পারে।

সত্য কথা বলতে কি, আমাদেরসময়ের এরকম কিছু বিজ্ঞাপনের কারণে নিজের ছেলে-মেয়েদের সামনে ইন্টারনেটে পত্রিকাটি পড়তে লজ্জায় পড়তে হয়। ওদের অগোচরে পড়তে গেলে মনে হয় কোন নিষিদ্ধ সাইট ভিজিট করছি।

আমাদেরসময় হয়ত: আর্থিক লাভের বিষয় বলবে। কিন্তু একটি পত্রিকা যখন বিবেক হিসেবে সুস্হ সমাজ ও দেশ বিনির্মানে আত্ননিয়োগ করে, তখন এরকম ক্ষুদ্র লাভ জলান্জলি দেয়া নি:সন্দেহে সম্ভব।

পরিশেষে আশাকরি, পাঠকদের অসুবিধা দূরকল্পে এবং একটি সুস্হ সমাজ ও দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদেরসময় কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচারে বিরত থাকবে। আমাদেরসময়ের ভবিষ্যত পথচলা আরো সুন্দর হউক এই কামনা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28959468 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28959468 2009-06-03 06:41:03
আমার গ্রামের জামালিবু আর ‘জোবরা’ গ্রামের সেই সুফিয়া - নিয়তি একই
ছোট বেলায় দেখেছি গ্রামের গরীব জামালিবু প্রায়ই মায়ের কাছে আসতো কিস্তির টাকা শোধের জন্য টাকা চাইতে। কয়েকবার ধার নেয়ার পরে সেগুলো ফেরত না দেওয়াই মা অনেক সময় দিতে না চাইলে, জামালিবুর কষ্টের মুখটি দেখতে আমার ভাল লাগতো না। তখন এনজিও-ঋণ এতসব বুঝতাম না। এখন জানি না সেই জামালিবু কেমন আছেন। অসুস্হ পাগল স্বামী মারা গিয়েছেন আমি গ্রামে থাকতেই। এনজিও থেকে ঋণ নিলেও স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারেননি।

জামালিবুর মতো এমনি অনেক হতভাগ্য আছেন। সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি, আজকের আমাদের সময়ের(ধন্যবাদ আমাদের সময়কে এমন সাহসী সংবাদের জন্য) একটি রিপোর্ট পড়ে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড· মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য হিসেবে সারাবিশ্বে তুলে ধরা হয় চট্টগ্রামের ‘জোবরা’ গ্রামের সুফিয়াকে। প্রচার করা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে সুফিয়া স্বাবলম্বী হয়েছেন। সেই সুফিয়া মারা গেলে তার কবর দেয়া হয় চাঁদা তুলে! সারা জীবন এনজিওর চাঁদায় (ঋণ) উন্নতি না হওয়ায়, মরার পরে মানুষের চাঁদায় কবর!


আমাদের সময় রিপোর্টটি করেছে সাপ্তাহিক ২০০০-এর চলতি সংখ্যার ‘সুফিয়ার কবর চাঁদার টাকায়/ইউনূসের হাতে নোবেল’ লেখা থেকে। এর মূল অংশ পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরছি।


"প্রকৃতপক্ষে এই সুফিয়া খাতুন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যান ১৯৯৮ সালে। গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তার দাফনের ব্যবস্থা করে। সুফিয়ার পঞ্চাশোর্ধ্ব অসুস্থ দুই মেয়ে হালিমা ও নূর নাহারের এখন দিন কাটে অর্ধাহারে, অনাহারে। তবে অনেক অনুরোধের পর ড· ইউনূস তাদের একটি রিকশা দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে ‘জোবরা’ গ্রামের সিকদারপাড়ার অভাবী নারী সুফিয়া খাতুনের হাতে ঋণ হিসাবে প্রথম ২০ টাকা তুলে দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক ড· মুহাম্মদ ইউনূস। বেশি ঋণের আশ্বাস পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করেন সুফিয়া। নতুন করে ঋণ পান পাঁচশ টাকা। একসঙ্গে এত টাকা পাওয়ার আনন্দে সুফিয়া সেদিন তা সারা গ্রামে জানিয়ে দেন। এর অল্পদিনের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় চলে আসে পুরো জোবরা গ্রাম। জোবরার ঘরে ঘরে তখন নগদ টাকার উৎসব। কিন্তু সেই আনন্দ মিলিয়ে যেতে বেশিদিন লাগেনি। সুদে-আসলে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন, এলাকা ছেড়েছেন রহিমা ও সায়েরা খাতুনসহ অনেকেই। আজও জোবরা গ্রামের মানুষদের আক্ষেপ- স্বাবলম্বী করার নামে ড· ইউনূসের ‘ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’ তাদের গরিব থেকে আরো গরিব করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে তারা ‘আশা’র দ্বারস্থ হয়েছেন। আশার টাকা শোধ করতে আবার দ্বারস্থ হয়েছে ‘ব্র্যাক’-এর কাছে। জোবরা গ্রামের অধিবাসী সাথী উদয় কুসুম বড়-য়া বলেন, ঋণ-বাণিজ্যের মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে দারিদ্র্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে ঠেলে দেয়ার কারণে ড· ইউনূসের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এদিকে উন্নয়ন মডেল সুফিয়ার পরিবারে এখন প্রকট দারিদ্র্যের চিহ্ন। মাথা গোঁজার কুঁড়েঘরটি ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়। গত বর্ষায় তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এখনই যদি ঘর মেরামতের ব্যবস্থা করা না যায় তাহলে এই বর্ষায়ও তাদের ভিজতে হবে। সুফিয়ার পরিবার অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির যেখানে এমনই দশা সেখানে ড· ইউনূস প্রচার করছেন আমাদের নাকি পাকা বাড়ি আছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশী রুকুনুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরে দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় সুফিয়ার বাড়ির পাশের দোতলা বাড়িটি সুফিয়ার বাড়ি বলে দেখানো হচ্ছে। গ্রামবাসীর মতো ওই দোতলা বাড়ির মালিক দুবাই প্রবাসী জেবল হোসেনও এতে চরম ক্ষুব্ধ। গ্রামবাসীদের তিনি জানিয়েছেন বাড়ি নিয়ে প্রতারণার দায়ে ড· ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। "



পরিশেষে, এসব এনজিওর অনেকে এদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীগুলোর মতো এরা দেশের ক্ষমতা দখল করে বিদেশী প্রভুর আজ্ঞাবহ হয়ে দেশ শাসন করতে চায়। উল্লেখ্য, প্রশিকার প্রধান কাজী ফারুক ২০০৪ সালে বহুল প্রচারিত জলিলের ২৯এপ্রিল ট্রাম্প কার্ডের অন্যতম রূপকার। হাজার জাজার প্রশিকা কর্মীকে ঢাকায় এনে সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি গত নির্বাচনের আগে নতুন দল সৃষ্টি করে নির্বাচনেও অংশ গ্রহণ করেন। তাই তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসের কথা অনেকেরই জানা। সম্প্রতি স্বেচ্ছাচারী ও দূর্নীতির কারণে প্রশিকার কর্মীরা ইতিমধ্যে আন্দোলন শুরু করেছে।

ইউকে ভিত্তিক আরেকটি এনজিও 'গ্রীন ক্রিসেন্ট' বিদেশী টাকায় এদেশে অস্ত্র ও জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠা করছে। সম্প্রতি এর প্রধান অফিস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পরে সংস্হাটির প্রধান কর্মকর্তা ব্রিটিশ নাগরিকসহ কয়েকজন ধরা পড়ে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এব্যাপারে সরকার ও মিডিয়া এখন একেবারে নিশ্চুপ। এসব সন্ত্রাসী-দূর্নীতিবাজদের আদৌ কোন বিচার হবে, নাকি পর্দার আড়ালে মুক্তি দিয়ে আগের কাজে সুযোগ দিবে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট অফিসই বলতে পারে।

জনগন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কম নয়। এখন সময় এসেছে, আসুন এনজিও রূপি নব্য ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।।

ছবিসূত্র: ফটোসার্চডটকম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28954057 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28954057 2009-05-22 07:26:19
প্রথমআলোর উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো আর মিথ্যার বেসাতি আর কতো?
আজকের পত্রিকাগুলোর মূল খবরের মধ্যে অন্যতম - চবিতে শিবির-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ। চোখ বন্ধ করে যে কেউ বলে দিতে পারবে কারা, কেন, কি উদ্দেশ্যে দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চবিতে একই অভিযান পরিচালনা করছে। চবিতে শিবিরের লাগাতার আধিপত্য ঠেকাতে রাবির মতো একই অভিযান, সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকাগুলোতে চোখ রাখা যে কেউ একথা বলে দিতে পারবে।

আশ্চর্যজনক হচ্ছে, প্রথমআলোর মতো কিছু নামকরা পত্রিকার এনিয়ে খবর প্রকাশে নির্লজ্জ দলীয়করণ। আজকের প্রথমআলোতে এনিয়ে মূলখবর বরাবরের মতোই উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো আর মিথ্যার বেসাতিতে পূর্ণ।


দুটি মূল অপকর্ম শিবিরের উপর চাপিয়েছে প্রথমআলো।

এক. উপাচার্যের গাড়ি ভাংচুর ও ভিসি লাঞ্চিত: প্রথমআলো ছাড়া অন্য পত্রকাগুলো দেখুন (আমাদের সময়, ইত্তেফাক, আমারদেশ), এরা সবাই লিখেছে, উপাচার্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ রাতে সংঘর্ষ থামাতে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিসির গাড়ি সহ ১০-১২ টি গাড়ি ভাংচুর করে ও ভিসিকে লাঞ্চিত করে ।

দুই. আমারদেশ সাংবাদিক কে যখম-মারধর: প্রথমআলো ছাড়া সব পত্রিকাগুলো লিখেছে, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দুপুরে চবির রেল স্টেশনের কাছে দায়িত্ব পালনকালে আমারদেশ সম্পাদক রাশেদ খান মেনন কে লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। ইটের আঘাতে তেতলে দেয় রাশেদের মাথা। রাশেদ মারা গেছে ভেবে ফেলে গেলে পরে সহযোগীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।


এভাবে প্রথমআলোর মতো একটি বড়মাপের পত্রিকার এই নির্লজ্জ দলবাজি ও মিথ্যাচার আর কতো? বিচারপতি ফয়েজের সার্টিফিকেট জালিয়তি নিয়ে লেখা - পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ফয়েজির সার্টিফিকেট সঠিক বলে রায় দেন ও চবিকে ক্ষতিপূরণ দিতে নিদেশ দেন।

দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দলবাজি ও ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিযুক্ত এই দেশবিরোধী মিডিয়াগুলো আর কতদিন ধরা চোঁয়ার বাইরে থাকবে? মিথ্যা খবর প্রকাশ ও চরিত্রহননকারী এসব মিডিয়ার বিরুদ্ধে এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত আইন রচনা ও এর সঠিক প্রয়োগ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28951407 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28951407 2009-05-16 09:40:26
আলফি (১৩) চ্যান্তেলে (১৫) - বৃটেনের সামাজিক অবক্ষয়ের আরেক নজির বৃটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সারা বিশ্বের মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মেয়ের জন্মের পরে বৃটেনের প্রভাবশালী দি সান পত্রিকায়, সম্ভবত: চ্যান্তেলের মায়ের পরামর্শে, তারা তাদের গোপন সে কাহিনী ছড়া দামে বিক্রিও করেছে। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ইতিমধ্যে একাধিক সাক্ষাতকারের মাধ্যমে তারা কামিয়ে নিয়েছে কয়েক হাজার পাউন্ড। YouTube এ এখন আলফি, চ্যান্তেলে, ও চ্যান্তেলের মায়ের সে সাক্ষাতকারগুলো পাওয়া যাচ্ছে। তাদের ভাষায়, তারা তাদের সদ্য জন্ম নেয়া মেয়ের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতেই পাউন্ডের বিনিময়ে এমনটি করছেন।

নিশ্চিত ভাবেই, ১৩ বছরের আলফির কারনেই বিষয়টি এতো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। না হলে এরকম ঘটনা বৃটেন সহ পশ্চিমা দেশসমূহে ভূরি ভূরি। আলফির উচ্ছতা বড়জোর ৪ ফুট। দি সানের মতে, আলফি একজন লজ্জাবনত বালক যার কন্ঠস্বর এখনও বড়দের মতো এখনও ভাঙ্গেনি। আলফির বাবার মতে, আলফি ভালবাসে কম্পিউটার গেমস, বক্সিং আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।


আলফি ও চ্যান্তেলের পরিবার:
ইস্ট সাসেক্সের ইষ্টবোর্নে চ্যান্তেলের মায়ের সরকারী সাবসিডি পাওয়া বাড়িতে চ্যান্তেলে বাবা স্টিভ (৪৩), মা পেনি (৩৮) ও পাঁচ ভাইয়ের সাথে থাকে। বাবা স্টিভ কর্মহীন এবং পুরো পরিবারটি সরকারী বেনেফিটের উপর বেঁচে আছে।

অন্যদিকে আলফি থাকে চ্যান্তেলেদের বাড়ির নিকটে তার মা নিকোলার (৪৩) দু'লাখ পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের আলিশান বাড়িতে। কিন্তু নিকোলা বেশির ভাগ সময় ও রাতে থাকেন নিকট্স্হ স্টেডম্যান হাউসে। আলফির বাবা ডেনিসের (৪৫) সাথে তার মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে অনেক আগে। ডেনিসের মোট ৯ ছেলে মেয়ে আছে এবং নিকট্স্হ এক গাড়ি মেরামতের দোকানে কাজ করেন।

চ্যান্তেলের মা পেনি পুরো ৮ জনের পরিবারটির খরচের ব্যাপারে এখন চিন্তিত। তারপরেও বলেছেন, তিনি তার মেয়েকে একসাথে রেখে সহযোগিতা দিয়ে যাবেন।

কিন্তু আলফির বৈমাত্রেয় বোন নিকোল (১৯) দি সানকে দেয়া সাক্ষাতকারের তাদের সৎ বাবা ডেনিসকে আলফির অল্প বয়সে বাবা হওয়ার জন্য দায়ী করেছে। সে অভিযোগ করেছে, তাদের বাবা দু'বছর আগে ১৯ বছরের অন্য একটি মেয়ের সাথে পালিয়ে গিয়ে এখনও সে মেয়ের সাথে একসাথে থাকছেন। এতে তাদের মায়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে এবং পুরো পরিবারটি দু'ভাগে ভেঙ্গে গিয়েছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আলফির বড় বোন জেইডও, যার বয়স এখন ১৯, ১৩ বছর বয়সে মা হয়েছে

আলফি ও চ্যান্তেলের প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া:
জন হোলমস নামের ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ প্রতিবেশী বলেছেন, 'আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা আলফি বাবা হয়েছে! এর আগে কোন একদিন সে তার কুকুরটি সহ আমার বাগানে দৌঁড়ে এসেছিল তার বলটি কুড়িয়ে নিতে। আমি দেখালাম সে একজন সদা হাস্সোচ্ছল শিশু!'

সিন থমাস নামের অন্য এক প্রতিবেশি বলেছেন, 'চ্যান্তেলের একাধিক ছেলেবন্ধু আছে। সে তাদেরকে নিয়ে তার বাসায় প্রায়ই রাত কাটাত এবং তার বাবা-মা এতে কিছু মনে করতেন না। তাকে একজন পূর্ণবয়স্ক হিসেবে দেখা হয়েছিল ও সে যা খুশী করতে পারতো।'

১৭ বছরের প্রতিবেশী জ্যাইক বলেছে, 'চ্যান্তেলের অনেক ছেলেবন্ধু আছে এবং একজনের সাথে বেশিদিন থাকে না। আমরা জানি, আলফি তাদেরই একজন, কিন্তু ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাবে না, সন্তানটির পিতা আলফি কি না।'


অন্য অনেকের পিতৃত্ব দাবী!
the News Of The World বলছে চ্যান্তেলের সাথে ওইসময় কমপক্ষে ৮ জন টিনএজার বালকের সম্পর্ক ছিল যাদের সাথে সে নিজের বাড়িতে নিয়মিত মিলিত হতো। সিন থমাস নামের এক প্রতিবেশী ইতিমধ্যে বলেছেন, চ্যান্তেলের একাধিক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল, যদিও চ্যান্তেলে একাধিক ছেলে বন্ধুর সাথে সম্পর্ক অস্বীকার করেছে।

রিচার্ড গুডসেল নামের ১৬ বছরের বালক, যে একজন শিক্ষানবিশ রাঁধুনে, দাবী করেছে, আলফি নয় সেই শিশুটির বাবা। তার সাথে চ্যান্তেলের যে সময়ে সে গর্ভবতী হয় সে সময় একটানা তিন মাসের সম্পর্ক ছিল। গুডসেল জোড় গলায় ডিএনএ ডেস্টের জন্য দাবী জানাচ্ছে।

টাইলার বার্কার (১৪) নামের এক স্কুলবালক বলেছে, তারও চ্যান্তেলের সাথে ৯ মাস আগে সম্পর্ক ছিল, সে জন্য সেও শিশুটির বাবা কিনা উদ্বিগ্ন।

গুডসেল ও বার্কার দু'জনেই একজন সলিসিটরের কাছে শপথ করে তাদের সাথে চ্যান্তেলের সম্পর্কের বিস্তারিত বলেছে। কিন্তু চ্যান্তেলের পরিবার বলছে, তাদের মেয়ে কুমারিত্ব হারায় আলফির কাছে এবং মাইসি তারই সন্তান।

গুডসেল দাবী করেছে, সেই চ্যান্তেলের একগাঁদা ছেলে বন্ধুর মধ্যে প্রথম যে তার সাথে সম্পর্ক করেছে। তার সাথে সম্পর্ক হয় চ্যান্তেলেরা এলাকায় আসার একসপ্তাহের মধ্যেই। এমনকি চ্যান্তেলের মাও জানতে চেয়েছে সে শিশুটির বাবা কিনা। "চ্যান্তেলের মা আমাকে শিশুটির বাবা হিসেবে পাশে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি সকালে কলেজ ও রাত জেগে ফিডার খাওয়ানোর ভয়ে রাজি হইনি।"

বার্কার বলেছে, "চ্যান্তেলের সাথে সম্পর্ক আমার জীবনের বড় ভূল। আমার ইচ্ছা যদি তারা সাথে দেখা না হতো। ... একগাঁদা টিন এজ বালক রুটিন করে চ্যান্তেলের বাসায় রাত কাটাত।"


বৃটেনের অবক্ষিত সামাজিক জীবন:
the News Of The World এর ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৪ সাল তেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বৃটেনে প্রতিবছর ১৮ বছরের নীচে গড়ে ৪০ হাজার কুমারী গর্ভবতী হয়। কুমারী মেয়েদের গর্ভধারণ বন্ধ করতে এপর্যন্ত সরকারী ভাবে গৃহিত বড় সিদ্ধান্তগুলো:

১) ১৯৭৪: ফ্যামিলি প্ল্যানিং ক্লিনিক ১৮ বছরের নীচের মেয়েদের গর্ভনিরোধের পরামর্শ দেবে।

২) ১৯৯০: গর্ভপাত আইন পরিবর্তন করে গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহের পরিবর্তে ২৪ মাসে করা হয়।

৩) ১৯৯৯: স্কুল গুলোতে গর্ভনিরোধের উপর আরও প্রশিক্ষণ ও নার্সের ব্যবস্হা করা হয়।

৪) ২০০১: অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা ফার্মাসিস্ট থেকে পরামর্শ করে গর্ভনিরোধ পিল নিতে পারবে।

৫) ২০০৮: অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা কোন ডাক্তারী পরামর্শ বা প্রেস্ক্রিপ্শন ছাড়াই কেমিস্ট/ফার্মেসীগুলো থেকে গর্ভনিরোধ পিল নিতে পারবে।

বৃটেনের আইনে একজন ছেলে বা মেয়ে ১৬ বছর হলেই শুধুমাত্র অন্য কারো সাথে পারস্পরিক যৌন সম্পর্ক স্হাপন করতে পারে। কিন্তু সাসেক্সের পূলিশ ও সরকারী সংস্হাদের যৌথ তদন্তে আলফি-চ্যান্তেলের সম্পর্ক আইনসিদ্ধ না হলেও, যেহেতু কোন পক্ষই এর থেকে লাভবান হয়নি বলে প্রমাণিত , সে জন্য তারা কাউকে শাস্তির কথা বলছেন না।

আর বৃটেনে মা হওয়ার ও সরকারী ফ্যামিলি বেনেফিট পাওয়ার ন্যুনতম বয়সও ১৬। এর ফলে আলফি-চ্যান্তেলে সরকারী সাহায্য পাবে না। তবে চ্যান্তেলের মা ও কর্মহীন বাবা নাতনীর জন্য আবেদন করতে পারবেন।



বৃটেনের রাজনীতিতে আলোড়ন:
ম্যাট ডান্কলি নামের ইস্টসাসেক্সের শিশু পরিচর্যা বিভাগের পরিচালক বলেছেন, 'We have just launched our latest sexual health campaign as part of our on-going drive to get all our young people to take responsibility for their actions and understand the serious consequences of sexual relationships.'

এরকম ক্যাম্পেইন সারা বছরই হচ্ছে। এত কিছুর পরেও, বৃটেনে কুমারী মায়ের সংখ্যা কমছে না। আলফি-চ্যান্তেলের সাম্প্রতিক ঘটনায় বৃটেনের রাজনীতিতে আরেকটি আলোড়ন সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রাউন আলফি-চ্যান্তেলের ঘটনায় মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, "আমি কোন পৃথক ঘটনা সম্পর্কে জানি না। তবে অবশ্যই আমরা সকলে চাই টিনএজ গর্ভধারণ বন্ধ করতে।"

ডানকান স্মিথ নামের Centre for Social Justice এর একপরিচালক বলেছেন, "... too many dysfunctional families in Britain today have children growing up where anything goes. It exemplifies the point we have been making about broken Britain. It's not being accusative, it's about pointing out the complete collapse in some parts of society of any sense of what's right and wrong."

টরি দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, "When I saw these pictures this morning, I just thought how worrying that in Britain today children are having children."


শেষ কথা:
এর পরেও বৃটেনের সর্বকনিষ্ট পিতা আলফি নয়। এর আগে ১৯৯৮ সালে ১২ বছর বয়সী সিন ষ্টুয়ার্ট নামের একজন তার বাড়ির পাশের ১৫ বছরের এমার সাথে একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিল। মাত্র ছয় মাস পরে তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। আলফি-চ্যান্তেলে এখন মিডিয়ায় তাদের ভাল বাবা-মা হবার ঘোষণা দিলেও, দি সান কলামিস্ট জেন মুরের মতে এসব heartbreakingly naive কথাবার্তা।

আলফি-চ্যান্তেলের এই ঘটনায় বৃটেন সরকার হয়তো আবারও হয়তো সেদেশের আইন কানুন রিভিউ করে সংশোধনী আনবেন। কিন্তু ধর্মীয় আইন ও সামাজিক রক্ষণশীলতাকে পদদলিত করে পশ্চিমা দেশগুলো ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে ফ্রি সেক্সের যে সমাজ গড়ে তুলেছে, তার অন্তসারশূন্যতা আজ তারা দেখতে পাচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ, সীমাহীন মানসিক রোগী এবং ফি বছর কয়েক মিলিয়ন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মা। একমাত্র সৃষ্টি কর্তায় জানেন এর শেষ কোথায়।

এজন্য দি সান কলামিস্ট জেন মুর আক্ষেপ করে বলেছেন, "When boys as emotionally and physically child-like as Alfie start creating babies, it's the thin end of a wedge that will break the existing cracks in society so wide open that there will be no hope of repair."

আমাদের সুন্দর দেশটিতেও প্রগতিশীলতার নামে বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক ও লিভ টুগেদারের সংখ্যা বাড়ছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মিডিয়াতে ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক বন্ধনকে গুরুত্বহীন করে দেয়া হচ্ছে। এরফলে আমাদের ছেলে মেয়েরা আধুনিকতার নামে মাদক সেবন ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এসবের খারাপ ফল ইতিমধ্যে আমাদের সমাজে পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিককালে লালবাগে এক ইডেনের ছাত্রীকে জবাই করে হত্যা ও চারুকলায় ভর্তিচ্ছু ছাত্রীর সাথে এক শিক্ষক ও সিনিয়র ছাত্রদের অনৈতিক কার্যকলাপ শত শত উদাহরণের মাত্র দুটি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28916039 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28916039 2009-02-25 09:44:49
এবার প্রথমআলো কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের পদবী হনন পর্ব ভারতীয় ব্রিগেডিয়ারের পছন্দ-অপছন্দই প্রথমআলোর পছন্দ-অপছন্দ। উসমানীর নির্দেশের কোন মূল্য নেই প্রথমআলোর কাছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের তথ্যও পত্রিকাটি এড়িয়ে যায়।

ঢাকা ১৫ আসনে এবারে বিএনপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল্লাহ্‌ খান। সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের তথ্যানুসারে তিনি ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নবেম্বর-ডিসেম্বরে দায়িত্ব পালন করেন। নবেম্বরের আগ পর্যন্ত এই সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মেজর আবু তাহের (স্ক্রিনশটটি দেখুন)।

মেজর আবু তাহের ১ নভেম্বর যুদ্ধে আহত হলে, হামিদুল্লাহ্‌ খান ৩ নভেম্বর ১১ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব নেন সেক্টরের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা হিসেবে। প্রথআলো নিজেই উল্লেখ করেছে, একটি দলিলে দেখা যায়, প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭১ সালের ১৬ নভেম্বর ভারতের ব্রিগেডিয়ার সান্ত সিংকে একটি কোডেড বার্তায় মেজর তাহেরের আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ১১ নম্বর সেক্টরের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তাকে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান। তখন ওই সেক্টরের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা ছিলেন হামিদুল্লাহ্‌ খান।

প্রথমআলো আরো লিখে, ব্রিগেডিয়ার সান্ত সিং ওসমানীকে অনুরোধ করেন, হামিদুল্লাহ্‌ খান জ্যেষ্ঠতম, তবে সেক্টর কমান্ডার পদের জন্য যোগ্য নন। এই পদের জন্য পছন্দমতো অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে বললে, উসমানী 'যোগ্য কর্মকর্তা খোঁজা হচ্ছে' এই মর্মে সান্ত সিংকে বার্তা পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, বার্তায় উসমানী বলেননি, হামিদুল্লাহ্‌ খানকে ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার করার আগের নির্দেশ তিনি উইথড্র করেছেন বা যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত ১১ সেক্টর কমান্ডার বিহীন থাকবে।

তাই কথা হচ্ছে, সর্বাধিনায়ক উসমানীর নির্দেশেই হামিদুল্লাহ্‌ খান মুক্তিযুদ্ধের শেষ দু'মাস সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধকালীন এমন একটি সময়ে ঐ সেক্টরতো আর কমান্ডারবিহীন ছিল না। যুদ্ধ শেষের পর্যায়ে আর অফিসিয়ালি কাউকে ১১ নম্বরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তাছাড়া ২২ নভেম্বরের পর বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধীনে থেকে যুদ্ধ করে।

সে সময়ে অফিসিয়ালী রেকর্ডেড না হলেও, সর্বাধিনায়ক উসমানীর নির্দেশেই হামিদুল্লাহ্‌ খান ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। আর ভারতীয় ব্রিগেডিয়ারের আপত্তির মুখে নতুন করে কাউকে নিয়োগের সুযোগও পাননি উসমানী। তাহলে, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা এটাই বুঝি, উসমানীর নির্দেশই এখানে মুখ্য, ভারতী ব্রিগেডিয়ারের নয়। অতএব, সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম এজন্য হামিদুল্লাহ্‌ খান ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নতিভুক্ত করেছে।

তাহলে কি আমরা মনে করব, ভারতীয় ব্রিগেডিয়ারের পছন্দ-অপছন্দই প্রথমআলোর পছন্দ-অপছন্দ? মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক উসমানীর নির্দেশের কি কোন মূল্য নেই? হামিদুল্লাহ্‌ খান যে ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন তার কি কোন স্বীকৃতি প্রথমআলো দিবে না? এরকম আরো যারা নাম না জানা অকুতোভয় হামিদ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের সবার কি অফিসিয়াল রেকর্ড দরকার? আর যদি প্রকৃত রেকর্ডই থাকে, তবে আজ মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের এতো ভীড় কেন?

প্রথমআলোর এতোসব উষ্মার কারণ হচ্ছে, হামিদুল্লাহ্‌ খান মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মৌলবাদী দল জামাতের গড়া বিতর্কিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আলোচনা সভায় কেন বক্তৃতা করলেন? এর আগে মুক্তযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে রাজাকার উপাধি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা স্বয়ং। এর মূল কারণ, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মেজর জলিল ভারতী বাহিনীর লুটতরাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এই কারণে, শেখমুজিব ভারতকে খুশি করতে গিয়ে জলিলকে গ্রেফতার করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। তিনি হচ্ছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী! পরবর্তীতে তিনি জাসদের মাধ্যমে মুজিব আমলের আওয়ামী অপকর্মের প্রতিবাদ করেন ও ৮০র দশকে ইসলামী রাজনীতি শুরু করেন।

এখন বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কারণে, হামিদুল্লাহ্‌ খানকে সরাসরি রাজাকার উপাধি না দিয়ে তাঁর সেক্টর কমান্ডার পদবী কেড়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে। অদুর ভবিষ্যতে হামিদুল্লাহ্‌ খান কোন ইসলামী রাজনীতি করলে তাকেও রাজাকার উপাধি দেওয়া হতে পারে জলিলের মতো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28889277 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28889277 2008-12-28 18:26:27
ভারতের পক্ষে আলো-স্টার গ্রুপের নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও দালালী: বাংলাদেশের পানিসীমায় ভারতের জরিপ প্রসঙ্গে আমাদের সময়নয়াদিগন্ত) বাংলাদেশ নৌসীমায় ৩ ভারতীয় জাহাজের জরিপ কাজে নিয়োজিত থাকার খবর প্রকাশ পায়। আলো-স্টার সহ বাংলাদেশের মেজর মিডিয়া এই খবরটি ছাপেনি। চবির পরীক্ষানিয়ন্ত্রকের গোপন ভল্ট থেকে বিচারপতি ফয়েজির ট্যেবুলেশনশিটের ছবি অনৈতিকভাবে তুলে পত্রিকায় ছাপলেও (পরে হাইকোর্টের বিচারে ফয়েজির সার্টিফিকেট জাল নয় বলে রায় দেয়ার পরে আলো-স্টারের গোপন উদ্দেশ্য প্রকাশ হয়ে যায়), দেশের ওপেন পানিসীমায় ভারতীয় আগ্রাসনের (বাংলাদেশ নৌ-সদর ও পররাষ্ট্রসচিবের থেকে প্রাপ্ত) এই খবর ওরা ছাপেনি।

অনেক পাঠক হয়ত: নির্বাচনের এই ডামাডোলে খবরটি মিস করেছেন অথবা আলো-স্টারের এই শঠতাকে নিছক ভুল বলে মনে করে এড়িয়ে গিয়ে থাকবেন। একজন সচেতন পাঠক আলো-স্টারে এই খবর না পেয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, আলো-স্টার কি বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের কাছে বেশি দায়বদ্ধ এবং ঢাকার পরিবর্তে এদের হেডঅফিস কি দিল্লিতে?

অনেকের মতো আমার টনক নড়ল আজকের খবরে, যখন আলো-স্টার ছাড়া দেশের সবমিডিয়া লিখেছে ভারতীয় জাহাজ বাংলাদেশের পানিসীমা ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং জরিপ কাজ অব্যাহত রেখেছে। দেখুন, বিডিনিউজ, ইত্তেফাক, আমাদেরসময়, নয়াদিগন্ত

প্রথমআলোর আজকের লেখার হেডিং বাংলাদেশের জলসীমা থেকে সরে গেছে ভারতের জরিপ জাহাজ এবং শুরুতে এর স্বপক্ষে লিখলেও একটু পরেই লিখেছে, জানা গেছে, জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হলেও ভারতীয় পক্ষ তা মানছে না। তারা বাংলাদেশের ১৪ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। পাঠক আরো খেয়াল করবেন, পুরো লেখায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথা দিয়ে পাঠকদের মানসিকতাকে ভারতের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পিনাক রঞ্জনের স্পষ্ট হুমকিকে নরমভাবে তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, "তিনি হেসে দিয়ে বলেন, 'দেখুন, উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইলে আমরা কিছু করতে পারতাম। সেটা মোটেই আমাদের অভিপ্রায় নয়।'"

ডেইলি স্টারও পুরোপুরি একই রিপোর্ট ছেপেছে।Indian ships leave Bangladesh waters হেডিংয়ের লেখায় ভেতরে লিখেছে, "Presently the tension has diffused. But there is a chance that India might send survey ships in the future. Our government must take this matter seriously to avert such tensed situation in future," said a source." তথ্যসূত্র কি তা ডেইলি-স্টার উল্লেখ করেনি। প্রথমআলোর মতোই, ডেইলিস্টারও পুরো লেখায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথা দিয়ে পাঠকদের মানসিকতাকে ভারতের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

স্পষ্ঠত:ই এতে আলো-স্টারের ভারতের পক্ষে দালালী ও অসততা স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের বাংলাদেশবিরোধী অবস্হান পরিস্কার হয়ে উঠে এবং তাদেরকে 'র' এর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ভারতের বেতনভুক্ত মিডিয়কর্মী বলেই প্রতীয়মান হয়।

পরিশেষে, স্মরণীয়, মাসখানেক আগে মিয়ানমারের একইরকম অপকর্মে আলো-স্টারসহ বাংলাদেশের মেজর মিডিয়ার বদৌলতে সেদেশের সামরিক জান্তা বেশি এগোতে পারেনি। এবার ভারতের ক্ষেত্রে অনুরূপ জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এরা ব্যর্থ হয়েছে। এতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই মিডিয়াগুলোর নতজানু নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠে। সচেতন পাঠকটির মতোই অনেকের প্রশ্ন জাগায় স্বাভাবিক, আলো-স্টার কি বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের কাছে বেশি দায়বদ্ধ এবং ঢাকার পরিবর্তে এদের হেডঅফিস কি দিল্লিতে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28889093 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28889093 2008-12-28 11:35:23
বোমা মানিকের পরে এবার বোমা মোবারক ও বোমা মনিরুজ্জামান!
এবার যশোরের শার্শায় আওয়ামীলীগ নেতা মোবারক হোসেনের বাড়ি থেকে গতকাল সকালে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ দল বোমা তিনটি নিষ্ত্র্নিয় করেছে। র‌্যাব সদস্যরা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মোবারককে আটক করেছেন। গত ছয় দিনের ব্যবধানে শার্শায় এ ধরনের তিনটি ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর জন্য একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত সন্ত্রাসীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে যশোর র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা শার্শা উপজেলার গোগা-কালিয়ানীর যুবলীগ নেতা নাসিরের বাড়ি থেকে ১০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে। এ ঘটনার দুই দিনের ব্যবধানে শার্শার চটকাপোতা গ্রামের যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান তোতার বাড়ি থেকে তিনটি টাইমবোমা উদ্ধার করে। সর্বশেষ গতকাল সকালে লাউতাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোবারকের বাড়ি থেকে তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। পরপর এ তিনটি ঘটনায় শার্শা উপজেলার সাধারণ ভোটার ও জনগণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সূত্র: আরটিএনএন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888571 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888571 2008-12-27 10:20:06
ধানমন্ডিতে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক! মহাজোটের পক্ষে ফল পাল্টানোর বিভিন্ন কারসাজি
উপস্হিতিদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলেন,
১) আহমদুল হক চৌধুরী (পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
২) আবদুর রহিম (পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
৩) নজরুল ইসলাম (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৪) মতিউর রহমান (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৫) মোস্তফা কামাল (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৬) শফিকউল্লাহ (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৭) আবদুল খালেক (এসপি)
৮) আসাদুজ্জামানসহ (সাবেক যুগ্ম সচিব)

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কম ভোটের ব্যবধানে চার দলের প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ৩৫টি আসনে নির্বাচনকে মহাজোটের পক্ষে প্রভাবিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন চাকরিরত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়। যাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার ডিআইজি, নাটোরের এসপি, ঝালকাঠির এসপি, নীলফামারীর এসপি এবং শেরপুরের এসপি।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিকল্পিত জেলাগুলোতে একটি করে টিম পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে নির্বাচনকে মহাজোটের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মোস্তফা কামাল ও এসপি আবদুল খালেকের নেতৃত্বে একটি টিম সিলেট ও মৌলভীবাজার রওনা হয়েছে।

জানা গেছে, সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রশাসনকে প্রভাবিত করে চার দলের প্রার্থীর ভোট যেসব এলাকায় বেশি রয়েছে সেসব এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে ভোট গ্রহণের হার কমিয়ে দিতে হবে। এর বিপরীতে মহাজোট প্রভাবিত এলাকায় ভোট গ্রহণের হার দ্রুততর করতে হবে। একই সাথে চারদলীয় প্রার্থীর পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মীদের বিভিন্ন মামলায় জড়িত বলে অথবা জড়িত করে গ্রেফতার ও হয়রানি করতে হবে যাতে তারা নির্বাচনের দিন এবং এর আগে চার দল প্রার্থীর পক্ষে কোনো কাজ করতে না পারে। সে সাথে চার দল কর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, সভার আলোচনায় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার ডিসি ও এসপি মহাজোটের পক্ষে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে কোনো কোনো আসনে ভোট গণনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তা ও বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় মহাজোটের পক্ষে প্রভাবিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, আজকালের মধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টিম টার্গেটকৃত জেলাগুলোয় পৌঁছে যাবে। তাদের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলার জন্যও বলা হয়েছে। (সূত্র: আজকের দৈনিক)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888564 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888564 2008-12-27 08:06:00
নূহের নৌকা বনাম হাসিনার লগি-বৈঠা http://awamileagueexposed.com/.

ইতোমধ্যে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। একটি দল তাদের নৌকা প্রতীককে নূহ নবী (আঃ)-এর নৌকার সাথে তুলনা করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে নূহ (আঃ)-এর নৌকা ছিল আল্লাহর দীনের পক্ষে; সত্যের পক্ষে; আর এদেরটা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষবাদের পক্ষে। নূহের নৌকা ও হাসিনার নৌকার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে দলটির নিম্নোক্ত কার্যকলাপের উল্লেখ প্রয়োজন।

১. সন্ত্রাস লালনে অগ্রদূতঃ
২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। এই দলের সভানেত্রী পল্টন ময়দানের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের ২৮ অক্টোবরের সমাবেশে লাঠি-লগি-বৈঠা নিয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মতো লাঠি-লগি-বৈঠা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা উপস্থিত হন পল্টনে। ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিপক্ষের নীরিহ নেতাকর্মীদের উপর। বর্বর ও পৈশাচিক কায়দায় এদের ছয়ছয়জনকে হত্যা করেন। তারা রাজনৈতিক জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে লাশের উপর নেচে নেচে উল্লাস করেন।

২. মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাতকঃ
তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বলে দাবী করলেও ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদারসহ স্বাধীনতার সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিশ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন।

৩. গণতন্ত্রের হত্যাকারী:
আধিপত্যবাদের দোসর এই দল এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও সরকার বিরোধী সকল পত্রিকার কণ্ঠরোধ করে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

৪. যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা ঘোষণাঃ
তারাই ১৯১ জন পাকিস্তানী আর্মীর চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীসহ ৯১৫৪৯ জন পাকিস্তানী সৈনিককে কোন বিচার না করে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে জামাই আদরের মাধ্যমে তাদেরকে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এরাই এখন আবার তাদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এদেশের কিছু নেতাকে যুদ্ধাপরাধী বলে সাজা দেয়ার আবদার করে যাচ্ছেন।

৫. স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিঃ
এই দলটিই ভারতের সাথে ২৫ সাল গোলামী চুক্তির মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শান্তিচুক্তির নামে এদেশের সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দিয়েছে। ভারতে আশ্রিত বঙ্গভূমি আন্দোলনের নেতা চিত্তসূতার ও কালিনাথ বৈদ্য তাদের দলেরই লোক।

৬. দেশকে শিল্পশূন্য করার ব্যবস্থাপকঃ
১৯৭১ সালে ভারতীয় বাহিনী এদেশের বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার যন্ত্রাংশ খুলে নেয়সহ প্রায় ষাট হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটে নিয়ে গেলেও তাদের বাধা দেয়ার শক্তি এই দলের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর হাতে থাকলেও, তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি, বাধা দেয়নি।

৭. একটির বদলে দশটি লাশ ফেলার নির্দেশ দানকারীঃ
এই দলেরই সভানেত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই ২০০১ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলার জন্য উস্কানী দিয়েছিলেন। যার অনিবার্য পরিণতিতে ২০০০-২০০১ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় এই দলকর্তৃক অনেক লোকই নৃশংস হত্যার বলি হয়।

৮. বিচারকদের হুমকিদাতাঃ
এই দলেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন জনাব মুহাম্মদ নাসীম। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবিতে আদালতের বিচারকদের হুমকি দেয়ার উদ্দ্যেশ্যে দলের লোকজন নিয়ে লাঠি মিছিল করেন। এই দলেরই আইনজীবীগণ হাইকোর্টের আদালত ভাঙচুর করে এদেশের বিচার বিভাগের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করেন।

৯. পবিত্র সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনকারীঃ
এদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কুফরী মতবাদ সেক্যুলারিজমকে তাদের দলের গঠনতন্ত্রে আজও স্থান দিয়ে রেখেছেন এ দলের নেতানেত্রীগণ।

১০. নারীজাতির সম্মান ভূলুণ্ঠনে অগ্রগামীঃ
ছাত্রলীগের এক নেতা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করে যে কলঙ্কিত ইতিহাস গড়েছে তা নারীর সম্ভ্রম ভূলুণ্ঠনের ক্ষেত্রে শয়তানকেও হার মানিয়েছে।

১১. স্বৈরাচারীঃ
১৯৯৬ সালে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে দলটি ক্ষমতায় আসে। স্বৈরাচারীরূপে আত্মপ্রকাশ করে অল্পদিনের মধ্যেই। গড়ে তোলে গড-ফাদারদের তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমানের ক্যাডারদের নৃশংস অত্যাচার আজও জাতির কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে বিরাজ করেছে। এই দলেরই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে গণভবনকে নিজের স্থায়ী বাসভবন হিসেবে বরাদ্দ নেয়। বিরোধী দলের হরতাল বানচালের জন্য এই দলেল পক্ষ থেকেই সশস্ত্র জঙ্গি-মিছিল বের করা হয়। এককালের স্বৈরাচারী শাসক এরশাদ সাহেব এখন তাদেরই সহযাত্রী।

১২. ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানঃ
এ দলটি ক্ষমতায় গিয়ে মৌলবাদীদের আখড়ার অভিযোগ তুলে অসংখ্য মাদরাসা ব করে দেয়। এরা কুকুরের মাথায় টুপি পরিয়ে টুপিকে ব্যঙ্গ করতেও দ্বিধা করেনি। বায়তুল মোকাররমকে মুসুল্লিদের রক্তে এরা রঞ্জিত করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর চলে আসা চট্টগ্রামের তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ব করে দিলে প্রতিবাদ মিছিল সংঘটিত হয়। এই মিছিল থেকে প্রায় ষাট জন মুসুল্লীকে এই দলেরই সরকার কারারুদ্ধ করেন।

১৩. সত্যের অপলাপে অভ্যস্তঃ
এই দলেরই ঘোষণা ছিল­ “বিরোধী দলে গেলে কখনো আর হরতাল করব না। পরবর্তীতে বিরোধী দলে গিয়ে­­ অসহযোগ, অবরোধ ও হরতাল করে দেশের সত্তর হাজার কোটি টাকা ধ্বংস করেছিল এই দলটিই। ১৯৮৮ সালে ফারাক্কার প্রভাবে বন্যায় যখন জাতির নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন এই দলই জাজ্জ্বল্য মিথ্যার প্রশ্রয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছিল, ফারাক্কার কারণেই বন্যা হয়েছে বলে যারা বিশ্বাস করে তারা মূর্খ, তাদের ভূগোল জ্ঞান নেই।

১৪. ভারত তোষণে সিদ্ধহস্তঃ
এ দলের পররাষ্ট্র নীতিই ছিল ভারত তোষণ করা। ভারত তালপট্টি দখল করলেও তারা টু শব্দটি করেনি। ভারতে মুসলিম নিধনের মহড়া চললেও তারা নিশ্চুপ থাকে। ভারতকে গঙ্গার পানি ব্যবহারে অসম অধিকারভোগের চুক্তি করে তারা দেশকে মরুভূমি বানানোর ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশ যাতে ভারতের একচেটিয়া বাজারে পরিণত হয় তারও ব্যবস্থা করতে পিছপাও হয়নি এই দলের সরকার। এরা বারবার ভারতে গিয়ে এদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের কাল্পনিক কাহিনী তুলে ধরে দেশের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888334 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888334 2008-12-26 19:48:30
প্রসঙ্গ: জঙ্গীবাদ দমনে কে সরব আর কে সফল? প্রথমআলোর নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগকে বেশি সরব এবং বিএনপিকে 'আগের অবস্হানে' উল্লেখ করা হয়েছে। 'আগের অবস্হান' বলতে ২০০৪ সালে বাংলা ভাইকে প্রশ্রয় দেয়ার সময়ের কথা বলা হয়েছে। রাজশাহী-বাগমারা অঞ্চলে সর্বহারাদের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়ায় স্হানীয় জনসাধারণের মতো বিএনপি নেতৃত্ব প্রথমে বাংলা ভাইকে সাপোর্ট দিলেও ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার পরে এই বিএনপি সরকারই তাকে গ্রেফতার করে বিচারে ফাঁসির রায় দেয়, পরে যা কার্যকর হয়। এরকম একটা উদাহরণ, সরব আওয়ামীলীগ কখনও দেখাতে পারেনি। বরং ১৯৯৮-৯৯ সালের উদীচী, রমনার বটমূলে বোমা হামলাগুলোর পেছনে যার সংশ্লিষ্ঠতার কথা মিডিয়ায় এসেছে সেই সৈয়দ হাসান ইমাম আওয়ামী বলয়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলে এসব মামলার কোন অগ্রগতই হয়নি।

কিন্তু প্রথমআলোর উপরোক্ত লেখায় জঙ্গীবাদ দমনে কোন্ দল ক্ষমতা থাকা অবস্হায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে বা সফল তার কোন উল্লেখ নেই। কোন্ দলের আমলে সরকারী দলের ছত্রছায়ায় জঙ্গীবাদ বিস্তার লাভ করেছে তার কোন বিশ্লেষণ নেই। আমরা প্রথমআলোর লেখার দুটি দলের এই দুটি অবস্হান নিয়ে একটু ব্যাখ্যা করি।


আওয়ামীলীগের সরবতা:
জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ বরাবরই বেশি সরব! তাদের এই সরবতা আসলে কাজের না - অনেকটা যত গর্জে তত বর্ষে না টাইপের। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা না নিয়ে উল্টো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিরোধী দলের উপর দোষ চাপিয়েছেন। প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিকুল ইসলামের সততায় ভীত হয়ে শেখ হাসিনা নাসিমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন যাঁর বহুল প্রচারিত চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে কার্যত সন্ত্রাস দমন তো দূরের কথা হাজারী, ইকবাল, শামীম উসমানের মতো সরকারী এমপিরা প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে রাজপথে মানুষ হত্যা করেছেন। তাঁর চিরুনীর দাঁত ভাঙ্গা থাকায় এসব গডফাদাররা কেউই ধরা পড়েননি। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হীন উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদেরকে আসামী করে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। সকল মহলের অবিরাম দাবি সত্ত্বেও এতগুলো নৃশংস বোমা বিস্ফোরণের কোনটিরই বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হল না কেন? সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা হত্যার একটি ঘটনারও তদন্ত করে অপরাধীদেরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হলেন না কেন?

আসুন আওয়ামীলীগের ('৯৬-'০১) জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কিছু নমুনা দেখি:
ক. সন্ত্রাসের গডফাদারদের কয়েকজন:
১) ফেনীর জয়নাল হাজারী, ২) নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান
৩) বরিশালের আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ৪) লক্ষ্মীপুরের আবু তাহের
৫) ঢাকার ডাঃ এইচবিএম ইকবাল, ৬) ঢাকার হাজী সেলিম
৭) চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান বাবু, ৮) ময়মনসিংহের আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ, এবং
৯) সিলেটের মহিবুর রহমান ওরফে বোমা মানিক


খ. শীর্ষ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কয়েকটিঃ
০ মালিবাগে আওয়ামী এমপি ইকবালের নেতৃত্বে গুলি করে চারজনকে হত্যা।
০ যশোরে সাংবাদিক শামসুর রহমান হত্যা।
০ নওগাঁয় আদিবাসী নেতা সালফেন্সড সরেন হত্যাকাণ্ড।
০ আইনজীবী কালিদাস বড়াল হত্যাকাণ্ড।
০ বিএনপি নেতা ও আইনজীবী হাবিবুর রহমান মণ্ডল হত্যাকাণ্ড।
০ শেখ হাসিনার বাবী নগর আওয়ামী নেত্রী নসিবুন নাহারের ছেলে সুমনের হাতে সূত্রাপুরে জোড়া খুন।


গ. নারী ধর্ষণ/নির্যাতনঃ
শেখ হাসিনার 'সোনার ছেলে' সেঞ্চুরিয়ান মানিকের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে যে, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রী ধর্ষণে সেঞ্চুরি করার পর উৎসব করেছিল। এছাড়া আরো অনেক যা সে সময়ের পত্রপত্রিকায় আছে।


ঘ. আলোচিত হত্যাকাণ্ডঃ
০ আওয়ামী লীগ নেতা কাদেরের হাতে রামপুরার হাজীপাড়ায় বুশরা হত্যাকাণ্ড
০ আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মজুমদারের ছেলে জুয়েলের হাতে ব্যবসায়ী শিপু হত্যাকাণ্ড। আওয়ামী এমপি মায়া চৌধুরীর ছেলে দীপু চৌধুরী বাহিনীর হাতে তারাজউদ্দিন হত্যা।
০ আওয়ামী নেত্রী মুকুলি বেগমের ইনে সিদ্ধেশ্বরীতে পুলিশী নির্যাতনে মেধাবী ছাত্র রুবেল হত্যা
০ ডিবি অফিসের পানির ট্যাঙ্কে জালালের লাশ।


ঙ. আওয়ামী সন্ত্রাসে আক্রান্ত সাংবাদিক:
১) দৈনিক রানার সম্পাদক মুকুল, ২) জনকণ্ঠের সাংবাদিক শামসুর রহমানসহ কমপক্ষে আটজন সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ৩) আহত হন ফেনীর (বর্তমানে প্রথম আলোর সাংবাদিক) টিপু সুলতানসহ আরো অনেকে।


বিএনপির 'আগের অবস্হান':
মূলত সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বিএনপি তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখিয়েছে। ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার আগ পর্যন্ত বাংলাভাইকে নিয়ে নীরব থাকলেও দ্রুত জেএমবির শীর্ষ কর্তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসির রায় প্রদান (পরে কার্যকর, ২০০৭) দেশে বোমাবাজির ঘটনাকে বড় ভাবে কমিয়ে আনে। এছাড়া র‌্যাব গঠন ও সন্ত্রাস দমন বিএনপির অন্যতম বড় সাফল্য।

এরপরেও বিএনপির ব্যর্থতা আছে। ঢাকার গডফাদার ডিপজলের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কাজকর্ম এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী জালাল হত্যাকান্ড উল্লেখযোগ্য। ক্ষমতার একেবারে শেষের দিকে ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ এর লগিবৈঠা বাহিনী কর্তৃক জামাত কর্মীদের নৃশংস হত্যায় স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বাবর সহ পূলিশ বাহনীও জড়িত বলে অভোযোগ আছে। এজন্য বিএনপি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে শতভাগ সফল বলা যাবে না, তবে তারা অনেকটাই সফল একথা নির্দিধায় বলা যায়।



পরিশেষে বলব, নিন্দুকেরা বিএনপির প্রতিষ্ঠিত র‌্যাবের বিরুদ্ধে একসময় পত্রিকায় প্রতিদিন ফিচার ও বইমেলার জন্য বই লিখলেও (হলুদ হিমু কালো র‌্যাব), এখনও সেই র‌্যাবই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে সবচেয়ে কৌশলী বাহিনী। অথচ তারা এখন দেখতে পাচ্ছে, এই তত্ত্ববধায়ক সরকারের পুরো সময় এবং এখন নির্বাচনপূর্ব জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সেই র‌্যাবই সবচেয়ে বেশী কার্যকর। দু:খের বিষয়, এখন নিন্দুকদের কলমের কালিও শুকিয়ে গেছে! সে র‌্যাবের কথা ও এর প্রতিষ্ঠাতার কথা প্রথমআলোর লেখায় একবারও আসেনি। বরারবরের মতোই কিছু গদবাঁধা কথা বলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্ঠা করেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888304 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28888304 2008-12-26 18:37:40
শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্যের পাঁচ বছর ('৯৬-'০১)
গত পাঁচ বছর শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে তার পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে তিন ধরনের কর্মসূচি পালন করেনঃ

১. শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা:
দেশে যত রকম প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও সংস্থা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তির নামের সাথে যুক্ত নয়, সেসবের সাথে তার পিতা-মাতা, ভাইবোন ও আত্মীয়দের নাম সম্পৃক্ত করা।

২. দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হল, হাটবাজার, ঘাট, ব্যাংক, বীমা, সরকারি খাস জমি ও বস্তি এলাকা দলীয় লোকদের দখলে আনা এবং সকল প্রকার পেশাজীবী সমিতির কর্তৃত্ব দলীয় লোকদের হাতে তুলে দেয়া। জাতির পিতার ইস্যু­­ কোন ব্যক্তিকে জাতির পিতার মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি জনগণের আবেগের সাথে জড়িত। শক্তি প্রয়োগ করে বা আইনের দাপটে ওই আবেগ সৃষ্টি করা যায় না।

৩. সেনাবাহিনীতে অনেক যোগ্য জেনারেল থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার কারণে একজন অবসরপ্রাপ্ত অযোগ্য জেনারেলকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

৪. সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে অপসারণ করে শেখ হাসিনার বংশবদ লোকদের বসানো হয়েছে।

৫. যত পেশাজীবী সমিতি রয়েছে তাতে নেতৃত্বের পদে দলীয় লোকদের বসানোর জন্য সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে যত রকম ষড়যন্ত্র ও নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করা সম্ভব তা করতে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সুপ্রীম কোর্ট বার সমিতি ও জেলা বার সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি সমিতি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই দলীয়করণের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে ত্রুটি করেননি।

৬. সম্পদ দখলের ব্যাপারটা বিরাট। ব্যাংক, বীমা, গাড়ি, সরকারি খাস জমি, বস্তি, হাট-বাজার ও ঘাটের ইজারা দুর্বল লোকদের বাড়ি-ঘর ও জমি-জমা দখল ইত্যাদির জন্য শেখ হাসিনা তার দলের সবাইকে অবাধ লাইসেন্স দিয়েছেন।

৭. দখলের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো শেখ হাসিনার গণভবন দখল। তিনি জাতির পিতার কন্যা, আওয়ামী লীগ প্রধান ও সর্বাপেক্ষা শক্তিধর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছোট-খাটো কোন সম্পত্তি দখল করলে মোটেই মানায় না। তিনি দাপটের সাথেই সাংবাদিকদের কাছে পূর্ণ আস্থা সহকারে দাবি করেছেন যে, যদ্দিন তিনি রাজনীতি করবেন তদ্দিন গণভবনেই থাকবেন।

৮. গণতন্ত্র হত্যার অপচেষ্টা:
'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন' প্রবচনটি মনে আসে যখন শেখ হাসিনাকে 'গণতন্ত্রের মানসকন্যা' বলা হয়। তার কথা, কাজ, মেজাজ ও আচরণে গণতান্ত্রিকতার সামান্য গও যে পাওয়া যায় না, সে কথা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই লিখছি। এ দেশকে সোনার বাংলা বানানোর জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন এর সকল স্বপ্নই তার পিতা দেখতেন বলে তিনি দাবি করেন। যমুনা সেতু নাকি তারই পিতার স্বপ্ন। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও তারই স্বপ্ন। শেখ হাসিনা তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই গত পাঁচ বছর সবকিছু করেছেন। আবার ক্ষমতায় যেতে পারলে অবশিষ্ট স্বপ্ন বাস্তবে রূপদান করার অভিলাষ রাখেন।

৯. বাকশালী সংসদ
জাতীয় সংসদকে বাকশালী পদ্ধতিতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে বিরোধী দল সংসদ বর্জন করতে বাধ্য হয় এবং বিনা বাধায় স্বেচ্ছাচারমূলক আইন পাস করা যায়।

স্পিকারকে শেখ হাসিনা পূর্ণ আজ্ঞাবহ হতে বাধ্য করেছেন। তিনি স্বয়ং এবং তার মন্ত্রীগণ বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ বিরোধীদলের প্রতি চরম অশালীন ভাষা ও আপত্তিকর আচরণ করে সংসদ বর্জন করতে বাধ্য করেছেন। পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে সংসদে উপস্থিত রাখার আসল দায়িত্ব সরকারের। এতে অক্ষম হলে সরকার চরম ব্যর্থ বলে বিশ্বে গণ্য হয়।

১০. বিচার বিভাগের ওপর জঘন্য হামলা
আমাদের দেশে কোন সরকারের আমলেই বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার শাসনতান্ত্রিক দাবি পূরণের চেষ্টা করা না হলেও ইতোপূর্বে কখনও বিচার বিভাগের ওপর প্রকাশ্য হামলা করা হয়নি।

স্বাধীন বিচার বিভাগ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অন্যতম ভিত্তি। শাসন বিভাগের জুলুম-নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়ার আইনগত আশ্রয়ই হলো বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনার আমলেই সর্বপ্রথম হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টের ওপর জঘন্য হামলা শুরু হয়। এ হামলার উদ্বোধন করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আদালত তো অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত নয়। তাই শেখ হাসিনার মতো কটূভাষীর মনে আদালতের সতর্কবাণী সামান্য লজ্জাবোধও সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি আবারও বিচারকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। আদালত আবারও তাকে ভর্ৎসনা করলেন। আদালতের ওপর মনের ঝাল ঝাড়ার জন্য সংসদীয় নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে সংসদ অধিবেশনেই তিনি বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করলেন। এ বিষয়ে তিনিই বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করতে সক্ষম হলেন।


১১. রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ
গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই জনসভা, মিছিল, হরতাল ও প্রতিবাদ করার অধিকার স্বীকৃত। শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে এসব অধিকার তিনি ভোগ করে এসেছেন। ১৯৮৩ সাল থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত দেশে এসব অধিকার মোটামুটি বহাল ছিল। অবশ্য মাঝে মাঝে অধিকার হরণ করাও হয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28887633 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28887633 2008-12-25 05:48:57
দেশের স্বার্থেই নাস্তিক বামগুরু মেননকে প্রতিহত করুন নকশাল,সর্বহারা পার্টি, পুর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি প্রভৃতির ব্যানারে যারা এই বিভিষিকাময় পরিস্থিতি সৃস্টি করে, মেনন সাহেব ছিলেন তাদেরই এক গুরু।

এই মেননই বাম নেতাদের সাথে নিয়ে ১৯৯২ সালের ২১ মার্চ
জুতা পায়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রবেশ করে এবং খতিবকে হুমকি দেয়। গনতন্ত্রে অবিশ্বাসী, সমাজতান্ত্রিক একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী মেননদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটা নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্রী
পরনির্ভরশীল করদরাজ্যে পরিণত করা। এই লক্ষ্যেই বাম গুরু মেনন ধর্ম ও গনতন্ত্রের লেবাস পরে, হাতুড়িকে বিসর্জন দিয়ে নৌকায় চড়ে, আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে পা রাখতে চান।

কিন্তু এদেশের দেশপ্রেমিক, সচেতন মানুষ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত, আধুনিক বিশ্বে অচল, নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্রকে পবিত্র জাতীয় সংসদে দেখতে চায় না। এ যাবত প্রতিটি নির্বাচনে দেশপ্রেমিক সচেতন জনতার
রায়ে তারা শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়েছে, জামানত হারিয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের সচেতন জনগন এবারো ব্যালটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দিবে।

'৭৫ এর পরে জন্ম নিয়ে আমি যতটুকু জেনেছি, তাতে আমার বিশ্বাস ৭১ এ আওয়ামীলীগের ১০০% জনপ্রিয়তা থেকে ৭৫ এ শুন্যে নেমে আসা ও বঙ্গবন্ধুর করুণ পরিণতির জন্য এসব নাস্তিক-বামেরা কম দায়ী নন। সেনাবাহিনীর ক্ষমতালিপ্সু বিপ্লবী জাসদ কর্মীরা ৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরে হাত মিলিয়েছিল।

তাই দেশের স্বার্থে আজ সবাই এই নাস্তিক বামগুরু মেননকে প্রতিহত করুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28886667 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28886667 2008-12-23 11:51:35
১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ : Wiki বনাম বাস্তবতা নোট: পাঠকদের ধৈর্য সহকারে পড়ার ও মন্তব্য করার অনুরোধ রইল।

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দূর্ভিক্ষে ১০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ, উইকি অত্যন্ত দায়সারা ভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা এখানে প্রমাণ সহকারের বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

Wiki information
==============
ইংরেজী উইকির ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের এই দূর্ভিক্ষের উপর Bangladesh famine of 1974 শীর্ষক ৫-৬ লাইনের ছোট লেখাটি পড়ে যে কেউ ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের ঘটনাকে গুরুত্বহীন মনে করবেন এবং ভূল তথ্য পাবেন। এর পেছনে যে প্রকৃতপক্ষে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের সীমাহীন দূর্নীতি ও লুটপাট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী ভারত সরকারের লুটপাট - এরকম কারণগুলো মূলত দায়ী - উইকির নিবন্ধে সে সব কিছুই আসেনি।

উইকির নিবন্ধে দূর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করা হয়েছে দু'টি কারণ:
১) a combination of natural disasters (cyclones, droughts and floods) in the early 1970's: আশ্চর্য ব্যাপার! ১৯৭০ এর ঘুর্নিঝড়ের পরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে এদেশের মানুষ না খেয়ে মরেনি। তাহলে ১৯৭০ সালের ঘুর্নিঝড়ের কারণে কেন ১৯৭৪ সালে মানুষ মরবে। পাগলেও একথা বিশ্বাস করবে না। আর কারণ যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত ৩ বছরে বাংলাদেশ সরকার কি করেছিল? (এ আলোচনায় পরে আসছি)

২) various local and internationally influenced socio-political factors: the U.S. had withheld 2.2 million tonnes of food aid: মানুষ এতো কান্ডজ্ঞানহীন কিভাবে হয়? আমেরিকর সাহায্যের জন্য কেন আমাদের বসে থাকতে হবে? এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, হেনরী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি দিয়েছে, তারা পাকিদের দোসর -- কেন বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার সাহায্যের আশায় বসেছিল? কেন ভারত-রাশিয়া-ইসরাঈল-ভুটান, যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিদাতা, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলনা? এরাই তো তৎকালীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু!

মজার ব্যাপার হলো, socio-political factors গুলোর মধ্যে প্রকৃত কারণগুলো উইকি লিখেনি!


বাস্তবতা:
=========
এবার আসুন দেখি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় আগ্রাসন কতটুকু দায়ী।

১) ৫০০০ কোটি টাকার সম্পদ ভারতে পাচার:
দুইশ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ যা পারেনি, ২৫ বছরে পাকিরা যা করার সাহস পায়নি, মাত্র ৩ বছরে হিন্দুস্হানী মাড়োয়ারী বঙ্গবন্ধুরা (!) তাই করেছে। লুটপাটের খতিয়ান:

ক. ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা।
খ. পাট (৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা।
গ. ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা।
ঘ. যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা।
-------------------------------------
সর্বমোট: ৫০০০ কোটি টাকা (প্রায়) (সূত্র: জনতার মুখপত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫)


ভারতীয় অমৃতবাজার দৈনিক (১২ মে ১৯৭৪) থেকে, ভারত সরকার ২-২.৫ শত রেলওয়ে ওয়াগন ভর্তি অস্ত্র-শস্ত্র স্হানান্তর করেছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭০০ কোটি টাকা। এছাড়াও, চীন থেকে জয়দেবপুর অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরী থেকে অস্ত্র নির্মানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভারতে স্হানান্তরিত হয়। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)

২) পাটের মুকুট স্হানান্তর:
বাংলাদেশের পরিবর্তে রাতারাতি আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের মুকুট পরল ভারত। ফারাক্কা চুক্তির নামে বাংলাদেশকে মরুভূমি করার চক্রান্ত, টাকা বদলের নামে অর্থনীতি ধ্বংস, বর্ডার বাণিজ্যের নামে ভারতের বস্তপঁচা মালের বাজার। বাংলাদেশের শিল্প কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে আগরতলায় পাঁচটি নতুন পাটকল স্হাপন! (আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৫-১১৬)

৩) সৌখিন দেশপ্রেমিকদের অর্থনৈতিক শোষণ:
স্বাধীনতার পর কি হলো? এক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলল অর্থনীতি ধ্বংসের। উৎপাদন কমে গেল, শ্রমিক অসন্তোষ বেড়ে গেল। কলকারখানা ধ্বংস হলো। গুপ্ত হত্যা শুরু হল। কোন এক অশুভ শক্তি যেন বাংলার মানুষকে নিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠল। সেসব সৌখিন মানুষ চারখার করে দিল বাংলার মানুষের স্বপ্নসাধ। চোরা কারবারের লাইন তারা আগেই করে রেখেছিল। প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সরকারী কর্মচারী, অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সরকারী সমর্থনপুষ্ট না হলে এমন অবৈধ ব্যবসা সম্ভব না ... শুধু তাই নয়, ভেজালে চেয়ে গেল সারা দেশ।

দীর্ঘ ৩ টি বছর আমরা এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে। (মেজর অব: মো: রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম: :শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৯-১২৬)

৪) শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট:
সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হলো। এর ফলে ভারতের সাথে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ। (আবুল মনসুর আহমদ: আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, পৃ: ৪৯৮)

এর ফলে চোরাচালানীদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা আজও আছে এবং তা দেশের অনুন্নত অর্থনীতির জন্য দায়ী।

৫) তাজুদ্দীন কর্তৃক মুদ্রামান হ্রাস:
এক অভাবনীয় ও অচিন্তনীয় ঘটনা। ১ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে তাজুদ্দিন এক আদেশ বলে দেশের মুদ্রামান ৬৬% হ্রাস করেন। এর আগে বাংলাদেশের মুদ্রামান ভারতের চেয়ে বেশি ছিল। তাজুদ্ধীনের আদেশে দেশের অর্থনীতি মুদ্রাস্ফিতি বেড়ে গেল ও জনজীবনে দ্রব্যমূল্য হল আকাশচুম্বী।

এছাড়া ভারত-বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূরক আখ্যা দিয়ে ভারতে পাট বিক্রির নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল। নাম মাত্রমূল্যে বা জালটাকায় পাট পাচার শুরু হল। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)


৬) ভারত জালনোট ছেপে অর্থনীতি ধ্বংসের আয়োজন করে:
বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ধনসম্পদের পরিবর্তে আরো যে সব মহামূল্যমান (!) ধনসম্পদ আসত সেগুলোর মধ্যে ছিল ভারতে ছাপা বাংলাদেশী জাল নোট। এর পরিণাম এতই ভয়াবহ যে তাজুদ্দীন বলতে বাধ্য হয়েছেন, 'জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে'। (আব্দুর রহিম আজাদ: ৭১ এর গণহত্যার নায়ক কে: পৃ: ৫২)


৬) ক্ষমতাসীনদের স্বীকারোক্তি:
বাংলাদেশের কতিপয় নেতার বিদেশে ব্যাংক ব্যালান্স রয়েছে, তারা অনবরত দেশ থেকে মুদ্রা পাচার করে দিচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ্ন্ড ভেঙ্গে পড়ছে। দেশের মানুষ কাপড়ের অভাবে মরছে, আর এক শ্রেণীর মানুষ লন্ডনে কাপড়ের কল চালু করছে। (তাজুদ্দীন, জনপদ ১১ মার্চ ১৯৭৪)

দেশ স্বাধীনের দুদিনেই শুরু হল হরিলুট। শিল্প কারখানায় অস্তিত্বহীন শ্রমিকের নামে মাহিনা লুট, পাটকলগুলিতে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে লুট, বস্রশিল্পে তুলা ও সুতা কেনায় কোটি কোটি টাকা লুট, ১৯৭১ এর অবাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে লুট, ১৬ ডিভিশন নামের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারী সম্পদ লুট। (এম এ মোহায়মেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ, পৃ ১৪, ৪৪)


৭) কলকাতায় রাজনৈতিক নেতাদের যৌন ট্রিপ, গায়ক ও নর্তকী আমদানী:
'কয়েকদিন আগে তোমাদের কিছু নেতা কলকাতা এসেছিল কিছু নমকরা গায়ক-নর্তকী ভাড়া করার জন্য। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে এরকম কাজ শুধু অনৈতিকও নয়, অমার্জনীয়। দু:খ হয়, তোমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমারও কিছু অবদান ছিল।' (কবি বুদ্ধদেব বসু, আমার দেশ : আমার স্বাধীনতা, পাক্ষিক পালাবদল। নোট: পালাবদলের ব্যাপারে জনৈক ব্লগার আপত্তি তোলা সত্ত্বেও কবি বুদ্ধদেব বসু সর্বজনগ্রাহ্য বলে এসূত্র দেয়া হলো।)

লুটপাট সমিতির সদস্যরা তখন কোলকাতার অভিজাত পাড়ার হোটেল, বার, রেস্তোরায় বেহিসেবী খরচের জন্য 'জয় বাংলার শেঠ' উপাধী পেয়েছিল। সেখানে মুক্তহস্তে খরচ করতো, বিলাসবহুল ফ্লাটে থাকতো। সন্ধ্যের পরে হোটেল গ্র্যান্ড, প্রিন্সেস, ম্যাগস, ব্লু ফক্স, মলিন র‌্যু, হিন্দুস্হান ইন্টারন্যাশনালে দামী পানীয় ও খাবারের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি উপভোগ করতো। সারার রাত পার করে ভোর বেলা ফিরতো নিজেছের বিলাসবহুল ফ্লাটে। (শরীফুল হক ডালিম, যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি, পৃ ১২০-১২২। নোট: ডালিম বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনি, বিতর্কিত। তার বক্তব্যের সাথে কবি বুদ্ধদেব বসুর বক্তব্য মিলে যাওয়ায় এই সূত্র রাখা হলো।)



পরিশেষ:
=========
পরিশেষে, উইকি কি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের উপরের প্রকৃত কারণগুলো লিখবে, নাকি গঁদবাঁধা দু-একটি দূর্বল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষদের বিভ্রান্ত করবে? তবে উইকি যাই করুক, আমাদের আমাদের ইতিহাস জেনে শিক্ষা নিতে হবে।



আরো প্রকৃত সত্যের জন্য পড়ুন ঢাবির প্রফেসর নুরুল ইসলামের প্রবন্ধটি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28886056 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28886056 2008-12-22 07:40:55
সৈয়দ হাসান ইমামের সাথে ফিরে ফিরে এসেছে হুজি - নির্বাচনে বিশেষ মিশন নিয়ে ভারত থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঢাকায়
এদের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর ঢাকায় ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ হাসান ইমাম। তিনি আমাদের সময়ে একটি সাক্ষাতকারও দিয়েছেন

ফ্লাশব্যাক: সৈয়দ হাসান ইমাম
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বৈশাখী অনুষ্ঠানে বোমা হামলা ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে উঠেন সৈয়দ হাসান ইমাম। ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর বোমা হামলার পর থেকেই সৈয়দ হাসান ইমামের আগে বেড়ে কথা বলা, রমনা বটমূলে হামলার সাথে সাথেই তার ভূমিকা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। ঐদিন রমনা বটমূলে বৈশাখী অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন সৈয়দ হাসান ইমাম। ঘটনার পরপরই সৈয়দ হাসান ইমাম বিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "মৌলবাদীরা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল"। তার এই বক্তব্য রহস্যের সৃষ্টি করে এবং জনমনে প্রশ্ন উঠে যে তাহলে কি তিনি বোমা পোঁতে রাখা বিষয়টি জানতেন? তিনি আশ্রয় নেন ভারতে।

তিনি দেশে থাকাকালীন সময় যে বোমাবাজি শুরু হয়, তা চলতে থাকে। তবে সৈয়দ হাসান ইমাম গং ভারতে থাকাকালীন এদেশে পরবর্তীতে যে সব বোমাবাজি হয়েছে তার সাথে ঐসব ব্যক্তিদের যোগসূত্র আছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। কারণ, পরবর্তী যে সব বড় ধরনের বোমাবাজি হয়েছে, সীমান্তরক্ষী ও আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে যে সব বোমা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক হয়েছে, সেগুলো সবই ভারতীয় এবং ভারত থেকেই এসেছে।

তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও ভারত থেকে ব্যাক:
এছাড়া আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল যারা এক এক এলাকায় নিজেদের ত্রাসের রাজত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তারা তারা দেশ ত্যাগ করেন। ফেনীর জয়নাল হাজারী, নারায়নগঞ্জের শামিম ওসমান, মায়া চৌধুরীর ছেলে দীপু চৌধুরীসহ আরো অনেক স্বঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশ ত্যাগ করে। ইত্তেফাক রিপোর্ট


ভারতীয় মিডিয়ায় হুজির অপারেশন নিয়ে আগাম সংবাদ!
এদিকে, ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশের নিবর্বাচন নিয়ে মতলবি প্রচারনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় আইবিএন সর্বশেষ খবর দিয়েছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে তৎপর রয়েছে হরকাতুল জিহাদ বা হুজির ৬ আত্মঘাতী জঙ্গী।

এদিকে দু’দিন আগে ১৮ ডিসেম্বর ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় "বাংলাদেশে ভোট বানচালে নাশকতার ছক জঙ্গিদের" শিরোনামে প্রকাশিত খবরের সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রশাসনের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে জঙ্গিদের ভোট বানচালের হুমকি। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে হুজি ও জেএমবির মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর খতম তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। রয়েছেন মহাজোটের অন্য প্রগতিশীল নেতারা।

কি হতে পারে?
আওয়ামীলীগ তাদের মুরুব্বী ভারত ও 'র' এবং তাদের সেবাদাস তত্তাবধায়ক সরকারের থেকে নির্বাচনে জেতার নিশ্চিয়তা পেয়েই নির্বাচনে নেমেছে। সঙ্গে আছে আরেক ভারতীয় এজেন্ট সৈরাচার এরশাদ ও সবসময়ের ভারতীয় গোলাম বামদল। এর মধ্যে বিটিভি সহ দেশের সকল পে-চ্যানেলও একযোগে অনেকটা হাসিনাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নির্বাচনী সংবাদসমূহ প্রচার করছে। দু'একটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্যসব গুলোর অবস্হাও অনুরূপ। ইন্টারনেট, ব্লগ এসবেও কৌশলে চারদলীয় জোটের ব্যাপারে অপপ্রচার অব্যাহত আছে। সর্বশেষ, দুদকের এক কর্মকর্তা কোকোর ব্যাপারে টাকা পাচারের অভিযোগ এনেছেন। বাবর, ম খ আলমগীরের মতো সব দূর্নীতিবাজ নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও, খালেদার ছেলেকে নিয়ে এমন মন্তব্য

এরপরেও, কোন কারণে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জিততে না পারলে বা নির্বাচন বানচালের প্রয়োজনে (ভারত বাংলাদেশে গণতন্ত্র পূন:প্রতিষ্ঠিত হউক তা চায় না, তারা তাবেদার কারজাই, মালিকী, মোশাররফ, ফখরুদ্দীনকেই চায়) হাসান ইমাম সহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে সে কাজ সমাধা করবে। হুজিকে দিয়ে কয়েকটি স্হানে বোমা হামলা বা আরেকটি ২১শে আগস্ট অথবা আরেকজন কিবরিয়া বা আইভি রহমানকে হত্যা করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন হবে অতি সহজে।

বলা বাহুল্য, নির্বাচন বানচালের মতো কাজে অবশ্যয় সমর্থন আছে জাতীয় সরকারের আবিষ্কারক ড: কামাল হোসেন, বি চৌধূরীদেরও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28885727 http://www.somewhereinblog.net/blog/abutashfeenblog/28885727 2008-12-21 15:07:13