দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সোয়াইন ফ্লু। আর প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। পত্রিকা, নিউজ মিডিয়ার প্রচারে বারবারই উঠে আসছে। আমরা ভীত হচ্ছি, বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে প্রচুর।কিন্তু আমরা কি ভালভাবে জানি এই ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যগুলো? রোগের লক্ষণগুলো কি জানি? এই রোগের মৃত্যুর সম্ভাবনা কতটুকু? এ রোগে আক্রান্ত হলে কি করণীয়? একমাত্র এসব বিষয়ে সঠিক তথ্যই আমাদের প্রস্তুত করতে পারে, নিশ্চয়তা বোধ দিতে পারে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক – খুব সহজেই এটি জনে জনে ছড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি কোন ব্যক্তি এ ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার আগেই তার মাধ্যমে আরো অনেকের মাঝে সংক্রামিত হতে পারে এই ভাইরাসটি। বাংলাদেশ যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, তাই এখানে জনে জনে সংক্রমণ অত্যন্ত সহজ। আর সামনেই আসছে ঈদ এবং পূজা উৎসব। এখানে মানুষের সাথে মানুষের সামাজিক মেলামেশা বেড়ে যাবে, বেড়ে যাবে ভাইরাসটি সংক্রামণের ঝুঁকিও। এখনই আমাদের সময় সচেতন হওয়ার।
ভাইরাসটি কিভাবে ছড়ায়?
দেখা গেছে যে, সাধারণ ফ্লু যেভাবে ছড়ায় সোয়াইন ফ্লু-ও সেভাবেই ছড়ায়।ফ্লুতে আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সাধারণতঃ এটি ছড়ায়।এ ছাড়াও ফ্লু ভাইরাস লেগেছে এমন জিনিসপত্র যদি কেউ ছোঁয় এবং সে হাত দিয়ে নাক-মুখ ছুঁলে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে।
এ রোগের উপসর্গ
সাধারণ ফ্লু আর সোয়াইন ফ্লু এর উপসর্গ প্রায় একই। সাধারণ জ্বর (101-102 ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা), তার সাথে শরীর ব্যাথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট। একেবারে শেষ পর্যায়ে বমি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
রোগ পরীক্ষা
সোয়াইন ফ্লু হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা যায় একমাত্র ঢাকার মহাখালিস্থ আইইডিসিআর-এ (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ, ও গবষণা ইন্সটিটিউট)। যোগাযোগ নাম্বার +880-2-9898796, 9898691
সতর্ক হোন
কিছু অভ্যাসই আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে।
1)হাঁচি-কাশি লাগলে নাক-মুখে হাত না দিয়ে টিস্যু পেপার বা রুমাল চাপা দিন, যাতে তা না ছড়ায়। পরে
তা ফেলে দিন বা ধুয়ে ফেলুন। হাত চাপা দিলে কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিন।
2)সন্দেহজনক করমর্দন, কোলাকুলি, চুম্বন এড়িয়ে চলুন।
3)দিনে কয়েকবার হাত কনুই পর্যন্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
4)এ রোগে আক্রান্ত রোগীর কাছ হতে এক মিটার দূরে থাকুন।
5)অন্যদের এ বিষয়গুলোতে সতর্ক করুন।
6)যত্রতত্র থু থু ফেলার অভ্যাস নিজে
পরিবর্তন করুন, অন্যকেও পরিত্যাগ করতে বলুন।
আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে
আক্রান্ত রোগীকে বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না। তাকে আলো-বাতাস পূর্ণ ঘরে রাখতে হবে।তাকে এড়িয়ে চলার কিছু নেই – অমানবিক আচরণেরও কোন অর্থ নেই।কারণ ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক হলেও মানুষের জন্য ভয়াবহ নয়। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো এ জ্বরটিও একসপ্তাহের মাঝে ঠিক হয়ে যাবে। ঔষুধ হিসাবে এন্টিভাইরাল টামি ফ্লু খাওয়ানো যেতে পারে।রোগীকে যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টিকর, তরল (ফ্লুইড) জাতীয়, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।রোগীকে হাঁচি বা কাঁশির সময় নাকে-মুখে টিস্যু পেপার বা রুমাল চাপা দিতে হবে। তার পরণের জামা-কাপড় পরিষ্কার হতে হবে।
তবে যদি রোগী শিশু হয়,গর্ভবতী মহিলা কিংবা বৃদ্ধ হয় অথবা তার যদি হাঁপানী, হৃদযন্ত্র, কিংবা ডায়াবেটিসের জটিলতা থাকে তাদের জন্য এই রোগ বিপজ্জনক। কারণ তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম।এক্ষেত্রে নিকটবর্তি হাসাপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
মৃত্যুর সম্ভাবনা
রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা তখনই দেখা যায় যদি তার অন্য কোন রোগ কিংবা শারীরিক জটিলতা থাকে।শিশু কিংবা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রেও এ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। অত্যাধিক শ্বাসকষ্ট বা এ ধরণের ক্ষেত্রে মহাখালিস্থ বক্ষব্যাধি হাসাপাতালে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
Sharing Knowledge is the Power.
তথ্যসূত্র;
1) সোয়াইন ফ্লু বিষয়ক সেমিনার, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি
2) ইন্টারনেটের বিভিন্ন ব্লগ
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



