somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কেন প্রাণীদের চাকা নেই? বিজ্ঞান ব্লগে প্রকাশিত

মানুষের ইতিহাসে কিছু মৌলিক আবিষ্কার আছে যেগুলোকে মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়। অমল দাশগুপ্ত তার মানুষের ঠিকানা বইটিতে পাথরের হাতিয়ার, আগুন, কৃষিকাজ, চাকা ইত্যাদিকে একেকটা বিপ্লবের চিহ্ন হিসেবে ধরেছেন। হাতিয়ার মানুষের ক্ষমতা দিয়েছে বাড়িয়ে। আগুন মানুষকে দিয়েছে সুরক্ষা। কৃষিকাজ মানুষকে খাবারের নিশ্চিত উৎস দিয়েছে। এর ফলে শিকারী আর রাখাল মানুষ থিতু হওয়ার সুযোগ পায়। চাকা যে পরিবহনে কেবল সাহায্য করেছে শুধু তাই নয়। চাকা ব্যবহার করে মানুষ নানা জটিল যন্ত্র তৈরি করেছে। যেমন কুমারের চাকা। যে কোন জটিল যন্ত্রে আমরা চাকা বা গোলাকার যন্ত্রাংশের ব্যবহার দেখি।

আমরা প্রাণিজগতের সাথে মানুষের একটা তুলনা করতে পারি। মানুষ যেসব প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে কোটি কোটি বছর আগে থেকে সেসব প্রকৃতিতেই বিদ্যমান ছিলো। মানুষের অনেক আগে থেকেই পিঁপড়ারা কৃষিকাজ করে। তারা যে কেবল ছত্রাক চাষ করে শুধু তাই নয়, মানুষের দুধের জন্য গরু পোষার মতো তারা জাবপোকাও পোষে। রাডার কিন্তু নতুন কিছু নয়। বাদুড় আর ডলফিনেরা বহু আগে থেকেই রাডারের মূলনীতি ব্যবহার করে চলাচল করছে। অন্ধকারে দেখার জন্য আমরা ইনফ্রারেড চশমা ব্যবহার করি। সাপের কিন্তু চশমা লাগে না। সে এমনিতেই অন্ধকারে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে সে অন্ধকারে শিকার ধরতে পারে।

অন্তত দুইজাতের মাছ আছে যারা দেহে ব্যাটারী বা বিদ্যুতকোষ ধারণ করে। একজাতের হঠাৎ বৈদ্যুতিক ঝলক দিয়ে শিকার ধরে। অন্য জাতের মাছ দেহের চারপাশে একটি বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি করে। এ বিদ্যুতক্ষেত্রের তারতম্য অনুভব করে তারা চলাচল করে।

মানুষের অনেক আগেই স্কুইডেরা জেট ইঞ্জিন দিয়ে পানিতে যাতায়াত করে বেড়ায়। বীভাররা জলে বাঁধ দিয়ে নিজস্ব হ্রদ তৈরি করে। ছত্রাকেরা এন্টিবায়োটিক তৈরি করে ব্যক্টেরিয়াদের প্রতিহত করে, যাতে খাবারের জন্য তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে না হয়।

প্রাণিজগতে এত সুক্ষ্ণ প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যবহার আছে তা বিস্ময়কর। আমরা এক অর্থে প্রকৃতির নকল করে চলেছি। তারপরেও খটকা থেকে যায়। বোকার মত প্রশ্ন আসে, প্রাণীজগতে চাকা নেই কেন?



ব্যাক্টেরিয়াদের ফ্লাজেলা যদিও দেখতে চাবুকের মতো - কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই এটা 'ঘোরে', চাক্রিক প্রপেলার ব্যবহার করে


চাকা হচ্ছে সেই জিনিস যা মানুষকে গতি দিয়েছে। বলা যায়, চাকাই পৃথিবীকে গোল করেছে মানুষের কাছে। জেনারেটর, টার্বাইন থেকে গোলাকার চাকা সরিয়ে নাও, কোথাও বিদ্যুৎ তৈরি হবে না। মটর বা প্রপেলার থেকে চাকতি, গোল অক্ষদন্ড সরিয়ে নাও – প্লেন বা মটরগাড়িতে যাতায়াত বন্ধ। কারখানা চলবে না, ঘুরবে না ঘাঁনি, পেষনযন্ত্র। ধান থেকে চাল পাবে না কেউ। এই যে চাকা এত প্রয়োজনীয় জিনিস, কেন আসলে প্রাণীজগতে চাকা নেই? মানুষের দুইটি পা না থেকে যদি গোল চাকা থাকতো তাহলে কেমন হতো?

ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগে, চারপেয়ে ঘোড়া সহ যে কোন জন্তু মানুষকে দৌড়ে হরিয়ে দিতে পারতো। এমনকি ক্যাঙ্গারুর দুইটি পা থাকলেও সে আমাদের চাইতে জোড়ে দৌড়ায়। চাকা আবিষ্কারের অনেক পরে আমরা ঘোড়া টানা গাড়ি আবিষ্কার করি। ঘোড়ার কাছে সেই গাড়িটা এমন একটি যন্ত্র যা কিনা তাকে ধীরগতির করে দেয়। মাত্র কিছুদিন আগে আমরা ইঞ্জিন দিয়ে গাড়ি চালানো শিখলাম। তারপরেই কেবল আমরা চিতা, ঘোড়া সহ অন্যান্য প্রাণীকে ইঞ্জিন-গাড়িতে চড়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিতে পারি।

তবে এ দৌড় প্রতিযোগিতায় শর্ত প্রযোজ্য। গাড়ি ঘোড়ার তুলনায় জোড়ে দৌড়াতে পারে একমাত্র পিচ ঢালা মসৃণ রাস্তায়। গাড়ির সাথে ঘোড়ার প্রতিযোগিতা যদি হয় এবড়ো-থেবড়ো ক্ষেতে কিংবা উঁচু-নিচু বন্ধুর পথে? ঘোড়া তো দূরে থাক একটা ছোট্ট মাকড়শাই পারে গাড়িকে এই প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিতে।

বোঝাই যাচ্ছে, চাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো রাস্তা।

তাহলে আমরা বোকার মতো আরেকটি প্রশ্ন করতে পারি। কেন প্রাণিরা রাস্তা তৈরি করতে শিখলো না? বীভারের জলবাঁধ কিংবা বাবুই পাখির নান্দনিক বাসার তুলনায় রাস্তা তৈরিতো ছেলেখেলা মাত্র।

এখন আমরা একটা বড়ো রকমের সমস্যার সমনে এসে দাঁড়াই। রাস্তা তৈরি কারিগরী দিক দিয়ে সহজ হলেও এটা একটা ভীষণ বিপজ্জনক কাজ। যদি হারিণ বনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটা রাস্তা তৈরি করে, বাঘও সেই রাস্তার সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। এই ঘটনা কেন ঘটবে না তার একটা ডারউইনীয় ব্যাখ্যা আছে রিচার্ড ডকিন্সের ‘স্বার্থপর জিন‘ (দ্য সেলফিশ জিন) গ্রন্থে। বিবর্তন একটি স্বার্থপর খেলা। হরিণরা রাস্তা তৈরির মাধ্যমে বাঘেরও উপকার করে ফেলতে পারে। অথচ বাঘকে কোন কষ্ট করতে হবে না বা কোন মূল্যই দিতে হবে না এ রাস্তা তৈরির জন্য।

প্রাকৃতিক নির্বাচন এমন রাস্তা তৈরিকেই সমর্থন করতে পারে যে রাস্তায় কেবল নির্মাতা প্রাণীই চলাচল করতে পারে। যেমন উঁইপোকার তৈরি সুরঙ্গ। কোন প্রাণী কষ্ট করে রাস্তা তৈরি করলে অন্যরা কোন শক্তির অপচয় না করেই রাস্তার সুবিধাটা নিতে পারে। সে অতিরিক্ত শক্তিটা ব্যবহার করে আরো খেয়েদেয়ে মোটাতাজা হয়ে নিজেদের বংশবৃদ্ধি করবে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে প্রথম নির্মাতা প্রাণীর বংশধরের সংখ্যা সুবিধাপ্রাপ্ত প্রাণীদের তুলনায় কমে যাবে।

মানুষ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র তৈরি করেছে যেখানে সবাই কর দিতে বাধ্য। সে কর আয়কর বা ভ্যাট যাই হোক। কর থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে রাষ্ট্র রাস্তাঘাট তৈরি করে। সরকার, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গণপূর্ত ইত্যাদি ব্যবস্থার মধ্যে আমাদের থাকতে হয়। যদি কেউ বলে, রাষ্ট্র আমাকে রাস্তাঘাট তৈরি করে দিয়ে অনেকে উপকার করলেও আমি ট্যাক্স দিবো না, তাহলে তাকে ধরে জেলে ঢোকানো হয়। দুঃখের বিষয়, মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী ‘ট্যাক্স‘ ধারণাটা আবিষ্কার করতে পারে নি।


ব্যাক্টেরিয়াদের ফ্লাজেলা যদিও দেখতে চাবুকের মতো - কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই এটা 'ঘোরে', চাক্রিক প্রপেলার ব্যবহার করে

তবে ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু ব্যাক্টেরিয়া প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন বছর আগে থেকেই চাকা আবিষ্কার করে বসে আছে। তাদের দেহে সুতার মত অঙ্গাণু আছে যাকে ফ্লাজেলা বলে। এই ফ্লাজেলা দেহের সাথে একধরনের চাকা দিয়ে যুক্ত। এ চাকা সত্যি সত্যিই ঘোরে। চাকার সাথে ফ্লাজেলা একটি অক্ষদন্ড বা শ্যাফটের মাধ্যমে যুক্ত। চাকা ঘুরলে ফ্ল্যাজেলাতে একটি চাক্রিক গতি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া তরল বা অর্ধতরল মাধ্যমে চলাচল করে। একটি ক্ষুদ্র ইঞ্জিন দিয়ে ব্যক্টেরিয়া এই চাকা ঘোরায়। এই চাকা ব্যাক্টেরিয়ার কোষপ্রাচীরের মধ্যে একটি গর্তের মধ্যে যুক্ত। আধুনিক পাঁচ জগত ধারণায় ব্যাক্টেরিয়াকে কোন প্রাণী ধরা হয় না।

এত ক্ষুদ্র ব্যাক্টেরিয়া চাকা তৈরি করতে পারলো, এর মধ্যেই উত্তর কেন বড় প্রাণীদের দেহে চাকা নেই। বড় প্রাণীর দেহে বড় চাকা লাগবে। এই চাকা প্রাণীর বড় হওয়ার সাথে সাথেই বড় হয়ে উঠতে হবে। এর বাইরের দেহ হতে হবে নখের মতো মৃত অথচ খুরের মতো শক্ত কোষ দিয়ে তৈরি। এ চাকা ঘুরাতে প্রয়োজন হবে রক্তপ্রবাহ, যা চাকার অক্ষদন্ডকে কোনভাবে ঘুরাবে। আবার এই চাকাকে কর্মক্ষম রাখতে এর ভেতরেও রক্তের প্রবাহ থাকতে হবে। তখন সমস্যা দাঁড়াবে এই চাকার ভেতরের রক্তনালী দেহের রক্তনালীর সাথে যুক্ত হবে কিভাবে? আধুনিক কারিগরী দৃষ্টিকোন দিয়ে এই সমস্যার সমাধান আছে। তর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিতে পারি কোন প্রাণী এই চাকা অর্জন করে নিতে পারে। তাহলে তখন প্রশ্ন দাঁড়ায় ঐ প্রাণীর মধ্যবর্তী প্রজাতী দেখতে কেমন হবে? আসলে অভিব্যক্তি প্রক্রিয়া হঠাৎ করে লাফ দিয়ে মাটি থেকে পাহাড় সমান অগ্রগতি লাভ করে না। প্রাণীর অভিব্যাক্তি খুব ধীরে ধীরে হয়। কারিগরী দিক দিয়ে প্রাণী দেহে চাকা তৈরি সম্ভব হলেও বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোন হতে সম্ভাব্য নয়।

তথ্য এবং ধারণা:

Why don’t Animals have Wheels?

By Richard Dawkins

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29521566 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29521566 2012-01-13 11:26:01
স্বপ্নের পেছনের বিজ্ঞান


স্বপ্ন কি? মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে? কেবল মানুষই কি স্বপ্ন দেখে? স্বপ্নের কি কোন অর্থ আছে?

এসব প্রশ্ন নতুন নয়। আদিমকালে মানুষ ভাবতো ঘুমের মধ্যে মানুষের আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে আসে। তারপর ঘুরে বেড়ায় চারপাশের জগতে। তাই মানুষ স্বপ্ন দেখে। প্রাচীন গ্রীক-রোমানরা ভাবতো স্বপ্ন বিশ্লেষণ করলে হয়তো ভবিষ্যত সম্পর্কে জানা যাবে। শুধু গ্রীক-রোমানরাই নয়, প্রতিটি সভ্যতাই স্বপ্নের বিভিন্ন ব্যাখ্য দেয়ার চেষ্টা করতো। অবশ্য স্বপ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়েছে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত। এই শতাব্দীতে সিগমুন্ড ফ্রয়েড এবং কার্ল জাঙ প্রথম স্বপ্নের উপর বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নির্মান করেন। ফ্রয়েডের মতে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু অবদমিত কামনা থাকে। স্বপ্নের মাধ্যমে আমাদের অবচেতন মন সেই অবদমিত কামনা নিয়ে নাড়াচাড়া করে। ফ্রয়েডেরই ছাত্র কার্ল জাঙ মনে করেন স্বপ্নের মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে। অবশ্য তিনি স্বপ্নের অর্থ সম্পর্কে ভিন্ন তত্ত্বের অবতারণা করেছিলেন।ফ্রয়েডের পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে স্বপ্ন নিয়ে অন্যান্য তত্ত্বও গড়ে ওঠে।



ছবি: অনেকে স্বপ্ন দেখার সময় বুঝতে পারেন যে তিনি "স্বপ্ন দেখছেন"। একে বলে ল্যুসিড ড্রিমিং

“এক্টিভেশন-সিন্থেসিস” একটি তত্ত্ব বলে যে স্বপ্নের আসলে কোন অর্থই নেই। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে আমাদের স্মৃতি থেকে বিভিন্ন চিন্তা এবং আবেগ উঠে আসে। এই চিন্তা এবং আবেগগুলো খাপছাড়া। অর্থাৎ এদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। একমাত্র ঘুম থেকে উঠার পর আমরা এই খাপছাড়া দৃশ্য, চিন্তা এবং আবেগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করি। তখন তৈরি হয় এক বা একাধিক গল্প।

মানুষ ছাড়াও অন্যান্য স্তন্যপায়ী যেমন বিড়ালেরাও যে স্বপ্ন দেখে, তারা পরোক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের মতে, স্বপ্নের কোন অর্থ থাকুক বা না থাকুক, জীবনধারণের জন্য স্বপ্নের একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। “থ্রেট স্টিমুলেশন”- তত্ত্ব অনুযায়ী জীবজগতে স্বপ্ন একটি প্রাচীন প্রতিরক্ষা পদ্ধতি। এই প্রতিরক্ষা পদ্ধতি উন্নত প্রাণীকে একটি বিবর্তনীয় সুবিধা দেয়। কারণ স্বপ্নের মাধ্যমে এমন ঘটনার স্মৃতি ও আবেগকে পুনরাবৃত্তিকরা যায় যা কিনা বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারতো। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক এইসব ঝুঁকি আগে থেকে চিনে সরে যাওয়ার শিক্ষা পায়।

সম্প্রতি জার্নাল অফ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র স্বপ্নের ক্রিয়াকৌশল সম্পর্কে আমাদের একটা নতুন ধারণা দেয়। এই গবেষণা অনুযয়ী, স্বপ্ন কোন এলোমেলো ঘটনাপুঞ্জ নয়। স্বপ্নের সাথে আমাদের আবেগীয় স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ আছে। ঘুম থেকে উঠে মানুষ কিভাবে স্বপ্ন মনে করে তার উপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালানো হয়।



২. স্বপ্নের বিজ্ঞান



আমরা প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখার পরপরই যদি জেগে উঠি, তাহলে স্বপ্নটা আমরা মনে করতে পারি। স্বপ্ন দেখার পর গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে আর সেটা মনে করতে পারি না।

অনেকগুলো নিউরন কোষের সমন্বয়ে তৈরি হয় মানুষের মস্তিষ্ক। নিউরন কোষগুলো সংকেত প্রেরণ করে বিদ্যুত-তরঙ্গের মাধ্যমে । জেগে থাকা, আধঘুম -আধজাগরণ, গভীর ঘুম, উত্তেজিত ইত্যাদি অবস্থায় মস্তিষ্কের বিদ্যুতিয় তরঙ্গের বিভিন্ন রকমফের দেখা যায়। মস্তিষ্ক সাধারণত চার ধরনের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি করে – ডেল্টা, থেটা, আলফা ও বেটা। উপরের গবেষণাটি চালানো হয় পয়ষট্টিজন স্বেচ্ছাসেবকের উপর। অনেক আগে থেকেই জানা ছিলো, মানুষ ঘুমের একটা বিশেষ পর্যায়ে স্বপ্ন দেখে। ঘুমের একটা পর্যায়ে দেখা যায় মানুষের চোখের পাতা নড়ছে। এই পর্যায়কে বলে Rapid Eye Movement বা রেম ঘুম। রেম ঘুমের পর কাউকে ঘুম থেকে তুললে সে বলতে পারে কি স্বপ্ন দেখেছিলো, কতবার দেখেছিলো ইত্যাদি। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণায় অংশগ্রহণ করা স্বেচ্ছাসেবকদের মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ মাপা হয়। আর ঘুমের বিভিন্ন সময় স্বেচ্ছাসেবকদের জাগিয়ে তাদের স্বপ্নের বিভিন্ন তথ্য রেকর্ড করা হয়। তারা স্বপ্নে কি দেখেছিলো, কতবার দেখেছিলো, আদৌ কোন স্বপ্ন দেখেছিলো কি না ইত্যাদি তথ্য জোগাড় করা হয়।

কেন রেম ঘুমের পরেই মানুষ স্বপ্নের কথা মনে করতে পারে, এর উত্তর দেয় উপরের গবেষণাটি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রেম ঘুমের পর যাদের মস্তিষ্কের “ফ্রন্টাল লোব” নামক অংশে স্বল্প কম্পাঙ্কের থেটা তরঙ্গ দেখা যায় – তারাই দেখা যায় স্বপ্ন বেশি মনে করতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, যখন আমরা অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা স্মরণ করি, তখনো মস্তিষ্কের এই অংশে স্বল্প কম্পাঙ্কের থেটা তরঙ্গ দেখা যায়। এরকম আরেকটি পরীক্ষাতে দেখা যায় উজ্বল, টাটকা এবং গভীর আবেগীয় স্বপ্নগুলো মস্তিষ্কের “অ্যামিগডালা” এবং “হিপ্পোক্যাম্পাস” নামের দুইটি জায়গার সাথে জড়িত। আমিগডালার কাজ হলো মানুষের আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার বিশ্লেষণ এবং তার স্মৃতি নিয়ে কাজ করা।

হিপ্পোক্যম্পাস বিভিন্ন স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একত্রীকরণ করে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। দেখা যায়, রেম ঘুম কম হলে (অর্থাৎ স্বপ্ন কম দেখলে) মানুষের জীবনের জটিল আবেগগুলো বোঝার ক্ষমতা কমে যায়। এই ক্ষমতাটা মানুষের সামাজিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “ক্যারকট-উইলব্রান্ড সিন্ড্রোম” নামের একটি বিরল রোগে দেখা যায় মানুষ স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মস্তিষ্কের যেই অংশ আমাদের দৃষ্টির অনুভূতির সাথে জড়িত, সেখানে ক্ষত সৃষ্টির কারণে এ রোগ হতে পারে।

উপরের পরীক্ষাগুলো স্বপ্ন এবং আবেগের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করে। তারমানে, আমাদের স্বপ্ন মস্তিষ্কের এমন সব জায়গায় তৈরি হয় (কিংবা ছড়িয়ে পড়ে) যেগুলো কিনা দৃষ্টি, আবেগ এবং দৃষ্টি-সংশ্লিষ্ট স্মৃতি নিয়ে কাজ করে। এই পরীক্ষাগুলো আমাদেরকে স্বপ্নের কারিগরী দিক এবং তাৎপর্য নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ গল্প বলে।



৩. গল্প নয়, আবেগ



স্বপ্নের মাধ্যমে মস্তিষ্ক আমাদের আবেগগুলো প্রক্রিয়াজাত করে। আবেগের স্মৃতি তৈরি করে। আমরা স্বপ্নের মধ্যে অনেক কিছুই দেখি। বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনা কিংবা অভিজ্ঞতা যে বাস্তব হতে হবে তার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাগুলোর সাথে যে আবেগ জড়িত সেগুলো পূর্ণমাত্রায় বাস্তব। স্বপ্নে দেখা গল্পগুলো চেষ্ট করে বাস্তব আবেগগুলো স্মৃতি তৈরি করে বেঁধে ফেলতে। এর ফলে আবেগগুলো আর সক্রিয় থাকে না। জীবন ধারণের জন্য এটা খুবই প্রয়োজন – বিশেষ করে আমাদের নেতিবাচক আবেগের ক্ষেত্রে। নেতিবাচক আবেগগুলো স্বপ্নের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত না হলে তাহলে মানুষের রাগ ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। রেম-ঘুম কিছুদিন যদি না হয়, তাহলে মানসিক সমস্যা তৈরি হতে থাকে।

আমাদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার সাথে স্মৃতি এবং আবেগ একটি ভঙুর সেতু দিয়ে যুক্ত। এই সেতুর নিয়ন্ত্রণের কাজ হলো স্বপ্নের।

তথ্যসূত্র Click This Link


-------
এই লেখাটি পূর্বে বিজ্ঞান ব্লগে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29505906 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29505906 2011-12-19 16:46:09
হে বাংলাদেশী তরুণ কোনটা চাও?
বাংলাদেশ বদলে যাক। ইস কেউ এসে যদি বাংলাদেশ কে বদলে দিতে এক জন মাহাথির এসে বাংলাদেশকে বদলে দিলে কতই না ভাল হত! এমনই যদি হয় চাওয়া, তাহলে তো তোমার তেমন কিছু করার নাই।

মাহাথির আসবে কি আসবে না, আসলে কখন আসবে তা তো তোমার নিয়ন্ত্রনে নাই। তাই মাহাথিরের আগমনের আশায় বসে থাক । কিছু করতে চাইলে বড় জোর সর্বশক্তি মানের কাছে হাত তোলে প্রার্থনা করতে পার। এই লিখাটার বাকীটুকুও আর পড়ার দরকার নাই।

আর যদি বদলে দিতে চাও, তাহলে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশকে বদলে দিতে চাইলে আগে জানতে হবে বদলে দেওয়া বলতে কি বোঝায়, কোথায় থেকে শুরু করতে হবে, কবে কখন শুরু করতে হবে, বদলে দিতে হলে কি কি করতে হবে, কি টুলসই বা দরকার, কি দক্ষতাই বা অর্জন করতে হবে ।

তাহলে চল আলোচনা করি, বদলে দেওয়া কি, কোথায় থেকে শুরু করতে হয়,কিভাবে করতে হয়, কি কি লাগে এর জন্য ইত্যাদি।


প্রথমেই বলে নেই, বদলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা চাই মুলত উন্নতি , কিন্তু বদলে দেওয়া মানেই উন্নতি না। তবে বদলে না দিলে, না গেলে উন্নতি হয় না। No change, no improvement but change doesn’t bring improvement always.

অনেক দিন যদি না শোন, কেউ একজন বলছে তুই অনেক বদলে গেছিস, তাহলে বোঝতে হবে তোমার কোন উন্নতি হয় নাই। হয়ত অবনতিও হয় নাই। তবে দীর্ঘ সময়ে কোন উন্নতি না হওয়াও এক ধরনের অবনতিই। কি মনে কর ?

আর বদলে দেওয়া হচ্ছে একটা প্রক্রিয়া, এটা কোন ইভেন্ট না। হঠাৎ কেউ বদলায় না, একটা দেশ তো নয়ই। তাই এর জন্য পরিকল্পনা লাগে, প্রস্তুতি লাগে, প্রশিক্ষন লাগে, ধৈর্য্য লাগে,পরিবর্তন হচ্ছে কিনা তা মাপতে জানতে হয়, পরিবর্তনকে অনুভব করতে পারতে হয়।

তাই কোন পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি ছাড়া যারা দিন বদল করতে চেয়েছিল ওবামার শ্লোগান নকল করে, তাদের কথা, আচার-আচরণ আর কাজে তাই আমরা কোন পরিবর্তন আমরা দেখি না। তারা তোমাদের হতাশ করেছে। তাছাড়া বদলে যাও বদলে দাও বলে বুলি আওড়ালেও, এটা করব না, সেটা করব না বলে শপথ করেও নিজেকে বদলানো যায় না।


যাই হোক, পরিবর্তন সম্পর্কে সামান্য ধারনা পাওয়া গেল । এবার আসা যাক কোথায় থেকে, কবে শুরু করতে হবে আর কি পরিবর্তন করতে হবে। Charity begins at home. Where should change start?

হ্যাঁ, নিজেকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই দেশের পরিবর্তন শুরু করতে হবে । নিজের কি পরিবর্তন করতে হবে, কি বদলে দিতে হবে, কি উন্নত করতে হবে নিজের ? মাথায় চুলের স্টাইল, শার্ট–প্যান্টের ব্যার্ন্ড ? পায়ের জুতা? আপাতত বাইরের কিছু বদলাবার দরকার নাই। প্রথমে বদলাতে হবে মাথার ভিতরে। তবে মগজ না। বদলাতে হবে চিন্তা, চিন্তার মান উন্নত করতে হবে। চিন্তা কে উন্নত করতে হবে। তাহলে সব বদলে যাবে এমনিতেই। চিন্তা বদলালে মুখ দিয়ে উচ্চারিত শব্দ বদলাবে,আচার-ব্যবহার বদলাবে,চারপাশের মানুষের সাথে সম্পর্কও বদলাবে। সব কিছুই বদলে যাবে । পোশাক আষাক, জুতা মোজাও বদলে যেতে পারে। কারণ “Thoughts are the seeds of all of our actions and behaviors”



এখন প্রশ্ন হচ্ছে চিন্তা বদলাবে কিভাবে? এমনি এমনি চিন্তা বদলাবে না, উন্নত হবে না। এর জন্য সময় দিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে । প্রশ্ন করতে শিখতে হবে । ব্লগের লেখা, পত্রিকার কলাম এর সাথে সাথে বই পড়তে হবে। আর পত্রিকা পড়তে হবে দুই দিক থেকেই। সরকার সমর্থক, সরকার বিরোধী উভয় পক্ষের । বামপন্থি পত্রিকা যেমন পড়তে হবে, তেমনি ডানপন্থি পত্রিকাও পড়তে হবে। আর যা পড়া হবে তাই যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিশ্বাস করলে চলবে না। যা বলে হচ্ছে তা বাস্তবতার সাথে মিলে কিনা, মানুষের স্বভাবের সাথে মিলে কিনা, যিনি বলছেন এতে তার স্বার্থ জড়িত আছে কিনা, ইত্যাদি নানা দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করে যাচাই-বাছাই করেই তবে তা বিশ্বাস করতে হবে। তা না হলে বার বার বিশ্বাস করে প্রতারিত হতে হবে। গ্লাস পুরাটাই ভর্তি বা খালি দেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে; গ্লাস যে অর্ধেক পানিতে আর অর্ধেক বাতাসে পুর্ন, সেটা দেখার বা বোঝার ক্ষমতা হবে না। ব্যালান্সড চিন্তা করার ক্ষমতা হবে না, ফলে জীবন ও ব্যালান্সড হবে না। বই পড়ার ক্ষেত্রেও আমাদেরকে মনে রাখতে হবে গল্প উপন্যাস পড়ে আমরা নিজেদের চিন্তার খুব একটা পরিবর্তন করতে পারব না। আমি গল্প উপন্যাস পড়তে নিষেধ করছি না তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের সময় সীমিত। তাই আমাদের টার্গেটেড পড়াশোনা করতে হবে। আমাদের নিজেদের পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে নিজ নিজ ধর্মের বই গুলি আবার নতুন করে পড়তে হবে। সাথে আমি স্টারটিং বই হিসেবে দুইটি বই এর নাম বলতে পারি:
1.The Magic of Thinking Big by David J. Schwartz

2. The Seven Habits of Highly Effective people by Stephen Covey.

বই দুটিই গুগল এ পিডিএফ কপি ফ্রি পাওয়া যায়।

গুগল থেকে বই দুটি ডাউনলোড করে পড়া শুরু করার মাধ্যমে আজই শুরু করতে হবে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়াটার।

এই বই দুটি দিয়ে শুরু করে আমাদের মাসে অন্তত একটা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে। ( কি ধরনের বই কে আমাদের পাঠ্য তালিকার প্রধান বই করতে হবে তার উদাহরন এই দুইটা বই) তা হলেই আমাদের চিন্তার ক্রমাগত উন্নয়ন হবে। আমরা উন্নত হব। মনে রাখতে হবে, চিন্তার উন্নয়ন না হলে কোন উন্নয়ন হবে না, না হবে আমাদের কথা উন্নত, না হবে আমাদের আচরন উন্নত, না হবে আমাদের কাজ কর্ম উন্নত। না হবে আমাদের দেশ উন্নত।


চিন্তা বদলালে, মানে উন্নত হলে কি হবে ? পরিবর্তন আনার জন্য সবচেয়ে দরকারী যে অস্ত্র বা টুলটা দরকার সেটা উন্নত হবে ? সেটা আবার কি ? সেটা হচ্ছে , কথা, ভাষা, শব্দ। খেয়াল কর নাই, আমাদের নেতা-নেত্রীদের একটা কথার ফলে দেশে কেমন পরিবর্তন আসে? কোন কোন কথার কারনে দেশে অস্থিরতা তৈরী হয়, দলে দলে তিক্ততা তৈরী হয়, আমরা বিরক্ত হই, হতাশ হই। কখনও কখনও কথার কারণে আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। নির্বাচনের আগে তো আমরা কথার ফুলঝুরিতেই প্রভাবিত হই, ভোট দেই। কথার মাধ্যমেই যারা আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারে, তারাই ক্ষমতায় আসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কি দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ছিলেন উনার ভাষন, যা মুলত কথা বা শব্দের সুন্দর গাথুনীর মালা, ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে? জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন সেও তো তার ঘোষনার মাধ্যমেই। ব্লগ আর ফেসবুকের কারনে আমরা যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, তার চালিকা শক্তি কি? আমাদের স্ট্যাটাস, মন্তব্য, নোট এসবই তো ? এসব আমাদের কথা বা শব্দের সমষ্টিই ত? না অন্য কিছু? তার মানে পরিবর্তনের শুরু কথা দিয়ে। আর এসব কথা আসে আমাদের চিন্তার নদী বেয়েই, তাই না? বর্তমান সময়ের অন্যতম পারসনাল ফিনান্সিয়াল এক্সপার্ট, রবার্ট কিয়োসাকির ভাষায়
“If you want to change your life, begin by changing your words”।

মুল কথা হচ্ছে, কথা বা লিখিত বা উচ্চারিত শব্দই হচ্ছে আমাদের প্রথম ও প্রধান অস্ত্র পরিবর্তন আনার জন্য। তাই পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের কথার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে হবে। আবারো রবার্ট কিয়োসাকির ভাষায়
“If you enrich your vocabulary, you will enrich your life”


কখন কোন শব্দটাকে এবং কিভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় তাও আমাদের জানতে হবে। তাতে আমরা শুধু আমাদের জীবনকে বদলাব না, আমাদের আসেপাশের মানুষদেরকে কে বদলে দিতে পারব । আমি ছোট্র একটা উদাহন দেই। তোমার বন্ধুর কোন কথা যা তুমি ঠিক না বলে মনে কর, তা প্রকাশ করতে গিয়ে যদি বল “ তোমার কথা ভুয়া” তাহলে দেখবে কেমন প্রতিক্রিয়া হয় আর যদি বল “তোমার কথা ভুল” তাহলে প্রতিক্রিয়া কেমন প্রতিক্রিয়া হয়। ভুয়া আর ভুল দুই শব্দের অর্থগত পার্থক্য কম হলে প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য কিন্তু অনেক।


চারপাশ, মানে চারপাশের মানুষ, বদলাতে হলে এর জন্যও উদ্যোগ নিতে হবে। তার আগে জানতে হবে কিভাবে মানুষকে বদলাতে হবে। এর জন্য কি টুলস দরকার, সেই টুলস গুলি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। নিজেকে বদলাতে হলে যেমন চিন্তা বদলাতে হয়, তেমনি চার পাশের মানুষকে বদলাতে হলেও তাদের চিন্তার পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে । এক্ষেত্রে যে টুলসটা বেশী কার্যকরী তা হচ্ছে প্রশ্ন করার দক্ষতা। মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনতে হলে তার চিন্তাকে, যা তার আচার ব্যবহার, কথা বার্তা আর কার্যক্রম থেকে বোঝা যায়, পরিবর্তন করতে হবে। আদেশ, উপদেশ বা পরামর্শ দিয়ে মানুষের চিন্তা খুব একটা পরিবর্তন করা যায় না। চিন্তার পরিবর্তন করতে হলে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে, দেখাতে হবে যে তার চিন্তা ব্যাকডেটেড, ভুল, তার নিজের জন্য, চারপাশের মানুষের জন্য দেশের জন্য ক্ষতিকর। আর তা করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হচ্ছে প্রশ্ন । আমাদের মনে রাখতে হবে “Asking good questions is productive, positive, creative, and can get us what we want”। আর এই প্রশ্ন করার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে আমরা আমাদের চার পাশ কতটুকু পরিবর্তন করতে পারব। আমরা যদি এই দক্ষতা অর্জন করতে পারি, তা আমাদের ব্যক্তি, পারিবারিক, প্রফেশনাল জীবন সব ক্ষেত্রেই খুব কাজে দিবে। যেমন আমাদের দেশের অনেক লোক এখনো নিজ দলের নেতাদের অদক্ষতা, দুর্নীতিকে চোখ বোঝে সমর্থন করে। এধরনের লোকদের বকাঝকা করে বা সমর্থন না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে তেমন পরিবর্তন হবে না, যতটুকু হবে প্রশ্ন করার মাধ্যমে। সারাদেশের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার পরও যারা এর জন্য দায়ী লোকদের পক্ষে কথা বলে তাদের কে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আচ্ছা রাস্তা ঘাটের এই অবস্থার জন্য কি শুধু বিরোধী দলের লোকদের সমস্যা হচ্ছে , না আপনার মত সরকারী দলের সমর্থক লোকদেরও হচ্ছে ? এরপর ও কি একে সমর্থন করতে হবে ? এভাবে প্রশ্ন করলে এসব লোককে যত টুকু প্রভাবিত করা যাবে, অন্যভাবে তা যাবে না। মুল কথা হচ্ছে, মানুষকে প্রভাবিত করার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে , তার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রশ্ন করা।


আর চারপাশের মানুষ বদলাতে চাইলে যে বইটা পড়ার মাধ্যমে তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, তা হচ্ছে ডেল কার্নেগির সেই বিখ্যাত বইটা “How to win friends and Influence people”। এই বইটির ও ফ্রি পিডিএফ কপি গুগল এ পাওয়া যায়। লিডারশীপ এক্সপার্টদের মতে, এই বইটা হচ্ছে, মানুষ কে প্রভাবিত করার জন্য যেসব বই আছে তাদের মধ্যে বাইবেল তূল্য। বাংলা অনুবাদ পড়ে থাকলে অনেকেরই এই বইটা সম্পর্কে খারাপ ধারনা আছে। কিন্তু পড়তে হবে এর ইংলিশ ভার্সন । পড়ার সাথে এর টিপস আর টেকনিক্সগুলি প্রতিদিনের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রফেশনাল জীবনে প্রয়োগ করে দেখতে হবে কাজ করে কিনা। করবে সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। প্রয়োগ করে যদি দেখ তোমার আশে পাশের মানুষগুলির সাথে তোমার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে যে তুমি তাদেরকে অন্তত তোমার জন্য পরিবর্তন করতে পেরেছে। আরো বেশি বেশী মানুষকে পরিবর্তন করার জন্য তুমি এখন ফোকাস করতে পার, একদিন সারা দেশকে পরিবর্তন করার মত আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠবে তোমাদের মধ্য থেকেই আজকে শুরু করাদের একজন। দেখবে খুব দ্রুতই বদলে গেছে বাংলাদেশ। তোমাদেরি কেউ একজন হয়ে গেছ পরিবর্তনের মডেল, হয়ে গেছ বাংলাদেশের মাহাথির বা লিকুইয়ান, যদিও পরিচিত হবে নিজ নামে। অন্য কোন দেশ তখন তোমার মত চেঞ্জমেকার চাইবে।আজ আমরা যেমন চাই একজন মাহাথির।

সব কথার শেষ কথা, “Change never has happened because majority people just desired it. Changes always occur due to few committed people”-Yasir Fazaga.

আমাদের ও কিছু কমিটেড লোক দরকার যারা নিজেদের পরিবর্তন করার মাধ্যমে দেশকে পরিবর্তন করার কাজ শুরু করবে। মাহাথিরের মত কেউ এসে পরিবর্তন করে দিবে, সেই আশায় বসে থাকবে না।


সবশেষে তিনটা প্রশ্ন যার উত্তর জানা থাকলে সামনে তোমার সুন্দর ভবিষ্যত।


১। তোমার জীবনের কি কোন লক্ষ্য স্থির করেছ ? বলো না যে ডাক্তার, ব্যারিষ্টার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রোগ্রামার হওয়া তোমার জীবনের লক্ষ্য। এগুলি লক্ষ্য পুরণের উপায় হতে পারে বড় জোড়, কিন্তু জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না।

২। তুমি কি নিজেকে চেন? সৃষ্টিকর্তা তোমাকে কোন কোন বিষয়ে শক্তিশালী আর কোন কোন বিষয়ে একটু দুর্বল করে দিয়েছে ? তিনটি করে তোমার স্ট্যাংথ আর উয়িকনেস বলতে পারবে ?

৩। তোমার পেশান কি? কোন জিনিসগুলি তোমাকে এনারজাইজ, এক্সাইটেড, মোটিভেট আর ইন্সপায়ারড করে ?

-------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------

এই অনবদ্য পোস্টটি লিখেছেন মনির উদ্দীন আহমেদ বাদল। মূল ফেসবুক নোট লিঙ্ক


এখানে আমি একটা জিনিস যুক্ত করতে চাই। চিন্তা আর কথা উন্নত করার সাথে সাথে আমাদের সংগঠিত হতে হবে। একা মানুষ বেশি কিছু করতে পারে না। আমি ড্রয়িংরুমে একা একা অনেক কিছু বুঝতে পারি, কথার ঝড় তুলতে পারি -- এর বেশি কিছু করতে পারি না।

পরিবর্তনের জন্য দরকার সমমনাদের একত্রিত হওয়া। সংগঠিত হওয়া। সংগঠন করা।

তাই আসুন, সংগঠন গড়ে তুলি। আর কতো দিন বসে বসে মার খাবেন? একা একা মৃত্যুবরণ করবেন? কুঁয়ো থেকে বের হয়ে আসার সময় হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29484661 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29484661 2011-11-16 21:52:21
“ওয়াল-স্ট্রিট দখল করো” আন্দোলনে বিজ্ঞানীরা : কাজ এবং পরিবর্তনের মহাক্ষুধা


এর আগে খবরে এই “দখল করো” আন্দোলনের কথা শুনলেও খুব একটা মনোযোগ দেই নি। সেদিন আন্দোলনকারীদের মিছিলে একটা প্ল্যাকার্ডের দিকে আমার চোখ আটকে গেল। সেখানে লেখা:

“পিএইচডি =/= চাকরী”

পিএইচডি মানেই চাকরী নয়। এই প্রসঙ্গ আমাদের বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। বিজ্ঞানকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেয়ার জন্য দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এখন আর যথেষ্ট নয়। এই বার্তাটি “দখল করো” – আন্দোলনে যেন নতুন সুরে বাজলো।

ব্রান্ডল ক্রস এই প্ল্যাকার্ডটি গলায় নিয়ৈ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণরসায়ন বিষয়ে পিএইচডি-র পঞ্চম বর্ষ অতিক্রম করছেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু “স্তন-ক্যান্সার”। সাধারণত এই বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষণায় বেশ ভালোভাবেই অর্থায়ন করা হয়। কিন্তু ক্রস তার ভবিষ্যত জীবিকা নিয়ে হতাশ -

“আমি নিজেই একটা জৈব-প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানী খুলতে চাই। আমার টনকে টন আবিষ্কার আছে। আর আমি চাই এনআইএইচ (NIH- National Institutes of Health) সেখানে অর্থায়ন করুক। কিন্তু সেখানে কোন টাকা নেই। “

কথা হয় ড. ট্রয় রুবিনের সাথে। তিনি জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী। যোগ দিয়েছেন “ওয়াল-স্ট্রীট দখল করো” আন্দোলনে। তিনি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন:

“আমরা এমন একটা সমাজে বসবাস করি যেখানে অর্থের তুলনায় জ্ঞানের মর্যাদা কম (… wisdom is less appreciated than money)। যে সমাজ কেবল অর্থের পেছনেই ছোটে, মৌলিক ভাবেই সে অস্থির (… fundamentally unsustainable) ।”

“দখল করো”- আন্দোলনকারীরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমস্যার পেছনে আছে মাত্র এক-শতাংশ, আর্থিকভাবে ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিদের কর্পোরেট লোভ এবং অসম ক্ষমতার দাপট। গত সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায়। বাল্টিমোর একটি ছোট শহর হলেও এখানে অনেক গবেষণা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। তাই এটা অবোধগম্য নয় যে এখানকার আন্দোলনে বিজ্ঞানীরাও অংশ নিচ্ছেন।



বিজ্ঞানীদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। এই কারণগুলো গত এক দশক ধরে জমা হয়েছে। কেবল ক্রস আর রুবিন নয় — আমেরিকান কমপিটি এক্ট(এ বিষয়ে উইকিপিডিয়া দেখুন), জলবায়ু পরিবর্তন বিধান পাশ করতে জাতীয় কংগ্রেসের ব্যর্থতা; বিজ্ঞানশিক্ষা, গণিতশিক্ষায় জাতীয় সংকট আমাদের অনেক বিজ্ঞানীদেরই হতাশ, ক্ষুব্ধ করেছে।

আমি নিজে একজন জ্যোতিঃপদার্থবিদ। গবেষণার এই ক্ষেত্রে বছর বছর আর্থিক সংস্থান কমে আসছে। নিজের অতীত ছাত্রদেরকেই দেখেছি এই গবেষণায় যুক্ত থাকতে কিভাবে কষ্ট করতে হচ্ছে। সূর্যকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর কত সময় লাগে? পরিসংখ্যান বলে মাত্র অর্ধেক আমেরিকানই এর সঠিক উত্তর দিতে পারেন! মরার উপর খাঁড়ার ঘা - টেক্সাস এবং ফ্লোরিডাতে পদার্থবিদ্যা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি এসেছে। আমিও বলতে গেলে এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে প্রস্তুত।

এতকিছুর পরেও আমি স্বীকার করতে রাজি – বিজ্ঞানীদের “দখল করো” আন্দোলনে দেখে আমি আসলে এখনো বিস্মিত। আমরা বিজ্ঞানীরা সাধারণত শান্তশিষ্ট জীব। এসব বিষয় নিয়ে ঘরোয়া আলোচনাতে গজরাতেই আসলে আমরা পছন্দ করি।

ঠিক, যে এই আন্দোলনে এমন অনেক কিছুই আছে যার কারণে যে কেউ যুক্ত হতে আড়ষ্ট বোধ করবেন। সমালোচকরা বলবেন এই আন্দোলন কেন্দ্রীভুত নয়, আর এর কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যও নেই। তাছাড়া বাল্টিমোরের মিছিলে আমি সমকামীদের অধিকারের দাবীতে প্ল্যাকার্ড দেখলাম। “দখল করো” আন্দোলনে যুক্ত না হওয়ার পেছনে এগুলো বেশ ভালো যুক্তি। তাবুও কিভাবে একটি আন্দোলন এতোগুলো দাবীকে কিভাবে একসাথে নিয়ে আসে তা অবাক হওয়ার বিষয় বৈকি।

অবশ্য আন্দোলনকারীরা এই বহুবিচিত্র দাবীগুলোকে তাদের সম্পদ হিসেবে ভাবেন। সম্ভবত বিজ্ঞানী এবং পন্ডিতবর্গরা (academics) “দখল করো” আন্দোলনের এই মুক্তমঞ্চকে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখবেন।

“এই আন্দোলনে অনেক ইস্যু নিয়ে দাবী তোলা হচ্ছে। দাবীগুলোর বৈচিত্র্য একাংশে এই আন্দোলনে আমাকে টেনে আনার জন্য দায়ী।"

বললেন জেস ক্রো। ক্রো মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাল্টিমোর) পরিবেশ বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশুনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান বিষয়ে যে সংকট আছে তা নিয়ে কাজ করার নিশ্চয়ই অনেক পন্থা আছে। এই সংকট সমাধানের সেরা পদ্ধতি এখনো আমাদের অজানা। তবে “ওয়াল স্ট্রীট দখল করো” আন্দোলনে বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণ ইঙ্গিত করছে যে বিজ্ঞানীরও জনমত গঠন এবং সরকারী নীতি প্রভাবিত করতে নতুন বন্ধু এবং পথ খুঁজে নিচ্ছেন। আমরা, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদীন ধরেই ক্ষুব্ধ। কারণ এই দেশে বিজ্ঞানকে অবহেলা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক “দখল করো” আন্দোলন আমাদের এই হতাশা থেকে বেড়িয়ে এসে সার্বিক সংকট উত্তরণের সংকল্পকেই নির্দেশ করছে।



মূল লেখক মার্ক কুচনার (Marc Kuchner)। একজন জ্যোতিঃপদার্থবিদ। কাজ করছেন নাসা (NASA) তে। ভাবানুবাদের চেষ্টা করেছি। ভাব-প্রকাশের যাবতীয় অদক্ষতার জন্য দায়ী আমি। মূল লেখাটি পাবেন সাইন্টিফিক আমেরিকান ব্লগে । পূর্বে বিজ্ঞান ব্লগে প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29476018 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29476018 2011-11-01 00:38:36
আমাদের দেহের প্রাণবৈচিত্র্য || দেহবাসীদের কথা Click This Link

sb]“তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা
মন জানো না -
তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?”

উঁকুন, কৃমি ছাড়াও মানবদেহে স্হায়ীভাবে বসবাস করে অজস্র অণুজীব। আমরা দেহকে একটি ঘন অরণ্যের সাথে তুলনা করতে পারি। এই অরণ্য ব্যাক্টেরিয়াতে কিলবিল করছে। মনস্তাত্ত্বিক কারণে মানুষ সাধারণত সংখ্যা বা পরিসংখ্যান পছন্দ করে না। তাই আমি বলবো না মানবদেহে দশ ট্রিলিয়নের মতো ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে। তবে একটা তুলনা করা যেতে পারে। দেহে মোট কোষের তুলনায় ক্ষুদে ব্যাক্টেরিয়াদের সংখ্যা দশগুণ – চিন্তা করা যায়! অবশ্য এটা ঠিক যে আমাদের দেহকোষ একটি ব্যাক্টেরিয়ার চাইতে আকারে দশগুণের মতো বড়ো হয়। তাহলে কি প্রতিটি কোষের ভেতরে দশটি ব্যক্টেরিয়া থাকে? না। এরকমটা হলে আমরা আর বাঁচতে পারতাম না। আমাদের দেহঘরের বেশীরভাগ প্রত্যঙ্গই জীবাণুমুক্ত। দেহের বহির্ভাগেই অধিকাংশ ব্যাক্টেরিয়া বসবাস করে। লালনের গানের একটা কলি আছে “… আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা/ মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা …”। সেই নয় দরজা, মানে দেহে যেখানে উন্মুক্ত হয়েছে সেখানেও অণুজীবের সাবলীল বসবাস।




“আকাশ ভরা, সূর্য-তারা বিশ্ব ভরা প্রাণ তাহারই মাঝখানে, আমি পেয়েছি আমি পেয়েছি মোর স্থান – বিস্ময়ের।”

শিশু কিংবা জ্যোতির্বিদদের মতো আকাশের অজস্র গোলাকার তারা দেখে আমরা বিস্মিত হই। অথচ আকাশে দৃশ্যমান তারাদের চাইতে বহুগুণ বেশি প্রাণ ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের দেহের ভেতর-বাহিরে। এজন্য অবশ্য আতঙ্কিত হয়ে জীবানুনাশক সাবান গায়ে মাখার দরকার নেই। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বেশীরভাগই কিন্তু ততটা খারাপ নয়। সাধারণত এই ব্যাক্টেরিয়ারা নিরীহ। ত্বকের মৃত কোষ, ঘাম ও অন্যান্য নিঃসৃত রাসায়নিক খেয়ে ওরা বেঁচে থাকে। সম্ভবত আমাদের দেহই এদেরকে পুষে থাকে। ত্বকের উপর খাওয়াদাওয়া করে জায়গাটাকে ওরা “দখলে” রাখে। এই “দখলদারী” কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এরা ত্বক দখলে রাখে বলেই ক্ষতিকর জীবাণুরা ত্বকের উপর উপনিবেশ গড়ে তুলতে পারে না। শরীর-দূর্গের বাইরে পরিখার মতো কাজ করে এই বন্ধুরা। আমাদের পেটের নাড়ি-ভূড়ি-অন্ত্রে যেসব ব্যাক্টেরিয়াদের বসবাস, তাদের ভূমিকাও একই রকম। মূল কাজ জায়গা দখলে রাখা। কেউ কেউ আমাদেরকে ভিটামিনও দিয়ে থাকে। আমরা যা খাই, তার খুব সামান্য অংশ এরা চুরি করে।


পায়ের পাতার আরেক জগত
ঘন অরণ্যের সাথে দেহবাসী অণূজীবদের তুলনাটা যদি যুতসই মনে হচ্ছে না? সেক্ষেত্রে পায়ে পাতাকে আমরা দেহের ক্রান্তীয় বাদল বনের (রেইন ফরেস্ট) সাথে তুলনা করতে পারি। পায়ের পাতায় প্রতিটা ইঞ্চিতে আছে দশ হাজারের মতো ঘামগ্রন্থি। বাদল বনের মতো এই জায়গাটা ছত্রাক দিয়ে ভরা। একটা বিশেষ জাতের ছত্রাক (ট্রাইকোফাইটন রাবরাম) এখানে আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। এদের বাগান (ভিন্নার্থে জঙ্গল) আমাদের পায়ে বেড়ে উঠে। সাধারণত এরা আমাদের ক্ষতিও করে না, উপকারও করে না। তবে বেশী বেড়ে গেলে আবার “এথলেটস ফুট” নামের একটা রোগ তৈরি করতে পারে এরা।

ছত্রাক ছাড়া অন্য অণূজীবরাও পায়ের পাতাকে ভালোবাসে। আমরা আগে প্রোটিন তৈরির ইট, অ্যামিনো এসিডের কথা জেনেছি। দেহ থেকে ঘামের সাথে বের হওয়া এই এসিড খেয়ৈ বেঁচে থাকে চামড়ার স্ট্যাফ. (স্ট্যাফাইলোকক্কাস এপিডার্মিস) নামের ব্যাক্টেরিয়া। সারাদিন বাইরে থেকে বাসায় এসে পা না ধুলে যে গন্ধটা অন্যদের বিরক্তি তৈরি করে তার জন্য দায়ী এরা। কারো কারো পায়ে উৎকট দুর্গন্ধ তৈরি হলে বুঝতে হবে চামড়ার স্ট্যাফ ছাড়াও ব্যাসিলাস সাবটিলিস নামের ব্যাক্টেরিয়া মহাসমারোহে খাওয়া-দাওয়া-বংশবিস্তার করছে।


জ্বরঠোঁসা কিংবা-ইঁদুর বেড়াল খেলা
আপনার আগে যদি কখনো চিকেন-পক্স হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে থাকুন। এই রোগটা আর কখনোই আপনার হবে না। কেন? কারণ বিবর্তনের মাধ্যমে মানবদেহ একটি চতুর রোগ-প্রতিরক্ষা-পদ্ধতি (অনাক্রম্যতা/ ইমিউনিটি) গড়ে তুলেছে। এর ফলে সে কোন রোগে আক্রান্ত হলে দায়ী ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসটাকে চিনে রাখে। সুস্থ হওয়ার পরে আবার দেহের মাঝে সেই একই ব্যক্টেরিয়া/ভাইরাসটাকে দেখতে পেলে কোন সুযোগ না দিয়েই নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। তাই সাধারণত দ্বিতীয়বার একই কারণে রোগ হয় না – যদি না ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসটা বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

চিকেন পক্স হয় ভাইরাসের জন্য। চিকেন পক্স বহু বছর আগে সেরে গেলেও এর ভাইরাসটা কিন্তু আপনার দেহের মাঝে ঘুমিয়ে আছে সন্তর্পনে। আপনি দূর্বল হলেই সে জেগে উঠবে সন্তর্পনে। তারপর তৈরি করবে জ্বর ঠোসা। কিছুদিন একটু ভুগিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়বে আপনার দেহের ভেতরে।

আরো একটা মজার প্রসঙ্গে যাই। টক্সোপ্লাজমা গন্ডী বলে বিচিত্র এক পরজীবি আছ। এদের মূল পোষক হলো বেড়াল। একমাত্র বেড়ালের দেহের মধ্যেই এরা বংশবৃদ্ধি করে। তাই সে এমন বাহক খুঁজে বেড়ায় যাকে কিনা বেড়াল খেতে পারে। যেমন ধরা যাক ইদুর। সাধারণত ইদুর বেড়ালের মূত্র এড়িয়ে চলে। কিন্তু টক্সোপ্লাজমা আক্রান্ত ইদুর বেড়ালের মূত্রের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করে। ফলাফল একটাই – বিড়ালের সহজ শিকারে পরিণত হওয়া। ইদুরের সাথে সাথে টক্সোপ্লাজমাও বেড়লের দেহের ভিতরে গিয়ে বংশবৃদ্ধি করে, ছড়িয়ে দেয় নিজেকে।

খারাপ খবর এই যে, টক্সোপ্লাজমা মানুষের মাথাতেও বাসা বাঁধতে পারে। সেখানে সে সাধারণত ঘুমিয়েই থাকে। কিন্তু ঘুম শেষে জেগে উঠলে সে কিছু রাসায়নিক ক্ষরণ করে। এই রাসায়নিকগুলো মানুষের আচরণের উপর প্রভাব ফেলে। সে উত্তেজনা-প্রবণ হয়ে যায়, কম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

এখন মানুষ উত্তেজিত হলে টক্সোপ্লাজমার লাভ কি? বিড়াল তো আর মানুষকে খায় না। কিন্তু না – হাজার হাজার বছর আগে একটা সময় ছিলো যখন মানুষ বন্য অবস্থায় বিপদসংকুল অরণ্যে শিকার করতো। চিন্তা করুন টক্সোপ্লাজমা আক্রান্ত এক আদি-মানবের কথা। তার বন্ধুরা যখন বাঘের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, টক্সোপ্লাজমার রাসায়নিকের প্রভাবে সে উল্টো তেড়ে যাচ্ছে বাঘের দিকে। ফলাফল একটাই – বাঘের পেটে মৃত্যু। আর বেড়াল তো বাঘের মাসী – ওরা একই গোত্রের প্রাণী।

ব্যাক্টেরিয়ারা যে কতভাবে আমাদেরকে প্রভাবিত করতে পারে – তা এক অদ্ভূত বিষয়!

আমরা যাদের নাম জানিনা
নবম-দশম শ্রেণীতে জীববিজ্ঞান পড়ার সময় বিভিন্ন প্রাণীদের বৈজ্ঞানিক নামকরণ শিখতে হতো। নামকরণ হতো ল্যাটিন ভাষায়। তাই বিষয়টা অনেক কাঠখোট্টা লাগতো। তখন ভাবতাম, বাংলাদেশের কোন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সবার অগোচরে থাকা কোন জীব আবিষ্কার করবো। তারপর সহজ কোন বৈজ্ঞানিক নাম দেব। অবশ্য সবার অগোচরে থাকা অপরিচিত কোন জীব আবিষ্কার করতে হলে এখন পাপুয়া নিউগিনির গহীন বনে যাওয়ার দরকার নেই। কেবল পায়ের পাতাটা হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই হবে। সেখানে অন্তত কয়েকটা প্রজাতীর অণুজীব পাওয়া যাবে যাদের এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা হয় নি।

ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে গবেষণা করতে হলে বিজ্ঞানীরা বিশেষ ক্ষেতে (পেট্রিডিশ) ব্যাক্টেরিয়াটাকে চাষাবাদ (কালচার) করেন। দূর্ভাগ্যজনক যে মাত্র ২-৫ শতাংশ ব্যাক্টেরিয়াকে এভাবে চাষ করা যায়। বাকি ন্যূনতম ৯৫ ভাগ অণুজীব আমাদের চারপাশেই আছে – কিন্তু আমরা তাদের চিনি না। চাষ করতে না পারলেও অবশ্য তাদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা সম্ভব। সেই ডিএনএ আমাদের পরিচিত ব্যক্টেরিয়ার ডিএনএ-র সাথে মেলে না।

পূর্বে বিজ্ঞানব্লগে প্রকাশিত
http://www.bigganblog.com
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29471888 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29471888 2011-10-24 22:18:39
টিকা-বিরোধী আন্দোলন : একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা


অভিভাবকেরা যখন টিকার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন
একটা সময়, হুপিং কাশি ভয়াবহ রোগ ছিলো। ছোট শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হতো। হুপিং কাশির নামই কেবল শুনেছি। কোন রোগী দেখি নি। সম্ভবত, আমাদের আগের প্রজন্মও, মানে আমাদের পিতামাতারাও এই রোগ দেখে নি। কারণ ভ্যাক্সিন বা টিকার আবিষ্কার। পাঠক খেয়াল করবেন, সরকারী টিকা দেয়ার ক্যাম্পেইনে ডিটিপি জাতীয় ভ্যাক্সিন শিশুকে দেয়া হয়। এই টিকার একটা অংশ হলো পার্টুসিস বা হুপিং কাশির টিকা। এখনো অনেক দেশে এই টিকা দেয়া হয় না বলে হাজার হাজার শিশু মৃত্যুবরণ করে।

হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হলে রোগী প্রথম প্রথম সাধারণ ঠান্ডার মতো উপসর্গ দেখাতো। রোগ জটিল হওয়ার সাথে সাথে বোঝা যেত, এটা সহজ কোন রোগ নয়। রোগী অত্যন্ত শ্বাসকষ্টে ভুগতো। তীব্র শুকনো কাশির দমকে দমকে বমিও বের হয়ে আসতো। এক নাগাড়ে কাশির ফাঁকের সময়ে রোগী দ্রুত বেশি শ্বাস নিতে গিয়ে এক ধরনের শব্দের সৃষ্টি করতো। ওই বৈশিষ্ট্যমূলক শব্দের থেকেই হুপিং কাশি রোগের নামকরণ। এই হুপিং কাশিই পরবর্তীতে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতো – যার কোন উপশম থাকতো না। পরম আদরের সন্তানের এই পরিণতি কোন অভিভাবকই চান না।

তাই যখন ১৯৫০ সালের দিকে হুপিং কাশির ভ্যাক্সিন প্রচলিত হলো, উন্নত বিশ্বের অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন সোনার চাবি হাতে পেলেন। ছোট শিশুদের জন্য পার্টুসিস ভ্যক্সিন দেয়ার নিয়ম করে দেয়া হলো। ফলাফল আশানুরূপ। শিশুদের হুপিং কাশি হয়ে গেল ইতিহাস।

কিন্তু, একটা ঝামেলা রয়েই গেল।

এই ভ্যক্সিনটা শিশুর দেহে সামান্য প্রতিক্রিয়া তৈরি করতো। ২০ শতাংশ শিশু ব্যাথা এবং শারীরিক-অস্বস্তি অনুভব করতো। আর ০.১ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের তীব্র, নিরাময়ের অযোগ্য ক্ষতি হতে দেখা গেল। যদিও কোন সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেলো না যে পার্টুসিস ভ্যাক্সিনের কারণেই মস্তিষ্কের এই ক্ষতি তৈরি হচ্ছে। হুপিংকাশি শিশুদের কতো ভয়াবহ রোগ তা সেই সময়ের অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দেখেছেন। তাই তারা শিশুদের এই ক্ষতির সম্ভাবনাটুকু মেনে নিতেন।

১৯৭০ সালের দিকে উন্নতদেশগুলো থেকে হুপিং কাশি প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেল। তখন চিকিৎসক, অভিভাবকরা এই পার্টুসিস টিকার উপসর্গগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করলেন। এই টিকা ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রচারমাধ্যমগুলো জনমতকে টিকার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করতে থাকলো। বিশেষ করে জাপানে এই টিকা-বিরোধী প্রচারণা তুঙ্গে উঠে গেল। চিকিৎসকরা তখন এই টিকা বর্জন করা শুরু করলেন। ১৯৭৬ সালে দেখা গেল জাপানে মাত্র ১০ শতাংশ শিশু পার্টুসিস ভ্যাক্সিন নিয়েছে। তারপরের কাহিনী অত্যন্ত করুন। ১৯৭৯ সালে জাপানে হুপিং কাশি মহামারী আকারে দেখা দেয়। সেখানে এক বছরে ১৩ হাজার রোগী হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ৪১ জন।

পার্টুসিস টিকাটির বিরুদ্ধে ঠিক একই দৃশ্যপট দেখা গেল ইউরোপ ও তৎকালীন সোভিয়েই ইউনিয়নেও। প্রথমে টিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন, টিকা বর্জন, পরিশেষে হুপিং কাশির মহামারী। সবচাইতে তিক্ত বিষয়টা কি জানেন? শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে যে পার্টুসিস টিকা উঠিয়ে নেয়া হলো, তার ফলাফল অজস্র শিশুর মৃত্যু, অগণিত শিশুর মস্তিষ্ক সহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা।

আবার নব্বইয়ের দশকে টিকা-বিরোধী কিছু ফ্যানাটিক-গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। কারণ তারা ৭০-এর দশকের পর বিশ বছর সময় পেয়েছিলো হুপিং কাশি মহামারী ভুলে যাওয়ার জন্য। তবে তারা খুব কম অভিভাবককেই ভূল পথে পরিচালিত করতে সফল হয়েছে – যেই পথে একটি নতুন প্রজন্মকে কষ্টকর শারীরিক জটিলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে হয়।

সুখের কথা, পরবর্তীতে এই রোগের বিরুদ্ধে ভ্যক্সিনটিকে আরো উন্নত করা হয়। পূর্ববর্তী সংস্করণের চাইতে এর উপসর্গ সামান্যই।


পূর্বে বিজ্ঞান ব্লগে প্রকাশিত

তথ্যসূত্র: Impact of the anti-vaccine movements on purtussis control: the untold story. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29454418 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29454418 2011-09-24 21:56:59
গোপন বাগানের ডাক কার বেহালা কেঁদে কেঁদে চলছে,
ডাক আসে।

গোপন বাগান থেকে ডাক আসে,
সেখানে বেজে ওঠে অচেনা করুণ সুর,
ঝড়া পাতারা দুমরে-মুচড়ে যায়,
চাঁদ নেই বলে নদীও রূপালী আয়না হয়ে ওঠে না।

গোপন বাগান
বেহালার ছড়া সেখানে অস্ত্রোপচার চালায়,
বাগানে চলে মুগ্ধতা আর বিভ্রমের সহবাস,
নেই রাগমোচনের ক্লান্তি,
মায়ারা সেখানে ছলনা করে না।

গোপন বাগানে এসো।
কুয়াশার পেছনে লুকিয়ে লুকিয়ে,
নিজেকে হারিয়ে বেহালার কাছে,
নীরব আত্মসমর্পনে।
গলায় দলা-পাকা কান্নারা
ডুকরে উঠুক।
আঁধারে কুয়াশারা ঢেকে দিক বেহালা-বাদককে,
গোপন বাগানে অন্ধতার
একান্ত দরকার।


খসড়া কবিতা ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১
..................................................................................

সিক্রেট গার্ডেন আমার প্রিয়তম ইন্সট্রুমেন্টাল। বেহালার সাথে পিয়ানোর কম্পোজিশন সেখানে মূখ্য। একটু সময় থাকলে শুনে দেখুন ...




ঐ দূরে বাগানে
কার বেহালা কেঁদে কেঁদে চলছে,
ডাক আসে।

গোপন বাগান থেকে ডাক আসে,
সেখানে বেজে ওঠে অচেনা করুণ সুর,
ঝড়া পাতারা দুমরে-মুচড়ে যায়,
চাঁদ নেই বলে নদীও রূপালী আয়না হয়ে ওঠে না।

গোপন বাগান
বেহালার ছড়া সেখানে অস্ত্রোপচার চালায়,
বাগানে চলে মুগ্ধতা আর বিভ্রমের সহবাস,
নেই রাগমোচনের ক্লান্তি,
মায়ারা সেখানে ছলনা করে না।

গোপন বাগানে এসো।
কুয়াশার পেছনে লুকিয়ে লুকিয়ে,
নিজেকে হারিয়ে বেহালার কাছে,
নীরব আত্মসমর্পনে।
গলায় দলা-পাকা কান্নারা
ডুকরে উঠুক।
আঁধারে কুয়াশারা ঢেকে দিক বেহালা-বাদককে,
গোপন বাগানে অন্ধতার
একান্ত দরকার।


খসড়া কবিতা ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১
..................................................................................

সিক্রেট গার্ডেন আমার প্রিয়তম ইন্সট্রুমেন্টাল। বেহালার সাথে পিয়ানোর কম্পোজিশন সেখানে মূখ্য। একটু সময় থাকলে শুনে দেখুন ...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29446203 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29446203 2011-09-11 13:53:05
এনার্জি সেভিং বাল্ব থেকে সাবধান বিজ্ঞান ব্লগে প্রকাশিত

এনার্জি সেভিং বাল্ব এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বাতি ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সম্প্রতি এনার্জি সেভিং বাতির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন যে এই বাতিগুলো ভেঙে গেলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

এই লাইটগুলো ভেঙে গেলে হতে পারে বিপদের কারণ।



এসব বাল্ব কোনভাবে ভেঙে গেলে ঘরের সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ৈ যেতে হবে। কমপক্ষে ১৫ মিনিট ঘরের বাইরে থাকতে হবে। এসব বাল্বে আছে বিষাক্ত পারদ বা মার্কারী। এটি মাথাব্যাথ্যা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি নিশ্বাসের সাথে টেনে নেয়াও বিপজ্জনক।

এলার্জিগ্রস্থ লোকেরা এটি স্পর্শ করলে বা নিশ্বাসের সাথে টেনে নিলে ত্বকের মারাত্মক সমস্যা বা অন্যকোন বিপত্তিতে পড়বেন। আরো হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে যে, ভাঙা বাল্বের আবর্জনা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে পরিষ্কারও করা যাবে না। কারণ এর ফলে দূষণ ছড়িয়ে পড়বে অন্যান্য কক্ষে।

সাধারণভাবে ঝাড়ু দিয়ে সাফ করতে হবে এসব আবর্জনা। তারপর ব্যাগে পুরে ডাস্টবিনে ফেলেদিয়ে আসতে হবে।

সীসা কিংবা আর্সেনিকের চাইতেও পারদ মানবদেহের জন্য বেশি মারাত্মক।

কী করতে হবে: পরিবেশ ও খাদ্যবিভাগের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত হুঁশিয়ারী দেয়া হয়েছে :

১. এনার্জি সেভিং বাল্ব ভেঙে গেলে দ্রুত ঘর থেকে বেড়িয়ে যান, কাচের ভাঙা টুকরো মাড়াবেন না।
২. ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে পারদের ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে পড়বে অন্যান্য কক্ষে।
৩. ঘর পরিষ্কার করার আগ হাতে দস্তানা পড়ে নিন।
৪. আবর্জনা একটি প্লাস্টিক ব্যাগে রাখুন। ব্যাগের মুখ বন্ধ করে দিন।
৫. এই ব্যাগ দূষিত আবর্জনা রাখার ডাস্টবিনে ফেলে আসুন।
৬. ভাঙা বাল্বের ধুলো কখনোই নিশ্বাসের সাথে টেনে নেবেন না।

নিজে জানুন, অন্যদের জানান।

তথ্যসূত্র: গণস্বাস্থ্য, শ্রাবণ ১৪১৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29441368 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29441368 2011-08-31 10:15:53
আমাদের দেহের প্রাণবৈচিত্র্য – গন্ধের জন্য দায়ী কে?


ঘ্রাণ। আপনার-আমার-প্রত্যেকের দেহেই বৈশিষ্ট্যসুচক গন্ধ আছে। ঘাম, পায়েরমোজা, মাথার চুল কিংবা বগলের তলায় গন্ধ (মতভেদে দুর্গন্ধ!) তৈরি হয়। এই গন্ধের জন্যই হয়তো মশারা আপনার প্রতি একটু বেশিই আকৃষ্ট হয়।

এই ঘ্রাণ, গন্ধ(মতভেদে দূর্গন্ধ) সৃষ্টির জন্য আমরা বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়াকে দায়ী করতে পারি। আপনার হয়তো ডেটল-স্যাভলন সহ বিভিন্ন সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে যেতে পারে। জ্বি হ্যাঁ, আমাদের দেহত্বক ‘গিজগিজ’ করছে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে। এসব ব্যাক্টেরিয়ার জন্য আমাদের দেহত্বক অতি মনোরম একটি স্থান। উষ্ণ তাপমাত্রা, মৃত কোষ, ঘামে নিঃসৃত অ্যামিনো এসিডসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আমাদের দেহকে ব্যাক্টেরিয়ার থাকা-খাওয়ার জন্য ভালো জায়গা বানিয়েছে। একদিক দিয়ে চিন্তা করলে, আমাদের শরীরও ব্যাক্টেরিয়াকে “পোষে”।

অ্যামিনো এসিড হলো আমিষ বা প্রোটিন তৈরির একক। দেয়াল তৈরি করতে যেমন ইট লাগে, প্রোটিন তৈরিতেও লাগে অ্যামিনো এসিড। মানুষ, গরু, ঘাসফড়িং, গাছ থেকে শুরু করে ব্যাক্টেরিয়ারও প্রোটিন তৈরি করতে হয়। তাই সবারই দরকার অ্যামিনো এসিড। খাবারের মধ্যে অ্যামিনো এসিড না থাকলে বিপদ।

একজন সুস্থ মানুষের দেহ থেকে য়ে ঘাম নিঃসৃত হয় সেখানে বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়া বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো এসিড খায়। খাওয়ার পর “বাই-প্রোডাক্ট” হিসেবে ব্যাক্টেরিয়া এসিটিক এসিড সহ বিভিন্ন পদার্থ নিঃসৃত করে। ঘামের মৃদু গন্ধ হয় ব্যক্টেরিয়া নিঃসৃত এইসব পদার্থের কারণে।

মানুষের যাবতীয় ঘ্রাণ তৈরি হয় ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে। বগলের গন্ধ তৈরি করে কর্নিব্যাক্টেরিয়া-রা। হাতের বগল সহ অন্যান্য গোপন এলাকার ত্বকে বিশেষ এপোক্রিন গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন পদার্থ নিঃসৃত হয়। কর্নিব্যাক্টেরিয়ারা এগুলো খেয়ে বাঁচে। এমনকি আমাদের চুলের গন্ধও তৈরি হয় মাথার ত্বক ও চুলে বসবাসকারী ক্ষুদে জীবদের কল্যাণে।

আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার দেহের প্রাকৃতিক গন্ধ যদি ভালো লাগে, বুঝবেন, এটা ব্যাক্টেরিয়ারই সুদূরপ্রসারী প্রভাব। বিভিন্ন হ্যান্ডওয়াশের বিজ্ঞাপনগুলো দেহে বসাবাসকারী ব্যাক্টেরিয়াদের “শত্রু” হিসেবে উপস্থাপন করে। তারা আসলে ততটা “খারাপ” নয়। উল্টো ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্য ছাড়া আমরা আসলে বাঁচতেই পারতাম না।

প্রথম প্রকাশ বিজ্ঞানব্লগ
তথ্যসূত্র সায়েন্টিফিক আমেরিকান ব্লগ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29435557 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29435557 2011-08-20 17:26:10
বাঁশী নিয়েও ব্লগ লেখা যেতে পারে
"" .... মারফতী ফকীরদের মধ্যে একটি সাধারণ কাহিনী এমনতর শোনা যায়। একদা হজরত আলি আসিয়া হজরত মুহাম্মাদকে জ্ঞাত করান যে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সুরের আঘাতে তার নামাজে নিত্য ব্যাঘাত ঘটে। অতএব আদেশ পাইলে তিনি শ্রীকৃষ্ণের মস্তকচ্ছেদ করিতে প্রস্তুত। হজরত শ্রীকৃষ্ণকে হত্যা করিবার পূর্বে হজরত আলিকে তাহার মুখাবরণ উন্মোচন করিয়া বদনমণ্ডল দেখিয়া লইতে আদেশ করেন। আদেশমতো বাঁশির সুর অনুসরণ করিয়া যখন আলী বংশীবাদনে-সমাহিত-মন শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎ পাইলেন, তখন ক্রোধে তাঁহার হস্তস্থিত জুলফিকার কাঁপিয়া উঠিল। -- কৃষ্ণকে হত্যা করিবার জন্য তিনি প্রস্তুত হয়েছেন; হঠাৎ হজরতের শেষ অনুরোধ তাঁহার মনে উদিত হইলো। -- তৎক্ষণাৎ তিনি শ্রীকৃষ্ণের মুখাচ্ছাদন মোচন করিয়া চকিত হইয়া দেখিলেন যে যাহাকে তিনি বধ করিতে উদ্যত হইয়াছেন তিনি যে হজরত মুহাম্মদ স্বয়ং! ....""

যারা ড্যান ব্রাউনের দ্য ডা ভিঞ্চি কোড পড়েছেন, জানেন যে ইউরোপে খ্রিষ্টধর্ম বিস্তারের সময় স্থানীয় অনেক প‌্যাগান সংস্কৃতি ও আচারকে আত্মস্থ করে নিয়েছিলো। একই ভাবে বাংলায় যখন সূফী সাধকরা ইসলাম প্রচার করতে আসেন, তখন তারা স্থানীয় অনেক গল্পকথাও ব্যাবহার করেছিলেন।



বাঁশী সম্ভবত সবচাইতে কমদামী বাদ্যযন্ত্র। মেলাতে ঘুরতে গিয়ে ছোটবেলায় বাঁশী কিনে আনেননি এরকম মানুষ কমই আছে।
কমদামী হলেও বাঁশী বাজানো তত সহজ না। আর বাঁশীর মতো খুব কম বাদ্যযন্ত্রই আছে যার সুর করুণ।

সাদামাটা চোখে দুই ধরনের বাঁশুরিয়া চোখে পড়ে। একদল, যারা নিজে নিজে "এক্সপেরিমেন্ট" করতে করতে বাঁশী শিখেন। এদেরকে প্রায়ই দেখা যায় রাস্তায়। চিরচেনা বাংলার সুর বাজাচ্ছেন। উনারা সাধরণত ব্যাকরণ জানেন না। কারো কাছে হয়তো শেখেনও নি। নিজেরাই ইচ্ছেমতো সুর তোলেন। পরিচিত কোন গান, অথবা মন থেকে উঠে আসা সুর। উনাদের বাঁশীগুলো ছোট হয়। বাঁশীর স্কেল হয় অনেক উচুতে। তাই অনেক দূর থেকেও শোনা যায় তাদের বাজনা।

আরেক দল বাশুরিয়া হলেন যারা ওস্তাদের কাছে শেখেন। একদম বিধি-ব্যাকরণ ধরে ধরে। একুশের বইমেলার ভেতরে আলখাল্লা পরিহিত একজন বাঁশুরিয়াকে দেখা যায় অনেক মোটা-লম্বা বাঁশী বাজাচ্ছেন।


গিটার, সেতার, বেহালা, তবলা কিংবা হারমোনিয়াম - এই বাদ্যযন্ত্রগুলোকে কিছুদিন পর পর টিউন করে নিতে হয়। বাঁশীতে এই সমস্যা নেই। একটা ভালো বাঁশী কিনে নিলে সেটা 'ডিস-টিউন' হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। অবশ্য, অন্যান্য যন্ত্রে আপনি চাইলেই স্কেল পরিবর্তন করতে পারবেন। চড়া খাদের বেহালা নিচু খাদে নেয়া যাবে তারে একটু ঢিল দিয়ৈ। বাঁশীতে সেটা সম্ভব না। তাই বাঁশুরিয়াদের সাধারণত একাধিক বাঁশী বাজাতে হয়।

আমি নিজেকে বাশুরিয়া বলবো না। একটা বাদ্যযন্ত্র শিখতে দীর্ঘ সময় লাগে। ভালোভাবে শিখতে চলে যায় পাঁচ-সাত বছর। সেখানে বাঁশীতে আমার বয়স মাত্র ছয় মাস। এখনো দুধের শিশু। শিখছি বৈঠকী, টিএসসি-তে। প্রদীপ'দা আমাদের শিক্ষক।

আমার ভাণ্ডারে আছে:
- সি শার্প, সি, এ শার্প, এফ শার্প ও জি শার্পের মাত্র পাঁচটি বাশী <img src=" style="border:0;" />

- রাগ বিলাবল (সবাইকে বিলাবল থেকে শুরু করতে হয়)
- রাগ ইমন (নিজে নিজে তুলেছি)
- রাগ শিবরঞ্জণ (অত্যন্ত করুণ)

- আয় তব সহচরী (আমাদের দেশে সঙ্গীত শিক্ষা রীতিতে এই গান দিয়ে শুরু করতে হয়)
- বড়ো আশা করে এসেছিগো (আ .... হ ....। অসাধারণ লাগে যখন বাজাই )
- পুরানো সেই, দিনের কথা ( এখনো তুলছি ...)
- মোর ভাবনারে, কি হাওয়ায়, মাতালো (কে বলে বাঁশীতে কেবল করুণ সুর তোলা যায়?)


বাঁশী আমাকে একটা অন্যভুবনে নিয়ে যায়। প্রতিদিন। আমাকে প্রশান্ত করে তোলে। কিছুদিন আগে একটা মানসিক যন্ত্রনার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। তখন বাঁশী আমার উপর বিশাল প্রভাব ফেলে। যন্ত্রণা সারিয়ে দেয়।

শেষ করি একটা মজার কাহিনী দিয়ে। একদিন মতিঝিলে রাস্তায় বাঁশী হাতে হাঁটছিলাম। এক লোক আমাকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে, "ভাই, এটা কি বাঁশী?"


যে পোস্ট দেখে এই ব্লগ লেখার ইচ্ছে জাগলো Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29427541 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29427541 2011-08-08 00:27:35
ক্যান্সারের জিন চেনার পথে এক ধাপ


চিত্র ১. মেলানোমা পরিবার জিনের একটি প্রোটিন, চিত্র ২ : টেলোমারেজ এনজাইম যেভাবে কাজ করে। এ এনজাইম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে হতে পারে ক্যান্সার।, চিত্র ৩ : মানুষ, শিম্পাঞ্জি আর ওরাং-ওটাং-এর জিন ২-এর মধ্যকার মিল

ক্যান্সারের জন্য দায়ী জিনের এই পরিবারটি হলো মেজ বা মেলানোমা এন্টিজেন পরিবার। এ জিনগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষের এঙ্ ক্রোমোজম, তিন ও পনেরো নম্বর ক্রোমোজমে পাওয়া যায়। ড. আনোয়ার হোসেন পাঁচ নম্বর ক্রোমোজমের একটি অংশে, বিশেষ এই জিন প্রস্তাব করেছেন, যা কি না ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। তাঁরা এ গবেষণায় বায়োইনফরমেটিকসের যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, তা আধুনিকতম হলেও জটিল নয়। একনজরে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আবিষ্কৃত হলো এ জিনটি।

ধাপ : ১
বায়োইনফরমেটিকসের এ যুগে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ডেটাবেইসে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডিএনএ অনুক্রম (ডিএনএ সিক্যুয়েন্স) জমা রাখা আছে। সেখান থেকে মানুষের পাঁচ নম্বর ক্রোমোজমের একটি অংশ নেওয়া হয় বিশ্লেষণের জন্য। এ জন্য এ নমুনা অংশটির ডিএনএর অনুক্রম নেওয়া হয়।

ধাপ : ২
ভাষার জন্য যেমন ব্যাকরণ আছে ঠিক তেমনই ডিএনএর মধ্যে জিন একটি বিশেষ নিয়মের মধ্যে পড়তে হয়। কোনো জিনের শুরুতে থাকে একটি ‘শুরু’ নির্দেশ। শেষে থাকে ‘শেষ’ নির্দেশ। এ দুই নির্দেশের মধ্যে থাকে জিনের মূল নির্দেশনাটি, যা অনুসরণ করে কোষ কোনো কিছু তৈরি করবে। ডিএনএর মধ্যে কোনো জিন খুঁজতে হলে এ বিশেষ জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হয়। এ জন্য ইন্টারনেটে অনেক প্রোগ্রাম আছে। এ রকম একটি হলো ঘঈইওর ঙজঋ ঋরহফবৎ। এটিসহ অন্যান্য প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ক্রোমোজম পাঁচের ব্যবহৃত নমুনা অংশের মধ্যে নতুন দুটি জিন খুঁজে পাওয়া যায়। এদের নাম দেওয়া হয় জিন ২ ও জিন ৩।

ধাপ : ৩
জিন ২ ও জিন ৩ এর ডিএনএর মধ্যে এমন কিছু জায়গা দেখা গেল, যা অন্যান্য পরিচিত অনেক জিনেও দেখা যায়।

ধাপ : ৪
যেসব জিন বিবর্তনীয় দিক দিয়ে কাছাকাছি থাকে, তাদের জিনের মধ্যেও মিল থাকে। বিবর্তনীয় কারণে মানুষ, শিম্পাঞ্জি ও ওরাং-ওটাং অত্যন্ত কাছাকাছি। এই তিনটি প্রাণীর ক্রোমোজম পাঁচ পরীক্ষা করে দেখা গেল এদের জিন ২-এর মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য।

ধাপ : ৫
জিন ২-এর কাজ আসলে কী তা খোঁজা শুরু হয় এ ধাপ থেকে। এ জন্য জিন ২-কে মেজ পরিবারের একটি জিন মেজ ই১ এর সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়। দেখা যায়, এ জিন দুটির মধ্যে মিল ৩৮ থেকে ৪১ শতাংশ। আপাতদৃষ্টিতে এ মিলটি কম মনে হলেও কোনো জিন পরিবারের সদস্যদের মধ্য অনেক সময় অনুক্রমীয় মিল ২০ শতাংশেরও কম হতে পারে।

ধাপ : ৬
জিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর মধ্যে কোনো বিশেষ অনুক্রম পুনরাবৃত্তি করতে পারে। একেক জিনের পুনরাবৃত্তির ধরন একেক রকম। জিন ২ এবং মেজ ই১ জিনের মধ্যে একই ধরনের পুনরাবৃত্তি খেয়াল করা যায়।

ধাপ : ৭
জিন থেকে তৈরি হয় প্রোটিন। প্রোটিন গঠনের অনেক ধাপ থাকে। যেসব প্রোটিন একই ধরনের কাজ করে তাদের গঠন একই বা কাছাকাছি ধরনের হয়ে থাকে। এ ধাপে জিন ২ এবং মেজ ই১ জিনের দ্বিমাত্রিক গঠন তুলনা করে উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ধাপ : ৮
এই সর্বশেষ ধাপে জিন দুটির বিভিন্ন জৈবিক, আণবিক ও কোষীয় বৈশিষ্ট্য তুলনা করা হয়। এ ধাপেও তাদের মধ্যে বিভিন্ন মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বিভিন্ন পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে সংগতভাবেই অনুমান করা যায় যে জিন ২-টি মানুষের টেলোমারেজ উৎসেচকটিকে অনিয়ন্ত্রিত করে ক্যান্সারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ উৎসেচক অনিয়ন্ত্রিত হলে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি হয়ে ক্যান্সার হতে পারে। এ জিনটির সঙ্গে মেজ পরিবারের জিনের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সত্যি সত্যিই এ জিনটি ক্যান্সারে যুক্ত কি না তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন আছে।
আমরা এমন একটি সময়ে বসবাস করছি যখন মানুষে সম্পূর্ণ ডিএনএতে কী লেখা আছে তা জানা হয়ে গেছে। এখন জীববিজ্ঞানীদের লক্ষ্য এ ডিএনএর পাঠোদ্ধার করা। মানুষের বেশ কিছু জিন আবিষ্কার হয়ে গেলেও এখনো এ কাজের বাকি অনেক। বায়োইনফরমেটিকস এ কাজের একটি প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশে বায়োইনফরমেটিকস এখন শৈশব পার করছে। তবে আশার কথা, ইতিমধ্যে অনেক তরুণের মধ্যে আগ্রহ সঞ্চার করেছে বায়োইনফরমেটিকস। সম্প্র্রতি বাংলাদেশে পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের মতো বড় কাজ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্যান্সারের জিন আবিষ্কারের সম্ভাবনা একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র : ক্যান্সার ইনফরমেটিকসে প্রকাশিত গবেষণাপত্র
ড. আনোয়ার হোসেনের সাক্ষাতকার
কালের কন্ঠের সন্ধানীতে প্রকাশিত। ৫ জুলাই ২০১১।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29408492 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29408492 2011-07-06 23:32:58
পদার্থবিদ্যার বিবর্তনে বিহ্বল ঈশ্বর তখন ঈশ্বরকেই সবকিছু সামলাতে হতো।
মহাসাগারের তলদেশে কোন পোকা আর
উল্কাবৃষ্টি, গ্রহনক্ষত্রের চলাফেরা -
সবকিছু তিনিই চালাতেন।

মধ্যে শোনা গেলো,
তিনি নাকি কিছু নিয়ম তৈরি করে দিয়েছেন।
সেই নিয়মেই জগতটা বেশ ঘুরপাক খাচ্ছে।
অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত বলে দেয়া সম্ভব।
শুধু চলকগুলোর মান ঠিকঠাক মতো বলে দিতে হবে।

মহাবিশ্বকে যান্ত্রিক করে দিয়ে,
ঈশ্বরের হাতে তখন অসীম অবসর।

হঠাৎ একদল অর্বাচীন দাবী করে বসলো,
ঈশ্বর আসলে পাশা খেলছেন।
পাশার ঘুঁটির রয়েছে অসীম ইতিহাস
আর অসীম সম্ভাবনার ভবিষ্যত।


পাশার ঘুঁটিগুলো নাকি ঢেউ?
ঢেউগুলো নাকি পাশার ঘুঁটি?
ঐশ্বরিক ঘুটিগুলোর চলকগুলো ঠিকমতো
বের করা যাচ্ছে না।
একটি চলক গুনলে অন্যটি অসীম হয়ে যায়।

কেউ কেউ এখন বলে
ঈশ্বর এখন নাকি সেতার, তানপুরা,
বেহালা আর গিটারের তারে সুরের কাঁপন তুলছেন।
এই চতুর্মত্রিক জগতটা নাকি
অজানা আয়নাতে পঞ্চমাত্রিক সত্যি জগতের ছায়া।


আমি একেবারেই জানিনা আসলে ঈশ্বর কি নিয়ে ব্যাস্ত।
আমার ধারণা, তিনি হয়তো পদার্থবিদ্যার সৌন্দর্যে বিহ্বল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29406240 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29406240 2011-07-03 00:21:56
জীবনের অন্ধকার অঞ্চল – প্রাণের নতুন ডোমেইন?
মহাবিশ্বের যেমন ৯৬% জিনিসকে আমরা জানি না। ঠিক তেমনই ১% অণুজীবকে আমরা কালচার মিডিয়াতে চাষ করতে পারি। বাকি ৯৯% অণুজীব কালচার মিডিয়ামে দেখা দেয় না। তাই এদেরকে জীববিজ্ঞানের “ডার্ক ম্যাটার” বলে ডাকা হয়।



সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল জীববিজ্ঞানী এই ৯৯% অণুজীবদের জন্য ন্যূনতম একটি ডোমেইন প্রস্তাব করেছেন। আমরা জানি, সকল কোষীয় জীবনকে তিনটি ডোমেইন বা জৈব-অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এরা আমাদের পরিচিত ইউক্যারিয়া, ব্যাক্টেরিয়া আর আর্কিয়া। আর্কিয়া আলাদা ডোমেইন হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৭০ সালের দিকে। আর্কিয়া ও ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে আপাত অনেক সাদৃশ্য থাকলেও তাদের প্রাণ রাসায়নিক ধর্ম ব্যাক্টেরিয়ার চাইতে ভিন্ন। 16s rRNA বিশ্লেষণ বলে যে ব্যাক্টেরিয়ার তুলনায় আর্কিয়ারা ইউক্যারিয়টদের বেশি কাছে।

৯৯% ব্যাক্টেরিয়াকে আমরা কালচার মিডিয়াতে চাষ করতে পারি না বলে কি অন্য কোন ভাবে তাদের খবর জানা যাবে না? এগিয়ে এলেন ক্রেইগ ভেন্টর এবং তার দলবল। টাইম ম্যাগাজিন ক্রেইগ ভেন্টরকে ২০০৭ সালে বিশ্বের একশ প্রভাবশালী ব্যাক্তির মধ্যে একজন বলে স্বীকৃতি দেয়। অথচ তিনি একজন বিজ্ঞানী, কোন রাজনীতিবিদ কিংবা কোটিপতি ব্যাবসায়ী নন। গতবছর কৃত্রিম জিনোম দিয়ে ব্যাক্টেরিয়ার কোষে কৃত্রিম প্রাণ নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। তিনি হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টেরও একজন কর্ণধার ছিলেন। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টে কাজ করার সময় তিনি শটগান জিনোমিকসের উন্নতি সাধন করেন। শটগান জিনোমিকস এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কোন নমুনায় উপস্থিত অণুজীবদের কালচার মিডিয়ামে চাষ না করেই তাদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করতে পারেন।



গত ২০০৩ সাল থেকে একদল বিজ্ঞানী আটলান্তিক, প্রশান্ত ও ভারতীয় মহাসাগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। তারপর শটগান জিনোমিকস পদ্ধতির মাধ্যমে সেসব নমুনায় উপস্থিত সকল অণুজীবের জিনোম পড়া শুরু করেন অর্থাৎ জিনোম সিকোয়েন্সিং করেন। বিশেষ করে তাদের লক্ষ্য ছিলো 16s rRNA বিশ্লেষণ। নমুনাগুলো নিয়ে কাজ করার সময় কিছু অদ্ভূত পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেল। আমরা জানি , 16s rRNA কে ব্যবহার করা হয় জৈববিবর্তন ভিত্তিক ফাইলোজেনেটিক শ্রেণিবিন্যাস করার সময়। এর ভিত্তিতে আধুনিক ট্রি অব লাইফ তৈরি করা হয়। মহাসাগরের বিভিন্ন নমুনায় দেখা গেল, 16s rRNA-র recA, rpoB জিনগুলো একেবারেই অন্যরকম। নমুনায় এসব জিনের এমন সব সিকোয়েন্স পাওয়া গেল যা অন্য কোন জীবের ক্ষেত্রে দেখা হয় নি। এই সিকোয়েন্সের দুইটি সাধারণ ব্যাখ্যা হতে পারে:

এরা কোন ভাইরাসের জেনেটিক সিকোয়েন্সের অংশ
অথবা এরা আসলে জীবন বৃক্ষের নতুন একটি ডোমেইনের নিদর্শন

ভেন্টর আর তার সহবিজ্ঞানীরা ভাবছেন, এই সিকোয়েন্সগুলো জীবনের নতুন ডোমেইন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অবশ্য মিমিভাইরাস (mimivirus) কে অনেকেই ভাইরাস না বলে জীবনের নতুন একটি ডোমেইনে ফেলতে চান। কারণ এর অনেকগুলো জিনই দেখা যায় কেবলমাত্র কোষীয় জীবনেই উপস্থিত। বিজ্ঞানী এইসন মনে করছেন, মিমি ভাইরাসকে যদি জীবনের চতুর্থ ডোমেইন বলি, তাহলে নতুন আবিষ্কৃত জেনেটিক সিকোয়েন্স জীবনের পঞ্চম ডোমেইনটিকে নির্দেশ করছে।

শটগান জিনোমিকস পদ্ধতি নিয়ে আরো কিছু কথা বলা যেতে পারে। আমরা জানি, কোন জীবের জিনোম সম্পর্কিত ডিসিপ্লিন হলো জিনোমিকস। জিনোমিকস জীবের ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এবং জেনেটিক ম্যাপিং নিয়ে কাজ করে। বড় কোন জিনোমকে টানা একবারেই পড়ে সিকোয়েন্স বের করা যায় না। এজন্য জিনোমটিকে অনেকগুলো ছোট ছোট টুকরাতে ভাগ করে তারপর তার জেনেটিক কোড উদ্ধার করা হয়। এই পদ্ধতিকেই বলে শটগান জিনোমিকস।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29368720 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29368720 2011-04-24 22:23:20
পড়ার টেবিলে আবহাওয়া অফিস


ঢাকার অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান সংগঠনের ডেমরা শাখা বিজ্ঞানচর্চা চালিয়ে আসছে নিয়মিত। ওই সংগঠনেরই এক বিজ্ঞানকর্মী তারিফ। আর তাঁর বাসার ছাদেই আছে নানা রকম ছয়টি অ্যান্টেনা! চারটি দেখতে সাধারণ টিভি-অ্যান্টেনার মতো হলেও একটি বেশ প্যাঁচালো, ঠিক যেন কোষের ডিএনএ। অন্যটা বিচিত্র এক চতুর্ভুজের মতো। কক্ষপথে ঘুরতে থাকা বিভিন্ন আবহাওয়া স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্য ধরার জাল এসব অ্যান্টেনা।

তারিফদের নিয়মিত কাজ হলো, ওই স্যাটেলাইটগুলোর পাঠানো সংকেত নেওয়া। তারপর কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরসহ আশপাশের এলাকার মেঘের ছবি, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা_চটজলদি বের করা।
তারিফ জানালেন, 'স্যাটেলাইট অনেক রকম হয়_সামরিক, আবহাওয়া, যোগাযোগ ইত্যাদি। আবহাওয়া স্যাটেলাইট দুই রকমের হতে পারে। একটা স্থির, তাই ওটাকে বলে 'ভূস্থির'। অন্যটি সব সময় পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উত্তর-দক্ষিণ দিক বরাবর ঘোরে। ভারতের অনেক ভূস্থির উপগ্রহ আছে। বাংলাদেশের এ রকম কোনো নিজস্ব স্যাটেলাইট নেই। তবে প্রতিদিনই বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া স্যাটেলাইট চলে যায়। এরা হলো_পোলার অরবিটিং স্যাটেলাইট, অর্থাৎ উত্তর-দক্ষিণ দিক বরাবর এগুলো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। এক দিনে তারা সারা পৃথিবী ঘুরে আসে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নোয়া (ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সিরিজের আবহাওয়া স্যাটেলাইট। নোয়ার অনেক স্যাটেলাইটের মধ্যে নোয়া_১৫, নোয়া-১৭, ১৮, ১৯ এখন কাজ করছে।
'পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে নোয়ার স্যাটেলাইটগুলো যাওয়ার সময় ইনফ্রারেড রশ্মির সাহায্যে ছবি তোলে। যা দেখে মেঘ, বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ও তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করা যায়। এ ছাড়া কোথাও ঝড়-দুর্যোগ হলেও বোঝা যায়। প্রথমে ছবিগুলোকে শব্দ-সংকেতে রূপান্তর করে স্যাটেলাইট। পরে ওই অডিও সংকেতটা রেডিও সিগন্যালে পরিণত করে পাঠিয়ে দেয় পৃথিবীতে। এই বেতার সংকেত সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ চাইলে এগুলো 'রিসিভ' করতে পারবে। এরপর কম্পিউটারে ওই সংকেত বিশ্লেষণ করলেই বেরিয়ে আসবে নোয়ার পাঠানো ছবি। তারিফের নেতৃত্বে অনুসন্ধিৎসু চক্রের ডেমরা শাখা তৈরি করেছে লিনডেন বেডসহ কয়েকটি অ্যান্টেনা। নিরবচ্ছিন্নভাবে নোয়ার পাঠানো এই বেতার তরঙ্গ গ্রহণ করাই যেগুলোর কাজ।

শুরুর কথা
'হঠাৎ করেই আমাদের ডেমরা শাখার বিজ্ঞানচক্রে ২০ মিটার ব্যান্ড ও ২০০ মেগাহার্জের একটি এফএম রিসিভার আসে। তখন বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি স্ক্যান করে দেখাটা শখ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক দিন ১৩৭ দশমিক ৬২০ মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতে বিপ বিপ শব্দ শুনতে পাই। তখন কৌতূহল হয় ওই ফ্রিকোয়েন্সিতে কী আছে, ইন্টারনেটে খুঁজে দেখি। পর্যবেক্ষণ শুরু তখন থেকেই।'

তারিফ আরো বললেন, ইন্টারনেট থেকে ডিজাইন নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন পরীক্ষামূলক অ্যান্টেনা তৈরি করেন। তবে আবহাওয়া স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো লিনডেন বেড অ্যান্টেনা। স্যাটেলাইট কোনো জায়গার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ভূমিতে ঘড়ির কাঁটার দিক বরাবর সংকেত পাঠায়। তাই এই অ্যান্টেনার চারটি ডায়পোল (রেডিও অ্যান্টেনার দুই প্রান্ত) ঘড়ির কাঁটার দিক বরাবর ৩০-৫০ ডিগ্রি কোণে ঘোরানো থাকে।


অ্যান্টেনা থেকে বেতার সংকেত চলে যায় রেডিও রিসিভারে। রেডিও রিসিভার বেতার সংকেতকে শব্দে পরিণত করে। এ শব্দ কম্পিউটারে রেকর্ড করে একটি ডিকোডিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবহাওয়ার ছবি তৈরি করা হয়।
কোন স্যাটেলাইট কখন কোন এলাকার ওপর দিয়ে যাবে, তা বের করে দেয় ডবি্লউএঙ্ট্র্যাক নামের একটি সফটওয়্যার। তারিফ জানান, এ সংকেত থেকে সহজে আবহাওয়ার তথ্য বের করা যাবে ঠিকই, তবে বেতার তরঙ্গ গ্রহণ করতে হলে রিসিভারকে স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চলে যায় নোয়ার তিন থেকে পাঁচটি স্যাটেলাইট। দিনের যেকোনো সময় স্যাটেলাইটের কাছ থেকে সংকেত নিলেই হলো।

কদিন বাদেই ঝড়-বাদলের মৌসুম। আর এ জন্য অনুসন্ধিৎসু চক্রের ডেমরা শাখা ঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য দরকার শক্তপোক্ত একটা অ্যান্টেনা, যা অন্তত কাকের আক্রমণ কিংবা ঝড়ো হাওয়ায় টিকে থাকবে ভালোভাবেই। এ ছাড়া প্রয়োজন একটি ল্যাপটপেরও। ওটা থাকলে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে কাজ।

হ্যাম রেডিওর সাহায্যে ঝড়ের গতিবিধি উপকূলীয় সাগর এলাকায় জানিয়ে দিতে চায় ডেমরা শাখা। এ ব্যাপারে চক্রের বরিশাল, বরগুনা শাখার সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন। উপকূলবর্তী এলাকায় রেডিও কিংবা মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থাকে না। হ্যাম রেডিও দিয়ে সেখানে আবহাওয়ার তথ্য জানানো সম্ভব। তারিফ জানান, এ বছর বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে হ্যাম রেডিওর লাইসেন্স দেওয়ার কথা বিটিআরসির। তিনি মনে করেন, দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় বিজ্ঞান সংগঠনগুলো এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয়দের বেশ উপকারে আসবে।


পূর্বে কালের কন্ঠবিজ্ঞানব্লগে প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29354475 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29354475 2011-03-31 19:34:21
বিশ্ব নারী দিবস : একজন মহিলা বিজ্ঞানীর সাক্ষাতকার


এই সাক্ষাতকারটির পরিবর্তিত অংশ কালের কন্ঠের সন্ধানীতে প্রকাশিত হয়েছে।

১. আমাদের সমাজে সাধারণত স্নাতকের পরেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। তারা গৃহিণী হয়ে যান। আপনি কেন ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন?

- প্রায়ই দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে তা হয় নি। আমার পড়াশুনা করতে ভালো লাগতো। আমার বাবা ছিলেন উদ্ভিদবিদ্যার প্রফেসর।আমার পড়াশুনায় আগ্রহের তিনিও বুঝতেন। তাই বিয়ের প্রস্তাব আসলে উনি নাকচ করে দিতেন। তিনি আমাকে অনেক সহায়তা এবং উৎসাহ দিয়েছিলেন। তাছাড়া আমি যখন পড়াশুনা করছি তখন পৃথিবীতে ডিএনএ নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ ইত্যাদি প্রযুক্তি তখন নতুন ছিলো। জীববিজ্ঞানের এই বিশেষ সময় এবং বাবার সহায়তার ফলে আমার পক্ষে ভিন্ন পথে হাঁটা সম্ভব হয়েছে।

২. আপনার পরিবার, চারপাশের মানুষজন কি আপনাকে উৎসাহিত করেছিলো?

- মা-বাবা বিশেষ করে উৎসাহিত করেছিলেন। উৎসাহিত করেছিলেন আমার শিক্ষকেরাও। তখন শিক্ষকতাকে অত্যন্ত সম্মানীত পেশা বলে সকলে মনে করতেন। পড়াশুনায় ভালো ছিলাম তাই সকলে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

৩. আমাদের সময় এখন অনেকের সামনেই আপনি ভিন্নভাবে জীবন-জীবিকা গড়ার ক্ষেত্রে আপনি, হাসিনা আপা আদর্শ বলে বিবেচিত হন। ভিন্নভাবে নিজের জীবিকা গড়ে তোলার জন্য আপনার সামনে কি কোন দৃষ্টান্ত ছিলো?

- সুনির্দিষ্টভাবে কেউ না। আমাদের শিক্ষকেরা খুব অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। কোন একক ব্যাক্তি প্রভাবিত করেছিলেন বলে মনে পড়ছে না।

৪. আমাদের অধিকাংশ মেয়ে স্নাতকের পরে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন না। গৃহে সময় দেন। এটা কি আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতি নয়?

- অবশ্যই তা একটা ক্ষতি। কিন্তু মেয়েরা যাতে কর্মজীবন গড়তে পারেন সেজন্য আমাদের সবারই সহায়তা করা উচিত। আমার এক ছাত্রী পিএইচডি করছেন। তার একটি বাচ্চা – বাসায় দেখার মতো কোন লোক পাচ্ছেন না। এ দিকে তার স্বামীও খুব ব্যাস্ত মানুষ। সারাক্ষণই তিনি চিন্তার মধ্যে থাকেন। বিদেশে ডে-কেয়ার আছে। সেখানে পিতা-মাতারা সারা দিনের জন্য বাচ্চাদের নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিতে পারেন। বাংলাদেশে এই ধরনের ডে-কেয়ার প্রতিষ্ঠান কিন্তু নেই। মেয়েদেরকে কর্মস্থলে দূর্ভাবনাহীন সময় দেয়া নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের পৃষ্টপোষকতাও কিন্তু করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ডে-কেয়ার আছে। কিন্তু তারা মাত্র দুপুর তিনটা পর্যন্ত বাচ্চাদেরকে রাখতে পারে। আমার ক্ষেত্রে আমি শ্বশুরবাড়ির পূর্ণাঙ্গ সহায়তা পেয়েছি।

৫. বিয়ের পর মেয়েদের একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় কোথায় ছাড় দেব – সংসার নাকি পেশায়। আপনি এই দ্বন্দ্ব কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?

- দুই জায়গাতেই ভারসাম্য আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে নিজের আয়েশের জায়গাগুলোতে একটু ছাড় দিতেই হবে। আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম দিকে বাচ্চার যত্ন নেয়ার পর ঘুম বাদ দিয়ে পরবর্তী দিনে ক্লাসের বক্তৃতা তৈরি করতাম।

৬. পরিবারেরর স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী হলে সংসারেরর কাজকর্ম গুছিয়ে নেয়াটা কিভাবে সম্ভব হতে পারে?

- পরিবারের সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি শ্বাশুরীর অনেক সহায়তা পেয়েছি। আমার শ্বাশুরীও শিক্ষক ছিলেন। তবে আমার বক্তৃতার প্রস্তুতি তো আমাকেই নিতে হতো। আমি যৌথ পরিবারের মধ্যে ছিলাম তাই বাচ্চারা মায়ের আদর কম পাচ্ছে বলে আমাকে চিন্তা করতে হয় নি। সবকিছুই সম্ভব যদি দায়িত্ব আর সচেতনতাটা যদি সবার মধ্যে থাকে। আমার মনে হয়, মা যদি স্বাবলম্বী হন তাহলে বাচ্চারাও অনেক কিছু শিখতে পারে। বাচ্চারাও নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে শেখে, নিজেদের জীবনের পরিকল্পনাটাও তারাই করে। নিজেদের দায়িত্বটা নিজেরাই নিতে শিখে। অনেক মাকে দেখি বড়ো ছেলেমেয়েদেরকে এখনো খাইয়ে দেন, এখনো নিজেরা গিয়ে স্কুল-কলেজে পৌছে দিয়ে আসেন। আমার মনে হয় এই যত্নটা বেশি বেশি। অবশ্য অভিভাবকেরাও অনেকসময় ছেলেমেয়েদেরকে একা ছেড়ে দেয়া নিরাপদ মনে করেন না। তবে স্কুলবাস, নিজেদের এলাকাতেই ভালো স্কুল ইত্যাদি সুবিধাগুলো গড়ে উঠতে হবে।

৭. এদেশে মেয়েদের জন্য উপযোগী পেশা বলতে ডাক্তার, শিক্ষকতা, ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা, এনজিও ইত্যাদি ভাবা হয়। বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ অর্থাৎ মাথা খাটানোর কাজের ক্ষেত্রে মেয়েদের একটু অনুপযুক্ত হিসেবে ধরা হয়। এ ধারণার কি কোন ভিত্তি আছে?

- এটা একদম ভুল ধারণা। আমার ল্যাবে মেয়ে বেশি। এবং তারাই বেশি ভালো করছে। আমার নিজের মেয়েরাও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।

৮. জীববিজ্ঞানকে ভাবা হয় মেয়েদের বিষয় হিসেবে। কারণ এখানে মুখস্ত করতে হয় বেশি। অনেক সময় জীববিদ্যাকে ‘লিপস্টিক’ বিষয় হিসেবে ধরা হয়। জীববিদ্যাকে এভাবে লিঙ্গভেদ করাকে কিভাবে দেখেন?

- না। একেবারেই না। জীববিদ্যা এখন গণিতের উপর অনেক নির্ভরশীল হয়ে গেছে। জিনোম সিকুয়েন্সিং, বায়োইনফরমেটিকস ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন প্রযুক্তির উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। এখন জীববিদ্যার বিভিন্ন কাজে কম্পিউটার প্রোগ্রাম, সফটওয়্যার ব্যাবহৃত হচ্ছে। সুতরাং জীববিজ্ঞান মেয়েদের কিংবা মুখস্থের বিষয় এটা একদমই ভুল ধারণা।

৯. কর্মস্থলে মেয়েরা শিক্ষক হিসেবে আমাদের সমাজে যতটা গ্রহণযোগ্য, গবেষণার ক্ষেত্রে তা একেবারেই না। গবেষণাজীবনের শুরুতে আপনার কর্মস্থলের পরিবেশ কেমন ছিলো?

- কর্মজীবনের শুরুতে আমি কাজ করেছি আমার শিক্ষকদের সাথে। সুতরাং আমার কোন সমস্যা হয় নি। সবাই খুব উৎসাহিত করতেন।

১০. আপনার গবেষণাজীবনের শুরুটা কিরকম ছিলো?

- আমি পিএইচডি করি ইংল্যান্ডের গ্ল্যাসগোউ ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে আমার প্রকাশনা কম ছিলো। দেশে আসার পর এ নিয়ে একটা ক্ষোভ ছিলো। তখন মনে হলো আচ্ছা এখানে আমি গবেষণা করতে পারি কিনা। তখন বিভিন্ন গবেষণা প্রস্তাব তৈরি করে আবেদন করতাম। গবেষণার জন্য গ্রান্টও এভাবে পেয়ে গেলাম। তাছাড়া গবেষণার সময় বাবার উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের টিস্যু কালচার ল্যাবের সহায়তা পেয়েছি। আস্তে আস্তে আমার নিজের ল্যাব গড়ে উঠেছে।

১১. এখন আপনি কি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন?

- মূলত কাজ করছি লবণ সহনশীল উন্নত ধান উদ্ভাবন নিয়ে। বিরি, ইরির সাহায্যে একটি লবণসহনশীল সংকর লাইন বিরি ধান ৪৭ উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু একটি ধান যথেষ্ট না। কারণ বাংলাদেশের উপকূলে বিভিন্ন অঞ্চলে লবণাক্ততার মধ্যে বিভিন্নতা রয়েছে। তাই আমাদের লবণ সহনশীল অনেকগুলো ধান দরকার। আমরা যে পদ্ধতিতে কাজ করছি তা হলো মার্কার এসিস্টেড ব্রিডিং টেকনোলজি। লবণসহনশীলতা আসলে অনেকগুলো জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ কারণে কাজটা অনেক জটিল। লবণসহনশীল ধানের সাথে উন্নত প্রজাতির ধানের সংকরায়ণ করার পর ইতোমধ্যে বিরি সল্টল (BRII saltol) বিরিকে দেয়া হয়েছে। তারা এর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। এছাড়া পরিচিত জিন ব্যবহার করে আমরা ট্রান্সজেনিক ধান তৈরি করেছি। এই পরিচিত জিনের কোনটি তৈরি করতে হয়েছিলো, কোনটি বাইরে থেকে আনতে হয়েছিলো।

১২. পাটের জিনোম সিকুয়েন্স কিভাবে উন্নত পাট উদ্ভাবনে সাহায্য করতে পারে?

- দেখুন আমরা ধান নিয়ে এতো বিভিন্ন কাজ করতে পারছি তার কারণ হলো ধানের পুরো ডিএনএ সিকুয়েন্স আমাদের জানা। এজন্য ধানের উন্নতজাত উদ্ভাবন, লবণ সহনশীল ধান, গোল্ডেন রাইস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করা এখন অনেক সহজ। এখন পাটের জিনোম যদি আমাদের জানা থাকে তাহলে তার উপর ভিত্তি করে পাটের উপর অনেক গবেষণা করা সম্ভব।

১৩. আপনার স্বপ্ন কি?

- বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য যদি কিছু লবণসহনশীল ধান দিয়ে যেতে পারি।

১৪. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নারী মুক্তি কিভাবে সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

- শিক্ষা এবং সচেতনতা দরকার। সমাজের সবার মধ্যেই। আমাদের শিক্ষাপদ্ধতিতে সমস্যা আছে অনেক। আমরা অনেক তথ্য শিখি কিন্তু কিভাবে তা ব্যবহার করতে হবে সেই পদ্ধতিটা শিখি না। তাছাড়া আমাদের বই পরনির্ভরশীল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমাদের বিদেশী বইয়ের উপর নির্ভর করে চলতে হয়। আমরা প্রয়োগ শিখছি না, কাজে কাজে লাগানো তো দূরের কথা। আমাদের স্কুল কলেজে হাতে কলমে শিক্ষা অনুপস্থিত। এখন হাতে কলমে শিক্ষার জন্য যে মাইক্রোস্কোপ টেস্টটিউব যুক্ত দামী ল্যাবরেটরী লাগবে এমন ধারনা কিন্তু ভুল। পুরো পৃথিবীটাই কিন্তু একটা বড় ল্যবরেটরী। পিঁপড়ে, মৌমাছি কিভাবে ঘর তৈরি করে তা থেকে কিন্তু অনেককিছু দেখার আছে। একটা পুকুরের মধ্যে কিভাবে একটা বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠে তাও একটা ব্যাবহারিক শিক্ষা হতে পারে। চিন্তা করানো শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নেই। উপযুক্ত শিক্ষা এবং সচেতনতা গড়ে উঠলে সমাজের অনেক কুসংস্কার, ভুল ধারণা দূর হয়ে যাবে। দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের শিক্ষায় কি দরকার তা নিয়ে চিন্তাভাবনা খুব কম হয়। আব্দুল্লাহ আল-মুতী স্যার কিছু চিন্তাভাবনা করে গেছেন। আমাদের ধর্মগ্রন্থকেও ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে উপস্থাপন করা হয় খুব কম। কোরআন কয়জন বুঝে পড়ে? কোরানের কোথাও কিন্তু মেয়েদেরকে ছোট করে দেখা হয় নি। কর্মস্থলে একটি মেয়ে থাকলে তার পরিবেশই বদলে যায়। পরিবেশে কোমলতা আসে। মেয়েদের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা ছেলেদের চাইতে বেশী। কর্মস্থলের মধ্যে একটা ভারসাম্য আসে।

১৫. আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

- আমার দুই মেয়ে দেশের বাইরে পড়াশুনা করে। আগে শ্বশুর-শ্বাশুরী সহ আমি এবং আমার স্বামী একই বাসায় থাকতাম। এখন আমরা দুইজন বাড়ির তিনতলায় এবং শ্বশুর-শ্বাশুরী নিচতলায় থাকেন।

-----------------------------------------------------------------
বিজ্ঞান ব্লগ
.................................................................................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29340808 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29340808 2011-03-08 22:25:49
অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানচর্চা
এছাড়া আমরা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখি হরলিকস খেলে না কি ছেলে মেয়েরা ‘লম্বা-শক্তিশালী-বুদ্ধিমান’ হয়ে যায়। ডেটল সাবান না কি ৯৯% জীবাণু মেরে ফেলে। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী (অথবা ফেয়ার-এন্ড-হ্যান্ডসাম) নাকি গায়ের রঙ ফর্সা করতে পারে।

বলা বাহুল্য, উপরের কোনটাই সত্য নয়। পৃথিবীর উপর গ্রহ-নক্ষত্রের কেবল অতি সামান্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে। এছাড়া অন্য কোন প্রভাব নেই। বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েদের দিনে যে পরিমাণ পুষ্টি লাগে, হরলিকস দিয়ে তা পুরণ করা যায় না। পানিতে এক চামুচ হরলিসকস গুলিয়ে খেলে এই পুষ্টি পুরণ হবে না। প্রয়োজন সুষম খাদ্য।হরলিকস দিয়ে এই পুষ্টি পুরণ করতে গেলে মুঠো মুঠো হরলিকস খেতে হবে। আর আমাদের দেহের অধিকাংশ অনুজীবই উপকারী। তারা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে। তাই ডেটলের দাবী সত্য হলে সে অধিকাংশ উপকারী ব্যাক্টেরিয়া মেরে ফেলে। তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

ত্বকের রঙ নির্ভর করে মেলানিনের উপর। মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্মি থেকে আমদের বাঁচায়। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী ত্বকের মেলানিন কমাতে পারে না। আর যদি কখনো কমায়, তাহলে তা আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে। কারণ দেখা গেছে, সাদা চামড়ার মানুষ আমাদের বিষুবীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্যান্সার সহ নানা রকমের সমস্যায় ভোগে।

বোঝাই যাচ্ছে, উপরের সকল প্রচারই আসলে আধুনিক কুসংস্কার। এদেরকে বলা হয় অপবিজ্ঞান। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের একটি ইতিবাচক প্রভাব আছে। তাই বিজ্ঞানের মুখোশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত সহজ। এই ধারণাগুলো বহুল প্রচারিত হলেও এদের পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো প্রচার করা হয় পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে। অপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা লোটা হয়।

এই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া খুবই জরুরী। নিজেরা সচেতন হওয়ার সাথে সাথে এদের বিরুদ্ধে প্রচারণাও প্রয়োজন সাধারণের মধ্যে। কারণ এই অপবিজ্ঞানগুলোর প্রধান শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

পাশাপাশি প্রয়োজন বিজ্ঞানচর্চা। বিজ্ঞান, অপবিজ্ঞানের চাইতে অনেক মজার। অনেক আকর্ষণীয়। প্রকৃতি, মহাকাশ, মহাবিশ্ব, মানুষের সমাজ নিয়ে জানার মতো অনেক আগ্রহোদ্দীপক বিষয় আছে। আমরা যদি এসব জানি এবং তা ছড়িয়ে দেই, তাহলে মানুষ বিজ্ঞানমনষ্ক হবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে এই নয় যে সবাই বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে বিজ্ঞানীদের মতো চিন্তা করা, তাদের মতো খুটিয়ে দেখা, জানা।

বিজ্ঞানের গল্প মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। তখন সে নিজেই সচেতন হয়ে উঠে তার চারপাশ নিয়ে – বুঝে নেয় কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল। তাই বিজ্ঞান চর্চাই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সবচাইতে ভালো প্রতিষেধক।

মহাবিশ্বে অবাক হয়ে প্রশ্ন করার মতো অনেক কিছু আছে।

- আফ্রিকাতে একধরনের মাছ আছে যারা কি না অন্ধ। তারা চারপাশে এক ধরনের বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা শিকারকে খুঁজে নেয়। এই ক্ষেত্র ব্যবহার করে তারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে।
- কবুতরেরা চৌম্বকক্ষেত্রের সামস্যতম পরিবর্তন বুঝতে পারে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের যে ক্ষমতা, তার এক সহস্রাংশের পরিবর্তন তারা অনুভব করতে সক্ষম। চারপাশের বস্তু, পথ চিনতে তারা এই ক্ষমতা ব্যবহার করে।
- গ্যালাক্সীগুলোর কেন্দ্রে কোয়াসার অচিন্তনীয় বিষ্ফোরণ সৃষ্টি করে। এ বিষ্ফোরণ চার পাশের অনেক গ্রহকেই ধ্বংস করে দেয়।
-পূর্ব আফ্রিকায় আগ্নেয়গিরির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লাভায় মানুষের পূর্বপুরুষের পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। এর বয়স প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বছর। বোঝা যায়, মানুষের ইতিহাস কতো পুরনো।
- আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে ডজনখানেক মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ‘পাওয়ার হাউজ’ – কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক প্রমাণ বলছে যে শত কোটি বছর আগে এই মাইটোকন্ড্রিয়া স্বাধীন অনুজীব ছিলো। পরে এরা আরো বড় কোষের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বড় কোষ মাইটোকন্ড্রিয়াকে পুষ্টি দেয়, আর মাইটোকন্ড্রিয়া দেয় শক্তি। তার মানে, ব্যাপক অর্থে আমরা একক কোন জীব নই। ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রায় এক হাজার কোটি একক জীবের সমন্বয় আমরা – একটি জৈব যন্ত্র।

বিজ্ঞান চর্চার এবং অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে প্রচারণা বিজ্ঞান নির্ভর নতুন দেশ গড়ে তুলবে।

তথ্যসূত্র Broca’s Brain by Carl Sagan

বরিশাল শাখার পত্রিকা ধ্রুবআলোর জন্য তৈরি। প্রথমে বিজ্ঞানব্লগে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29331590 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29331590 2011-02-21 21:26:41
বিগব্যাঙ নিয়ে আইনস্টাইনের ভুল গণিত পরীক্ষার চালাকি
স্কুলের সেই চতুর ছেলের গল্প বলি। গণিত পরীক্ষা চলছে। ভালোভাবেই দিচ্ছিলো পরীক্ষাটা। হঠাৎ একটা অঙ্ক সে মেলাতে পারছিলো না – কোথায় যেন একটা ঝামেলা হচ্ছে। অঙ্কটা তার অপরিচিত নয়। উত্তরটা ছিলো জানা। সে এখন একটা ছোট্ট চালাকি করতে পারে। অঙ্কটার শেষে কোনমতে বসিয়ে দিতে পারে সঠিক উত্তরটি। আশা করা যায়, পরীক্ষকের চোখে চালাকিটা ধরা পড়বে না।
অনেকটা কাছাকাছি কাজ করেছিলেন আইনস্টাইন। বিগব্যাঙ নিয়ে করেছিলেন একটি ভুল। চলুন সেই গল্প শোনা যাক।

আইনস্টাইনের ভুল
বিজ্ঞানী হাবল বিগব্যাঙকে একটি তাত্ত্বিক রূপ দেন। তার সমসাময়িক অনেকেই এই তত্ত্ব নিয়ে বিশাল দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েন। তাদের মাঝে একজন ছিলেন আইনস্টাইন।
আইনস্টাইন ভাবতেন, মহাবিশ্ব স্থির। অর্থাৎ সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব যেমন ছিলো, এখনোও ঠিক তেমনই আছে। আর বিগব্যাঙ তত্ত্ব বলে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।
আইনস্টাইনের বিখ্যাত একটি তত্ত্ব সাধারণ আপেক্ষিকতা। তিনি আশা করতেন, এই তত্ত্ব তাকে মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে একটি ধারণা দেবে। এই তত্ত্বটি সম্পূর্ণ করার পর তিনি বিশ্মিত হয়ে গেলেন। এই তত্ত্ব বলছিলো, মহাবিশ্ব স্থির নয়। হয় তা সম্প্রসারিত অথবা সংকুচিত হচ্ছে। এই গাণিতিক উপসংহার ছিলো তার স্হির মহাবিশ্ব ধারণার সাথে বিরোধপূর্ণ।প্রথমে এই উপসংহার তিনি মেনে নিতে পারেন নি। তাই এই বিরোধিতা নিরসনের জন্য তিনি একটি সৃষ্টিতাত্ত্বিক ধ্রুবক (কসমোলজিকাল কন্সট্যান্ট) প্রস্তাব করেন। এই ধ্রুবক গাণিতিকভাবে তার তত্ত্ব আসে না। অনেকটা জোড় করেই এই ধ্রুবকটিকে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাথে যুক্ত করা হয়। এর ফলে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাথে স্হির মহাবিশ্ব মডেলের বিরোধ মিটে যায়।
অবশ্য পরবর্তীতে যখন হাবলের তত্ত্ব স্বীকৃত হলো, আইনস্টাইন মেনে নিলেন যে তিনি ভুল করেছেন। মহাবিশ্ব আসলেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। তার নিজের তত্ত্বই বিগব্যাঙের পক্ষে যায়। তিনি যে সৃষ্টিতাত্ত্বিক ধ্রুবকের প্রস্তাবনা করেছিলেন, তা আসলে ভুল ছিলো।

মহাবিশ্বের বিকাশ ব্যাখ্যা করার জন্য বিগব্যাঙ তত্ত্বই একমাত্র নয়। আরো অনেকগুলো মডেল মহাবিশ্বের বিকাশ ব্যাখ্যা করে। তবে তাদের কোনটিই বিগব্যাঙ তত্ত্বের মতো জনপ্রিয় ও বহুলপ্রচারিত নয়। এরকম কয়েকটি মডেলের নাম শোনা যাক:

ক) স্টেডি স্টেট ইউনিভার্স। এই তত্ত্ব বলে যে মহাবিশ্বের ঘনত্ব অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে একই রকম থাকে। সম্প্রসারণের সাথে সাথে ব সমানুপাতিক হারে মহাবিশ্ নতুন বস্তু তৈরি করে। এ কারণে মহাবিশ্বের ঘনত্বের কোন পরিবর্তন হয় না।
খ) বিগ বাউন্স তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্ব ধারাবাহিকভাবে সম্পসারিত হয়। তার পর একসময় সে সংকুচিত হওয়া শুরু করে। তারপর আবার সে সম্পসারিত হয়। আমাদের মহাবিশ্ব এইরকম সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া অনেকগুলো মহাবিশ্বের একটি।
গ) একপাইরোটিক তত্ত্ব বলে আরো একটি মডেল আছে। এই তত্ত্বটি বলে যে আমাদের মহাবিশ্ব চতুর্থ মাত্রায় দুইটি ত্রিমাত্রিক জগতের পারস্পারিক সংঘর্ষের ফলাফল! এই তত্ত্ব বিগব্যাঙের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়। একটা সময় পর মহাবিশ্ব বিগব্যাঙ প্রদর্শিত পথে বিকশিত হয়।

পূর্বে বিজ্ঞানব্লগে প্রকাশিত
সামুতে অর্ধেক দিলাম।


তথ্যসূত্র
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29316266 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29316266 2011-01-28 22:09:07
ফটোব্লগ | কিছু পরিবেশবাদী শিল্পকর্ম
The Woman Who Wears Solar

১.
নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে বিশ্বে এখন নানা রকমের কাজ হচ্ছে। বায়োফুয়েলের নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন। বায়োফুয়েলের এখন তৃতীয় প্রজন্ম নিয়ে গবেষণা চলছে। বায়োফুয়েল হলো জৈবপদার্থ, জীবিত ব্যাক্টেরিয়া, শৈবাল, গাছ হতে তৈরি জ্বালানী। প্রধানত ইথানল এলকোহল।

জৈবজ্বালানীর প্রথম প্রজন্মটি ছিলো খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানী তৈরি। এই পদ্ধতিটি মানুষের খাদ্য আর কৃষিজমির উপর ভাগ বসায়। সুতরাং চিন্তা করা হলো অন্য কোন পদ্ধতির। এলো দ্বিতীয় প্রজন্মের জৈবজ্বালানী। এই প্রজন্মের জ্বালানী কাজ করতো বিভিন্ন পরিত্যাক্ত জৈব পদার্থ নিয়ে। এক্ষেত্রে সমস্যা দাঁড়ায় বাস্তুসংস্থানে। পরিত্যাক্ত জৈবপদার্থ পচে গিয়ে আবার প্রকৃতিতে ফিরে যেত। এগুলোকে কৃত্রিমভাবে জ্বালানী উৎপাদনে ব্যবহার করলে পরিবেশে এই রিসাইক্লিং হবে না – ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাই দরকার হলো অন্য উপায়ের।

এলো তৃতীয় প্রজন্মের জ্বালানী। এ জ্বালানী তৈরি করা হয় প্রধানত শৈবাল থেকে। শৈবালের প্রয়োজন কার্বন ডাই অক্সাইড, সৌরালোক। ছোট পুকুরে সহজে একদিনের মধ্যেই বিশাল পরিমাণ শৈবাল চাষ করা যায়। এখন বিশ্বে বায়োফুয়েল নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এই শৈবাল নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। ক্রেগ ভেন্টর, যিনি কিনা গতবছর কৃত্রিম জিনোম দিয়ে পরিচালিত জীবন তৈরি করে চমকে দিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে, এখন ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (তেল কোম্পানী)-র অর্থায়নে শৈবাল নিয়ে গবেষণা করছেন। লক্ষ্য, এমন একটি শৈবাল ডিজাইন করা যা কিনা জৈবজ্বালানী তৈরিতে বেশ উপযুক্ত হবে।

২.
এই শৈবাল নিয়ে কিছু লেখা পড়ার সময় কিছু শিল্পকর্ম পেলাম। বিষয় – পরিবেশ, মানুষ, প্রকৃতি, নবায়নযোগ্য শক্তি। এই চিত্রগুলো খুবই সুন্দর। এগুলো আপনাদের সাথে এখানে শেয়ার করলাম। Lope নামের একজন শিল্পীর কাজ এগুলো। উনার সাইটের ঠিকানা http://lope.ca/

৩.
এই কাজগুলো http://www.creativecommons.org লাইসেন্সের অন্তর্ভূক্ত। এ কাজগুলো আপনারা শেয়ার করতে পারবেন, পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে বানিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।


Life of Pi


Les éoliennes


The Struggle


Atlas of the Imagination


Feminization

৪.
একটা ছবি অন্যটার চাইতে ভালো। ছবিগুলো কি অদ্ভূত, তাই না? এরকম প্রচুর ছবি আছে Lope এর ওয়েবসাইটে। Lope ছাড়াও আরো অনেকেই এ ধরনের কাজ করছেন। যেমন ধরুন http://www.solarcat.com/index.html একটি ওয়েব সাইট পেলাম। ওদের একটি কার্টুন দেখুন:


Generations of study have lead cats to the astute conclusion that when cold, it makes perfect sense to expose one's fur to the sun. Unfortunately the human approach has not always been so direct.
মূল সাইটে গিয়ে এই ছবিটির উপর ক্লিক করুন। মজার একটা ছবি পাবেন।

৫.
এ ধরনের আরো ছবির জন্য আপনাকে যেতে হবে এখানে;

http://www.lope.ca/artrenewable/index.html

৬.
একেবারে উপরের ছবিটা খেয়াল করুন। ছবিটা অদ্ভূতভাবে বাংলাদেশের পতাকার সাথে মিলে যায় না?


এই লেখাটি পূর্বে বিজ্ঞানব্লগে প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29308167 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29308167 2011-01-15 21:34:49
Python Zen মানে পাইথন মন্ত্র

পাইথন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। পাইথন শেখা সহজ। পাইথন মানুষের ভাষার কাছাকাছি।

পাইথনের দর্শন হলো Zen of Python।

পাইথন চালু করুন। তারপর নিচের কোডটি লিখুন।

>>>import this
ফলাফল:

Beautiful is better than ugly.

Explicit is better than implicit.

Simple is better than complex.

Complex is better than complicated.

Flat is better than nested.

Sparse is better than dense.Readability counts.

Special cases aren’t special enough to break the rules.

Although practicality beats purity.

Errors should never pass silently.Unless explicitly silenced.

In the face of ambiguity, refuse the temptation to guess.

There should be one– and preferably only one –obvious way to do it.

Although that way may not be obvious at first unless you’re Dutch.

Now is better than never.

Although never is often better than *right* now.

If the implementation is hard to explain, it’s a bad idea.

If the implementation is easy to explain, it may be a good idea.

Namespaces are one honking great idea — let’s do more of those!

পাইথন মন্ত্রের একটি খসড়া অনুবাদ নিচে দিলাম। পাইথনিয়ারদের মতামত প্রয়োজন। নাহলে যদি এই অনুবাদে কোন ভুল থাকে, তার জন্য আমি দায়ী নই।
পাইথন মন্ত্র
সুন্দর কুৎসিতের চাইতে ভালো।

গুঢ়, অন্তর্হিতের চাইতে স্বচ্ছতা ভালো।

যৌগিকের চাইতে সরল ভালো। আবার যৌগিক, জটিলের চাইতে ভালো।

বিষয়গুলো প্যাচ খেয়ে থাকার চাইতে সমান ভাবে ছড়িয়ে থাকা ভালো। ছড়ানো নিশ্চয়ই ঘনীভূত হয়ে থাকার চাইতে ভালো।

সহজপাঠ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নিয়ম ভাঙ্গার জন্য বিশেষ ক্ষেত্রগুলো খুব একটা বিশেষ নয়।

বাস্তবতা যদিও বিশুদ্ধতার উপরে।

ভুলকে কখনোই নীরবে চলে যেতে দিতে নেই। যতক্ষণ না স্বচ্ছতা নীরব হয়ে যায়।

যখন একাধিক পথ সামনে থাকে, তখন অনুমান করার ইচ্ছাকে ত্যাগ করতে হয়। একটি, কেবলমাত্র একটি নিশ্চিত পথই রয়েছে। যদিও সমস্যাক্রান্ত অবস্থায় ঐ পথটি প্রথমে নিশ্চিত বলে মনে নাও হতে পারে।

‘কখনো না’-র চাইতে ‘এখন’ ভালো। যদিও ‘কখনো না’ অনেক সময়ে ‘এখনই’-র চাইতে ভালো।

যদি কার্যকারিতা বোঝানো সহজ না হয়, তাহলে বুদ্ধিটি খুব একটা ভালো না। আর যদি কার্যকারিতা বোঝানো সহজ হয়, তাহলে নিশ্চয়ই তা একটি ভালো বুদ্ধি।

নেমস্পেস একটি চমৎকার বুদ্ধি! চলো, এটি নিয়ে আরো কিছু করা যাক

নবীন পাইথনিয়ার -এ পূর্বপ্রকাশিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29292507 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29292507 2010-12-19 18:49:26
মাইক্রোফটোগ্রাফি ব্লগ :: অণুবীক্ষণের তলে


ইহা হইলো পেড্রিডিশ। এইখানে জমি তৈরি করা হয়। অতপর এইখানে ব্যাক্টেরিয়ার চাষাবাদ করা হয়।



দেখেন কতো বাহারী রঙের ক্ষেত-খামার। ইহারা বিভিন্ন রকমের পেট্রিডিশ।



পেট্রিডিশে ব্যাক্টেরিয়ার চাষ করা হইয়াছে। অতি সামান্য পরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া এই ক্ষেতে দেয়ার পর এক দিন অপেক্ষা করা হইয়াছে। তারপর দেখা গেল, ব্যাক্টেরিয়া ভায়ারা এইখানে মহা আনন্দের সহিত বংশ বিস্তার করিয়াছেন।



এইখানে পেট্রিডিশে গোল গোল যে জিনিস দেখা যাচ্ছে তাহা আসলে কিহা? ব্যাক্টেরিয়ার কলোনী। এই কলোনীতে মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যাক্টেরিয়া আছে। উনাদের সকলের জন্ম মাত্র একটা ব্যাক্টেরিয়া থেকে। সব ব্যাক্টেরিয়াই ওই মাতৃব্যাক্টেরিয়ার (যদি এই কথা বলা যায়) ক্লোন। এখন জিজ্ঞাসা করেন ক্লোন মানে কি? জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিবো।



এইখানে মাইক্রোস্কোপের নিচে ব্যাক্টেরিয়াদের দেখানো হইতেছে। বিবর্ধন প্রায় 1000 গুণ। উনারা লম্বা লম্বা, দন্ডাকার, সাঁতার কাটিতেছেন।



উনি অণুজীব পরিবারের অন্যতম সদস্য ডেসমিড। উনি পানিতে থাকতে ভালোবাসেন।



উনারা অণুজীব পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। উনাদের নাম ... ডায়াটম।



আরো ভালো করে মনোযোগের সহিত দেখেন ... পরীক্ষায় দিবো কিন্তু।



উনি একজন শৈবাল। উনি আমাদের পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

ছবির ক্রেডিট বন্ধু রাইসা আর উৎস-র। ফেসবুকে ছবিগুলো দেয়া ছিলো। ঐখান থেকে ছবিগুলো সরায়ে ফেলা হইলে আমি দায়ী নই।


আপনাদের যদি মাইক্রোস্কোপ থাকে তাইলে আপনারাও এসব কাজ করতে পারবেন। খালি পাশের নালা অথবা পুকুর থেকে কিছু পানি সংগ্রহ করে আনতে হবে। আর মাইক্রোস্কোপ না থাকলে আগামী বছর নতুন মোবাইল না কিনে একটা নতুন মাইক্রোস্কোপ কিনে ফেলেন। অন্তত আপনার বাসার পুচকি পোলাপানগুলা কিছু শিখতে পারবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29286627 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29286627 2010-12-09 21:58:51
পাইথনে একটা প্রোগ্রাম তৈরির পর বহুত-খুশ লাগিতেছে এখন পর্যন্ত অগ্রগতি বেশি না। মাত্র ফাংশনের আশেপাশ দিয়ে যাচ্ছি। আর স্ট্রিং এর বিভিন্ন ফাংশন নিয়ে ঘাটাঘাটি করছি। মাঝে মাঝে মাথাটা শূণ্য হয়ে যায়। বিভিন্ন ই-বুক যোগাড় করেছি। ইন্টারনেটে কয়েকটা জায়গায় ঘোরাঘুরি করি। এসব জায়গায় দেয়া উদাহরণ, সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। একেক সময় একেক জায়গায় পড়ি। আর যা শিখছি, তা নিয়ে সামান্য কয়েক লাইন লেখার চেষ্টা করি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে।
একেকটা সমস্যা সমাধান করা বেশ মজা। যতক্ষণ সমাধান না হয়, চোখে অন্ধকার। সমাধান হয়ে গেলে যে মজাটা লাগে তা অসাধারণ!!
আজ দুপুরে লেখাপড়ার সময় একটা সমস্যা মাথায় এলো। ডিএনএ হচ্ছে জীবদেহের এনসাইক্লোপিডিয়া, যেখানে যাবতীয় নির্দেশ দেয়া থাকে। এই নির্দেশ দেয়া হয় একটা কোডের মাধ্যমে, বায়োলজিতে বলে জেনেটিক কোড। জেনেটিক কোড কোষের মধ্যে লেখা হয় চারধরনের বেসের মাধ্যমে, A, T, G, C। একটা প্রোগ্রাম তৈরি করতে হবে যা বিভিন্ন আকারের জেনেটিক কোড তৈরি করবে। নিজে নিজে, অর্থাং ড়্যান্ডমলি।

প্রোগ্রামটি ATGC এই চারটি একককে ইচ্ছামতো সাজাবে। তাই একটা টাপল তৈরি করতে হবে। (টাপল হলো একটা লিস্ট, যেটাকে পরিবর্তন করা যায় না।) নাম দিলাম base

base = ('A','T','G','C')

নতুন জেনেটিক কোড হবে একটা স্ট্রিং। তাই প্রথমে একটি খালি স্ট্রিং ঘোষণা করতে হবে।

code = ''

জেনেটিক কোড কতটুকু লম্বা হবে? মানে কয়টি বেস সেখানে থাকবে? এটা হবে ইন্টিগার, length

আর, পুরো প্রোগ্রামটা হবে একটা ছোট ফাংশন। সুতরাং ফাংশন ডিফাইন করতে হবে।
ফাংশনের নাম দিলাম new_code

সুতরাং,

def new_code(length=4):
base = ('A','T','G','C')
code = ''
#এখানে এমন একটি কোড বসাতে হবে
#যেটা কিনা ড়্যান্ডমলি base থেকে বেস নিয়ে নতুন
#জেনেটিক কোড তৈরি করতে পারবে

যেহেতু ড়্যান্ডমলি হবে, সুতরাং ড়্যান্ডম মডিউল এই প্রোগ্রামে আমদানী করা লাগবে। এবং এই ড়্যান্ডম মডিউলের ফাংশন ব্যবহার করে আমরা জেনেটিক কোড তৈরি করবো।
তাই

def new_code(length=4):
base = ('A','T','G','C')
code = ''
import random
for i in length:
code = code + random.choice(base)
return code

এখানে নতুন কি হলো? বেস থেকে random.choice(base) ফাংশন ড়্যান্ডমলি বেস নিয়ে স্ট্রিং code এর সাথে যুক্ত করা হলো।

এই প্রোগ্রাম চালু করে new_code(100) দিলে length এর মান হবে 100। এবং 100 বেসের একটি সিকুয়েন্স তৈরি হবে। আর যদি কেবল new_code() দেয়া হয়, তাহলে তৈরি হবে 4 বেসের একটি সিকুয়েন্স।

এ পোস্ট দেখে হাসা নিষেধ। পোস্টটি যুগপৎ ভাবে প্রজন্মফোরাম এবং নবীন পাইথনিয়ারে প্রকাশ করা হইলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29275558 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29275558 2010-11-21 22:11:51
পাইথন শিখি: পাইথনে ডাটা টাইপ পাইথনের সাথে কথোপকথোন

প্রোগ্রাম কি? - কম্পিউটারকে দেয়া কিছু নির্দেশনা

কম্পিউটার নির্দেশনা দিয়ে কি করবে? - কাজ করবে, সমস্যা সমধান করবে

কম্পিউটার কি নিয়ে কাজ করবে? - ডাটা(Data) নিয়ে



প্রোগ্রামিঙের একটি মৌলিক ভিত্তি হলো ডাটা। ডাটা নিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে হবে। তাই বিভিন্ন ডাটা টাইপ নিয়ে আমাদের জানতে হবে। নিচের অনুচ্ছেদটি লক্ষ্য করুন:

রুমী সকাল দশটা দশে পাই এর মান যে ৩.১৪ তা আবিষ্কার করলো ২২ কে ৭ দিয়ে ভাগ করার পর।

এখানে দুই ধরণের ডাটা আছে। সাধারণ অক্ষরযুক্ত আর গাণিতিক।

গাণিতিক ডাটাকেও আবার আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। পূর্ণ সংখ্যা আর দশমিক সংখ্যা।

পাইথনে, সাধারণ অক্ষরযুক্ত ডাটা হলো string। পূর্ণ সংখ্যাকে বলে integer। আর দশমিক সংখ্যাকে বলে float।

তাহলে আমরা রুমীর আবিষ্কারকে বিশ্লেষণ করতে পারি। এখানে,

string রুমী, সকাল, দশটা, দশ, পাই .... ইত্যাদি

integer ২২, ৭

float ৩.১৪১৫৯

এখন আমরা পাইথনের একটা কমান্ড শিখবো। তা হলো type()। এর মাধ্যমে কোন ডাটা কোন টাইপের তা বোঝা যায়।

যেমন পাইথন শেলে যদি আমরা কাজ করি:

>>> type('python')



>>> type('123547')



>>> type('1235.458')



কাজ এখন বের করেন যে নিচের বাক্যে কোন ডাটার টাইপ কি:

hello 2441139, is 1.24658 is a prime no? Do you no F16 is not a name of hydroplane?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29272472 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29272472 2010-11-15 04:00:10
পৃথিবীর বুকে কৃত্রিম বিগব্যাঙ ঘটালেন বিজ্ঞানীরা :: লার্জ হেড্রন কলাইডর
উল্লেখ্য, লার্জ হেড্রন কলাইডর ফ্রান্স আর সুইজারল্যান্ডের সীমানায় মাটির তলায় অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচাইতে বড় বৈজ্ঞানিক যন্ত্র। এর কাজ বিভিন্ন কণাকে এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান গতি দেয়া বা ত্বরায়িত করা।তারপর তাদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টির মাধ্যমে ভেঙে ফেলা এবং পর্যবেক্ষণ করা - কি আছে পদার্থের গহীন কোটরে?

এ পরীক্ষায় সার্নের বিজ্ঞানীরা আয়নিত সীসা (লেড) কণার বিপরীতমুখী স্রোতের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটান। এ সংঘর্ষ তীব্র গতিতে ঘটানো হয়। আমরা জানি, অণু-পরমাণু প্রোটন, নিউট্রন আর ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত। এ সংঘর্ষের ফলে প্রোটন-ইলেকট্রন ভেঙে যায়। বের হয়ে আসে কোয়ার্ক এবং গ্লুয়ন। কোয়ার্ক ও গ্লুয়ন হলো সেই সব কণা যারা নিউট্রন ও প্রোটনকে তৈরি করে।

এ সংঘর্ষের ফলে অত্যন্ত গরম এবং ঘন আগুনে গোলা বা ফায়ারবল তৈরি হয়। এর তাপমাত্রা দশ লক্ষ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। তৈরি হয় কোয়ার্ক আর গ্লুয়নের প্লাজমা অবস্থা। এই অবস্থায় তারা পারস্পারিক আকর্ষণ থেকে মুক্ত থাকে। এই প্লাজমা অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা সবল বল নিয়ে আরো জানতে পারবেন। সবল বল হলো সেই বল যা কি না পরমাণুর নিউক্লিয়অসে নিউট্রন আর প্রোটনকে ধরে রেখে। এ বল মহাবিশ্বের মৌলিক চারটি বলের মধ্যে একটি।



এই সংঘর্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন। বিগব্যাঙের পর প্রথম সেকেন্ডের এক মিলিয়ন ভাগের একভাগ সময়ে মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। এ পরীক্ষার পরে বিজ্ঞানীরা হাইড্রোজেন আয়নকে প্রায় আলোর গতিতে ছোটাবেন। তারপর বিপরীতমুখী একটি সংঘর্ষ ঘটাবেন। তারা আশা করছেন, মহাবিশ্বের উৎপত্তি, হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব এবং সুপার সিমেট্রি তত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আরো জানা যাবে এলএইসি-র মাধ্যমে।

খবরটা বিজ্ঞান পত্রিকা খবর-দারের জন্য তৈরি। পত্রিকা প্রকাশের আগেই ব্লগে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। তথ্যসূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29271019 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29271019 2010-11-12 23:26:15
পাইথন শিখি: পাইথনের সাথে কথোপকথোন আসেন পাইথন শিখি

পাইথন অত্যন্ত মজার জিনিস। আমি ধরে নিচ্ছি পাইথন প্রোগ্রামটা আপনারা ইতিমধ্যে কম্পিউটারে ডাউনলোড করে নিয়েছেন। আমি ব্যবহার করছি পাইথন IDLE। এই আইডল মানে অবশ্য অলস না!

অবশ্য আপনি যদি উবুন্টু ব্যবহারকারী হন তাহলে পাইথন আলাদা ইন্সটল না করলেও চলবে। কারণ পাইথন ইনস্টল করাই থাকে উবুন্টুতে। এজন্য টার্মিনালে গিয়ে লিখুন python। তাহলে পাইথন শেল চলে আসবে টার্মিনালে। ছোটখাটো স্ক্রিপ্ট লিখতে পারবেন gedit এ। তারপরেও অবশ্য IDLE নামায় রাখতে পারেন।

আইডল খুললে প্রথমে একটা জানালা(উইন্ডো) দেখা যায়। ওই জানালাতে দেখবেন হিজিবিজি কিছু কথাবার্তা লেখা আছে। এই জানালাকে বলে পাইথন শেল। শেলের প্রথমে প্রোগ্রামটা সম্পর্কে নানা কথাবার্তার পর দেখবেন ">>>" চিহ্ন দেখা যায়। এই চিহ্নকে বলে প্রম্পট। এই চিহ্ন দেখার সাথে সাথেই বুঝবেন পাইথন আপনার সাথে কথাবার্তা বলার জন্য প্রস্তুত।

আমরা পাইথন শেলকে ছোটখাটো কথাবার্তা বলার জন্য ব্যবহার করবো। শেলের বিশেষত্ব হচ্ছে এর মাধ্যমে পাইথন সরাসরি আপনার সাথে কাজ করবে। আপনি কোন একটা কমান্ড দেয়ার সাথে সাথেই পাইথন তা পালন করবে।
প্রথম নির্দেশ
>>>print "This is time to code!"

পাইথন আউটপুট দেখাবে: This is time to code!
এখনে প্রিন্ট একটা নির্দেশ। প্রিন্টের পর " " এর মাঝে যা থাকবে পাইথন তা প্রিন্ট করে দেবে। " " এর বদলে ' ' ব্যবহার করা যায়। অথবা ''' ''' ব্যবহার করা যায়।

কাজ এখন সময় এসেছে ইচ্ছা মতো কোন কিছু পাইথনকে দিয়ে কোন কিছু প্রিন্ট করার। আপনার নাম,ঠিকানা ইত্যাদি ইত্যাদি পাইথনকে দিয়ে প্রিন্ট করান।

আপনি চাচ্ছেন একাধিক লাইনে কোন কিছু প্রিন্ট করতে। যেমন:
Imagine all the people,
living for today.

আপনি প্রিন্ট দিলেন
>>>print 'Imagine all the people,
living for today'

তখন কিন্তু পাইথন দুই লাইনে কিছু দেখাবে না। কিছু হ-য-ব-র-ল দেখাবে যার মানে হলো আপনি এইভাবে কিছু লিখতে পারবেন না। আপনার কোডটা অবৈধ হয়েছে।

তাহলে উপায়? আছে। আপনি যদি ''' ''' এর মধ্যে কিছু লেখেন, পাইথনে তখন ইচ্ছে মতো লাইন আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

তাহলে এখন আপনার জন্য নতুন কাজ নিচের ছাগুটাকে প্রিন্টের ব্যবস্থা করুন।
\ /
\__ _/
|o o|
| * |
\@/

প্রিন্ট করার অন্য পদ্ধতি:
নিচের কোডটা খেয়াল করুন
>>>a = 'This is a text to print'
>>>print a
ফলাফল: This is a text to print

এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করা হয়েছে। এখানে a কে বলা হয় ভ্যারিয়েবল বা চলক। এটা একটা সিলের মতো। অথবা ট্যাগের মতো। আমরা সরাসরি টেক্সটকে প্রিন্ট করছি না। টেক্সটকে আমরা a ভ্যারিয়েবল দিয়ে ট্যাগ করেছি। তারপর print a কমান্ড দিয়ে ওই ট্যাগ/ভ্যারিয়েবলকে প্রিন্ট করতে বলছি। যেহেতু আগেই আমরা ঘোষণা করে দিয়েছি যে a এর মান আসলে This is a text to print, পাইথন এই মানটাকেই প্রিন্ট করে দেয়।
সামনে ভ্যারিয়েবল দিয়ে আমাদের অনেক গুলো কাজ করতে হবে। তাই ভ্যারিয়েবল নিয়ে বিশেষ আলোচনারও দরকার হবে।
প্রিন্ট দিয়ে আরো জটিল কাজ-কারবার
নিচের টেক্সট প্রিন্ট করতে চান যেখানে কিনা অ্যাপস্টপি এস আছে। কি করবেন?

'Do you live in your's father's hotel?'

এটা প্রিন্ট করতে গিয়ে দেখবেন পাইথন দেখাচ্ছে Invalid syntax. কারণ কি? সে প্রথম দুইটি কমা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে। এক্ষেত্রে, নিচের কাজটা করা যেতে পারে:
>>>print "Do you live in your's father's hotel?"
তাহলে পাইথন ঠিকঠাক ভাবে জিনিসপত্র দেখাবে। আর যদি আপনি বলেন না আমি ' ' এর মধ্যেই জিনিসপাতি প্রিন্ট করাইতে চাই তাহলেও আপনার জন্য অপশন আছে।
>>>print print "Do you live in your\'s father\'s hotel?"
এখানে '\' চিহ্নটা লক্ষ্য করুন। এটি কিন্তু ভাগ না। এর মাধ্যমে আপনি পরের ' চিহ্ন টা যে আসলে টেক্সটের শেষ না সেটাই পাইথনকে বুঝাচ্ছেন।


এখন এ কমান্ডগুলো ব্যবহার করে ইচ্ছেমতো কাজ করতে থাকুন। মনে রাখবেন, কমান্ড শেখার একমাত্র উপায় হলো চর্চা। যত চর্চা করবেন, ততো কমান্ড আপনার মনে থাকবে।

পরবর্তী পোস্ট আসতে দেরি আছে। এ সপ্তাহের মধ্যে চলে আসবে।

এ পোস্ট সম্পর্কিত আলোচনা নিচে করুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29264333 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29264333 2010-10-31 09:35:05
আসেন পাইথন শিখি
পাইথন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। অনেক সহজ। ধরেন আপনি কোন কিছু মনিটরে প্রিন্ট করতে চান। পাইথনে আপনি খালি লিখবেন:

>>> print "WOW python is easy!"

সে আপনাকে দেখাবে:
WOW python is easy!

মাত্র এক লাইনের কমান্ড।

কিন্তু অন্যান্য ভাষায় আপনাকে পাঁচ থেকে সাত লাইন লিখতে হবে এই একই কাজ করার জন্য। সুতরাং পাইথন সোজা এবং অনেক সোজা!<img src=" style="border:0;" />

তাই বলে ভাববেন না যে অন্য কোন ভাষা শেখার দরকার নাই। কিংবা কেবল পাইথন দিয়েই সব কাজ করা যাবে। আসলে তা না। ভালো প্রোগ্রামার হতে হলে বেশ কয়েকটা ভাষা শেখা দরকার। আমি খালি বুঝাতে চাচ্ছিলাম যে পাইথন শেখাটা সহজ। তাই অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন প্রথম ভাষা হিসেবে ছাত্রদের পাইথন শেখানো হয়। গুগল, নাসা, সার্ন এদের মতো হোমড়া-চোমড়ারা পাইথন ব্যবহার করে। আর লিনাক্সে অনেক প্রোগাম লেখা হয় পাইথন দিয়ে।<img src=" style="border:0;" />
আসল কথায় আসি:
আসল কথাটা হলো, আমি সম্প্রতি পাইথন শিখছি। এটা আমার প্রোগ্রামিং শেখার প্রথম প্রচেষ্টা। ভালো ভাবে কোন কিছু শেখার একটা পদ্ধতি হলো অন্যদের সাথে শেয়ার করা।
সুতরাং এইখানে আমি কোন কিছু শেখাতে আসি নাই। আমি প্রতি সপ্তাহে যা শিখছি, যেভাবে শিখছি তা এখানে দেয়ার চেষ্টা করবো নিয়মিত। কিছু উদাহরণ দেব। কিছু সমস্যাও দেব।
আমি আশা করছি এই ব্লগে হয়তো অনেকেই আছেন যারা আমার মতো নবীন। অনেকেই হয়তো ঝানু প্রোগ্রামার। সুতরাং এখানে একটা মিথস্ক্রিয়া হতে পারে। আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকেও আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো।

কেন প্রোগ্রামিং শিখছি?
আমি কম্পিউটার ব্যাকগ্রাউন্ডের কেউ না। আমার বিষয় জীববিজ্ঞান।
এখন অনেক জায়গায় প্রোগ্রামিং শেখানো হয়। যেমন বায়োক্যামিস্ট্রি, ফিজিক্স, ইকোনমিকস, পলিটেকনিক ইত্যাদি ইত্যাদি।
এর একটা কারণ আছে। কম্পিউটার হলো একটা টুল - স্ক্র ডাইভার অথবা প্লায়ার্সের মতো। একটা কাজের যন্ত্র। সে আমার সমস্যা সমাধান করে দেবে। এ সমস্যা তাকে বোঝাতে হবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে।
যারা বায়োলজি/বায়োক্যামিস্ট্রি/ইকোনমিক্সে পড়ে তাদের কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। তাদের সমস্যা তারাই সবচাইতে ভালো বুঝবে - একজন ভাড়া করা প্রোগ্রামারের চাইতে। এ জন্য মোটামুটি সব জায়গায় প্রোগ্রামিং শেখানো হয়। আমিও একই কারণে প্রোগ্রামিং শিখতে আগ্রহী।
কম্পিউটার একটা টুল। এটাকে আমার ইচ্ছা মতো চালানো দরকার।

কোন ভাষায় কোডিং শেখা মানে প্রোগ্রামিং শেখা নয়
কোন ভাষায় কোডিং শিখতে দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। কিন্তু সেগুলোকে প্রোগ্রামে ব্যবহার করা শেখাটাই হলো আসল কথা।
আমরা জাপানী ভাষার ব্যাকরণ জানতে পারি। দুইশ থেকে ছয়শো শব্দ শিখতে পারি। তা হলেই কিন্তু জাপানীভাষায় কোন সুন্দর কবিতা আমরা লিখতে পারবো না। এর জন্য দরকার হবে দীর্ঘ চর্চা। একই কথা প্রোগ্রামিঙের জন্যও প্রযোজ্য। আমার এখন লক্ষ্য হলো কোড এবং তাদের ব্যবহার শেখা।
নবীনদের প্রোগ্রামিং শেখার জন্য পাইথন বেশ ভালো
যেহেতু পাইথনে কোন কমান্ড দিতে বেশি লিখতে হয় না অন্য ভাষাগুলোর তুলনায়, সেহেতু একজন নবীন শিক্ষার্থী সহজেই কোডিঙের খুঁটিনাটির চাইতে সামগ্রিক প্রোগ্রামের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারেন। এটা অবশ্য আমার কথা না, পাইথনের ওয়েবসাইটে লেখা আছে দেখলাম।
প্রথমে আপনাকে কি করতে হবে?
আমি পাইথন ২.৬ ব্যবহার করছি। যদিও নেটে পাইথনের ৩~ ভার্সন চলে এসেছে। তারপরেও এখন পর্যন্ত পাইথনের ২‍‍‌‍.‍ ভার্সনগুলো ব্যবহার করাই স্ট্যান্ডার্ড।
প্রথমে পাইথন কম্পিউটারে নামিয়ে নিন।
আর আপনি যদি লিনাক্স ব্যবহারকারী হন তাহলে আপনার সাথে স্বয়ং পাইথন আছেন। টার্মিনালে ছোটখাটো কাজ করবেন আর জিএডিট দিয়ে কোডিং করবেন। কোন ব্যাপার না!

ই-বুক ১ , ই-বুক ২ , ই-বুক ৩ নামিয়ে নিন।
পাইথন রিসোর্স দেখতে থাকুন


পরবর্তী পোস্ট আসছে অতি শীঘ্রই ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29263564 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29263564 2010-10-29 13:56:34
একটি ক্ষুদ্র উপলদ্ধিঃ ঢাবি কেন পৃথিবীর প্রথম পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নাই?
দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতে বড় আশা ছিলো মানব শারীরতত্ত্ব কোর্সটিতে প্রজননতন্ত্র পড়ানো হবে! দুষ্টুমি করতে বড়ই মন চায়<img src=" style="border:0;" />। কিন্তু কোথায় কি? কোর্সে দুইজন স্মার্ট শিক্ষক। কেউই প্রজননতন্ত্রের ধারপাশ দিয়াও গেলেন না। অবশ্য অতীতে এই অধ্যায়ের উপর কোন প্রশ্ন আসতে দেখা যায় নি। সে যাই হোক এইটা একটা মজার পর্যবেক্ষণ।

আরেকটা কোর্স, জেনারেল মাইক্রোবায়োলজী-২ এ ব্যাক্টেরিয়ার বিবর্তন আমাদের পড়ানোর কথা। ডিপার্টমেন্টের সবচাইতে পুরানো শিক্ষক খালি দুই চার লাইন আমাদের বললেন। আরো বললেন - ধর্মের সাথে এই তত্ত্বের নাকি ব্যাপক বিরোধ <img src=(" style="border:0;" />। সে যাই হোক, সিলেবাসের এই অংশটা খুব একটা নিরীহ না। আমাদের পড়ানো না হলেও অতীতে এই অংশ হতে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্ন আসতে দেখা গেছে। সুতরাং নিজেদের দায়িত্বে আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মতন লাইব্রেরী ওয়ার্কের মাধ্যমে কোন চোথার সাহায্য ছাড়াই এই অংশটুকু পড়লাম।

আরেকটা অনেক মজার কোর্স পড়ানো হয় - জেনেটিক্স। এইটা একটা অসাধারণ বিষয়। কিভাবে একটা জীব-যন্ত্র (বায়োলজিক্যাল সিস্টেম) কাজ করবে সেটা লেখা থাকে তার ডিএনএ তে। একটা জীব কিভাবে এই ডিএনএ তার পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে যায়? কিভাবে ডিএনএ-র সফটওয়্যার পরিণত হয় কোষীয় হার্ডওয়্যারে? এই সব মজাদার জিনিসপাতি পড়ি। খুব 'হৃদয়টা ফাইট্যা গেলোরেএএএ <img src=" style="border:0;" />' একটা কোর্স আর কি। এইখানে পাতায় পাতায় দেখি মিউটেশন, ইভোলিউশন ইত্যাদি ইত্যাদি কথাবার্তা লেখা। এই কোর্সটা খুব সুন্দর করে যত্ন নিয়ে আমাদের পড়ান মাজে ম্যাডাম।

মাজে ম্যাডাম একদিন পড়াচ্ছিলেন কিভাবে দুইটা ক্রোমোজম ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ: এপ-দের সাধারণত ২৪ জোড়া ক্রোমোজম। কিন্তু মানুষের ক্রোমোজম ২৩ জোড়া। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, মানুষের ক্রোমোজম ২ নামের একটা ক্রোমোজম আসলে দুইটা ক্রোমোজম নিয়া গঠিত। বিবর্তনের কোন এক পর্যায়ে এই দুইটা ক্রোমোজম এক হয়ে যায়।
এর পর তিনি বললেন, বিবর্তন তত্ত্ব নাকি এখনও প্রমাণিত না।<img src=" style="border:0;" />
এইটা শুইনা আমি তো পুরাই থ। জেনেটিক্সে যে বই টা আমরা পড়ি টেক্সট রেফারেন্স হিসেবে, সিমনসের, ম্যাডাম নিজেই বলেন খুব নির্ভরযোগ্য। এই বই বিবর্তন নিয়ে পুরা একটা চ্যাপ্টার আছে। মিউটেশন কিভাবে হয় তা নিয়ে একটা চ্যাপ্টার আছে। ম্যাডাম যে টপিক টা পড়াচ্ছিলেন তা এপ থেকে মানুষের বিবর্তনে একটা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। তাহলে সমস্যা কোথায়?:-*

বুঝলাম, সমস্যাটা অন্য জায়গায়।
"যাহা পড়ি, তাহা বিশ্বাস করি না। যাহা বিশ্বাস করি, তাহা পড়ি না। যাহা বলি, তাহা মানি না। যাহা মানি, তাহা বলি না।" - কালান্তরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এরকমই বলেছিলেন বাঙালী মধ্যবিত্তের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে।

আরো বুঝলাম, কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম পাঁচ হাজারটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নাই।<img src=(" style="border:0;" />


পূর্বে চতুর্মাত্রিকে প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29255890 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29255890 2010-10-16 10:01:41
একজন হাজারী, কয়েকটি বাঘ এবং কিছু কথা
“.................... বাঘ সবচেয়ে সুন্দর প্রাণী হরিণ খায়, মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রাণী গরু, মহিষ, ছাগলসহ সবই মেরে খেয়ে ফেলে। .................... বাঁচিয়ে রেখে নয়, বরং সব বাঘ মেরে ফেলে ওদের চামড়া দিয়ে জুতা তেরি করা হোক। ওদের চামড়া ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা হোক। ....................আমি বাঘ রক্ষার বিরুদ্ধে শুধু সাধারণ অবস্থান নয়, এর বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে তুলব।”

বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে যে বাঘরক্ষা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে এবং বিশ্ব ব্যাংক তাতে অর্থ সহায়তা দেবে এই প্রেক্ষিতে এই প্রবন্ধটি লেখা হয়।

প্রকাশিত এই প্রবন্ধটি যে, প্রাবন্ধিকের সাংঘাতিক নির্বুদ্ধিতা, ঘোরতর অজ্ঞতা, অসচেতনা, এবং আমাদের দেশের এক অন্ধকার ভবিষ্যতের উজ্জল নিদের্শক তা যে কোন স্বল্পশিক্ষিত (হয়ত, অশিক্ষিত) ব্যক্তিরও বোঝার কথা, বর্তমানে ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণীর যে কোন ছাত্রছাত্রী খুব পরিস্কারভাবে এটা জানে যে, পরিবেশের প্রতিটি প্রাণীর, প্রতিটি উদ্ভিদের প্রতিটি প্রজাতি একটি বৃহৎ খাদ্য শৃঙ্খল (Food Chain) এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই খাদ্য শৃঙ্খল প্রতিটি জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন একটি প্রজাতির বিলোপসাধনে ঐ অঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্য অনেক পরিবর্তন আনবে যার দ্বারা ঐ অঞ্চলের মনুষ্য সম্প্রদায়ের ক্ষতিও হবে ব্যাপক, এমনকি ঐ অঞ্চল মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হওয়া মোটেও বিচিত্র নয়। হরিণ আছে বলেই বাঘ আছে, বাঘের অনুপস্থিতিতে সুন্দরবনে হরিণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে যা সুন্দরবনের গোটা বাস্তুতন্ত্রকেই বিপর্যয় করে তুলবে। মনুষ্যসৃষ্ঠ বিভিন্ন কারণে যখন বনাঞ্চলে বাঘ তার খাদ্য আহরণে ব্যর্থ হয় কেবল তখনই বাঘ লোকালয়ে আসতে বাধ্য। অর্থাৎ বাঘের লোকালয়ে আগমনের পেছনে মূল প্রভাবক মানুষ। ঐ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অথবা অন্য কোন শক্তি যা খাদ্য শৃঙ্খল নষ্ট করছে। বংলাদেশে মূলত শেষোক্ত কারণটিই বেশি সক্রিয়। বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সরকারের উদাসীনতাও অনেক বড় কারণ। এটি আরও বড় সত্য যে, যেসব বাঘ খাদ্য অন্বেষণে লোকালয়ে এসে পড়ে, তাদের অনেকেরই আর বনে ফেরা হয় না। পরদিন পত্রিকার শেষ পাতায় কোন এক অঞ্চলে গ্রামবাসীর হাতে কোন এক বাঘের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। হয়ত জয়নাল হাজারীদের ইচ্ছা পূরণে সেই হতভাগ্য বাঘদের চামড়া তাদের বৈচিত্র্যখানার দেয়ালে ঝোলানো হয়, যা পক্ষান্তরে সে গৃহস্থের রুচিহীনতার এক উজ্জ্বল প্রমান। লক্ষ কোটি প্রজাতির বাসস্থান এই পৃথিবীর জন্য হুমকি যদি কোন প্রজাতি হয়ে থাকে তবে তা মানুষ। (নিন্দুকেরা বলে থাকে, এই প্রজাতিটির কিছু সদস্যকে পৃথিবী থেকে বিলোপ সাধনে প্রাবন্ধিকের একটি বড় ভূমিকা আছে।)

বলবার অপেক্ষা রাখে না যে,“আমাদের সময়” দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা এবং জনাব জয়নাল হাজারীও এদেশে অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তিত্ব, তার কারণ যাই হোক। একটি দেশের এত প্রচারিত একটি দৈনিকে যখন এতটা উদ্ভট, হাস্যকর প্রবন্ধ ছাপায় তখন তা শুধু ঐ পত্রিকা বা প্রাবন্ধিকের নয়, বরং পুরো দেশের মনস্কতা ও বিজ্ঞানচর্চার প্রতি একটা মানহানীকর বিদ্রুপ করে। ব্যক্তিগতভাবে অমি মনে করি,“ আমাদের সময়” কর্তৃপক্ষ সেটা জানেন।

বর্তমান বিশ্বে আর দশটা প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো “তথ্য” একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। এবং দেশের পুরো মিডিয়া (সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি) বিভিন্নভাবে তা জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। তথ্য পেয়ে যেখানে মানুষের সচেতন হবার কথা, সেখানে তা না হয়ে সম্পূর্ণ উল্টোটাই হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের নূন্যতম জ্ঞান ছাড়াই একজন জয়নাল হাজারী “দৈনিক হাজারিকা” ও “সাপ্তাহিক হাজারিকা” নামের দুটি পত্রিকার সম্পাদক পদে নিজেকে অধিষ্ঠত করেন। কেবল অর্থ ও ক্ষমতার জোরে শেষোক্ত পত্রিকাটি “দৈনিক আমাদের সময়” এর সাথে সপ্তাহে একদিন দেয়া হয়। সেই পত্রিকার সংবাদ ও সংবাদ লেখবার কায়দা কানুনও অনেকটাই অদ্ভুদ। তবে কি আমরা, পাঠকরা, ধরে নেব “আমাদের সময়” এর কোন ফান ম্যাগাজিন নেই বলে, এটি তারই বিকল্প ? যদি তাই হয়, তবে পাঠকের কাছে সে সত্য প্রকাশ করা উচিৎ, কেন মিছেমিছি আমরা বিভ্রান্ত হব?

জনাব জয়নাল হাজারী এমন কেন করেছেন জানি না, হয়ত বাঘের প্রতি যুক্তিহীন ক্রোধের বর্শবর্তী হয়ে, অথবা নিজেকে কোন ভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসতে। যদি কারণ প্রথমটি হয়, তবে শুনুন অতীত ও সাম্প্রতিক ইতিহাস বলে বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়নে তৃতীয় বিশ্বের প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগের পরিণিতিই বড় নির্মম। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আবার হলে আপনার চক্ষুশূল বাঘদের সংখ্যাবৃদ্ধি নয়, বরং উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবার কথা। আর যদি যে কোনভাবে হোক সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা তার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে পত্রিকা সম্পাদকের এ সুযোগ দেয়া উচিৎ হয়নি। পাঠকের প্রতি এ বড় অবিচার।

এটা নিশ্চিত যে, একদিন জনগণ সচেতন হবেই, নিজের সঠিক তথ্যের অধিকার তারা নিশ্চিত করবে, যেদিন এদেশে পরিকল্পিত কোন তথ্য বিভ্রান্তি থাকবে না, থাকবে না পরিবেশে ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার নামে সাম্রাজ্যবাদী শঠতা। দেশ আবার হয়ে উঠবে ধনধান্য পুষ্পেভরা এবং নানা প্রজাতির মিলনমেলা। হয়ত সেদিনের আর বেশি দেরি নেই।


মাহির দায়ান আমিন
অনুসন্ধিৎসু চক্র, মিরপুর শাখ

মূল লেখা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29186220 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29186220 2010-06-27 14:54:07
কৃত্রিম জিনোম কিভাবে তৈরি হলো? গত পোস্ট ছিল একটা ভূমিকা। আমার আগ্রহের জায়গাটা ছিলো গবেষণায়। ক্রেগ ভেন্টর আর তার দলবল কিভাবে একটা কৃত্রিম জিনোম তৈরি করলেন?

যে কোন কোষের অনেকগুলো অঙ্গানু থাকে। যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, কোষঝিল্লী, রাইবোজোম, প্লাজমিড ইত্যাদি। কোষের পাওয়ার হাউজ হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। কোষঝিল্লী কোষের আবরণ। রাইবোজম প্রোটিন তৈরি করে। এদের মাঝে ডিএনএ-র গঠন অনেক সরল। ফসফেট, সুগার (খাবার চিনি নয় কিন্তু) আর চারধরণের ক্ষারক (বেস) দিয়ে তৈরি ডিএনএ।


এটা ভেন্টরের বানানো কৃত্রিম জিনোম। মাঝখানে লেখা আছে কিভাবে এইটা তৈরি হলো।

একটা কাগজের পাতাতে হয়তো একটা চিঠি আমরা লিখতে পারি। পাতাটা কিন্তু চিঠি না। বর্ণমালার ৫০টি বর্ণ কে কিভাবে সাজানো আছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। পাতাটা অক্ষরগুলোকে ধারণ করছে। ঠিক তেমনই সুগার আর ফসফেটের শেকল ধারণ করে ক্ষারক সংকেত, যারা ডিএনএ-র বার্তা। কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুর তুলনায় তাই ডিএনএ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা তুলনামূলক সহজই বলা যায়। তাই বলে অবশ্য কৃত্রিম ডিএনএ-র গুরুত্ব কমে যায় না। ডিএনএ-ই তো জীবনের বার্তা!

গত প্রায় ত্রিশ বছর ধরে কৃত্রিম ডিএনএ তৈরি করা হচ্ছিল। তবে পুরোটা না, খুব ছোট অংশ হতে একটু বড় ডিএনএ-র দিকে। বোঝাই যাচ্ছিল কোন জীবের সম্পূর্ণ জিনোম তৈরি সময়ের ব্যাপার মাত্র। আবারো বলি, কোন জীবের সম্পূর্ণ ডিএনএ-র সেটকে বলে জিনোম। নিচে এই অগ্রগতির একটা চিত্র ফুটে উঠে :


কৃত্রিম ডিএনএ গবেষণা অগ্রগতি

ক্রেইগ ভেন্টর তার দলবল নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন জীবের জিনোম কৃত্রিমভাবে তৈরি করলেন, হোক না সেটা কোন ক্ষুদ্র ব্যাক্টেরিয়া।

হঠাৎ করে একেবারে কিন্তু এই জিনোমটা তৈরি করা হয় নি। প্রথমে তারা একটা জিনোমের নকশা তৈরি করেছেন। জিনব্যাঙ্ক (GenBank) বলে একটা জিনিস আছে। সেখানে আপনি বিভিন্ন জীবের জিনোমের সজ্জা (জেনেটিক সিকোয়েন্স) পাবেন। এটা হলো বিভিন্ন জীবের ডিএনএ-র ‍’ডিজিটাইজড ফর্ম’। সেখান থেকে প্রথমে বিজ্ঞানীরা মাইকোপ্লাজমা মাইকয়েড নামের এক ব্যাক্টেরিয়ার জিনোমের দুইটি আলাদা সজ্জা নেন। দুইটি সজ্জার মধ্যে যেটা সবচেয়ে ভালো সেটার উপরে তারা কৃত্রিম জিনোমের নকশা তৈরি করেন। কৃত্রিম জিনোমের নকশা আসলে ঐ ব্যাক্টেরিয়ার জিনোমের সজ্জাতে কিছু পরিবর্তন আনা।

বিজ্ঞানীরা ঐ নকশার চার জায়গায় ‘জলছাপ’-এর ব্যবস্থা করেন। জলছাপটা একরকমের প্রমাণ হিসেবে পরে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও মূল জিনোম সজ্জার সাথে কৃত্রিম জিনোমের নকশার উনিশটি জায়গায় ক্ষতিবিহীন পরিবর্তন রেখে দেয়া হয়। এভাবেই তৈরি হলো কৃত্রিম জিনোমের (ডিজিটাইজড) সজ্জা নকশা। এই নকশাটা আবার বিজ্ঞানীরা জিনব্যাঙ্কে সংরক্ষণ করেন।

একটা ডিএনএ কত বড় সেটা মাপা হয় ক্ষারক-জোড় (বেস-পেয়ার বা বিপি) হিসেবে। ডিএনএ-র দুইটি বিপরীত সূত্রে বিপরীত দুইটি ক্ষারক কে একত্রে বলে এক বিপি। এই তথ্যটা মনে রাখতে হবে।

বিজ্ঞানীরা চারটি বোতলে ধরণের ক্ষারক নেন (এ, টি, জি, সি)। কম্পিউটারে ডিজিটাইজড কৃত্রিম জিনোমের সজ্জা নকশা অনুযায়ী খুব ছোট ছোট, ৩ থেকে ৮টি ক্ষারকজোড়ের ডিএনএ-র খন্ড (অলিগো-নিউক্লিওটাইড) তারা তৈরি করেন। তারপর এই ছোট ছোট ডিএনএ খন্ড জোড়া লাগানোর ব্যবস্থা করেন তারা। এই জোড়া লাগানো হয় ই. কলি নামক ব্যাক্টেরিয়া আর স্যাকারোমাইসিস নমের ছত্রাকের মধ্যখানে। এভাবে জোড়া লাগিয়ে তারা ১ কিলো বেসপেয়ারের অনেকগুলো জিন ক্যাসেট তৈরি করেন। এই ক্যাসেটগুলো তারা আবার ছত্রাক ব্যবহার করে জোড়া লাগিয়ে তৈরি করেন 10 কিলো বেসের অংশ। একই ভাবে আবার এদেরকে ছত্রাক কোষের মাঝে জোড়া লাগান। তৈরি হয় 100 কিলো বেসে অংশ। তারপর আসে সেই মাহেন্দ্র্ক্ষণ! 100 কিলো বেসের অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয় কৃত্রিম জিনোম।

এই কৃত্রিম জিনোমকে তারা প্রতিস্থাপন করেন কাছাকাছি প্রজাতির মাইকোব্যাকটেরিয়াম ক্যাপ্রিকোলামের গ্রাহক কোষে। এটা যেন ঠিক একটা কম্পিউটারে পুরাতন “অপারেটিং সিস্টেম”-এর জায়গায় নতুন অপারেটিং সিস্টম প্রতিস্থাপন করা (উইন্ডোজের জায়গায় লিনাক্স :-) )। দেখা গেল, নতুন কোষটা “রিবুট” করে নতুন ডিএনএ-র নির্দেশ মতো কাজ করছে!

আজ এখানে থামি। সামনে আরো একটা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছে রইলো।

[পোস্টটা চেক করতে হবে। কিছু তথ্য ভূল থাকতে পারে।]
পূর্বে চতুর্মাত্রিকে প্রকাশিত

গত পোস্ট : কৃত্রিম জীবনের পথে :: ভূমিকার কথা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29168916 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29168916 2010-06-03 02:12:11
কৃত্রিম জীবনের পথে :: ভূমিকার কথা

গত বছর এলএইচসি (লার্জ হেড্রন কলাইডর) পৃথিবীর মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল। এবছরও কৃত্রিম প্রাণ সবার আকর্ষণের কেন্দ্র। মোটামুটি একসপ্তাহ আগে এই গবেষণার ফলাফল সবার সামনে এলো। যদিও কাজ শুরু হয়েছে ১৯৯৫ সালে, শেষ হয়েছে এখন হতে ছয়মাস আগেই। এই মুহুর্তে, এখন প্রফেশনালদের পাশাপাশি অনেক উৎসাহীরা পড়ে আছে ইন্টারনেটে, ঘাঁটছে এ বিষয়ক তথ্য।

বাংলাতেও দেখলাম বেশ কয়েকটা ব্লগ লেখা হয়ে গেছে। দেখলাম, কয়েকটি ব্লগে বেশ বিতর্কও শুরু হয়ে গেছে - গবেষণাটার সারাংশ, উপসংহার, প্রভাব নিয়ে। ছিদ্রান্বেষণও দেখলাম। কিন্তু বেশ অভাব বোধ করছি এটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা নিয়ে। ইংরেজিতেও খুব ভালোভাবে এখনও ব্যাখা নাই যে গবেষণাটা ঠিক কিভাবে হলো, পদ্ধতিটা কি ছিল। যতটুকু আছে, তা হলো গবেষণাটার রিসার্চ পেপার থেকে নেয়া।

আমি এখনো পুরাপুরি বুঝি নাই যে কিভাবে কি হলো। আসলে একদল বিজ্ঞানী ১৫ বছর গবেষণা করে একটা জিনিস আমাদের জন্য নিয়ে আসবে, আর আমরা ১৫ মিনিট ব্যায় করে সেটা বুঝে ফেলবো, এটা তো আর হয় না। তবে মোটাদাগে কিছু বলতে পারবো। যেহেতু জীববিজ্ঞান অনেকের কাছেই অজানা, তাই একটু ভেঙে ভেঙে, সহজ করে বলার চেষ্টা করবো।



বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের একটা সাধারণ সমস্যা আছে। সেটা হলো, তারা বিজ্ঞানের খবরগুলো ভালোভাবে দিতে পারে না। হয় বাড়ায়ে বলে, অথবা কমায়ে বলে। এই দুইটাই বিজ্ঞানের জন্য ক্ষতিকর। ২১ তারিখ যারা খবরের কাগজে জানলেন এই বিষয়টা নিয়ে, দেখলেন যে কৃত্রিম প্রাণ তৈরি হয়ে গেছে! তথ্যটা তারা এত ফুলিয়েছে যে খবরটা হারিয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা।

আসলে তা না, গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে একটি ডিএনএর পূর্ণ খন্ড (জিনোম) তৈরি করা হয়েছে। এর আগেও কৃত্রিমভাবে ডিএনএ তৈরি করা হয়েছিল ( তথ্যসূত্র )। কিন্তু এই জিনোমটা একটা ব্যাক্টেরিয়ার কোষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার পর তা -

- নিজের মতো করে কাজ করেছে
- ব্যাক্টেরিয়া কোষ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচেছে
- কোষগুলো বংশবৃদ্ধি করেছে

সুতরাং, সাধু সাবধান, গুলিয়ে ফেলা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

এখন তাহলে জানা দরকার, ডিএনএ কি?


আমাদের শরীরটা যদি একটা দালান হয়, কোষ হচ্ছে সেই দালানের ইটের মতন। আমরা তো অনেক উন্নত প্রাণি। ব্যক্টেরিয়ার মতো অনেক প্রাচীন জীব আছে যারা মাত্র একটা কোষ দিয়েই দিন আনে, দিন খায়। তাদের কোষ অনেক সরল।

কোষকে চলার জন্য অনেক কিছু করতে হয়। খাবার যোগাড়, শক্তি তৈরি, বড় হওয়া, কোষ বিভাজন করতে নানা রকম কাজ করতে হয়। একটা কোষ কিভাবে কি করবে, কি করবে না তার যাবতীয় নির্দেশ থাকে একটা এনসাইক্লোপিডিয়ার মধ্যে। এই বিশ্বকোষটা হলো তার ডিএনএ। ডিএনএ কে আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রামের সোর্সকোডের সাথে তুলনা করতে পারি।

ডিএনএ নামের যেই বইটা, এইটা চারটা অক্ষর দিয়ে লেখf। এগুলো হলো এ, টি, জি, সি। ডিএনএ-র এক একটা অংশকে বলা হয় জিন। এক একটা জিন, কোষের এক একটা বৈশিষ্ট্য বা কাজের জন্য দায়ী।

ডিএনএ কে একটা বিশাল ফুলের মালাও বলা যায়, যেই মালাটা মাত্র চারধরণের ফুল দিয়ে তৈরি।

তো বুঝাই যাচ্ছে, ডিএনএ খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তাইতো একে আদর করে বলা হয় Code of Life।


মনে করেন, বিজ্ঞানী আরণ্যক একটা নতুন গ্যাস আবিষ্কার করলেন। ধরেন গ্যাসটা কার্বন ডাই অক্সাইড। তিনি প্রথমে গবেষণা করে দেখবেন যে গ্যাসটা কোন কোন মৌল দিয়ে তৈরি। তারপর দেখবেন যে মৌলগুলো কিভাবে একটা আরেকটার সাথে বন্ধনীর মাধ্যমে যুক্ত আছে। তিনি দেখলেন যে এই গ্যাসটা কার্বন আর অক্সিজেনের পরমাণু দিয়ে গঠিত। এবং এর গঠন হলো:

O--C--O

তারপর তার কাজ কি হবে? তারপর তিনি চেষ্টা করবেন কিভাবে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে এই গ্যাসটা তৈরি করা যায়। পরবর্তীতে তিনি আবিষ্কার করলেন যে কার্বন আর অক্সিজেনের বিক্রিয়া করে গবেষণাগারে কার্বন ডাই অক্সাইড কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব।


পৃথিবীতে প্রায় ষোল লক্ষ প্রজাতি। এক প্রজাতি হতে আরেক প্রজাতির পার্থক্য মূলত জেনেটিক কোডে। ডিএনএ-র লেখা তথ্যই ঠিক করে দেয় নতুন তৈরি কোষ কোন প্রজাতির জীবের।

এতদিন ধরে জীববিজ্ঞানে বিজ্ঞানী আরণ্যকের প্রথম কাজটাই হয়ে আসছিল। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জীবের ডিএনএ-র চারধরণের "ফুল" (আসলে বেস-পেয়ার, ক্ষারক-জোড়) কোন ধারবাহিকতায় সাজানো আছে সেটাই লিপিবদ্ধ করছিলেন কম্পিউটারে।

এখন যেটা হলো, জীববিজ্ঞান একটা বিশাল লাফ দিল! বিজ্ঞানীরা কম্পিউটারে সংরক্ষিত জেনেটিক সিকুয়েন্স (ডিএনএ-র তথ্যের ধারা) অনুযায়ী গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি করলেন একটি পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ। অন্য একটি কোষে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার পর যেটা কিনা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করা শুরু করলো।

তার মানে, মানুষ এখন আর কেবল ডিএনএ-র বই পড়তে পারে না। এখন সে সংকেত অনুযায়ী কৃত্রিমভাবে ডিএনএ-র বই লিখতেও পারে! এটা মানুষের লক্ষ বছরের ইতিহাসে একটা বিরাট মাইলফলক। এই ঐতিহাসিক ঘটনা অন্যদের জানাতে আমি অত্যন্ত আনন্দ বোধ করছি।

এই বেলা তবে যাই? পরশু একটা পরীক্ষা আছে, তারপর না হয় বাকিটা লিখবো?

প্রথমে চতুর্মাত্রিকে প্রকাশিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29163875 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29163875 2010-05-27 20:22:07
আন্তজার্তিক জীববৈচিত্র্য বর্ষ ২০১০ :: আমরা কি করতে পারি?


আমারা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ভূমিকা রাখতে পারি। অনুসন্ধিৎসু চক্র জীববৈচিত্র্য বাচাতে সাধারণ কিছু কাজের তালিকা করেছে। জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে আমরা যে কেউ নিচের যে কোন একটি চর্চা শুরু করতে পারি আমাদের নিজেদের জীবনে। অনেকে হয়তো বলবেন ব্যক্তিগত এই চর্চা সমাজে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারবে। কিন্তু আমাদের এই চর্চা যে একদিন চারদিকে বিস্তার লাভ করবে না, তা কে বলতে পারে ? তাই এখনই শুরু করতে পারেন নিচের নূন্যতম একটি অথবা একাধিক চর্চা। নিজের চর্চার পর তা পরিবারের অন্যদের চর্চার আহ্বান জানান। এখানে তালিকার ক্ষেত্রে ক্রম ব্যবহার করা হয়েছে কাজের সুবিধার্থে। ক্রম দিয়ে কাজের গুরুত্ব বুঝাচ্ছে না। এখানে উল্লেখিত প্রত্যেকটি চর্চাই চক্রের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ।



এগারোটি কাজ:

যা করা যেতে পারে: কোন রকমে টিকে থাকা শেষ, বেঁচে থাকার শুরু....

১.জীববৈচিত্র্য কি তা জানা, পরিবারের সবাইকে জানানো, সংগঠনে আলোচনা করা। অন্যদের জানানোর জন্য সচেষ্ট হওয়া।
২.পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহারে যথাসম্ভব মিতব্যয়ী হওয়া। এ ব্যাপারে অন্যদের আহ্বান জানানো।
৩.ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই বাতি নিভিয়ে ফেলা। যখন ঘরে থাকবেন না তখন যে সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র আপনি ব্যবহার করছেন না, তা বন্ধ রাখা। কারণ এতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়।
৪.প্রত্যেক বাসায় নূন্যতম একটি এনার্জি সেভিং লাইট ব্যবহার করা। এ কাজে প্রয়োজনে অনুসন্ধিৎসু চক্রের সাথে যোগাযোগ করুন। একটি এনার্জি সেভিং লাইট তিন বছর ব্যবহার করলে সাধারণ লাইটের চেয়ে একটন কার্বন নিঃসরণ কম হয়। এতে অর্থেরও সাশ্রয় হয়।
৫.কাগজ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া। কাগজের উভয় দিক ব্যবহার করা। যথাসম্ভব নিউজপ্রিন্ট কাগজ ব্যবহার করা। একাজে অন্যদের আহ্বান/উৎসাহিত করা।
৬. যত বেশি ভোগ তত বেশি দূষণ। সম্পদের ব্যবহার যথাসম্ভব হ্রাস, পুনর্ব্যবহার, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত (reduce, reuse, recycle) করা । এ কাজে অন্যদের আহ্বান ও উৎসাহিত করা।
৭.বাসা-বাড়িতে যেখানেই সম্ভব পছন্দের গাছ লাগানো। এটি হতে পারে ঔষধি, ফলদ বা বন্য যে কোন ফুল/ফলের গাছ। এগুলো আমাদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে।
৮. অযথা আগাছা পরিস্কার না করা। যদি আগাছা/বন্য গাছ/ছোট জঙ্গল/ঝোপ-ঝাড়/ ছাট জলাশয় আপনার ক্ষতির কারণ না হয়, তবে এগুলো সংরক্ষণ করা। কারণ এগুলো অসংখ্য প্রাণের খাদ্য ও বাসস্থান যোগায়।
৯.কিছুই ফেলা যাবে না। ঘরে রোজাকার কাজে ব্যবহৃত পুরনো বাতিল দ্রব্য ফেলে না দিয়ে তা কোথাও জমা রাখা এবং সম্ভব হলে পুনঃ ব্যবহার করা অথবা বিক্রি করা।
১০.এই মুহুর্ত থেকেই যথাসম্ভব পলিথিন ব্যাগ বর্জন করা এবং এর পরিবর্তে কাপড়, পাট বা চটের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ, কাগজের ঠোঙ্গা এবং বাঁশ ও বেতের সামগ্রী ব্যবহার করা। যা সহজেই পঁচনশীল এবং পরিবেশের কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে না।
১১.সর্বোপরি, অপচয় না করা - ভোগ কমানো, যা সত্যিকারের প্রয়োজন শুধুমাত্র তা-ই কেনা; যখনই এবং যা কিছু সম্ভব, তা-ই পুনর্ব্যবহার করা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা।



বিদ্র: এটি অনুসন্ধিৎসু চক্রের প্রচারপত্র, আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র বর্ষ উপলক্ষে তৈরি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29129749 http://www.somewhereinblog.net/blog/acarafat/29129749 2010-04-06 02:17:54