পাহাড় আর পাহাড়। কত উচু পাহাড় হতে পারে তা চিন্তাই করা যায়না। এবার পড়ুন কেমন হয়েছিল দাজি`লিং এ ভ্রমন!
বিকাল ৪ টায় ঢাকার বাসা থেকে বের হলাম। গাড়ীতে ঘুম হলোনা কারন আশায় ছিলাম কখন পৌছব। কিন্তু ভারতের সীমানায় পৌছতেই অনেক সমস্যা হলো। রাস্তা কুয়াশায় ভতি`। বেশ কয়েক বার গাড়ী কয়েক ঘন্টার জন্য থামিয়ে রাখতে হলো।
খুব সকালে বুড়িমারী পৌছে যাই। এখন ইমিগ্রেশান পালা। খুব সকালে সীমানায় পৌছলে কি হবে ভারতের পুলিশ সকাল ৯ টার আগে আসবেনা। বেশ অনেকক্ষন বসে থাকতে হলো।
প্রায় ৪ ঘন্টার মত লাগল ইমিগ্রেশানের কাজ শেষ করতে। আবার গাড়ীতে বসি। কয়েক ঘন্টার মাঝে শিলিগুড়ি পৌছে যাই। পেটে খুব ক্ষুধা। মনে হয়েছিল বাসের জানালা খেয়ে ফেলি। ভাত খেলাম। খাবার দেশের মত হলোনা বলে মনে হলো পেট ভরেনি।
এখন যাব দাজি`লিং। গাড়ী খুজতে থাকি। ইন্ডিয়ান দালাল আমাদের ঠকাতে চায় ভাড়া বেশী চেয়ে। পারেনি। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে বুঝে শুনে ৪ হুইল একটি ভাল ঝিপ ভাড় নেই।
প্রথমেই চোখে পড়ে চা বাগান আর চা বাগান। এখন উঠা শুরু করে ঠিক উপরের দিকে। আমার কাতার যাওয়ার পথে বিমান উপরে উঠার সময় সময় যেমন ভয় হয়েছিল ঠিক তেমন ভয় পেয়েছি।
৮৭০০ ফুট উপরে উঠা সহজ কথা নয়। তার মাঝে রাস্তায় কোন রেলিং নেই। হঠাৎ এক জায়গায় ড্রাইবার গাড়ী থামিয়ে রেখেছে। ভয়ে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হলো। পানিটা মুছে ফেলি যাতে কেউ না দেখে।
হাস্যকর ব্যাপার হলো ড্রাইবার তার বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিল।
পৌছে যাই সেই আকাংখিত দাজি`লিং। খুব শীত। মাইনাস ৩। বরফ পড়ছে। আমার একটা পান কেনারও ব্যবস্থা নেই কারন আমি হিন্দিতে কথা বলতে জানিনা। ওখানের প্রায় সবাই বাংলা ইংলিশ একটা ভাষাও জানেনা। শুধু জানে হিন্দি। ইন্ডিয়ান লোক জন তুলনামুলক কম। বেশির ভাগ নেপালী তাছাড়া সন্ধার পর দোকার পাঠ সব বনধ।
অনেক রাত। ঘুমুতে যাওয়ার আগে আমার টয়লেট করতে হবে। রিতিমত টয়লেট করেছি। কিন্তু সমস্যাত সমস্যা নয় মহা সমস্যা। পানি হয়ে আছে বরফ। একটি বিপাকে পড়তে হলো। ভাগ্যিস রুমে আরেকজন ছিল। তাকে দিয়ে রিসেপশানে ফোন করে গরম পানির ব্যবস্থা করা হলো।
ঘুম থেকে উঠে দেখতে যাব সূয` উদয়। ঘুমুতে না ঘুমুতে রিসেপশান থেকে ফোন আসল গাড়ী রেডি। চমৎকার সকাল। আমি জীবনে সেই সকালটাকে কখনো ভুলবনা। তার মাঝে নেপালী মেয়েদের হাতে বানানো কফি এবং কাছ থেকে দেখা সূয` মনে হয় স্বগে`র একাংশ।
বেশ কদিন খুব মজা করি। মেলায় ঘুড়ি উড়িয়ে যেমন মজা পেতাম ঠিক তেমনি মনে হয়েছে। সেখান থেকে নেপালে যাই। শিলিগুড়ি থেকে নেপাল যাওয়া একেবারেই সহজ। আবার ফিরে আসি ----। বেশ কদিন দেশে থেকেও মনে হলো আমি সেই দাজি`লিং এ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



