অনলাইন ব্যাংকিং - নিরাপত্তার কিছু দিক
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৭
অনলাইন ব্যাংকিং আপনার আর্থিক লেনদেনকে অনেক সহজ করে দেয়। আপনি আপনার ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে লগইন করবেন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলো অফিসে বা ঘরে বসেই সারতে পারবেন। এতে আপনার সময় বাঁচবে ও ঝামেলা কমে যাবে। ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও এড়ানো যায় সহজেই। আপনি স্ট্যানডিং অর্ডারগুলো সেটআপ করতে পারবেন, ব্যাবসায়িক লেনদেনের জন্য অন্য লোকের একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন, চেকবুকে অর্ডার করতে পারবেন। এমনকি সাধারণ লেনদেনের বাইরেও কিছু বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে অনলাইন ব্যাংকগুলো। এইজন্যই অনলাইন ব্যাংকগুলো সারা পৃথিবীতে এত জনপ্রিয়। বিশ্বজুড়ে ক্রিমিনালদের আক্রমনের প্রধান লক্ষ্যবস্তও এটি। আমরা আজকে কিছু প্রধান ক্রিমিনাল এ্যাটাক ও কিভাবে প্রতিহত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব।
১. ফিসিং পদ্ধতি- আপনার ব্যাংকে ক্রিমিনালদের একাউন্ট থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে কিন্তু এরা আপনাকে এই মর্মে ব্যাংক থেকে চিঠি পাঠাবে যেন আপনার একাউন্টের নিরাপত্তার জন্য জরুরী আপনার ব্যাংকিং ডিটেইলস আপডেট করা প্রয়োজন। এরা আপনাকে ভয় দেখিয়ে কাজ উদ্ধার করতে চাবে। ডিটেইল তথ্য হাতে পাওয়ে মাত্র এরা আপনার সব টাকা উঠিয়ে নিয়ে যাবে।
২. ডিটেইল আপডেট করার জন্য মেইল আসবে তাতে আপনার ব্যাংকের ঠিকানার মতো কাছাকাছি ঠিকানা দেয়া থাকবে। যেমন - http://www.theweebank.com হল আপনার ব্যাংক এড্রেস কিন্তু ওরা কাছাকাছি এড্রেস পাঠাবে যেটি দেখতে হুবহু একই রকম http://www.thevveebank.com। এখানে w' র পরিবর্তে দুটো ভি বসানো আছে যা হঠাৎ করে চোখে পড়বে না।
৩. থার্ডপার্টি কোন সফটওয়্যার পিসির কন্ট্রোল নিয়ে নিতে পারে।
৪. ভাইরাস, স্পাম, স্পাইওয়্যার প্রভৃতি পিসির ক্ষতি করতে পারে।
৫. কম্পিউটার হ্যাক হতে পারে।
৬. ফ্রেমিং - কনফিডেনসিয়াল একসেস কোড চুরি করার এটা আরেক উপায়। এটা ইউজারকে ভুল সারভারে রিডাইরেক্ট করে দেয়। আপনার পিসির হস্ট ফাইল থেকে ডোমেইন নাম চুরি করতে পারে এরা, বা ডোমেইনের নাম রেজ্যুলুশন আছে এমন ডিএনএস সার্ভারে ম্যানিপুলেট করতে পারে।
কাস্টমার রা যখন অনলাইনে নিয়মিত তাদের ব্যালেন্স চেক করেন, নেটে থাকেন তখন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য কি করবেন:
১. সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইন্সটল করুন ও নিয়মিত আপডেট করে পিসি স্ক্যান করুন। পার্সোনাল ফায়ারওয়াল আপনার পিসিকে অধিক সুরক্ষিত রাখবে। ভাল এন্টিভাইরাস, এন্টস্পাইওয়্যার ব্যবহার করুন।
২. সেনসিটিভ ডাটা কোথাও পাঠাতে হলে প্রোটেক্ট করে পাঠান। আপনার পিন নাম্বার ও দরকারী তথ্য তখনই দিবেন যখন আপনি নিশ্চত যে আপনি ব্যাংকের নিরাপদ ও সুরক্ষিত পেজে আছেন। সেইসাথে ইন্টারনেটে ব্যাংকের ঠিকানাটা ভালভাবে চেক করে নিন।
৩. কার সাথে যোগাযোগ করছেন নিশ্চিত হয়ে নেবেন কোন লেনদেন করার আগে। ব্যাংকের ঠিকানা এড্রেসবারে ভালমতো বানান চেক করে নিন। ব্রাউজার প্রেরিত সিকিউরিটি তথ্য যেমন সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশন চেক করুন। ইন্টারনেট সাইটের নাম ও সিকিউরিটি সার্টিফিকেটে দেয়া নাম একই আছে কিনা যাচাই করে নিন। বিশ্বস্ত সার্টিফিকেশন অথরিটি সম্পর্কে ব্যাংকে খোঁজ খবর নিন। যে কোন ধরনের ফিসিং বা পাসওয়ার্ড ফিসিং পরিহার করুন। ফ্রেমিং পরিহার করুন। আপডেটেড এন্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল আপনাকে এই কাজে সাহায্য করবে। তাই ফায়ারওয়াল, পপআপ ব্লকার ও স্পাইওয়্যার ডিটেকটর ইন্স্টল ও ব্যাবহার করতে হবে।
৪. সেনসিটিভ ডাটা ও একসেস মিডিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকুন। অবান্ছিত একসেস থেকে পিন, চিপকার্ড প্রোটেক্ট করুন। অনলাইন মানি সার্ভিস বা শপিং করার সময় সতর্ক থাকুন এধরনের ডাটার ব্যাপারে। আপনার হার্ডড্রাইভে পিন নাম্বার, একসেস কোড বা ক্রেডিট কার্ড নাম্বার সংরক্ষণ করবেন না। শুধুমাত্র ব্যাংকের সাথে লানদেনের সময় পিন, একসেস কোড ইউজ করুন। আপনার একাউন্ট লেনদেনের সময় কোন কারনে ব্লক হয়ে গেলে ব্যাংকে তাড়াতাড়ি জানান।
৫. সবসময় সেফ, সিকিউর ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করুন। ভাল পাসওয়ার্ড ৬ থেকে ৮ কেরেক্টারের হয় ও অক্ষর আর নাম্বারের কম্বিনেশন হয় যাতে সহজে কেউ আন্দাজ করতে না পারে।
৬. ইমেইল ফিল্টার ব্যাবহার করতে হবে স্পাম ব্লক করার জন্য।
৭. না বুঝে কোন সফটওয়্যার বা ইমেইল এটাচমেন্ট ডাউনলোড করা যাবেনা।
৮. আপটুডেট প্রোগ্রাম ভার্সন ব্যবহার করুন। সফটওয়্যার ম্যানুফেকচাররা বাগ ফিক্সিং ও প্যাচেস তৈরী করে নিরাপত্তার জন্য। এগুলো ঠিকমতো ও নিয়মিত ইন্সটল করুন।
৯. আপনার পিসিতে নিয়মিত সিকিউরিটি চেক রান করুন।
১০. ব্রাউজারের সিকিউরিটি সেটিংস এক্টিভেট করুন।
১১. আপনার বর্তমান একাউন্ট টি বাজে বা ভুল লেনদেনের জন্য ইউজ করবেন না।
কিভাবে জরুরী অবস্হা মোকাবেলা করবেন সেটা জেনে নিন:
*কোনরকম সন্দেহ হলে অনলাইন শপিং, ব্যাংকিং ও অন্যান্য বিষয় যেগুলোতে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য সেনসিটিভ তথ্য দিতে হয় সব বন্ধ করে দিন।
*সিকিউরিটি সফটওয়্যার আপডেট করে কম্পিউটার স্কেন করুন। অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে দিন। তারপর পিসি রিস্টার্ট করুন।
*সত্যি বড় ধরনের কোন ঝামেলা হয়ে গেলে এক্সপার্ট কারো সাহায্য নিতে হবে ডাটা পুনরুদ্ধারের জন্য।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মাহিরাহি বলেছেন:
ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ন তত্ত্বের জন্য
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
প্রয়োজনীয় পোষ্ট
লেখক বলেছেন: হুমমমমমম..........
তিথী ও টাটা বলেছেন:
বিযয়টি ভাল কিন্তু কপি ও পেস্টের কারনে বাংলাদশের পরেপ্রেিক্ষত আলোচনায় এল না। এই লিখিকার আনকে লেখা প্রায়ই েদশী ব্লগ সাইট গুলোে দেখা যায় যার অধকিাংশই নেট থেকে কপি ও পেস্ট। িকন্তু এটা খারাপ না যদি মানুসের কাজে লাগে।লেখক বলেছেন: @তিথী ও টাটা, বাংলাদেশের অনলাইন ব্যাংকিং এখনো খুব বেশী চালু না বলেই আমার ধারণা। আর এই লেখাটার জন্য আমাকে নেটে ঘেটে পড়াশুনা না করে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলিতে গিয়ে সার্ভে করে এসে লিখলে মনে হয় ভাল হত- কি বলেন?
সাইফুর বলেছেন:
প্রয়োজনীয় পোষ্ট
আকাশনীল বলেছেন:
কাজের পোস্ট +++
লেখক বলেছেন: @ঝড়ো হাওয়া, @সাইফুর, @আকাশনীল আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আহা! বলেছেন:
কাজের পোষ্ট। আপু (বিনা অনুমতিতে বলে ফেললাম), আমার এই পোষ্টটা সম্পর্কে কোনো হেল্প করতে পারবেন?লিঙ্কঃ Click This Link
লেখক বলেছেন: হুমম
তিথী ও টাটা বলেছেন:
Afroza, this is called attitude problem!! the way u replied is so rude !! do u think everbody hav to like ur topics??? Pls dont act like a bd rude politicians who cant tolerate other comments. the way talk wat ur baby will learn frm u??
লেখক বলেছেন: I think the same about u. Some ppl doesn't like others. If mu post is copy paste pls give those link with ur comment. If u doesn't like my post dont read. why comment like this 'ones topic is only copy paste'. If my post is copy paste then what about others? Every news, events they post for us all also copy paste in ur point of view.
তিথী ও টাটা বলেছেন:
হা হা হা !! হায়রে বাঙ্গালী !! be cool lady !! how can u work with software if u be a bad tampared person ?? calm down !!
লেখক বলেছেন: বিড়াল দুইটা খুব সুন্দর...
অলস ছেলে বলেছেন:
ভালো হইছে তো। দেশে অনলাইন ব্যাংকিং এর প্রসার খুব বেশী না হলেও একদিন যে বেশী হবেনা এমন না। আমি আগে এটার প্রতি আগ্রহী তেমন ছিলাম না, কারণ এটিএম কার্ড তো আছেই।
একবার টাকা পয়সার খুব টানাটানি যাচ্ছিল, এমনকি রাতের খাওয়া কোন বন্ধুর উপর দিয়ে চালাবো চিন্তা করছিলাম সন্ধার সময়।
বিকালে একটা রিসার্চ প্রজেক্টের ফাইনাল কারেকশান শেষ করে টিচারকে মেইল করে দিয়েছিলাম, এস এম এস করেও জানালাম যে পাঠিয়েছি। জানতাম, ফান্ডের টাকা উনার কাছে আছে, অথচ পরের দুইদিন উইকএন্ড। মাগরিবের পর উনার এসএমএস পেলাম যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়েছে কিনা চেক করে দেখার জন্য। তারপরতো আর কথা নাই, কি খাবো ভাবছিলাম, আর এটিএম মেশিন থেকে তখন সোজা গেলাম আকীকা দিতে।
তারপর থেকে আমি অনলাইন ব্যাংকিং এর ভক্ত এবং নিজেও শুরু করেছি।
কিছু ব্যাংকের ওয়েব সাইটে একাউন্ট থেকে লগ আউট করার পর বলে দেয় কিভাবে কোন ব্রাউজারে প্রাইভেট ডাটা অথবা ক্যাশ মেমোরী ক্লিয়ার করতে হবে। এটাও মনে হয় দরকারী।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল .... ভাল থাকবেন
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
পোষ্টটা তো আমার অনেক কাজে লাগল।এই ব্লগের অনেকেই বিদেশ থেকে ব্লগিং করে এবং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করে। যেমনটা আমি। এতই অলস যে ব্যাংকে যেতে ইচ্ছে করে না। নেটেই সব সাড়ি।
তিথি ও টাটা কে এই পোষ্ট থেকে বিদায় করে হোক। এই লোক বেশী কথা বলতেছে।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল জেনে...
দূরন্ত বলেছেন:
কাজে লাগবে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আন্তরিক শুভেচ্ছা..
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
মদন বলেছেন:
অনলাইন ব্যাংকিং না করলেও অনলাইনে কিছু লেনদেন প্রতিদিনই করতে হয়। মনে প্রানে চাই বাংলাদেশে দ্রুত অনলাইন ব্যাংকিং চালু হোক। লেখাটি সোজা প্রিয়তে...
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা
আট আনা বলেছেন:
দারুন পোষ্ট। প্লাস এবং প্রিয়তে। গত ১ বছরে আমি মাত্র ২ বার ব্যাংক গেছি। সব কাজ অনলাইনেই করি। এম্লিতেই সাবধান থাকি। আপনার লেখাগুলো পড়ে আরো সাবধান হব। তিথী ও টাটা এর কথায় কান দিবেন না। এইসব পিপড়া শ্রেনীর মানুষের ধারনা নাই দুনিয়াটা কত বড়। ওনার ইংরেজি বানানের বহর দেখে ওনার ক্লাস বুঝা গেছে। সব ব্লগ সবার জন্য না। এই ব্লগের টারগেট অডিয়েন্স ওনারা না। আপনি ইন্টারনেট ঘেটে সব তথ্য একসাথে করেছেন দেখেই তো আমাদের সময় বেচে গেল।
আবারো ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা উৎসাহ দেবার জন্য..ভাল থাকবেন
তুষার আহাসান বলেছেন:
প্রিয়-তে নিলাম ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
জেসন বলেছেন:
অনলাইন ব্যাংকিং এর বিস্তারিত লিখবেন, কিভাবে একান্টখোলা যায়, কিভাবে লেন-দেন করা যায়, কারা অনলাইন ব্যাংকিং করতে পারবেন ইত্যাদি।
লেখক বলেছেন: সময় পেলেই লিখব..ধন্যবাদ
বিডি আইডল বলেছেন:
....ত্রিভুজ নামে কাউকে চিনেন?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















এখন পড়া হলনা। পুরোটা পড়ব পরে সময় নিয়ে। অনেক ধন্যবাদ। আপনার লেখা গুলো অনেক কাজের।