দাস যুগে দাস প্রভুদের মাথা থেকে উদ্ভূত একটা ধারনা হল বিয়ে - কোনকালে লোকায়ত পত্রিকায় এরকম একটা কথা পড়ছিলাম বইলা মনইতাছে । আরো মনইতাছে অধুনা থেকে প্রকাশিত একটা বইতে পড়েছিলাম একজন যৌনকর্মীর আত্মজীবনী । যেখানে তার বিশ্লেষণ হলো টাকার বিনিময়ে স্বামীকে দেহদানই হল বিয়ে । একই ধরনের একটা সংগা বোধহয় শরহে বিকায়াহ নামক একটা ফিকাহর কিতাবে পড়েছিলাম বহুত আগে-অর্থের বিনিময়ে নারীর লজ্জাস্থানের মালিক হওয়া ।
আবার ইসলামে বিয়েকে ক্রয় বিক্রয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে । কারণ উভয় ক্ষেত্রেই ইজাব এবং কবুল জরুরী । অর্থাৎ প্রস্তাব এবং গ্রহণ ।
সংগা কেন্দ্রিক ঝামেলায় না গিয়ে যদি বাস্তবের দিকে তাকাই তাহলেও কিন্তু বিয়ে নিয়ে বিস্তর অভিযোগের সামনে পড়তে হয় আমাদের ।
১. দিল্লি কা লাড্ডু- খান না খান সেইম একশন ।
২. পুরুষ মানুষ দুই প্রকার জীবিত আর বিবাহিত ।
৩. তোমার সংসারে এসে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলাম ।জীবনে একটা ভাল শাড়ীও কিনে দেওনি কখনো ।-ইত্যাদি হাজারো ।
মানুষ বিয়ে করে কেন ? রেওয়াজ তাই ? প্রয়োজন ? বিলাসিতা ? কমদামে একের ভিতর অনেক ? পরের ধনে পোদ্দারি ?
ঘটনা যাই হোক না কেন, বিয়ে কিন্তু আপনাকে আটকিয়ে ফেলবে একটা সিমানায় ।নারী বলবে - নারীত্বের অবমাননা শুরু এখান থেকে । পুরুষ বলবে - বিবাহিত পুরুষ আর মৃত মানুষ একই কথা ।এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুষবে । অনেক জল ঘোলা হবে ।অনেকে বিয়ে করতে আজীবন ভয় পেয়ে যাবে । যেমন অনেকে বিয়ে করার সাহস পেলেও বাচ্চা নেয়ার সাহস এই মধ্য চল্লিশেও করতে পারেনি ।
বিয়ের বিপক্ষে অনেক কথা অতীতে বলা হয়েছে । এখনো বলা হচ্ছে । ভবিষ্যতেও বলা হবে ।
একপক্ষ বলছে , বিয়ের পর পুরুষ হয়ে যায় স্বামী অর্থাৎ প্রভু আর নারী হয়ে যায় দাসী । দাস প্রভু সম্পর্ক কখনো মানব জাতির জন্য ভাল কিছু বয়ে আনতে পারেনা । এতদিন নারীরা অসচেতন ছিল তাই সবকিছু স্বাভাবিক ছিল । আজ নারীরা সচেতন হচ্ছে তাই এই দাস-প্রভু সম্পর্কে ফাটল ধরছে । নারী আর দাসী হয়ে থাকতে চায়না-ফলে বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে । পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তিত না হলে যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ।
অন্যপক্ষ বলছে, অতি সুকৌশলে সংসারের সব কষ্টের ভার পুরুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ।পুরুষদেরকে বোঝানো হয়েছে তোমরা পুরুষ তাই জগতের সকল কঠিন কাজ তোমাদেরকেই করতে হবে । নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে । তুমি হলে তার নিরাপত্তারক্ষি - বডিগার্ড । পুরুষ দিনরাত খেটে উপার্জন করছে আর নারী বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে হিন্দি সিরিয়ালে মাতোয়ারা হচ্ছে । স্বামী অফিসে কাজের ভারে নুব্জ আর স্ত্রী পরকিয়ায় ব্যস্ত । কিন্তু পুরুষ আর এই ফালতু আবেগে বিশ্বাসী নয় । এখন তারা সমান অধিকারের যুগে বাস করছে । অতএব সংসারের জন্য নারীকেও উপার্জন করতে হবে ।পুরুষ আর তার টাকা নারীকে ইচ্ছেমত উড়াতে দিচ্ছেনা- তাই ভাঙ্গনের সুর বাজছে ।নারী যতদিন পুরুষের টাকা ইচ্ছেমত উড়ানোর মানসিকতা থেকে বের হতে না পারবে ততদিন এই ভাঙ্গন বাড়তেই থাকবে ।
নারী অধুনিক হচ্ছে । ঘরে বাইরে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে ।কিন্তু সমাজ নিরীক্ষণ পত্রিকা জানাচ্ছে সনাতনী পুরুষতন্ত্র নারীদেরকে ঘরে শোষণ করতো আর নব্য পুরুষতন্ত্র নারীকে বাইরে শোষণ করছে । অর্থাৎ আধুনিক নারী ঘরে-বাইরে সর্বত্রই শোষিত হচ্ছে ।বিষয়টা আর স্বামী-স্ত্রীতে থাকছেনা , হয়ে যাচ্ছে জাতিগত ।
এতসুখের বিবাহ নিয়ে এই সব টানা হেঁচড়া কার ভাল লাগে বলুন !নারী - পুরুষকে দুই পক্ষে ফেলে একটা যুদ্ধের আয়োজনে কার লাভ ? কেন বেহুদা নারী আর পুরুষ মুখোমুখি দাঁড়াবে । বরং পাশাপাশি দাঁড়াক-মানাবে ।
(আঁইয়েন পাশাপাশি খাঁড়াই-মানাইব)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


