আমার প্রিয় পোস্ট

সহজ মানুষের মতন করে দেখতে চাই

দুর্নীতি ও গনতন্ত্র : থাইল্যান্ড

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৬

শেয়ারঃ
0 0 0

সারা বছরই দুনিয়া জুড়ে থাইল্যান্ডের দুর্নীতি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়ে থাকে। গত কিছুদিন থেকে থাকসিন এ আলোচনার মধ্যমণি হয়ে রয়েছে। দুর্নীতির দায়ে থাকসিন সরকারকে হঠিয়ে সামরিক সরকার ক’ বছর সেদেশকে শাসন করেছে। দুর্নীতি বিরোধী অনেক আইন করেছে, থাকসিনের দলের অনেক নেতাকে কে সাজা ও রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করেছে, তার দলকে ভেংগে থাকসিন বিরোধী নতুন দল করিয়েছে, তাকে সহ তার দলকে ব্যান্ড করেছে।
এত কিছু শেষ করে নতুন সংসদ নির্বাচন দিয়েছিলো সরকার। থাকসিন তখনো বাইরের বিভিন্ন দেশে ”মাইনাস” অবস্থায় ঘুড়ে বেড়াচ্ছিলো। তার দলের যে কজনের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে কোন বাধা ছিলো না তারা কয়েক মাসের মধ্যে নতুন করে দল গড়ে নির্বাচনে অংশ নিলো। নির্বাচনী প্রচারে তারা কোন রাখ ঢাক না রেখেই ভোটারদের বললো ”তোমরা যদি থাকসিনকে ভালোবাসো তবে আমাদের ভোট দাও”। থাকসিন বিরোধী সব দল জোট বেধে নির্বাচন করলো দুর্নীতি ও থাকসিন মুক্ত থাই সমাজ গড়ার আহ্বান রেখে।
নির্বাচনে থাকসিনের দলকেই জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসালো।
পরাজিত হবার পর থাকসিন বিরোধীরা (যার মূল শক্তি হোল শিক্ষিত জনগোষ্ঠি ও থাই সুশীল সমাজ) লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচী নিয়ে রাস্তায় নামলো আর এর সাথে আদালত প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়ায় এক দুর্নীতির মামলায় থাকসিনকে অপরাধী সাব্যস্ত করে কারাদন্ডে দন্ডিত করলো।
আপাতত: এ পর্যন্তই।
সামনের ঘটনা কি দাঁড়ায় জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন যদি এ সরকারের পতন ঘটিয়ে আবার নির্বাচন হয় সেখানেও থাকসিনের দল জয়লাভ করবে। যতই ”দুর্নীতিবাজ” হিসাবে সে অভিযুক্ত হোক না কেন।
এই অক্টোবরে পুরো থাইল্যান্ড জুড়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেলো - জনগণের ৬৩% মনে করে যদি কোন সরকার দেশের ও দেশের মানুষের উন্নতী সাধন করতে পারে তবে তার দুর্নীতিকেও তারা মেনে নিতে পারে।

এর অনেক কিছুইকি আমাদের দেশের সাথে মিলে যায় না?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতিদূর্ণীতিথাইল্যান্ড ;
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬
রাফা বলেছেন: লজ্জাস্কর ব্যাপার ,দুর্ণিতীর সমর্থনে একমাত্র তারাই সমর্থন করবে যারা দুর্ণিতীর আবর্তে নিমজ্জিত।ছি ,ছি,ছি।
২. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪২
জুয়েল হাসান বলেছেন: তাই। কিন্তু এ এক অদ্ভুত বাস্তবতা। এই বাস্তবতা আমাদের দেশেও।
৩. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১৩
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: আমগো দেশেরে লগে মিলা যায় বইলা কি বুঝাইতে চাইলেন এট্টু খুইলা কন তো দেখি। আপনে কি চান?
৫. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২২
জাতেমাতাল বলেছেন: ………জনগণের ৬৩% মনে করে যদি কোন সরকার দেশের ও দেশের মানুষের উন্নতী সাধন করতে পারে তবে তার দুর্নীতিকেও তারা মেনে নিতে পারে……

জুয়েল হাসানের এই পোষ্টে কিছু নির্মম সত্যি লুকানো আছে…… আমরা সাদা চোখে হয়ত দেখতে পাবো না, আমি এই পোষ্ট পড়ে যা বুঝলাম তা ঘোর-কলিযুগ সাহেবের সাহায্যে লাগতে পারে…

আমাদের দেশে বিগত কয়েক মাস সুশীল সমাজের জিহাদ ছিল যাবতীয় দুর্নীতি আর অজাচারের বিরুদ্ধে- অভিযোগের তীর ছিল সরাসরি দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর উপর। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো, গ্রেফতার হলো, চার্জশীট হলো…… তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা আর ঘৃনার বন্যা বয়ে গেল……

আমাদের বুঝতে হবে জনগনও কি তখন একই ভাবে ভাবছিল? দুর্নীতি বিষয়টা কি জনগনের কাছে একই রকম পরিত্যজ্য ছিল???

সামনে নির্বাচন আসছে… জনগনের কাছে ভোট চাইতে যাবে আবার কিছু লোক— তো জনগন এখন কাদের নির্বাচিত করবে? আমরা কি নিশ্চিত যারা নির্বাচনে জিতে আসবে তারা বিশেষ আলাদা কোন প্রজাতির-- যাদের সঙ্গে বিগত দিনের সেই সব দুর্নীতিবাজদের কোন মিল নাই??

তো আমরা যা জানি- জনগনও তাই জানে… এবং জেনেশ্ননে দুর্নীতিবাজদের পক্ষেই রায় দিবে-

এখন চিন্তা করে দেখেন দুর্নীতি জনগনের কাছে আদৌ কোন ইস্যু কিনা?
৬. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮
জুয়েল হাসান বলেছেন: যে ৬৩% শর্ত সাপেক্ষে দুর্নীতির পক্ষে আমি ওই দলের না।
আমাদের দেশের সাথে মিলে যায় মানে হলো - এখানেও দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ থাকার পরও কেউ বিপুল ভোটে জিততে পারে। কখনো শুনি নাই সমাজে খুব প্রভাবশালী অথচ দুর্নীতিবাজ এমন কেউ যে কোন মজলিশে কিংবা রাস্তা ঘাটে ধাওয়া খেয়েছে। সবসময় দেখি ৫ বছর আগের কুঁড়ে ঘড়ে থাকা একজন যখন টিভি চ্যানেল বা দৈনিকের মালিক হয়ে যায় লাইন ধরে সালাম মানুষ তাকেই দেয়। যে নেতা বা নেত্রী তাকে আদর সোহাগে লালন করে মহা দুর্নীতিবাজ হতে সহযোগিতা করলো সেই নেতা/নেত্রীকে ঘৃনা কিংবা এক ঘড়ে করতে দেখি না। বরন্চ উল্টা, সে সদলবলে কেন আবার ইলেকশানে আসছেনা তার জন্য মাতম করি। আর যখন সে তার দুর্নীতিবাজ নেতাদের নিয়ে ইলেকশানে দাঁড়ায় তখন বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ১ বা ২ নম্বর পজিশান পায়।
দুর্নীতি ও গনতন্ত্রের মাঝে এক অদ্ভুত সংমিস্রন রয়েছে - এটা একটা কঠিন বাস্তবতা, আমি লেখায় এটাই বলতে চেয়েছি। সমাধান কি তা আমি জানি না। তবে এটা বুঝেছি শুধু গালি গালাজ ও "দুর্নীতিকে না বলুন" জাতীয় শ্লোগান দিলেই এর সমাধান আসবে না। সমাজবিজ্ঞানীরা সহ সবাইকে আরো কাজ করে এর সমাধান বের করতে হবে।
৭. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১২
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: সরি জাতেমাতাল, থাইল্যান্ডের দুই-একটা খামচি মারা ডাটা দিয়া কেউ যদি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি বুঝায়া দিবার চায় হের লগে তো মুই একমত হবার পারতাছিনা। থাইল্যান্ড আর বাংলাদেশ এক না। ঘটনাও এক না।

মতি-মাহফুজ, টিআইবি, সুশীলগো কাছ দুর্নীতির প্রচারণার এজেন্ডা যেমন পরিস্কার ম্যাঙ্গো পাবলিকের কাছেও কিন্তু পুরা ফকফকা। তফাতটা হইলো রানীতিটা আলাদা। দুই দুইটা প্রধান মন্ত্রীরে জেইলের মইধ্যে শোয়াইয়া দিছে, পাবলিক কিন্তু মাইনা নিছিলো, মগর খেইল বুঝার পর থিকা আর নাই, এটাই তো ঘটনা, নাকি?
৮. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৩
জুয়েল হাসান বলেছেন: ঘোর-কলিযুগ, সরি। আপনার পয়েন্টটা বুঝি নাই। আরেকটু খোলাসা করলে হয়ত বুঝব। এই লেখাটায় দুই দেশের রাজনীতির মিল খোজা হয় নাই। ওই দেশের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে মানুষের একটা কমন প্রবনতার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে, এর বেশি কিছুনা। এই প্রবণতা শুধু থাইল্যান্ডেই না, "উন্নয়নশীল" অনেক দেশেই একই ঘটনা। জাতে মাতাল হয়ত এই প্রবনতাটা বাংলাদেশে কেমন ভাবে হচ্ছে তাই বলতে চেয়েছেন। আমি অন্তত: তাইই বুঝেছি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৬৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই