জীবনে বহু আজগুবি কাহিনী শুনেছি। কিন্তুু এমন আজগুবি খবর আগে আর কোনদিন শুনেছি বলে মনে পড়ে না। ২২ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ছয়বার অস্রোপচারের পর পেটে পলিথিন বেঁধে দিয়েছেন ডাক্তার¢ শীর্ষক এক অভিনব খবর প্রকাশিত হয়েছে। ‘পেটের নাড়ী ছিদ্র হয়ে গেছে, এখনি অস্রোপচার করতে হবে¢ - সামান্য পেটের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছ যাওয়ার পর এ কথা বলে ইমামুল হকের পেটে অস্রোপচার করে ঝিনাদহের কালীগঞ্জ শহরের দারূস শেফা প্রাইভেট হাসপাতালের মাসুদল হক শহীদ নামের এক তথাকথিত ডাক্তার। কিন্তুু ইমামুল হক সুস্থ না হওয়ার কারণে আরও পাঁচবার তার পেটে অস্রোপচার করা হয়। এখন অস্রোপচারের তস্থান দিয়ে খাবার বেরিয়ে আসে বলে উপায় না দেখে কথিত ডাক্তার রোগীর পেটে পলিথিনের থলে বেঁধে দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে পেটে সেই থলে বেঁধে ঘুরছেন আর তীব্র যšণায় কাঁতরাচেছন ইমামুল হক। এই অস্রোপচারে ইমামুল হকের পরিবারের খরচ হয়ে গেছে ৬০ হাজার টাকা। খবরে প্রকাশ, এই তথাকথিত চিকিৎসকের বিরূদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি কোন মেডিকেল কলেজে পড়েছেন কি না বা তার বিএমএর সনদ আছে কিনা কেউ জানেনা। স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুদল হক শহিদ বাংলাদেশের কোন মেডিক্যাল কলেজে পড়ালেখা করেননি। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর বাবার কিনিকে তিনি ব্যবসা শুরূ করেন। আতঙ্কের খবর, তিনি বিভিন্ন কিনিকে দিবিব অস্রোপচার করে বেড়িয়েছেন । এই ভুল চিকিৎসা এবং অদ্ভুত অস্রোপচারের কারণে কত রোগী তিগ্রস্থ হয়েছে বা মৃত্যুবরণ করেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান সম্ভবত কারো কাছে নেই। আমি জানিনা, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অধিকার এসব তথাকথিত ডাক্তারদের কে দিয়েছেন, এবং এসব অপকর্ম এবং অপরাধের জন্য এসব ডাক্তারদের কি বিচার হওয়া উচিত। তবে আশার কথা পুলিশ গতকাল এই তথাকথিত ডাক্তারকে অপচিকিৎসার দায়ে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা আশা করবো এই তথাকথিত চিকিৎসককে দৃষ্টাšমলক শা¯ি প্রদান করা হবে।
গত ১৫ জুলাই পত্রিকা খবরে ভুল চিকিৎসার কারণে একটি মর্মাšিক মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে ১৪ জুলাই সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুল ইজেকশন প্রদান করার কারণে লিপি বেগম নামে বাইশ বছরের এক গৃহবধ মারা গেছেন। পেটের ব্যথার কারণে লিপি বেগমকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এক চিকিৎসক তাকে এক্মি কো¤পানির ওষুধ টিনিয়াম ৫০ এমজি ইনজেকশন দেওয়ার ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স লিপি বেগমকে টিনিয়াম ইনজেকশনের পরিবর্তে গ্ল্যাক্রো স্মিথকাইন কো¤পানির আমদানিকৃত ওষুধ ট্র্যাকরিয়াম নামের অন্য ইনজেকশন স্যালাইনের মাধ্যমে পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই লিপি বেগম চিৎকার শুরূ করেন এবং তার শরীর নীল রং ধারণ করে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে লিপি বেগম মারা যান। হাসপাতালের মালিক এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক লিপি বেগমকে ভুল ইনজেকশন প্রদানের কথা স্বীকার করেন। টিনিয়াম ও ট্র্যাকরিয়াম যথাক্রমে টিমোনিয়াম মিথাইলসালফেট এবং অ্যাট্রাকিউরিয়াম বিসাইলেট এর বাণিজ্যিক নাম। ট্র্যাকরিয়াম ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে লিপি বেগম মারা গেলো কেন তার বি¯ারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। আমার যতটুকু ধারণা লিপি বেগম ইনজেকশন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। ট্র্যাকরিয়াম ইনজেকশন প্রদানের েেত্র বিশেষ সতর্কতামুলক ব্যবস্থা অবলম্বন করার কথা গুরূত্বসহকারে বলা আছে। অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের েেত্র বা শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাবার কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত অভিজ্ঞ ডাক্তার বা কর্মী ছাড়া ট্র্যাকরিয়াম ইনজেকশন প্রদানে বিধি নিষেধ রয়েছে। শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গেলে শ্বাসনালী দিয়ে টিউব দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অবাদ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে অকি্রাজেন প্রদানের ও ব্যবস্থা থাকতে হবে। এইসব সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যকতার কথা মনে হয় হাসপাতালের কেউই জানতেন না বলে এধরণের একটি করূণ মৃত্যু ঘটে গেলো।
স্মরণাতীতকাল থেকে এ দেশে অপচিকিৎসায় ল ল লোক তিগ্রস্থ হয়েছে, জীবন দিয়েছে অসংখ্য লোক । সারা দেশে নকল ভেজাল অপ্রয়োজনীয় তিকর ওষুধ এবং চিকিৎসার েেত্র নৈরাজ্য বিরাজ করছে । পেশায় একজন ফার্মাসিষ্ট বলেই আমি ব্যক্তিগতভাবে রা¯াঘাট, পথে প্রাšরে, বাস-ট্রেনে অপচিকিৎসা ও ওষুধ নামের এসব তিকর পদার্থের ব্যবহার পরবর্তী ফলাফল ও নিরাপত্তা স¤পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, অপচিকিৎসা ও ওষুধ নামের বহু আজগুবি জিনিসের অপপ্রয়োগের ফলে অসংখ্য মানুষ মারাÍকভাবে তিগ্রস্থ হয়েছে । রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসকের নাম ভাঙ্গিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচেছ অসংখ্য অশিতি, কুশিতি, ভন্ড চিকিৎসক । এতে তিগ্রস্থ হচেছ সাধারণ অসহায় নিরীহ মানুষ । শিতি মানুষ কোন কালেই এইসব চিকিৎসা গ্রহণ করে না । কারণ তাদের বোধশক্তি আছে । কিন্তু এদেশের লল নিরীহ অসহায় মানুষের সরলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে কিছু দুবৃত্ত ভন্ড এবং অসৎ মানুষ লোক ঠকিয়ে, তিসাধন ও হত্যা করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবে - এ অবস্থা সরকার কিভাবে চলতে দিচেছ?
রোগ সারানোর েেত্র চিকিৎসকের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তুু বহু চিকিৎসক রোগ নির্ণয় ও ওষুধ প্রদানে মারাÍক ভুল করেন। এই ভুল চিকিৎসার কারণে বিশ্বজুড়ে বহু রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। যেমন, এক ডাক্তার পিওথলি অপারেশন করতে গিয়ে পিওনালী কেটে ফেলার কারণে জনৈক রোগীকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। অন্য এক ডাক্তার ৭৫ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধের থায়রয়েড ক্যানসার অপারেশন করতে গিয়ে থোরাসিক ডাক্ট কেটে ফেলেন। সারা দেশে প্রচলিত অপচিকিৎসা নিয়ে আমি জীবনে বহু বা¯ব কাহিনী শুনেছি। যেমন, গ্রামাঞ্চলে এক হাতুঁড়ে ডাক্তার কর্ত্তৃক শরীরের সংবেদনশীল স্থানে এক ঁেফাড়ায় অস্রোপচার করায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়। কানে ব্যথা নিয়ে এক রোগী এক হাতুঁড়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর কানে জীবনু সংক্রমণের কথা বলে ঐ ডাক্তার কানে এক অজ্ঞাত বিষাক্ত দ্রব্য ঢেলে দিয়েছিল বলে হতভাগ্য রোগী চিরতরে বধির হয়ে গিয়েছিল। একই ধরণের এক ঘটনা ঘটেছিল চোখ নিয়ে। চোখের চুলকানির জন্য এক ডাক্তার একজন ভালো মানুষের চোখে কোন এক গাছের পাতার রস ঢেলে দিয়েছিল বলে লোকটি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব ঘটনা পথে প্রাšরে, বাস-ট্রেনে ঘটে থাকে বেশি।এক হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে এক শিশুর করূণ মৃত্যুর দৃশ্য আমি সচে দেখেছি।
তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। আমি জীবনে বহু ভালো চিকিৎসকের সং¯পর্শে এসেছি এবং তাঁদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুণগতমান দেখে অভিভত হয়েছি। এমন একজন চিকিৎসকের কথা এবার বলবো। বেশ কয়েক বছর আগে আমার এলাকা থেকে দশ বার বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে তার দরিদ্র কৃষক পিতা ঢাকা এসেছেন। মেয়ের কিডনীতে পাথর হয়েছে। পরিচিত কোন ব্যক্তির পরামর্শে তিনি মেয়েকে নিয়ে এক তরূণ কিডনীতে ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার সব দেখে শুনে মেয়ের পিতাকে বললেন, আপনার মেয়ের অপারেশন করে পাথর সরাতে হবে। চবিবশ ঘন্টার মধ্যে পাথর সরানো না হলে মেয়ে মারা যেতে পারে। অপারেশনে খরচ হবে বিশ হাজার টাকা। মেয়ের বাবার মাথায় হাত। এলাকার মানুষ বলে তিনি মেয়েকে নিয়ে পরামর্শের জন্য আমার কাছে দৌঁড়ে এলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি আমাকে বি¯ারিত জানালেন। আমি তাঁকে আশ্ব¯ করে বললাম, ডাক্তার আপনাকে সহজ সরল পেয়ে ধোঁকা দিয়েছে। আপনার মেয়ের কিছু হবে না। তখন ডাঃ সিরাত জিন্নাত জীবিত। তাঁকে আমি খুব ভালোভাবে চিনতাম। অমায়িক মানষ। চিকিৎসক হিসাবেও চমৎকার। আমি মেয়েকে নিয়ে তার বাবাকে ডাঃ জিন্নাতের কাছে পাঠালাম। ডাঃ জিন্নাত সব পরীা-নিরীা করে মেয়েকে বললেন, তোমার কিডনীতে ছোট একটি পাথর আছে। তবে অপারেশন লাগবেনা। তুমি বাড়ি চলে যাও। প্রচুর পানি খাওয়ার এবং লাফা খেলার পরামর্শ দিয়ে, মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে এবং ফিস্ না নিয়েই তাদের বিদায় দিলেন। একমাস পরে মেয়ের বাবা আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসে বললেন, তার মেয়ের পাথর আপনা আপনিই বেরিয়ে গেছে। ডাঃ জিন্নাতের বদান্যতার কথা বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেললেন। প্রিয় পাঠক একবার ভাবুন, দুইজন ডাক্তারের চিšাধারা এবং চিকিৎসা পদ্ধতিতে কত বিরাট পার্থক্য।
এটা বলার অপো রাখেনা যে বহু চিকিৎসক তাঁদের পেশায় সৎ নয়। অর্থলিপ্সা তাদের অমানুষে পরিনত করে। তাছাড়াও বহু চিকিৎসক পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে রোগীর রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হন। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব চিকিৎসক নিজেদের সুযোগপযোগী করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন না। এসব চিকিৎসক সাধারণত সনাতনী পদ্ধতিতে যুগযুগ ধরে সেকেলে মনমানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যান বলে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ প্রদানে মারাÍক ভুল করেন। এসব ভুলের খেসারত দিতে হয় অসহায় নিরীহ রোগীকে। এ তির দায়-দায়িত্ব থেকে চিকিৎসকেরা অব্যহতি পেতে পারেন না। উন্নত বিশ্বে রোগী চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধাšের কারণে তিগ্রস্থ হলে আইনের আশ্রয় নিয়ে তিপরণ দাবি করতে পারে। আমাদের দেশে সেই ব্যবস্থা নেই বলে ইমামুল হকের মত একজন অসহায় রোগীকে কি চরম মল্যই না দিতে হচেছ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


