somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ঈদের জীবনমুখী টেলিফিল্ম মেঠো পথের ধুলো এখান থেকেই ‘মোঠো পথের ধুলো’ টেলিফিল্মের শুরু। তারই স্যুটিং চলছে। অদ্ভূত ব্যাপার হলো সুখনগরী গ্রামের মেঠো পথ ধরেই হেঁটে আসতে হলো। পৌছালাম বেশ দেরি করে। তখন রাতের একটা সট চলছে। পৌছানোর পরই দেখলাম পরিচালক গম্ভীর মুখে বলছে, এটা আমাদের রুজি রুটির ব্যাপার। তোমার যদি শ্রদ্ধা থাকত তাহলে এ কাজ করতে পারতে না। পরিচালকের এ কথায় প্রযোজক শামীম খন্দকার কি বুঝলেন জানি না। তবে যতটা সম্ভব মুখ গম্ভীর করে ফেললেন।
খোঁজ নিয়ে জানলাম ফারহানা মিলি রান্না করবে মাটির চুলায়। তার বাবা সাকা এসে তার সাথে কথা বলবে। কিন্তু কিছুতেই চুলা ধরানো যাচ্ছিল না। তাই এক সময় এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর সাহেব স্ক্রিপ্ট ছিড়ে চুলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সটও ঠিক মতো ওকে হয়। কিন্তু সট ওকের পর দেখা গেল মূল স্ক্রিপ্টের অংশ বিশেষও নেই।
সারাদিন স্যুটিং বেশ ভালোই চলছিল। তবে অঘটন যা ঘটার তা ঘটল দুই সিকুয়েন্স বাকী থাকতে। রাইসুল ইসলাম আসাদকে এলাকাবাসী পিটিয়েছে। তার ছেলে লিটু আনাম তাকে গঞ্জে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় তিনি মারা যান। ঠিক এ সময়ই পুলিশ এসে লিটুকে গ্রেফতার করবে। এই সটে পুলিশ তার হাতে হ্যান্ডকাফ লাগাবে। সট প্রায় শেষ এই সময় লিটু চিৎকার দিয়ে উঠলেন। সবাই ছুটে গেল। কি হয়েছে? তিনি বেশ ব্যথা পেয়েছেন। কারণ হ্যান্ডকাফটা ছিল নষ্ট। তারচেয়েও বড় সমস্যা প্রোডাকশন বয় স্বপন এফডিসি থেকে হ্যান্ডকাফ ভাড়া আনার সময় তার চাবি আনেনি। এখন উপায়? হ্যান্ডকাফ খোলা না গেলে পরবর্তী সিকুয়েন্স কি করে করবে?
পরিচালক কি করবে খুঁজে পাচ্ছে না। অনেক টানাটানি করা হলো। লিটুর হাত লাল হয়ে গেল। প্রোডিউসার তো মাথায় হাত দিযে বসে পড়লেন। টেলিফিল্মের শেষ পরিনতি এত ভয়াবহ হবে ভাবতে পারেননি। এমন সময় কে একজন থানায় ফোন দিল। ওপাশ থেকে নানান প্রশ্ন, হ্যান্ডকাফ পেলেন কোথায়? কোথাকার চোর? কি চুরি করতে এসেছিল? চোরের হাতে হ্যান্ডকাফ কে পরিয়েছে? কেন পরিয়েছে? এত প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব না। এলাকার এক পুলিশ এসে কিছুণ ট্রাই করল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ঘন্টা দুই অপোর পর পরিচালক প্যাকআপ করা ছাড়া যখন আর কোন উপায় খুঁজে পেল না। তখন সাহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল গ্রামের এক ছেলে। লেদ মেশিনে সে কাজ করে। সে বলল, সে কেটে দিতে পারবে। লিটুকে নিয়ে যাওয়া হলো লেদ মেশিনের ওয়ার্কসপে। সমস্যা হলো একটু এদিক ওদিক হলে হাতের কব্জি কেটে যেতে পারে। তারপরও সাহস করে হাত এগিয়ে দিলেন লিটু। চট করে হ্যান্ডকাফ কেটে ফেলল ছেলেটা। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজার শুকরিয়া জানাল সবাই।
‘মেঠো পথের ধুলো’ টেলিফিল্মটিতে যেমন রয়েছে গ্রামীণ বাংলার পটভূমি তেমনি রয়েছে সাসপেন্স। উঠে এসছে গ্রামের বাস্তবচিত্র। আহমেদ ফারুকের রচনা ও এফ কিউ পিটারের পরিচালনায় এ টেলিফিল্মে যারা অভিনয় করেছেন তারা হলেনÑ রাইসুল ইসলাম আসাদ, লিটু আনাম, ফারহানা মিলি, সাকা, সিরাজ হায়দার, খালেদা আক্তার কল্পনা, রাজ, শামীম, শাহীন সুলতান, রাকিব প্রমূখ। জামালপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত ও রিজিক প্রোডাকশন প্রযোজিত টেলিফিল্ম ‘ মেঠো পথের ধূলো’ আসন্ন ঈদে প্রচারিত হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/29044359 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/29044359 2009-11-16 13:59:12
কবিতা_অচিন দেশের সকাল যদিও সকালেই থেকে যেতে চায় অতৃপ্ত এ আত্মা।

আমার মতো আত্মিক আত্মার খেঁজে একদা নেমেছিল
মহাকালের এক পরিচিত পথিক,
আজ সে ফিরে এসেছে। বলল আমায় ইশারাতে,
এখনো তুমি সকালের বিভ্রমেই আছো।
হাড়ের চির ধরা ব্যাথায় কাতোর তুমি
তবু কেন রাত জেগে অমর বাসনায় মত্ত।

আমি তো সেই প্রত্নতাত্বিকের মতো খুঁজে ফিরিনি হাড়ের ইতিহাস
শুধু জানি একদিন সবই থেমে যায়।
সকাল গড়িয়ে দুপুর, অবশেষে সন্ধ্যা।

আমি বিকেলের আলোতে তাকাই সন্ধ্যার অন্ধকারে।
চোখ বুজে খুজি, অচিন দেশের সকাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28951109 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28951109 2009-05-15 12:30:47
অদ্ভূত একটা লেখা!
ভালো লাগল। আমার বন্ধু এই ব্লগে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

আচ্ছা ও যদি ছেলে হতো তাহলে কি হতো? সবাই কি এভাবে মন্তব্য করার জন্য হুমড়ি খেযে পড়ত?

চ্যাট করতে গেলেও এক্ সমস্যা। একদিন একটা মেয়ে নাম নিক নেম হিসেবে দিয়েছিলাম। মাই গড, সবাই...

আমি জানি আপনাদের এই লেখা পছন্দ হয়নি। সো াামাকে বকা দিতে পারেন।

সরি ঝুমি। এমন একটা অদ্ভূত লেখা পোস্ট করার জন্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28940092 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28940092 2009-04-19 16:36:06
গল্প_ পা
লাল বিন্ডিং ঘেষে দুটো কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছের নিচ দিয়ে লমআবা একটা পিচঢালা পথ। বসন্ত এলে পথের উপর কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি পড়ে থাকে। তখন লাল গালিচা মনে হয পথটাকে।
এ পথ দিযে হেঁটে যেতে যেতে জীবনের অনেক বসন্তের গল্প ভেবে নেয়া যায়। তুলে আনা যায স্মৃতির পাতা থেকে াসংখ্য মানুষের মুখ। চকচকে খুচরো পয়সার মতো স্মৃতির নস্টালজিয়ায় ভেসে বেড়ানো যায সহজেই। দর্ঘিশ্বাস বের হযে আসে। ভারী হযে ওঠে পথের বাতাস।
আজ বসন্ত নয়। কৃষ্ণচূড়াও ফুটে নেই গাছের মগডালে। বরং গাছের একপাশে ঝুলে আছে শুকনো একটা ডাল। সে ডালের উপর বসে আে একজোড়া শালিক। হারকা বাতাস এসে মাঝে মাঝেই দোল দিয়ে যাচ্ছে শালিকের শরীর। কিন্তু এই পিচঢারা পথ, শুকনো গাছের ডাল, কিংবা শান্ত শালিক কোনটাই ডা. শিমিকে ভাবিযে তোলেনি। বরং জীবনের গবরি এক রহস্য তাকে আঁকড়ে ধরেছে। এই পথ দিয়ে সে রোজই হেঁটে যায কিন্তু নিজেকে তার কখনো এতোটা াসহায মনে হয়নি।
পথের ঠিক মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায ডা. শিমি। একটু শীত শীত লাগছে তার। চশমার কাঁচটাও ঘোলা হযে আসছে। চশমা খুরে হাতে নেয় সে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে। তাকায় লার বিল্ডিংটার দিকে। এই বিল্ডিংটার তিনতলায তাকে যেতে হবে। কিন্তু কেন জানি যেতে ইচ্ছে করছে না। পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে।
মাঝ পথে এসে দাঁড়িয়ে পরে শিমি। লাল বিল্ডিংয়ের তিনতলায় গিয়ে সে কি করবে? এ পৃথিবীর অনেক সত্য কথা মিথ্যে কথার চেয়েও ভয়াবহ। অনেক নিষ্দ্ধি ভালোবাসা শুদ্ধ ভালোবাসার চেয়েও শুদ্ধ। পবিত্র সুখ কখনো কখনো কষ্টের কারণ হযে দাঁড়ায়। তারপরও কি আজ ডা. শিমি ইবুর মুখোমুখি হতে পারবে? জীবন কি তবে এতটাই সহজ? মাত্র কয়েক মুহূর্তেই কি জীবন সমুদ্রের সব সারসর্ম লিখে ফেলা যায়?
ইব, সেই ইবু। নিসিান্ধরা গালস্ স্কুরের সামনে যার সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। নীল স্কুলের পোষাক পড়ে, বেনী দুলিয়ে ষোড়শি শিমি রাস্তা পার হচ্ছিল। মাঝপথে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যায় সে। রাস্তার পাশেই দাঁড়িযে ছিল তিন বন্ধু। তিনজনে মিলে সে কি হাসি!
শিমি খোঁড়াতে খে৭াড়াতে রাস্তা পার হয়। কাছে গিযে বলে, লজ্জা লাগে না আপনাদের?
দুজন হো হো করে হেসে উঠল। শুধু চুপ হযে গেল একজন। বলল, সরি। হঠাৎ হাসি পেয়েছিল তো তাই।
শিমি কোন কথা না বলে চলে আসে। এ ঘটনার বারো দিন পর আবারো তাদের সাথে দেখা হয় তার। একটা বিযে বাড়িতে। ক্যামেরাহাতে ইবু ছবি তুলছিল। হঠাৎ শিমিরি একটা ছবি তুলে ফেলে সে। বড় বড় চোখে তাকায শিমি। ভয পেয়ে প্রথম দিনের মতো সে বলে, সরি।
সবকিছু সরি দিয়ে শেষ হয় না। দিন, ক্যামেরা দিন।
ফিল্মটা শেস হযনি তো।
শিমি কিছু বলল না। হাত বাড়িযে তাকিযে আছে। লার শাড়ি পড়া উঠতি বযসের একটা মেযের এমন রাগ উপো করার মতো ক্সমতা ইবুর ছিল না। সে ক্যামেরাটা শিমির হাতে তুলে দিল। সে ফিল্মটা টেনে বের করে বলল, াার কখনো হুট করে কারো ছবি তুলবেন?
ইবু হাসে। উত্তর দেয় না।আসলে উত্তর দেবার মতো কিছুই ছিল না।
পৃতিবীর সব প্রেম শুরু হয তুচ্ছ ঘটনা থেকে।তারপর হৃদয়ের কোথায় যেন স্মৃতি জমতে থাকে। অদৃশ্য টান শুরু হয়।
সামৃতি যত পুরোনো হয, তার দাগ হয তত গভীর। যদিও সব স্মৃতির জন্ম নিয়তির উপর কেরা করে। নিয়তিই কেবল পারে স্মৃতি নিযে খেলতে। যে খেলায প্রতিটি মানুষ দাবার গুটির মতো চলাচল করে। কেউ সৈন্য, কেউ নৌকা।
বিযে বাড়িতে ইবুর সাথে পরিচয়ের পর তার সাথে আর দেখা হযনি শিমির। একেবারে সহজ করে বললে বন্ধুত্বও হয়নি দুজনের। কিন্তু কারো কারো ভালোবাসা নিরবে বড় হতে থাকে। এক সময় সে ভালোবাসা আকাশ ছুতে চায়। কিন্তু বডড দেরি করে ফেলে শিমি। কলেজে উটে জানল, যে ইবুর জন্য তার হৃদয় তৃষিত, সে অনেক াাগেই অন্য কারো হযে গেছে।
ইবুর প্রিয় মানুষের নাম ছিল প্রিয়তা। সত্যি কথা বলতে প্রিয়তা সত্যিই সবার প্রিয় ছিল। শুকনা পাতরা গড়ন, লম্বা চুল, টানা টানা চোখÑ সব মিলিয়ে ছবির মতো সুন্দর। শিমি যে সুন্দরী ছিল না তা নয়। কিন্তু কোথায যেন একটা কমতি ছিল। তাছাড়া ইবু আর প্রিয়তার সম্পর্কটা এতই গভরি ছিল যে তাদের স্বপ্নীল ভূবনে শিমির কোন স্থান ছিল না। থাকলেও তা ছিল উপেতি।
নাহ! শিমি কোন প্রতিযোগিতায় যায়নি। ভালোবাসায় প্রতিযোগিতা চলে না। এটা কোন সাধারণ খেলা নয়। এ খেলার প্রতিপ অদৃশ্য, কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী। কিন্তু এ কথা সত্য যে শিমি ইবুকে হারাতে চায়নি। শুধু এ কারণেই সে প্রিয়তার সাতে বন্দুত্ব গড়ে তোলে।
প্রিযতার এমন কোন কথা ছিল না যা শিমি জানত না। না জানার কোন কারণই নেই। বরং প্রিয়তার সাথে ইবুর আত্বিক সর্ম্পকের অনেকটাই গড়ে দেয় সে। সমযের আবর্তে ইবু তা বুজেছির হয়তো। কিন্তু কি াাসে যায তাতে?
প্রিয়তার সাথে প্রায়ই ইবুর তুমুল ঝগড়া হতো। কারণে অকারণে। তারপর চলত অভিমান। প্রিযতা প্রতিবার ঝগড়ার পর কান ধরে কসম কাটত এ জনমে সে াার ইবুর সাথে কথা বলবে না। তার কথা শুনে শিমি হাসত। পরণেই ভাবত প্রিয়তার অভিমানটা কতটাই না স্বচ্ছ। একবিংশ শতাব্দীর এই যান্ত্রিক সময়ে এমন স্বচ্ছতা ঠিক মানায় না।
পৃথিবীর সব সব ভারোবাসা কোথাও না কোথাও অসম্পুর্ণ থাকে। প্রিয়তার েেত্রও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনার্স ফাইনাল পরীার আগে হঠাৎ তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। ছেলে পাইলট। আকাশে উড়ে বেড়ায়। এমন পাত্র হাতছাড়া করার সাহস তার বাবা-মা’র ছিল না।
বিয়ের খবর শুনে ইবু চুপ থাকে। যেন কোন ভাবনাই তার মাথায আসে না। শিমির ইবুকে পাবার বাসনা ছির ঠিকই। সে ভালোবাসত একেবারে হৃদযের বিশুদ্ধতম উচ্চারণ থেকে। তারপরও কোথায যেন তার আত্মা কেঁপে উঠল। ইবুর জন্য মন খারাপ লাগল তার।
এ সময়টাতে মানুষ অদ্ভূত ধরণের ভুল করে। এসব ভুল মাঝে মাঝে শুদ্ধ হযে যায়। তবে অধিকাংশই মহাভুলে পরিনত হয়। ইবুর েেত ভুল ছির কিনা শিমি তা জানে না। তবে রাতের অন্ধকারে প্রিয়তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি সে।
ইবুর কাছে শিমির কোন দাবী ছিল না। কোন ভালোবাসার অধিকার ছিল না। শুধু জানল তারা বেশ ভারোই আছে। শিমিও বাস্তবতার বেড়াজালে নিজেকে বন্দী করে ফেলল।
ডাক্তারী পাশ করার পর শিমির বিযে ঠিক হযে গেল এক সাংবাদিকের সাথে। সাংবাদিকদের কোন সময়ই শিমি পছন্দ করেনি। তাছাড়া তার জীবনের সবটুকু জুড়ে ছিল ইবুর স্মৃতি। কোন কোন মানুষ এসব স্মৃতি নিয়েই সারাজীবন পার করে দিতে চায়।
ডা. শিমিও তাই করেছিল। সে পালিয়ে গিয়েছিল সবার কাছ থেকে। তাই আর বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে তার কোন আফসোসও ছিল না। সবার জীবনে সব কিছু হয় না।
ইবু আর প্রিয়তার সংসার বেশ ভালোই চলছিল। মাঝে মাঝে তাদের খোঁজ খবর নিত শিমি। প্রিয়তা মাঝে মাঝেই অভিমান করত। শিমি গিয়ে বুঝিয়ে আসত তাকে।
এক চাঁদনী রাতে প্রিয়তা আর ইবু ছাদে বসে ছিল। গল্প করছিল দুজন। নানা কথার ভীড়ে কখন যেন দুজনের মন বদলে যায়। প্রিয়তা রেগে ওঠে ইবুর ওপর। ঘটনা সামান্যই, কিন্তু ইবুও রেগে যায সেদিন। রাগ করে পা দিয়ে লাথি দেয় প্রিয়তাকে। কিন্তু এটা যে কত বড় সর্বনাশ ডেকে আনবে তা সে জানত না।
প্রিয়তা তার সামলাতে না পেরে উল্টে পরে যায় ছাদ থেকে। ইবু শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। কিছুণের জন্য হয়তো তার পৃথিবি থেমে গিয়েছিল। এটাকে সে ঘটনা বলবে না দূর্ঘটনা বলবে ছিক বুঝতে পারে না। সে দৌড়ে নিচে নেমে আসে। প্রিয়তা তখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ইবু পাগলের মতো করে তাকে জড়িয়ে ধরে। চৎকার করে কাঁদতে থাকে। একসময প্রিয়তা হাসতে থাকে। হাসিমুখেই সে ইবুর বুকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
ইবু চিৎকার করে প্রিয়তা প্রিয়তা ডাকতে থাকে। কিন্তু তার বহু াাগেই সে নিঃশব্দের দেশে চলে যায়। সে প্রিযতার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। মূহুর্তে এলাকার লোক জমে যায়। সবাই বলতে থাকে, খুনী, খুনী। দুহাত দিযে কান চেঁপে ধরে ইবু। দৌড়ে আসে বাসায়। তখনো তার কানে খুনী শব্দটা ঝুলে থাকে।
ইবু এক দৃষ্টিতে অবাক হযে আযনায় তাকে দেখে। সে কি সত্যিই খুনী নাকি এটা একটা এক্সিডেন্ট। হঠাৎ আয়নায় সে তার ডান পা দেখতে পায়। হ্যাঁ, এই সেই পা। যে পা দিযে সে লাথি দিযেছিল প্রিয়তাকে। নিছক দুষ্টামীর ছলেই দিয়ে ছিল। কিন্তু সে দুষ্টামী এখন াার দুষ্টামী নেই। এখন তা জীবনের সবচে বড় কলঙ্কে পরিনত হয়েছে।
ডান াপ ধরে চিৎকার কতরে ইবু। খুনী াামি না। খুনী হচ্ছে এই পা। এই পা আমার সাথে প্রতারণা করেছে। এই পায়ের কোন দরকার নেই।
ইবু দৌড়ে যায় রান্নাঘরে। বটি দিয়ে সে কোপ বসায় পায়ে। ত বিত হয় তার পা। রক্তে ভরে যায পুরোটা ঘর।
ইবুকে পুশিশ উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায়। প্রিয়তার বাবা তার নামে খুনের কেস ঠুকে দেয়। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর জানা গেল ইবু াার সেই আগের ইবু নেই। তার পাটা কেটে ফেরতে হযেছে। অত্যাধিক রক্তক্সরণ আর মানসিক চাপে সে পাগর হযে গেছে।
প্রিয়তার বাবার কেস চলতে থাকে। খুনের দায়ে ইবুর ফাঁসির াাদেশ হয়। কিন্তু পাগল আসামীকে তো আর ফাসী দেয়া যায় না। তাই তাকে পাঠানো হলো মানসিক হাসপাতালে।
এরপর চারবছর কেটে গেছে। শিমি ইচ্ছে করেই ইবুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই চার বছর ইবু কোন কথা বলেনি। মাঝে মাঝে গভীর রাতে শুধু চিৎকার করে উঠত সে। তারপর সারাদিন চুপচাপ। কোন কথা নেই। একটা পাথর মানুষ হযে গেছে সে।
ইবু কি সত্যিই দোষী? মাঝে মাঝে এসব নিযে ভাবত ডা. শিমি। জীবনকে সে যত সহজ করে দেখত আসলে এত সহজ নয়।
গত তিন বছর ডা.শিমি ইবুর চিকিৎসা করাচ্ছে। তার মানসিক ভারসাম্য একবারেই নেই। ইবু তার সমন্ত সত্বা জুড়ে কেবর প্রিযতাকে রেখেছে। তাই কোনভাবেই তার ঘুমিয়ে পড়া স্মৃতি সহজে জাগানো সম্ভব না।
মাঝে মাঝে ডা. শিমির মনে হতো এত কিছু পড়ে সে কি এমন ডাক্তার হয়েছে? যে বিদ্যা তাকে একজন মানুষকে সুস্থ করে তুলতে পারে না। চিন্তাটা মাথায আসার পর পরই হেসেছে সে। কতটা দূর্বল হযে পড়েছে সে। কতটা অসহায় সে নিযতির কাছে।
আজ এই পিচঢালা পথের মাঝে দাঁড়িযে সব হিসেব নিকেশ শেষ করতে ইচ্ছে করে শিমির। তিনতলায় গেলেই ানেক সত্যের মুখোমুখি হতে হবে তার। সে কি পারবে সে সত্যকে মেনে নিতে?
ধরি পায়ে পথটা চলতে শুরু করে ডা. শিমি। শালিক দুটো এখন াার গাছের ডালে বসে নেই। তারও হয়তো ছটেছে কোন শিকার ধরতে। শুধু ভাঙ্গা শুকনো ডালটা ঝুলে আছে গাছটায়।
মিমি পথটা মেস করে। যেন হাজার বছরের কান্তি জরানো পথটা শেস হলো তার। অনেক গল্পের পরি সমাপ্তি গটল এইমাত্র। কোন কিছুই াার অবশিষ্ট নেই। সে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেযে তিনতলায় উঠে যায়।
একটা হলুদ শাড়ি পড়েছে সে। শাড়ির সাথে মিলিয়ে দিয়েছে হলুদ টিপ। কেবিনে ঢুকতেই তার উপর চোখ পড়র ইবুর। ডা. শিমি কিছু বলল না। এগিয়ে গিয়ে বসল ইবুর সামনে। ইবু আগের মতোই স্তব্ধ হযে াাছে। শিমি বলল, ইবু, াামি জানি তুমি শুনতে পাও।
ইবু একটুও নড়ল না।
ডা. শিমি াাবারো বলল, াামি জানি তুমি সব শুনতে পাও। আমার জানা মতে তুমি মাসখানেক আগেই তোমার স্মৃতি শক্তি ফিরে পেয়েছ। কিন্তু এখনো কেন পাগল হযে আছো বুঝতে পারছি না। তুমি কি মৃত্যুকে ভয় পাও?
ইবু একটুও নড়র না। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
শিমি চিৎকার করে উঠল, আমি ডাক্তার আমি জানি তুমি সুস্থ। তুমি জানো তুমি সুস্থ হযে উঠলে তোমার ফাসী হযে যাবে। তাই তুমি এখন অসুস্ততার ভান করছ। কিন্তু যেভাবেই হোক তুমি খুনী। তুমি শুধু প্রিয়তাকে থুন করনি আমাকেও খনি করেছ।
ইবুর চোখ বেয়ে অশ্র“ গড়িয়ে পড়ে। সে কোন কথা বলে না।
ডা. শিমি তখনো উত্তেজিত। সে বলেই চরছে, অপরাধি হয়ে তুমি পালিয়ে থাকছ। কেন? কেন তুমি এমন করবে? কেন তুমি আমাকেও কাঁদাবে?
ডা. শিমি বেড়িয়ে যায়। অভিমান হয তার। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসে। কেন জানি তার সারা জীবনের কষ্টগুলো বেড়িয়ে আসতে থাকে। নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারে না সে।
সারটা বিকেল শিমি একা একা হাঁটে। সে সব সমযই একা ছিল। তার পাশে হাঁটার মতো কেউ নেই। সন্ধ্যার একটু াাগে হাটতে হাটতে সে এসে দাঁড়ায় পিচঢালা পথটার মাঝে। সকারে এখানে দাঁড়িযে সে জবিনের ানেক র্গপ ভেবে নিযেছে। কি রাভ এসব ভেবে? নিযতিকে তো আর বদলে দেয়া সম্ভব না।
ডা. শিমি জানে সারা জীবন সে নিযতি বদরাতে পারেনি। াাজো পারবে না। যে ইবুকে সে াপরাধী বলছে সে ইচ্ছে করে প্রিয়তাকে মেরে ফেলেনি। তার ইবুকে সে চেনে। সে এতটা নিচ না।
ইবু যদি তার পাপের প্রায়শ্চিত্ব করতে নিরবে বেঁচে থাকতে চায় তবে কেন সে তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেবে না? কেন সে তাকে খুনী বলবে?
কেন জানি সকালের আচরণের জন্য ডা. শিমির বিরক্ত লাগল। মনে হলো ্টবিুর কাছে তার মা চাওয়া উচিত। ভালোবাসার মানুষের কাছে পরাজয় মেনে নিতে সে একটুও লজ্জাবোধ করছে না।
শিমি পিচঢালা পথ ধরে এগিযে যাচ্ছে। কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে আবারো তাকাল সে। মরা ডালের উপর একটা শালিক ঝিম মেরে বসে আছে। এই সন্দ্যাতেও তার যেন কোন তাড়া নেই।
তিনতলা পৌঁছাতেই তার পা অবশ হয়ে এলো। একটু আগেই ঘটনাটা ঘটেছে। ইবু জানালার কাঁচ ভেঙ্গে তার বাঁ পা ত বিত করেছে। রক্তরণে জ্ঞান হারিযে ফেলেছে সে।
পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে দৌড়ে ওটিতে যায ডা. শিমি। ইবুর শ্বাস তখনো চলছে। ডা. শামসুদ্দিন সফল অস্ত্রপাচার করেছেন তার। ওটি থেকে বের হযে শুধু বললেন, আপনার সব সাধনা বিফলে গেল। এ রোগীর আর কোনদিন মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসবে না।
শিমি এক দৃষ্টিতে জানালার দিকে তাকিয়ে। তার চোখটা ঝাপসা হয়ে আসছে। বাইরে রাত নেমে গেছে। অন্ধকার ছেয়ে নিচ্ছে পুরোটা আকাশ। ইবুর শ্বাস তখনো চলছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28940078 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28940078 2009-04-19 16:12:12
গল্প- পা
লাল বিন্ডিং ঘেষে দুটো কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছের নিচ দিয়ে লমআবা একটা পিচঢালা পথ। বসন্ত এলে পথের উপর কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি পড়ে থাকে। তখন লাল গালিচা মনে হয পথটাকে।
এ পথ দিযে হেঁটে যেতে যেতে জীবনের অনেক বসন্তের গল্প ভেবে নেয়া যায়। তুলে আনা যায স্মৃতির পাতা থেকে াসংখ্য মানুষের মুখ। চকচকে খুচরো পয়সার মতো স্মৃতির নস্টালজিয়ায় ভেসে বেড়ানো যায সহজেই। দর্ঘিশ্বাস বের হযে আসে। ভারী হযে ওঠে পথের বাতাস।
আজ বসন্ত নয়। কৃষ্ণচূড়াও ফুটে নেই গাছের মগডালে। বরং গাছের একপাশে ঝুলে আছে শুকনো একটা ডাল। সে ডালের উপর বসে আে একজোড়া শালিক। হারকা বাতাস এসে মাঝে মাঝেই দোল দিয়ে যাচ্ছে শালিকের শরীর। কিন্তু এই পিচঢারা পথ, শুকনো গাছের ডাল, কিংবা শান্ত শালিক কোনটাই ডা. শিমিকে ভাবিযে তোলেনি। বরং জীবনের গবরি এক রহস্য তাকে আঁকড়ে ধরেছে। এই পথ দিয়ে সে রোজই হেঁটে যায কিন্তু নিজেকে তার কখনো এতোটা াসহায মনে হয়নি।
পথের ঠিক মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায ডা. শিমি। একটু শীত শীত লাগছে তার। চশমার কাঁচটাও ঘোলা হযে আসছে। চশমা খুরে হাতে নেয় সে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে। তাকায় লার বিল্ডিংটার দিকে। এই বিল্ডিংটার তিনতলায তাকে যেতে হবে। কিন্তু কেন জানি যেতে ইচ্ছে করছে না। পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে।
মাঝ পথে এসে দাঁড়িয়ে পরে শিমি। লাল বিল্ডিংয়ের তিনতলায় গিয়ে সে কি করবে? এ পৃথিবীর অনেক সত্য কথা মিথ্যে কথার চেয়েও ভয়াবহ। অনেক নিষ্দ্ধি ভালোবাসা শুদ্ধ ভালোবাসার চেয়েও শুদ্ধ। পবিত্র সুখ কখনো কখনো কষ্টের কারণ হযে দাঁড়ায়। তারপরও কি আজ ডা. শিমি ইবুর মুখোমুখি হতে পারবে? জীবন কি তবে এতটাই সহজ? মাত্র কয়েক মুহূর্তেই কি জীবন সমুদ্রের সব সারসর্ম লিখে ফেলা যায়?
ইব, সেই ইবু। নিসিান্ধরা গালস্ স্কুরের সামনে যার সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। নীল স্কুলের পোষাক পড়ে, বেনী দুলিয়ে ষোড়শি শিমি রাস্তা পার হচ্ছিল। মাঝপথে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যায় সে। রাস্তার পাশেই দাঁড়িযে ছিল তিন বন্ধু। তিনজনে মিলে সে কি হাসি!
শিমি খোঁড়াতে খে৭াড়াতে রাস্তা পার হয়। কাছে গিযে বলে, লজ্জা লাগে না আপনাদের?
দুজন হো হো করে হেসে উঠল। শুধু চুপ হযে গেল একজন। বলল, সরি। হঠাৎ হাসি পেয়েছিল তো তাই।
শিমি কোন কথা না বলে চলে আসে। এ ঘটনার বারো দিন পর আবারো তাদের সাথে দেখা হয় তার। একটা বিযে বাড়িতে। ক্যামেরাহাতে ইবু ছবি তুলছিল। হঠাৎ শিমিরি একটা ছবি তুলে ফেলে সে। বড় বড় চোখে তাকায শিমি। ভয পেয়ে প্রথম দিনের মতো সে বলে, সরি।
সবকিছু সরি দিয়ে শেষ হয় না। দিন, ক্যামেরা দিন।
ফিল্মটা শেস হযনি তো।
শিমি কিছু বলল না। হাত বাড়িযে তাকিযে আছে। লার শাড়ি পড়া উঠতি বযসের একটা মেযের এমন রাগ উপো করার মতো ক্সমতা ইবুর ছিল না। সে ক্যামেরাটা শিমির হাতে তুলে দিল। সে ফিল্মটা টেনে বের করে বলল, াার কখনো হুট করে কারো ছবি তুলবেন?
ইবু হাসে। উত্তর দেয় না।আসলে উত্তর দেবার মতো কিছুই ছিল না।
পৃতিবীর সব প্রেম শুরু হয তুচ্ছ ঘটনা থেকে।তারপর হৃদয়ের কোথায় যেন স্মৃতি জমতে থাকে। অদৃশ্য টান শুরু হয়।
সামৃতি যত পুরোনো হয, তার দাগ হয তত গভীর। যদিও সব স্মৃতির জন্ম নিয়তির উপর কেরা করে। নিয়তিই কেবল পারে স্মৃতি নিযে খেলতে। যে খেলায প্রতিটি মানুষ দাবার গুটির মতো চলাচল করে। কেউ সৈন্য, কেউ নৌকা।
বিযে বাড়িতে ইবুর সাথে পরিচয়ের পর তার সাথে আর দেখা হযনি শিমির। একেবারে সহজ করে বললে বন্ধুত্বও হয়নি দুজনের। কিন্তু কারো কারো ভালোবাসা নিরবে বড় হতে থাকে। এক সময় সে ভালোবাসা আকাশ ছুতে চায়। কিন্তু বডড দেরি করে ফেলে শিমি। কলেজে উটে জানল, যে ইবুর জন্য তার হৃদয় তৃষিত, সে অনেক াাগেই অন্য কারো হযে গেছে।
ইবুর প্রিয় মানুষের নাম ছিল প্রিয়তা। সত্যি কথা বলতে প্রিয়তা সত্যিই সবার প্রিয় ছিল। শুকনা পাতরা গড়ন, লম্বা চুল, টানা টানা চোখÑ সব মিলিয়ে ছবির মতো সুন্দর। শিমি যে সুন্দরী ছিল না তা নয়। কিন্তু কোথায যেন একটা কমতি ছিল। তাছাড়া ইবু আর প্রিয়তার সম্পর্কটা এতই গভরি ছিল যে তাদের স্বপ্নীল ভূবনে শিমির কোন স্থান ছিল না। থাকলেও তা ছিল উপেতি।
নাহ! শিমি কোন প্রতিযোগিতায় যায়নি। ভালোবাসায় প্রতিযোগিতা চলে না। এটা কোন সাধারণ খেলা নয়। এ খেলার প্রতিপ অদৃশ্য, কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী। কিন্তু এ কথা সত্য যে শিমি ইবুকে হারাতে চায়নি। শুধু এ কারণেই সে প্রিয়তার সাতে বন্দুত্ব গড়ে তোলে।
প্রিযতার এমন কোন কথা ছিল না যা শিমি জানত না। না জানার কোন কারণই নেই। বরং প্রিয়তার সাথে ইবুর আত্বিক সর্ম্পকের অনেকটাই গড়ে দেয় সে। সমযের আবর্তে ইবু তা বুজেছির হয়তো। কিন্তু কি াাসে যায তাতে?
প্রিয়তার সাথে প্রায়ই ইবুর তুমুল ঝগড়া হতো। কারণে অকারণে। তারপর চলত অভিমান। প্রিযতা প্রতিবার ঝগড়ার পর কান ধরে কসম কাটত এ জনমে সে াার ইবুর সাথে কথা বলবে না। তার কথা শুনে শিমি হাসত। পরণেই ভাবত প্রিয়তার অভিমানটা কতটাই না স্বচ্ছ। একবিংশ শতাব্দীর এই যান্ত্রিক সময়ে এমন স্বচ্ছতা ঠিক মানায় না।
পৃথিবীর সব সব ভারোবাসা কোথাও না কোথাও অসম্পুর্ণ থাকে। প্রিয়তার েেত্রও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনার্স ফাইনাল পরীার আগে হঠাৎ তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। ছেলে পাইলট। আকাশে উড়ে বেড়ায়। এমন পাত্র হাতছাড়া করার সাহস তার বাবা-মা’র ছিল না।
বিয়ের খবর শুনে ইবু চুপ থাকে। যেন কোন ভাবনাই তার মাথায আসে না। শিমির ইবুকে পাবার বাসনা ছির ঠিকই। সে ভালোবাসত একেবারে হৃদযের বিশুদ্ধতম উচ্চারণ থেকে। তারপরও কোথায যেন তার আত্মা কেঁপে উঠল। ইবুর জন্য মন খারাপ লাগল তার।
এ সময়টাতে মানুষ অদ্ভূত ধরণের ভুল করে। এসব ভুল মাঝে মাঝে শুদ্ধ হযে যায়। তবে অধিকাংশই মহাভুলে পরিনত হয়। ইবুর েেত ভুল ছির কিনা শিমি তা জানে না। তবে রাতের অন্ধকারে প্রিয়তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি সে।
ইবুর কাছে শিমির কোন দাবী ছিল না। কোন ভালোবাসার অধিকার ছিল না। শুধু জানল তারা বেশ ভারোই আছে। শিমিও বাস্তবতার বেড়াজালে নিজেকে বন্দী করে ফেলল।
ডাক্তারী পাশ করার পর শিমির বিযে ঠিক হযে গেল এক সাংবাদিকের সাথে। সাংবাদিকদের কোন সময়ই শিমি পছন্দ করেনি। তাছাড়া তার জীবনের সবটুকু জুড়ে ছিল ইবুর স্মৃতি। কোন কোন মানুষ এসব স্মৃতি নিয়েই সারাজীবন পার করে দিতে চায়।
ডা. শিমিও তাই করেছিল। সে পালিয়ে গিয়েছিল সবার কাছ থেকে। তাই আর বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে তার কোন আফসোসও ছিল না। সবার জীবনে সব কিছু হয় না।
ইবু আর প্রিয়তার সংসার বেশ ভালোই চলছিল। মাঝে মাঝে তাদের খোঁজ খবর নিত শিমি। প্রিয়তা মাঝে মাঝেই অভিমান করত। শিমি গিয়ে বুঝিয়ে আসত তাকে।
এক চাঁদনী রাতে প্রিয়তা আর ইবু ছাদে বসে ছিল। গল্প করছিল দুজন। নানা কথার ভীড়ে কখন যেন দুজনের মন বদলে যায়। প্রিয়তা রেগে ওঠে ইবুর ওপর। ঘটনা সামান্যই, কিন্তু ইবুও রেগে যায সেদিন। রাগ করে পা দিয়ে লাথি দেয় প্রিয়তাকে। কিন্তু এটা যে কত বড় সর্বনাশ ডেকে আনবে তা সে জানত না।
প্রিয়তা তার সামলাতে না পেরে উল্টে পরে যায় ছাদ থেকে। ইবু শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। কিছুণের জন্য হয়তো তার পৃথিবি থেমে গিয়েছিল। এটাকে সে ঘটনা বলবে না দূর্ঘটনা বলবে ছিক বুঝতে পারে না। সে দৌড়ে নিচে নেমে আসে। প্রিয়তা তখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ইবু পাগলের মতো করে তাকে জড়িয়ে ধরে। চৎকার করে কাঁদতে থাকে। একসময প্রিয়তা হাসতে থাকে। হাসিমুখেই সে ইবুর বুকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
ইবু চিৎকার করে প্রিয়তা প্রিয়তা ডাকতে থাকে। কিন্তু তার বহু াাগেই সে নিঃশব্দের দেশে চলে যায়। সে প্রিযতার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। মূহুর্তে এলাকার লোক জমে যায়। সবাই বলতে থাকে, খুনী, খুনী। দুহাত দিযে কান চেঁপে ধরে ইবু। দৌড়ে আসে বাসায়। তখনো তার কানে খুনী শব্দটা ঝুলে থাকে।
ইবু এক দৃষ্টিতে অবাক হযে আযনায় তাকে দেখে। সে কি সত্যিই খুনী নাকি এটা একটা এক্সিডেন্ট। হঠাৎ আয়নায় সে তার ডান পা দেখতে পায়। হ্যাঁ, এই সেই পা। যে পা দিযে সে লাথি দিযেছিল প্রিয়তাকে। নিছক দুষ্টামীর ছলেই দিয়ে ছিল। কিন্তু সে দুষ্টামী এখন াার দুষ্টামী নেই। এখন তা জীবনের সবচে বড় কলঙ্কে পরিনত হয়েছে।
ডান াপ ধরে চিৎকার কতরে ইবু। খুনী াামি না। খুনী হচ্ছে এই পা। এই পা আমার সাথে প্রতারণা করেছে। এই পায়ের কোন দরকার নেই।
ইবু দৌড়ে যায় রান্নাঘরে। বটি দিয়ে সে কোপ বসায় পায়ে। ত বিত হয় তার পা। রক্তে ভরে যায পুরোটা ঘর।
ইবুকে পুশিশ উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায়। প্রিয়তার বাবা তার নামে খুনের কেস ঠুকে দেয়। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর জানা গেল ইবু াার সেই আগের ইবু নেই। তার পাটা কেটে ফেরতে হযেছে। অত্যাধিক রক্তক্সরণ আর মানসিক চাপে সে পাগর হযে গেছে।
প্রিয়তার বাবার কেস চলতে থাকে। খুনের দায়ে ইবুর ফাঁসির াাদেশ হয়। কিন্তু পাগল আসামীকে তো আর ফাসী দেয়া যায় না। তাই তাকে পাঠানো হলো মানসিক হাসপাতালে।
এরপর চারবছর কেটে গেছে। শিমি ইচ্ছে করেই ইবুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এই চার বছর ইবু কোন কথা বলেনি। মাঝে মাঝে গভীর রাতে শুধু চিৎকার করে উঠত সে। তারপর সারাদিন চুপচাপ। কোন কথা নেই। একটা পাথর মানুষ হযে গেছে সে।
ইবু কি সত্যিই দোষী? মাঝে মাঝে এসব নিযে ভাবত ডা. শিমি। জীবনকে সে যত সহজ করে দেখত আসলে এত সহজ নয়।
গত তিন বছর ডা.শিমি ইবুর চিকিৎসা করাচ্ছে। তার মানসিক ভারসাম্য একবারেই নেই। ইবু তার সমন্ত সত্বা জুড়ে কেবর প্রিযতাকে রেখেছে। তাই কোনভাবেই তার ঘুমিয়ে পড়া স্মৃতি সহজে জাগানো সম্ভব না।
মাঝে মাঝে ডা. শিমির মনে হতো এত কিছু পড়ে সে কি এমন ডাক্তার হয়েছে? যে বিদ্যা তাকে একজন মানুষকে সুস্থ করে তুলতে পারে না। চিন্তাটা মাথায আসার পর পরই হেসেছে সে। কতটা দূর্বল হযে পড়েছে সে। কতটা অসহায় সে নিযতির কাছে।
আজ এই পিচঢালা পথের মাঝে দাঁড়িযে সব হিসেব নিকেশ শেষ করতে ইচ্ছে করে শিমির। তিনতলায় গেলেই ানেক সত্যের মুখোমুখি হতে হবে তার। সে কি পারবে সে সত্যকে মেনে নিতে?
ধরি পায়ে পথটা চলতে শুরু করে ডা. শিমি। শালিক দুটো এখন াার গাছের ডালে বসে নেই। তারও হয়তো ছটেছে কোন শিকার ধরতে। শুধু ভাঙ্গা শুকনো ডালটা ঝুলে আছে গাছটায়।
মিমি পথটা মেস করে। যেন হাজার বছরের কান্তি জরানো পথটা শেস হলো তার। অনেক গল্পের পরি সমাপ্তি গটল এইমাত্র। কোন কিছুই াার অবশিষ্ট নেই। সে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেযে তিনতলায় উঠে যায়।
একটা হলুদ শাড়ি পড়েছে সে। শাড়ির সাথে মিলিয়ে দিয়েছে হলুদ টিপ। কেবিনে ঢুকতেই তার উপর চোখ পড়র ইবুর। ডা. শিমি কিছু বলল না। এগিয়ে গিয়ে বসল ইবুর সামনে। ইবু আগের মতোই স্তব্ধ হযে াাছে। শিমি বলল, ইবু, াামি জানি তুমি শুনতে পাও।
ইবু একটুও নড়ল না।
ডা. শিমি াাবারো বলল, াামি জানি তুমি সব শুনতে পাও। আমার জানা মতে তুমি মাসখানেক আগেই তোমার স্মৃতি শক্তি ফিরে পেয়েছ। কিন্তু এখনো কেন পাগল হযে আছো বুঝতে পারছি না। তুমি কি মৃত্যুকে ভয় পাও?
ইবু একটুও নড়র না। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
শিমি চিৎকার করে উঠল, আমি ডাক্তার আমি জানি তুমি সুস্থ। তুমি জানো তুমি সুস্থ হযে উঠলে তোমার ফাসী হযে যাবে। তাই তুমি এখন অসুস্ততার ভান করছ। কিন্তু যেভাবেই হোক তুমি খুনী। তুমি শুধু প্রিয়তাকে থুন করনি আমাকেও খনি করেছ।
ইবুর চোখ বেয়ে অশ্র“ গড়িয়ে পড়ে। সে কোন কথা বলে না।
ডা. শিমি তখনো উত্তেজিত। সে বলেই চরছে, অপরাধি হয়ে তুমি পালিয়ে থাকছ। কেন? কেন তুমি এমন করবে? কেন তুমি আমাকেও কাঁদাবে?
ডা. শিমি বেড়িয়ে যায়। অভিমান হয তার। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসে। কেন জানি তার সারা জীবনের কষ্টগুলো বেড়িয়ে আসতে থাকে। নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারে না সে।
সারটা বিকেল শিমি একা একা হাঁটে। সে সব সমযই একা ছিল। তার পাশে হাঁটার মতো কেউ নেই। সন্ধ্যার একটু াাগে হাটতে হাটতে সে এসে দাঁড়ায় পিচঢালা পথটার মাঝে। সকারে এখানে দাঁড়িযে সে জবিনের ানেক র্গপ ভেবে নিযেছে। কি রাভ এসব ভেবে? নিযতিকে তো আর বদলে দেয়া সম্ভব না।
ডা. শিমি জানে সারা জীবন সে নিযতি বদরাতে পারেনি। াাজো পারবে না। যে ইবুকে সে াপরাধী বলছে সে ইচ্ছে করে প্রিয়তাকে মেরে ফেলেনি। তার ইবুকে সে চেনে। সে এতটা নিচ না।
ইবু যদি তার পাপের প্রায়শ্চিত্ব করতে নিরবে বেঁচে থাকতে চায় তবে কেন সে তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেবে না? কেন সে তাকে খুনী বলবে?
কেন জানি সকালের আচরণের জন্য ডা. শিমির বিরক্ত লাগল। মনে হলো ্টবিুর কাছে তার মা চাওয়া উচিত। ভালোবাসার মানুষের কাছে পরাজয় মেনে নিতে সে একটুও লজ্জাবোধ করছে না।
শিমি পিচঢালা পথ ধরে এগিযে যাচ্ছে। কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে আবারো তাকাল সে। মরা ডালের উপর একটা শালিক ঝিম মেরে বসে আছে। এই সন্দ্যাতেও তার যেন কোন তাড়া নেই।
তিনতলা পৌঁছাতেই তার পা অবশ হয়ে এলো। একটু আগেই ঘটনাটা ঘটেছে। ইবু জানালার কাঁচ ভেঙ্গে তার বাঁ পা ত বিত করেছে। রক্তরণে জ্ঞান হারিযে ফেলেছে সে।
পাগলের মতো চিৎকার করতে করতে দৌড়ে ওটিতে যায ডা. শিমি। ইবুর শ্বাস তখনো চলছে। ডা. শামসুদ্দিন সফল অস্ত্রপাচার করেছেন তার। ওটি থেকে বের হযে শুধু বললেন, আপনার সব সাধনা বিফলে গেল। এ রোগীর আর কোনদিন মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসবে না।
শিমি এক দৃষ্টিতে জানালার দিকে তাকিয়ে। তার চোখটা ঝাপসা হয়ে আসছে। বাইরে রাত নেমে গেছে। অন্ধকার ছেয়ে নিচ্ছে পুরোটা আকাশ। ইবুর শ্বাস তখনো চলছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28907480 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28907480 2009-02-06 14:22:51
গল্প_ কবর সুলতান কোদাল দিয়ে একটা কোপ বসাল মাটিতে। মাটির ভিতরে কোদালরে মাথাটা ঢুকে গলে সহজই। কিন্তু মাটি কী সত্যিই নরম? নাকি এ মাটিতেই মিশে যাবে অনকে গল্প, অনেক কান্নার জল।

প্রথম কোপ দেয়ার পরই সুলতান থামল। গত বত্রিশ বছরে যা হয়নি তাই হলো তার। তার চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছে। ছেড়া গামছা দিয়ে চোখ মুছল সুলতান। তার বয়স এখন চল্লিশ। সেই আট বছর বয়সে প্রথম কবর খুঁড়েছিল সে। কবরটা ছিল তার বড় কাকার। সেদিন ফজল চাচার সাথে কবরটা খুঁড়েছিল। সে কী ভয় তার! বারবার গা শরি শরর্ িকর উঠছলে। অপাথবিি এক ভয়। এ ভয়রে সাথে পৃথবীরি কোন ভয়রে কোন মলি নই।ে

বড় কাকার কবর খুঁড়তে খুঁড়তে গভীর রাত হয়ে যায়। কুপরি আলোয় কবরটায় অভূত অন্ধকার হয়ে ছল।ি অথচ এখানইে শুয়ে থাকবে একটা মানুষ। আর কখনো ফরিে আসবে না। ভাবলইে মন ভারী হয়ে যায়। অথচ এটাই সত্য।ি এটাই চরন্তনি নয়ম।ি

সুলতানরে মা-বাবা ছলি না। জন্মরে পরই মারা যায় তারা। তারা দখতেে কমনে ছলি সুলতান তা জানে না। তাদরে কোন স্মৃতওি নই।ে

এতমি সুলতানকে মানুষ করে বড়কাকা। সুলতানকে কখনো বাপরে অভাব বুঝতে দনন।েি সম্ভবত এ কারণে মায়রে কথা অনকে মনে পড়লওে বাপরে কথা মনে পড়ত কম। সইে কাকাও হঠাৎ করে মারা গল।ে

আট বছররে সুলতান কবর খাঁড়োর সময় হাউমাউ করে কঁদছল।েেি একটা অভূত শূন্যতায় ভরে গয়ছলিিে তার মন। জীবনরে এক সুক্ষ¦ ভালোবাসা হারয়িে ফলেে স।ে তারপর বত্রশি বছর পার হয়ছ।েে কোদাল হাতে সুলতান কবর খুঁড়ে বড়য়ছেেিে এ গ্রাম সে গ্রাম।ে রাত হলে বলগাঁও গোরস্থানে শুয়ে থাকত। রোজই একটা-দুইটা কবর খুঁড়তে হতো। লাশ আসত। সাথে আসত একদল মানুষ। তারা অঝোরে কাঁদত। এসব কান্না সুলতানকে ছুঁয়ে যতে না।

সুলতান মানুষরে হৃদয়রে কান্না দখছ।েেে দখছেেে থরথর হাতে কোনো বাবার ছলরেে লাশ কবরে নামানোর দৃশ্য অথবা মায়রে কবররে সামনে দাঁড়য়িে নীরবে কাঁদছে ছল।েে

মানুষরে কোন কান্নাটা আত্মার, কোন কান্নাটা সবচয়েে বশেি শুদ্ধ তা সুলতান জানে না। কন্তুি সে বুঝতে পারে চোখরে ভাষা দখ।েে মাঝে মাঝে সে যনে মানুষরে প্রকৃত আতœার প্রকৃত র্রূপ দখতেে পায়। সৃর্ষ্টকতা মানিুষক একে পাথবি আবরণে ঢকেে রাখ।ে মানুষ সে ঢাকনা খুলে বরে হতে চায় না। তারপরও বরে হয়ে আস।ে কবররে সামনে তমনিে ঢাকনাহীন মানুষ দখছেেে সুলতান। দখছেেে মানুষরে আত্মা গলে যাওয়ার দৃশ্য। এ এক অনুভূত,ি কখনো কাউকে বোঝানো যায় না।

কত শত মানুষরে কবর যে সে এ জীবনে খুঁড়ছেে তা সে নজওেি জানে না। তারপরও প্রতটাি মৃত্যুরই যনে আলাদা গন্ধ আছ।ে আলাদা একটা রূপ আছ।ে

কবর খাঁড়োটা সহজ কোনো কাজ নয়। বশে কষ্টসাধ্য। সাড়ে তনি হাত মাটি খুঁড়তে হব।ে সুন্দর করে চারকোণা বানাতে হব।ে মৃত মানুষটার আকার-আকৃতরি ওপর ছোট-বড় হয়। তার সাথে সুন্দর করে কাটতে হবে বাঁশ। লাগবে চাটাই। পাশরে মাটগুলোি আলগা করে রাখতে হব।ে সুলতান দক্ষ হাতে এসব কাজ কর।ে

মানুষরে পাপ-পুণ্যরে হসাবি বোঝার ক্ষমতা তার নই।ে তারপরও কভাবিে যনে সে বুঝতে পারে ভতররেে অজানা রহস্য। কারো কারো কবর চট করে খুঁড়ে ফলেে স।ে আবার কারো কারো কবর খুঁড়তে গয়িে হাঁপয়িে ওঠ।ে এমন কনে হয় সুলতান তা জানে না।

দক্ষণপাড়ায়ি একবার কবর খুঁড়তে গয়িে এমন হয়ছল।েি গভীর রাতে মারা যায় লোকটা। শোনা যায় লোকটা নাকি প্রথম জীবনে ডাকাত ছল।ি কত মানুষকে খুন করছেে তা নজওেি জানত না।

গভীর রাতে বাড়রি পছনেে কবর খুঁড়ছলি সুলতান। সাথে একটা হারকনেির্ আর তন ব্যাটাররি টচি লাইট। হঠাৎ মনে হলো কউে একজন পছনেে দাঁড়য়িে আছ।ে তার ছায়া স্পষ্ট দখতেে পায় স।ে অবশ্য মনরে ভুলও হতে পার্র। সে চটে কর টচে লার্ইটটা বর কর।ে আশ্চযে লাইট জ্বলছে না। সুলতানরে পানি পপাসাি পায়। সে কবররে পাশে বসে পড়।ে

সবই হয়তো মনরে ভুল। অমাবস্যার রাতে নাকি মানুষরে শরীর টান।ে হয়তো এ কারণইে এমন হচ্ছ।ে আর কবর খুঁড়তে গলেে এত ছোট আত্মা হলে চলে না। সাহস থাকতে হয়র্ বুক। জোরে একটো দীঘশ্বাস ফলেে সুলতান কবর খুঁড়।ে তারপরও সে বুঝতে পারে অজানা এক রহস্য। মাটটাি শক্ত হয়ে ছল।ি শরীররে পুরো শক্তি দয়ওেি কবরটা খাঁড়ো যাচ্ছলি না।

সুলতান মারা গলেে কে তার কবর খুঁড়ব?ে তার কবররে মাটওি কি এভাবে শক্ত হয়ে যাব?ে নাকি নরম হয়ে যাবে সহজই।ে কউে কি এমন অদৃশ্য ছায়া দখতেে পাব?ে না কি দখবেে অন্যকছু?ি ঠকি বুঝতে পারে না স।ে

বত্রশি বছর পর সুলতান কাঁদছ।ে তার চোখ বয়েে পানি পড়ছ।ে সে কবরে দ্বতীয়ি কোপ বসাল। একটা মাটরি চাপ তুলে ফললে সহজই।ে মাটটাি নরম। বশে নরম। সুলতান পছনরেে দকিে তাকাল।

দূরে বাড়টাি দখো যাচ্ছ।ে বাড়টারি নাম স্বপ্নঘর। গতকাল রাতে এ বাড়তইেি র্মারা গছেে বাড়র গৃহকত্রীি রোখসানা বগম।ে

মানুষ মারা যায় এটাই স্বাভাবক।ি এ চরন্তনি সত্য কউে বদলে ফলতেে পারবে না। বদলে ফলো সম্ভব না। কন্তুি রোখসানা বগমরেে মৃত্যুটা মনেে নয়ো কঠন।ি সম্ভবত এ কারণইে তনি গ্রামরে মানুষ দখতেে এসছেে তাক।ে

রোখসানা বগমরেে বয়িে হয়ছলিে আজ থকেে চৌদ্দ বছর আগে ডাক্তার জাহদুলি ইসলামরে সাথ।ে বয়রেি পর সুখরে দনি শুরু হয়। ডাক্তার হসবেিে জাহদুলি ইসলামরে নামডাকও ছড়য়িে পড়।ে মানুষরে বপদ-আপদেিে তনিি ছুটে যান। গ্রামইে গড়ে তুলনে রোখসানা মা ও শশুি কনক।িি

চার বছররে মাথায় তারা ঝলরেি ধারে বাড়ি বানায়। বাড়রি নাম দয়ে ‘স্বপ্নঘর’। তাদরে স্বপ্নঘরে বছর না ঘুরতইে রোখসানার কোল জুড়ে আসে জমজ সন্তান। দুটোই ময়।েে ডাক্তার সাহবে বড় ময়রেে নাম রাখনে সূচনা। ছোটটার নাম রাখনে অনন্যা।

দুই ময়েে বড় হতে থাক।ে কন্তুি মনরে কোথায় যনে এক কমতি অনুভব করনে তারা। আমরা যত সভ্যই হই না কন,ে মানুষরে দুটো ধারার মধ্যে চরন্তনি সত্য এক প্রভদে লার্লন কর। মানুষি সৃষ্টকতাকেি ভাব,ে কন্তুি অধকাংশি মানুষ তাকে বুকে ধারণ করে না।

ডাক্তার সাহবরেে বংশ উজ্জ্বল করতে হব।ে ছলেে সন্তান না হলে সমাজরে অদৃশ্য কালো মঘে দূর করা যায় না। ইতহাসরেি পাতায় এমন কান্ত গল্প অনকে আছ।ে

তনি বছর পর ডাক্তার সাহবে আরো এক মর্য়রেে পতা হন।ি সৃষ্টকতারি এমন সদ্ধান্তিে ডাক্তার সাহবরেে বাস্তবকি দৃশ্যগুলো রঙনি হয়র্ না। যর্ আলোতে সৃষ্টকতোরি আশীবাদ খলো কর,ে সে আলো দখোর ক্ষমতা হয়তো তার ছলি না।

বছর না ঘুরতইে রোখসানা বগমে আবারো মা হতে চল।ে এবার প্রতীক্ষার পালা। যে করইে হোক অন্ধকার থকেে এবার পুত্র সন্তান ছনয়েিি আনতে হব।ে আলোকতি করে তুলতে হবে সামাজকি বন্ধন।

প্রতীক্ষার প্রহর শষে হলো। রোখসানা বগমে আবার জমজ সন্তান জন্ম দলন।িে একটা ছল,েে একটা ময়।েের্ কন্তু ভাগ্যির কে নমমিি পরহাস।ি জমজ সন্তানরে মুখ দখো হলো না তার। সন্তানরে মুখে তুলে দয়ো হলো না পৃথবীরি সবচয়েে পবত্রি দুধ। তারও অনকে আগইে তনিি চলে গলন।েে কাউকে কছুি না বলে নীরবে হাঁটলনে অজানার উদ্দশ্য।েে

রাতইে সুলতান খবর পায়। ফজররে নামাজরে পরপরই মরা বাড়তিে এসে পৗঁছোয় স।ে চৎকারি করে কাঁদছে অনাথ শশুগুলো।ি কোদাল হাতে সুলতান শুধু দাঁড়য়িে ছলি বাড়রি আঙ্গনায়।ি এত মানুষরে র্ভড়। এতি মানুষর আতনোদ সবই দখছেে স।ে

মানুষগুলো কাঁদছ।ে সুলতান তাকয়িে আছে তাদরে চোখরে দক।েি এদরে অনকইেে রোখসানা বগমরেে আত্মীয় না,র্ নই কোনেো রক্তর সম্পক।ে তারপরও তারা কাঁদছ।ে তাদরে কান্নায় কোনো কৃত্রমতাি নই।ে

সুলতান কোদাল হাতে বসে বসে তাকয়িে থাকে বাড়টারি দক।েি স্বপ্নঘরে জন্ম নয়ছেিে দুটো শশু।ি তারা জানে না তাদরে মা নই।ে মায়রে বুকরে উষ্ণতা তারা পায়ন।ি পায়নি পৃথবীরি সবচয়েে পবত্রি আদর। তবে কি এই শশুি দুটওি এক সময় অন্ধকার এক জগতে তার মায়রে ছায়া খুঁজব?ে কন্তুি এ শশুদুটরিি জন্য কোন স্মৃতি রখেে গলে তার মা? তাদরে জন্ম দতিে গয়িে নজরেি আত্মত্যাগরে কথা কভাবিে স্বরণ করবে তারা? নাকি দুজোড়া চোখ আজীবন খুঁজে বড়োবে মাকে না দখোর স্মৃত।ি মা বলে ডাকতে না পারার বদনোয় কি কাঁদবে নীল আকাশ?

সুলতান কবর খুঁড়তে শুরু করল। মাটটাি অনকে নরম। ছমছামি একটা কবর তরৈি করে ফললে নমষই।েিি এখানইে চরনদ্রায়িি শুয়ে যাবে একজন মা। শুধু দূরে বড় হতে থাকবে অনাথ শশুগুলো।ি

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28893260 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28893260 2009-01-05 15:25:01
কবিতা_ অদৃশ্য নিয়মাবলী যদিও তুমি আমাকে ভিক্ষুক বলতে পার না।
কারণ আমি অদৃশ্য শক্তির পৃষ্টপোষক, অথবা জল কামান
দাগাই অদৃশ্য লক্ষ্যে। অথচ লক্ষ্য ভেদ হয় না।
যদি মিসাইল ছুড়ি ইরাকে, না খেয়ে মরে সোমালিয়ার রাজপুত্র।
অবশ্য কালো মানুষের বেচে থাকার কি অধিকার।
ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে এখন আমরা অতি আধুনিক।
আমরা কৃতদাস প্রথা বাতিল করেছি। রেখেছি দাসত্ব।
নতুন নামে তোমাকে ক্লিওপেট্রা ডাকছি।
আমার ডাকার অধিকার থেকে নয়, ডাকছি অসংখ্য মাকড়সার
চোখ দিয়ে দেখে। কোথায় পালাবে তুমি?
আমি তো বলেছি নতুন নিয়মে তোমাকে মুক্তি দেব,
তোমাকে আর সতীদাহ প্রথার অনলে জ্বলতে হবে না।
কিন্তু তুমি জ্বলবে, অদৃশ্য এক দাহ্যের ছোবলে।
কি করব বল এমন রীতিই যে শিখে এসেছি আমি।
আমি তোমাদের রক্ত বিক্রি করে মঙ্গলে আলো জ্বালাতে চাই।
আমি তোমাদের চাবুক মেরে উড়াব শান্তির পতাকা।
আমি তোমাদের কালো চামড়ার চটি পড়ে হাটব চাঁদের দেশে
আর তোমরা বসে বসে ওটাকেই জলসানো রুটি ভাববে।
তোমরা অদৃশ্য শাসনের চাদর পড়ে বসে থাক। আগামি প্রজন্মকে
শিখিয়ে দাও আমার পরিচয়। নইলে,
নইলে আবারো আফগানে বোমা ফেলব। আর পুড়বে এবার
বঙ্গবাসী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28873472 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28873472 2008-11-24 12:32:59
কবিতা_ চাবুক তিনি কথা বলেন চোখ ছোট করে, এসেই বললেন,
এক গ্লাস ঠান্ডা জল চাই।
আমরা তো মাঝি। পানিতে গড়াগড়ি করতাম একদা।
এখনও মাঝিই আছি। তবে নদীর দৈর্ঘ্য তার হাসির উপর বড় হয়
বিস্তৃত লাল মাটিতে তিনি আর্সেনিক ঢেলে দিতে পেরেছেন।
আস্তে আস্তে তিনি হাসি কমাবেন_ এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

এখন মাঝি হিসেবে আমরা তাকে ইলিশ উপহার দিতে পারি।
নইরে ঘুমন্ত শিশু হত্যা করে তিনি পাঙ্গাস খাবেন।
তার চেলাদের নিয়ে ফ্লাগ মিটিং করবেন। আফসোস করবেন।
আমরা পত্রিকা পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলব। যাক এই বুঝি শেষ
তারপর আবারো তিনি জল চাইবেন।

আমরা যেদিন তলিয়ে যাব দাদা, সেদিনও কি আপনি জল চাইবেন?
নাকি আমার গলিত লাশের উপর জল ঢেলে
আপনি ঘুরাবেন অদৃশ্য চাবুক?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28872142 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28872142 2008-11-21 15:05:21
দশ মনিটি (গল্প) http://www.shamokal.com/details.php?nid=98666

একটা অজানা আলো এসে পড়েছে সেয়ন্তীর মুখে। আলোটা ঠিক তীব্র নয়। আবার ক্ষীণও নয়। তবে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
সেয়ন্তী একটা স্টেজে বসে আছে। তার গায়ে একটা লেহেঙ্গা। আধুনিক বিয়েতে এখন সবাই এমন লেহেঙ্গা পরে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিত্রক্রম হয়নি। যদিও প্রচণ্ড গরমে অস্থির সে। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই।
কমিউনিটি সেন্টারের লবিতে একদল শিশু প্রচণ্ড হই চই করছে। বড়রাও নানা আলাপে মত্ত। পাশাপাশি চলছে ফুল ভলিউমে গান। শ¦েন্ধর কল্ফি^নেশনে একটা অদ্ভুত নীরবতা ঘিরে ধরল তাকে। এত কোলাহল, অথচ সে চুপ করে বসে আছে। এসব কিছুই তাকে স্পর্শ করছে না।
সেয়ন্তী বসে আছে ঘোমটা টেনে। ঠিক ঘোমটা না। লেহেঙ্গার সাথে দেয়া ওড়না মাথায় ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন সে তার মেহেদি রাঙা হাত ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। যদিও তাকে ঘিরে স্টেজে বসে আছে তার বান্ধবীরা। কিন্তু কোনো কথা হচ্ছে না। বিয়ের পাত্রীর সাথে এত কথা বলাও যায় না।
সেয়ন্তীর বিয়েটা হচ্ছে পারিবারিকভাবে। ছেলেকে সে চেনে না। এনগেজমেন্টের দিনও ভালো করে মুখ দেখা হয়নি তার। অবশ্য ছবি দেখেছে। সানগ্লাস পরে গালদোলা একটা ছেলে তাকিয়ে আছে। মুখের অর্ধেকটা ঢেকে গেছে সানগ্লাসে।
সেয়ন্তীর ভাবনাটা আরো গাঢ় হয়ে এলো। এমন একটা ছেলেকে তার বাবা কেন পছন্দ করলেন? কী এমন আছে তার মধ্যে? ভালো একটা চাকরি করে এটাই কি মহৃল কারণ? কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারে না সেয়ন্তী।
যে ছেলেকে সেয়ন্তী কোনোদিন দেখেনি, তার আচার ব্যবহার কেমন তাও জানা নেই, তার সাথে কীভাবে থাকবে? এর চেয়ে সাজু ভাইকে তার পছন্দ ছিল। কিন্তু তাতেই বা কী আসে যায়। সে যে তাকে পছন্দ করত এটা তো কেউ জানে না। এমন কি সাজু ভাইও না।
কি সুন্দর করেই না কথা বলে সাজু ভাই। কথা বলার সময় তার চোখ দুটো হাসে। যে ছেলের চোখ হাসে তার চেয়ে সুন্দর কোনো পুরুষ কি পৃথিবীতে আছে? সেয়šøী চোখ বল্পব্দ করে দেখে। সাজু ভাইয়ের হাসি হাসি মুখ ভেসে ওঠে।
সেয়ন্তীর মনটা কেন জানি খারাপ হয়ে গেল। যে লোকটার সাথে তার বিয়ে হচ্ছে তার নাম লোকমান। পুরো নাম লোকমান হোসেন। কেমন যেন একটা ক্ষেত ক্ষেত নাম। এমন একটা মানুষকে সে স্ট^প্নেও কখনো ভাবেনি।
যেদিন আংটি পরাল সেদিন কেমন লোভীর মতো তাকিয়ে ছিল তার দিকে। যেন ক্ষুধার্থ এক বাঘ। কেবলই মাংস চাই। চাই রক্ত।
চোখের ভেতর নাকি মানুষের যাবতীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লেখা থাকে। সে বৈশিষ্ট্য পড়া যায় সহজেই। সেয়ন্তী কি সে বৈশিষ্ট পড়তে পেরেছে? সে তা জানে না। তবুও কেন জানি অজানা একটা ভয় তাকে ঘিরে ধরছে। অজ্ঞাত একটা কান্না এসে জমে যাচ্ছে চোখে।
সেয়ন্তী চোখ খুলে। তীব্র আলোটা আরো তীব্র হচ্ছে। কিছুতেই অজানা মানুষটাকে আপন করতে পারছে না সে। যে মানুষের মুখটাও চোখ বল্পব্দ করে দেখতে পারে না সে তার সাথে সারাজীবন কীভাবে থাকবে? বেশ কয়েকবার চোখ বল্পব্দ করে লোকমানের মুখটা ভাবার চেষ্টা করল। দেখতে পেল না। বরং ভেসে উঠল সাজু ভাইয়ের মুখ। তবে কি ভুল পথে যাচ্ছে সে?
বিয়ে মানে কী? বিয়ে মানে কি শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা? সামাজিক একটা বল্পব্দন, নাকি মনের গভীরের একটা উপলব্ধি। যদি মনের গভীরের উপলব্ধিই না থাকে তাহলে এমন বল্পব্দনের মানে কী?
অদ্ভুত কোলাহলটা আরো তীব্র হচ্ছে। অথচ এই কোলাহলের মাঝেই প্রচণ্ড এক নীরবতা সেয়ন্তীর মনে। যেন সুনসান নীরবতা তার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। এমন সুনসান নীরবতার মাঝে কোথাও সে লোকমানকে খুঁজে পায় না।
কেন জানি অল্পব্দকার জমে যাচ্ছে মনের গভীরে । মনে হচ্ছে মা-বাবার সাথে থাকা আনন্দময় জীবন দহৃরে চলে যাচ্ছে।
জন্মের পর সেয়ন্তীদের একটা কাঠের বাড়ি ছিল। দোতলা বাড়ি। কাঠের সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠতে হতো। দোতলার বেলকনিতে বাবার কোলে বসে বৃষ্টি পড়া দেখত। ঝলমল শ¦েন্ধ অলৌকিক এক শ্বন্ধ বাবার সাথে তার আত্মার বল্পব্দন গড়ে দিত।
আর মা! সে তো আছে সংসার নিয়ে। তারপরও চা বানিয়ে আনত বাবার জন্য। বাবা এক চুমুক খেয়ে চুমুক দিতে বলত সেয়ন্তীকে। শ্বন্ধ করে চুমুক দিলে মা ধমক দিতেন। বলতেন, মেয়েদের শ্বন্ধ করে খেতে নেই।
সেই মা-বাবা, সেই আপন মানুষ। সেই কাঠের ঘর, সেই আঙিনা, সেই ছোটবেলার বৃ®িদ্ব, সেই প্রাণঢালা গ্রেট মমতা নিয়ে বড় হওয়া সেয়šøীর জীবনের কোনো অংশই লোকমান ছুঁয়ে যায়নি। যেন শত ত্রেক্রাশ দহৃরের একটা অজানা মানুষ সে।
সেয়šøী চোখ খোলে। তার ভাবনায় ছেদ পড়ে। হুড় হুড় করে একদল মানুষ এসে দাঁড়ায় ¯েদ্বজের সামনে। তাদের মাঝে বাবাও আছেন। একটু দহৃরে চাচা দাঁড়িয়ে। তার পাশেই কাজী সাহেব। তার গা থেকে ভুর ভুর করে আতরের ঘ্রাণ বের হচ্ছে। জাফরানি আতর। ঈদের দিনে বাবাও এই আতর ব্যবহার করেন।
কাজী সাহেব সামনে এসে দাঁড়াল। তার পেছনে উকিল বাবা। কাজী সাহেব মিষ্টি কণ্ঠে বলছেনÑ
‘রহিমাগঞ্জ নিবাসী আলহাজ সোলায়মান হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মোঃ লোকমান হোসেনের সাথে বায়তুল নগর নিবাসী সালেহউদ্দিন ভূঁইয়ার একমাত্র কন্যা মোছাল্ফ§ৎ জান্নাতী বেগম সেয়ন্তীর দুই লাখ এক টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া, এ লাখ এক টাকা নগদ পরিশোধ করিয়া, এক লাখ এক টাকা বাকি রাখিয়া বিবাহ করিতে আপনি রাজি আছেন। বলুন কবুল।’
সেয়ন্তী মাথা নিচু করে বসে আছে। কাজী সাহেব বললেন, ‘বলুন মা কবুল, একটু জোরে বলুন।’
স্টেজের চারপাশে আবারো অদ্ভুত নীরবতা। সবাই কবুল শোনার জন্য অপেক্ষা করছে। সেয়ন্তী মাথা নিচু করে বসে আছে। তার ঠোঁট কাঁপছে। বুকের ভেতরের অচেনা সেয়ন্তী বারবার কেঁপে উঠছে। অজানা একটা মানুষকে বুকের একাšø আপন ঘরে আশ্রয় দিতে হবে। চোখ বন্ধ করতে করতে সেয়ন্তী বলল, কবুল।
আশ্চর্য! সেয়ন্তীর চোখের সামনে লোকমানের মুখটা ভেসে উঠল। তার মুখটা হাসি হাসি।
কাজী সাহেব আবারো মন্ত্রের মতো বিয়ে পড়ানোর নিয়ম পড়ে বললেন, বলুন মা কবুল।
সেয়ন্তীর বুকটা এবার আগের মতো কেঁপে উঠল না। যেন বুকের কোনো একটা অংশ হালকা হয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাত একটা সুখের বাউলা বাতাস বয়ে যাচ্ছে হƒদয়জুড়ে। সেই বাতাসে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। এলোমেলো সে বাতাসে সেয়ন্তীর চুল উড়ছে। একটু দহৃরে দাঁড়িয়ে লোকমান। হাসিমুখে তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সেয়ন্তী বলল, কবুল।
লোকমান হাত বাড়িয়ে সেয়ন্তীর হাত ছুঁয়ে ফেলল। আনন্দময় একটা কল্ফক্সন বয়ে যাচ্ছে তার হƒদয়ে। সে এখন স্বপ্ন জগতের মেঘের ভেলায় দাঁড়িয়ে। সেখানে দাঁড়িয়েই সেয়ন্তী স্পষ্ট শুনতে পেল কাজী সাহেবের কথা। তিনি তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞেস করলেন, বলুন মা কবুল।
সেয়šøীর চুল ছুঁয়ে একদল সাদা মেঘ উড়ে গেল। সে আস্তে আস্তে তার সব সত্তা ঢেলে দিল লোকমানের বুকে। যেন তার সব সত্তা এত বছর এমনই এক নীড় খুঁজে বেরিয়েছে। তার সত্তায় মাথা রেখেই সেয়ন্তী তৃতীয়বারের মতো বলল, কবুল।
সেয়ন্তীর মুখটা আরো উজ্জ্বল হতে লাগল। যেন আকাশ গলে জোছনা পড়ছে। সেই জোছনায় স্নাত হচ্ছে তার শরীর। আসতে আসতে চোখ খুলে সেয়ন্তী। সে এখন অন্য মানুষ।
লোকমান এখন কোথায়? ও নিশ্চয়ই অন্য স্টেজে বসে আছে। মানুষটাকে ভালো করে দেখা হয়নি। অথচ অনেক কাছের মানুষ মনে হচ্ছে সেয়ন্তীর। যেন তার অস্তিত্বের জন্মই হয়েছে শুধু তার জন্য।
আবারো চোখ বল্পব্দ করল সেয়ন্তী। লোকমানের হাসি হাসি মুখ ভেসে উঠল। এই মানুষটা কেন এত দিন এত দূরে ছিল। ভেবে পায় না সেয়ন্তী।

কালের খেয়া, সমকাল (২৩-১০-২০০৮) লিংক

http://www.shamokal.com/details.php?nid=98666
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28859043 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28859043 2008-10-24 13:53:16
স্তন ক্যান্সার সাদা শাড়ী উড়ে অন্ধকারের আলোয়
চেনা নয়, জানার বাইরে সে
কেউ জানে না, জানে শুধু হুতুম পেঁচার দল।
নাগিনীরা আজো কাটবে তাকে
ছোয়াহীন আজব দংশনে।

নিরবে আসে সে, নিরবে চলে যায়,
আমি মুখ ঢাকি, ঢাকে বেহুলাও
অন্ধকার পুরীতে বসে সে আর আমি
আর বসে নাগিনী রূপী স্তন ক্যানসার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28858125 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28858125 2008-10-22 14:20:38
বির্তকিত বর্ণমালা অতচ আমরা একই বাতাসে নি:শ্বাস নেই।
একইরকম তোমার আমার স্বপ্নপোকা, ঘোরে, উড়ে
আঘাত পেলে জোছনা দেখে।
পৃথিবী অন্ধকার করে জোনাকী হয়।
এমনই নিয়মে সবকিছু। অথচ দেখা হয় না
অযুত নিযুত বছর।

চারযুগ পর তোমাকে তবে আবারো বলব,
আবারো দেখা হবে। আত্মার গভীরে
অন্য কোন ভয়াবহ কষ্টের দেশে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28857745 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28857745 2008-10-21 14:58:09
ঈদ নিয়ে আমার একটা বস্তাপচা লেখা
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845198 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845198 2008-09-19 13:04:09
ঈদ নিয়ে আমার একটা বস্তাপচা লেখা
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845195 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845195 2008-09-19 12:58:38
প্রিয়জন পড়তে
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845191 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28845191 2008-09-19 12:53:46
প্রিয়জন (সংখ্যা - ১৮৫) Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28839080 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28839080 2008-09-05 16:05:02 ফ্যাশন হাউজ কাকতাড়ুয়ার ফটোসেশন http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28836619 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28836619 2008-08-30 12:06:38 ফ্যাশন হাউজ সূতির ফটোসেশন সূতি]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28836618 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28836618 2008-08-30 12:03:14 মন খারাপ কারণ একটু আগে আমার একটা স্বপ্ন ভঙ্গ হলো।

নতুন স্বপ্ন নিয়ে বসে পড়ি...
স্বপ্ন ভাঙ্গার আশায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28831795 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28831795 2008-08-17 12:57:33
সমস্যা http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28819158 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28819158 2008-07-11 15:07:12 কবিতা_তুমি ভালো আছো?
বহুদিন দেখা হয় না। একটা জটিল অসুখে ভুগছি।
একটা হোমোপ্যাথীর বড়ি নিয়ে বসে ছিলাম লাউগাছের নিচে।
এখন তো আমি গাও গেরামের বানিন্দা। দুদিন পর তোমাকে ভুলে যাব।
তোমাকে ভোলার জন্যই ফিরে এসেছি।

তুমি ভালো আছো?

আমার সবই তো দেয়ালে পোস্টার করে দিয়েছি।
এখন পোড়ানোর মতো কিছু নেই বলেই পরাজিত। অথবা আমি
পরাজিত হবার জন্যই গিযেছিলাম তোমার কাছে।
রাশি রাশি স্বপ্ন নিয়ে এখনো তুমি দাড়িয়ে। অথবা বুকের গভীরে
একটা উকুনের মতো ঘোরাঘুড়ি তোমার।

তুমি ভালো আছো তো?

মনে পড়ার কথা না। তারপরও আজকের এই বর্তমান অতীত হয়।
স্মৃতির দেশে জায়গা বদলে দেয়। আযনা ভাঙলেও প্রতিবিম্ব মুছে যায় না।
টুকরো হযে যায় মাত্র।

তুমি ভালো আছো তো?

আমি পথিক মাত্র। বেঁচে আছি এখেনো।
পরাজিত হলেও বেঁচে থাকব না, তা তো বলিনি।

তুমি ভালো আছো তো?
সত্যিই ভালো আছো তো?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28814239 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28814239 2008-06-27 13:46:31
ছোটদের গল্প_ ঘুম পাহাড়ের আজব পাখি গত রাত থেকে মুন্নার বাবা গালফুলে বসে আছেন। বারান্দার এমাথা ওমাথা হাঁটছেন আর একটু পরপর বলছেন, ‘দুটা গরু কিনে দেই। হালচাষ কর।’
কিন্তু মুন্নার কী দোষ! ওর পড়তে ভালো লাগে না। ক্রিকেট ব্যাট হাতে দোলপাড়ার মাঠে খেলতে ভালো লাগে, ভোলানাথ পোদ্দারের পেয়ারা বাগানে পেয়ারা চুরি করতে ভালো লাগে, আকাশে ঘুড়ি উড়লে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে।
কাটাকাটিতে ঘুড়িগুলো কেটে যায়। ওলটপালট হয়ে উড়ে কোথায় যেন পড়ে। মাঝে মাঝে তাই ওর খুব ঘুড়ি হতে ইচ্ছে করে। একদিন সেও উড়ে চলে যেত অনেক দূরে।
স্কুলে পণ্ডিত স্যারের বেত খেতে ভালো লাগে না। বাবার গালি, বড় বোন সম্পার হাসাহাসি তার একেবারেই অসহ্য। কিন্তু কিছুই করার নেই তার।
নীল রঙের শার্টটা গায়ে দেয় মুন্না। মন খারাপ থাকলে তার পল্টু মামার কাছে যেতে ভালোলাগে। তিনি খুব সুন্দর করে গল্প বলেন। শুনতে ভালো লাগে।
পল্টু মামা হলো রোহিতের ছোট মামা। সবসময় চিলেকোঠায় শুয়ে থাকেন। মাঝে মাঝে মুন্নার মনে হয় পল্টু মামা তার নিজের মামা হলো না কেন? তার কী মজা! কোন পড়া পড়তে হয় না। সম্পাদ্য আঁকতে হয় না। উপপাদ্য মুখস্ত করতে হয় না। সারাদিন কেবল চিলেকোঠায় শুয়ে থাকা, কত মজা! এ জন্যও তার মন খারাপ হয়।
শুক্রবার বিকেলে পল্টু মামা সবাইকে মজার মজার গল্প শোনান। আজ শুক্রবার না। তবুও পল্টু মামার চিলেকোঠায় ঢুকেই মুন্নার চক্ষুসি'র হলো। কারণ রোহিত, টিপু, পলাশ, লিখন, রেনু, সোনিয়া, সুমি সবাই গোল হয়ে বসে আছে। পল্টু মামা লাল রঙের একটা মাফলার গলায় পেঁচিয়ে খুকখুক করে কাশছেন। মুন্নাকে দেখেই বললেন, ‘কিরে ফেল্টু নাম্বার টু। খবর কি?’
মুন্নার মন খারাপ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত কিনা পল্টু মামাও তাকে ফেল্টু বলল। চোখ মুখ কালো করে ফেলল সে। পল্টু মামা ভাব বুঝে বলল, ‘চিন্তা করিস না, ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস।’
মুন্না পিছনের দিকটায় বসে পড়ল। পল্টু মামা বলল, ‘কাছে এসে বস। তোদের আজ মজার একটা গল্প বলব। একদম সত্য গল্প। রোজ রোজ মিথ্যা গল্প বলতে ভালো লাগে না।’
রোহিত বলল, ‘মামা ভূতের গল্প নাকি?’
‘ধুত বোকা! ভূত বলতে কিছু আছে নাকি? ভূত হচ্ছে কাল্পনিক ভয়ের জিনিস। কুসংস্কার। তোরা কেউ ভূত বিশ্বাস করবি না, বুঝলি?’
সবাই একসাথে ‘হ্যাঁ’ বলে চিৎকার করে উঠল।
পল্টু মামা গল্প বলতে শুরু করলেন, ‘একদম সত্যি গল্প। তখন আমি তোদের সমান। দাশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস এইটের ছাত্র। দাশপুর গ্রামে দেখন ফকির নামে আমার এক ফুপা ছিলেন। খুব ধারালো বুদ্ধির মানুষ। একদিন তিনি খুব সকালে মসজিদের সামনের তালগাছে উঠে পড়লেন।’
‘কেন মামা?’ - রেনু প্রশ্ন করল।
‘সেটাই তো বলছি। গল্পের মধ্যে কথা কম বলবি। গল্প শুনতে হয় মনোযোগ দিয়ে। বুঝলি?’
‘হ্যাঁ মামা।’
‘শোন তবে। দেখন ফকির যে তালগাছটায় উঠেছিলেন ঐ তালগাছে ছিল একটা শকুনের বাসা। শকুন-শকুনী তখন বাসায় ছিল না। তবে বাসায় ছিল দুটি ডিম। দেখন ফকির ছিলেন চালাক। তিনি তখনই ডিম দুটো পকেটে ভরলেন। তারপর গাছ থেকে নেমে সোজা চলে গেলেন রান্নাঘরে। রান্নাঘরে তার বউ ধানসিদ্ধ করছিল। তিনি ডিম দুটো সিদ্ধ করতে বললেন।’
‘হায়, হায়, তাহলে ডিম ফুটবে কী করে?’- পলাশ বলল।
পল্টু মামা কিছু বললেন না। আবার গল্প বলতে শুরু করলেন।
‘দেখন ফকিরের বউ ডিম সিদ্ধ করে ফেলল। তিনি ডিম দুটো নিয়ে আবার তালগাছের দিকে ছুটলেন। ভাগ্য ভালো তখনও শকুন-শকুনী ফেরেনি। তিনি দ্রুত তালগাছে উঠে পড়লেন। ডিমগুলো যে রকম ছিল ঠিক সেভাবে রেখে চলে এলেন।’
গল্পটা এতটুকু বলতেই ছোটমনি সোনিয়া কেঁদে উঠল। কেঁদে কেঁদে বলল, ‘তাহলে এখন কি হবে পল্টু মামা? ডিম দুটা তো আর ফুটবে না।’
পল্টু মামা বলল, ‘কাঁদছিস কেন রে বোকা। গল্পটা শোন। ’
সোনিয়া চোখ মুছতে মুছতে বলল, ‘ঠিক আছে মামা বলো।’
‘ডিম দুটো সিদ্ধ থাকায় কিছুতেই ফুটে বাচ্চা হচ্ছিল না। শকুনীটা সারাদিন ডিমে তা দিতে থাকে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। অবশেষে শকুন একদিন উড়াল দিল হিমালয়ের ঘুম পাহাড়ের দেশে। ওখানে থাকে শশুক পাখি।’
‘শশুক পাখি দেখতে কেমন? - রোহিত প্রশ্ন করে।
‘শশুক পাখি দেখতে তেমন সুন্দর না। তবে অদ্ভুত। ওর শরীরে কোন পাখা নেই। সারা শরীর হাড্ডি দিয়ে তৈরি। সে চাঁদের আলো খায়। রাতে যখন চাঁদ ওঠে তখন শশুক পাখি পা দুটো উপর দিক দিয়ে উল্টা হয়ে চাঁদের আলো খায় । তারপর উড়াল দিয়ে আকাশের অনেক উপরে উঠতে থাকে। যখন উপরে ওঠা শেষ হয় তখন শরীর ছেড়ে দেয়। আকাশ থেকে শশুক পাখি ধাম করে মাটিতে পড়ে যায়।’
সুমি চোখ বড় বড় করে বলে, ‘তাহলে তো সে মারা যাবে।’
‘আরে না। এটাই হলো শশুক পাখির বৈশিষ্ট্য। প্রতি রাতে একবার সে এ রকম আকাশে উঠে শরীর ছেড়ে দেয়। তারপর ধাম করে মাটিতে পড়ে যায়। হাড্ডিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে চারদিকে। কিছুক্ষণ পর হাড্ডিগুলো আবার আস্তে আস্তে জোড়া লেগে যায়। শশুক পাখি তখন আবার চাঁদের আলো খায়।’
‘এমন কোন পাখি হয় নাকি?’ - মুন্না বলল।
‘হয় হয়। সেই পাখির কাছেই শকুন এক রাতে গিয়ে পৌঁছাল। গভীর রাতে শশুক পাখি আকাশে উঠতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর ধাম করে শশুক পাখি মাটিতে পড়ে গেল। শকুন তখন ঝটপট ওখান থেকে একটা হাড্ডি ঠোঁটে নিয়ে রওনা দিল।
তিন দিন তিন রাত পর শকুন ফিরে এলো শকুনীর কাছে। তারপর হাড্ডিটা সেদ্ধ ডিমের সাথে ছুঁইয়ে দিল। তার কয়েক দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলো।’
‘তার মানে হাড্ডিটা জাদুর।’ - রেনু বলল।
‘জাদুর ঠিক না। তবে ঐ হাড্ডির এমন গুণ যে সিদ্ধ ডিম থেকেও বাচ্চা বের করতে পারে।’
‘তারপর কি হলো পল্টুমামা?’
‘তারপর দেখন ফকির একদিন সুযোগ বুঝে আবার তালগাছে উঠল। সে জানত শকুন ঘুম পাহাড়ের দেশ থেকে শশুক পাখির হাড্ডি নিয়ে আসবে। সে হাড্ডিটা চুরি করে বাড়ি আনল।’
‘হাড্ডি চুরি করে লাভ কি?’ - সোনিয়া বলল।
‘লাভ হলো ঐ হাড্ডি হাতে নিয়ে একটা মন্ত্র পড়তে হবে। তাহলে মনে মনে যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়।’
‘মন্ত্রটা কি মামা?’ - সুমি চোখ বড় বড় করে ফেলে।
ইস্টি খিস্টি খুট
হাড্ডি খুম্মা বুট
ঝটপট ছুট।
রোহিত কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলল, ‘আজগুবি গল্প বলবে না তো মামা। আমরা এখন ছোট নই।’
‘কি বললি তুই? আমি আজগুবি গল্প বললাম।’
‘আজগুবি নাতো কী?’
রোহিত নাক শিকেয় তুলল। এমন সময় পল্টু মামা পকেট থেকে হাড্ডি বের করে বলে, ‘শোন এটাই সেই শশুক পাখির হাড্ডি। দেখন ফকিরের কাছ থেকে আমি কিনেছিলাম। এবার বিশ্বাস হলো তো?’
সবাই ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না এটাই শশুক পাখির হাড্ড কি না। হাড্ডিটা সামান্য নীল নীল। দেখেই বোঝা যায় অনেক পুরনো দিনের। সোনিয়া বলল, ‘পল্টু মামা আমি একটু দেখি।’
‘হ্যাঁ দেখ।’- বলেই হাড্ডিটা সোনিয়ার হাতে দিল। সুমি হুমড়ি খেয়ে পড়তে লাগল। রেনু বলল, ‘দেখছিস কেমন জানি একটা অপরিচিত গন্ধ।’
লিখন কিছুটা অনিচ্ছা নিয়েই বলল, ‘হ্যাঁ রে তাই তো।’
মুন্না বলল, ‘এটা কি এখনও আগের মতো কাজ করবে?’
পল্টু মামা বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘আলবত করবে। আর শোন ভাবছিলাম হাড্ডিটা রোহিতকে দিব। কিন্তু ও আমার মন খারাপ করে দিয়েছে। তাই ওটা মুন্নার কাছে থাকবে। তোরাও দেখতে পারবি। শোন মুন্না মন্ত্রটা মনে আছে তো?’
মুন্না মাথা ঝাঁকায়। পল্টু মামা বলল, ‘বল দেখি শুনি।’
‘ইস্টি খিস্টি খুট, হাড্ডি খুম্মা বুট, ঝটপট ছুট।’
‘এইতো গুড ছেলে। আচ্ছা এখন তোরা যা। এমনিতেই আমার খুব মাথা ধরেছে।’
সবাই পল্টু মামার পরিবর্তে এখন হাড্ডি নিয়ে ব্যস্ত। ব্যাপারটা বিশ্বাসও করতে পারছে না। আবার অবিশ্বাসও করতে পারছে না। বিশেষ করে সোনিয়ার মধ্যে এক রকম উত্তেজনা কাজ করছে। মুন্না হাড্ডিটা সাবধানে পকেটে রাখল।
আজ বাসায় ফিরতে বেশ দেরি হয়ে গেছে মুন্নার। বড় মা নিশ্চয়ই ঝাঁটা হাতে বসে আছে। চিন্তায় বুড়ো মানুষের মত ভ্রূ কুঁচকে গেল তার। ভয় নামক আদিম পশুটা বারবার ধাক্কা দিচ্ছে মনের গভীরে। তবে ভয়কে তেমন পাত্তা দিল না। আস্তে আস্তে বাড়ির সামনের নারকেল গাছটার নিচে এসে দাঁড়ায় সে।
ঘড়ির কাঁটা ৮টা পার করেছে। আটবার টি টি শব্দ হলো। মুন্নার কলিজার এক অংশ ধক করে উঠল। হঠাৎ শশুক পাখির হাড্ডিটার কথা মনে পড়ে যায়। পল্টু মামা বলেছিল ওটাতে নাকি মনের আশা পূর্ণ হয়। হাড্ডিটা বের করতেই চিকচিক করে উঠল। কেমন যেন একটা অপরিচিত আলোক রশ্মি বের হচ্ছে ওটা থেকে।
মুন্না মনে মনে বলল, ‘ইস্টি খিস্টি খুট, হাড্ডি খুম্বা বুট, ঝটপট ছুট।’ এবার সে বাসায় ঢুকল। আড় চোখে বড় মার দিকে একবার তাকাল। বড় মা বলল, ‘এই মুন্না ঝন্টুকে নিয়ে খেতে যায়। ইলিশের ডিমভাজা গরম গরম খেতে হয়।’
মুন্না খুব অবাক হয়ে গেল। হাড্ডিটা তো তাহলে সত্যি সত্যি বেশ কাজের। মনে মনে দুবার পল্টু মামাকে ধন্যবাদ দেয় সে। রাতে ঘুমোবার আগে সে হাড্ডিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। ভাবে এই হাড্ডিটা এত দিন কেন তার কাছে ছিল না? তাছাড়া এদেশে দুএকটা শশুক পাখি থাকলে কি খুব ক্ষতি হতো? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
দুই
আজ মুন্নার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে। সকাল থেকেই মনটা কেমন জানি ধুঁক ধুঁক করছিল। যদিও পরীক্ষাটা বেশ ভালোই হয়েছে। তবুও স্কুলের মাঠটা পেরুতেই কেমন জানি দুর্বল লাগছিল তার। কিন্তু একি! এখন সে একি শুনছে? ব্যাপারটা তার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না।

মুন্না ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছে। ফজিবর স্যার দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। ওর কিছুতেই ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না। পড়তে বসার সময় প্রতিবারই সে হাড্ডিটা হাতে নিত। মন্ত্র পড়ত । মনে মনে বলল, ‘খোদা এবার যেন আমি অংকে পাশ করি।’ কিন্তু হাড্ডিটা এমন কারেন্টের মতো কাজ করবে সে ভাবতেই পারেনি। তার বিশ্বাসই হচ্ছে না।
বিকেলে সব বন্ধু এলো মুন্নার সাথে দেখা করতে। সবাই মিলে গেল পল্টু মামার চিলেকোঠায়। পল্টু মামা পিঠে তেল মালিশ করছেন। তিনি বিরক্ত মুখে খেকিয়ে উঠলেন, ‘এ্যাই ভাগ, সব ভাগ।’
সোনিয়া এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘মামা মুন্না পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছে।’
পল্টু মামা হাসলেন। মুন্না বলল, ‘আসলে মামা ভালো রেজাল্ট হয়েছে শশুক পাখির হাড্ডির জন্য। মন্ত্র পড়ে পড়তে বসতাম।’
পল্টু মামা এবার জোরে হেসে উঠলেন। রেনু বলল, ‘মামা হাসছ কেন?’
‘শোন ওটা আসলে কোন শশুক পাখির হাড্ডি না। ওটা একটা সাধারণ হাড্ডি। মুন্নার পড়াশুনায় মনোযোগ ছিল না। আত্মবিশ্বাসও ছিল কম। ও ভাবত অংক ও পারবে না। তাই ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই ওই হাড্ডি দিয়ে গল্প বানিয়েছিলাম। আসলে ভালোভাবে পড়াশুনা করলেই ভালো রেজাল্ট করা যায়। বুচ্ছিস রে বোকার দল?’
‘ওটা তাহলে কিসের হাড্ডি?’- মুন্না প্রশ্ন করে।
‘জানি না। একদিন রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিলাম।’
কথা শেষ করে পল্টু মামা মুন্নার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। মুন্না চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। আসলেই শশুক পাখি বলে কিছু নেই- ব্যাপারটা ভাবতে তার কষ্ট হচ্ছে।
সে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে...
আহমেদ ফারুক/এবি/১০ মার্চ

http://kidz.bdnews24.com/golpo.php?golpoid=1
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28780810 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28780810 2008-03-20 12:56:57
কাক বই র্সম্পকে কবি আসাদ চৌধুরীর লেখা পড়ুন
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28778266 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28778266 2008-03-11 14:03:48
কাক গল্পের বইয়ের একটি গল্প_জোছনা ছুঁয়ে যাই তবু স্বাভাবিক নিয়মেই বাঘা ঝাড়– হাতে বের হয়। পার্কের গেট ঝাড়– দেয়াই তার দৈনন্দিন কাজ। এতে যা আয় হয় তার সবটুকুই খরচ হয় লাল পানিতে। একটা অদ্ভুত নিয়মের মাঝে জীবনের চলাচল।
বাঘা পড়াশুনা জানে না। মেথর পরিবারে তার জন্ম। ঝাড়ুদার হিসেবে কেটে গেছে ২০ বছর। একসময় সে ডাকাতি করত। তখন রমরমা যৌবন। জীবনের কোনো দিক নেই। মা-বাবা ছিল না তার। নেড়ী কুত্তার মতো গড়াগড়ি করে যৌবনের রক্তে পড়েছিল। গরম রক্ত। টগবগে তেজের রক্ত।
ডাকাতি করে তিন বছর। কাঁচা টাকায় যৌবনের তেজ আরো বাড়ে। নারীর সস্তা শরীরে তেজ কমে। যাত্রা দেখে অলৌকিক সুখ জেগে ওঠে। রঙের পৃথিবীতে রঙের জীবন। অথচ একদিন তার হাত দিয়েই খুন হয় মানুষ। তারও খুচরা পয়সার মতো ছড়ানো বিবেক আছে। সেই ছড়ানো বিবেক ভাটিয়ালী গান ধরে। মানুষ-অমানুষ পার্থক্য শেখায়। কিন্তু রক্তে যদি জোঁক লেগে যায়, তবে সে রক্তও চুষে নেয় অজ্ঞাত রাক্ষস।
বাঘার জীবন বিচিত্র কি না জানা নেই। তবে ডাকাতি মামলায় জেল হয় তার। চৌদ্দ শিকের চৌদ্দ ফুট ঘরে কাটে ১২ বছর। রক্ত চুষে অজানা রক্তচোষা। ফ্যাঁকাশে জীবন নিয়ে ১২ বছর কাটে। তারপর? তারপর সেই লাল রক্তই খেলা করে শিরা-ধমনীর জালিকায়, নয় দরজার দেহে। কিন্তু রক্তের রঙ কখন যে লাল থেকে হলুদ হয়ে গেছে তা কে জানত?
৫৬ বছরের বাঘা এখন ঝাড়–দার। নিয়মানুযায়ী জীবনের পাপ পরিষ্কার করতে সে পারেনি। কিন্তু রোজ রাস্তা পরিষ্কার করে সে। তার জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ শহরে তার মতো উদ্দেশ্যহীন মানুষের সংখ্যাও অনেক। কিংবা কে জানে হয়তো অনেক কম।
সেই বাঘা, ৫৬ বছরের বাঘা, অন্ধকারেই দাঁড়িয়ে যায় ডাস্টবিনটার পাশে। অনেক নোংরা আবর্জনা পড়ে আছে ওখানে। হাজার মানুষের অপ্রয়োজনীয় জিনিস। সেখানেই পড়ে আছে একটা শিশু। মানব শিশু। জন্মপরিচয়হীন একটা শিশু। এই শিশুর জন্মপরিচয় কেউ জানে না। এমনকি বাঘাও জানেন না। জানার কথাও নয়। তার বুদ্ধির দৌড়ে এ পৃথিবীর নিষ্ঠুর এ ঘটনা অন্ধকারেই থেকে যাবে। সে কখনো জানবে না এ শিশুর পরিচয়। সে জানে না এ শিশুর বাবা কে? মা কে?
হ্যাঁ, শিশুটির মা একজন পতিতা। কিংবা আরো নিকৃষ্টভাবে বললে বেশ্যাই বলতে হয়। কিন্তু এ শহরে বেশ্যার সংখ্যাও তো কম নয়। তবে এ শিশুর মা কোন বেশ্যা?
বাঘা শিশুটির বেশ্যা মাকে চেনে না। চেনে এই শহরের ভদ্রবেশী মুখোশধারী মানুষগুলো। ওই তো বাঘার ঝাড়– দেয়া পরিষ্কার রাস্তায় ওরা জুতা পরে হেঁটে যায়। কিংবা লাল গাড়ি হাঁকিয়ে হর্ন দেয়। হ্যাঁ, কালো কোট গায়ে দেয়া তার। জাপানি টাই গলায়। দামি ডলারে কেনা প্যান্ট। ওই প্যান্টে একটা জিপার আছে। দুটো সময়ে এরা চট করে জিপার খোলে। দামি টাইলসে ঘেরা টয়লেটে আর অন্ধকারে এই শিশুর মায়ের সামনে।
এসব ভদ্রলোক এই শিশুর বাবা। শিশুর মা নিজের পরিচয়ের জন্য ছোটেনি। ছুটেছে পেটের জন্য। পেটের ুধার জন্য। সেখানেই তার অস্তিত্বের জন্ম। তার মা জানত না অস্তিত্বেরও একটা অধিকার থাকে। কিন্তু ভদ্রলোক খদ্দের তার। একটুু এদিক-ওদিক হলেই ইংলিশ গালি হজম করতে হবে। অন্ধকার যে বয়ে যায়। সূর্যের আলো ফোটার আগেই পেটের চিৎকার থামাতে হবে।
প্রচণ্ড ব্যথায় সারারাত কেটেছে শিশুটির মায়ের। কত ভদ্রলোক পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে। ফিরেও তাকায়নি। কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বলেছে, জারজ পেট। লাথি মার। অথচ ওই জারজ পেটের জন্ম দিতেই ভদ্রলোক জিপার খুলেছিলেন। থু, ভদ্রলোক, থু।
শিশুর মায়ে ব্যথাটা প্রাকৃতিক নিয়মের। সন্তান জারজ হোক অথবা নিয়মতান্ত্রিক। মাতৃত্বের নিয়মে কোনো পরিবর্তন নেই। আকাশ-পাতালে ওলট-পালট করে এ শিশুর জন্ম। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। তার মতো অনেকের জন্য কত ঢোল, বাদ্য বাজনা। কত অপেক্ষা, কত স্নেহ, মায়া, মমতা। অথচ এ শিশুর জন্য কিছুই অপেক্ষা করে নেই। কোন আকাশের স্বপ্ন নিয়ে এলো তবে শিশুটি?
শিশুর মা সারারাত অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন পার্কের নাম না জানা গাছের নিচে। আজ তার শরীর ছুতে কেউ আসেনি। রক্তমাখা শরীর ভদ্র কুত্তা যে চাটে না। এটা নিয়ম, নির্মম সত্য, নিষ্ঠুর নিয়ম। এটি ভাঙবে কে? রাত গভীর হয়। দ্বিপ্রহরে ডেকে ওঠে শহুরে ডাহুক। নিয়ম করে আকাশ থেকে ঝড়ে পড়ে একটা তারা। সবাই ঘুমিয়ে। এমনকি বাঘার মতো নিষ্ঠুর ডাকাত কিংবা ঝাড়–দাররাও ঘুমিয়ে অতল। অথবা গভীর আবেশে একদল সুখী মানুষের নিদ্রা। কিংবা নতুন বউয়ের আঁচলে মুখ ঢেকে গরম নিঃশ্বাস ফেলে নতুন জামাই।
কেউ খবর রাখেনি। বাতাসের গন্ধ ভারী হয়ে ওঠেনি। শুধু দূরে দুটো নেড়ী কুত্তা ডেকে উঠেছিল। কিংবা কুণ্ডুলী পাকানো জংলায় নিবু নিবু আলোয় দুটো জোনাকি উড়ে গিয়েছিল। আরো শুদ্ধ করে বললে বলতে হয়, শুধু সভ্য মানুষকে পাহারা দিতেই দুটো প্রহরী বাঁশি বাজিয়েছিল। সেই বাঁশির শব্দে সৃষ্টিকর্তার ঘুম ভেঙেছিল কি না জানা নেই। তবে শিশুর কান্না শুরু হয়েছিল তাতে। আকাশভেদী কান্না। কবিতার ভাষায় করুণ সুরের মূর্ছনা। অথবা কবির ভাবুক দৃষ্টির ঝাপসা ক্রন্দন।
শিশুর কান্নায় নুয়ে পড়া গাছের পাতা ঝড়ে পড়ে। আকাশের শিশির ঠাণ্ডা থেকে গরম হয়। ঝি ঝি পোকার ডাক থেমে যায়। আস্তে আস্তে জ্ঞান ফিরে মায়ের। এ সমাজের চোখে অপবিত্র শরীর থেকে ঢেলে দেন পবিত্র দুধ। এটিই প্রথম, এটিই শেষ পবিত্রতা। মা উঠে বসেন। অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখেন অস্তিত্বের চোখ। কী শান্ত! কী নীরব সে চোখ! হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেন না তিনি। তার অপবিত্র হাতের ছোঁয়ায় অমঙ্গল লেখা আছে। কিন্তু তাতেই কি মুক্তি মিলবে শিশুর?
শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করেন মা। তারপর অন্ধকারে বুকে পাথর বাঁধেন। যদি তার পরিচয়ে এ শিশু বেঁচে থাকে, তবে তা মৃত্যুর চেয়েও অধিক। তাই রেখে আসেন ডাস্টবিনে। যদি ওখান থেকে কেউ কুড়িয়েও পায়। যদি একটা মিথ্যা পরিচয়েও সে বড় হয়, তবুও এ পরিচয়ের চেয়ে তা হবে সুখের।
ডাস্টবিনে শিশু কাঁদে না। সে দেখছে তার অপবিত্র মা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে দূরে। সারা জীবনের জন্য। অন্ধকারে মা হারিয়ে যান।
মা, শিশুটির মা, একবারও ফিরে তাকায়নি পেছনে। পেছনে তাকালেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। পেছনে তাকালে সমাজের মুক্তি হবে, কিন্তু মনুষত্বের মৃত্যু ঘটবে। তা কি হয়? একটি অপবিত্র মায়ের কি সে সাহস আছে? কে আগে, সমাজ না মনুষত্ব? আমরা কেউ জানি না।
শিশুর মা অন্ধকারে ঝুলে থাকে রশিতে। পরদিন কী হবে এ পৃথিবীতে। আত্মহত্যার দায়ে সৃষ্টিকর্তা তাকে কোন দোজখে পাঠাবেন? নাকি বিসর্জনের পুরস্কার হিসেবে পাবেন জান্নাতুল ফেরদাউস? নাকি পাপী শরীর পুড়িয়ে দিবে অযুত-নিযুত আগুনের কণা?
পর দিন হয়তো কিছুই হবে না। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবে শিশুর মায়ের গল্প শেষ হবে। অথবা সমাজের আপদ বিদায় হয়েছে বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব আমরা। নাহ! এ পৃথিবী চলবে স্বাভাবিক নিয়মে। সূর্য উঠবে, পাখি ডাকবে। যান্ত্রিক নগরে যান্ত্রিক মানুষের কোলাহল বাড়বে। কার এত নষ্ট সময় আছে? কে ভাববে এসব সস্তা ঘটনা নিয়ে?
এমন অনেক কিছুই হতে পারে। কত গল্প বৃষ্টির মতো পড়ে এ শহরে। ছুঁয়ে দেখার সময় কোথায়? কিন্তু এসব গল্পের কোনোটিই জানে না বাঘা। বরং তার দৃষ্টি স্থির হয়ে যায়। তবে কি তার মতো হতভাগ্য অভাগা আরো একটি জন্ম নিল?
এ পৃথিবী শিশুকে কী দেবে? সে বড় হবে। তীব্র ঘৃণার সমাজ তার মুখে থু থু ছিটাবে। নাহ! এমন নিষ্ঠুর পরিণতির দিকে শিশুকে টেলে দেয়া যায় না।
বাঘার চোখ চকচক করে ওঠে। তার হত্যাকারী হাত নড়ে ওঠে। এখনি এ শিশুকে মুক্তি দিতে হবে। এ সমাজের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে তাকে। সভ্য মানুষের থু থু তার পবিত্র শরীরে পড়ার আগেই তাকে চলে যেতে হবে।
বাঘা শিশুকে কোলে তুলে নেয়। আস্তে আস্তে দু’হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে। হাতের রগ শক্ত হয় তার। পাপী রক্ত চিৎকার করে ওঠে।
গভীর অন্ধকার থেকে আলো বেরিয়ে আসছে। আস্তে আস্তে অন্ধকারের পরাজয় ঘটছে। হাত দুটো অবশ হয়ে আসছে তার। পাপী রক্তের ডাক কি তবে থেমে গেছে।
ভোরের আলোয় চকচক করছে শিশুর চোখ। শিশুটি হাসছে। বাঘা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। বহু বছর পর তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। কে জানে হয়তো এ অশ্রু পবিত্র। ভোরের আলোয় সে অশ্রু কি শিশুটি দেখছে?
এমন পবিত্র আলোয় কোনো পবিত্র শিশুকে হত্যা করা যায় না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28778001 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28778001 2008-03-10 15:02:02
গল্প_শ্রদ্ধাঞ্জলী ব্লগের বন্ধুরা গল্পটি পড়ে দেখতে পারেন।

অন্যদিন, ১-১৫ মার্চ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28777409 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28777409 2008-03-08 12:12:17
কবিতা__বিবর্তনবাদী ওখানে গড়ে উঠেছে একটা দরবার শরীফ
রোজরাতে দোয়া হয়। হয় অদ্ভূত ধোঁয়ার মহরত
ইদানিং এমন তো হরহামেশাই ঘটে
কাজ না থাকলে বানরও হয়ে ওঠে বুদ্ধিমান মানুষ
অথবা একদল অলস মস্কিষ্কহীন শয়তানের লেজ।

বিবর্তনবাদের ইতিহাস বোধগম্য হয় না মানুষের
তবুও একদল বানর লেজ নাড়ে প্রতিনিয়ত
আসলে
মানুষের মতো হাত গজালেই মানুষ হয় না কখনো
বানর মানুষ হয এমন ইতিহাস বোকাদের বইতেই লেখা হয় প্রতিনিয়ত...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28776549 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28776549 2008-03-05 11:45:37
ছোটদের গল্প -বোকা দৈত্য ও রাজকন্যা রাই-
বাল্টু মামাকে সায়ফী খুব পছন্দ করে। একদিন মামা বলল, ‘চল ভাগিনা তোকে ভিতরগড় দেখাতে নিয়ে যাই।’
‘ভিতরগড়টা কি মামা?’
‘ভিতরগড় হলো একটা জায়গার নাম। এটা পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত। ভিতরগড়ের মতো আরো পাঁচটা গড় নিয়ে পঞ্চগড় গঠিত, বুঝলি। তবে পাঁচটা গড়ের মধ্যে চারটা পড়েছে আমাদের দেশে আর অন্যটা পড়েছে ভারতে।’
‘কিন্তু গড় জিনিসটা কি?’
‘আগের দিনে একটা বড় এলাকাকে গড় বলত।’
সায়ফী মুখটা খানিকটা বাঁকিয়ে ফেলল। মামার এই একটা দোষ, একটা কিছু বলতে থাকলে আর থামতেই চায় না। তবুও সে মামাকে খুব পছন্দ করে। সে বলল, ‘ভিতরগড়ে কি আছে মামা?’
‘ওখানে অনেক পুরনো একটা পুকুর আছে। পাশে আছে প্রায় ধবংসপ্রাপ্ত রাজবাড়ি।’
পুকুরের কথা শুনেই সায়ফীর মন খারাপ হয়ে গেল। এই তো সেদিন আবিদের মামা তাকে ফ্যান্টাসি কিংডম বেড়াতে নিয়ে গেল। স্কুলের সবার কাছে সে নিয়ে কত গল্প করল সে। অথচ বাল্টু মামা কিনা নিয়ে যেতে চায় ভিতরগড়ের একটা পচা পুকুর দেখাতে। এখন কি আর সে ছোট আছে? সে কাস টুতে পড়ে।
আসলে বড়রাই বোকা। ওরা ছোটদের বোকা মনে করে। ভাবে ওরা ছোট মানুষ, ওরা আর কী বোঝে। কিন্তু ছোটরা তো এত বোকা না।
কিন্তু বাল্টু মামা তো এত কিপ্টুস ছিল না কখনও। সায়ফীর মনটাই খারাপ হয়ে গেল। অবশ্য পুকুর দেখার কোন ইচ্ছা না থাকলেও সে দেখতে গেল।
ভিতরগড় এসে সে অবাক হয়ে গেল। এটা তো পুকুর না। যেন মহাসমুদ্র। পাড়গুলো অনেক উঁচু। যেন এক একটা পাহাড়। পাহাড়ে ঘেরা অপরূপ মহাসমুদ্রই বলা যায়।
সায়ফী দৌড়ে পুকুরের পানিতে হাত দিয়ে বলল, ‘মামা দেখ কি ঠাণ্ডা পানি!’
‘এখন তো খুব লাফাচ্ছিস। অথচ এখানে আসার কথা বলতেই মুখ কালো করে ফেলেছিলি। এবার বুঝলি তো বাল্টু মামা কাকে বলে?’
‘ওহ মামা, ইউ আর গ্রেট।’
সে মামাকে জড়িয়ে ধরতে গেল। দুজনই হুমড়ি খেয়ে পানিতে পড়ে গেল। সায়ফী খিল খিল করে হেসে উঠল। বাল্টু মামা বলল, ‘হাসি থামা, আগে একটা গল্প শোন।’
‘কি গল্প মামা?’
‘ভিতরগড়ের এই পুকুর কিভাবে হলো সেই গল্প।’
‘কিভাবে হলো মামা?’
‘এই ভিতরগড়ে অনেক অনেক দিন আগে বাস করত রাজা কিংস্টোন। তার নাম স্টোন হলেও মনটা ছিল খুব নরম। প্রজারা তাকে খুব ভালোবাসত। সেই কিংস্টোন রাজার ছিল একমাত্র কন্যা রাই। সে ছিল যেমন সুন্দরী তেমনী বুদ্ধিমতী। তাই প্রজারা তার বুদ্ধির খুব প্রশংসা করত।
একসময় রাজকন্যা রাই বড় হলো। রাজা তার বিয়ে দিতে চাইলেন।’
‘বড় হলেই কি বিয়ে দিতে হয়?’Ñ সায়ফী প্রশ্ন করে।
‘হ্যাঁ, তুই যখন বড় হবি তখন তোরও বিয়ে দেব।’
মামার কথায় লজ্জা পেল সে। লজ্জা লজ্জা মুখেই বলল, ‘যাহ্! আমি কখনো বড় হব না।’
বাল্টু মামা তার নাক চেপে বলল, ‘রাজকন্যা রাইয়ের বিয়ের কথা প্রচার হলো। নানান দেশের রাজপুত্র এলো তাকে বিয়ে করতে। কিন্তু কোন রাজপুত্রই পছন্দ হয় না রাজার। কারো নাক উঁচা তো কারো নাক বোঁচা। কারো গলা লম্বা তো কারো চাপা ভাঙ্গা। এত সুন্দর রাজকন্যার বিয়ে তো আর বোঁচার সঙ্গে দেয়া যায় না। কী বলিস?’
‘হ্যাঁ তা তো ঠিকই।’Ñ সায়ফী বিজ্ঞের মতো মাথা দোলায়।
‘শেষ পর্যন্ত বিহার রাজ্যের রাজপুত্র খৈয়ামের সঙ্গে রাজকন্যা রাইয়ের বিয়ে ঠিক হলো। রাজ্যজুড়ে সে কী আনন্দ! সবাই বলতে লাগল, রাজকন্যা রাইয়ের সাথে রাজপুত্র খৈয়ামকে খুব মানাবে।
কিন্তু বিয়ের আগেই একটা অঘটন ঘটে গেল। হিমালয় থেকে একদিন এক দৈত্য নেমে এলো। সে সবাইকে এক এক করে বন্দি করতে লাগল। দৈত্যের গায়ে ছিল অনেক শক্তি। রাজপুত্র খৈয়ামও তার সাথে যুদ্ধে পেরে উঠল না।
রাজা-রানী চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠলেন। কিন্তু তাদের কিছুই করার ছিল না। এত আদরের রাজকন্যা, এত যার রূপ! তার কিনা বিয়ে হবে হিমালয়ের দৈত্যের সাথে! কিন্তু এমন বিপদের সময়ও রাজকুমারী রাই ভয় পেল না। সে দৈত্যকে ডেকে বলল, আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। তবে আমার একটা শর্ত আছে।
কি শর্ত?
তোমাকে একটা পরীক্ষা দিতে হবে।
ঠিক আছে দেব।
আমি রাজপ্রসাদের ঐ ছোট্ট পুকুরে একটা হীরের আংটি ফেলে দেব। তুমি যদি আংটিটা খুঁজে আনতে পার তবেই তোমাকে বিয়ে করব।
হা... হা... হা... এ তো মামুলি ব্যাপার। হেসে উঠল দৈত্য।
রাজকন্যা পুকুরে আংটি ফেলে দিতেই পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ল দৈত্য। বড় বড় নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগল। ফলে পুকুর বড় হতে থাকল। কিন্তু আংটি তো অনেক ছোট, ওটাকে কী আর খুঁজে পাওয়া যায়।
দৈত্য তিন রাত তিন দিন মাটি খুঁড়ল। খুঁড়তে খুঁড়তে এক সময় দৈত্য কান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। এ সময় রাজপুত্র খৈয়াম তার সৈন্য নিয়ে ঘুমন্ত দৈত্যকে মেরে ফেলল। তারপর সারা রাজ্যে আবার আনন্দ ফিরে এলো। শুরু হলো রাজকন্যা রাই আর রাজপুত্র খৈয়ামের বিয়ের উৎসব। সবাই রাজকন্যার বুদ্ধির প্রশংসা করতে লাগল।
দৈত্য যে পুকুর খুঁেড়ছিল সেই পুকুরই হলো এই ভিতরগড়ের পুকুর।’
সায়ফী গভীর চিন্তা নিয়ে পুকুরের দিকে তাকিয়ে থাকল। আসলেই পুকুরটা অনেক বড়। দৈত্য ছাড়া এই পুকুর খোঁড়া সম্ভব না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28775702 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28775702 2008-03-02 14:51:49
বিবর্তনবাদীর নোংরা মন্তব্য এবং কিছু কথা
ঝুমিকে বলছি, দয়া করে এই ব্লগটি মুছে দিও। কারন যতদিন এই ব্লগে বিবর্তনবাদীরা থাকবে ততদিন সবকিছুতেই তারা নোংরামী খুজবে। কারণ তাদের নিজেদের ক্যারেক্টরই এমন। সো নোংরামী খোজাই তাদের কাজ্। এদের মতো ছোট মনের কারো সাথে বিতর্কে যেতে চাই না।
একটা কথা মনে রাখবে, যখন কেউ তার পরিচয় গোপন করে। তথন তার উদ্দেশ্য হয় খারাপ। নিজের নাম বিবর্তনবাদী দিয়ে তাই প্রমান করে। কারণ সে আসলে কে তা আমরা জানছি না। সে ছেলে না মেয়ে না হিজরা তাও বোঝার উপায় নেই। আমার পরিচয়ে কোন গ্যাপ নেই। কারণ আমার সব পরিচয় দেয়া আছে। মুখোশের আড়ালে নেই যে অন্য নামে নিজের কথা বলতে হবে। আমি যাই করি না কেন তা জানার অধিকার আমার বন্ধুদের আছে। বিবর্তনবাদীর এতে এত কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। এছাড়াও একটা বিষয় বলব, ছোট বংশের লোকজন হুট করে এক ওকে তুমি বলে সন্বোধন করে। না জেনে অযথা মন্তব্য করে। নোংরা কল্পনা করে। এটাই এদের আসল চরিত্র। এতে কষ্ট নিও না। এমন ক্লাসহীন ছেলে/মেয়ে/হিজরারাও এদেশে আছে ও থাকবে।

<img src=" style="border:0;" />
এই ব্লগেও অনেক ময়লা আছে। ওগুলো পরিস্কার করা দরকার। যেমন এখানে কিছু মাথামোটা লোক আছে। যাদের মাথার ঘেলুর সাথে কারো কথা না মিললে ব্লগটা মুছে দেয়া হয়। কারণ তারা ভীতু। তারা যুক্তিতে না পেরে নিজের ক্ষমতা দেখায়। কে জানে বিবর্তনবাদীও সেই ক্ষমতাধরদের একজন। সো নিজের ক্ষমতা দেখাতেই এই ব্লগটি মুছে দিতে পারে।

<img src=" style="border:0;" />
বিবর্তনবাদী,
আপনাকে একটাই প্রশ্ন,
পর্দার আড়ালে কে? আপনি না আমি?????????]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28775074 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28775074 2008-02-29 10:54:05
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো " style="border:0;" />আমার বই কাক নিয়ে এমন মন্তব্য :
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ৪/৫ টা বই বের হয়েছে তাই, তাকে ইতর প্রাণী বলে ফেললেন। কাককে আমি নিকৃষ্ট প্রাণি বলব না, কারন সেও উপকারে লাগে। তবে আপনার মত লেখক হয়ত সমাজের কোন কাজে আসবে না (গল্প পড়ি নাই, পোস্ট পড়ে তা পড়ার প্রয়োজনও অনুভব করছি না)। ধন্যবাদ।

গোপনীয়া বলেছেন: এ বছর অনেকের ৫টি, কারো দশটি বই বেরিয়েছে। আর আমার বেরিয়েছে মাত্র ১টি।
এ বিষয়ে আমার মন্তব্যঃ
ইতর প্রানীর বাচ্চা হয় ৫/ ৬টা, যেমন: কুকুর
মানুষের বাচ্চা হয় একটা


.........................................
এটা কোন ধরণের আত্মপ্রচার?
আপনি যদি সত্যি লেখক হয়ে থাকেন তাহলে কী কোনো বইমেলায়
একাধিক বই বের হবে না?
তখন আপনার কথা অনুসারে আপনি নিজেই কী হবেন?


এই পোস্টটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ভুতঅদ্ভুত বলেছেন: বোদাই কি আর গাছে ধরে? তর বই কারো ালে ও পড়বেনা। হালা আহাম্মক কোথাকার....



আমার বই কাক নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন আরো অনেকে। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। কারণ বইটি কেমন চলছে তা দেখে আসতে পারেন। প্রথম সংস্করণ শেষ। দ্বিতীয় সংস্করণ আজ বাজারে এসেছে। কবি আসাদ চৌধুরী একটা লেখাও লিখেছেন। পড়ে দেখতে পারেন। এ সব কিছুর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনাদের এমন কঠিন মন্তব্য না পেলে হয়তো এমনটি হতো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28770461 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28770461 2008-02-14 12:01:05
গল্পগ্রন্থ কাক এটি দাঁড়কাকও না। পাতিকাকও না। এটি মানুষ কাক।

একুশে বইমেলায় ব্লগার বন্ধুদের জন্য ৪০% ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

শুধুমাত্র জাগৃতি প্রকাশনীর স্টলে... ... ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28768240 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28768240 2008-02-08 11:12:27
কাক " style="border:0;" /> কাক
অলঙ্করণ : সব্যসাচী হাজরা
Click This Link
<img src=" style="border:0;" />
দুপুরবেলা ঘুমিয়েছিলেন ইরতাজ উদ্দিন আহমেদ। হঠাৎ ঘুম ভাঙল। বাইরে তখনো তীব্র আলো কড়কড় করছে। বিরক্ত হয়ে বেলকোনিতে দাঁড়ালেন তিনি। সামনের গাছটায় কাক দু’টো কা কা করছে।

এমন জনাকীর্ণ শহরে কাকের বাসা, ভাবাই যায় না। তাও আবার এমন অভিজাত এলাকায়।

কাক দু’টোর সাথে তার সম্পর্ক বহুদিনের। প্রায়ই তিনি কাকের বাসাটা লক্ষ্য করেন। তার মতো বিশিষ্ট শিল্পপতিরা সামান্য কাক নিয়ে কখনো ভাবে না। তাদের এত তুচ্ছ ঘটনা ভাবার সময় নেই। কাক দু’টো যেদিন প্রথম বাসা তৈরি করল, সেদিন তিনি অবাক হয়ে দেখছিলেন।

একদিন প্রচণ্ড ঝড় হলো। তিনি ভাবলেন, কাক দু’টো নিশ্চয়ই উড়ে গেছে। কিন্তু না। বরং ঝড় শেষে একটা অদ্ভুত দৃশ্য লক্ষ্য করলেন। ঠিক কাকের বাসার সামনেই একটা কোকিল ডাকছে। একটু পরপর কাক দম্পতি তেড়ে যাচ্ছে কোকিলের দিকে। কাক আর কোকিলের এই বৈরিতার কারণ তিনি জানতেন না। তাকে এই বিষয়টা জানাল মিজান। কিভাবে কোকিল কাকের বাসার সামনে ডাকে? কিভাবে কাককে ফাঁকি দিয়ে কোকিল কাকের বাসায় ডিম পাড়ে? বেশ মজা করেই গল্পটা বলল সে। গল্প শেষে খোঁচা মেরে বলল, তা তুই এত কিছু থাকতে কাক নিয়ে ভাবছিস কেন?

এমনি বলতে পারিস। তবে যা-ই বলিস, কোকিল বাসা বানাতে পারে না, এটা আমি জানতাম না।

একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেছিস। পৃথিবীর কোনো মা-ই তার সন্তানকে ছেড়ে চলে যায় না। ব্যতিক্রম কেবল কোকিল। এরা চুরি করে কাকের বাসায় ডিম পাড়ার পর চলে যায়। আর কখনো খোঁজ নেয় না।

কোকিল কেন এমন করে? এমন অদ্ভুত মাতৃত্ব কেন? এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ইরতাজ উদ্দিন দু’দিন ভাবলেন। পশু-পাখিদের ওপর বেশ কয়েকটি বইও জোগাড় করলেন। শুধু কোকিল আর কাক নয়, বরং আরো অনেক পাখির জীবনই তাকে অভিভূত করল। তবে কোকিল বাসা তৈরি করতে পারে না, আর এ কারণেই কোকিল ডিম পাড়ে কাকের বাসায়। তার বাচ্চাও বড় হয় সেখানে।

পুরো বিষয়টি জানার পর তিনি কিছুটা বিষণœ হয়ে পড়লেন। কোকিল কেন অন্যের ঘরে বাচ্চা দেবে? -এ বিষয়টি তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। সন্তান লালন-পালনের যোগ্যতা না থাকলে জন্ম দেবে কেন? তিনি বেশ আগ্রহভরে বিষয়টি মিজানকে বললেন। সে তো হেসে খুন। বলল, আরে মানুষই যেখানে সন্তানের খোঁজ নেয় না সেখানে সামান্য কোকিল। মানুষের এত বিবেক, এত বুদ্ধি আর ওরা তো অবুঝ।

মানুষও তাদের সন্তান ছেড়ে যায় নাকি? কেউ কি তা পারে?

কেন পারবে না বন্ধু? কত ঘটনাই তো ঘটে। রাস্তার মধ্যে সন্তান পড়ে থাকে। খোদ আমেরিকাতেই তো এ ঘটনা বেশি। ওদের অনেক সন্তানের বাবা-মা নেই। ফ্রি সেক্সের কারণে জন্ম। আমাদের দেশ হলে ওরা হতো জারজ সন্তান। অথচ ওদের দেশে নাম-পরিচয়হীন সন্তানের অভাব নেই। ওদের সোসাইটিতে এটা কোনো ঘটনাই না।

তার মানে কোকিলের মতো সন্তান পরিত্যাগকারী মানুষও এ পৃথিবীতে আছে?

হ্যাঁ আছে, হাজার হাজার কোটি কোটি আছে। তুই এসব নিয়ে ভাবছিস কেন?

এমনি। বলতে পারিস কৌতূহল।

আসলে তুই যা-ই বলিস, তোর মধ্যে ইদানীং বিষণœতা কাজ করে। আর এ কারণেই এসব আজেবাজে চিন্তা করিস। আমি বলি কি আবারো বিয়ে করে ফেল।

মিজানের কথা শুনে এবার হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েন তিনি। তারপর হঠাৎ চুপ হয়ে যান। ফ্লোরিয়া মারা যাওয়ার পর তিনি এভাবে হাসেননি। তার জীবনটা অদ্ভুত এক খেলায় মেতে আছে। এযাবৎ তিনি বিয়ে করেছেন চারটা। অদ্ভুত কোনো কারণে তার স্ত্রী মারা যায়। আশ্চর্য হলেও সত্যি তার তিন স্ত্রীর সবাই মারা যায় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে।

ইরতাজ উদ্দিন প্রথম বিয়ে করেন ২২ বছর বয়সে। তখন তিনি বিএ পড়েন। লজিং থাকেন সুখানপুকুরে সরদার বাড়িতে। ঝুমির সাথে পরিচয় হয় তখন।

ঝুমির একটা পা ভাঙা ছিল। হাঁটত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সবাই তাকে বলত ‘খোঁড়া ঝুমি’। গ্রামের রাস্তার দু’মাইল হেঁটে স্কুলে যেত। তার দু’কাঁধে ঝুলে থাকত সুদৃশ্য বেণী। চোখগুলো ছিল কাজল কালো। তবু কেউ তার দিকে ফিরেও তাকাত না।

ইরতাজ উদ্দিন তখন বিএ পড়েন। রোজ দেখা হয় রাস্তায়। তিনি কলেজে যে পথে যেতেন, সেই পথেই ঝুমি হেঁটে যেত স্কুলে। তিনি ঝাড়কাঁটা বিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ঝুমির অদ্ভুত দুলে দুলে হাঁটা তাকে অভিভূত করত।

একদিন তিনি সাহস করে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর চোখ বন্ধ করে বললেন- ঝুমি, তোমাকে আমারঃ এতটুকু বলেই ঢোক গিললেন। কথাটা শেষ করতে পারলেন না। কী বলবেন খুঁজে পেলেন না।

অনেকক্ষণ পর চোখ খুললেন তিনি। ঝুমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই ষোড়শীকে কেউ হয়তো ভালোবাসার উষ্ণতা দেয়নি। কেউ তার হৃদয় ছোঁয়ার চেষ্টা করেনি।

ঝুমি বলল, আমি খুঁড়া। ভালো করে দেখেন। আমার একটা পা ছোট। সবাই আমাকে খুঁড়ি বলে।

চুপ, চুপ। আর কোনো কথা না।

শেষ কথাটার মধ্যে একটা অধিকারের কথা ছিল। অস্পষ্ট অধিকার। ইরতাজ উদ্দিন সে অধিকার কোথায় পেয়েছিলেন কে জানে।

সরদার বাড়িতে বিষয়টা রাষ্ট্র হয়ে গেল। এক কান দুই কান করতে করতে সরদার সাহেবের কানে কথাটা পৌঁছল। সরদার সাহেব ছিলেন অত্যন্ত রাগী। ডেকে পাঠালেন তাকে। কিন্তু এই প্রথম তিনি ভয় পেলেন না। তাছাড়া তিনি তো কোনো অন্যায় করেননি।

সরদার সাহেব বসেছিলেন জলচৌকির ওপরে। সৌদির তুলতুলে জায়নামাজ পাড়া জলচৌকির ওপর। তিনি নামাজ পড়েন। বাহারি মোনাজাত করেন। গায়ে আতর দিয়ে ঘুরে বেড়ান।

ইরতাজ সরদার সাহেবের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। সালাম ফিরিয়ে তিনি বললেন, সামনে আসো। জরুরি কথা আছে।

চাচাজান কন, আমি শুনতাছি।

তোমার চাচীর কাছে যাও। হেয় কিছু টেকা দিব। টেকা নিয়া গঞ্জে যাবা। তারপর বিয়ার সদাই-পাতি করবা, পারবা?

পারব চাচা।

গেরামের হগলে নানা কতা কয়। এইসব শুনলে শইল্যের চামড়া জ্বলে। তাই ভাবছি আজ রাইতেই ঝুমির লগে তোমার বিয়া দিমু। তোমার মত আছে তো?

ইরতাজ উদ্দিনের বিয়ে হয় সেই রাতেই। বিয়ের পর ভাগ্য ফিরে তার। সুখানপুকুরে একটা কাপড়ের দোকান দেন। বছর না ঘুরতেই কাঁচা টাকা আসে হাতে। সরদার সাহেবের পরামর্শে আরো একটা দোকান কিনলেন। বাজারের পাশে পুকুর কিনলেন।

সবই চলছিল ঠিকমতো, কিন্তু বিধাতার নিয়তি বোঝা দায়। ফুটফুটে একটা শিশু কোলজুড়ে আসবে ঝুমির; কত স্বপ্ন তার। কিন্তু কী কপাল। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বাঁচল না সে।

ঝুমি মারা যাওয়ার পর তিনি সুখানপুকুর ছাড়লেন। কেন জানি একটা বিতৃষ্ণা জন্মেছিল। মনের কোথায় যেন একটা শূন্যতা। দু’বছর কেটে গেল এভাবেই।

একদিন সরদার সাহেব এলেন। জমি নিয়ে নাকি বিরাট ঝামেলা। মামলা-মোকদ্দমা করতে হবে। দু’দিন থাকলেন তিনি। তারপর যাওয়ার দিন বললেন- ইরতাজ, তুমি আমার ছেলের মতো। শখ করে তোমার সাথে ঝুমির বিয়া দিছিলাম। কিন্তু কপালে সুখ সইল না ।

চাচাজান, এইসব কথা থাক।

এইসব কথা কেন থাকব। আমি তোমার বাপের মতো। তাই কই কি, তুমি আবার বিয়া করো। জীবন তো চলতে হইব।

সরদার সাহেব চলে গেলেন। বিধাতার কী ইচ্ছা, তার দুইদিন পর তার মৃত্যুর খবর এলো। তিনি ছুটে গেলেন মাটি দিতে।

সরদার সাহেবের শেষ কথা রাখতেই তিনি আবারো বিয়ে করলেন। মেয়ে উচ্চশিক্ষিত। নাম বিন্দু। বউ মরা মানুষের কপালে এত ভালো বউ জোটে না। কিন্তু কেমন করে যেন জুটে গেল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো অন্য একটা। বিন্দুর সন্তান হয় না।

কত কবিরাজ, কত ডাক্তার দেখানো হলো। কোনো কাজ হলো না। কেউ বলল, আজমীর শরীফে গিয়ে মানত করতে, কেউ বলল তোমার বউকে কেউ হয়তো তাবিজ করছে। কেউ বলে বান মারছে- কত কথা।

শেষমেশ যে যা বলে তা-ই করতেন ইরতাজ উদ্দিন। এ গাছের পাতা, ও গাছের শেকড়-বাকড়, অমুক কবিরাজের মহৌষধ সবই চলল ছয় বছর। সাথে চলল আধুনিক ডাক্তারদের চিকিৎসা।

আধুনিক চিকিৎসার জোরেই হোক আর শেকড়-বাকড়ের জোরেই হোক; বিন্দু মা হতে চলল। পৃথিবীটাই অন্যরকম হয়ে গেল তাদের। বহু অপেক্ষার পর তাদের কোলজুড়ে সন্তান আসবে। পৃথিবীর সব সুখ চমকাবে তাদের জীবনে।

কিন্তু চরম সত্য হিসেবে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বিন্দুর মৃত্যু ঘটল। আকস্মিক মৃত্যু। জন্মের সময় সন্তানের মাথার পরিবর্তে পা আগে বের হয়ে আসে। রক্তক্ষরণে মারা যায় সে। বিষণœ, ক্লান্ত, রিক্ত ইরতাজ উদ্দিন সৃষ্টিকর্তার এ খেলায় নির্বাক হয়ে যান। ব্যবসা গুটিয়ে পাড়ি জমান বিদেশে। সিডনিতে থাকেন ছয় মাস। ওখানে তার মন টেকে না। অবশেষে গেলেন ম্যানিলায়। ওখানেই পরিচয় হলো ফ্লোরিয়ার সাথে। তার ব্যবসায়িক পার্টনার। বয়স ৪০। অতিরিক্ত ফর্সা। চুলগুলো বাদামি। চোখের মণি সাদা।

মাঝ বয়সে এসে একা একা জীবনটা অসহ্য মনে হলো তার। অথবা ইংরেজি চালচলনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। কিংবা বলা যায় সময়ের চাহিদায় একদিন ফ্লোরিয়াকে বিয়ে করলেন তিনি।

বছর না ঘুরতেই ফ্লোরিয়া শুভ সংবাদ জানাল। ইরতাজ উদ্দিন এবার আর ভুল করলেন না। সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার রাখলেন ফ্লোরিয়ার জন্য।

কিন্তু এবারো সৃষ্টিকর্তা বিমুখ হলেন। কেন হলেন তা তিনি জানেন না। তার জীবনে কী এমন পাপ আছে, তাও তিনি জানেন না।

ঘটনাটা সামান্যই, লিফট থেকে নামতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায় ফ্লোরিয়া। ডাক্তার দেখালেন সেদিনই। সন্তানের কোনো ক্ষতি হয়নি জানান ডাক্তার। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সিজারের সময় মারা যায় সে।

ইরতাজ উদ্দিন সন্তানের আশা ছেড়ে দিলেন। বেরিয়ে পড়লেন ভ্রমণে। জাপান, কোরিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, আমেরিকা কোনো জায়গাই বাদ রাখলেন না। কিন্তু যার মনের ভেতর প্রকৃত আত্মা নেই, তার কি আর এসব ভালো লাগে? পৃথিবীর সব সুখ এক করলেও কি সন্তানের বাবা হওয়ার সুখের সমতুল্য হয়?

ইরতাজ উদ্দিন ফিরে এলেন দেশে। গাজীপুরে ১০ একর জায়গার ওপর একটা এতিমখানা দিলেন। মাঝে-মধ্যে ঘুরে আসেন। নিজে এক সময় এতিম ছিলেন। মনে পড়ে তার সেইসব দিনের কথা।

এত অর্থবিত্ত, এত প্রতিপত্তি তাকে সুখী করতে পারেনি। কিন্তু শাব্দিক অর্থে তিনি এ জীবনে তেমন কোনো পাপ করেননি। ব্যবসাও করেছেন সৎ। তবে জীবনের পূর্ণতা এলো না কেন?

৫৪ বছর বয়সে এসে এসব ভাবার কোনো মানেই হয় না। এখন জুলফিতে পাক ধরেছে। যৌবনের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। এ সময় জীবনের হিসাব কারো মেলে না। মেলার কথাও না। তারপরও মানুষ মেলাতে যায়।

একদিন তিনি পুরনো বন্ধুদের নিয়ে পার্টি দিলেন। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নয়। গুলশানে নতুন একটা ফ্ল্যাট কিনেছেন, এটাই একমাত্র উপলক্ষ।

বন্ধুরা এলো। সারারাত আড্ডা হলো। সেই আড্ডাতেই সবাই তাকে ধরে বসল নতুন করে। বংশের প্রদীপ জ্বালাতে আবারো তাকে বিয়ে করতে হবে।

ইরতাজ উদ্দিন হাসেন। এই বয়সে আবার বিয়ে। কিন্তু বন্ধুরা নাছোড়বান্দা। বিশেষ করে মিজান। তার এক কথা, বিয়ে করতেই হবে। পাত্রী সে দেখবে। তিনি বললেন, ঠিক আছে বিয়ে করব। তবে পাত্রীর বয়স হতে হবে ১৮। তার কথা শুনে সবাই হই হই করে উঠল। বলে কি ব্যাটা। বুড়ো দামড়া কিনা ১৮ বছর বয়সের কচি মেয়ে বিয়ে করতে চায়।

ইরতাজ উদ্দিন হাসেন। মনে মনে ভাবেন, এই বয়সে এমন পাত্রী জোগাড় করা চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু বিধিবাম। মিজান কোত্থেকে পাত্রী জোগাড় করে ফেলল। তিনি তো আকাশ থেকে পড়লেন। তার মতো বুড়োকে কোন মেয়ে বিয়ে করতে রাজি হলো। তিনি মিজানকে ডেকে বললেন, মেয়ের মাথার ছিট নাই তো?

ছিট মানে?

মানে মেয়ে পাগলি-টাগলি না তো?

আরে ধ্যাত! ওসব কিছু না। মেয়ের বাবা গরিব। তোর মতো নামকরা শিল্পপতি ওদের জামাই হবে, এটাই ওদের সৌভাগ্য।

তার মানে লোভের কাছে পরাস্ত।

আমরা সবাই লোভী। মানুষ লোভী না হলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারত না। সবকিছু অর্থহীন মনে হতো। তাছাড়া তোর এত কিছু ভাবার দরকার কি? বিয়ে করে দেখ। তাছাড়া ছোট মেয়ে হলে তোর বাবা হতে সুবিধা হবে। ছোট মেয়েদের ঝামেলা কম হয়। বয়স বেশি হলেই যত সমস্যা।

সারথির সাথে বেশ ধুমধামেই বিয়ে হলো তার। তারপরও কেমন জানি একটা অপরাধবোধ থেকে গেল তার। এত ছোট একটা মেয়েকে বিয়ে করার অপরাধ।

সারথি অবশ্য সব কিছু বেশ হালকাভাবেই নিল। ঘোর সংসারী স্ত্রীর মতো সবকিছু গুছিয়ে নিল। কাক নিয়ে ইরতাজ উদ্দিনের মাতামাতি দেখেও কিছু বলত না, বরং একদিন উৎসাহ নিয়ে বলল- জানো, ঘুঘু পাখিটা অদ্ভুত। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। একটাকে খাঁচায় বন্দী করে রাখলে রাগ করে মরে যায়।

রাগ করে মরে যায় মানে?

রাগ মানে রাগ, মানে খাওয়া-দাওয়া করে না। না খেয়ে মরে। তাই নাকি?

হ্যাঁ তাই।

সারথির সাথে বেশ সুখেই দিন কাটছিল। এই তো মাস তিনেক আগেও বারান্দায় মাথা ঘুরে পড়ে গেল। ওকে নিয়ে গেলেন ক্লিনিকে। তখনই জানলেন সারথি মা হবে।

ইরতাজ উদ্দিন পার্টি দিলেন। বন্ধুরা এসে নাচানাচি করল। একদল বলল ছেলে হবে। অন্যদল বলল মেয়ে হবে। এই নিয়ে কত হই-চই।

বেলকোনিতে আরাম করে বসে ইরতাজ উদ্দিন এসব ভাবছিলেন। তার হাতের সিগারেটের আগুন কখন নিভে গেছে বুঝতে পারেননি। তিনি নেভানো সিগারেটেই টান দিলেন। হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়ল কাকের বাসায়।

অদ্ভুত একটা দৃশ্য লক্ষ্য করলেন। অনেকক্ষণ এক ধ্যানে দৃশ্যটা দেখলেন তিনি। তার ধ্যান ভাঙাল মিজান।

কি রে নেভানো সিগারেট টানছিস?

ও হ্যাঁ, তাই তো। খেয়ালই করিনি।

কি রে। তোর কী হয়েছে বল তো? এত বছর পর বাবা হলি অথচ এখনো সন্তানকে দেখতে গেলি না।

যাব।

যাব তো বুঝলাম। ভাবী তো তোর অপেক্ষা করছে। তোর তো সবার আগে সন্তানের মুখ দেখার কথা। নাকি মেয়ে হয়েছে বলে খুশি হতে পারিসনি।

না, না, ওরকম কিচ্ছু না। আসলে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

কী যে বলিস না। চল, চল।

ক্লিনিকে তিনি পৌঁছলেন সন্ধ্যার একটু আগে। কেবিনের সাদা বেডে সারথি শুয়ে আছে। ওর কোলে একটা শিশু। অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইরতাজ উদ্দিনের দিকে। তিনি কোলে নিলেন। বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকলেন। তারপর হঠাৎ বললেন- সারথি, কী নাম রাখা যায় বলো তো?

তুমিই রাখো। আমি অবশ্য মনে মনে একটা নাম ঠিক করেছিলাম।

কী নাম?

পরে বলব। এখন থাক।

আচ্ছা ঠিক আছে। তবে তোমাকে আজ একটা দৃশ্যের কথা বলব। মানে দুপুরে একটা মারাত্মক দৃশ্য আমি দেখলাম।

কী দৃশ্য?

ওই যে বাসার সামনে কাকের বাসাটায়।

আবারো কাক। এ গল্প তো শুনেছি।

এ গল্পের প্রথম অংশ শুনেছ। শেষ অংশ শোনোনি। তুমি শুধু জানো কোকিল কাকের বাসায় ডিম দেয়। কাক সেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। এতটুকুই।

হ্যাঁ, তা ঠিক।

আমাদের বাসার সামনে কাকের বাসাতেও একটা কোকিল ডিম দিয়ে গেছে। কাক তা নিজের ডিম মনে করে বাচ্চা ফুটিয়েছে।

সে তো অনেক আগেই ফুটিয়েছে।

কিন্তু আজ দুপুরে দেখলাম কাক দুটো ওই বাচ্চাকে ঠুকরিয়ে বাসা থেকে ফেলে দিচ্ছে।

তাই নাকি? কিন্তু কেন?

কারণ বাচ্চাগুলো ডাকতে শিখেছে। ওরা কা-কা না করে কু-কু ডাক দিচ্ছে। ফলে কাক দুটো বুঝে গেছে, যে বাচ্চাকে তারা এতদিন তা দিয়েছে তা আসলে কোকিলছানা।

সারথি গল্পটা শুনে হাসতে লাগল। হাসি থামিয়ে বলল, এই দৃশ্যটা তোমার কাছে এত মজার মনে হলো। তুমি আসলে কাক নিয়ে খুব ভাব।

হ্যাঁ সারথি, তুমি ঠিকই বলেছ। কাক নিয়ে আমি অনেক ভাবি। কারণ সম্ভবত আমি নিজেও কাক। কিন্তু আমার কোলে তুমি যে সন্তান তুলে দিয়েছ তা আমার না। আচ্ছা সত্যি করে বলো তো এটা কোন মানুষরূপী কোকিলের সন্তান?

সারথি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। যে সত্যকে সে লুকিয়ে ফেলতে চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি। এখন কী করবে সে? অল্প বয়সের প্রেম যে তার এত বড় ক্ষতি করবে তা কে জানত? কে জানত যে ছেলেকে ভালোবাসত সে তাকে ধোঁকা দেবে।

সারথি মাথা নিচু করে অঝোরে কাঁদছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে বাইরে। আর একটু পরেই পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যাবে। সে অন্ধকারে আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে তার অশ্রু। সারথি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইরতাজ উদ্দিন আহমেদের দিকে। অজানা একটা ভয়, অজানা একটা আশঙ্কায় হৃদয় দুলছে তার।

ইরতাজ উদ্দিন সারথির দিকে তাকালেন। তার চোখে জল। তিনি তার কপালে হাত রাখলেন। সারথি কাঁপছে। হঠাৎ দমকা একটা হাওয়া ছুঁয়ে গেল তাদের। ইরতাজ উদ্দিন বললেন, আমি কাক নই, আমি মানুষ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28764194 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahmedfaruqonlyblog/28764194 2008-01-25 17:31:33