somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌ কে ফিরিয়ে দিলেও......

০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এই গল্পটি সাপ্তাহিক ‌‌‌‌এখন'' এ ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে)
ঈদুল ফিতরের নামায শেষ করে বের হয়েছি মাত্র মোবাইল অন করার সাথে সাথে ওর ফোন। কি তুমি আসবে না?
- আমার সহজ জবাব তোমার দেওয়া অপবাদ গুলো আজ গুচাতে হবে না? অপেক্ষা কর আমি আসব। আমারও যেন আর দেরী সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু ওকে বুঝতে দিলাম না। সাথে সাথেই মোটর সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ওদের বাসার উদ্দেশ্যে। ২০ মিনিটের রাস্তা হলেও আজ যেন শেষ হতে চাচ্ছে না। কেন যেন ওকে নিয়ে এলোমেলো অনেক চিন্তায় ডুব দিলাম। ওর মায়াবী মুখ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। চোখের সামনে থেকে কিছুতেই সড়াতে পারছি না।
বাসার চাদের উপরে সম্ভবত দাড়িয়ে ছিল। সাইকেল থেকে নামতেই দেখি দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।
-বললাম কি ব্যাপার, আমার জন্য দাড়িয়ে আছ নাকি?
-না এমনিতেই দাড়িয়ে আছি।
-বলেই হেসে চলে গেলে। আমি ভেতরে গিয়ে বসলাম। নাস্তা রেখে কোথায় চলে গেলে আমি খোঁজে পাচ্ছি না। কিছুণ পর হঠাৎ সামনে এসে দাড়াল। আমি চমকে উঠলাম , চেনাই যাচ্ছে না ওকে। শাড়ী পড়াতে এমন সুন্দর লাগছে যে মনে হল হিন্দি সিনেমার নায়িকা সোনালীর মত দেখতে। দাড়িয়ে আছে আমার সামনে।
-দৃষ্টি আর্কষণের জন্য বলল কি ব্যাপার চেয়ে থাকবে নাকি কিছু বলবে?
-শাড়ীতে তোমাকে এত সুন্দর মানায় তা তো জানতাম না। আর লাল টুকটুকে শাড়ীতে তোমাকে যেন বউ লাগছে।
- লজ্জায় মুখ ডেকে বলল, যাও বাড়িয়ে বলছ।
- তোমায় এই শাড়ী পড়াতে এত সুন্দর লাগছে যে মনে হয় তোমাকে বউ করে নিয়ে যাই।
- ও কিছু না বলে পালিয়ে গেল। মিনিট পাঁচেক পর ফিরে আসল। হঠাৎ করে আমি দাড়িয়ে ওর ঠোটের উপর আমার ঠোট রেখে একটি চুম্বন করলাম।
- ও কিছু বলতে পারছে না। শুধূই কাপছে। আমি ওকে পাশের সোপায় বসিয়ে দিলাম। কতণ দু’জন এভাবে বসেছিলাম আমার মনে নেই। হঠাৎ ওর ভাবি অর্থাৎ আমার চাচাতো বোনের ডাকে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফিরে এলাম। তিনি বললেন তোমরা এভাবে বসে আছ কেন? সামনে যে নাস্তাগুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে সেদিকে কোন খেয়ালই নেই।
আমি বসে ভাবছি। আসলে কি আমি ঠিক করেছি ওকো চুমু দিয়ে?
- কিছুণ পর আবার আসলো আমার কাছে।
- বলল হাতটা বাড়াও
- আমি হাত এগিয়ে দিলাম।
- একটি রৌপ্যের আংটি আমার আঙ্গুলে পড়িয়ে দিয়ে বলল আজ থেকে তুমি আমার। অন্য কারো নও। তোমাকে আমার করে নিলাম। বেধে দিলাম আংটি দিয়ে, যেন আর কেউ তোমার না হয়। ইমন আমি তোমাকে খুবই ভালবাসি।
- আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি মৌ। তোমাকে ছাড়া আর কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি না। তোমাকে নিয়ে ছোট্ট সুখের ঘর বাধতে চাই।
- ওর চোখ বেয়ে দু’ফুটা অশ্র“র গড়িয়ে পরা আমি অনুভব করলাম।
- নিজ হাতে মুছে দিলাম তার দুটি চোখ। ও দুটি চোখ থেকে কোন অশ্র“ ঝড়–ক আমি চাই না। আমি মৌ কে আশ্বস্থ করলাম যে আমি ওকেই ভালবাসি। ওকেই বিয়ে করতে চাই। এ প্রতিশ্র“তি দিয়ে ওর কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
বাসায় আসার পর কেন যেন মৌর কথা ভুলতে পারলাম না। শুধু মৌ’র কথা বার বার মনে পড়তে লাগল। যার জন্য পড়া লেখাতে তেমন মনোযোগ দিতে পারতাম না। ভাবনাটা আরও বেড়ে গেল ওর হাতের আংটির দিকে চেয়ে। আংটির দেখলে অথবা যখন অনুভব করি হাতে আংটিটি পড়া তখন শত চেষ্টার পরও মৌকে ভুলে থাকতে পারি না। মনে হয় যেন যত তারাতরি পারি ওর কাছে যেন ছুটে যাই। সমস্যা হচ্ছে পড়া লেখার জন্য আমাকে বেশ দুরে থাকতে হয় তাই ইচ্ছা করলেও যেতে পারি না। বেশী যাইও না হয়তো এত বেশী গেলে আপু কিছুটা বুঝবেন এর জন্য। আর ওর সাথে তেমন একটা কথা বলতে পারতাম না কারণ ওর কোন ব্যাক্তিগত মোবাইল ছিল না। ছিল ভাইর কাছে, মাঝে মধ্যে রাতে আমাকে মিসকল দিলে আমি কল ব্যাক করতাম।
ফেব্র“য়ারীর প্রথম দিকে মৌ ফোন করে জানাল যে ওর বিয়ের কথা চলছে আমি যেন কিছু একটা করি। আমার বড় অমতা হচ্ছে বড় ভাই থাকায় আমি এমনিতেই বিয়ে করতে পারব না। কারণ তিনি বিয়ে করেন নি। আমারও পড়ালেখা শেষ হতে বছর খানেক বাকি তাই। ওকে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আমারার কিছু করার ছিল না।
মৌকে ফিরিয়ে দিলেও আজ ফিরিয়ে দিতে পারিনি ওর দেওয়া আংটিটি। এখনও গভীর রাতে ওর দেওয়া আংটির দিকে চেয়ে থাকি।


...............................................
আরও প্রকাশিত ক'টি গল্প
পাগল হলেও মা Click This Link সাপ্তাহিক ২০০০
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×