সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দেখতে দেখতে কিবরিয়া পরিবার ও দেশবাসাী কে একে একে ৭ বছর পার করতে হচ্ছে আজকের এই দিনে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েছিলেন শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়া। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ও বিনা চিকিৎসায় কয়েক ঘণ্টা অশেষ যন্ত্রণা সহ্য করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিবরিয়া’র এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পক্ষ থেকে যে শীতল প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছিল, তাতেই বোঝা গিয়েছিল ঘাতকদের ধরা তো দূরের কথা, বরং তাদের আড়াল করার চেষ্টাই সরকার করবে। বাস্তবেও তাই হয়েছে।
৭ বছরেও কিবরিয়া হত্যারহস্য উšে§াচিত হল না, প্রকৃত ঘাতকরা চিহ্নিত হল না, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা হল না। বিষয়টি দুঃখ ও লজ্জার। এই সাত বছরে একাধিকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জোট সরকারের পর এসেছে সামরিক বাহিনী প্রভাবিত বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তারপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের সরকার। জোট সরকারের আমলে তদন্তের নামে টালবাহানা হয়েছে। কিন্তু তারপরের সরকারগুলোর সময়েও তদন্তে তেমন কোন অগ্রগতি হয়েছে কি? বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই আশা করছেন, এবার কিবরিয়া হত্যা মামলার স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হবে। দোষীরা আর আড়ালে থাকবে না। কিন্তু মানুষের এই আশা পূরণ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি?
অথচ ১৯৯১ সালের প্রথম দিকের মাঝামাঝি কিবরিয় প্রবাসের চাকুরি থেকে অবসরের পর নিজের দেশে প্রস্থান। ইচ্ছা করলে প্রবাসে থেকে যেথে পারতেন । না সেখানে থাকতে পারেন নি। সাধারণ জনগণের কথা তাকে ভাবিয়ে তুলে তাই তিনি দেশের জনগণের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে যোগদান করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে। আওয়ামীলীগের সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী এবং পরের বার বিরোধী দলীয় সাংসদ।
আসমা কিবরিয়া বলেছিলেন এদেশে ভাল মানুষের কোন মুল্যায়ন নেই। এদেশে তাদের বাচঁতে দেওয়া হয় না। আসলে তাই যদি আমরা একটু চোখ কুলে থাকাই তাহলেই দেখতে পারি তার বাস্তব প্রমাণ যারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্টিকে বঞ্চিত করে নিজের পকেট ভারি করেছে তাদের উপর কেউ গ্রেনেড চুড়ে না। তাদের পকেট ফুলে দিনে দিনে বড় হয়। বাড়ি গাড়ি সংখ্যা ভারে। অথচ যারা দেশের জন্য কোন কিছু করতে চায়। নিজের পকেট ভাড়ি করতে চায় না। তাদের অকালেই চলে যেথে হয়। বাঁতে দেওয়া হয় না আহসান উল্লা মাষ্টারকে বাঁচতে দেওয়া হয় শাহ এএমএস কিবরিয়াকে। এটাই ভাল ও সৎ রাজনীতিবিদদের প্রাপ্তি?
আসমা কিবরিয়া বলেছিলেন এদেশে ভাল মানুষের কোন মুল্যায়ন নেই। আসলে সে কথা কতখানি সত্যি তা বোধ করি দেশের সাধারণ জনগণ ইতিমেধ্য বুঝে গেছেন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার সাবেক অর্থমন্ত্রী আর্š—জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কুনৈতিকবিদ শাহ এএমএস কিবরিয়া গ্রেনেড হামলার শিকার হবার পর। যখন সরকারে কাছে হেলিকাপ্টার চাওয়া হল তখন পাওযা যায়নি। অথচ মোস্টওয়ানটেট জঙ্গি নেতা শায়খ রহমানকে বাঁচানোর জন্য হেলিকাপ্টারের ব্যবস্থা করা। ঢাকা নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো হয় কিন্ত কিবরিয়া ভাগ্যে জুটে না হেলিকাপ্টার। আর শেষ পরিণতি মৃত্যু।
এমন একজন সহƒদয় মানুষের সেবা গ্রহণের সুযোগ থেকে দেশকে বঞ্চিত করল কারা? কারা তার ঘাতক? সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কিবরিয়া সাহেবের ঘাতকদের কেন ধরা হল না, হচ্ছে না? কেন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে তদন্তের নামে প্রহসন করেছে? মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বা তদন্ত কাজে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে? হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতির অবসান চাইলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা জরুরি। তাই দেশের সবার একটাই চাওয়া দেশের এই কৃতি সন্তানকে হত্যার পেছনে যাাদের হাত আছে তাদের খুজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা। তাহলে শান্তি পাবে কিবরিয়ার আত্ম, পরিবার ও হবিগঞ্জের জনগণ। নাকি আরও অপেক্ষা করতে হবে বছরের পর বছর...........!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

