একদিন ফোনে একটি মেসেজ পেলাম
যদি বন্ধু হও হাতটি বাড়াও, দিনটি ছিল পহেলা ফাল্গুন
নামঠিকানাহীন সেই বন্ধুকে খুঁজে পেতে কত চেষ্টাই না করলাম
পরিচয় সে দিল না, আমায়।
কী সম্বোধনে ডাকবো তোমায়, শুধালাম; বলল-
বন্ধু! বন্ধু বলেই ডেকো!
এক বিকেলে প্রছণ্ড বৃষ্টি! আমি তখন ঘুমে
ওর ফোনে ঘুম ভাঙল? তোমাদের ওখানেকি বৃষ্টি হচ্ছে? ছাদে কাপড় শুকাতে দিয়েছিলে না! ও মা তাইতো..
আমি ছুটলাম ছাদে, ও বলছে- ছাতা নিয়ে যাও,
আস্তে যেও পিছলে যাবে।
বন্ধু! তুমি আমার বন্ধু হয়ে এতো দূরে থাকো কেন? আমি তোমাকে..
ভীষণ ফিল করো তাই না! আমি সামনে এলে
তোমার হাজারও বন্ধুর মাঝে হারিয়ে যাবো! তাইকি হয়!
ওর কথায় থকত মাদকতা, টান আর ন্যাকামু,
বলতো বেশি ভালোবাসলে মানুষ এমনি হয়ে যায়! কেমন ছেলে মানুষ।
তোমারকি কিছু খেতে ইচ্ছে করে?
মাঝে মাঝে ফোনকরে জানতে চাইতো ।
পরদিন কুরিয়ারে আচারের বয়াম, অথবা খইয়ের মোয়া,
অথবা নারকেলগুড়! কেমনকরে জানতো ও সেসব!
কুরিয়ারের রাস্তা ধরে ওকে খুঁজে বেরকরতে চেয়েছি, যখন ,
প্লিজ আর এগুবে না, তাহলে তুমি পাবে না, আমাকে
তখন প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি!
সবটা পেতে সবটা হারানোর সাহস আমার হলো না।
আমিতো কলকাতা যাচ্ছি, মাসির বাড়ি! যাবে তুমি?
নিশ্চই! কিন্তু..পাসপোর্ট নেই, তাইতো?
আসলে কলকাতা তুমি যাবে না, তুমি চাও আমাকে একবার দেখতে।
ওর সবজান্তার মতো উত্তর! কালতো তোমার ফাইনার পরীক্ষা!
আমি খুব অসহায় ফিল করি!
রাতে দুঃস্বপ্ন দেখি, ঘুম ভেঙে যায়, এপাশওপাশ তারপর...
হাতে উঠে আসে ফোন আর তখনই কষ্টে বুকটা ভরে যায়
বন্ধু আমার কলকাতায়, ফোনে তাকে আর পাবো না।...
মাস কেটে যায়, বছরও গেলো সেদিন আরেক পহেলা ফাল্গুনে
অথচ কলকাতা থেকে সে আর আসে না, করে না ফোন,
আচার কিংবা খইয়ের মোয়া..
হয়ত আর আসবেও না, কোনওদিন!
এমনকরে কেন আসে মানুষ! মানুষের জীবনে?
তবু মনে পড়ে সেই বন্ধুকে!
বন্ধু তোমায় মনে পড়ে..
বড়ইর আচার ভালো লাগে, খইয়ের মোয়া ভালো লাগে,
ভালো লাগে আড়ালে রাখা পরিচয়..
তারচেয়ে ভালো লাগে তোমারে কণ্ঠবীণা,
অগোচরে হাজার পরিণয়..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


