somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদের জন্য গল্প!

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরলো আদনান, অনেকদিন পর। আজকাল ঈদেও আর বাড়ি ফেরা হয় না তার। মায়ের সাথে একটা ঈদ তো আরেকটা ঈদ নাদিয়াদের বাড়ি। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের একটা আলাদা মজা আছে কিন্তু আসল আনন্দটা পাওয়া যায় না। সবকিছুতেই কেমন একটা অতীব ফর্ম্যাল ব্যাপার থাকে। যতোই পোশাক আশাক থাক ঈদে শ্বশুরবাড়ির প থেকে একটা না একটা কিছু দেবেই। এখন সেটা খুশি মনেই হোক চুলজ্জার ভয়ে হোক তারা করে থাকেন। মানুষের এই বাধ্যবাধকতার পর্যায়ের কোনও কাজ আদনানের ভালো লাগেনা। আর নিজের বাড়ি ফিরতে পারলে যেন শাহানশাহ! কিছু না পেলেও পাওয়া হয় সবকিছু। এখানে সৌজন্যের খাতিরে বা লোকদেখানো কিছু নেই। তাই বাড়ি ফেরার পর বেশ ফুরফুরে লাগে আদনানের।
বাড়ি এসে একেবারেই ঘরোয়া ড্রেসে ঘুরতে বের হয়। দেখে নেয় অনেকদিন আগে রেখে যাওয়া বাড়িঘর, চারপাশ, পুকুর-নালা, গাছ-গাছালি কে কী অবস্থায় আছে। আর এসব কাজে একজন সঙ্গীও তার জুটে যায়।

-মা পুইচকাগুলিকি আছে?
-কার কথা বলছিস? আমিরুলদের কেউ?
আছে না ওরা?
আছেতো মনে হয়। তবে তুই কিন্তু এবার মিন্টুর সাথে একটু দেখা করে যাস। ওর যে কী হলো! ওর মাতো ওরে নিয়া দারুন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে।
ক্যান, আবার কি নতুন ঝামেলায় ফালাইলো।
নতুন আর কি, ওই মেয়ের ভুতটা নামার পর এখন আবার একটা অদ্ভুত রোগ যোগ হয়েছে। ওর নাকি ব্লাড ক্যান্সার!
মুহূর্তের মধ্যে আদনানের ভেতরটা কেমন চমকে যায়।
বলো কি মা!
হ্যাঁ, এটা ওর ধারণা। ডাক্তার পরীা-নিরীা করে বলেছে সেসবের কোনও লণ নাই। তবু ওর মনের ভিতর এক ধারণা, ওর ক্যান্সার হয়েছে, ও আর বাঁচবে না। যাকে পায় তারই হাতপা জড়িয়ে মাফ চায়, সে নাকি মারা যাবে, তাকে যেন সবাই মা করে দেয়।
তোমার হাতে পায়ে ধরেছে মা?
কতোবার!
তাইলেতো তুমি বোধয় ওকে মাই করে দিয়েছ। ও না তোমার লাউগাছ কেটে ফেলেছিল!
ধুর! ওসব কারও মনে থাকে নাকি!
তবে যাই বলো , মা আমার কিন্তু ভয় লাগছে। হতেওতো পারে ডাক্তাররা হয়ত ধরতে পারছে না। আজকাল ডাক্তারদের পরীায় কতো ভুল পরীাওতো হয়!
কী জানি! তবে তুই যেন আবার এইকথা ওকে বলতে যাসনে। তোর উস্কানী পেলে ও ধরে নেবে ও সত্যি সত্যিই মারা যাবে, তখন আর ওকে কেউ সামলাতে পারবে না।
আচ্ছা মা হঠাৎ ওর এরকম মনে হলো কেন? শুনেছি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনেসিনার আমলেও নাকি এমন একটা রোগ ছিল, সেদেশের রাজা নাকি বলতো আমি গরু, আমাকে জবাই করো, এই নিয়ে মহা তুলকালাম কাণ্ড!
হইছে, এইগল্প সবাই জানে।
সবাই জানে বলতে তুমিও জানো। তাই না? আমার গল্পটা মনে নাই, পুরোটা বলোতো।
বাঁদরামি রাখ!
তবে আতিকের রোগটা যদি একই রকম হতো তাহলে এবার একটু সুবিধা পাওয়া যেত। এবার গরুর যেই দাম!
ফাজলামি রাখ, ব্যাপারটা কিন্তু সিরিয়াস! আমারও কিন্তু মনে হয় একটা কিছু হয়েছে। প্রায়ই শুনি জ্বর! আর স্বাস্থ্যটাও কেমন নষ্ট হয়েে গেছে।

আতিকদের বাড়ি যেতে যেতে সাবিহার সাথে দেখা হলো। ও বেশ বড় ঘোমটা টেনে যাচ্ছিল।
কীরে! সাবিহা না?
জ্বি ভাইয়া
তা তোর এতোবড় ঘোমটা নাযিল হলো কবে? আছিস কেমন?
ভালো আছি ভাইয়া, আপনি কথন এলেন?
এইতো! নাইটে রওনা দিয়ে ভোরে পৌঁছলাম। তা তোর কি বিয়ে টিয়ে হয়ে গেলো নাকি? মাথায় এতোবড় ঘোমটা?
ধুর ভাইয়া! বিয়ে হলেইকি মেয়েরা ঘোমটা পড়ে, অন্যসময় বুঝি পড়ে না? ভাইয়া যে কী না?
হইছে ন্যাকামি রাখ! যাচ্ছিস কোথায়?
তনুদের বাসায় যাচ্ছি।
শুনলাম ও নাকি এবার ফেল করছে।
ভাইয়ার দেখছি সব খবরই আছে। বাড়ি আসেন না কেন?
বাড়ি এসে কী লাভ? সব খবরাখবরতো মোবাইলেই পাওয়া যায়। আচ্ছা যা, আমি একটু আতিকের সঙ্গে দেখা করে আসি।
ওহ! ভাইয়া, সাবধান কিন্তু! আতিক ভাইয়ার ভয়ানক একটা অসুখ হইছে, মনে হয় সে পাগল হয়ে গেছে, তবে অনেকের ধারণা বদজাতের কোনও জ্বিন-পরী হয়ত আছর করছে।
হইছে, তোদের এসব গালগল্প আমি ভালোই বুঝি। তুই তোর কাজে যা। বাসায় আসিস।
বলেই আদনান পা বাড়াল। মেয়েরা এই বয়সে এলে নিজেদের নিয়ে একটু ভাবতে শুরু করে। কথায় বার্তায় একটু স্মার্ট সাজার চেষ্টা করে। ভালো। ভালোইতো। ভাবতে গিয়ে হাসি পায় আদনানের। হঠাৎ বুকের ভেতর একটা করুণ সুর ভেসে ওঠে... সত্যিইকি আতিক!
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×