ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরলো আদনান, অনেকদিন পর। আজকাল ঈদেও আর বাড়ি ফেরা হয় না তার। মায়ের সাথে একটা ঈদ তো আরেকটা ঈদ নাদিয়াদের বাড়ি। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের একটা আলাদা মজা আছে কিন্তু আসল আনন্দটা পাওয়া যায় না। সবকিছুতেই কেমন একটা অতীব ফর্ম্যাল ব্যাপার থাকে। যতোই পোশাক আশাক থাক ঈদে শ্বশুরবাড়ির প থেকে একটা না একটা কিছু দেবেই। এখন সেটা খুশি মনেই হোক চুলজ্জার ভয়ে হোক তারা করে থাকেন। মানুষের এই বাধ্যবাধকতার পর্যায়ের কোনও কাজ আদনানের ভালো লাগেনা। আর নিজের বাড়ি ফিরতে পারলে যেন শাহানশাহ! কিছু না পেলেও পাওয়া হয় সবকিছু। এখানে সৌজন্যের খাতিরে বা লোকদেখানো কিছু নেই। তাই বাড়ি ফেরার পর বেশ ফুরফুরে লাগে আদনানের।
বাড়ি এসে একেবারেই ঘরোয়া ড্রেসে ঘুরতে বের হয়। দেখে নেয় অনেকদিন আগে রেখে যাওয়া বাড়িঘর, চারপাশ, পুকুর-নালা, গাছ-গাছালি কে কী অবস্থায় আছে। আর এসব কাজে একজন সঙ্গীও তার জুটে যায়।
-মা পুইচকাগুলিকি আছে?
-কার কথা বলছিস? আমিরুলদের কেউ?
আছে না ওরা?
আছেতো মনে হয়। তবে তুই কিন্তু এবার মিন্টুর সাথে একটু দেখা করে যাস। ওর যে কী হলো! ওর মাতো ওরে নিয়া দারুন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে।
ক্যান, আবার কি নতুন ঝামেলায় ফালাইলো।
নতুন আর কি, ওই মেয়ের ভুতটা নামার পর এখন আবার একটা অদ্ভুত রোগ যোগ হয়েছে। ওর নাকি ব্লাড ক্যান্সার!
মুহূর্তের মধ্যে আদনানের ভেতরটা কেমন চমকে যায়।
বলো কি মা!
হ্যাঁ, এটা ওর ধারণা। ডাক্তার পরীা-নিরীা করে বলেছে সেসবের কোনও লণ নাই। তবু ওর মনের ভিতর এক ধারণা, ওর ক্যান্সার হয়েছে, ও আর বাঁচবে না। যাকে পায় তারই হাতপা জড়িয়ে মাফ চায়, সে নাকি মারা যাবে, তাকে যেন সবাই মা করে দেয়।
তোমার হাতে পায়ে ধরেছে মা?
কতোবার!
তাইলেতো তুমি বোধয় ওকে মাই করে দিয়েছ। ও না তোমার লাউগাছ কেটে ফেলেছিল!
ধুর! ওসব কারও মনে থাকে নাকি!
তবে যাই বলো , মা আমার কিন্তু ভয় লাগছে। হতেওতো পারে ডাক্তাররা হয়ত ধরতে পারছে না। আজকাল ডাক্তারদের পরীায় কতো ভুল পরীাওতো হয়!
কী জানি! তবে তুই যেন আবার এইকথা ওকে বলতে যাসনে। তোর উস্কানী পেলে ও ধরে নেবে ও সত্যি সত্যিই মারা যাবে, তখন আর ওকে কেউ সামলাতে পারবে না।
আচ্ছা মা হঠাৎ ওর এরকম মনে হলো কেন? শুনেছি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনেসিনার আমলেও নাকি এমন একটা রোগ ছিল, সেদেশের রাজা নাকি বলতো আমি গরু, আমাকে জবাই করো, এই নিয়ে মহা তুলকালাম কাণ্ড!
হইছে, এইগল্প সবাই জানে।
সবাই জানে বলতে তুমিও জানো। তাই না? আমার গল্পটা মনে নাই, পুরোটা বলোতো।
বাঁদরামি রাখ!
তবে আতিকের রোগটা যদি একই রকম হতো তাহলে এবার একটু সুবিধা পাওয়া যেত। এবার গরুর যেই দাম!
ফাজলামি রাখ, ব্যাপারটা কিন্তু সিরিয়াস! আমারও কিন্তু মনে হয় একটা কিছু হয়েছে। প্রায়ই শুনি জ্বর! আর স্বাস্থ্যটাও কেমন নষ্ট হয়েে গেছে।
আতিকদের বাড়ি যেতে যেতে সাবিহার সাথে দেখা হলো। ও বেশ বড় ঘোমটা টেনে যাচ্ছিল।
কীরে! সাবিহা না?
জ্বি ভাইয়া
তা তোর এতোবড় ঘোমটা নাযিল হলো কবে? আছিস কেমন?
ভালো আছি ভাইয়া, আপনি কথন এলেন?
এইতো! নাইটে রওনা দিয়ে ভোরে পৌঁছলাম। তা তোর কি বিয়ে টিয়ে হয়ে গেলো নাকি? মাথায় এতোবড় ঘোমটা?
ধুর ভাইয়া! বিয়ে হলেইকি মেয়েরা ঘোমটা পড়ে, অন্যসময় বুঝি পড়ে না? ভাইয়া যে কী না?
হইছে ন্যাকামি রাখ! যাচ্ছিস কোথায়?
তনুদের বাসায় যাচ্ছি।
শুনলাম ও নাকি এবার ফেল করছে।
ভাইয়ার দেখছি সব খবরই আছে। বাড়ি আসেন না কেন?
বাড়ি এসে কী লাভ? সব খবরাখবরতো মোবাইলেই পাওয়া যায়। আচ্ছা যা, আমি একটু আতিকের সঙ্গে দেখা করে আসি।
ওহ! ভাইয়া, সাবধান কিন্তু! আতিক ভাইয়ার ভয়ানক একটা অসুখ হইছে, মনে হয় সে পাগল হয়ে গেছে, তবে অনেকের ধারণা বদজাতের কোনও জ্বিন-পরী হয়ত আছর করছে।
হইছে, তোদের এসব গালগল্প আমি ভালোই বুঝি। তুই তোর কাজে যা। বাসায় আসিস।
বলেই আদনান পা বাড়াল। মেয়েরা এই বয়সে এলে নিজেদের নিয়ে একটু ভাবতে শুরু করে। কথায় বার্তায় একটু স্মার্ট সাজার চেষ্টা করে। ভালো। ভালোইতো। ভাবতে গিয়ে হাসি পায় আদনানের। হঠাৎ বুকের ভেতর একটা করুণ সুর ভেসে ওঠে... সত্যিইকি আতিক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


