আসসালামু আলাইকুম বড়ভাই!
দরজা খুলেই ইয়া বড় এক সালাম। গলার স্বর উচ্চ।
আরে আস্তে! কেউ কেউ হয়ত ঘুমাচ্ছে।
কেন? আস্তে কেন? আর সকালে ঘুমই বা কীসের? মুসলমানদের ঐতিহ্য হলো ফজরের সময় ঘুম ভাঙবে! আসেন ভাইজান, ভিতরে আসেন।
তোর লেকচার শুনেতো আর ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছা করছে না। চল বাইরে চল, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
চলেন ভাইজান!
আবারও চিৎকার করে বলিস?
স্যরি! বড়ভাই, আমি এক্সট্রিমলি স্যরি!
তাওতো চিৎকার করে বলছিস! উফ!
মাফ করেন ভাইজান, আমারে মাফ করেন, আমার ভুল হয়ে গেছে, আমার অন্যায় হয়ে গেছে... হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। আমি আর বাঁচব না, আমার ক্যান্সার হয়েছে, ব্লাড ক্যান্সার!
মনটা খারাপ হয়ে যায় আদনানের।
ভাবতে থাকে ব্লাড ক্যান্সারের লণগুলো কী কী?
ভাইজান ব্লাড ক্যান্সারের সব লণ আমি জানি, আমার শরীরে সবকয়টা লণ আছে, আমার রুমমেট ঠিক একই রোগে মারা গেছে।
আদনান একটু অবাক হয় ওর ভাবনাটা আতিক টের পেলো কী করে? জিজ্ঞেস করে
তোর রুমমেট মানে? সুমন?
না , হারুণ! অরে আমরা মামা ডাকতাম। আপনেতো চিনতেন!
হ্যাঁ, চিনতামতো, তোর হলে গেছি যখন ওই তো রুমে আমাদের রান্না করে খাওয়ালো। তারপর ওর রান্নার ভূয়সী প্রশংসা করায় আবার স্ন্যাক্সে নিয়ে জামতলা খাওয়ালো। সেই হারুণ?
আতিক হাসান মিন্টু মাথা নাড়ায়।
সেই ছেলে কীভাবে মারা গেলো?
আর বইলেন না ভাইজান, এই আমার রোগেই মারা গেছে। ওরও এরকম দু’দিন পরপর গায়ে জ্বর আসতো। খাওয়ায় রুচি পেতো না। আমিও পাই না। ভাইজান বিশ্বাস করেন আমি আর বাঁচব না। আমারে মাফ করে দেন!
ধ্যাত! থামতো! ডাক্তার দেখাসনি,
দেখাইছি, ভালো ডাক্তার না, একেক ডাক্তার একেক কথা বলে। এই টেস্ট সেই টেস্ট, তারপর বলে কোনও রোগই ধরা পড়ছে না। আসলে এটা নাকি কোনও রোগ না এটা মানসিক রোগ।
আমারও তাই মনে হয়। তোর বন্ধুটার আকস্মিক মৃত্যুটা তুই ভুলতে পারছিস না, ও যেহেতেু প্রায় সেম কারণেই মারা গেছে, তাই তোর ভিতরও বদ্ধমূল ধারণা যে তুইও মারা যাবি। এর বেশি কিছু না...
“কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই”দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করে মিন্টু।
আদনান বেশ ভয় পেয়ে যায়। ওর ভেতরে বাজে সেই হারানোর বেদনা।.... বাজতেই থাকে, ওরা হাঁটতেই থাকে...
রবীন্দ্রনাথের গল্পটা মনে পড়ে। কাদম্বিনী মৃত্যূর আসর থেকে বেছে গিয়ে ফিরে আসে কিন্তু তাকে আর কেউ মেনে নেয় না। সবাই ভাবে এটা প্রেতাত্মা। সেই মা পর্যন্ত বুঝতে পারে না যে তার সন্তান জীবিত ফিরে আসে। সমাজের এহেন আচরণে কাদম্বিনী পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরে প্রমাণ করে যে সে মরে নাই। মিন্টুর অবস্থাও কি তাই হবে?
মিন্টু ঢা.বিতে আইনে পড়ছে। মেধাবীই বটে। একেতো মেধাবী না হলে ঢা.বি.তে চান্স পাওয়া কঠিন। তার উপর আইন সাবজেক্টটা আরও কঠিন। আর সেই ছেলেটা এমনভাবে অকালে ঝড়ে যাবে? ওকে সান্ত্বনা দেওয়া মিছে। মানুষ তার চোখকেই সবচে বেশি বিশ্বাস করে। নিজের চোখে রুমমেটের মৃত্যু দেখেছে। সে একের পর এক ডাক্তারের পরীায়-নিরীায় ব্যর্থতা দেখেছে তার বন্ধুর েেত্র। সে কী করে আশ্বস্ত হবে যে আসলেই সে অসুস্থ নয় সুস্থ!
আদনান জ্বোরগলায় কিছু বলতে পারছে না। তবু ওকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে বলে
ঠিক আছে ধরে নিচ্ছি তোর অসুখটা হয়েছে। সব মানুষই একদিন মরবে। এতে এতো বিচলিত হবার কী আছে?
কই, আমিতো বিচলিত হইনি! আমি শুধু সবার কাছে মা চেয়ে নিচ্ছি। শোনেন বড় ভাই, আল্লাহ সব অপরাধ মা করতে পারে কিন্তু আমি যদি আপনার কোনও তি করে থাকি, আপনার কোনও হক নষ্টকরে থাকি সেটা আপনি মা না করলে আল্লাহও মা করবে না। আমি মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত না তবে সবার মা পাওয়া নিয়ে চিন্তিত।
কিন্তু তুই যেভাবে সবার হাতেপায়ে ধরে... এতে যে তোর পরিবারের লোকজন তোকে নিয়ে কী অস্বস্তিতে পড়েছে, তাদেরকে যে তুই কষ্ট দিচ্ছিস তার কী হবে।
বড়ভাই, আমার কবরে আমি যাবো, পরিবারের কেউ সেদিন কোনও কাজে আসবে না। মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের প্রতি কোথায় তারা একটু সিমপ্যাথেটিক হবে, তানা উল্টা আমারে সারাদিন খোঁচায়।...যেদিন ফুট দেবো সেদিন বুঝবে...
কথাটা বলার সময় ওর কণ্ঠটা কেঁেদ ওঠে। কেঁদে ওঠে আদনানেন বুকটা।....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


