somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই”

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম বড়ভাই!
দরজা খুলেই ইয়া বড় এক সালাম। গলার স্বর উচ্চ।
আরে আস্তে! কেউ কেউ হয়ত ঘুমাচ্ছে।
কেন? আস্তে কেন? আর সকালে ঘুমই বা কীসের? মুসলমানদের ঐতিহ্য হলো ফজরের সময় ঘুম ভাঙবে! আসেন ভাইজান, ভিতরে আসেন।
তোর লেকচার শুনেতো আর ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছা করছে না। চল বাইরে চল, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
চলেন ভাইজান!
আবারও চিৎকার করে বলিস?
স্যরি! বড়ভাই, আমি এক্সট্রিমলি স্যরি!
তাওতো চিৎকার করে বলছিস! উফ!
মাফ করেন ভাইজান, আমারে মাফ করেন, আমার ভুল হয়ে গেছে, আমার অন্যায় হয়ে গেছে... হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। আমি আর বাঁচব না, আমার ক্যান্সার হয়েছে, ব্লাড ক্যান্সার!
মনটা খারাপ হয়ে যায় আদনানের।
ভাবতে থাকে ব্লাড ক্যান্সারের লণগুলো কী কী?
ভাইজান ব্লাড ক্যান্সারের সব লণ আমি জানি, আমার শরীরে সবকয়টা লণ আছে, আমার রুমমেট ঠিক একই রোগে মারা গেছে।
আদনান একটু অবাক হয় ওর ভাবনাটা আতিক টের পেলো কী করে? জিজ্ঞেস করে
তোর রুমমেট মানে? সুমন?
না , হারুণ! অরে আমরা মামা ডাকতাম। আপনেতো চিনতেন!
হ্যাঁ, চিনতামতো, তোর হলে গেছি যখন ওই তো রুমে আমাদের রান্না করে খাওয়ালো। তারপর ওর রান্নার ভূয়সী প্রশংসা করায় আবার স্ন্যাক্সে নিয়ে জামতলা খাওয়ালো। সেই হারুণ?
আতিক হাসান মিন্টু মাথা নাড়ায়।
সেই ছেলে কীভাবে মারা গেলো?
আর বইলেন না ভাইজান, এই আমার রোগেই মারা গেছে। ওরও এরকম দু’দিন পরপর গায়ে জ্বর আসতো। খাওয়ায় রুচি পেতো না। আমিও পাই না। ভাইজান বিশ্বাস করেন আমি আর বাঁচব না। আমারে মাফ করে দেন!
ধ্যাত! থামতো! ডাক্তার দেখাসনি,
দেখাইছি, ভালো ডাক্তার না, একেক ডাক্তার একেক কথা বলে। এই টেস্ট সেই টেস্ট, তারপর বলে কোনও রোগই ধরা পড়ছে না। আসলে এটা নাকি কোনও রোগ না এটা মানসিক রোগ।
আমারও তাই মনে হয়। তোর বন্ধুটার আকস্মিক মৃত্যুটা তুই ভুলতে পারছিস না, ও যেহেতেু প্রায় সেম কারণেই মারা গেছে, তাই তোর ভিতরও বদ্ধমূল ধারণা যে তুইও মারা যাবি। এর বেশি কিছু না...
“কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই”দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করে মিন্টু।
আদনান বেশ ভয় পেয়ে যায়। ওর ভেতরে বাজে সেই হারানোর বেদনা।.... বাজতেই থাকে, ওরা হাঁটতেই থাকে...

রবীন্দ্রনাথের গল্পটা মনে পড়ে। কাদম্বিনী মৃত্যূর আসর থেকে বেছে গিয়ে ফিরে আসে কিন্তু তাকে আর কেউ মেনে নেয় না। সবাই ভাবে এটা প্রেতাত্মা। সেই মা পর্যন্ত বুঝতে পারে না যে তার সন্তান জীবিত ফিরে আসে। সমাজের এহেন আচরণে কাদম্বিনী পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরে প্রমাণ করে যে সে মরে নাই। মিন্টুর অবস্থাও কি তাই হবে?

মিন্টু ঢা.বিতে আইনে পড়ছে। মেধাবীই বটে। একেতো মেধাবী না হলে ঢা.বি.তে চান্স পাওয়া কঠিন। তার উপর আইন সাবজেক্টটা আরও কঠিন। আর সেই ছেলেটা এমনভাবে অকালে ঝড়ে যাবে? ওকে সান্ত্বনা দেওয়া মিছে। মানুষ তার চোখকেই সবচে বেশি বিশ্বাস করে। নিজের চোখে রুমমেটের মৃত্যু দেখেছে। সে একের পর এক ডাক্তারের পরীায়-নিরীায় ব্যর্থতা দেখেছে তার বন্ধুর েেত্র। সে কী করে আশ্বস্ত হবে যে আসলেই সে অসুস্থ নয় সুস্থ!

আদনান জ্বোরগলায় কিছু বলতে পারছে না। তবু ওকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে বলে
ঠিক আছে ধরে নিচ্ছি তোর অসুখটা হয়েছে। সব মানুষই একদিন মরবে। এতে এতো বিচলিত হবার কী আছে?
কই, আমিতো বিচলিত হইনি! আমি শুধু সবার কাছে মা চেয়ে নিচ্ছি। শোনেন বড় ভাই, আল্লাহ সব অপরাধ মা করতে পারে কিন্তু আমি যদি আপনার কোনও তি করে থাকি, আপনার কোনও হক নষ্টকরে থাকি সেটা আপনি মা না করলে আল্লাহও মা করবে না। আমি মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত না তবে সবার মা পাওয়া নিয়ে চিন্তিত।
কিন্তু তুই যেভাবে সবার হাতেপায়ে ধরে... এতে যে তোর পরিবারের লোকজন তোকে নিয়ে কী অস্বস্তিতে পড়েছে, তাদেরকে যে তুই কষ্ট দিচ্ছিস তার কী হবে।
বড়ভাই, আমার কবরে আমি যাবো, পরিবারের কেউ সেদিন কোনও কাজে আসবে না। মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের প্রতি কোথায় তারা একটু সিমপ্যাথেটিক হবে, তানা উল্টা আমারে সারাদিন খোঁচায়।...যেদিন ফুট দেবো সেদিন বুঝবে...
কথাটা বলার সময় ওর কণ্ঠটা কেঁেদ ওঠে। কেঁদে ওঠে আদনানেন বুকটা।....
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×