somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গত রাতে ঘুমাতে পারিনি! ওর কান্নায় আর...

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো টিউন করছিল সে, যাই শুনছি
কেবল মিথ্যে আর বাড়াবাড়িতে ভরপুর এবং একপেশে বলে
মনে হতে থাকে আমার। এর চেয়ে বিদেশী চ্যানেলগুলো ঢের ভালো
অন্তত বোমা মেরে অন্যের নাম দেয়া কিংবা বোমায় আহত হয়ে...
কাটাঘায়ে নুনের ছিটা দিতে হয় না।...
বৈশাখীতে এসে থামল সে...আমি অপেক্ষা করি তার বিরক্তি উৎপাদনের
কিন্তু না সে থেমে গেলো, সংবাদটাতে আমিও মনোযোগী হলাম।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্মিত! নিহত পরিবারের সদস্যের নিয়ে।
কেউ হারিয়েছে সদ্য বিবাহের স্বামী, সদ্যোজাত সন্তান হারিয়েছে পিতাকে
কেউ হারিয়েছে স্বামী সন্তান উভয়কে। যতদূর জানি সবমিলে ৭৩ জন।
এরপরও নেত্রী বলেছেন তারা সফল! কোন ক্ষেত্রে সফল হত্যাকাণ্ডে নাকি রক্ষায়? হিংস্র, ভিনদেশী গুপ্তঘাতকদের রক্ষায় সফল?
বাবার শোকে ছেলেও মারা যায় চারমাস পর। কার কবরে যাবে মা এবং স্ত্রী? কে অগ্রাধিকার পাবে? তারচেয়ে বড় প্রশ্ন কেউতো নেই সান্ত্বনা দেবার।
হত্যাকাণ্ড শুরু হয় সকাল ১০টার পর। সকাল আটটায় ডিজি শাকিল ফোনে আশঙ্কার কথা জানান সরকারের ঊর্ধতনদের! তারা কী করলেন?
এসব প্রশ্নে উত্তর দিতে পারেনি নেত্রী। সেনা সদস্যদের প্রশ্নোত্তরের
সেই রেকর্ড ইন্টারনেটের বদৗলতে তা আমরা জেনেছি।...
আমি কিছুতেই ভুলতে পারিছিলাম না, ঘুম থেকে উঠে ছেলে তার বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে!...
সম্প্রতি আমার ছেলের ভীষণ অসুখ হয়। ওকে কয়েকবার হাসপাতালে নিতে হয়। শেষে হাসপাতালের কাছাকাছি আপুর বাসায় নিয়ে রাখি। মাত্র দু'দিন, তাতেই আমার দুবছরেরও কম ছেলের যে প্রতিক্রিয়া আমি দেখলাম তাতে অবাক না হয়ে উপায় নাই। দুদিন সে খুবই অসুস্থ তবু যেভাবে প্রতিমুহূর্তে বাবাকে স্মরণে রেখেছে....
এবং বাসায় ফেরার পর বাবাকে পেয়ে সে যা করলো....কথা বলবে না। সে কী কান্না! এরপর সে রীতিমতো সুস্থ! আমার নিজেরও মনে হয়েছিল কতোকাল বাড়ির বাইরে! অথচ যেই ছেলে আর কোনওদিন তার বাবাকে ফিরে পাবে না তাকে সান্ত্বনা দেবার লোক হয়ত আছে, কিন্তু সান্ত্বনাকি আছে? সেই বাবা! সে....ই বাবাকে কী পাওয়া যাবে?
অপুর্ণাঙ্গ ভালোবাসা নিয়ে একধরণের বৈকল্য নিয়ে বেড়ে উঠবে এরা।
নেত্রী বলছেন খুব ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে পেরেছেন তারা। হয়ত ঠিক
এমনতো বলেছিল ডালিমরাও।
অকালে পিতৃহারা এসব সন্তান যেদিন বড় হবে নেত্রীর মতো পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেবে সেদিন বিবেচনা করা যাবে কতটুকু ঠিক ছিল তার ভূমিকা।
সে আমাকে তার পাশে যেতে বলে, খুব কষ্ট হচ্ছে তার, এ কষ্ট ব্যর্থতার! কিছুই করতে পারলাম না! নীরবে সয়ে গেলাম! তার অনুশোচনা। শোয়া থেকে উঠে গিয়ে কম্পিউটারে গান ছেড়ে দেয়, হায়দারের। আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার.....বুকে চাপা নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার! সত্যিতো এ ধিক্কার দেয়া ছাড়া আর কীইবা করতে পেরেছি আমরা?
গান শুনতে শুনতে সে শুয়ে পড়লো। আমাকে বলে আমাকে একটু সান্ত্বনা দেবে? আমি চেষ্টা করি বোঝাতে, আমাদের কী করার ছিল?
সে নিজেও গাইতে শুরু করে আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া...
তার সমস্ত মুখটা ভরে যায় অশ্রুতে। তাকে বোঝাতে চেষ্টা করি....যারা দেশকে ভালোবেসে সবাইকে ছেড়ে এক নির্বাসনের জীবনযাপন বেছে নেয়, তার নাম আর্মি।....সরকারের বেধে দেয়া জনাকয়েক বাবা মা ছেলে সন্তান সহোদর ভাইবোন ছাড়া আর কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে দেয়া হয় না ওদের। বাকীসব দেশের জনগণ। ওরা শেখে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য জীবন দেয়াই ওদের একমাত্র মিশন। অথচ কোনও গৗরবজনক কাজের বিনিময় ছাড়া বড় মূল্যহীন জীবন দিতে হলো। আর তাতে পাশের দেশ হলো খুশিতে আত্মহারা! আর কোনওদিন সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়াবে না বাঙলাদেশ। মেরুদণ্ড সোজা করে শক্ত কথা বলবে না বাংলাদেশ। পদুয়া বা ছিটমহল নিয়ে, কিংবা সীমান্তে অবৈধ মাল আটকাতে সাহস করবে না বাংলাদেশ।....
ফিলিস্তিন কিংবা তুরস্ক, আফগানিস্তান ইরাক অথবা পাকিস্তানের মতো হতে যাচ্ছে আমাদের দশা?
এসব ভাবতে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। ফজরের আযানে তন্দ্রাটুকু টুটে গেলো। নামাজের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে মনে পড়লো আবার সেই কথা...
শহীদ এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর কথা: তার স্বামী বলতো--আমার ছেলেকে নামাজী বানাবে, সে যেন ইসলামী ভাবধারার হয় এই দায়িত্বটুকু তোমার, বাকী সব দায়িত্ব নিয়েছিল সে। এখন সে নেই ওর বাবা মা সব আমি।...জানি না তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো কি না।....টাইপের কথা গুলো।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×