somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সেই গল্পটা! (শেষ নয়) মা পৃথিবীটা বড়ই আশ্চর্যের! একটা ছেলে আমাদেরকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ালো, সেকি উৎসাহ তার! আমরা খেয়েদেয়ে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রশংসা করায় সে আবার আরেকটা খাওয়া দেয়। সেই প্রাণোচ্ছল ছেলেটা আজ আর নেই। কেন এমন হুটহাট মানুষ চলে যায় মা?
যদি জানতাম ছেলেটা এভাবে চলে যাবে তাহলে ওকে আরেকটু ভালোকরে দেখতাম। অনুভব করতাম গভীরভাবে।... এখন খুব খারাপ লাগছে মা!
মিন্টুদের বাড়ি গেছিলি? ওর খুব খারাপ অবস্থা নারে?
হ্যাঁ মা, তবে ও মোটেও ভেঙে পড়েনি। অনেক স্ট্রং। পাগলামীটা স্্েরফ পরিশুদ্ধতার প্রতীক। মানুষের এমন বিনয়ীই হওয়া উচিৎ। ইংরেজরা কার্টেসি করে কথায় কথায় স্যরি বলে, এক্সকিউজমি বলে, তাদেরকে কেউ পাগল বলে না, বলে পৃথিবীর সবচে সভ্য জাতি। অথচ আমাদের দেশের কেউ এই বিনয় দেখালে আমরা ব্যাপারটাকে দেখি ভিন্নচোখে।...
-প্রচলন নাইতো, তাই। তোরও দেখছি অবস্থা বেশি ভালো না। আসলি ঈদ করতে, মিন্টুদের বাড়ি গিয়ে এলি মন খারাপ করে! আমার উচিৎ হয়নি তোকে...
-দুঃখকে চাপা দিয়ে সুখি হওয়া খুব কঠিন মা। তারচে দুঃখবে ফেইস করে যে সুখ সেটাই প্রকৃত সুখ।
-আঘাত পেলে মানুষের ভেতরের মানুষটা জেগে ওঠে। তোর কথাগুলো সেই ভিতরের মানুষের কথা।... কিন্তু এরকম বেশিণ ভাবনায় থাকলে আমিও কিন্তু মিন্টুর মায়ের মতো অসুস্থ হয়ে যাবো।...
মাথা থেকে চিন্তাটা ঝেড়ে ফেলে একটু ছেলেমানুষ হ। সাবিহা এসছিল। তোর সাথে নাকি রাস্তায় দেখা হইছে। তুই নাকি বাসায় আসতে বলেছিস!
তাই নাকি! আদনান একটু ভড়কে যায়। মেয়েটা বড় হয়েছে। ওদের সঙ্গে এখন কথা বলতে অনেক সাবধান হওয়া উচিৎ! কোন আচরণে কী ভেবে কী প্যাঁচ বাধে কে জানে। আর গ্রামের মানুষতো ১২ বছরকেও আঠার বছর বানিয়ে ফেলে।
হ্যাঁ আসতে বলেছিলাম, মানে এই আরকি, রাস্তায় দেখা হলো, বললাম বাসায় আসিস! ও আর কি বলল?
- কই আর কিছু না। মা হয়ত ছেলের বিব্রতবোধটা টের পেলো। আদনানের কানটা গরম হয়ে ওঠে। বোধয় একটু লালও হয়।
- ঠিক আছে, মা আমি একটু গোসলে যাচ্ছি।...


কেমনকরে যেন ভাবনায় সাবিহা নামের মেয়েটি ঢুকে পড়ে। আদনান চেষ্টাকরে যায়গা না দেওয়ার। লজ্জাও হয় কেন মেয়েটি বারবার ভাবনায় আসছে।... ভেবে ভীষণ বিচলিত বোধ করে সে। তারপর চেষ্টা করে আসুক, আর তাড়াতে চেষ্টা করবো না।

এদিকে আদনানের সেলফোনটা বেজেইে চলছে। একবার থামার পর আবারও বাজল। এবার মা ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে দেখার চেষ্টাকরে জে.এ.এন লেখা। পরিচিত কারও নাম নয় বলে ফোনটা আর মা রিসিভ করেন না। আদনান বের হলে জিজ্ঞেস করে তোকে একজন ফোন দিয়েছিল... কী যেন নাম জ্যান, কে?
আদনান সাধারণভাবেই ফোনটা হাতে নেয়। কিন্তু লিস্টে নামটা দেখে চমকে যায়। জ্যানতো নয় এটা জান। আবারও তার বিব্রত হওয়ার দশা। মাকে সে কী বলবে? জ্যান?
ওহ! হ্যাঁ মা জ্যান মানে জানুয়ারি! সংপ্তি!
এই নামে মানুষ আছে নাকি?
না, মানুষ নেই তবে... জ্যান বলে যেই মেয়েটা.. জিভ কাটে আদনান। একটা মেয়ে আছে আমাদের দুবছরের জুনিয়র, ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রী ছিলতো, তাই ইংরেজি উচ্চারণ করে একটু অন্যভাবে, জানুয়ারিকে বলে জ্যান, ফেব্র“য়ারিকে বলে ফ্যাব, আগে আমাদের খুব বিরক্ত লাগতো; এখন অবশ্য ওকেই অনেকে অনুসরণ করে। সবাই সংপে রাস্তায় আসছে মা!
-হু
-খেতে বস। তোকে নিয়ে একটু মার্কেটে যাবো। কিছু কেনা কাটা আছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861760 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861760 2008-10-29 22:31:43
কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই” দরজা খুলেই ইয়া বড় এক সালাম। গলার স্বর উচ্চ।
আরে আস্তে! কেউ কেউ হয়ত ঘুমাচ্ছে।
কেন? আস্তে কেন? আর সকালে ঘুমই বা কীসের? মুসলমানদের ঐতিহ্য হলো ফজরের সময় ঘুম ভাঙবে! আসেন ভাইজান, ভিতরে আসেন।
তোর লেকচার শুনেতো আর ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছা করছে না। চল বাইরে চল, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।
চলেন ভাইজান!
আবারও চিৎকার করে বলিস?
স্যরি! বড়ভাই, আমি এক্সট্রিমলি স্যরি!
তাওতো চিৎকার করে বলছিস! উফ!
মাফ করেন ভাইজান, আমারে মাফ করেন, আমার ভুল হয়ে গেছে, আমার অন্যায় হয়ে গেছে... হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। আমি আর বাঁচব না, আমার ক্যান্সার হয়েছে, ব্লাড ক্যান্সার!
মনটা খারাপ হয়ে যায় আদনানের।
ভাবতে থাকে ব্লাড ক্যান্সারের লণগুলো কী কী?
ভাইজান ব্লাড ক্যান্সারের সব লণ আমি জানি, আমার শরীরে সবকয়টা লণ আছে, আমার রুমমেট ঠিক একই রোগে মারা গেছে।
আদনান একটু অবাক হয় ওর ভাবনাটা আতিক টের পেলো কী করে? জিজ্ঞেস করে
তোর রুমমেট মানে? সুমন?
না , হারুণ! অরে আমরা মামা ডাকতাম। আপনেতো চিনতেন!
হ্যাঁ, চিনতামতো, তোর হলে গেছি যখন ওই তো রুমে আমাদের রান্না করে খাওয়ালো। তারপর ওর রান্নার ভূয়সী প্রশংসা করায় আবার স্ন্যাক্সে নিয়ে জামতলা খাওয়ালো। সেই হারুণ?
আতিক হাসান মিন্টু মাথা নাড়ায়।
সেই ছেলে কীভাবে মারা গেলো?
আর বইলেন না ভাইজান, এই আমার রোগেই মারা গেছে। ওরও এরকম দু’দিন পরপর গায়ে জ্বর আসতো। খাওয়ায় রুচি পেতো না। আমিও পাই না। ভাইজান বিশ্বাস করেন আমি আর বাঁচব না। আমারে মাফ করে দেন!
ধ্যাত! থামতো! ডাক্তার দেখাসনি,
দেখাইছি, ভালো ডাক্তার না, একেক ডাক্তার একেক কথা বলে। এই টেস্ট সেই টেস্ট, তারপর বলে কোনও রোগই ধরা পড়ছে না। আসলে এটা নাকি কোনও রোগ না এটা মানসিক রোগ।
আমারও তাই মনে হয়। তোর বন্ধুটার আকস্মিক মৃত্যুটা তুই ভুলতে পারছিস না, ও যেহেতেু প্রায় সেম কারণেই মারা গেছে, তাই তোর ভিতরও বদ্ধমূল ধারণা যে তুইও মারা যাবি। এর বেশি কিছু না...
“কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই”দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করে মিন্টু।
আদনান বেশ ভয় পেয়ে যায়। ওর ভেতরে বাজে সেই হারানোর বেদনা।.... বাজতেই থাকে, ওরা হাঁটতেই থাকে...

রবীন্দ্রনাথের গল্পটা মনে পড়ে। কাদম্বিনী মৃত্যূর আসর থেকে বেছে গিয়ে ফিরে আসে কিন্তু তাকে আর কেউ মেনে নেয় না। সবাই ভাবে এটা প্রেতাত্মা। সেই মা পর্যন্ত বুঝতে পারে না যে তার সন্তান জীবিত ফিরে আসে। সমাজের এহেন আচরণে কাদম্বিনী পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরে প্রমাণ করে যে সে মরে নাই। মিন্টুর অবস্থাও কি তাই হবে?

মিন্টু ঢা.বিতে আইনে পড়ছে। মেধাবীই বটে। একেতো মেধাবী না হলে ঢা.বি.তে চান্স পাওয়া কঠিন। তার উপর আইন সাবজেক্টটা আরও কঠিন। আর সেই ছেলেটা এমনভাবে অকালে ঝড়ে যাবে? ওকে সান্ত্বনা দেওয়া মিছে। মানুষ তার চোখকেই সবচে বেশি বিশ্বাস করে। নিজের চোখে রুমমেটের মৃত্যু দেখেছে। সে একের পর এক ডাক্তারের পরীায়-নিরীায় ব্যর্থতা দেখেছে তার বন্ধুর েেত্র। সে কী করে আশ্বস্ত হবে যে আসলেই সে অসুস্থ নয় সুস্থ!

আদনান জ্বোরগলায় কিছু বলতে পারছে না। তবু ওকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে বলে
ঠিক আছে ধরে নিচ্ছি তোর অসুখটা হয়েছে। সব মানুষই একদিন মরবে। এতে এতো বিচলিত হবার কী আছে?
কই, আমিতো বিচলিত হইনি! আমি শুধু সবার কাছে মা চেয়ে নিচ্ছি। শোনেন বড় ভাই, আল্লাহ সব অপরাধ মা করতে পারে কিন্তু আমি যদি আপনার কোনও তি করে থাকি, আপনার কোনও হক নষ্টকরে থাকি সেটা আপনি মা না করলে আল্লাহও মা করবে না। আমি মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত না তবে সবার মা পাওয়া নিয়ে চিন্তিত।
কিন্তু তুই যেভাবে সবার হাতেপায়ে ধরে... এতে যে তোর পরিবারের লোকজন তোকে নিয়ে কী অস্বস্তিতে পড়েছে, তাদেরকে যে তুই কষ্ট দিচ্ছিস তার কী হবে।
বড়ভাই, আমার কবরে আমি যাবো, পরিবারের কেউ সেদিন কোনও কাজে আসবে না। মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের প্রতি কোথায় তারা একটু সিমপ্যাথেটিক হবে, তানা উল্টা আমারে সারাদিন খোঁচায়।...যেদিন ফুট দেবো সেদিন বুঝবে...
কথাটা বলার সময় ওর কণ্ঠটা কেঁেদ ওঠে। কেঁদে ওঠে আদনানেন বুকটা।....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861454 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861454 2008-10-29 09:58:28
ঈদের জন্য গল্প! বাড়ি এসে একেবারেই ঘরোয়া ড্রেসে ঘুরতে বের হয়। দেখে নেয় অনেকদিন আগে রেখে যাওয়া বাড়িঘর, চারপাশ, পুকুর-নালা, গাছ-গাছালি কে কী অবস্থায় আছে। আর এসব কাজে একজন সঙ্গীও তার জুটে যায়।

-মা পুইচকাগুলিকি আছে?
-কার কথা বলছিস? আমিরুলদের কেউ?
আছে না ওরা?
আছেতো মনে হয়। তবে তুই কিন্তু এবার মিন্টুর সাথে একটু দেখা করে যাস। ওর যে কী হলো! ওর মাতো ওরে নিয়া দারুন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে।
ক্যান, আবার কি নতুন ঝামেলায় ফালাইলো।
নতুন আর কি, ওই মেয়ের ভুতটা নামার পর এখন আবার একটা অদ্ভুত রোগ যোগ হয়েছে। ওর নাকি ব্লাড ক্যান্সার!
মুহূর্তের মধ্যে আদনানের ভেতরটা কেমন চমকে যায়।
বলো কি মা!
হ্যাঁ, এটা ওর ধারণা। ডাক্তার পরীা-নিরীা করে বলেছে সেসবের কোনও লণ নাই। তবু ওর মনের ভিতর এক ধারণা, ওর ক্যান্সার হয়েছে, ও আর বাঁচবে না। যাকে পায় তারই হাতপা জড়িয়ে মাফ চায়, সে নাকি মারা যাবে, তাকে যেন সবাই মা করে দেয়।
তোমার হাতে পায়ে ধরেছে মা?
কতোবার!
তাইলেতো তুমি বোধয় ওকে মাই করে দিয়েছ। ও না তোমার লাউগাছ কেটে ফেলেছিল!
ধুর! ওসব কারও মনে থাকে নাকি!
তবে যাই বলো , মা আমার কিন্তু ভয় লাগছে। হতেওতো পারে ডাক্তাররা হয়ত ধরতে পারছে না। আজকাল ডাক্তারদের পরীায় কতো ভুল পরীাওতো হয়!
কী জানি! তবে তুই যেন আবার এইকথা ওকে বলতে যাসনে। তোর উস্কানী পেলে ও ধরে নেবে ও সত্যি সত্যিই মারা যাবে, তখন আর ওকে কেউ সামলাতে পারবে না।
আচ্ছা মা হঠাৎ ওর এরকম মনে হলো কেন? শুনেছি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনেসিনার আমলেও নাকি এমন একটা রোগ ছিল, সেদেশের রাজা নাকি বলতো আমি গরু, আমাকে জবাই করো, এই নিয়ে মহা তুলকালাম কাণ্ড!
হইছে, এইগল্প সবাই জানে।
সবাই জানে বলতে তুমিও জানো। তাই না? আমার গল্পটা মনে নাই, পুরোটা বলোতো।
বাঁদরামি রাখ!
তবে আতিকের রোগটা যদি একই রকম হতো তাহলে এবার একটু সুবিধা পাওয়া যেত। এবার গরুর যেই দাম!
ফাজলামি রাখ, ব্যাপারটা কিন্তু সিরিয়াস! আমারও কিন্তু মনে হয় একটা কিছু হয়েছে। প্রায়ই শুনি জ্বর! আর স্বাস্থ্যটাও কেমন নষ্ট হয়েে গেছে।

আতিকদের বাড়ি যেতে যেতে সাবিহার সাথে দেখা হলো। ও বেশ বড় ঘোমটা টেনে যাচ্ছিল।
কীরে! সাবিহা না?
জ্বি ভাইয়া
তা তোর এতোবড় ঘোমটা নাযিল হলো কবে? আছিস কেমন?
ভালো আছি ভাইয়া, আপনি কথন এলেন?
এইতো! নাইটে রওনা দিয়ে ভোরে পৌঁছলাম। তা তোর কি বিয়ে টিয়ে হয়ে গেলো নাকি? মাথায় এতোবড় ঘোমটা?
ধুর ভাইয়া! বিয়ে হলেইকি মেয়েরা ঘোমটা পড়ে, অন্যসময় বুঝি পড়ে না? ভাইয়া যে কী না?
হইছে ন্যাকামি রাখ! যাচ্ছিস কোথায়?
তনুদের বাসায় যাচ্ছি।
শুনলাম ও নাকি এবার ফেল করছে।
ভাইয়ার দেখছি সব খবরই আছে। বাড়ি আসেন না কেন?
বাড়ি এসে কী লাভ? সব খবরাখবরতো মোবাইলেই পাওয়া যায়। আচ্ছা যা, আমি একটু আতিকের সঙ্গে দেখা করে আসি।
ওহ! ভাইয়া, সাবধান কিন্তু! আতিক ভাইয়ার ভয়ানক একটা অসুখ হইছে, মনে হয় সে পাগল হয়ে গেছে, তবে অনেকের ধারণা বদজাতের কোনও জ্বিন-পরী হয়ত আছর করছে।
হইছে, তোদের এসব গালগল্প আমি ভালোই বুঝি। তুই তোর কাজে যা। বাসায় আসিস।
বলেই আদনান পা বাড়াল। মেয়েরা এই বয়সে এলে নিজেদের নিয়ে একটু ভাবতে শুরু করে। কথায় বার্তায় একটু স্মার্ট সাজার চেষ্টা করে। ভালো। ভালোইতো। ভাবতে গিয়ে হাসি পায় আদনানের। হঠাৎ বুকের ভেতর একটা করুণ সুর ভেসে ওঠে... সত্যিইকি আতিক!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861437 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861437 2008-10-29 08:30:45
প্রিয় আবৃত্তিকার! একজন বলল- কিন্তু তারতো ছাগলা দাঁড়ি ছিল!
হ্যাঁ ছিল। কেটে ফেলেছি, তবে আপনার মন্তব্যটা একটু পরিশীলিত হলে ভালো হতো। ছাগলা দাঁড়ি বলে কিন্তু রাসূল স: এর সুন্নতের প্রতি অপমান করা হয়।
স্যরি! আসলে ওভাবে ভেবে বলিনি! এক্সট্রিমলি স্যরি।
তবে আপনাকে এখন অনেক হ্যান্ডসাম লাগছে। দারুন!
ওনার ভোকালটাই ওনার সব সৌন্দর্যের জন্য যথেষ্ট। বলে উঠল সামিয়া। সে আরও বলল- ঈর্ষা করার স্বভাব তোমার এখনও আছে ড. আশরাফ? দোলন তোমার চে অনেক বেশি সুন্দর বলে তুমি ওকে....
ওরা কিন্তু এখন অনেক ভালো বন্ধু! বলে ডা. সিনা
আইম সো সারপ্রাইজড! মি: শিমূল।
আপনি অসুস্থ তাই দেখতে এলাম, ম্যডাম! না বলে চলে এলাম! স্যরি!
জানলেন কী করে? আমি...
বাসায় ফোন করেছিলাম,
পরিচয় গোপন করাটা অপরাধ! কেন করলেন? সেলিব্রেটি বলে? চমকে দেবেন বলে? ওকে ফাইন! আপনি এখন আসুন প্লিজ!....
সবার সামনে অসহায় ফিল করে শিমূল। এতোগুলো সমবয়সীর সামনে এভাবে....
প্লিজ সবাই আসুন! আই ফিল নো বেটার। ডা: দোলনকে পেলে ভালো হতো। আমার ডিচচার্জ কখন বাবা?.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861088 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28861088 2008-10-28 16:01:44
আসল পরিচয়! নিশির আগমনে হঠাৎ হাসপাতালের চিত্রটা যেন বদলে যায়। সঙ্গে আসে ওর ছোট ভাই। আন্দালিব। অনেকগুলো ফুল হাতে ওর। সরাসরি ভেতরে যায় না সে।পা ছুঁয়ে সালাম করে সামিয়ার বাবাকে।

এদিকে ফোনটা বেজেই চলছে বাসার। কাজের মেয়েটা সুযোগপেয়ে ঘুম দিয়েছে। নিশিকে দেখে চোখ মেলে সামিয়া। বন্ধুকে জড়িয়ে সে কি কান্না নিশির। অনেকদিনের বন্ধুত্ব। একসঙ্গেই আছে ছোটবেলা থেকে। স্কুল জীবন,. প্রাইমারি জীবন এবংবিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও। নিশি হলে থাকত। ওর সাবজেক্ট সাইকলজি। সামিয়া পরীক্ষার আগে গিয়ে ওর রুমে উঠত। একসাথে দুজনে পড়ত।

ফোনটা বাজতে বাজতে থামে আবার বাজে। অবশেষে ঘুম ভাঙে বুয়ার। ফোন ধরে। জানায় সামিয়া হাসপাতালে। তারপর আবার ঘুম।
এদিকে ছেলেটি আসে সামিয়াকে দেখতে হাসপাতালে। যথেষ্ট হ্যান্ডসাম। ওর ডাক্তার বন্ধুরাও একটু চোখ বাঁকা করে। কেই ভাবে না, তেমন কেউ হতে পারে না। সামিয়ার রুচি এতো নীচে নামবে না যে স্বামীকে একবছরের মধ্যে ভুলে গিয়ে আরেকজনের প্রেমে ঝুলে পড়বে। তবে এটা কে?
ছেলেটি সবার সাথেই করমর্দন করে। সামিয়া তাকায় ওর দিকে। সবাই অপেক্ষা করে কী দৃশ্য হয়! কে ছেলেটি? যাকে কেউ চেনে না! তার সাথে কীসের সম্পর্ক সামিয়ার? সামিয়ার বাবাকে দেখে মনে হয় না সে ব্যাপারটা নিয়ে কিছু ভাবছে।...
আমি...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28859685 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28859685 2008-10-25 21:43:31
স্পর্শ! অপলক, যদি দৃষ্টিতে আসে প্রশ্রয়! পাই সাহস!
তার মুখটা ভার! দীর্ঘ পথযাত্রীর মতো। ক্লান্ত এবং
দারুণ কর্কশ! শুকনো ঠোঁটে রোজার চিহ্ন! তবু
ভালো লাগে হাসী, ভালো লাগে চোখ রাঙানী আর
ধুর ছাই বলা কমন বিরক্তিবাক্য।

আমি আঠার মতো, লেগে থাকি তার চারপাশ।
সে তাকায় না এতটুকু। আবার অকরুণাও করে না,পষ্টভাবে।
আমি ব্যকুল হই আরও ব্যাকুল! আমি অপেক্ষায় থাকি
শুধুই অপেক্ষায়!

অবশেষে ..
ফেরার সময়! তার এতটুকু দয়া হয়, বলে
আবার আসবেন!
আমি এইটুকু প্রশ্রয়ে সাহস করি! এবং ধৃত হই
এবং নিসীম লজ্জা নিয়ে হই ফেরার। আর
তারপরই জানতে পারি, সে অন্যের একান্তই অন্যের
হতে চলেছে নিরন্তর!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28842238 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28842238 2008-09-12 19:56:46
আমি আবার এলাম ফিরে ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28842105 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28842105 2008-09-12 13:51:19 আগুনের কণ্ঠে http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28824414 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28824414 2008-07-26 19:13:26 তারিন তোমার জন্মদিনে আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তুমি বেঁচে থাকো আমাদের হৃদয়ে চিরকাল। হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ!]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28824293 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28824293 2008-07-26 11:37:51 আমি এখানে কেন? গ্রুপের সদস্য হিসেবে আমাকে কী কী করতে হবে আর কী কী করা যাবে না বলে দিলে ভালো হয়।... বিরক্ত হলে নিজেই আবিষ্কার করে নেবো। তবে সময় লাগবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28819552 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28819552 2008-07-12 18:38:36
ছবি-২ দাঁত ভেঙোনা কেউ
তোমার ভাগের হাড্ডিগুলো
খাবে ঘেউ ঘেউ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28818853 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28818853 2008-07-10 14:25:23
ছবি দিয়ে কবিতা! কুল পারতে গাঁ য়ে যা।
তোর বাবার নাকে বোম
তোমার মাকে বলে ভোম!

শুয়ে থেকে কান্না কর
কোলে চড়ে কানটা ধর!

আমি এসে ফিটার দেব
কান্না তোমার কেড়ে নেবো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28818851 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28818851 2008-07-10 14:17:58
অসভ্যতার শেষ নেই যেখানে! আজকের পাবলিক বাসেও একই দৃশ্য। টিআইবির রিপোর্টে এই সরকারের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। মোজাফ্ফর স্যারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু চিনি তাতে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে পূর্ণমাত্রায়। কিন্তু নিঃসঙ্কোচে মেনে নেবার মতো কোনও রিপোর্ট আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাইনি। বিশেষকরে যেসব জরিপ চালানো হয় তার বেশিরভাগই হয় দায়সারাগোছের এবং অনুমান নির্ভর কিছু কৌশলী ডাটার মাধ্যমে। যার বেশিরভাগটা হয় টেবিল ওয়ার্ক এর মাধ্যমে, ফিল্ড পর্যায়ে পয়ৃবেক্ষণের মাধ্যমে নয়। যদি সেভাবেই পর্যবেক্ষণ করে কোনও রিপোর্ট তৈরী করতে হয় তাহলে এই সরকারের দুর্নীতি -দুর্নীতি নিরূপন করতে আরও অন্তত একবছর সময় লাগার কথা। সরকারের একবছরের দুর্নীতি
২-৩মাসেই পেয়ে গেলো টিআইবি? তারা কি গায়েব জানে?
আমাকে যদি বলা হয় এই সরকারের দশটি ভালোকাজ বলতে আমি কষ্টমস্ট করে বলতে পারবো। তবে যদি বলা হয় এই সরকারের ২টি খারাপ কাজের কথা, আমি(প্রমাণ সাপেক্ষে) বলতে পারবো না। একটি হয়ত হুজুগে বাঙালির মতো বলতে পারি দ্রব্যমূল্যের দাম। বাসভাড়া নিয়ে যে হৈচৈ তা নিতান্তই অমূলক। যেই দেশে কোটিকোটি টাকা নষ্ট হয় বিদেশি সিগারেটের পেছনে সেই দেশে ১০টাকার ভাড়া ১২টাকা হলে এমনকিছু সর্বনাশ হয়ে যায় না।..
গাড়ির ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার সব গাড়িতে টিবকট সিস্টেম করে দিয়েছে। একজন ভদ্রলোক সরকারের এইকাজটিতেও অশেষ নিন্দা দেখতে পান কারণ টিকেট ছাপানোর টাকাটাতো বাঁচতো। কিন্তু তাতে আপনার অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করা যেত। এতো যিনি বোঝেন তার কি আরও আগে বোঝা উচিৎ নয় যে ঢাকা শহরের অফিস আদালতগুলো এতো ডেকোরেটেড করা হয় কেন? খেজুরপাতার শাসনওতো করা যায়। সবকিছুতে ভুল খোঁজা নিদারূণ অসভ্যতা...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28817864 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28817864 2008-07-07 22:14:21
সঙ্কট আজ বিশ্বজুড়ে ফসল ফলাই ক্ষেতে
ফলন ভালো হলে সবাই
উঠবে জানি মেতে।

সঙ্কট আজ বিশ্বজুড়ে
দৈনন্দিন খাদ্যে
কে কে যাবি ফের মাঠে চল
বিতর্কটা বাদদে।


আজ খুব ভোরে
ভেঙে গেলো ঘুম আযানে
হাঁটতে বেরোলাম
নামাজ পড়ে বাগানে।

ফসলের ক্ষেত ভরে
আছে সোনা যার
সূর্যটা আভা দেয়
চোখে মুখে তার।

কৃষকের হাসিতে
উজ্জ্বল দেশময়
এতসুখ ছিল কি
ওরা ছিল যে সময়?

কৃষক ফলায় কষ্ট করে
ফসল উঠতো আরেক ঘরে
মহাজনী মাতবর
কিছুটা ফসল চুরি যায় যদি
ভরে যেত নৌকা, মাছের নদী
পাহাড়া দিত রাতভর।

এখন শ্রমিক পাচ্ছে ভাতা
কিংবা ডিজেলের দাম
তবু কেন ঘোচে না
এই সরকারের বদনাম?

বোঝে না মানুষ কে ভালো আর
মন্দ মানুষ কারা
সবাই ভাবে তারাই খারাপ
ক্ষমতায় থাকে যারা।

সহজ সরল মানুষগুলিরে
নাচায় ওরা রাজনীতিবিদ
মিডয়াগুলো সমস্বরে
গাইছে চোরের বন্দনা-গীত।

চোরেরা ভাবে সামলে দিবে
অপরাধের মাত্রা
ওসব স্বপ্ন আর দেখো না
শুরু দুদকের যাত্রা।

যতো খুশি গালি দিক ওরা
নেতাদের চামচা
আমরা কৃষক তোমার সাথে
কোমরে বাধা গামছা।
একটা চোরও যেন পায় না ছাড়া
এই আমাদের দাবি
আমাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে ওরা
বলে সব হাবিযাবি।
জনগণ আর জাতির নামে
যা যা কিছু ওরা বলে
ওসব সবই ওদেরই কথা
পায় না শোভা আমাদের গলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28805243 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28805243 2008-06-01 19:44:19
অ.নে.ক দিন পর তাই..
বাসাবাড়ি

এই শহরে এইতো প্রথম আসা।
আড়াইটা রাত খুঁজে বেড়াই কোন ঠিকানায় বাসা।
লণ্ঠনটা ঝুলিয়ে হাতে আন্দাজে যাই চলি,
অজগরের ভূতের মতন গলির পরে গলি।

ধাঁধা ক্রমেই বেড়ে ওঠে, এক জায়গায় থেমে
দেখি পথের বাঁদিক থেকে ঘাট গিয়েছে নেমে।
আঁধার মুখোশ-পরা বাড়ি সামনে আছে খাড়া;
হাঁ-করা-মুখ দুয়ারগুলো, নাইকো শব্দসাড়া।
চৌতলাতে একটা ধারে জনলাখানার ফাঁকে
প্রদীপশিখা ছুঁচের মতো বিঁধছে আঁধারটাকে।

বাকি মহল যত
কালো মোটা ঘোমটা দেওয়া দৈত্যনারীর মতো।
বিদেশীর এই বাসাবাড়ি, কেউবা কয়েক মাস
এইখানে সংসার পেতেছে, করছে বসবাস;
কাজকর্ম সাঙ্গ করি কেউবা কয়েক দিনে
চুকিয়ে ভাড়া কোনখানে যায়, কেই বা তাদের চিনে।
শুধাই আমি“ আছ কি কেউ জায়গা কোথায় পাই।”
মনে হলো জবাব এল, “আমরা নাই নাই।”
সকল দুয়ার জানলা হতে, যেন আকাশ জুড়ে
ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ল পাখি শূন্যে চলল উড়ে।
একসঙ্গে চলার বেগে হাজার পাখা তাই
অন্ধকারে জাগায় ধ্বনি “আমরা নাই নাই।”
আমি শুধাই “কিসের কাজে এসেছ এইখানে।”
জবাব এল, “সেই কথাটা কেহই নাহি জানে।
যুগে যুগে বাড়িয়ে চলি নেই-হওয়াদের দল,
বিপুল হয়ে ওঠে যখন দিনের কোলাহল
সকল কথার উপরেতে চাপা দিয়ে যাইÑ
নাই,নাই,নাই”

পরের দিনে সেই বাড়িতে গেলেম সকালবেলাÑ
ছেলেরা সব পথে করছে লড়াইÑলড়াই খেলা,
কাঠি হাতে দুই পরে চলছে ঠকাঠকি।
কোণের ঘরে দুই বুড়োতে বিষম বকাবকিÑ
বাজিখেলায় দিনে দিনে কেবল জেতা হারা,
দেনা পাওনা জমতে থাকে, হিসাব হয় না সারা।
গন্ধ আসছে রান্নাঘরের, শব্দ বাসন-মাজার;
শূন্য ঝুড়ি দুলিয়ে হাতে ঝি চলেছে বাজার।
একে এক এদর সবার মুখের দিকে চাই,
কানে আসে রাত্রিবেলার “আমরা নাই নাই।”




শালিখ (পুনশ্চ)
শালিখটার কী হল তাই ভাবি।
একলা কেন থাকে দলছাড়া।
প্রথম দিন দেখেছিলেম শিমুল গাছের তলায়,
আমার বাগানে,
মনে হল একটু যেন খুঁড়িয়ে চলে।
তার পরে ঐ রোজ সকালে দেখিÑ
সঙ্গীহারা, বেড়ায় পোকা শিকার করে।
উঠে আসে আমার বারান্দায়,
নেচে নেচে সে করে পায়চারি,
আমার ’পরে একটুকু নেই ভয়।
কেন এমন দশা।
সমাজের কোন্ শাসনে নির্বাসনের পালা,
দলের কোন্ অবিচারে
জাগল অভিমান।
কিছু দূরেই শালিখগুলো
করছে বকাবকি,
ঘাসে ঘাসে তাদের লাফালাফি,
উড়ে বেড়ায় শিরীষ গাছের ডালে ডালে,
ওর দেখিতো খেয়াল কিছুই নেই।
জীবনে ওর কোনখানে যে গাঁঠ পড়েছে
সেই কথাটাই ভাবি।
সকালবেলার রোদে যেন সহজ মনে
আহার খুঁটে খুঁটে
ঝরে-পড়া পাতার উপর
লাফিয়ে বেড়ায় সারাবেলা।
কারো উপর নালিশ আছে
মনে হয় না একটুও তা।
বৈরাগ্যের গর্বতো নেই ওর চলনে, কিম্বা দুটো আগুন-জ্বলা চোখ।

কিন্তু ওকে দেখি নি তো সন্ধেবেলায়Ñ
একলা যখন যায় বাসাতে ডালের কোণে
ঝিল্লি যখন ঝিঁ ঝিঁ করে অন্ধকারে,
হাওয়ায় আসে বাঁশের পাতার ঝরঝরানি।
গাছের ফাঁকেতাকিয়ে থাকে ঘুমভাঙানো
সঙ্গীবিহীন সন্ধ্যাতারা।


কোপাই

পদ্মা কোথায় চলেছে দূর আকাশের তলায়,
মনে মনে দেখি তাকে।
এক পারে বালুর চর,
নির্ভীক কেননা নিঃস্ব, নিরাসক্ত,Ñ
অন্য পারে বাঁশবন, আমবন,
পুরনো বট, পোড়ো ভিটে,
অনেক দিনের গুঁড়ি-মোটা কাঁঠালগাছÑ
পুকুরের ধারে সর্ষেখেত,
পথের ধারে বেতের জঙ্গল,
দেড়শো বছর আগেকার নীলকুঠির ভাঙা ভিত,
তার বাগানে দীর্ঘ ঝাউগাছে দিনরাত মর্মরধ্বনি।
ঐখানে রাজবংশীদের পাড়া,
ফাটল-ধরা খেতে ওদের ছাগল চরে,
হাটের কাছে টিনের ছাদওয়ালা গঞ্জÑ
সমস্ত গ্রাম নির্মম নদীর ভয়ে কম্পান্বিত।

পুরাণে প্রসিদ্ধ এই নদীর নাম,
মন্দাকিনীর প্রবাহ ওর নাড়ীতে।
ও স্বতন্ত্রঅ লোকালয়ের পাশ দিয়ে ও চলে যায়, তাদের সহ্য করে, স্বীকার করে না।
বিশুদ্ধ তার আভিজাতিক ছন্দে
এক দিকে নির্জন পর্বতের স্মৃতি, আর-এক দিকে নিঃস্বঙ্গ সমূদ্রের আহ্বান।

বাসা
ময়ূরাী নদীর ধারে।
আমার পোষা হরিণে বাছুরে যেমন ভাব
তেমনি ভাব শালবনে আর মহুয়ায়।
ওদের পাতা ঝরছে গাছের তলায়,
উড়ে পড়ছে আমার জানলাতে।
তালগাছটা খাড়া দাঁড়িয়ে পূবের দিকে,
সকালবেলার বাঁকা রোদ্দুর
তারই চোরাই ছায়া ফেলে আমারে দেয়ালে।
নদীর ধারে ধারে পায়ে-চলা পথ
রাঙা মাটির উপর দিয়ে
কুড়চির ফুল ঝরে তার ধুলোয়;
বাতাবিলেবু-ফুলের গন্ধ
ঘনিয়ে ধরে বাতাসকে;
জারুল পলাশ মাদারে চলেছে রেষারেষি;
শজনে ফুলের ঝুরি দুলছে হাওয়ায়;
চামেলি লতিয়ে গেছে বেড়ার গায়ে গায়ে,
ময়ূরাী নদীর ধারে।



বিচ্ছেদ
আজ এই বাদলার দিন,
এ মেঘদূতের দিন নয়।
এ দিন অচলতায় বাঁধা।
মেঘ চলছে না, চলছে না হাওয়া,
টিপি টিপি বৃষ্টি
ঘোমটার মতো পড়ে আছে
দিনের মুখের উপর।

ট্রাজেডি অফ কুইন
ওরা নিজেরাই বিয়ে করে, পালিয়ে; বন্ধুদের সহযোগিতায়।
পরিবার মেনে নেয়, মেয়ের। ছেলের পরিবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া করে।
সুযোগ আসে একটা, মেয়েটা শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পায়। বাধ সাধে মেয়ের মা।
স্বামীর রাগের ভয়ে, এবং সুযোগে শ্বশুর বাড়িতে স্থানলাভের আশায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে মেয়েটি। হাতে মাত্র দু’শ টাকা। পথের অনেকগুলো বিপদ কাটিয়ে মেয়েটি পৌঁছে যায় তার শ্বশুর বাড়ি। গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো, যদি না মেয়েটি...
শ্বাশুড়ী সুস্থ হবার পর মেয়েটি আসে স্বামীর কাছে। অপুরন্ত ভালোবাসায় কেটে যায় সময়গুলো। স্বামী তার অফিস পালিয়ে চলে আসে বাসায়, সকাল সকাল। চাকরি চলে যায়।
প্রচণ্ড বিপদে পড়ে যায় ওরা।
মেয়ের বাপের বাড়ির লোকের সাথে রাগারাগি থাকায় যেতে পারে না। ওর শ্বাশুড়ী তখন বড় ছেলের বাসায়, নাতনীকে দেখাশোনা করতে।
কে কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে? সারাদিন অপোয় থাকে যদি মেয়ের মা সব ভুলে ডাকে ওদের!

এদিকে প্রেগনেন্ট হয়ে পড়ে মেয়েটি। ছেলেটি অনুমতি দেয়, বরং রিকোয়েস্ট করে বাপের বাড়ি যেতে। মেয়েটি একরোখা। যায় না। তাছাড়া ম্বামীর কষ্টের কথা ভেবে...
দারিদ্র, পরিশ্রম, কষ্ট আর অযতেœ সন্তান প্রসবকালে মেয়েটি মারা যায়।

ট্রাজিক!
জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে বরতে অবশেষে আত্মহত্যা করে ঢা.বি.র মেধাবী ছাত্র ইব্রাহিম।
ছেলেটি আত্মহত্যা করে
 অপমানে
 রোগ-যন্ত্রণায়
 ুধা ও দারিদ্রের কারণে।
ভালো ছাত্র!
গভীর বন্ধুত্ব, ঈর্ষাকাতর হয় রেজাল্টে। সবাই ওকে ভালোবাসে। টিচার, বন্ধুরা, বাবা মা, সবাই।
খারাপ বানানোর চেষ্টা করে একদল। মেয়েদের দিয়ে ফোনে ডিস্টার্ব করায়। নেশায় টেনে নেয়।

চিত্রকল্প!
লাশ কাধে কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক, স্মৃতি।
মৃত স্ত্রীর সংবাদ নিয়ে যাচ্ছে নায়ক তার পরিবারের কাছে।

রিক্সাঅলার মান
অন্যায় না করেও হাজারও লোকের সামনে থাপ্পর খাওয়ার অপমানে আত্মহত্যা করে একজন রিক্সাঅলা।

আমার দুয়ারে কেউ নাড়তে আসেনি কড়া
তাইতো আমার হলো না সংসার গড়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28805239 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28805239 2008-06-01 19:31:35
অক্ষর ট্রাজেডি! আমি- অর্পপ্রান এক অক্ষর!, মহাপ্রাণ ধ্বনি!
যঝতে যুঝতে এসে থমকে দাঁড়িয়েছি, এই অবয়বে।

একদিন বিশাল বাক্য ছিলাম, ছিলাম কাব্যও
ভেঙে ভেঙে শব্দ বানালো কেউ, যুক্ত করে নতুন
তখনও ভালোই ছিলাম!
ছিল নিরাপত্তা! এপাশে ওপাশে আমার
যে যাই বরে ডাকত, লাগত ভালো
বিমোহিত ছিলাম নতুন নামের, নতুন
সম্পর্কের তাঢ়ন- আনন্দে।

হঠাৎ অধপতন নেমে এলা হায়!
কাব্য নেই বাক্য নেই শব্দ নেই, নাম নেই, গোত্র নেই
শুধু অসংবৃত একটি অক্ষর... টিকে গেলো; ত্রাহি...

আবার আমি শব্দ নয় কাব্য নয় গান হবো
যেদিন তুই বড় হবি, খোকা, আমি হবো
গর্বিত মা স্বর্ণগর্ভা মাতা!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28799106 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28799106 2008-05-17 21:48:03
ওরা সবাই রাজনীতির জন্য পুত্র পিতা মাতা কোরবানী দেওয়া যায়। রাজনীতি কোরবানী দেওয়া যায় না।(ভুল)
রাজনীতির জন্য পুত্র পিতা মাতাসম জনগণ কোরবানী দেওয়া যায়। রাজনীতি কোরবানী দেওয়া যায় না।(সংশোধিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798364 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798364 2008-05-15 18:57:30
নিজা... দেলোয়ারও হাসিনার মুক্তি চায়
আওয়ামী লীগের কর্মিরাও হাসিনার মুক্তি চায়।
জনগণ?ও হাসিনার মুক্তি চায়।
সরকারও হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে চায়।
আপনি কি চান?

আমি চাই অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ভিসা।...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798360 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798360 2008-05-15 18:51:13
নিযামীর নতুন গাদ্দারী ২৮ অক্টোবরের স্মৃতিকি ভুলে গেলো? এর আগের স্মৃতি না হয় অনেক দূরের! সেইসব শহীদ(নিযামীদের ভাষায়)দের আত্মাকি এতে কেঁদে ওঠেনি, যে আমাদের রক্তের বিনিময়ে আজ যে নিযামীরা গাড়ি হাকান জাতীয় পতাকা লাগিয়ে, কেমনকরে সে সেইসব খুনীদের মক্তি চাইলো। হায়রে আজব উদারতা! হায়রে রাজনীতি! সেইসব শহীদরে মা দের কাছে নিযামীর এই দাবি কেমন লেগেছে আমি জানি না। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে আমার চোখে পানি এসেছিল, আর আজ আসছে ক্রোধের আগুন! আর কতকাল এরা মানুষকে ধোঁকা দেবে? নিজের সন্তানদের?
আমি নিযামীর কাছে জানতে চাই যদি শহীদ মুজাহিদের পরিবর্তে আপনার ছেলে তালহা সেদিন শহীদ হতো পারতেনকি মুক্তি চাইতে (আপনাদের ভাষায়খুনি) হাসিনার?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798321 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28798321 2008-05-15 16:29:40
অসুস্থ! দ্বগ্ধ হতে হতে অসুস্থ হয়ে যায় সামিয়া। মায়ের ডাকে খেতে যায় না। কলেজে যায় না। মা ও দুবারের বেশি আহ্লাদ করতে আসেন না। সামিয়া অবশ্য বাবারজন্য অপেক্ষা করছে। বাবা এলেই খেতে যেত। ক্ষুধা ও একদমই সহ্য করতে পারে না, কিন্তু ছোট হবার ভয়, হেরে যাবার ভয় এবং আদর না পেয়ে পরাজিত হবার ভয়।
রাত গিয়ে সকাল হলো। বরাবরের মতো সকালে ঘুম ভাঙে। পেটের ভেতরটা খাখা করে। ইশ! কাজের মেয়েটা যদি লুকিয়ে কিছু...
ইদানীং ওর লোকটার কথা খুব মনে পড়ে। ১বছরের বেশি যার সঙ্গে ওর ঘরকরা হয়নি।
লোকটা একটু খেয়ালিটাইপের ছিল। সবকিছুতেই একটু বেশি উত্তেজিত ভাব। আদর করবার সময় হুঁশ থাকত না, আবার হুটহাট রেগে গেলেও মুখে যা আসত তাই বলত। বাপ মা তুলে গালি। তারপর মাথা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে স্যরি টরি বলে, হাতে পায়ে ধরে একেবারে লজ্জায় ফেলে দিত সামিয়াকে। মাসখানেক কাটাবার পরই সামিয়া সিদ্ধান্ত নেয় এর সঙ্গে কন্টিনিউ করা যাবে না। ওর চাই এমন একজন মানুষ যে অস্তিত্বে একদমই ইন্টার ফেয়ার করবে না। সে থাকবে তার মতো, আর ও থাকবে ওর মতো। সারাদিনে কথা হবে দু থেকে চারটি। দুজনেই অফিস থেকে ফিরে নিজেদের প্রয়োজনগুলো সেরে নেবে। যার ইচ্ছা বিশ্রাম নেবে, যার ইচ্ছা ছাদে যাবে। একর ভালোলাগার সামগ্রি অপরে হবে না। কিন্তু ওর স্বামী চাইতো সামিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত সে জুড়ে থাকবে। সারাদিন রাত চব্বিশঘণ্টা সামিয়া শুধু তার স্বামীকেই ভাববে। স্বামীকে আহ্লাদিত করতে ব্যস্ত থাকবে। তার কি ভালো লাগে কী মন্দ লাগে এসব নিয়েই হবে জীবন ওর। বেচারা অফিস থেকে এসে বলত আমি ছাদে যাচ্ছি, এসো চা নিয়ে বসি। সামিয়ার তখন ইচ্ছ করত বেলকনিতে অথবা ছাদেই একা বসে কবিতা পড়তে। স্বামীর সঙ্গেও সেটা পড়া যেত তবে তাতে ও নিজেকে খুঁজে পেত না। মনে হতো একজন মানুষকে খুশি করার জন্যই সব করছে। ওর কিছু নেই। অথবা ওই মানুষটা চাইছে ওকে বুঝাতে যে সে ওকে খুব ভালোবাসে, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের স্বর্গ গড়তে চায়...ইত্যাদি স্বার্থপরের মতো ভাবনাগুলো ওকে ওর স্বামীর কাছ থেকে সরিয়ে রাখত।
তবে এখন সবচে বেশি মনে পড়ছে লোকটার কেয়ার! ওকে কেউ কিছু বললে লোকটি তাকে জীবনের সেরা শত্রু জ্ঞান করতো। যত গুণই থাক রোকটি আর সে দেখতে পারত না। তার স্ত্রীকে কেন মন্দকিছু বলল। আজ বাবা মার সঙ্গে যে বাধল এতেও ওর স্বামী ওকে একবাক্যে সমর্থন করত। হয়ত বলত- মেয়েতো একটু আহ্লাদি হবেই বাবামার উচিৎ সমঝে চলা। ছেলেমেয়ের সব কথায় বাবামার কষ্ট পেলে চলে? আমিতো আমার মাকে যা তা বলি গালি দেই তার পানের বাটা ছুঁড়ে ফেলি তাইবলে কি আমি আমার মাকে ভালোবাসি না? মা কি আমাকে ছেড়ে যায়?
সত্যিই তাই ও রেগে গেলে কাউকে ছাড়ে না। ওর বাবা মা যদি আমার বাবা মার মত হতো তাহলে ওকে কোনওদিন আর সন্তান বলে স্বীকারই করত না।
এসব ভাবতে ভাবতে কেমন ক্লান্ত বোধ করে সামিয়া।
সেইদিনটাও পাড় করে না খেয়ে। কাজের মেয়েটা রুমে খাবার দিয়ে গেছে। ও খায়নি। রাতে বমিকরে। শব্দ শুনে কাজের মেয়েটা ছুটে আসে। ওর কাছে শুনে মাও আসে। গায়ে হাত দিয়ে দেখে জ্বর! তারা সিমপ্যাথি অনুভব করেন। মেয়েকে জোরকরে খাওয়াতে চান। সামিয়ার জিদ আরও বাড়ে। বাবা ডাক্তার চাইলে কঠিন পণ করে। মা রাতটা দেখতে চান। আর মেয়েকে যতোরকমের আদর আছে তোষামোদ আছে সব বিনিয়োগ করেও খাওয়াতে না পেরে হাল ছেড়ে দেন।
অনেক রাতে একটা ফোন আসে সামিয়ার। মেয়ে কণ্ঠ!
কে বলছ মা?
মেয়েকণ্ঠের প্রতি সামিয়ার বাবার একটু দূর্বলতা আছে। যে মেয়েই ফোন করুক সে ভাবে তার বড় মেয়ে লামিয়া বুঝি! তার চোখ আদ্র হয়ে ওঠে, কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে। ইচ্ছেকরে অনেক্ষণ কথা বলে। কিন্তু পারে না।
এতো রাতে? তোমারকি কোনও সমস্যা হয়েছে মা?
না আঙ্কেল! আমিতো ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলো।
কী স্বপ্ন দেখলে? কণ্ঠে উৎকণ্ঠা বাবার।
না মানে, রাতের স্বপ্ন রাতে বলতে নেই। আঙ্কেল সামিয়াকি ভালো আছে?
না, মা ওতো ভীষণ অসুস্থ!
আশ্চর্য একটিবার মনে হলো না আমাদের খবর দেয়ার কথা?
আঙ্কেল ওর সঙ্গে কথা না বলতে পারলে আমি সান্ত্বনা পাচ্ছি না, প্লিজ! একটু দেবেন? ওর কী অসুখ? কখন থেকে?
আচ্ছা মা আমি দিচ্ছি।
বলে বাবাই ফোনটা নিয়ে ওর রুমে গেলেন। অনেক ডেকেও সামিয়াকে জাগাতে পারলেন না। তার চিৎকারে ছুটে এলা অন্যরা।....(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28797344 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28797344 2008-05-13 15:22:27
বাবা বলেছে.. সেলফোনটা ইউজ কর!
তোমার বন্ধুরাওতো সেলফোনে ফোন দিতে পারে, নাকি?এযুগে ল্যান্ডফোন কেউ ব্যবহার করে ?
তুই কেন করিস?
থাক বাবা, একদিন ফোন বিচজ রাখায় তোমার যদি এতো অসুবিধা হয় ফোনটা তুমি তোমার রুমে নিয়ে যাও।
কিছু বললেই খেপে যাস কেন?
ঠিক আছে, দে আমার রুমেই পাঠিয়ে দে।
আমি তখনই সেটটা বাবার রুমে চালান করলাম। একটুপর মা এসে বলে কাজটাকি ভালো করলি?
কি মা?
তোর বাবার হার্টের প্রবলেম ফোনটা তার রুমে দিলি? কোনও খারাপ খবর টবর, কোনও উটকো ফোন টোন এলে তোর বাবার কী অবস্থা হবে ভাবলি না?
সেটাতো মা সেলফোনেও হতে পারে।
মোবাইল ফোনের নাম্বারতো সবার কাছে নেই! তাছাড়া ওটা বন্ধ রাখা যায়, স্ক্রিন্ড করা যায়,
মা তোমাদের ধারণা একবার ফোনে তোমাদের না পাওয়ায় একটা সমস্যা হয়েছে বলে প্রতিনিয়ত এই সমস্যা হবে! এটা ঠিক না। ভাগে যা থাকে তাই হয়। প্রযুক্তি বলো সুযোগ সুবিধা বলো কিছুই ঠেকাতে পারে না।
ওকে! তুই অনেক জ্ঞানী হয়েছিস! তোর কথাই ঠিক!
মা চলে গেলো। খোঁচাটা আমার ভীষণ লাগল। শিক্ষা নিয়ে কেউ খোঁচা দিলে আমার একদম সহ্য হয় না।
ভেবে দেখল তার রেগে যাওয়াটা ঠিক হলো কি না!

রাতে বাবা বললেন তোর ফোন! আয় আমার রুমে আয়।
সামিয়া বুঝল কে হতে পারে।
ফোনটা ধরে অবাক হল। ওপাশের কণ্ঠটা শুধু কাঁদছে। সামিয়া হ্যালো হ্যালো বলায় একটু ক্ষীণ ভাঙা কণ্ঠে হ্যালো শোনা গেলো।
কী হয়েছে?
বাবা বকেছে।
কী বলে বকেছে?
বলেছে ফালতু ছেলে। ফালতু না হলে কেউ এতো রাতে ফোন দেয়?
ঠিকইতো বলেছে।
স্যরি ম্যাডাম আমি আপনাকে আর কোনওদিন ফোন দিব না।
ভেরি গুড! তোমার কিছু বলার থাকলে আমি যখন তোমার শোরুমে যাবো তখন বলো।
কবে যাবেন?
যাবো, যখন খুব ইচ্ছে করবে কবিতা শুনতে, আর যখন দেখবো শিমুল মুস্তফার নতুন আবৃত্তির অ্যালবাম বেরিয়েছে তখন।
ম্যাডাম আপনার সেল নাম্বারটা একটু দেবেন?
স্যরি! এটাতো সম্ভব না।
তাহলে আমার নাম্বারটা একটু রাখেন!
আচ্ছা দেও।
০১৭১১৫২৩২....
এটাতো মনে হচ্ছে সেই প্রাথমিক আমলের নাম্বার!
জ্বি ম্যাডাম।
সামিয়ার একটু চিন্তা হলো। ছেলেটাকে আদৌ মনে হচ্ছে না দোকানের কর্মচারি।
ম্যাডাম একটা কথা জিজ্ঞেস করেই ফোন রেখে দেবো..
বলো..
আপনি কি শিমুল মুস্তফার খুবই ভক্ত!
ভক্ত মানে মারাত্মক ভক্ত! এটা নিয়ে আমার বন্ধুরা প্রায়ই আমাকে খ্যাপায়। বুঝলে? রাখি তাহলে?...

সামিয়ার আবৃত্তি ভালো লাগে। অনেক ক্যাসেট ওর। এমন কোনও আবৃত্তিকার নেই যার সিডি ও কালেকশন করেনি। তবু মিথিলাটা ওর সবচে প্রিয়। মিথিলা ও প্রথম যখন শোনে তখন ওর বয়স...ক্লাস সেভেনে পড়ে।
ওর আরেকটি প্রিয় আবৃত্তি হলো ভয় নেই প্রিয়তমা
ভয় নেই প্রিয়তমা, আমি এমন দিন এনে দেবো যেন সেনা বাহিনী বন্দুক নয় গোলাপের তোড়া নিয়ে মার্চ পাস্ট করবে...
রুমে ঢুকে কম্পিউটারে হার্ডিস্কে রাখা আবৃত্তির ফোল্ডারটা ওপেন করলো। এখন আবৃত্তি বাজবে আর সামিয়া চোখ বন্ধ করে স্মৃতি হাতরাবে, ভাববে...

বাবা বলেছে আর যদি একটা ফোনও সামিয়র আসে তাহলে ফোনটা সে চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেবে।
সামিয়ার বাবা ভীষণ জেদী। মেয়ের ব্যবহারটা সে একদমই মেনে নিতে পারছে না। সবসময় মা সামিয়ার পক্ষে থাকে অন্তত মনোমালিন্য হলে সেই সমাধান করে আজ সেও খেপে আছে। সেকি খুব স্বার্থপর আচরণ করল। এটাই ভাবছে সামিয়া।
ফোনটা নিয়ে আসতে চেয়েছে, কিন্তু হেরে যেতে চাইছে না মন। বাবার কাছেও আত্মসম্মান কোরবানী দিতে চায় না মেয়ে। যে কারণে সংসার তার টিকল না। মানে টেকার মতো টেকেনি। এ নিয়ে সামিয়ার কোনও অন্তর্দাহ নেই। কলেজে জয়েন করার পর মানে বিসিএসএ টিকে যাবার পর কাউকে আর পরোয়া করে না সে এমন অভিযোগ অনেকের। তবে সামিয়ার ধারণা এটা নিতান্তই ওরপ্রতি মানুষের ঈর্ষা! নয়ত ওরওতো ভক্ত বন্ধু অনেক। তারাতো বলে না ওকে অহঙ্কারী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796950 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796950 2008-05-12 15:04:15
আমি ... আর ঠিক সেই মুহূর্তে ফোনটা বেজে ওঠে। চমকে গিয়ে বুকে ফুঁক দেয় সামিয়া। কোনও একটা চিন্তায় ডুবে থাকলে এমনি চমকে যায় মানুষ! চমকের ভাবটুকু গলা থেকে সরিয়ে ফোন ধরে।-বরাবরের মতো-
-আসসালামু আলাইকুম!
-স্লামালেকুম ম্যাডাম!
-ওয়ালাইকুমুস সালাম। কপালে ভাঁজ ওর।
-ঘুমের ডিস্টার্ব করলাম বুঝি!
-না, আমি সকালেই উঠি, কে বলছিলেন যেন?
-ওহ চিনতে পারছেন না? না পরারই কথা! গতরাতে কথা হয়েছে। আপনি -বলেছেন আমি ভুল নাম্বারে ফোন করেছি, আসলে সেটা নয়, আমি আপনাকেই ফোন করেছিলাম! কিন্তু কোনও সূত্র না পেয়ে শেষে ভুল বলেই স্বীকার করলাম।
-কিন্তু আমিতো ডাক্তার নই?
-ডাক্তার নন, ডক্টরতো?
-আরে না, তাও না। ড এর সঙ্গে একটা ফোটা যোগকরা এতই সহজ? এই বয়সে?
-চেষ্টাতো করছেন, থিসিস পেপারওতো প্রায় রেডি? নাকি?
-নারে ভাই অতো কিছু না। কিন্তু আমিতো ঠিক আপনাকে...
আপনার কৌতূহলও দেখছি আর দশটা মেয়েরে মতো! আমি যতদূর জানি আপনি আর দশটা মেয়ের মতো ভাবেন না! কেবল একটা পরিচয় দিলেই আমি ভদ্রলোক হয়ে যাবো, একটু পরিচয়ের সূত্র থাকলেই আপনি আমার সাথে কথা বলবেন, এটাইকি হওয়া উচিৎ সবসময়? একটুকি ভিন্নভাবে হতে পারে না, মানুষের চিন্তা, মানুষের অনুভব, উপলব্ধি?
-হয়ত পারে! আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের বৃত্তের মধ্যে বন্দি রাখি! নয়ত মনে হয় যেন পদে পদে শুধু বিপদ আর বিপদ।
-মানুষের একটা বয়স থাকে নিয়ম ভাঙার! আপনারতো এখন সে বয়স!
-কে বলেছে? সে বয়সতো পেরিয়েছি সেই কবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম জীবনে। এখনতো সবকিছু স্থির। তারুণ্য নেই, কোলাহল নেই, আড্ডা নেই। শুধু ধ্রুব গন্তব্য সামনে।
-একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি?
-করতে পারেন তবে তার আগে এইটুকু বলুন যে আপনি আমার অপরিচিত নন।
-না, আমি আপনার সত্যিই অপরিচিত। এবং শুধু আপনার কাছেই হয়ত আমি চিরকাল অপরিচিত থেকে যাব। যেভাবে মেঘ আলাদাই হয়ে থাকে আকাশের সাথে চিরকাল।
-ওকে বলুন, প্রশ্নটা বলুন। আমার প্রশ্ন শুনতে ভালো লাগে। আমার ভীষণ নেশা আছে ইন্টারভিউ দেয়ার।
-এটা ইন্টারভিউ নয় ম্যাডাম! জাস্ট কৌতূহল! আপনি কি পরিণীতা?
-বাহ! আর দশটা ছেলের মতোই যে আপনার কৌতূহল?
-হ্যাঁ, পরিণীতা।
-স্যরি ম্যাডাম!
-কেন?
-আমার তাহলে আপনাকে রাতে ফোন দেওয়াটা উচিৎ হয়নি।
-থ্যাংকস! নিজেকে এভাবে পরিশুদ্ধ করার জন্য।
তবে আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমার দ্বারা আপনার কোনও ক্ষতি হবে না। আমার পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন? বলবো? নাকি নিজেই খুঁজে বের করবেন?
-দেখি পারি কি না। এই বয়সেও একটু অ্যাডভেঞ্চার করা যাক!
-আপনার বয়সকি কুড়ি একুশের বেশি? আপনি কিন্তু সেরকমই অভিনয় করছেন।
-সার্টিফিকেটএ সেরকমই। তবে বাস্তবে..
-আমি আসলে আপনাকে একটা কবিতা শোনাতে চেয়েছিলাম।
-আমাকে? কবিতা?
-আপনি কবিতা খুব ভালোবাসেন, বাসেন না?
-বাসিতো!
-আপনি যেই দোকান থেকে প্রায়ই আবৃত্তির ক্যাসেট কেনেন আমি সেখানকার কর্মচারী। আমার ধৃষ্টতায় অন্যায় নেবেন না। আমি কিন্তু আপনাকে ম্যাডাম বলেই সম্বোধন করেছি, আর তাছাড়া..
-তাছাড়া?
-তাছাড়া আমি কিছুদূর লিখাপড়াও করেছি। অন্তত ভদ্রতা সৌজন্য রক্ষার বিদ্যাটুকু।
-সে নজিরতো দেখিয়েছো । ঠিক আছে। ওকে। শোনাও! কবিতা শোনাও!
নামকি তোমার?
-....একবার বসন্তকালে একটা পাখি বসতে দেখেছিলাম আমার আঙিনায়, হলুদ রঙের পাখি! অনেক ছুটি বেড়িয়েছি তার পেছনে, আজও হয়ত...
দেখা হলো না আর, দিবতীয়বার। আমি কোকিলের গান শোনার ভক্ত ছিলাম না কখনও, একবার ...
একবার জোসনারাতে পুকুরপাড়ে কার যেন সুর শুনেছি, বাঁশির মতো, কত খুঁজেছি তারে! আর শুনতে পাইনি কখনও..
আমাদের ডালিম গাছ ছিল, ফুল ফুটলেই ছিঁড়ে খেলা করত দুষ্টদের দল। বর্গীর হানা থেকে মা যদিও বাঁচিয়ে রাখত কতেক, তাও পঁচে যেত একদিন..বিলাসী সুখের অভাবে! যেদিন বাবা আসবে, সেদিন পারিস! আজ থাক!
থেকে যেত, থেকে থেকে পোকার দংশন সহ্যকরত কোমল দেহী ওরা।...

দেখুন! আপনার আবৃত্তি খুব সুন্দর! একদিন সাক্ষাতে শুনবো! ফোনটা আসলে এভাবে বিজি রাখা ঠিক না। রাখি?
-রাখুন, তবে আরেকবার আমায় আমার যায়গাটি ফিরিয়ে দিন, সেই তুমিতে!
ও, আচ্ছা! আমি জানি না, তোমাকে তুমি বলাটা কতটুকু সমীচীন। তবে ছাত্রছাত্রী পড়াইতো, অভ্যেস হয়ে গেছে।.. রাখি..(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796605 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796605 2008-05-11 16:46:07
প্রতারক এতো রাতে ফোন!
কোনো কারণ ছাড়াই কী এক আশঙ্কা বোধ করল সামিয়া। ফোনটাকে আরও কিছুক্ষণ বাজতে দিল। এরমধ্যে পাশের রুম থেকে বাবা চলে এলেন।
কীরে! ঘুমিয়েপড়েছিস নাকি?, ফোন বাজছে...
বাবাকেও কেমন চিন্তিত মনে হচ্ছে সামিয়ার।
কেন, কী হয়েছে বাবা? আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম।
না, আগে ফোন! কোনো ইমার্জেন্সি ফোনওতো হতে পারে!-বলে বাবা চলে গেলেন ঢুলুঢুলু পা ফেলে। বোঝাই যায় ঘুম চোখে তার।
বাসায় ফোনটাকে সবাই ভীষণ গুরুত্বের চোখে দেখে। কোনো নন ইম্পর্টট্যান্ট কাজে ফোন ব্যবহার এ বাড়িতে চলে না। জরুরি কথাবার্তা, আর আলাপ পরামর্শ ব্যাস!
ল্যান্ডফোনই হোক আর মোবাইল ফোনই হোক এর মিস ইউজ বন্ধকরা উচিৎ। বিশেষকরে যারা শখকরে মোবাইল কেনেন তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিৎ। যে কোনো মিসইউজের জন্য যেকোন বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
সেদিন যেমন হলো-
বড় আপু ভীষণ অসুস্থ। আর একমাস দেড়মাস পর তার ডেলিভারি ডেট দিয়েছে ডাক্তার। আমরা সবাই বুবুকে নিয়ে ভীষণ টেনশনে কাটাই। প্রথম বাচ্চা। তার উপর বয়সও বেশি না। মাত্র একুশ। স্বামীর কষ্টহবে বলে এখনও বাড়িতে আসছে না। বলেছে ১৫দিন আগে চলে আসবে। প্রথম সন্তান মেয়ের বাপের বাড়িতে হবে।
কিছুদিন থেকে একটা লোক উটকো এক ঝামেলা শুরু করেছে বাবার ফোনে। বিরক্ত হয়ে বাবা ফোনটা ডিসকানেক্ট করে ঘুমান। আর ঘটনাটাও ঘটল সেদিন। আপুর হঠাৎ পেইন শুরু। আমিতো এম্নিতেই মোবাইল বন্ধকরে অথবা সাইলেন্ট করে ঘুমাই। আর আব্বুতো ল্যান্ডফোন, সেলফোন দুটোই বন্ধকরে রেখেছেন! আপুরা চেষ্টা করতে করতে না পেয়ে কীযে অসুবিধায় পড়ল!
দুলাভাইর বাসায় কেউ নেই। দিনের বেলায় একমহিলা এসে কাজকরে দিয়ে যায়। রাতে তারা একা। একটা মহিলা, একটা আপন মানুষ নাই তাদের পাশের দাঁড়াবার!...
সেই রাতটির কথা অনুভব করতে গেলে বয়ে আর কান্নায় গায়ের পশম কাটা দেয় সামিয়ার।
একটি মেয়ে পেটের ব্যথায় বারবার চিৎকারকরে তার মাকে ডাকছে, মাকে ফোন দিচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না। এদিকে পানি না রক্ত ঝরছে! এটা কীসের তাও তারা জানে না। সেকি মরে যাবে? এটাকি বাচ্চা হওয়ার লক্ষণ? না তা কেন হবে এখনও প্রায় একদেড়মাস বাকী!মৃতূ্যর আতঙ্ক নিয়ে মেয়েটি তার মাকে একবার ফোনে পেতে চায়, কিন্তু সে পায় না। শেষে ব্যাথা যখন চরমে তখন অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডাক্তার বলে পানি সব শেষ, সিজার করতে হবে। এদিকে মেয়েটির যা অবস্থা এখন সেন্সলেস করলে সেন্স ফিরবে কি না কে জানে!

এসবের কিছুই সামিয়ারা সে রাতে টের পায়নি। ওরা ঘুমিয়েছে, নিশ্চিন্তে! আরামে। সামিয়ার দুলাভাই মনের ক্ষোভে-দুখে প্রতিজ্ঞা করেছেন আর কোনোদিন শ্বশুরবাড়ির কারও মুখ দেখবেন না।....

রাতের ফোনে সেকারণেই এতো ভয় সবার!
থেমে যাওয়া ফোনটা আবার বাজল। এবার প্রাইওরিটি দেওয় হলো ফোনটাকেই। তাছাড়া সামিয়া ফোনের জন্যই বসেছিল।
আসসালামু আলাইকুম!
ফোন ধরেই সালাম দেওয়া ওর অভ্যেস। ল্যান্ডফোনে সাধারণত পারিবারিক ফোনই আসে, এবং বেশিরভাগই ওর গুরুজন! তাই যথাসাধ্য আতিথেয়কণ্ঠে রিসিভ করে।
ওয়ালাইকুমুস সালাম।
কে বলছিলেন, প্লিজ!
দেখুন আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি...
জ্বি ,বলুন!
সত্যিকথা বলতে কি আমি আপনার একজন ভক্ত!ভীষণ ভক্ত!
হোয়াট! এইসব ভক্তটক্ততো হয় সেলিব্রেটিদের, আর্টিস্টদের! আমিতো সেসব কিছুনই!
দেখুন ম্যাডাম! ডাক্তারদেরও ভক্ত থাকতে পারে।
কিন্তু আমিতো ডাক্তারও নই!
আপনি ডাক্তার সামিয়া নন?
আমি সামিয়া, ঠিক আছে কিন্তু ডাক্তারতো নই! আপনি বোধয় ভুল করছেন!

সামিয়ার বুটা কেঁপে ওঠে! লোকটিরও কি সেরকম কোন বিপদ! সামিয়ার খুব ইচ্ছা করে লোকটিকে সাহায্য করে, কিন্তু কীভাবে করবে?
লোকটি বলে- হ্যাঁ, ভুলও হতে পারে, রাখি তাহলে?
সামিয়া তবু ফোন ধরে থাকে। লোকটিও
কই রাখুন!-সামিয়া বলে।
না মানে আপনার অনুমতি ছাড়া কীভাবে রাখি!
একজন অপরিচিতের সঙ্গে এত সৌজন্য না দেখোলেও চলে।
স্যরি! ম্যাডাম! আমি আপনার সঙ্গে একমত নই। বরং অপরিচিতের সঙ্গেই সৌজন্য দেখাবার প্রয়োজন বেশি। কারণ যে চেনে, তাকেতো আমি শালাও বলতে পারি, যদি তেমন সম্পর্কের কেউ হয়।সে কিছু মনে করবে না। কিন্তু অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বললে...
জ্বি, ঠিক আছে! এবার বোধয় রাখা যায়!

কিন্তু এবারও ফোনটা কেউ রাখল না। বোধয় ভদ্রতার খাতিরে।
১মিনিট নীরবতার পর সামিয়াই বলল
কী ব্যাপার বলুনতো! ফোন রাখছেন না কেন?
আমি আপনি রাখার অপেক্ষা করছিলাম!...ওকে বাই! গুডনাইট!
লোকটি ফোন রাখতে গিয়েও রাখল না, কৌতূহল! মেয়েটি রাখে কি না,
আশচর্য আপনি...
না মানে ভেবেছিলাম গুডনাইটের আনসারটা না শুনে রেখে দিলে আপনি কী মনে করেন!
ওকে আল্লাহ হাফেজ! বলে মেয়েটি ফোন রাখল।
সামিয়ার ভেতরটা হাসিতে ভরে যাচ্ছে। এক কারণ ফোনটা কোনও খারাপ খবর আনেনি, দুই ছেলেটির আচরণ! মুখে শুধু উচ্চারণ করল- বেশি ভদ্রলোক!

মোবাইলে ঘড়ি দেখে শুয়ে পড়ল সামিয়া। ওর ধারণা আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যাবে।


সকাল হতে না হতেই ব্যস্ত হয়ে যায় শহরের রাস্তাগুলো। গাড়ির শব্দে আবার আগের স্থানে ফিরে যায় রাজধানী


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796349 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796349 2008-05-10 23:09:44
কবিতার কথা একটু সহযোগিতা করুন।
আপনি আপনার পছন্দের কবি-কবিতার লাইন বলুন, আমিই সেগুলোর ভাবার্থ মর্মার্থ খুঁজে বের করবো প্রফেসর-সাহিত্যিকমহল থেকে।

এবং নিজেও ব্যাখ্যা করুন জনপ্রিয়, পরিচিত কবিতাগুলো। থিসিস পেপারে কৃতজ্ঞতায় নিশ্চই কৃতজ্ঞতা জানানো হবে।
একটু উদাহরণ দিয়ে বলি-

হাজার বছরধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমূদ্র থেকে মালয় সাগরে, অনেক ঘুরেছি আমি...

এখানে কবি হাঁটিতেছি র মতো সাধুচলিত মিশ্রন কেন করলেন?
আমার এক স্যার (রতন স্যার) বলেছেন ব্যাপকতা বোঝাবার জন্য।
তারপর ধরুনআলমাহমুদ কবিতার কথা শিরোনামে দ্বিতীয়ভাঙনে যে কবিতাটি লিখেছেন সেই কবিতার দার্শনিত ভিত্তি কি? প্রেক্ষাপট কি?

সামসুর রাহমানেরএকটি ফটোগ্রাফ যে তিনি লিখলেন, সত্যিইকি তার ছেলে মারা গিয়েছিল? ছেলের মৃত্যূর পর এমন অনুভূতিকি সত্যিই কখনও কখনও হয়?

তুমি কি কেবল ছবি, শুধু পটে লিখা, ঐ সুদূর নীহারিকা
যেখানে করে আছে ভিড়...
এখানে কবি কী বলতে চেয়েছেন?

আসুন নিজের জানা জ্ঞানকে অভিমতকে শেয়ার করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796307 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796307 2008-05-10 21:10:35
তবুও মা...
আমার মা কিন্তু সত্যিই সেরা মা।
আমার ভাইয়ারা সবাই উচ্চশিক্ষিত। বড় ভাইয়া প্রাইভেট উউনিভার্সিটিতে পড়ার নামে বাবার বারো লাখ টাকা উড়িয়েছেন। উড়িয়েছেন বলছি একারণে যে এই বিদ্যার্জন প্রকৃথ শিক্ষায় রূপ নেয়নি। এক স্যারের(হাইস্কুল) মেয়েকে ভাগিয়ে বিয়ে করে তিনি এখন বিশাল ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। আর সপ্তাহের একদিন ; বৃহস্পতিবার ক্লায়েন্টজাতীয় লোকদের সঙ্গে ফাইভস্টার হোটেলে রাত কাটান। এই বয়সে নাকি এসব এনজয় করতেই হয়। কিছুদিন আগে মা একটা মশারি কেনার জন্য ভাইয়ার কাছে কিছু টাকা চাইলে ভাইয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এই মুহূর্তে তার হাতে টাকা নাই। বেতন পেলে...
বেতন আর তার পাওয়া হয় না। ছোটভাইটা পড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, গতমাসে নিয়েছে ৭হাজার, এমাসে নিল চার হাজার। প্রতিমাসে নেয় তিন হাজার। সেও পড়ছে আর মাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সে ভাইয়ার মতো হবে না...

অনেকদিন পর ভাইয়া বাড়ি এলো। আমার এক বোনের ছেলেকে দেখতে। খালি হাতেই এলো। অজুহাত সেই আগেরটাই। বেতন পায়নি। মার কাছে টাকা চাইলো। মা টাকা দিতে পারল না। শেষে বোনের স্বামীর কাছ থেকে দুশ টাকা ধার নিয়ে দিল। তাই দিয়ে বাচ্চার জন্য একটা ড্রেস নিয়ে এলো এবং কৌশলে কতবার যে বলল, জিনিসপত্রের দাম কীভাবে বাড়ছে! এই একটা প্যাকেট নিল ২২০টাকা!
পরদিন আবার পাঁচশ টাকা নিল ধার। ক্রেডিটকার্ড /এটিএম কার্ড ভাঙিয়ে দিয়ে দেবে। শনিবার বলে বন্ধ! তাই সে ঢাকা গিয়ে পাঠিয়ে দেবে।...
চলে গেলো ভাইয়া। মা সাতশ টাকার ঋণী।
ভাইয়ার চলে যাওয়ার পর আমার সঙ্গে বাধলো। আমি তাকে কোনওভাবেই বোঝাতে পারিনি যে এটিএম বুথ কখনই বন্ধ থাকে না। তার মতে আমি কী জানি!
বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকেও উচ্চশিক্ষিত করবেন। মা বললেন মেয়েকে পড়িয়ে কী লাভ! সেকি ইনকাম করে বাবা মাকে দেবে?
অতএব আমার পড়ালেখা বন্ধ হলো ইন্টারের পরই।
ভাইয়া তার বিয়েতে কাউকে রাখেনি। কাউকে রাখার প্রয়োজনও বোধ করেনি। তবু মা বাড়ির গাছ কেটে তার জন্য ফার্নিচার বানালেন। মেহগনি গাছের সুন্দর সুন্দর খাট দেখে এবং তার একমাত্র গলার চেইনটি বন্ধক রেখে মিস্ত্রীর বিল দেয়ায় আমার খুব রাগ লাগে। মা বলে ও টাকা পেলে দিয়ে দেবে বলেছে।...

আমার গলার চেইনটাও মা বন্ধক রেখেছিল ওর জন্য। আজও তা ফেরৎ আনতে পারেনি। কারণ আমার ভাইর এইমুহূর্তে হাতে টাকা নাই।

নানীর বেশ খানিকটা জমি আছে, ভাইয়া জানিয়েছে অফিস থেকে ওকে বিদেশ পাঠাচ্ছে, কিন্তু কিছু খরচমানে প্লেনভাড়াটা ওকে ম্যানেজ করতে হবে, অতএব নানীর জমিটা বিক্রিকরে যেন কিছু টাকা পাঠানো হয়। লাখ খানেক হলেই হবে।
গত ঈদে ভাইয়া সবার জন্য একটাকরে শাড়ী নিয়ে এসেছিল, একেকটা শাড়ী নাকি সাত আটশ টাকা দামের। বিশ হাজার টাকার বাজার করে ওর এখন হাত খালিযাওয়ার সময় মার কাছ থেকে নিয়ে গেলো চারহাজার টাকা। মা টাকাটা কীভাবে যোগাড় করেছে সেটা আর বলা সম্ভ নয়। আমাদের জ্ঞাত কোনও ফান্ড আর বাকী নেই।...
বাবার রিটার্ডমেন্টের পর পার্টটাইমের নামে যে ১৮কর্মঘণ্টার চাকরিটা আছে সেখান থেকে অগ্রিম নিয়েছে।

মা বলেই হয়ত এসব তিনি করেছেন।
সত্যিই আমার মা অনন্যা। শুধু একটাই দুঃখ
মেয়েদের জন্য তিনি কিছুই করলেন না। বেতন আর পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ষাণ্মাসিক পরীক্ষায় আমার সিক্সে পড়ুয়া বোনটি অংশ নিতে পারেনি।
যে যাই বলুক এর পরও আমার মাই সেরা মা।

সূত্র: সংগৃহিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796293 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28796293 2008-05-10 20:28:56
আজ অহনার জন্মদিন অহনার সেকি আনন্দ! ও নাচে আর মাঝে মাঝে ঘাড়ে হিস্যু করে দেয়। কমলা রঙের গেঞ্জিটা খুলে ফেলে ছাই রঙের গেঞ্জিপড়ে, কাপড় পাল্টানো আর ঘাড় থেকে কোল কোল থেকে ঘাড়, ছাদ থেকে নিচে আর নিচ থেকে ছাদ, পায়চারী আর ওঠানামায় ব্যস্ত ওর ছোটচাচ্চু।

আজ জন্মদিনেও!
কবিগুরুর সঙ্গে ওর জন্মদিন মিলে যাওয়ায় ওর বাবা ভীষণ নাখোশ! কারণ তার প্রিয় কবি জীবনানন্দ।
যদিও রবিঠাকুরের ছোটগল্প তার খুবই ভালো লাগে।

অহনার প্রথম জন্মদিনে আমরা কামনা করি প্রার্থনা করি ওর শতায়ু। ওর জীবন যেন হয় সত্যিকারের মনীষীদের মতো বর্ণাঢ্য।

মাসুম ভাইর মেয়ে অহনার প্রতি রেখে যাওয়া এ উদ্ধৃতিটুকু জানি না তার নজরে পড়বে কি না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28795465 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28795465 2008-05-08 14:13:47
অ.নে.ক. দিন আগের কথা
যাইহোক।
মেজমামা তার কথা রেখেছেন।
তার দেয়া বোরকা আমি পড়েছি ক্লাস এইটে থাকতে। এদিকে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাওয়ায় মামা কথাদিলেন আমাকে কক্সবাজার দেখতে নিয়ে যাবেন। সেই কক্সবাজার যাওয়াটাও হলো ক্লাস এইটে থাকতে। মামার দেয়া বোরকা পড়ে মামার সাথে কক্সবাজার গেলাম।...
কক্সবাজারে মেয়েরা যেভাবে গোসলকরে সে দৃশ্যে আমি মামার সঙ্গে দাঁড়াতে পারছিলাম না।...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28792555 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28792555 2008-04-29 16:27:46
কবিদের তালিকা সহযোগিতা করুন।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28792529 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahonabestblog/28792529 2008-04-29 15:25:26 আমিই কবি(সমাধান)
সেদিন চৈত্রমাস
তোমার চোখেতে দেখি আমার সর্বনাশ

সেদিন...
সেদিন আমার স্যার হঠাৎ আমাকে ফোন দিলেন, রাতে। স্যাররা সাধারণত স্টুডেন্টদের ফোন দেন না,তাতে তার পারসোনালিটির দৌর্বল্য উপলব্ধি করেন। তো স্যারের ফোন আমি আরও দুয়েকবার পেয়েছি। চমকে গেছি এবারের মতোই। একটা ম্যাসেজও পেয়েছি আর আগলে রখেছি যক্ষের ধনের মতো আজও।
সেদিন স্যার ফোন করে বলেলেন একটা বিশেষ প্রয়োজেন তোমার স্মরণাপন্ন হলাম। আমিতো কৃতজ্ঞতায় কাচমাচু। এদিকে ভাবছি প্রয়োজনটা পূরণ করতে পারবোতো?
আর সেই প্রয়োজনটাই হলো
এই কবিতার আধো আধো লাইনটা।
স্যার আমার ব্লগচর্চার খবর জানেন। বই খুঁজে বের করার চে জানলেঅলাদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া অনেক সহজ। এমনিতেই আমার একটু বদভ্যেস হলো অলসতা করা। যত সহজ পথ খুঁজে পাই ততই যেন আনন্দ। যেমন একবার এক আপু (মাস্টার্সের) আমাকে বললেন কিছু শিট টাইপকরে দিতে। আমিতো পরিমাণ দেখে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। কিন্তু না করি কী করে? আমি বাংলা টাইপ যাও পারি ইংলিশ টাইপ করতে গেলে মাথা গরম! অশ্রদ্ধা বোধহয়। কিন্তু না করি কী করে? যে আপু প্রায়ই তার রুমে ডেকে আমাকে এটা সেটা খাওয়ান.. এককাপ দুধ, বাড়ি থেকে আনা পিঠা, আচার, পেয়ারা...আগে যদি জানতাম ওসব ছুঁয়েও দেখতাম না!
যাক অনেক খেটেখুটে বুদ্ধি বের করলাম। বুদ্ধিটা অবশ্য কবির নামের এক শিল্পীর দেয়া। (কবির ভাই যদিও আপনি ক্লোজ আপ ওয়ানে চান্স পাননি একবারও, কোনও ক্যাসেটও বের করতে পারেননি, তবু, তবু আপনি আমার কাছে সত্যিই একজন উঁচুমানের শিল্পী)। ফোনে তাকে বললাম; গান শোনার সময় নাই, আপু একটা কাজ দিছে, করতে হবে! কী কাজ? এই কাজ
কোনও ব্যাপর না,
তাইলে আপনি করে দেন!
কয়পেজ?
চল্লিশের মতো।
নারে, আমার পক্ষেও সম্ভব না।
তবে এক কাজ করতে পারিস! স্ক্যানার দিয়ে ওয়ার্ড ফরম্যাটে স্ক্যান করে ফেল!
স্ক্যানার কই পামু?
আমাদের হলের ৩১৩তে আছে একটা ছেলের।
ম্যানেজকরা সহজ ছিল না, তবু আমি সেটাই করেছিলাম একটা সহজ উপায়ের জন্য!
তো একই কারণে কবিতার লাইনদুটো ব্লগে দিলাম। আর ওভাবে দেওয়ার বুদ্ধিটা চ্যানেল... এর শিমুল ভাইর। বলে নিজের নামে চালিয়ে দেও দেখবা কবি নিজেই প্রতিবাদ করবে!
কবি বঁেচে থাকলে হয়ত তাই করতো। কিন্তু বেঁচে আছে তার ভক্তরা। তারই জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ হনলুলুর কাছে। আরও ভালো হতো কবিতার নামটা অন্তত কাব্যের নামটা পেলে.... প্লিজ!
কারণ স্যারকে ফোনে সুসংবাদটা দেওয়ামাত্র স্যার বললেন আরে আমিতো জানি কবি কে? কিন্তু কোন কবিতার সেটা বলতে হবে। আমিতো শেষ!
এতো আগ্রহ আর আ