১১ সেপ্টম্বর মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এক বছর সাত দিন সাবজেলে আটক থাকার পর তার বহু প্রতিক্ষিত জামিনের ঘটনাবহুল সংবাদের উচ্ছ্বাসে ভেসেছে দেশের ইলেকট্রটিক ও প্রিন্ট মিডিয়া। সাবজেল থেকে মুক্তি, জিয়ার মাজার জেয়ারত, পুত্র তারেক রহমানকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া থেকে শুরু করে মইনুল রোডের বাসায় পৌঁছা পর্যন্ত লাইভ সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশি চ্যানেলগলো । দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে ছেলে তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার টেলিভিশনের লাইভ দৃশ্য দর্শক শ্রোতাকে আপ্লুত করেছে। ওই দিনই নয়া দিগন্ত একটি টেলিগ্রাম বের করে। বিকেলে পত্রিকাটি ছিল হটকেক। হকারদের কাছ থেকে টেলিগ্রামটি পাওয়ার জন্য উৎসাহি পাঠকরা কাড়াকাড়ি করেছে। পরের দিন সবকটি দৈনিকের প্রধান শিরোণাম ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি। প্রথমপাতাসহ পত্রিকার বড় অংশ ছিল খালেদা জিয়া, বিএনপি ও তারেক জিয়ার খুটিনাটি সংবাদ দিয়ে সাজানো। এরমধ্যে টেবলয়েড পত্রিকা মানবজমিন প্রথম পাতার তিন চতুর্থাংশ জুড়ে জনতার উচ্ছ্বাস ও খালেদা জিয়ার হাত নাড়ার দৃশ্য সম্বলিত ছবির নিচে চার লাইনের হেডলাইন দিয়ে সেদিনের খবরের কাভারেজ দেয়ার প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে হয়েছে। পত্রিকাটি ‘খালেদা মুক্ত, জনতার উচ্ছ্বাস অঝোর কান্না, জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করুন, সংলাপ ও নির্বাচনে যাবো, চারদলীয় জোট থাকবে’ এই শিরোণামের নিচে নির্দেশিকা ছিল রিপোর্ট ৬,৮,৩ ও ৪ পৃষ্টায়। লাল জমিনের মধ্যে সাদা কালিতে চার লাইনে পুরো পত্রিকাব্যাপী হেডলাইন করা হয়।
নয়া দিগন্ত এদিন উদ্�ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রাস্ট্রবিজ্ঞানি তালুকদার মনিরজ্জানের একটি বিশ্লেষণ ছাপে প্রথম পাতায়। ‘শুরু হলো গণতন্ত্রে উত্তরণে যাত্রা’ শিরোণামে ওই বিশ্লেষণে তিনি দুই নেত্রী নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ শুরু করলে হতাশা কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরের দিনই চার উপদেষ্টা দেখা করেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ ফোনে কথা বলেছেন তার সাথে। দীর্ঘ দশ মিনিটের আলোচনার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা একটা ভারসাম্য রক্ষা করলেন। এর আগে শেখ হাসিনা মুক্তি পেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক উপদেষ্টা তার সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ফোনে তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন। এদিকে খালেদা জিয়া মুক্তির পরই দেশের রাজনীতিতে যেমন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তেমনি মিডিয়াতে প্রচার প্রপ্রাগান্ডার ঝড় বইতে শুরু করেছে। খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেন। দলের যেসব নেতাদের তিনি বহিস্কার করেছিলেন তা এ বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য খালেদা জিয়াকে আজীবন নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তব করে বসেন। শুভাকাঙ্খি পত্রিকাগুলি এটাকে নিছক স্তাবকতা ছাড়া অন্য কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছে। তবে বাম ঘরানার সংবাদমাধ্যমগুলো এই ফাকে দলটির বিরুদ্ধে কিছু প্রচারনাও চালিয়েছে। সুযোগ পেয়ে আওয়মীলীগ নেতারা এক আলোচনা সভায় খালেদাকে তুলোধুনো করেছেন। সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই স্তাবকতাকে অতি আবেগেরে বহিঃপ্রকাশ বলে বিনয়ের সাথে তা ফিরিয়ে দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, নেতৃত্ব স্থায়ী কোনো সম্পত্তি নয়। প্রচারনা চালনাকারি সংবাদমাধ্যম এ বিবৃতিকে কিছু লো প্রোফাইল কাভারেজ দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমই আজীবন নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেয়ার খালেদা জিয়ার বিবৃতিটি প্রধান সংবাদ শিরোণাম করে।
১৪ সেপ্টম্বর আমার দেশ ‘মাইনাস’- এর জবাব ‘আজীবন’ দিয়ে নয়’ শিরোণামে ওই প্রস্তাবের গঠনমুলক সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে কমিটি এর মাধ্যমে অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ করেছে যা মুলত দলের জন্য ভালো কোনো ফলাফল বয়ে আনবেনা। ওই বিশ্লেষণি প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে মিডিয়াগুলো খবরটি নিয়ে তাৎক্ষনিক প্রচারনায় নেমেছে। ‘খালেদা টু লিড বিএনপি ফর লাইফ’ শিরোণামে ডেউলি স্টার এবং প্রথম আলো ‘খালেদা জিয়া আজীবন দলের প্রধান’ শিরোণামে পরের দিন প্রধান সংবাদ করে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেউ একজনের স্তাবকতার কারনে যে বিষয়টি বেফাস এসেছে সেটি নিয়ে সামনের দিনগুলোতে বাম ঘরানার মিডিয়া বড় ধরনের প্রপাগান্ডা চালানোর সুযোগ এসে গিয়েছিলো। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়াই পুরো ঘটনাটির একটি ইতিবাচক সুরাহা করে বিজ্ঞ রাজনীতিকের পরিচয় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আপষহীন এই নেত্রীর ভাবমুর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন করার যে প্রচেষ্টা বাম সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়েছিলো তা মাঠে মারা গেছে।
১৪ সেপ্টম্বর বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া ও আওয়ামীলগের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিলের ছবির নিচে মোটা হরফে ‘মাইনাস টু’ শিরোণামে বড় করে একটি নিউজ করেছে আমার দেশ। এই সংবাদে সাবেক দুই শক্তিধর নেতার অবস্থান হিরো থেকে জিরো হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। একই দিন পত্রিকাটির প্রথম পাতার নিচের দিকে ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে রেস্টে আছিঃ জলিল’ শিরোণামে এক কলামের আরেকটি খবরে জলিলকে উদ্বৃতি করে বলা হয়, দলীয় নেত্রীর নির্দেশে তিনি এখন বিশ্রামে থাকবেন। এই সংবাদটি প্রায় প্রতিটি দৈনিকে এসেছে। এর দুদিন আগে তিনি পুরো সুস্থ হয়েছেন জানিয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদটি বহাল হয়েছেন বলে দাবি করেন।
খালেদা জিয়া মুক্তির পর দিন জাতীয় দৈনিকগুলোতে সেনাবাহিনী প্রধান মইন উ আহমদের ‘খাদ্য নিরাপত্তা’ শিরোণামে দীর্ঘ এক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। যুগান্তর, যায়যায়দিনসহ কয়েকটি পত্রিকা প্রথম পাতায় আর্টিকেলটির বিজ্ঞাপন ছেপে বলা হয় ‘ভিতরের পাতায় সেনাবাহিনী প্রধানের লেখা পড়ুন’। মইন উ তার দীর্ঘ নিবন্ধে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তার দিক নির্দেশনামুলক লেখায় দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা বলেন। বিকল্প খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং নতুন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের আকুতি প্রকাশ করা হয় এ লেখায়। খাদ্য নিরাপত্তার সার্বিক দিক উঠে এসছে তার লেখায়। ঠিক খালেদা জিয়া মুক্তির দিন সেনাবাহিনী প্রধানের দীর্ঘ নিবন্ধটি পত্রিকা অফিসে আসে। ফলে খালেদা মুক্তির সংবাদ যেদিন পত্রিকা টই টম্বুর সেদিন মইনের নিবন্ধটিও প্রকাশিত হয়। একসাথে প্রায় প্রধান সব সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কলামে এটি ছাপা হয়।
‘অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে পাবনার ছেলের জয়’ শিরোণামে ১৬ সেপ্টেম্বর মানব জমিনের শেষ পৃষ্টায় এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত এর আগে দ্বিতীয়টি ছিল না। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো নির্বাচনে এ যাবত কোনো বাঙ্গালি নির্বাচিত হয়নি। দেশটির স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে জিতেছেন পাবনার ছেলে প্রকৌশলী প্রবীর মিত্র। লেবার পার্টির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিডনির প্যারামাটা কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। এই কাইন্সলররাই পরবর্তীতে মেয়র নির্বাচন করেন। এদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতে মেয়র নির্বাচন হয়। সম্ভাবনা রয়েছে প্রবীরের মেয়র হওয়ার। একই দিন ইনকিলাব লিড করেছে ‘অর্থনীতির মুলধারায় আসছেনা গ্রামীণ সঞ্চয়’। লালকালিতে পুরো পাঁচকলামে করা সংবাদটিতে বলা হয়েছে ব্যংকিং খাতে গ্রামীণ আমানত কমছে। গ্রামীণ মানুষ তাদের সঞ্চয় রাখছে এনজিওদের কাছে। খবরটি গরুত্বপূর্ণ। এই প্রবণতা আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবেনা। এদেশে এনজিওর যে বিস্তার ঘটেছে তা অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নের বদলে বিপত্তি ঘটাচ্ছে। এর ওপর আমানত রাখার প্রবানতা ব্যংকমুখি না হয়ে তা যদি পুরোপরি এনজিও খাতে চলে যায় তার ফলাফল ভয়াবহ। বিশেষ করে বেসরকারি এসব সংস্থার বিরুদ্ধে রয়েছে অজস্র অভিযোগ। তারা গ্রামীণ দরিদ্র গোষ্ঠিকে শুষে নিচ্ছে। এধরনের খবর সংবাদমাধ্যম গুরত্ব দিয়ে ছাপালে জনসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সব মহল সচেতন হতেন। পত্রিকাটি একই দিন ‘কারামুক্তিতে খালেদা পরিবার এগিয়েঃ হাসিনা নিজেসহ পরিবারের কেউ মুক্ত নন’ শিরোণামে একটি একপেশে সংবাদ ছেপেছে। সেখানে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়। পত্রিকাটি জোট সরকারের শেষের দিকে এসে অনেকটা গন্তব্য হারিয়ে ফেলে। শুরু থেকে ইসলামি ভাবধারার পত্রিকা হিসেবে পরিচিতি ও পাঠক প্রিয়তা পায়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগলোতে জোট সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তারা পরিমিতিবোধ হারিয়ে ফেলে। নিজস্ব ধ্যনা ধারণা ও সম্পাদকীয় নীতিতে সমন্বয়হীন পরিবর্তনে পাঠক হয় বিভ্রান্ত। পাঠকের বিশ্বাস হারিয়ে প্রচার সংখ্যা কমে যায় হুহু করে। অনেক সময় জোট সরকারের সমালোচনা এবং আওয়ামী শিবিরের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে ইসলামি ভাবধারার বিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। মিল থাকেনা সংবাদের হেডলাইন এবং ভিতরে প্রকাশিত সংবাদের মধ্যে।
১৫ সেপ্টেম্বর বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ হয়েছে। সাধারনত ছাত্র সংঘর্ষের খবরগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলো মনগড়া সংবাদ ছাপা হতে দেখা যায়। বাম ঘরানার পত্রিকাগলো একজোট হয়ে প্রায় ডাহা মিথ্যাকে প্রতিষ্টা করে ছাড়ে বেশিরভাগক্ষেত্রে। কোন সংবাদ মাধ্যমে ঘটনায় কতটা রং চড়িয়েছে সহজে আন্দাজ করা যায়। আর প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রায়ই হতবাক হন ঘটলো কি আর পত্রিকা লিখেছে কি। এক্ষেত্রে ১৬ সেপ্টেম্বরে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটি দেখে পাঠক হতবাক হবেন। ছবি ও সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা দারুন নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে পত্রিকাটির জন্য যা বিরল।
‘ওরা এখন দিল্লিতে’ শিরোণামের উপর জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সহ বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটারের ছবি ছাপা হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বরের আমার দেশে। এরা সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অবসর চাইছেন। বাশার ছাড়া অন্য পাঁচ জনেরই বয়স পঁচিশের নিচে। এই বয়সে জাতীয় দল থেকে অবসর নিবেন বড়ই অবাক করার বিষয়। এ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যাপারে অনুমান করা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবিন বাংলাদেশের কোনো ভালো খবর নেই। একের পর এর হোয়াইটওয়াসের খবর। ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুরত্ব বেড়েছে বোর্ডের। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটলো ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) এ যোগদানের ঘোষণা দিয়ে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে। অনেকে আইপিএলে যোগ দিতে যাওয়া ক্রিকেটারকে লোভি বলছেন। অনেকে দুষছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। পরের দিনের জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রধান সংবাদ হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের চার সদস্যের ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধের সংবাদ। ইন্ডিয়ান বিদ্রোহী লীগ নামে খ্যাত আইপিএলের (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার শাস্তি স্বরূপ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারসহ চার ক্রিকেটার ইতোমধ্যে চুক্তি করেছেন। অরো চারজন চুক্তি করতে যাচ্ছেন। প্রথম আলো, যায়যায়দিন, যুগান্তর সংবাদটি লিড করেছে। অন্যন্য পত্রিকাও গুরুত্বের সঙ্গে প্রথম পাতায় ছাপিয়েছে। আগেরদিন রাতে টিভি চ্যানেলগুলো সংবাদটি বেশ ভালো কাভারেজ দিয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় প্রতিটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ ছিল চারদলের বৈঠক। বৈঠকের চেয়ে যে জিনিসটি অনেক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে তাহলো শফিক রেহমানের বাড়ি। দেশের প্রধান রাজনৈতিক জোটের বৈঠক হবে সাংবাদিক শফিক রেহমানের বাসায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি অনেকে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ও শরিকদলের লোকেরাও বিষয়টি নিয়ে অবাক হয়েছেন। দৈনিক সমকাল এরই মধ্যে শফিকের বাসাকে নতুন হাওয়া ভবন শিরোণামে নিউজও করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের হাইপ্রোফাইল সফর চলছে চীনে। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেও সফরটি নিয়ে কেনো যেনো সংবাদমাধ্যমগুলোর আগ্রহ খুব কম। বিএনপি, চারদল, আওয়ামীলীগ আর নির্বাচনি গরমে তার সফরটি হারিয়ে গেছে। সুশিল পত্রিকা ডেইলি স্টার ‘চায়না প্রেজেস হেল্প ইন নিউকিয়ার পাওয়ার প্রোজেক্ট’ শিরোণামে দিনের প্রধান সংবাদ করলেও অন্য সুশিল পত্রিকা প্রথম আলো প্রথম পাতায় স্থান দেয়নি ফখরুদ্দীনকে।
‘ভ্যানচালক ফারুক বিএসসিতে প্রথম শ্রেণীতে উর্ত্তীর্ণ’ শিরোণামে ১৭ সেপ্টেম্বর নয়া দিগন্তের শেষের পাতার ব সংবাদটি দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত। ভ্যানচালক বিএসসিতে পাস করলেই একটি দৈনিকের সংবাদ হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। এধরনের ফলাফলের জন্য কঠোর কায়িক শ্রমের পাশাপাশি কি ধরনের দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন তা উপলব্দি করা কঠিন। এ সংবাদটির উপরে ‘দারিদ্র জয় করে শিক্ষা সাফল্য’ শিরেণামে অন্য সংবাদটি এক তরুনীর সংগ্রামের। এ মেয়েটি নিষ্ঠুর দারিদ্রকে হার মানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে।
তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা সিলেট থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের কন্যা জুবাইদার রয়েছে বর্নাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য। ১৮ তারিখের আমাদের সময়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে এ নিয়ে ওই নির্বাচনী এলাকায় চলছে ব্যাপক গুঞ্জরণ। এর নিচেই ‘কী করবেন মান্নান ভুঁইয়া?’ শিরোণামে পত্রিকাটির আরেকটি নিউজে বলা হয়েছে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া রাজনীতি প্রশ্নে কী করবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
জসিম উদ্দিন
[email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

