somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নিষিদ্ধ আরিফ অনেকদিন পর একটা পোস্ট দিয়েছেন Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28871309 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28871309 2008-11-19 19:57:16 ৬০ আসনের দলকে জিতিয়ে আনা এবং অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা
২০০১ এর নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতির ভোটের সমীকরণটি খুব স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। পাচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচন কমিশন, কেয়ারটেকার সরকার, প্রশাসন সবকিছুকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে এবং একচেটিয়া মিডিয়া প্রভাব কাজে লাগিয়েও আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২টি আসন পায়, আপরদিকে কোনঠাসা বিএনপি জোটগতভাবে পেয়ে যায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশী। দেখা যায়, প্রায় সকল আসনে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ভাবধারার ভোট আওয়ামী ভোটের থেকে বেশী। রাজনীতির এই দুটি মূল ধারায় জনগণ এখন এতো বেশী বিভক্ত যে, সাধারণত: কেই তাদের রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন করে না। বাংলাদেশে খুব কম আওয়ামী লীগ সমর্থক রয়েছে যারা বিএনপি বা জামায়াতকে ভোট দিবে, একই ভাবে খুব কম বিএনপি সমর্থক রয়েছে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে।

যদি ধরা হয় কিছু সংখ্যক দোদুল্যমান ভোটার রয়েছে যারা এবার কোন না কোন কারণে পক্ষ ত্যাগ করবে তাহলে কি হতে পারে তা নীচের টেবিলে দেখানো হলো:

৫% এর কম ব্যবধানে বিএনপি হেরেছে ৮ (আ’লীগ) ১ (জাতীয় পার্টি) ৯ (মোট)
৫% এর কম ব্যবধানে আ’লীগ হেরেছে ১০ (বিএনপি) ২ (জামায়াত) ১২ (মোট)
৫% এর কম ব্যবধানে জামায়াত হেরেছে
৫% এর কম ব্যবধানে জাতীয় পার্টি হেরেছে ২ (আ’লীগ) ২ (মোট)
৫% এর কম ব্যবধানে অন্যান্য হেরেছে ২ (আ’লীগ) ২ (মোট)

১০% এর ব্যবধানে বিএনপি হেরেছে ৯ (আ’লীগ) ২ (জাতীয় পার্টি) ১১ (মোট)
১০% এর ব্যবধানে আ’লীগ হেরেছে ১৮ (বিএনপি) ২ (জামায়াত) ৩ (অন্যান্য) ২৩ (মোট)
১০% এর ব্যবধানে জামায়াত হেরেছে ২ (আ’লীগ) ২ (মোট)
১০% এর ব্যবধানে জাতীয় পার্টি হেরেছে ২ (আ’লীগ) ২ (মোট)
১০% এর ব্যবধানে অন্যান্য হেরেছে ১ (বিএনপি) ৫ (আ’লীগ) ১ জাতীয় পার্টি ৭ (মোট)

দেখা যাচ্ছে, যদি ৫% ভোটার বিএনপি-জামায়াত ছেড়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাহলে জোটের আসন কমবে ১২ টি। অপরপক্ষে যদি একই পরিমাণ ভোটার আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিকে ভোট দেয় তাহলে আওয়ামী লীগের আসন কমবে ১২ টি। এই পক্ষত্যাগ যদি ১০% ভোটারের ক্ষেত্রে ঘটে তাহলে বিএনপির কমবে ২১ টি এবং আওয়ামী লীগের কমবে ১৮ টি। ফলে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের ভোট ১০% বাড়লেও আসন সংখ্যা ২০-২৫টির বেশী বাড়বে না। ২০০১ সালে দলটি পেয়েছিল ৬২ আসন। তার সাথে আরও বিশটি যোগ হলে হতে পারে ৮২ টি। ১০% ভোট বাড়ার মত তেমন কোন কাজ দলটি কিন্তু করেনি।

এক-এগারোর অভ্যূত্থানের মূল কারণ হিসাবে অনেকে এই ভোটের সমীকরণকে দায়ী করেন। বর্তমান সরকার যে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল সে কথা দলটির সভানেত্রী প্রকাশ্যে বলে বেড়াতে দ্বিধা করেন নি, এমনকি অনেক আগেই এই সরকারের সকল কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়ার ব্লাক চেকে তিনি সই করে রেখেছেন। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে যে বর্তমান সরকার এবং তাদের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা তারা বার বার বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তো এ বিষয়ে কোন রাখ-ঢাক করার দরকার বোধ করেন নি।

৬০ আসনের দলকে জিতিয়ে আনার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে। বিএনপিকে খন্ড-বিখন্ড করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রানান্ত চেষ্টা করেছে। দলটির নেতা-কর্মীদের উপর এক ধরণের কেয়ামত নামিয়ে এনে দলটিকে ভেঙ্গে-চুরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। দুর্নীতির মামলা দিয়ে জনপ্রিয় নেতারা যাতে নির্বাচনে না দাড়াতে পারে সে ব্যবস্থা করতে চেয়েছে।

কিন্তু, এই সকল পদক্ষেপের পরও বিএনপির পরাজয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বরং খালেদা জিয়ার চট্টগ্রামের জনসভার পর মনে হচ্ছে মিডিয়া আর সুশীল সমাজ মিলে বিএনপির যত খারাপ অবস্থা তুলে ধরেছে, দলটির জনপ্রিয়তা প্রকৃতপক্ষে ততোটাই বেশী। আসলেই ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াতকে হারানো খুব বেশী সহজ নয়। ২০০১ এর নির্বাচনে ভোটের যে সমীকরণটির প্রকাশিত হয়েছে তা এখনো খুব একটা বদলায়নি। চারদলীয় জোট গত দুই বছর এক হিসাবে বিরোধী দলে থেকেছে। বিশেষ করে বিএনপির উপর যে কেয়ামত গেছে, তার কারণে দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, দুর্নীতি - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কারণে দলটির বিরুদ্ধে আনীত অনেক অভিযোগই হাস্যরসের উপাদানে পরিণত হয়েছে। কেউ কি এখনো বিশ্বাস করবে যে তারেক জিয়া সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিতেন? অপরদিকে বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক মহলের প্রকাশ্য ইসলাম বিরোধী অবস্থানের কারণে ধর্মভীরু জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগ ভীতি অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ২০০১ এর মতই। এখনও নৌকা ঠেকাও রব উঠলে তাতে ব্যাপক গণসমর্থন পাওয়া যাবে। ফলে একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং তাতে সকল দল বাধাহীনভাবে অংশ নিতে পারলে ফলাফল ২০০১ এর মতই হতে পারে।

প্রথমে চেষ্টা করা হয়েছিল জরুরী অবস্থার মধ্যে নির্বাচন করে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের উপর বাধানিষেধ, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বেসরকারী মিডিয়াকে অনুমতি না দেয়া - ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে কারচুপির ব্যবস্থা রাখা এবং দল গোছানো, দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে উজ্জীবিত করা ইত্যাদির জন্য বিএনপি যেন কোন সময় না সে ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দলটিকে অপ্রস্তুত রেখে নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে চার দলীয় জোটকে পরাজিত করা। কিন্তু খালেদা জিয়ার চট্টগ্রামের জনসভা এই কৌশলের সাফল্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সবথেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। জোটের শক্তিশালী শরীক জামায়াত কতৃক নির্বাচনের জন্য খালেদাকে চাপ দেয়ার কথা পত্র-পত্রিকায় আসার পর পরই দলটির আমীর ও সেক্রেটারী জেনারেলকে একসাথে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দলটি নির্বাচনের বিষয়ে আরো নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে আওয়ামী লীগের পক্ষে খুব সহজেই জয়ী হয়ে আসা সম্ভব হবে, এমনকি কিছু এদিক-ওদিক করে তারা হয়তো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতাও পেতে পারে।

আসল খেলাটা শুরু হবে তখন। প্রকাশ্য দিবালোকে মিটিয়ে মানুষ হত্যার পর লাশের উপর কর্মীদের নৃত্য করার পর যে দলের নেত্রী আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে বলতে পারেন যে, ওগুলো তো মানুষ না, সাপ, তাদেরকে সাপের মত পিটিয়ে মারাতে তাই কোন অন্যায় হয়নি, সেই দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসলে কি করবে তা সহজেই অনুমেয়। দলটি বাংলাদেশে একবারই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং তখন কি করেছে তা এখনকান প্রজন্মের অনেকেই জানে না। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল, সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বিরোধী দলের হাজার হাজার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সময় বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদ এতোটা ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু, তারপরও এদেশের হাজার হাজার তরুন সে সময় সশস্ত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সত্যি সত্যিই বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদীদের স্বর্গ বানানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশকে ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কাতারে দাড় করানোর প্রচেষ্টা তখন হয়তো পূর্ণতা পাবে। স্বাভাবিকভাবেই তখন জাতিসংঘের শান্তিবাহিনীকে আরেকটি দেশের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।

একটি সিনেমার কাহিনী দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। সিনেমাটির নাম দ্যা টাইগার এন্ড দ্যা স্নো। ইতালিয়ান ছবি। বিখ্যাত পরিচালক ও নায়ক রবার্তো বেনিংনি পরিচালিত ও অভিনীত।

নায়ক এলিয়টি ডি গিওভানি একজন সাহিত্যের প্রফেসর, দুই মেয়ের ডিভোর্সড বাবা। ভিটোরিয়োর প্রেমে তিনি পাগল, যদিও ভিটোরিয়ো তাকে পাত্তা দেয় না। এক গভীর রাতে এলিয়টি তার ইরাকী কবি বন্ধু ফুয়াদের ফোন পান। ফুয়াদের জীবনী লিখতে বাগদাদে গিয়েছিলেন ভিটোরিয়া। ফুয়াদ জানান সেখানে যুদ্ধে ভিটোরিয়া আহত হয়ে কোমাতে রয়েছেন। এলিয়টি তখনই ছুটলেন এয়ারপোর্টে। বাগদাদের ফ্লাইটের টিকেট চাইলে তাকে সকলে পাগল ভেবে বের করে দিলো। কেননা, বাগদাদে তখন এয়ারপোর্ট বলে কিছু আর অবিশিষ্ট নেই। তিনি রেডক্রসের সহায়তায় ইরাকে প্রবেশ করলেন। বাগদাদ থেকে অনেক দূরে তাকে নামিয়ে দিলো রেডক্রসের গাড়ী। বাগদাদ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি কিছুদূর গাধার পিঠে গিয়ে পেলেন একটা বাস। একটু আগে বোমা পড়েছে তাতে। সিটে রক্তাক্ত লাশ। তিনি বাস চালিয়ে গেলেন কিছুদূর। তারপর পায়ে হেটে, পরিত্যাক্ত মোটর সাইকেলে করে, উঠের পিঠে চেপে অবশেষে তিনি বাগদাদে পৌছলেন এবং ভিটোরিয়ার দেখা পেলেন তিনি। বিধ্বস্থ হাসপাতালের এক কোনায় ভিটোরিয়া পড়ে আছেন। ডাক্তার জানালেন, তার জন্য যে ওষুধ প্রয়োজন তা হাসপাতালে নেই। বিধ্বস্থ হাসপাতাল, ওষুধ তো দূরের কথা, সেখানে রোগীদের থাকার মত বিছানাপত্রই নেই। এলিয়টি বের হলের ওষুধের খোজে। অনেক কষ্টে একটা ফার্মেসী খোলা পাওয়া গেলে তার দরজা ঠেলে দেখা গেলো ভিতরের সব কিছু লুটপাট হয়ে গেছে, শুধু বিক্রেতার চেয়ার পড়ে রয়েছে পচে যাওয়া লাশ। অবশেষে ফুয়াদের মনে হলো একজন অশীতিপর বৃদ্ধ হেকিমের কথা। তিনি কিছু হেকিমি চিকিৎসা দিলেন যাতে ভিটোরিয়াকে কোন রকমে বাচিয়ে রাখা গেলো। পরে তিনি জীবনের ঝুকি নিয়ে রেডক্রসের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে এসে ভিটোরিয়োকে বাচালেন। ফুয়াদকে খবরটা দিতে গিয়ে দেখা গেলো তিনি গলায় ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কমেডি সিনেমা। হাসতে হাসতে হাওমাও করে কাদার মত সিনেমা। মাত্র কয়েক বছর আগের সমৃদ্ধ বাগদাদ যে কিভাবে মৃতের নগরীতে পরিণত হয়েছে, তা প্রতিটি দৃশ্যে দেখা যায়।

কে জানে, হয়তো আগামী কয়েক বছর পর এই ব্যস্ত রাজধানী পরিণত হবে ভুতুড়ে নগরীতে, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক আর রমনা পার্ক ভর্তি হয়ে যাবে মাইনে। আমাদের বিশাল হাসপাতালগুলোতে হয়তো তখন সামান্য স্যালাইন পাওয়া যাবে না। রাস্তায় রাস্তায় হয়তো টহল দেবে বিদেশী সৈন্য।

অনেকেই এগুলোকে অবাস্তব কল্পনা বলে উড়িয়ে দিবেন। দশ বছর আগে বাগদাদবাসীকে আজকের বাগদাদের চিত্র একে দেখালে তারাও হয়তো তাই ই করতো।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28870591 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28870591 2008-11-18 10:56:57
একজন ক্লিন প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা -- আলফাজ আনাম
“নির্বাচনের ফলাফল আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ কেমন হবে তা কি ঠিক হয়েছে?

- হ্যাঁ, এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে। পাওয়া আসনের আনুপাতিক হারে আমরা মন্ত্রিত্ব পাবো। আশা করি এ ব্যাপারে সমস্যা হবে না।

আপনাকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে জোটের প্রধান দল রাজি আছে কি?
- হ্যাঁ, ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে আমাকে রাষ্ট্রপতি করার কথা আছে। আমরা মনে করি, সে চুক্তি এখনো বহাল আছে।
তাহলে আপনি আশা করছেন আগামীতে আপনাকে বঙ্গভবনে দেখা যাবে···
- আল্লাহর রহমত হলে অবশ্যই আমাকে আরেকবার বঙ্গভবনে দেখা যাবে।

বর্তমান সরকার সেনাসমর্থিত। সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে আপনার দল বিশেষ আনুকূল্য পাচ্ছে বলে কথা উঠেছে। এটা কি ঠিক?

- আমি সেনাপ্রধান ছিলাম এবং বর্তমান সরকার সেনাসমর্থিত এটা ঠিক। এ কারণে একটু সুবিধা পাওয়ারই কথা। কিন্তু একজন সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে আমার সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলেও তারা আমার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আনুকূল্য দেখাচ্ছে এটা ঠিক নয়। আমার দলে দুর্নীতিবাজ নেই, আমাদের নেতারা ক্লিন বলে গ্রেফতার হননি। কিন্তু আমাকে তো এখনো মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। আগামী দিনও একটি মামলায় হাজিরা দিতে হবে। ৬ বছর জেল খেটেছি। আর কত?”

এরশাদ জোট প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া। আর সে জন্যই জোট। (আমার দেশ ১২ নভেম্বর ০৮)

এরশাদের সাক্ষাৎকার থেকে আমরা মোটামুটি বুঝলাম বর্তমান সেনাসমর্থিত সরকারের কাছ থেকে তিনি কিছু সুবিধা পাচ্ছেন। এরশাদকে এ সরকার কেন সুবিধা দিচ্ছে? তিনি কি শুধুই একজন সাবেক সেনাপ্রধান হওয়ার কারণে। নাকি চারদলীয় জোটের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয় একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে মহাজোটকে ড়্গমতায় আনার চেষ্টা চলছে এটি কি সে প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা জানি না। তবে এরশাদের বক্তব্যে এমন সন্দেহ আরো বাড়ছে।

এরশাদ-আওয়ামী লীগ সম্পর্ক নতুন নয়। এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের অতীত। ’৮২ সালে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নেয়ার পর প্রথম তিনি পরোক্ষ অভিনন্দন পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। ’৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখল প্রশ্নে শেখ হাসিনার মন্তব্য ছিলঃ ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি’। এরশাদের নয় বছরের ড়্গমতা আঁকড়ে থাকার ক্ষেত্রে প্রথম টনিক হিসেবে কাজ করছে শেখ হাসিনার এই বহুল আলোচিত মন্তব্য। সামরিক আইন প্রশাসকের খোলস বদলে তিনি যখন প্রথম রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তখন সেই রাজনৈতিক দলের ভিত্তি রচনার কাজটি আওয়ামী লীগ তৈরি করে দিয়েছে। ’৮৬-র নির্বাচনে যারা অংশ নেবে তারা জাতীয় বেইমান বলে চিহ্নিত হবে এমন ঘোষণা দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেখ হাসিনা সে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মওদুদ আহমদ তার বইয়ে শেখ হাসিনার সাথে এরশাদের লং ড্রাইভের সম্পর্কের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট হয় এ সম্পর্কের ভিত্তি অনেক মজবুত ও শক্তিশালী। এরশাদ জানেন শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পক্ষে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এ কারণে এরশাদ তার বিরম্নদ্ধে পরিচালিত নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে এখন কোনো গুরম্নত্বই দিতে চান না। এ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কর্মী মারা গেলেও এরশাদ সে দায়িত্ব নেননি। ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগ নূর হোসেন দিবস পালন করে। এর এক দিন পর দেয়া সাড়্গাৎকারে এরশাদ বলছেন, নূর হোসেনের হত্যার জন্য তো আমি দায়ী নই। তাকে হত্যা করেছে ওরা নিজেরাই, যারা একটি লাশ চেয়েছিল। এরশাদের দাবি অনুযায়ী নূর হোসেনকে আওয়ামী লীগ নিজেই হত্যা করেছে। এর কী জবাব দেবেন শেখ হাসিনা আমরা জানি না। তবে এ দেশের মানুষ জানে, নূর হোসেনের লাশের ওপর দিয়ে এ দেশে গণতন্ত্র এসেছিল। আওয়ামী লীগের সাথে এরশাদের এমন আঁতাত যদি নূর হোসেন জানতেন তাহলে বুকে-পিঠে আওয়ামী লীগ সমর্থক এ ইতিহাস হয়ে যাওয়া ব্যক্তি ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লেখা নিয়ে রাজপথে হয়তো নামতেন না। এরশাদ তাহলে ঠিকই বলেছেন- ‘নূর হোসেনের হত্যার জন্য তো আমি দায়ী নই।’ তাহলে কারা দায়ী? যারা এরশাদের সাথে আঁতাত করে আবার নূর হোসেনদের মতো কর্মীদের মাঠে নামিয়েছিলেন তারা কী? শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ কি এ দাবি মেনে নিয়েছেন? এখন পর্যন্ত এরশাদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেনি আওয়ামী লীগ।

এরশাদ দাবি করেছেন আমাদের নেতারা ক্লিন বলে তারা গ্রেফতার হননি। শুধু তার নেতারা কেনো তিনিও কি কম ক্লিন? এক-এগারোর সরকার নোংরা রাজনীতিবিদদের ক্লিন করানোর প্রচেষ্টায় খালেদা, হাসিনা, নিজামী, মুজাহিদ- সবাইকে কারাগারে পাঠিয়ে ছিলো। কিন্তু এরশাদকে যেতে হয়নি। কারণ তার গায়ে কোনো ময়লা নেই। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ‘জনতা টাওয়ার’ যে সরকারের সম্পত্তি হয়ে গেল এবং রওশন এরশাদসহ তাদের দলের অনেকের জরিমানা হলো, সে দায়ভার থেকে জেনারেল এরশাদ কিভাবে দায়ভারমুক্ত হবেন? কিভাবে ক্লিন থাকবেন? অবশ্য আওয়ামী লীগের মতো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে থাকলে ময়লা লাগার কেউ কোনো অভিযোগ করবেন না। এমনকি সুশীলসমাজ বা মিডিয়া, কেউ না। সবার চোখে এরশাদ এখন ক্লিন। আর বর্তমান সেনাসমর্থিত সরকার এমন ক্লিন লোককে তো সুবিধাই দেবে কারাগারে পাঠাবে কেন? এমন লোকেরই তো রাষ্ট্রপতি হিসেবে মানায়। তা-ই না। তাহলে দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনার গায়ে দুর্নীতির নোংরা লেগেছে এ কারণে কারাগারে যেতে হয়েছে। কিন্তু এরশাদ একজন নিষ্কলুষ দুর্নীতিমুক্ত লোক এ জন্য আগামী নির্বাচনের পর তাকে রাষ্ট্রপতি বানাতে হবে। স্বয়ং শেখ হাসিনা এরশাদের সাথে এ চুক্তি করছেন বলে দাবি করেছেন এরশাদ। তবে এরশাদ এ কথাও বলেছেন তিনি মহাজোট করেছেন কোনো আদর্শিক কারণে নয় নিখাঁদ ড়্গমতায় যাওয়ার জন্য। তিনি আশা করছেন এবার মহাজোট ড়্গমতায় যাবে আর আওয়ামী লীগের সাথে তার চুক্তি অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি হবেন। এরশাদের ভাষায় আল্লাহর রহমতে তাকে বঙ্গভবনে দেখা যাবে।

এবার এরশাদের এ আশা পূরণের দৃশ্যপটটি আমরা একটু কল্পনা করিঃ বাংলাদেশের নয় বছরের সামরিক শাসক, যিনি স্বৈরাচার হিসেবেও পরিচিত, তিনি বাংলাদেশের ১৬তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। সে শপথ অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল শেখ হাসিনা উপস্থিত আছেন। একজন স্বৈরাচারকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করায় বেগম খালেদা জিয়া সে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টামণ্ডলীর অনেকে উপস্থিত আছেন। কিন্তু একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি আসছেন কি না, সে দিকে সবার দৃষ্টি । তিনি হলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। আচ্ছা, সাহাবুদ্দীন আহমদ কি এমন অনুষ্ঠানে থাকবেন? এরশাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার দাবির সাথে এমন দৃশ্য অনেকের মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার আগে এরশাদ যেমন রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তেমনি দেশের মানুষের মাঝে এখন থেকেই বঙ্গভবনে কে আসবেন সে দিকেও আগ্রহ বাড়ছে। নিশ্চয়ই এ আগ্রহ আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। সে প্রভাব কেমন হবে তা দেখার জন্য যদি নির্বাচন হয় সে সময় পর্যন্ত আমাদের অপেড়্গা করতে হবে। দেখতে হবে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের ইচ্ছাপূরণের এ নির্বাচনে কী সিদ্ধান্ত নেন।

সবশেষে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য দল-জোটের নেতানেত্রীদের কাছে একটি প্রশ্নঃ আপনাদের কী মনে আছে ১৯৯০ সালের ১৫, ৭ ও ৫ দলের পৃথক পৃথক সমাবেশ থেকে একটি অভিন্ন ঘোষণা প্রচার করা হয়েছিল। সে ঘোষণার এক জায়গায় বলা হয়েছিল· ‘স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তিকামী জনগণ এরশাদ সরকারের অপসারণের দাবিতে এবং এ দেশে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ধারা ও জীবন পদ্ধতি কায়েম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষে চলমান গণআন্দোলনের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ এক বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন।’ একই ঘোষণার অন্য জায়গায় উলিস্নখিত দল-জোটগুলো প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলঃ ‘অবৈধ এরশাদ সরকারের অধীনে কোনো জাতীয় নির্বাচন আমরা ১৫, ৭ ও ৫ দলীয় ঐক্যজোট গ্রহণ করব না, তা রাষ্ট্রপতি বা সংসদ যেকোনো নির্বাচনই হোক না কেন। এসব নির্বাচন শুধু বর্জনই নয়, প্রতিহতও করব।’

এ ইতিহাস তো নিকট-অতীতের। এই ইতিহাসের অন্যতম অংশীদার তৎকালীন ১৫ দলীয় জোটের নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই এখন এরশাদকে প্রেসিডেন্ট করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর এরশাদ নিজেকে দাবি করছেন একজন ক্লিন ব্যক্তি হিসাবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগ এরশাদকে প্রেসডিন্ট হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুত হলেও মাত্র ১৭ বছরের মধ্যে একজন স্বৈরশাসককে দেশবাসী প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুত কীনা তা দেখার জন্য আমরা নির্বাচন পর্যন্ত অপেড়্গায় রইলাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28869416 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28869416 2008-11-15 16:04:41
শাবানা আজমির দুঃখ - আলফাজ আনাম
শাবানার এ মন্তব্যটি তুলে দিলাম, কারণ তার আরেকটি মন্তব্য নিয়ে আজকের এ লেখা।

সম্প্রতি শাবানা আজমি এবং হিন্দি সিনেমার আরেক খ্যাতিমান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে ভারতের নামকরা জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দিয়েছে। তাদের কাজের স্বীকৃতির জন্য এমন ডিগ্রি পাওয়া খুব আশ্চর্যের বিষয় নয়। কলকাতার একটি বাংলা পত্রিকায় খবরটি পড়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ইন্টারনেটে ভারতীয় সংবাদপত্রগুলো থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে আরো কিছু তথ্য জানা গেল। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। জামিয়া মিল্লিয়ার সমাবর্তনে যোগ দেয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে শাবানা আজমি দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে ভারতের মুসলমানদের করুণ অবস্থার বিবরণ দেন। তিনি বলেছিলেন, এ দেশের মুসলিমদের ওপরে অবিচার করা হয়, যার জন্য আমি ও জাভেদ আখতার চাইলেও মুম্বাইয়ে ফ্ল্যাট কিনতে পারি না। দেশের মুসলিম নেতারাও এই পরিস্থিতি শোধরানোর কোনো চেষ্টা করেন না। নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছিলেন, হিন্দি ছবিতে সন্ত্রাসবাদী মানেই মাথায় ফেজটুপি আর পাজামা পরা মুসলিমদের ছবি দেখানো হয়। (আনন্দবাজার ৩১ অক্টোবর ২০০৮)

এ দুই অভিনয়শিল্পীর উচ্চারণে আমরা অন্যরকম এক ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ভেতরের চিত্রটি দেখতে পাচ্ছি। যে দুই ব্যক্তি মুসলমানদের করুণ অবস্থার কথা জানাচ্ছেন তারা ভারতের তথাকথিত মৌলবাদী মুসলমান নন। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের পিছিয়ে পড়া অংশের প্রতিনিধিও নন। সন্দেহ নেই ভারতে যে মুসলমানদের সমাজের উঁচুতলায় যাতায়াত ও যোগাযোগ আছে, অর্থবিত্ত আছে, শাবানা জাভেদ কিংবা নাসিরুদ্দিন শাহ তাদের একজন। শাবানা অভিযোগ করেছেন শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে মুম্বাইয়ে তিনি ফ্ল্যাট কিনতে পারছেন না। এই যদি ভারতের সংখ্যালঘু সমাজের প্রভাবশালীদের অবস্থা হয়, তাহলে সমাজের নিুস্তরের সংখ্যালঘুরা কোন অবস্থায় আছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আমরা কোন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের চিত্র দেখছি ! শাবানা আজমির এ বক্তব্যের পর মনে হয়েছে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে তার কন্যার পরিচয়, স্ত্রীর পরিচয়, মায়ের পরিচয়, একজন অভিনেত্রীর পরিচয়, একজন ভারতীয় হওয়ার পরিচয়ের চেয়েও তার মুসলিম পরিচয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর সমাজে এ জন্য তাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যে জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাবানা আজমি­নাসিরুদ্দিন শাহকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে মাত্র কিছু দিন আগে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যা করে ভারতীয় পুলিশ। আরো কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ভারতের মানবাধিকার সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কতৃêপক্ষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং তারা জানান, এই ছাত্ররা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়। কিন্তু ভারতের অনেক রাজনীতিক এবং গণমাধ্যম জামিয়া মিল্লিয়াকে সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুরঘর হিসেবে প্রচারণা চালায়। যেন মুসলমান মানে বা মুসলিম পরিচয়ের প্রতিষ্ঠান মাত্রই সন্ত্রাসীদের আখড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মুশিরুল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, এখানে মুসলিম মানেই সন্ত্রাসবাদী বলে ছাপ্পা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিবার কোনো সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়। আমাদের যেভাবে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে তা থেকে মুক্তি পেতে কে জানে কত দশক সময় লাগবে! আমাদের ছাত্রছাত্রীরা জামিয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে গেলে চাকরি পাচ্ছে না। কোনো ট্যাক্সিচালক এখানে যাত্রী নিয়ে আসতে চায় না। মুশিরুল হাসান দুঃখ করে বলেন, ‘কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে কি শান্তিমিছিল করতে হয় অথবা আমরা শান্তির পক্ষে বলে দেয়ালে পোস্টার সাঁটাতে হয়? পরিস্থিতির চাপে আমাকে তাও করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।’ এখানে বলে রাখা দরকার আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জামিয়া মিল্লিয়া হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয়। সমাবর্তন বক্তৃতায় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের করুণ আর্তি আমরা শুনতে পেলাম।

আলিগড় বা জামিয়া মিল্লিয়া ভারতের মুসলমানদের প্রথাগত ধর্মীয় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব বিষয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। সমাবর্তনের খবর দিতে গিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আর্ট গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়। আর এ আর্ট গ্যালারির নাম দেয়া হয়েছে এম এফ হুসেন আর্ট গ্যালারি। এখন এম এফ হুসেন সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। এম এফ হুসেন অর্থাৎ ভারতের আরেক খ্যাতিমান শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের নামে জামিয়া মিল্লিয়া এই আর্ট গ্যালারিটি চালু করেছে। মকবুল ফিদা হুসেন এখন ভারতে নেই। এক দেবীর মূর্তি আঁকার কারণে হিন্দু মৌলবাদীদের হামলার ভয়ে এখন তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতে আসতে পারছেন না, দুবাইয়ে আছেন। আমরা কি ভাবতে পারি আমাদের দেশের একজন লেখিকা যখন দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে একের পর আঘাত দিচ্ছে, কিন্তু এ জন্য দুঃখ পর্যন্ত প্রকাশ করছে না। তখন তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত। এমনকি তাকে পুরস্কৃতও করছে। আর সে দেশের একজন খ্যাতিমান শিল্পী ছবি আঁকার কারণে জীবনের ভয়ে দেশছাড়া। কোথাও কোনো প্রতিবাদ নেই, হইচই নেই। সে দেশের গণমাধ্যমে তোলপাড় নেই। কোথায় আজ ভারতে শিল্পীর স্বাধীনতা কিংবা বিবেকের স্বাধীনতা। মকবুল ফিদা হুসেন মুসলমান বলে কি সব স্বাধীনতা শেষ হয়ে গেছে? ভারতের গণমাধ্যমের স্বরূপ দেখুন। এ খবর দিতে গিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শিরোনাম করেছেঃ চসলময়মধঢ় মষ থড়য়? ঔথশমথ ষথশপঢ় থড়য় বথললপড়ী থফয়পড় থড়য়মঢ়য় গঋ ঐৎঢ়থমষ। অর্থাৎ মকুবল ফিদা হুসেনের নামে আর্ট গ্যালারি প্রতিষ্ঠার মাঝেও পত্রিকাটি রাজনীতি দেখছে। এই না স্বাধীন সংবাদপত্রের নমুনা!

ভারতের মুসলমানদের এই নিপীড়নমূলক পরিস্থিতির বড় কারণ হচ্ছে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে এখন ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রন চলে গেছে। দেশটির সেনাবাহিনীও এখন এদের সাথে একাকার হয়ে গেছে। হিন্দুত্ববাদীদের সাথে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মুসলমানদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এর প্রমান পাওয়া যায়, সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদের মালেগাঁওয়ে এ মুসলমানদের ওপর এক হামলার ঘটনায় ভারতের সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ থেকে। ভারতের সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী সঙ্ঘ পরিবারের এক নেত্রী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের সাথে ষড়যন্ত্র করে হিন্দুত্ববাদীদের জন্য সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার থেকে অত্যাধুনিক রাইফেল, বিস্ফোরক ও বুলেট সরবরাহ এবং হিন্দুত্ববাদীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের অভিযোগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত এবং অবসরপ্রাপ্ত দু’জন মেজরকে গ্রেফতার করে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড বা এটিএস। গ্রেফতার হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত স্বীকার করেছেন, মালেগাঁও এবং আরো কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের তিনিই মূল হোতা। এটিএস আরো কয়েকজন সামরিক অফিসারকে গ্রেফতার কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই গোষ্ঠীটি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকেই মারাত্মক বিস্ফোরক ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করেছে। মুম্বাইয়ের অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড সামরিক বাহিনীকে যেসব তথ্য প্রদান করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত ২০০৪-০৫ সালে যখন জম্মু কাশ্মীরে মোতায়েন ছিলেন, সে সময় তিনি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের লাইসেন্স গ্রহণ করেন। এখানে বলে রাখা দরকার জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোকাবেলা করার জন্য কাশ্মীরের সংখ্যালঘুদের নিয়ে গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী গঠন করেছে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেয়ার এক প্রকল্প কার্যকর করছে। সম্ভবত এই খাত থেকেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুরোহিত অস্ত্রশস্ত্রসহ বুলেট, বারুদ ও বিস্ফোরক সরবরাহ করছিলেন। শ্রীকান্ত পুরোহিত মুসলিমবিরোধী জঙ্গি সংগঠনও গড়েছেন যার নাম ‘অভিনব ভারত’। তিনি সেনাবাহিনীর ট্রেনিংয়ের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র ও বুলেট সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে এ চক্রের হাতে তুলে দেন। সেনাবাহিনীর অফিসার হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রদেশের পঞ্চমাহারি স্থানে হিন্দু যুবকদের নিয়ে গত আগস্ট মাসে এক ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করেন। এ ছাড়া পুনেতে তার নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার শেখানো হয়। এখানে ৫৪ জন হিন্দুত্ববাদী তরুণ প্রশিক্ষণ নেয়। অবশ্য ভারতের প্রতিরক্ষমন্ত্রী এ কে অ্যান্টানিও মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি স্থানের বিস্ফোরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জড়িত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরেকটি উদ্বেগজনক খবর প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে উচ্চপদস্থ সামরিক অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুরোহিত কিছু দিন আগে কলকাতায় এসে বাংলাদেশের এক হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে গোপন বৈঠক করেন। বাংলাদেশভিত্তিক এই হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠীকে তিনি কী ধরনের কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নাশকতামূলক কাজেই তাদেরকে যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা জানি না আমাদের বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে কতটা সতর্ক রয়েছে। যদিও এ সরকারের কর্মকাণ্ডে ভারতের প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
যা হোক, আমরা আবার শাবানা আজমি আর নাসিরুদ্দিন শাহর বক্তেব্য ফিরে আসি। নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছেন, হিন্দি ছবিতে সন্ত্রাসবাদী মানেই মাথায় ফেজটুপি আর পাজামা পরা মুসলিমদের ছবি দেখানো হয়। হায়! এটা কি শুধু ভারতের চিত্র? আজকে সমগ্র বিশ্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে মুসলমানদের টার্গেটের প্রতিচ্ছবি। জর্জ বুশের একেকজন অনুসারী প্রকাশ্যে মুসলমানদের ওপর আঘাত হানতে পারছে না বলে ঘৃণা ছড়ানোর মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এটা শুধু ভারতের চিত্র নয়, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশেও তো সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকটিকে চিত্রিত করা হচ্ছে টুপি ও দাড়িওয়ালা হিসেবে। বরং ভারতের চেয়ে আমাদের এই দেশে এ প্রবণতা বেশি। নাসিরুদ্দিন শাহের ভাগ্য ভালো যে তাকে বাংলাদেশের টেলিভিশন বা সিনেমা দেখতে হয় না। দেখলে হয়তো ভারতের চলচ্চিত্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করতে লজ্জা পেতেন। নাসিরুদ্দিন শাহ ভারতের সিনেমা জগতের কথা বলেছেন, কিন্তু আমাদের দেশের মুসলমানদের অবস্থা কী? জামিয়া মিল্লিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর তো তার দুঃখের কথা বলতে পেরেছেন। বাংলাদেশের ভালো কোনো মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল যদি বলেন, তার ছাত্ররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, পরদিন বাংলাদেশের সংবাদপত্রে সে খবর বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হবে। সে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এমন কেচ্ছা-কাহিনী প্রকাশ হওয়াও বিচিত্র নয়। জামিয়া মিল্লিয়া যেখানে প্রতিকূল পরিবেশে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করছে, সেখানে আমরা কিভাবে আরবি জানা বা মাদ্রাসা পড়া ছাত্রদের যাতে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যায় তার আয়োজন করছি। জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়ার পরিবর্তে কারো কারো জন্য বন্ধ করে দিচ্ছি। পার্থক্য হচ্ছে ভারতে মুসলমানরা নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হিন্দু বর্ণবাদী অভিজাত সম্প্রদায়ের হাতে, আর এ দেশে মুসলমানদের একাংশের হাতে অপর অংশ বঞ্চিত হচ্ছে। হীনম্মন্যতা নামের এ অসুখ এমনই যে, আমাদের গোটা জাতির ধ্বংস ডেকে আনবে। শাবানা আজমি-নাসিরুদ্দিন শাহের তবুও সান্ত্বনা এতটুকু যে, সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের সামনে প্রতিবাদ করা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে। কিন্তু এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কার কাছে প্রতিবাদ জানাবে? তাদের সান্ত্বনারই বা কী আছে?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28868090 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28868090 2008-11-12 12:50:19
চোর চুরি করতে না পারলে নিজের ঘরে চুরি করে আর আওয়ামী লীগ অন্যকে মারতে না পারলে নিজেরা মারামারি করে http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28866476 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28866476 2008-11-08 22:53:13 শক্তিমত্ততা ও হিংস্রতার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ (২৮ অক্টোবর স্মরণে) ছেলে-মেয়ে যে বুঝতে শিখছে তা তাদের অবুঝের মত প্রশ্ন শুনেই বোঝা যায়। কখনো কখনো জানা উত্তর এড়িয়ে যেতে হয়, কখনো বা ঘুরিয়ে জবাব দিতে হয়। অনেক প্রশ্নের উত্তর ভালো করে জানি না। তখন উত্তর খুঁজে তারপর তাদের মত করে বোঝাতে হয়। ইন্টারনেটের কল্যাণে উত্তর খোঁজাটা অবশ্য কিছুটা সহজ হয়েছে। প্রশ্ন করে তারা দুজনে মিলে এবং নিজেদের মধ্যে বিস্তর আলাপ-আলোচনার পর। ফলে কোন রকমে গোঁজামিল দিয়ে পার পাওয়া বেশ কঠিন। কয়েকদিন আগে তারা জানতে চাইলো যে বাঘ ও সিংহ অত্যন্ত শক্তিশালী ও হিংস্র হওয়া সত্ত্বেও বনে বাঘ ও সিংহ ছাড়া অন্য প্রাণী যেমন হরিণ টিকে থাকে কি করে? সকল হরিণ কি বাঘের পেটে চলে যাবার কথা নয়?

ছেলে-মেয়ের প্রশ্ন শুনে নিজের মনে একটি প্রশ্নের উদয় হয়েছিল। পৃথিবীতে এখনও মানুষের বংশধর, বিশেষ করে যাদের মারণাস্ত্র নেই তারা কিভাবে বেঁচে রয়েছে? মানব সমাজের অধিকাংশ সদস্যই নিরস্ত্র ও শান্তিপ্রিয়। অপরদিকে বার বার হালাকু খা, চেঙ্গিস খা, হিটলার, টিক্কা খান, ইসরাইলী শাসকগণ ও বুশের মত কশাইরা পৃথিবীতে এসেছে। আগেকার যুগের নরহত্যাকারীদের দুহাতেই অস্ত্র থাকতো। তারা অস্ত্র দিয়েই সবকিছু দখল করার চেষ্টা করতো। কিন্তু বর্তমানে তাদের এক হাতে থাকছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র, আরেক হাতে গণমাধ্যম। এক হাতের অস্ত্র দিয়ে তারা হত্যা করে, অপরহাতের গণমাধ্যম দিয়ে নিজেদেরকে মানবতার ত্রাণকর্তা ও আহত-নিহতদেরকে সন্ত্রাসী হিসাবে প্রচার করে। নির্যাতিতরা মারও খায় আবার সকলের ঘৃণাও কুড়ায়। শক্তিমত্তদের ভয়ে তাদেরকে রক্ষা করতে যেমন কেউ এগিয়ে আসে না, তেমনি গনমাধ্যমের প্রচারণার কারণে তাদের প্রতি সমবেদনাটুকুও মানুষের মধ্যে জন্মাতে পারে না। ওসামা বিন লাদেনকে ধরার অজুহাতে আফগানিস্তান দখল করে নেয় আমেরিকা ও বৃটেন। তারা সেখানে বর্বরতম গণহত্যা চালায়। একদিকে একটি স্বাধীন দেশের হাজার হাজার মানুষ ক্লাস্টার বোমার আঘাতে পিপড়ার মত মারা গেছে, অপরদিকে সারা বিশ্ব তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসাবে জেনেছে। সে সকল দুর্ভাগা মানব সন্তানদের জন্য সামান্য সমবেদনা প্রকাশের মত কেউ তখন ছিল না। একই ঘটনা ঘটে চলেছে ইরাকে ও ফিলিস্তিনে। আশ্চর্যেøর বিষয় হচ্ছে এর পরও নিরস্ত্র ও শান্তিকামী মানুষদেরকে দীর্ঘদিনের জন্য দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না, তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করা তো দূরে থাক। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের জনগণ দখলদারী সেনাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল, ফিলিস্তিনের জনগণ এখনও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, ইরাকে তো দখলদারী শক্তিকে তাদের সমর ও মিডিয়া শক্তি সত্ত্বেও দিনের পর দিন পর্যুযস্ত হতে হচ্ছে। এটি কিভাবে সম্ভব হচ্ছে? তাহলে কি অস্ত্র, অর্থ, সংঘশক্তি ও মিডিয়া - এগুলোই সব কিছু নয়? এর বাইরেও কি কোন ব্যবস্থা প্রকৃতি করে রেখেছে শক্তিমত্ত ও হিংস্র প্রকৃতির ব্যক্তি, দল ও জাতির হাত থেকে নিরস্ত্র ও শান্তিপ্রিয় মানবসন্তানদের রক্ষা করার জন্য?

পৃথিবীতে দুর্বল প্রাণী এবং নিরস্ত্র ও শান্তিপ্রিয় মানুষের টিকে থাকার পিছনে সম্ভবতঃ একটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ রয়েছে। অন্যান্য প্রাণীর রক্ষাকবচটি মানুষের থেকে ভিন্ন। হিংস্র মাংসাশী প্রাণীদের আক্রমণে তৃণভোজী দুর্বল প্রাণীদেরকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শক্তিমত্ত ও হিংস্র প্রাণীর বংশবৃদ্ধি হয় কম। অপরদিকে দুর্বল ও শান্তিপ্রিয় প্রাণীদের বংশবৃদ্ধির হার অনেক বেশী। এখানে দুর্বল প্রাণীদেরকে হত্যা করা থেকে মাংসাশীদেরকে বিরত রাখার কোন ব্যবস্থা প্রকৃতি করেনি কারণ প্রকৃতিই তৃণভোজী প্রাণীদেরকে তৈরী করেছে মাংসাশী প্রাণীদের খাবার হিসাবে।

মানুষের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচটি একটু ভিন্ন ধরণের। প্রকৃতি চায় না মানুষ হিংস্র হোক, অন্য মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করুক। শক্তিমত্ততা ও হিংস্রতা ঠেকাতে প্রকৃতি মানুষের মধ্যে দিয়েছে বিবেকবোধ, সাহস ও প্রতিরোধের ক্ষমতা। এগুলোর সম্মিলনে নিরস্ত্র মানবগোষ্ঠীও শক্তিশালী প্রতিরোধবূহ্য গড়ে তুলতে পারে। বিবেকবোধের কারণে মানুষ ভালোকে ভালো ও খারাপকে খারাপ হিসাবে বুঝতে পারে এবং অন্যায়, হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততাকে অপছন্দ করে। সাহসিকতা ও প্রতিরোধের ক্ষমতার কারণে শান্তিপ্রিয় মানুষেরাও তাদের পরিবার পরিজন, সহকর্মী ও নিজ দল ও জাতির মানুষকে রক্ষা করার জন্য সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আরেকটি রক্ষাকবচ হচ্ছে একদলকে দিয়ে অরেক দলকে দমন করা। হিটলারকে কোন নিরস্ত্র মানুষের দল দমন করতে পারেনি, করেছে অরেকটি শক্তি। নেপোলিয়নের মত অনেকের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। এরপরও যখন শক্তিমত্ত ও হিংস্র কোন মানব গোষ্ঠীর নিকট থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষদেরকে রক্ষা করা যায় না তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে। ধর্মগ্রন্থগুলো এ ধরণের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে শক্তি, অর্থ ও প্রচারমাধ্যম একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। যার শক্তি আছে সে অর্থ এবং প্রচারমাধ্যম করায়ত্ব করে। একইভাবে অর্থ দিয়ে শক্তি ও প্রচারমাধ্যম ক্রয় করা বা প্রচারমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অর্থ ও শক্তি অর্জন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পুজিবাদী অর্থনীতির যুগে বিষয়টি আরও বেশী প্রযোজ্য। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মের কারণে হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততা যখন একটা সীমারেখা অতিক্রম করে তখন মিডিয়ার প্রচারণা দিয়েও তাকে ঢেকে রাখা যায় না। সীমা অতিক্রমকারী অপরাধীরা তখন আর প্রকাশ্য অপরাধ সংঘটিত করতে দ্বিধা করে না। কোন অপরাধ যখন প্রকাশ্যে ঘটতে থাকে, তখন তার দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করে এবং তাকে সে নিজেরই প্রচার করে বেড়ায়। এর থেকেও বিপদজনক হচ্ছে প্রকাশ্য অপরাধকে বক্তৃতা-বিবৃতি, লেখনী, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড - ইত্যাদির মাধ্যমে সমর্থন দেয়া এবং তাকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আদর্শ ও মতবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট করা। যখন বলা হয় যে এ হত্যাকান্ডটি হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে বা আমাদের ধর্মকে রক্ষা করতে তখন সমাজের বিপুল সংখ্যক মানুষ সে ধরণের অপরাধ সংঘটিত করার বিষয়ে উৎসাহী হয় এবং একটি ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ ধরণের অবস্থায় প্রকৃতি তার অতি প্রিয় মানব প্রজাতিকে রক্ষার জন্য তার সবথেকে কঠিন রক্ষাকবচগুলো প্রয়োগ করে যা শক্তিমত্তদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে থাকে।

২·
বাংলাদেশী জাতির জীবনে বার বার এমন সময় এসেছে যখন মনে হয়েছে এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ বোধহয় আর টিকে থাকতে পারবে না। তখন কোন না কোন প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ তাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে এবং হত্যাকারীদেরকে পরাস্ত করেছে। অনেকে বলেন অসংখ্য পীর আওলিয়া এদেশের মাটিতে শুয়ে আছেন। তাদের কারণে আল্লাহর বিশেষ রহমত রয়েছে এ দেশের প্রতি। এ মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁর কাছে তাঁরই হাতে গড়া প্রাণীদের থেকে প্রিয় কিছু নেই। তার মধ্যে আবার প্রিয়তম হচ্ছে মানুষ। তাই হিংস্র ও শক্তিমত্তদের হাতে নিরস্ত্র ও শান্তিপ্রিয় মানুষদের জীবন ও জীবিকা যখন বিপন্ন হয় তখন প্রাকৃতিক রক্ষাকবচগুলো তাদেরকে বাঁচিয়ে দেয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে এ দেশের নিরস্ত্র জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পৃথিবীর সবথেকে সেরা সেনা বাহিনীগুলোর একটি। আমরা আমাদের অনেক বীর সন্তানকে হারিয়েছিলাম বটে কিন্তু সেই হিংস্র ও শক্তিমত্তদেরকে পরাজিতও করেছিলাম। স্বাধীনতার পরও আরেকটি হিংস্র ও শক্তিমত্ত বাহিনীর উদ্‌ভব হয়েছিল এবং তখনও মনে হয়েছিল যে এর থেকে বাঁচার আর কোন পথ নেই। প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ আমাদেরকে তখনও রক্ষা করেছিল।

এইতো মাত্র কিছুদিন আগে যখন বাংলাদেশের একটি বাদে সকল জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা হয় তখন হতভ্ব হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তার রেশ কাটতে না কাটতে একের পর এক আত্মঘাতি বোমা হামলা শুরু হলে জাতি দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের জন্য সময়টা ছিল জাতির ইতিহাসের সবথেকে ক্রান্তিকাল। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর না আছে আধুনিক সরঞ্জাম, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আর না আছে নৈতিক মান। এরকম একটি পরিস্থিতিতে যখন একদল লোক নিজেদেরে শরীরে বোমা বেঁধে বিচারকের এজলাস, জনাকীর্ণ প্রশাসনিক দফতর ইত্যাদিতে ঝাপিয়ে পড়তে শুরু করলো তখন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বললেন যে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে আত্মঘাতি হামলা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের নারকীয়তা বেশীদিন চলেনি। তারা শুধু যে সমূলে উৎপাটিত হয়েছে তাই নয় বরং তারা যুগ যুগ ধরে এ জাতির ঘৃণা ও অভিসম্পাত বহন করতে থাকবে।

বিগত সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেবার সময়ে হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততা প্রদর্শনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণের পর সারা দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। লাঠি-বৈঠা, বোমা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা ঝাপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর। বহু মানুষকে আহত ও নিহত করা হয়, ঘর, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরতরত যাত্রীদের গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং তাদের উপর লুটপাট চালানো হয়। আগুন থেকে বাঁচার জন্য পলায়নরত গাড়ীর নিচে চাপা পড়ে নিহত হয় দুজন নারী যাত্রী ও এক শিশু। তবে নরহত্যার সব থেকে বীভৎস যজ্ঞটি চালানো হয় তারপরদিন ২৮ নভে্বর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে। টিভি ক্যামেরার সামনে লাঠি-বৈঠা দিয়ে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করার পর তার মৃতদেহের উপর উঠে নৃত্য করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী যিনি একটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবার কথা তাঁকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেবার জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই এ ধরণের সহিংসতা ঘটানো হয়। রাজনীতির সাথে একেবারেই সংশ্লিষ্ট নয় এ ধরণের নাগরিকদেরকেও পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সাভারে বাস যাত্রীকে পেটে রড ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে অবরোধকারীরা। সারাদেশে ত্রিশজনেরও বেশী নাগরিক এ সহিংসতায় প্রাণ হারান, আহত হন কয়েক হাজার।

কয়েক দিনে সহিংসতা কমে আসে বটে কিন্তু হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততার আরেকটি অধ্যায় শুরু হয়। যারা সন্ত্রাসের বিষাক্ত সাপকে জনগণের প্রতি লেলিয়ে দিয়েছিলেন তারা তাদের কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা অনুতাপ করা তো দূরে থাক, এটিকে তাদের সংঘশক্তি ও গণসমর্থন হিসাবে প্রচার করেন এবং তাদের দাবীর ক্রমাগত বর্ধিত তালিকা না মানা হলে এ ধরণের ঘটনা আবারো ঘটানোর হুমকী দিতে থাকেন। অত্যন্ত দম্ভভরে তারা এখনো বলে চলেছেন যে, তাদের কথা মতো না চললে দেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে ও দেশ অচল করে দেয়া হবে। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেবার নামেও চলছে শক্তিমত্ততা ও ঔদ্ধ্যত্ব প্রদর্শনের নগ্ন মহড়া। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জোরপূর্বক অপসারণ করা যায় কিনা এ ধরণের প্রশ্নের জবাবে ‘সংবিধান বিশেষজ্ঞ’, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের নেতা, আওয়ামী লীগ থেকে কুষ্টিয়ার একটি আসনে নির্বাচন প্রার্থী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বললেন যে সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা তুলে নিতে পারে (যাতে অফিস পর্যন্ত পৌছানোর পূর্বেই বৈঠাঘাতে তাদেরকে অন্য লোকে পাঠিয়ে দেয়া যায়), তাদের বাড়ি-গাড়ি নিয়ে নিতে পারে এবং তাদেরকে অন্য যে সকল ব্যাক্তিগত ও দাপ্তরিক সহায়তা দেয়া হয় সেগুলো প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এ রকম অবস্থায় তাদের পদত্যাগ ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। তার দুদিন পর তিনি বলেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারগণ পদত্যাগ না করলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। অপরদিকে যারা সুশীল সমাজ উপাধি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিডিয়াতে অতি সক্রিয় থাকেন তারাও সময় বুঝে তাদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে শক্তিমত্ততা প্রদর্শনের এ মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। তাদেরকেও বলতে শোনা যাচ্ছে অদ্‌ভুত ধরণের সমাধানের কথা, যেমন ‘সরকার চাইলে তাদেরকে অফিসে ঢুকতে দিবে না।’ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদেরকে পদত্যাগ করানোর কথা তো উপদেষ্টা মহোদয়েরা পর্যন্ত অবলীলাক্রমে বলে বেড়াচ্ছেন। অথচ, আমাদের সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসন থেকে স্বাধীন রাখার ব্যবস্থা করেছে এবং তাদেরকে যেন চাপের মুখে মাথা নত না করতে হয় তার ব্যবস্থা রেখেছে। তাঁরা দায়িত্ব নেয়ার সময় শপথ নেন যে ভয়, ভীতি, অনুরাগ ও বিরাগের উর্দ্ধে উঠে তাঁরা কাজ করবেন এবং কোন প্রকার চাপের নিকট নতি স্বীকার করবেন না।

দেশের একটি প্রধান দলের হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততা প্রদর্শন এবং বুদ্ধিজীবিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের তার প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনের কারণে দলটির সাধারণ কর্মী সমর্থকদেরকেও প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডের মত নৃশংসতার পক্ষে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। সহকর্মী কিংবা প্রতিবেশীদের সাথে আলাপচারিতায়, পাড়ার দোকানের আড্ডায়, এমনকি ইন্টারনেট ফোরামগুলোতে খোলামেলাই তারা এ হিংস্রতাকে সমর্থন করছেন। সেকুল্যার মতবাদের প্রচারক একটি বাঙ্গালী ইন্টারনেট ফোরামে এক ভদ্রলোক লিখেছেন, ‘দেশে একটি যুদ্ধ চলছে, এখন সেখানে হত্যাকান্ড আইনসিদ্ধ।’ দেশে যুদ্ধ চলছে না। কিন্তু হত্যাকান্ডকে আইন সিদ্ধ ঘোষণা করে প্রচারণা চালিয়ে দেশকে একটি যুদ্ধের দিকেই ঠেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। সমর ঘোষ নামে এক ভদ্রলোক লিখেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, টিভিতে এ দৃশ্য (বৈঠাঘাতে হত্যা করে মৃতদেহের উপর উপর নৃত্যের দৃশ্য) দেখে আমি অখুশী হই নি। এ রকমটি না করা হলে কে এম হাসানকে অপারগতা প্রকাশ করাতে বাধ্য করা যেতো না। তাছাড়া জামাতীদেরকে ঢাকার রাজপথ থেকে মেরে তাড়িয়ে দেয়া গেলে তাদেরকে সারা দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যেতো (যেমনটি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয়েছে) এবং তাদের উপর একটা সিভিল ক্রাক ডাউন করা যেতো। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে তারা কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারতো না।’

৩·
বরাবরের মতই জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভাবছে যে বর্তমানের এই হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততার পথ থেকে আর বুঝি মুক্তির কোন পথ নেই। তবে একটু গভীরভাবে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলীকে পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে যে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচগুলোর কিছু কিছু ইতোমধ্যে কাজ করেছে যার ফলে শক্তিমত্তরা তাদের হিংস্রতা ও লাঠি-বৈঠা অন্ততঃ সাময়িকভাবে হলেও লুকিয়ে ফেলেছে।

সমর ঘোষ নামের ভদ্রলোক পূর্বে উল্লিখিত ইন্টারনেট ফোরামে আরও লিখেছেন, ‘কিন্তু দেখা গেল পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পরিকল্পনা মাফিক হয় নি। যেখানে ২৮ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত সারা দেশ মূলতঃ আওয়ামী লীগের দখলে ছিল, সেখানে বিকাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলো। আমরা তাদেরকে রাজপথ থেকে তাড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হই। তারা তাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলো ও সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখে। এ ঘটনা বিএনপি-জামায়াতকে সারাদেশে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং ২৯ তারিখে তারা দেশের অনেক স্থানের রাজপথ দখলে নিয়ে নেয়। আমার মনে হয় না এ ঘটনা আওয়ামী লীগকে স্বল্প বা দীর্ঘ - কোন মেয়াদেই সাহায্য করেছে।’

যারা ২৭ অক্টোবর থেকে ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছিলেন তাদের নিকট সমর ঘোষের বক্তব্য সত্য মনে হতে পারে। ২৮শে অক্টোবর সকাল থেকেই টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যাচ্ছিল পল্টন, মুক্তাঙ্গন, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলার মোড় - চারিদিকে লাঠি ও বৈঠা নিয়ে লোকে লোকারণ্য। অনেক ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রধারীও তাদের মধ্যে ছিল। তাছাড়া যে বৈঠাগুলো ছিল সেগুলি সাধারণ বৈঠা নয়, সেগুলিকে বিশেষভাবে তৈরী করা হয়েছিল। নিচের বাঁকানো অংশকে অস্ত্রের মত ধারালো করা হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে উল্লাস প্রকাশ করার পর অনেকেই ধারণা করছিলেন যে চারিদিকে হাজার হাজার হিংস্র, শক্তিমত্ত সশস্ত্র ব্যক্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি দলের কয়েক শত কর্মী সমর্থকের কেউ আর জীবিত ফিরে যেতে পারবে না। নির্বিকারভাবে দূরে দাড়িয়ে থাকা পুলিশের হাসি দেখে এ ধারণা জোরালো হচ্ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে চারিদিকে একদল শক্তিমত্ত ও হিংস্র বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকার পরও তারা সকলে মারা যায় নি এবং তাদেরকে সেখান থেকে জোর করে সরানো যায় নি। এখানে একটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ কাজ করেছিল। নিজদলের কর্মীদেরকে চোখের সামনে নৃশংসভাবে মেরে ফেলতে দেখে অন্যেরা ভয় পাওয়ার বদলে সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। দেখা যাচ্ছে তাদের এই দৃঢ় প্রতিরোধের বিষয়টি তাদের প্রতি বিরূপভাবাপন্নরাও উপেক্ষা করতে পারেন নি। অনেকে বলছেন এই প্রতিরোধই পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিএনপি রাজপথে শক্ত অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিন বাহিনীর প্রধানগণ বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। সন্ত্রাসকারীরা সারাদেশে প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

আরেকটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচও কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। যারা হিংস্রতা ও শক্তিমত্ততা প্রদর্শন করছে তাদেরকে মানুষ ভয় পাচ্ছে। দেশের অধিকাংশ নাগরিক কোন দলের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়। তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই সরাসরি বলছেন যে বিদূৎ সংকট ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারণে যে দলটির বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত ছিল, এ ঘটনায় দলটি জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসার বদলে ভীতি ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছে। অনেক স্থানে দলটির কর্মীদের মনোবলও ভেঙ্গে গেছে। তারা তাদের সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীদেরকে হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাছাড়া এদেশে অসংখ্য পরিবার রয়েছে যেখানে পরিবারের বিভিন্ন সদস্য ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। ১৪ দলের নেতা রাশেদ খান মেননের আপন বোন ৪ দলের মন্ত্রী ছিলেন। একটি শিল্পপরিবারের মালিকদের এক ভাই আওয়ামী লীগের হয়ে গত নির্বাচনে এমপি পদে দাড়িয়েছিলেন, অপর ভাই জামায়াতের নেতা। এ রকম অসংখ্য পরিবারে দলটির সমর্থন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। জানিনা দলটির নেতৃবৃন্দকে কেউ বিষয়টি বোঝাচ্ছেন কি না। তবে মনে হচ্ছে যে চাটুকার ও উস্কানিদাতারা তাদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুকেও এভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। সে ইতিহাস নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

অত্যন্ত বেদনার কথা যে, যে দলটিকে আমরা এ ভূমিকায় দেখছি তার রয়েছে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ইতিহাস, এ দেশের জন্মের সাথে এবং এদেশবাসীর দেশপ্রেম ও জাত্যাভিমানের আবেগের সাথে তার রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এ রকম একটি দলকে সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দিয়ে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না। সকলকে বুঝতে হবে যে হিংস্রতা আর শক্তিমত্ততা দিয়ে আর কিছু হলেও নাগরিকদের মন জয় করা যায় না আর মন জয় না করা গেলে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকাই দুরুহ হয়ে পড়ে।

২৯.১০.২০০৬]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28860689 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28860689 2008-10-27 21:36:49
নিষিদ্ধ আরিফের আত্মকাহিনী -২১ (ঢাকা মেডিকেলের রোমান্টিক দিনগুলি)
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28859675 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28859675 2008-10-25 21:11:45
পিআরএসপি-২ এর সফট কপি কোথায় পাবো? http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28859181 http://www.somewhereinblog.net/blog/ahsan_mohammed2000/28859181 2008-10-24 21:35:49 মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাবির দরজা বন্ধ করার যৌক্তিকতা কতটুকু?
১. ধরে নেয়া হলো, এই সকল বিভাগে পড়ার জন্য ইংরেজীতে খুব বেশী দক্ষতা থাকতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইংরেজীতে কারো দক্ষতা কি শুধুমাত্র সে কত নম্বরের ইংরেজী পড়েছে, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায়? এ প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে চাই। পেশাগত কারণে বিভিন্ন সময়ে অনেক সফটাওয়্যার ডেভেলপারকে চাকুরীর ইন্টারভিউ নিতে হয়। এই পেশায় ইংরেজীতে দক্ষতার কিছুটা প্রয়োজন থাকাতে বিষয়টি যাচাই করতে সাধারণত: একটি ট্রানশ্লেষণ জিজ্ঞাসা কর থাকি। সেটি হচ্ছে, “সে বলেছিল যে, সে আসবে না”। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য যে শতকরা ৯০ ভাগ সফটাওয়্যার ডেভেলপার ভুল উত্তর দিয়ে থাকে। বলা দরকার যে সফটাওয়্যার ডেভেলপারদের অধিকাংশই আসে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য সরকারী এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ থেকে। তারা শুধু যে এসএসসি ও এইচএসসিতে ৪০০ নম্বরের ইংরেজী পড়েছে তাই নয়, বরং তারা অনেক ভালো রেজাল্টও করেছে। এদেশে এখনো যে কোন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে যথেষ্ঠ ভালো রেজাল্ট করতে হয়ে এবং তারপরে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

২. কোন শিক্ষাধারার ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণভাবে কোন বিষয়ে ভালো হলেও সে ধারার সকল ছাত্র অন্য ধারার সকল ছাত্রের চেয়ে কোন বিষয়ে ভালো এ কথা বলা যায় না। যেমন বাংলাদেশের ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষায় শিক্ষিতরা সাধারণভাবে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিতদের তুলনায় ইংরেজীতে ভালো হয়ে থাকে। কিন্তু, তার থেকে কি একথা বলা যায় যে, ইংরেজী মাধ্যমের সবথেকে খারাপ ছাত্রটি বাংলা মাধ্যমের সবথেকে ভালো ছাত্রের চেয়েও ইংরেজীতে ভালো হবে? মাদ্রাসার সবথেকে ভালো ছাত্রগুলোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়, ফলে তারা সাধারণ অনেক শিক্ষার্থীর চেয়ে ইংরেজী এবং অন্যান্য বিষয়ে ভালো হয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে তীব্র প্রতিযোগীতামূল ভর্তি পরীক্ষাতে সকলকে পিছনে ফেলে সামনে থাকার পরই কিন্তু তারা সেখানে ভর্তি হতে পারে, তাদের জন্য আলাদা কোন কোটা নেই।

৩. সঙ্গত কারনেই আরেকটি প্রশ্ন ওঠে যে, যদি বিষয়গুলো পড়ার জন্য ইংরেজী ভাষায় উচুমানের দক্ষতা অতি আবশ্যক হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন কোটায় যারা ভর্তি হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করা হয়? কারো সন্তান হওয়ার কারণে ইংরেজী ভাষায় দক্ষ হবে – এ ধরণের ধারণা কি যুক্তিসঙ্গত?

৪. কোন বিষয়ে লেখা-পড়ার জন্য একটি পুর্ব যোগ্যতা বা প্রি-রিকুইজিটি থাকতে পারে, তবে সেটি অধিকাংশ সময়েই যথেষ্ঠ নমনীয় হয়ে থাকে এবং তাকে অর্জনের জন্য পড়াশোনাকালীন সুযোগ দেয়া হয়। যেমন বাংলাদেশের সবথেকে নন্দিত অর্থনীতিবিদগণের একজন হচ্ছেন ড. আকবর আলী খান। তিনি সরকারের অর্থসচিব, বিশ্বব্যাংকের অল্টারনেট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স করেছেন ইতিহাসে, তারপর পিএইচডি করেছেন অর্থনীতিতে। মাস্টার্স পর্যন্ত অর্থনীতি না পড়ে অর্থনীতিতে পিএইচডি করা গেলে শুধুমাত্র কম নম্বরের ইংরেজী পড়া হয়েছে এই অজুহাতে কাউকে সাংবাদিকতা পড়তে না দেয়া যে কতটা যুক্তিসঙ্গত?

৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবথেকে কঠিন বিভাগের একটি হচ্ছে আইবিএ। দেশের সেরা ছাত্রদের অনেকেও আইবিএতে ভর্তি হতে পারে না। এই প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তির জন্য পৃথক ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু, মাদ্রাসা বা অন্য মাধ্যমে শিক্ষিতদের জন্য আইবিএর দরজা বন্ধ করা হয়নি। যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকবৃন্দ মনে করেন যে তাদের বিষয়ে পড়ালেখা করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ইংরেজীতে খুবই দক্ষ হতে হবে, তাহলে তাঁরা এর জন্য পৃথক ভর্তি পর